#জেন্টাল_মনস্টার
#লামিয়া_রহমান_মেঘলা
#পর্ব_৬৩
[ কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
নিজের সমস্ত পরিকল্পনা খুলে বলার পর আদ্রিস এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
রুম জুড়ে নেমে এলো অদ্ভুত এক নীরবতা।
সায়ের কিছুক্ষণ নির্বাক হয়ে বসে রইল। আদ্রিসের পরিকল্পনা অনুযায়ী টোটোর মেনশনে তাকে একাই যেতে হবে, আর এই ভাবনাটাই সায়েরের বুকের ভেতর অস্থির ঝড় তুলছিল। সে খুব ভালো করেই জানে, এই পথে পা বাড়ানো মানেই আদ্রিস নিজের জীবনকে ভয়ংকর ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অথচ ওপাশে বন্দী হয়ে আছে তারই বোন।
দুশ্চিন্তা আর অসহায় ক্ষোভে সায়ের দু’হাতে নিজের চুল চেপে ধরল।
আদ্রিস ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে তার কাঁধে হাত রাখল। ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি টেনে শান্ত স্বরে বলল,
“রিল্যাক্স ভাইয়া… আই’ম এ স্ট্রং ফাইটার, ইউ নো।”
কথাটুকু যেন সামান্য সাহস জোগাল সায়েরকে। সে উঠে দাঁড়িয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল আদ্রিসকে।
এরপর দু’জনেই নিজেদের মন স্থির করল। ভয়, দুশ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তাকে বুকের গভীরে চাপা দিয়ে তারা অফিস থেকে বেরিয়ে গেল অজানা এক পরিণতির উদ্দেশ্যে।
——-
মিসেস মিহু আজ মিরাকে সঙ্গে নিয়ে কিচেনে নেমেছেন। বহুদিন ধরে এই বাড়ির রান্নাঘরে তাঁর নিজের হাতে কিছু রান্না করা হয়নি।
মিরা মুগ্ধ চোখে শুধু দেখছিলেন মহিলাটিকে। কী ভীষণ সৌখিন একজন মানুষ তিনি। নিজের শখকে ভালোবাসেন, নিজের ইচ্ছেকেই প্রাধান্য দেন। আজ তিনি নিজ হাতে রান্না করবেন আদ্রিস, আদ্রিতা, প্রিয়া আর রেভেনের জন্য। তাই সকাল থেকেই মিরাকে সঙ্গে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন রান্নাঘরে।
রান্না করতে করতে আজ মিরার মুখে বারবার হাসি ফুটে উঠছিল। মনে হচ্ছিল, শ্বাশুড়ি যদি এমন প্রাণবন্ত আর কুল স্বভাবের হয়, তবে বিবাহিত জীবন সত্যিই সুন্দর হয়ে ওঠে।
দু’জন তখন কিচেনেই ব্যস্ত ছিল, এমন সময় হঠাৎ কলিং বেলের শব্দ ভেসে এলো।
মিসেস মিহু কিচেন থেকে বেরিয়ে আসতেই একজন সার্ভেন্ট এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলে দিল।
দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে ছিল প্রিয়া।
ভেতরে প্রবেশ করেই সে ছুটে গিয়ে মিসেস মিহুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। পরক্ষণেই শব্দ করে কেঁদে উঠলো মেয়েটি।
মিসেস মিহু কিছুই বুঝে উঠতে পারলেন না। মুহূর্তেই তাঁর মনে ভয় ঢুকে গেল। তিনি ভেবেছিলেন হয়তো কেউ প্রিয়ার সঙ্গে খারাপ কিছু করেছে। দ্রুত প্রিয়াকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বললেন,
“আম্মু, কি হয়েছে সোনা? কেউ ব্যাড টাচ করেছে? আমাকে বল মা। মেরে পুতে রেখে আসব তাকে।”
প্রিয়া আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো তাঁকে।
মিসেস মিহু ইশারায় সার্ভেন্টকে পানি আনতে বললেন। সার্ভেন্ট পানি আনতে চলে গেলে তিনি প্রিয়াকে নিয়ে কাউচে বসেন। তারপর ধীরে, স্নেহমাখা কণ্ঠে বললেন,
“রিলাক্স প্রিয়া, কি হয়েছে মা?”
ততক্ষণে সার্ভেন্ট পানি নিয়ে ফিরে এলো।
এদিকে কিচেনে দাঁড়িয়ে প্রিয়ার কান্নার শব্দ শুনেই মিরা দ্রুত বেরিয়ে আসতে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই তাঁর ফোন বেজে উঠলো।
কিচেন এপ্রোনের ভেতর থেকে ফোন বের করে স্ক্রিনে সায়েরের নাম দেখে দ্রুত কল রিসিভ করলো সে।
“হ্যালো।”
ওপাশ থেকে সায়েরের তাড়াহুড়ো ভরা কণ্ঠ ভেসে এলো,
“মিরা লিসেন, প্রিয়া গেছে, ওকে সামলে রেখো। ভার্সিটি থেকে কেউ আদ্রিতাকে তুলে নিয়ে গিয়েছে। কেউ বললে ভুল হবে, সেটা হলো টোটো। তুমি মমকে বলো আসরাফ খান রাশিয়া এসেছে, তার সঙ্গে দেখা করতে যেতে। আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করোনা, উত্তর দেওয়ার সময় নেই। আমি, আদ্রিস, রেভেন যাচ্ছি আদ্রিতাকে আনতে। তুমি জাস্ট মমকে জানাও আসরাফ খানের কাছে যেতে। রাখছি। আর মম বেরিয়ে যাবার পর কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দিবেনা। আমি সিকিউরিটি বাড়িয়ে দিচ্ছি।”
কথাগুলো এক নিঃশ্বাসে বলেই সায়ের কল কেটে দিল।
মিরা যেন মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে গেল। কী বলা উচিত, কীভাবে বলা উচিত, কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না সে।
দ্রুত কিচেন থেকে বেরিয়ে লিভিং রুমে এসে দাঁড়ালো মিরা।
তখন মিসেস মিহুর সামনে বসে কাঁদতে কাঁদতেই সব খুলে বলছিল প্রিয়া।
মিরা দ্রুত এসে তাঁদের পাশে বসে বললো,
“প্রিয়া রিলাক্স, কিছু হবেনা আদ্রিতার। আন্টি, আন্টি সায়ের ফোন করেছিল। আপনাকে বলেছে আসরাফ আঙ্কেল রাশিয়াতে আপনাকে দেখা করতে যেতে বলেছে।”
মুহূর্তেই বদলে গেল মিসেস মিহুর মুখের অভিব্যক্তি।
মেয়েকে হারানোর শোক পালন করার আগেই তাঁর চোখেমুখে ভয়ংকর ক্রোধের ছাপ ফুটে উঠলো। ধীরে ধীরে বসা থেকে উঠে দাঁড়ালেন তিনি।
কঠিন কণ্ঠে বললেন,
“মিরা, প্রিয়াকে নিয়ে রুমে থাকবে। আমি না আসা পর্যন্ত সদর দরজা খুলবে না।”
“জি ঠিক আছে।”
মিসেস মিহু দ্রুত নিজের রুমে চলে গেলেন।
পাঁচ মিনিট পর আবার বেরিয়ে এলেন তিনি।
মিরা নিঃশব্দে তাকিয়ে রইলো তাঁর দিকে। তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেললো।
মিসেস মিহু বেরিয়ে যেতেই সার্ভেন্ট ভেতর থেকে সদর দরজা লক করে দিল।
মুহূর্তের মধ্যেই পুরো সুবহান মেনশন কঠিন পাহারায় ঢেকে গেল।
——
মস্কো জুড়ে তখন গভীর রাত নেমেছে।
বরফশীতল হাওয়া শহরের বুক চিরে বয়ে যাচ্ছে।
রাস্তাজুড়ে জ্বলতে থাকা ট্রাফিক সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করে আদ্রিসের গাড়ি দুর্বার গতিতে ছুটে চলেছে। একের পর এক সিগন্যাল ভেঙে গেলেও তার গাড়ির নাম্বার প্লেট দেখেই কেউ থামানোর সাহস করলো না।
মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যেই গাড়ি এসে থামলো টোটোর বিশাল মেনশনের সামনে।
গাড়ি থেকে নামতেই কয়েকজন গার্ড এসে আদ্রিসকে আটকে ধরলো।
মেনশনের দ্বিতীয় তলার বেলকনিতে দাঁড়িয়ে ছিল টোটো।
বাম হাতে ধরা রেড ওয়াইনের গ্লাস।
ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি।
আদ্রিস মাথা তুলে তাকাতেই টোটো ধীরে হেসে বললো,
“সবাই তোকে চেক করবে আগে। এরপর তুই ভেতরে আসতে পারবি। হাঁটু ভাজ করে বস মাটিতে।”
যে ছেলে কোনোদিন কারও সামনে মাথা নত করেনি, সেই ছেলেই আজ নিজের প্রিয়তম স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য টোটোর মেনশনের মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো।
তবুও তার চোখের আগুন নিভে যায়নি। সেই তেজ এখনো স্পষ্ট জ্বলছিল তার দৃষ্টিতে।
আদ্রিস নিচু হয়ে বসতেই গার্ডরা তার পুরো শরীর তন্নতন্ন করে খুঁজে দেখলো। কোনো বন্দুক কিংবা অস্ত্র পাওয়া গেল না।
তারপর তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হলো।
আদ্রিস মেনশনের ভেতরে ঢুকতেই টোটো সামনে এসে দাঁড়ালো।
হাত দুটো ছড়িয়ে ব্যঙ্গভরা কণ্ঠে বললো,
“ওয়েলকাম, ওয়েলকাম আদ্রিস। আমার মেনশনে তোকে ওয়েলকাম।”
আদ্রিস ঠান্ডা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,
“একটা ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে তুলে এনে নিজেকে বড় মাফিয়া দাবি করছিস?”
টোটো ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো।
তারপর ধীর স্বরে বললো,
“তুই তো জানিস আদ্রিস, মাফিয়া গেইমে কোনো নীতি চলেনা।”
আদ্রিস একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো তার দিকে।
টোটো ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে একেবারে মুখোমুখি দাঁড়ালো। তারপর নিচু স্বরে বললো,
“তুই তো আমার হাতেই মরবি। আর তোর ওই বউটা আমার হবে। তার আগে চল, তোকে কিছু দেখাই।”
টোটো সামনে থাকা বিশাল এলইডি টিভিটা অন করলো।
স্ক্রিনে ভেসে উঠলো আদ্রিতার দৃশ্য।
তাকে শক্ত করে বেঁধে রাখা হয়েছে।
আদ্রিতার পেটের চারপাশে শক্ত করে পেঁচিয়ে রাখা দড়িটা চোখে পড়তেই আদ্রিসের হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে উঠলো।
টোটো তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বললো,
“মেয়েটা বলছিল পেট থেকে দড়িটা সরিয়ে দিতে। কিন্তু আমি দেইনি। এমনিতেই এই বাচ্চাটাকে মেরেই ফেলব। আগে বাচ্চার বাপকে মারি।”
আদ্রিস দাঁতে দাঁত চেপে প্রশ্ন করলো,
“কি চাস?”
প্রশ্নটা শুনে টোটো ধীরে ফিরে তাকালো।
চোখেমুখে তখন স্পষ্ট বিজয়ের উল্লাস।
সে ধীরে ধীরে গিয়ে কাউচে বসলো। পায়ের উপর পা তুলে হেলান দিয়ে বললো,
“আমি যা চাই তা দিবিই। তার আগে…”
সামনের টেবিল থেকে কাপড় দেখিয়ে বললো,
“ওই যে কাপড়, আমার জুতা পরিষ্কার করে দে।”
আদ্রিস একবার টিভির স্ক্রিনের দিকে তাকালো।
আদ্রিতা লড়তে লড়তে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।
দুর্বল কণ্ঠে শুধু বললো,
“দয়া করে পেট থেকে দড়িটা সরিয়ে দে।”
আদ্রিস ধীরে পাশ থেকে কাপড়টা হাতে তুলে নিল।
————
একটি অভিজাত পাঁচ তারকা হোটেলের সামনে এসে দাঁড়িয়ে আছেন মিসেস মিহু।
তাঁর পেছনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে কয়েকজন গার্ড।
চারপাশের ঠান্ডা আলো আর নিস্তব্ধ পরিবেশের মাঝেও তাঁর ব্যক্তিত্ব যেন আলাদা এক তীব্রতা ছড়িয়ে দিচ্ছিল।
মিসেস মিহু ধীরে নিজের চোখের চশমাটা ঠিক করে সামনের দিকে এগিয়ে গেলেন।
তাঁকে দেখতে পেয়েই রিসেপশন ডেস্ক থেকে একজন রিসেপশনিস্ট দ্রুত এগিয়ে এলো।
ভদ্র কণ্ঠে বললো,
“ম্যাম, আপনি এখানে কিছু লাগবে?”
মিসেস মিহুর চোখে তখন কঠিন স্থিরতা।
তিনি সরাসরি প্রশ্ন করলেন,
“আসরাফ খান কত নাম্বার রুমে আছে?”
কথাটা শুনে রিসেপশনিস্ট কয়েক মুহূর্ত থমকে রইলো।
তারপর আবার মিসেস মিহুর দিকে তাকিয়ে কাঁপা স্বরে বললো,
“জ জি ম্যাম, —– রুম।”
“ওকে।”
সংক্ষিপ্ত উত্তর দিয়েই মিসেস মিহু লিফটের দিকে এগিয়ে গেলেন।
পরক্ষণেই লিফটের দরজা বন্ধ হয়ে তাঁকে নিয়ে উপরের দিকে উঠতে শুরু করলো।
—–
আসরাফ খান রুমের ভেতরে বসে নিজের লাগেজ গোছাচ্ছিলেন।
বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।
ঠিক সেই সময় হঠাৎ দরজা খোলার শব্দ ভেসে এলো।
শব্দটা শুনেই চমকে উঠলেন আসরাফ খান।
দৃষ্টি তুলে সামনে তাকাতেই তিনি স্থির হয়ে গেলেন।
দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন মিসেস মিহু।
তাঁকে দেখেই আসরাফ খানের চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে উঠলো।
কাঁপা কণ্ঠে বললেন,
“আ আমার রুমে আপনি কিভাবে প্রবেশ করলেন? চাবি তো আমার কাছে।”
মিসেস মিহুর ঠোঁটে ধীরে একটি শীতল হাসি ফুটে উঠলো।
তিনি ধীর পায়ে ভেতরে এগিয়ে এসে বললেন,
“রাশিয়াতে এমন কোনো তালা নেই, যা আমাকে ঠেকাতে পারবে। কাজকর্ম ভেবে চিন্তে করা লাগে, মিস্টার খান।”
আসরাফ খান ধপ করে গিয়ে খাটের উপর বসে পড়লেন।
মিসেস মিহু গিয়ে তাঁর মুখোমুখি থাকা কাউচে বসলেন।
পায়ের উপর পা তুলে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন তাঁর দিকে।
তারপর ধীরে, কিন্তু ভয়ংকর শান্ত কণ্ঠে বললেন,
“আমার মেয়েকে আমার বুক থেকে কেড়ে নিয়ে, আমার স্বামীকে মেরে, তোর লজ্জা হয়নি? তুই এখন আবার এসেছিস আমার পরিবারের উপর নজর দিতে?
তুই কি ভেবেছিস আমি এখনো সেই বাচ্চা মিহু, যে নিজের সন্তানকে নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বাঁচার জন্য?
তুই কি ভুলে গেছিস আমার ক্ষমতা সম্পর্কে?”
এসি চলতে থাকা ঠান্ডা রুমের মাঝেও আসরাফ খানের কপাল বেয়ে ঘাম গড়িয়ে পড়ছিল।
মিসেস মিহু ধীরে উঠে দাঁড়ালেন।
তাঁর চোখেমুখে তখন জমাট বাঁধা ক্রোধ।
কঠিন স্বরে বললেন,
“কি প্ল্যান করেছিস, দ্রুত বল। আমার মেয়ে কোথায়? তোর মৃত্যু কেউ ঠেকাতে পারবে না, আসরাফ।”
চলবে?
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ২১
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৫৮
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৫
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৩১
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ২৩
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৯
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৯
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১২
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১১
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৪