#আসবো_ফিরে_আবারো
#পর্ব_২৯
#সুরভী_আক্তার
আজ সারাটা দিন রৌদ্র বাইরে কোথাও বেরোয় নি । বাড়িতেই ছিলো । সন্ধ্যার আগে আগে বেরিয়েছে । ফেরেনি এখনো । ছুটির দিন হওয়ায় সবাই বাড়িতেই আছেন আজ ।
আদ্র বেরিয়েছিল । সন্ধ্যার পর পর সেও ফিরলো । তখন মেঘা আর শাফাহ্ ছাদে । ডাক পাঠিয়ে নিচে নামালো ওদের । ড্রয়িং রুমে বসে আদ্র । দুই রমনী চটজলদি নিচে নামতেই ভারী গলায় বলল…..
” অ্যাসাইনমেন্ট রেডি হয়েছে তোদের ? পরশু যে জমা দেওয়ার ডেট । মনে আছে আদৌও ?
” মনে থাকবে না আবার ? অ্যাসাইনমেন্ট রেডি আছে । তোমাকে অতো বারবার মনে করাতে হবে না ।
আদ্র রেগে তাকালো শাফাহ্’র দিকে । রাগি গলায় বলল…
” আচ্ছা ? মনে করাবো না ? কি জানি কি ঘোড়ার ডিম লিখে রেখেছিস ! সত্যিই বলছি.. যদি মার্ক কম পাস এবারো , তাহলে তোকে বুঝে নেবো আমি ।
” কি বুঝবে আমায় , হ্যাঁ ? এতো বছর ধরে বোঝো নি ? পরীক্ষায় মার্ক কম পেলে তবেই বুঝবে ? আর মার্ক তো তুমিই কম দাও । আমি যা লিখি , ভালোই লিখি । হান্ড্রেড এ দু’হান্ড্রেড পাওয়ার যোগ্যতা রাখি আমি । কিন্তু তুমি ইচ্ছে করে আমায় কম মার্ক দাও । ভেবেছো কি , আমি জানি না ?
” টুকটুকির বাচ্চাাাাা , মাথা গরম করাবি না । পেপার প্রিন্ট করিয়েছিস ?
” আদ্র ভাইয়ার বাচ্চাাাা ,
অ্যাসাইনমেন্ট শেষ । প্রিন্ট করানো হয় নি এখনো । তোমার জন্য রেখেছি । প্রিন্ট করিয়ে এনে দেবে ।
” এখন আমায় লাগছে কেনো ? মাতব্বর হয়েছিস । তো প্রিন্ট করাতে পারবি না কেনো ?
ও দুটোর ঝগড়া শুরু হলে আর থামবে না । মেঘা জিভ নাড়িয়ে বিরক্তি সূচক শব্দ উচ্চারণ করে । ধপ করে সোফায় বসে হাঁফ ছেড়ে দীর্ঘ স্বরে বললো……
” উফফফ ভাইয়া । থামবে তুমি । তুমি না কেমন বাচ্চাদের মতো ঝগড়া করো ।
” বাচ্চাদের মতো নয় , এই গাব্বুর বাচ্চার সাথে ঝগড়া করি । গাব্বু কোথাকার । হাঁটুর নিচে বুদ্ধি নিয়ে গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে আসে ।
” আদ্র ভাইয়ার বাচ্চাাাা , খবরদার আমায় গাব্বু বলবে না । আমার বুদ্ধি হাঁটুর নিচে নয় মাথাতেই আছে ।
মেঘা দুজনের দিকে দুটো হাত বাড়িয়ে দিয়ে দু’টোকেই থামালো । কপাল জড়ো করে ঝেড়ে বললো…..
” ব্যাসস , অনেক হয়েছে । থামবে এবার ?
আদ্র থেমে প্রসঙ্গ পাল্টালো । সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলল….
” অ্যাসাইনমেন্টের পিডিএফ পাঠিয়ে দে আমায় । প্রিন্ট করে নিয়ে আসবো ।
মেঘা অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো এ পর্যায়ে । ওর ল্যাপটপ তো এখনো রৌদ্রের কাছে । আর রৌদ্র বলেছিলো , ও নিজেই প্রিন্ট করিয়ে আনবে । বরাবর সাবমিটের আগে আদ্রই পেপার প্রস্তুত করিয়ে নিয়ে আসে । এখন পিডিএফ চাইছে সে ! এবার কি বলবে মেঘা ? রৌদ্রের কথা বলা যাবে না । রৌদ্র অ্যাসাইনমেন্ট করে দিয়েছে সেটাও চেপে রাখতে হবে । কিন্তু ছল কাটাবে কি করে ?
মেঘা ভাবনা চিন্তা করে অধর ভিজিয়ে থেমে থেমে মিনমিন করলো….
” লাগবে না ভাইয়া । আমরা ভার্সিটিতে গিয়ে প্রিন্ট করিয়ে নেবো । আর আমার অ্যাসাইনমেন্টের কাজ আছে একটু । পুরোটা শেষ হয় নি এখনো । শেষ করে ভার্সিটির বাইরের যেকোনো প্রিন্টারে প্রিন্ট করিয়ে নেবো আমরা । তোমায় ভাবতে হবে না ।
” পারবি তো ?
” হান্ড্রেড পার্সেন্ট পারবো ।
একটু থেমে ইতস্তত করে বললো….
” আচ্ছা ভাইয়া একটা প্রশ্ন করি ?
” হুম !
” তুমি তো ইংরেজি নিয়ে পড়েছো ,তাই না ?
” হুম ।
” আর শুভ্র ভাইয়া ?
” এ্যাকাউন্টিং ।
মেঘা দম ছাড়ে । পরবর্তী প্রশ্ন করতে গলায় বাঁধে । ওর জানার বড্ড ইচ্ছে , রৌদ্র কি নিয়ে পড়েছে ? রৌদ্রের পড়াশোনা সম্বন্ধে অজ্ঞাত সে । এতো সুন্দর করে এক রাতের ব্যবধানে সাজিয়ে গুছিয়ে পুরো টার্ম পেপার কমপ্লিট করলো । অভিজ্ঞতা না থাকলে পারা মুশকিল ।
নিজের কোলের উপর দুহাত রেখে হাত কচলালো মেঘা । ঢোক গিলে গলা নামিয়ে অতীব ক্ষিণ স্বরে বললো….
” আর , তোমার ভাই !
ফোন ঘাটছিলো আদ্র । এতক্ষণ সেভাবেই বাকি প্রশ্নের উত্তর করেছে । তবে এ বেলায় চট করে তাকালো মেঘার দিকে । অমনি ভ্যাবাচ্যাকা খেলো মেঘা । দ্রুত চোখ নামিয়ে এদিক ওদিক এলোমেলো পলক ঝাপটালো । আদ্র কপালে সূক্ষ্ম, তীক্ষ্ণ ভাঁজ ফেলেছে । দৃষ্টি করেছে ক্ষুদ্র । মেঘার কথা বুঝেও না বোঝার ভান ধরে বললো অস্ফুটে…
” হ্যাঁ ?
মেঘা আর বসে থাকলো না । কেমন অস্বস্তি বোধ হচ্ছে । অপ্রস্তুত হয়ে তড়িতে উঠে দাঁড়ালো সে ।
” কিছু না ।
গা বাঁচিয়ে পালানোর জন্য পা বাড়াতে গেলে পেছন থেকে আদ্র মুখ খুললো….
” রুডির কথা বলছিস ?
থেমে বললো…..
” ও নিজেও ইংরেজি নিয়ে অনার্স পড়েছে । ২০১৬ তে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় মেঘা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান ছিলো রুডভিক কাবির রৌদ্রের । ঐ বেপরোয়া, ছন্নছাড়া, অবাধ্য ছেলেটাই বেপরোয়া হয়েও ঢাবিতে নিজের উচ্চ স্থান করে নিয়েছিলো । তখনও কিন্তু ও বেপরোয়াই ছিলো । আর বেপরোয়া ছিলো বিধায় নিজের স্থান ধরে রাখতে পারে নি । অনার্স কমপ্লিট করতে পারে নি ও । তবে রৌদ্র কিন্তু খুব মেধাবী । আমাদের চেয়ে দু কাঠি উপরে ও ।
মেঘার পা থমকেছে সেই শুরুতেই । সবটা শুনলো মন দিয়ে । আর পিছু ফেরে নি । আদ্র কথা শেষ করতেই হাসার চেষ্টা করে এক ছুটে ড্রইং রুম ছেড়ে উপরে উঠলো ।
রাত্রি দশটা ।
অবাধ্য ছেলের বাধ্যতা নজরে ঠেকছে বেশ । সন্ধ্যার আগে আগে বেরোলেও এই দশটাতেই আজ বাড়ি ফিরেছে রৌদ্র । বাড়ির সবাই আজ যেনো একের পর এক বিষ্ময়ে কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে পড়ছেন । ছেলেটার কি হলো আজ ? ডিনার সেরে ড্রইং রুমেই বসে ছিলেন সকলে । ঠিক সেসময় বাড়িতে ঢুকেই কোনো দিকে না তাকিয়ে, কারোর উপস্থিতির গুরুত্ব না দিয়ে ধুপধাপ পা ফেলে উপরে উঠতে লাগলো রৌদ্র । ছেলেকে এই অসময়ে বাড়িতে দেখে হতভম্ব রুবিনা কাবির । মুহুর্ত কয়েক চোখ গোল গোল করে তাকিয়ে দেখলেন । অতঃপর নিজেও উঠলেন ছেলের পিছু পিছু । হাতে কিছু একটা ছিলো রৌদ্রের । দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকে পড়নের জ্যাকেট খুলে কোনো এক দিকে ছুড়ে মারলো সে । গা ম্যাজ ম্যাজ করছে কেমন । রৌদ্র ফ্রেশ না হয়েই জুতো পড়া অবস্থায় সটান বিছানায় শুয়ে পড়লো । বুজে নিলো দুচোখ ।
রুবিনা কাবির ঘরে ঢুকে ছেলে কে দেখে চমকে মুখে হাত রাখলেন । উদ্বিগ্ন হয়ে এগিয়ে বললেন….
” রৌদ্র , কি হয়েছে বাবা ? ঠিক আছিস তুই ? এভাবে অসময়ে এমন করে শুয়ে পড়লি কেনো ?
বলতে বলতে বিছানার পাশে বসে ছেলের কপালে,গলায় হাত ছোঁয়ালেন । ভাবলেন উল্টো পাল্টা কিছু । কিন্তু তেমন কিছুই নয় । রৌদ্র ঠিক আছে । ক্লান্ত দেখাচ্ছে । কেমন বিষন্নতার ছাপে ঝুলে এসেছে চোখ মুখ ।
ভুল ধারনা ঘুচে যেতেই শান্ত হয়ে আবার বললেন তিনি…..
” শরীর তো গরম নয় । আর কিছু হয়েছে তোর ? বলনা , শরীর খারাপ লাগছে ? কোথায় , কি সমস্যা হচ্ছে বল ?
” কিচ্ছু হয় নি মম । বেকার বেকার প্যানিক করো না তো । আ’ম অল রাইট ।
” আজ এতো তাড়াতাড়ি ফিরলি যে ?
” কেনো ? ফিরে তোমাদের অসুবিধায় ফেলে দিলাম ? সময় মতো ফিরলেও দোষ, না ফিরলেও দোষ ? এতো তাড়াতাড়ি ফিরেছি বলে তোমার স্বামী কথা শোনাচ্ছে আবার ?
ছেলের চড়া কন্ঠে রুবিনা কাবির নিজেও শক্ত করলেন কন্ঠ….
” এভাবে বলছিস কেনো ? কিছু বলেনি তোর বাবা !
” যাও এখান থেকে , কথা বলতে ভালো লাগছে না । একা থাকবো একটু ।
” খাবি না ?
” না ।
” খেয়েছিস বাইরে ?
” হু….
ছোট্ট জবাব করলো রৌদ্র । রুবিনা কাবির আর বসলেন না । লাভ নেই ছেলের সাথে কথা বাড়িয়ে । কথা বাড়ালে বড়জোর বিরক্ত হবে রৌদ্র । ছেলের উদাসীনতায় কেবলই হুতাশীর ন্যায় তপ্ত শ্বাস ফেললেন তিনি । যাওয়ার আগে দরজা চাপিয়ে চলে গেলেন ।
তিনি বেরোনো মাত্রই চোখ খুললো রৌদ্র । পিটপিট করে তাকিয়ে পকেট হতে ফোন বের করলো ।
কিছু একটা লিখে টেক্সট পাঠালো সেভ করা একটা নাম্বারে । অতঃপর ফোন ছুড়ে মেরে চোখ বুজলো আবার ।
শাফাহ্ রাতের স্কিন কেয়ার করছে । ফেস মাস্ক লাগিয়েছে । তুলে ফেলে তারপর ঘুমোবে । মেঘা পড়ার টেবিলে বসে বসে পূর্ণ মনযোগ দিয়েছে বইয়ের পাতায় । ক্ষণে ক্ষণে এক পলক করে তাকাচ্ছে শাফাহ্’র দিকে ।
এর মধ্যেই ফোনে মেসেজ আসার মতো টুংটাং মৃদু শব্দ হলো । কপাল গুটিয়ে ফোন হাতে নিয়ে স্ক্রিনে দৃষ্টি রাখলো সে । একটা স্বল্প পরিচিত নাম্বার । তবে সেভ করা নয় । মেসেজ ভেসে উঠেছে লক স্ক্রিনে । স্পষ্ট করে লেখা দুটো বাক্য….
” পেপার রেডি । আমার রুমে এসে নিয়ে যাও….
মেঘা ওপাড়ের লোকটাকে চিনতে পারলেও এই মুহূর্তে কপাল গুটালো । সময় দেখলো , দশটা বেজে পঁচিশ মিনিট । রৌদ্র ফিরেছে এসময় ? এতো তাড়াতাড়ি ?
মেসেজ টার দিকে এক মনে কিছুক্ষণ তাকিয়ে দেখলো মেঘা । অতঃপর উঠে দাঁড়ালো নিজের প্রয়োজনে । শাফাহ্’র উদ্দেশ্যে বললো নিচু গলায়…..
” আমি একটু আসছি !
বলেই বেরোলো সে । শাফাহ্ কে কিছু বলার মতো সুযোগ দিলো না । ঘর হতে বেরিয়েই করিডোরের এদিক ওদিক তাকালো সতর্কীত নজরে । পা টিপে টিপে কোনো রকমে চোরের ন্যায় দুটো ঘর পেরিয়ে রৌদ্রের ঘরের দরজার সামনে থামলো । ভয়ে বুক দূরু দূরু একবিংশীর । পায়ের তালু শিরশির করছে এভাবে লুকিয়ে চুরিয়ে আসতে গিয়ে । শিরশিরে অনুভূতি সমেত পূনরায় ভয়ে ভয়ে করিডোরের এপাশ ওপাশ চোখ বুলিয়ে নেয় । অতঃপর মুখ গোল করে শ্বাস ফেলে ঠাস করে দরজা খুলে দ্রুত কক্ষের ভিতর পা রাখে । ভেতরে ঢুকেই আবারো চাপিয়ে দেয় দরজা ।
বুকে হাত রেখে লম্বা শ্বাস ফেলে । কারোর চোখে পড়লে অনর্থ ঘটে যেতো । একেই তোফায়েল কাবির নজরে রাখছেন ওকে । তার সম্মুখে হলেও রৌদ্রের থেকে যথাসম্ভব দূরত্ব বজায় রাখতে হবে মেঘাকে ।
মেঘা তো দূরত্ব রাখে । ও কি রৌদ্রের কাছাকাছি আসে নাকি ? এখন তো প্রয়োজনের তাগিদে এসেছে । নতুবা আসতো নাকি ? রৌদ্রের সামনে সেও কঠোর । মাঝে মাঝে কঠরতা গলে যায় একটু ।
ঘুরে তাকাতেই এলোমেলো অবস্থায় রৌদ্র কে শুয়ে থাকতে দেখলো মেঘা । কপাল গুটিয়ে জড়ো করলো । উবু হয়ে শুয়েছে লোকটা । বালিশ জড়িয়ে রেখেছে । মাথার ওপাশে সাদা একটা ফাইল । ওটাতেই বোধহয় মেঘার অ্যাসাইনমেন্ট পেপার আছে । মেঘা চোখ সরু করলো । সন্তর্পণে পা বাড়িয়ে রৌদ্রের সামন বরাবর দাঁড়ালো । লোকটা কি ঘুমিয়েছে নাকি ? এইতো মিনিট কয়েক আগে মেসেজ করলো । এখন এভাবে শুয়ে আছে যে ? ঘুমিয়ে পড়লো এতো তাড়াতাড়ি ?
মেঘা কোমর বাঁকিয়ে ঝুঁকে পড়ে খানিক । রৌদ্রের মুখের সামনে মাছি তাড়ানোর ন্যায় হাত নাড়ায় । লোকটার নিস্তেজ ভাবমূর্তি দেখে সোজা হয়ে দাঁড়ায় । কোনো রকমে ফাইল নিয়ে এখান থেকে যেতে পারলেই হলো । এই লোকের সাথে তো ওর কাজ নেই । এমনিতেও ও দূরে থাকবে এনার থেকে ।
রৌদ্র কে টপকে হাত বাড়িয়ে মাথার পাশ থেকে ফাইল টা হাতে নিলো মেঘা । বিলম্ব না করে ঘুরে দাঁড়িয়ে পা বাড়াতেই অপর হাতের কব্জিতে টান পড়লো । সাথ সাথ ভেসে আসলো গম্ভীর পুরুষালি কন্ঠ……
” নিজের জিনিস গুছিয়ে পালাচ্ছিস ইডিয়ট ?
মেঘা দ্বিতীয় কদম মেঝেতে ফেলতে পারলো না । হাতে অবাধ্য লোকটার স্পর্শ পেতেই অবাধ্য অনুভুতিরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো । কাঁপল সহসা । পিছু ফিরে বোকা হাসি ঝুলিয়ে আমতা স্বরে বললো….
” আপনি ঘুমোচ্ছিলেন না ? ভেবেছিলাম ঘুমোচ্ছেন । তাই ডাকি নি । পেপার পেয়ে গেছি । আমি এখন আসি….
” জাস্ট , পেপার নেওয়ার জন্যই এসেছিস ?
” হু । ছাড়ুন । থ্যাংকস ফর অল । আমার কাঙ্ক্ষিত জিনিস পেয়ে গেছি আমি ।
রৌদ্র না ছেড়ে উঠে বসে । ঘাড় ঝাঁকিয়ে আড়মোড়া ভেঙে তড়াৎ দৃষ্টিপাত করে ,, কেমন অদ্ভুত ভাবে বলে……
” আমিও তো তোর জিনিস । আমাকেও গুছিয়ে নে না একটু । এভাবে অগোছালো থাকতে ভালো লাগে না আর । কেউ একজন নিজের মতো করে গুছিয়ে নেবে বলে অধীর হয়ে অপেক্ষা করছি । এলোমেলোই কাটাচ্ছি দিন রাত ।
মেঘা প্রকম্পিত হয় । হাত মুচড়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয় সহজেই । লোকটা ছেড়েছে, তাই ছাড়া পেয়েছে । পিছিয়ে যায় মেঘা । চোখ নামিয়ে নিতেই রৌদ্র ডাকে…..
” ইভারা ??
চোখ বুজে আসে রমনীর । সেই পুরনো তিক্ততা প্রকাশ করে বলে…..
” ডাকবেন না আমায় ঐ নামে !
” সুইটহার্ট !
মেঘা চোখ তুললো । খিটখিটে স্বরে জানতে চাইলো….
” কে সুইটহার্ট ?
” ইউ । মাই সানি ।
” কোন দিক থেকে আপনার সুইটহার্ট আর সানি আমি ?
” আমার বউয়ের দিক থেকে ।
” খবরদার আমাকে বউ বলবেন না । বউ নই আমি আপনার ।
” তুই বললেই হয়ে যাবে নাকি ?
” আর আপনি বললেই আমি আপনার বউ হয়ে যাবো নাকি ?
” হবি না , হয়ে গেছিস অলরেডি । আরো পাঁচ বছর আগেই । ইউ বিলং টু মি , মাই ওয়াইফি !
মেঘা শক্ত হলো । যেমনটা নরম হয়ে এসেছিলো এ ঘরে,, তেমনটা থাকলো না আর । কোমল চোয়াল খিচে নিয়ে ফাইলটা চেপে ধরে পা বাড়াতে গেলে রৌদ্র আবারো টেনে ধরে । এবার টেনে ধরেই ক্ষান্ত হলো না । নিজেও উঠে দাঁড়ালো । ঘোরের বশে মেয়েটা কে কাছাকাছি টেনে নিতেই মেঘা ভয়ার্ত কন্ঠে ঝাঁজ প্রকাশ কললো…..
” কি করছেন টা কি ? ছাড়ুন আমায় ! দেখুন , আমি কিন্তু একটা মেয়ে ? এভাবে যখন তখন ছোঁবেন না আমায় ।
” কেবল একটা মেয়েই নোস , একটা বউ ও তুই আমার । একটাই বউ ! আঠাশ বছরের জীবনে এ অবধি এক আঙ্গুলেও কোনো মেয়েকে স্পর্শ করিনি । যতটা আলগা করে তোকে ছুঁয়েছি , ততটা তো অনেক দূর । তোকে ছোঁয়ার গভীরতা বাড়াবো আরো । বউ হোস যে ,, তোকে ছোঁবো না তো কাকে ছোঁবো ?
রৌদ্রের অবস্থা বেসামাল । চোখ জোড়া কেমন লালচে নিভু । টালমাটাল নড়বড়ে অবস্থা । কাছাকাছি যেতেই মেঘা একটু স্মেল পেলো । রৌদ্র ড্রিঙ্ক করেছে মাত্রাতিরিক্ত । তা বুঝতে বাকি রইলো না । ফাইল টা দূর্বল হাত ফসকে পড়ে গেছে । মেঘা রৌদ্রের বুকের কাছে চাপ প্রয়োগ করে ওকে দূরে সরানোর চেষ্টা করলো । নাক সিঁটকে প্রশ্ন করলো…..
” নেশা করেছেন ?
” রোজ করি ! তবুও নেশায় নেশা হয় না । আর তোকে গ্রহণ না করেও তোর নেশায় জ্বলে পুড়ে মরছি । কি মারাত্মক নেশা তোর ।
” দেখুন রৌদ্র , আপনি ড্রিঙ্ক করেছেন । হুশে নেই আপনি । আপনার বিশ্রামের প্রয়োজন । আপনি বরং ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন । আমাকে ছাড়ুন….
” হুসসসস , হুঁশ আছে আমার । তাইতো শুনছি সবটা । ট্রাস্ট মি সানি , তোর মুখে নিজের নাম শুনলে প্রাণ পাখি ছাঁত করে উড়ে যায় আমার ।
রৌদ্র টলে পড়ে । ঠিকমতো দাঁড়াতেই হিমশিম খাচ্ছে । তার উপর মেঘা কে জড়িয়েছে নিজের সাথে । মেঘা ভড়কায় । ধীরে ধীরে পেছনে কদম হটায় । বুকের মাঝে ধুকপুকানি জোরালো হচ্ছে । রৌদ্র এগোচ্ছে ওর সাথে সাথে । এক পর্যায়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকলো মেয়েটার । অমনি ধড়ফড়িয়ে উঠলো । বেপরোয়া লোকটা অতি সন্নিকটে এসে থামলো । স্পর্শ গভীর করে টেনে মিশিয়ে নিলো মেয়েটাকে । কোমর জড়িয়ে ধরে মাথা ঝুঁকিয়ে নিয়ে বললো বেঘোরে…..
” সরি বউ….
আ’ম লেইট । আই এম ফার ঠু লেইট…। উচিত হয় নি এতোটা দেরি করা । বিশ্বাস করো ,, এতোটা দেরি করতে চাই নি আমি ।
মেঘা বিরক্ত হয় এবার । তখন থেকে বারবার কি বউ বউ করছে এই লোক ? কেবল ঘরের ভেতর , আর একা মেঘার সামনেই মনে পড়ে , যে মেঘা ওনার বউ ?
নিজের দূর্বলতা সামলে অবাধ্য অনুভুতি গোপনে রেখে রেগে মেগে চড়া গলায় বললো মেঘা…
” কিসের এতো বউ বউ করছেন তখন থেকে ? বউ আমি আপনার ? বারবার এটা কেবলই আমার সামনে বলেন কেনো ? ফাঁকা ঘরে , আমার সামনে আসলেই মনে পড়ে আমি আপনার বউ ? বাড়িতে আর কারোর সামনে আমাকে বউ বলে দাবি করার সৎ সাহস নেই আপনার মাঝে ?
রৌদ্র শুনে হাসলো । হাসিতে মৃদু শব্দ হয় । চোখ বুজে রাখা তার । মেলে দুচোখ । নেশার টালে ভারাক্রান্ত আধো চোখ জোড়া পূর্ণ করার কসরত করে । কোমর জড়িয়ে খুব কাছাকাছি টেনে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয় মেঘা কে ।
যে পর্যায়ে একে অপরের উষ্ণ নিঃশ্বাস অনুভব করতে পারলো , সে পর্যায় পর্যন্ত কাছাকাছি এগোলো রৌদ্র । মেঘার পিছনে ইট পাথরের তৈরি দেয়াল । আর সামনে বর্তমান আর ভবিষ্যতের মাঝে তৈরি উহ্য আলাদা দেয়াল ।
রৌদ্রের জোরালো গরম শ্বাস নিজের মুখশ্রীর উপর বারি খাওয়া মাত্রই ধক্ করে ওঠে মেঘা । আপনা আপনি হাত উঠে যায় রৌদ্রের উদরের দু’পাশে ।
রৌদ্র আধো চোখে খুটিয়ে দেখে ওকে । পুরোপুরি নজর বোলায় মুখশ্রীর আনাচে কানাচে । মেঘার কথা গুলো এড়িয়ে গেলো । রৌদ্রের দৃষ্টি থামলো মেয়েটার বাম ভ্রুর নিকট । ঐ যে সেদিন ছাদে দেখেছিলো , ভ্রুর কাছে কাঁটা চিহ্ন । কিভাবে কেটেছে এখানটায় ? জানা হয় নি !
রৌদ্র কপালে বিস্তর ভাঁজ ফেললো । এক হাতে কোমর জড়িয়ে নিয়েই অন্য হাত তুললো রমনীর মসৃন কোমল চোয়ালে । চোয়াল বেয়ে ভ্রু’র কাছটায় আঙ্গুল উঠলো । কাটা দাগ টার উপর বৃদ্ধাঙ্গুলে স্লাইড করলো । সেটাকেই ইশারা করে আগ্রহী হয়ে জানতে চাইলো ধীরুজ গলায়…
” এটা কিসের দাগ ? কেটেছে কি করে এখানটায় ?
মেঘা ঢোক গেলে । সুপ্ত অনুভূতি গুলো ধড়ফড়ে বিশালতা ছাড়ায় । এসির ঠাণ্ডা শিরশিরে বাতাসে কাঁপে সর্বাঙ্গ । তবুও কন্ঠ তুঙ্গে তুলে জবাব দেয় কেঁপে কেঁপে….
” কেটেছে কি করে জানেন না ? মনে নেই ? নেশার টালে মদের বোতল ছুড়ে মেরেছিলেন , এটা মনে আছে ? সেটারই আঘাত । আমার শরীরে আপনার দেওয়া প্রথম আঘাত এটা । ক্ষত চিহ্ন হয়ে রয়েই গেছে …
রৌদ্র বুঝলো না , মনে করতে পারলো না । কবে আবার বোতল ছুড়ে মারলো ? প্রশ্ন করলো….
” কবে ?
” আজ থেকে পাঁচ বছর আগে । যেদিন আমাকে আপনার কৃতকর্মের ভিকটিম বানিয়েছিলেন । এই দুঃসহ জীবন উপহার দিয়েছিলেন , সেদিন ।
এবার চোখ বুজে ভাবার চেষ্টা করে রৌদ্র । যতদূর মনে পড়লো , মেঘার সামনে একটা উইস্কির বোতল আছড়ে ভেঙেছিলো । ঠিক তখনই একটা কাঁচের টুকরো ছুটে গিয়ে বিঁধেছিলো এই মেয়ের কপালের কাছে । রক্ত ঝড়েছিলো তখন ।
মনে পড়তেই ফোঁস করে শ্বাস ফেললো রৌদ্র । ফের চোখ খুললো অতৃপ্তি নিয়ে । আবেশিত অনুতপ্ত দৃষ্টি পাত করলো একবিংশীর পানে । মেঘা সটান স্থবির হয়ে চেয়ে আছে । মূর্ত বনেছে যেনো । মুখখানা মলিন । চোখের পাপড়ি যুগল কাঁপছে ।
আঁখি লতার কাঁটা দাগটা বেশ চোখে বিধলো বেপরোয়া ছেলের । এটা যে ওর দেওয়া আঘাত , মনে পড়তেই ভেতর ভেতর ক্ষুব্ধতায় দগ্ধ করলো নিজেকে ।
আচমকাই ঠোঁট নামিয়ে নিলো একবিংশী বরাবর । মেঘাকে কিছু বুঝে উঠে বাঁধা দেওয়ার ফুরসৎ টুকু দিলো না । সিগারেটে পোড়া ওষ্ঠ যুগল আচানক চেপে ধরলো রমনীর ভ্রু’র নিকট কাঁটা চিহ্ন বরাবর । আকস্মিক ঘটনায় নির্বাক হলো মেঘা । এক মুহুর্ত চোখ জোড়া বিস্ময়ে বৃহৎ আকার ধারণ করলেও পরমুহুর্তে শিরশিরে সুপ্ত অনুভূতিতে নিভে এলো পাপড়ি যুগল । এই প্রথম তাহার গাঢ় স্পর্শ । ঠোঁটের স্পর্শ । প্রথম কোনো পুরুষের অধরের নরম পরশ পেলো একবিংশী । সে পুরুষ হালাল হয়েছে পাঁচ বছর আগেই ।
সহসা কোমল দেহ খানা জমে গেলো বরফের ন্যায় । লোমকুপ সব শিউরে উঠলো । মেয়েটা দিক দিশা খুইয়ে খুবলে ধরলো বেপরোয়া লোকটার উদরের দু’পাশ ।
রৌদ্র অনায়াসে দীর্ঘ চুম্বন আঁকলো আঁখি লতায় গোড়ে । শব্দ করে চুম্বন টুকু স্থায়ী করলো । অতঃপর আরামসে সরিয়ে নিলো নিজেকে । নীরবে তৃপ্ত শ্বাস ফেলে সন্নিকট হতে মেয়েটার নির্ভেজাল কম্পিত মুখাবয়ব নজরে নিলো । কপালে কপালে ঠেকিয়ে এক হাত আলগোছে তুললো রমনীর নরম গালে ।
বললো ফিসফিসিয়ে….
” আমার দেওয়া প্রথম আঘাতের চিহ্নের উপর আমার দেওয়া প্রথম ভালোবাসার স্পর্শ । আই স্যয়ার,, ততদিন এই স্পর্শ দিয়েই যাবো , যতদিন না এই আঘাতের চিহ্ন পুরোপুরি মিলিয়ে যায় । এটার জন্য সরি জান পাখি । ভুলে আঘাত দিয়ে ফেলেছিলাম । আর কক্ষনো দেবো না…
মেঘা শ্বাস রুখে নিয়েছে । এবেলায় রৌদ্র হালকা দূরত্ব বাড়ালো । বিরতি না দিয়ে মেঘার খোপা হতে কাঁটা টা একটানে খুলে নিলো । অমনি পেঁচানো খোঁপাটা খসে পড়লো রমনীর কাঁধে । সিল্কি কুন্তল ঢেউ খেললো । বিলম্ব করলো না বেপরোয়া লোকটা । মাদকীয় সেই ঘ্রাণ টাকে অনুভব করতে মাথা এলিয়ে নাক ডুবিয়ে দিলো রমনীর কাঁধের ভাঁজে । চুলের সেই সুপরিচিত ঘ্রাণটাকে বুক ভরে টেনে নিলো । খোঁচা খোঁচা দাড়ি মেঘার সুডৌল মসৃণ কাঁধ ছুঁই ছুঁই হতেই মেঘা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না । সব অনুভূতির উপর মাটি চাপা দিয়ে এক ঝটকায় টালমাটাল লোকটাকে দূরে ঠেললো । আকস্মিক নড়বড়ে কদম সামলাতে না পেরে অনেকটা পিছিয়ে গেলো রৌদ্র । মেঘা কেমন আচমকাই ঠোঁট কামড়ে ফুঁপিয়ে উঠলো । ভিজে উঠলো চোখের কার্নিশ । আঙ্গুল তুলে তিরিক্ষি স্বরে বললো….
” ইউ রাইনো মুখো । আর ইউ আউট অফ ইউর মাইন্ড । দূরে যান আমার কাছ থেকে । খবরদার আমার কাছে আসবেন না । বাড় পেয়েছেন আপনি ? মাঝে মাঝে নরম হয়ে যাই , তাই বলে দূর্বল ভাবেন আমায় ? সুযোগ নিতে এসেছেন ? আপনি নিষিদ্ধ আমার জন্য । দূরে থাকবেন আমার থেকে ।
আকস্মিক ঘোর কাটলো রৌদ্রের । সাথ সাথ মেঘার ক্ষুব্ধ ভাবমূর্তি দেখে নিজের বেসামাল অবস্থা সম্পর্কে অনুগত হলো । সামলে নিলো বেপরোয়া সত্তাকে । নেশা হয়েছে কি আজ ? রৌদ্র ঘাড় ঝাঁকায় । দুহাতে ঘাড় চেপে ধরে । অতঃপর মেঘার ভেজা মুখপানে তাকায় । ভেজা চোখ দেখে ভড়কায় । শান্তনা দিতে বলে….
” ইভারা ,,, আ’ম সরি । এমন করছো কেনো ? হোয়াট হ্যাপেন্ড অল অফ আ সাডেন ? কিছু করিনি তো । ডোন্ট বি অ্যাফরেইড ! আ’ম ইউর হাসবেন্ড । বি নরমাল । ইউ আর মাই ওয়াইফ….
” চুপপপ ,,, বউ বলবেন না আমায় । আমি আপনার বউ নই । আর না আপনি আমার হাসবেন্ড । এমন হাসবেন্ড চাই না আমার । যেদিন সবার সামনে আমাকে বউ বলে স্বীকার করতে পারবেন , আমাকে আটকাতে পারবেন । সেদিন আসবেন আমার হাসবেন্ড হতে । নয়তো আসবেন না । চলে যাবো আমি , যদি আটকাতে পারেন , তবেই স্বামী হতে আসবেন ।
আর এক মুহূর্ত দমলো না রমনী । চোখ মুছে এলোমেলো পায়ে ছুটে ঘর ত্যাগ করলো । ও যেতেই রৌদ্র ধপ করে মেঝেতে হুমড়ি খেয়ে পড়লো । নিজের উপর চরম বিব্রত হলো সে । যে রুডভিক কাবির রৌদ্র নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রেখে ঘুমন্ত রমনীকে অবধি গাঢ় স্পর্শ করে নি । সেই রুডভিক কাবির রৌদ্র আজ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজ্ঞানে থাকা রমনীর দিকে খেই হারালো ? নেশা করা কি বেশিই হয়ে গেছে আজ ? নিজের উপর ক্ষুব্ধতায় সজোরে মেঝেতে পাঞ্চ করলো রৌদ্র । দাঁত পিষে বিড়বিড় করলো বিরক্তিতে নিজের প্রতি….
” ওওও শিট । রুডি , আর ইউ ইডিয়ট ? কি করলি এটা তুই ? ওকে মানাতে হবে আগে । বোঝাতে হবে । সংস্পর্শে থেকে সময় দিতে হবে । ও সফট , ও রেগে আছে তোর উপর । ও পারবে না তোকে এতো সহজে এক্সেপ্ট করতে । ভুল করেছিলি তুই । আর আবার ? নো, নো । নট এনিমোর । ইভারা…. আই এম এক্সট্রেমলি সরি সানি ।
চলবে…….
#আসবো_ফিরে_আবারো
#বোনাস_পর্ব
#সুরভী_আক্তার
দিগন্ত চিরে সূর্যালোকের দেখা মিলছে । আকাশ মেঘলা আজও । মেঘ জমেছে । কেবল বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পড়াই বাকি । কালো মেঘের ফাঁক গলিয়ে ধীরে ধীরে উঁকি দিচ্ছে সূর্যি । মিষ্টি তার দহন ।
কাবির পরিবারের সবাই বসেছে ব্রেকফাস্টের টেবিলে । আহিয়ান এখনো নিচে নামে নি । অফিস আছে তার । রামিশা কে রুবিনা কাবিরের কোলে দিয়ে ধীরে ধীরে উপরে উঠলো সিরাত । করিডোরে রৌদ্রের সাথে রাস্তা কাটাকাটি হয়েছে । সিরাত খানিক ভ্যাবাচ্যাকা খেলো ভাইকে দেখে । সকাল সকাল শাওয়ার নিয়ে উদ্যম অবস্থাতেই ঘর ছেড়েছে রৌদ্র । এমনি দিন হলে ভেজা শরীরে টিশার্ট জড়ায় । নতুবা টাওয়েল ঝোলায় গলায় । আজ হিতে বিপরীত । কেবলই ট্রাউজার পড়নে । পেটানো শরীর উন্মুক্ত । সিরাত কপাল কুঁচকে দেখলো । রৌদ্রের গম্ভীর মাথা নিচু ভঙ্গিমা দেখে আগ বাড়িয়ে কিছু বললো না ।
পাশ কাটিয়ে নিজ ঘরে ঢুকলো সে । ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে তড়িঘড়ি করে হাতে ঘড়ি পেঁচাচ্ছে আহিয়ান । লেট হয়ে গেছে । দেখেই বিচলিত মনে হচ্ছে । সিরাত মুচকি হেসে বললো….
” রেডি হওয়া হয় নি এখনো ?
” হয়েছে ।
” নিচে চলো । সবাই অপেক্ষা করছে তোমার ।
আহিয়ান ব্যাগ হাতে নিলো । দ্রুত কদমে এগিয়ে এসে টুপ করে সিরাতের কপালে ঠোঁট ছোঁয়ালো । তাড়াহুড়ো করে বললো….
” আজ সময় নেই সিরাত । দেরি হয়ে গেছে অলরেডি । আমি অফিসের ক্যান্টিনে খেয়ে নেবো । আসি…
” সে কি ! দেরি হয়ে গেছে বলে খাবে না ?
আহিয়ান তড়িঘড়ি করে বেরোতে বেরোতে জবাব দিলো….
” উঁহু , খাওয়া হবে না সিরাত । খেতে গেলে দেরি হয়ে যাবে ।
” আরে শোনো তো । এতো তাড়াহুড়ো করছো কেনো ? একদিন দু-চার মিনিট লেট হলে কিচ্ছু হবে না ।
আহিয়ান শুনলে তবেই তো ।
বড় বড় ধাপ ফেলে ঘর ছাড়িয়ে সোজা নিচে নামলো সে । পিছু পিছু হন্তদন্ত হয়ে নামলো সিরাত । বেরোনোর আগে মেয়ের কাছে গেছে তার বাপ । রুবিনা কাবিরের কোলে থাকতেই মেয়েকে আদুরে চুমু খেলো সে ।
সবার উদ্দেশ্যে দেরি হয়ে গেছে , এই বাহানা দিয়ে তড়িঘড়ি করে বেরোতে গেলে ডাকলো সিরাত । স্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে এক মুহুর্ত থামলো আহিয়ান । সিরাত চটজলদি দুটো স্যান্ডউইচ মুড়িয়ে নিলো টিস্যুতে । আহিয়ানের দিকে ছুটে গিয়ে ওর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল…..
” যেতে যেতে খেয়ে নেবে এ দুটো । আমি জানি অফিসে গেলেও সেই লাঞ্চের আগে আর কিছুই খাবে না তুমি ।
আহিয়ান মুচকি হাসলো । মোড়ানো স্যান্ডউইচ টা হাতে নিয়ে সিরাতের কপোলে আলতো হাত রেখে ঠোঁট নাড়িয়ে বললো মৃদু স্বরে….
” আচ্ছা , বায় । মেয়ের আর নিজের খেয়াল রেখো ।
চলে গেলো সে ।
ওদের দুটোর কান্ড আড়চোখে অবলোকন করলো রৌদ্র । নিচে নেমেই চেয়ার টেনে খেতে বসেছে । কোনো দিকে না তাকালেও এবার চোরা চোখে সামনে তাকালো । টেবিলের এক মাথায় সে । অন্য মাথায় মেঘা । আজ মেঘার আসন পরিবর্তন হয়েছে । তোফায়েল কাবিরের পাশে বসেছে সে । কেবল রৌদ্রের জন্য বরাদ্দকৃত চেয়ারটাই ফাঁকা ছিলো । আহিয়ানের চেয়ারের পাশে আদ্র বসেছে । আহিয়ান চলে গেছে । ওর চেয়ারটা ফাঁকা থাকলেও সেখানে বসতো না রৌদ্র ।
মেঘা কে দূরে দেখে কপালে বিস্তর ভাঁজ ফেললো সে । মাথা নুইয়ে খাচ্ছে মেঘা । রৌদ্র পাতের দিকে তাকাতেই রুবিনা কাবির একটা ডিমের অমলেট তুলে দিলেন । তা দেখে নাক শিকেয় তুললো রৌদ্র । মুখ সিঁটকিয়ে বললো…..
” উফফফ মম । ডিম দিচ্ছো কেনো ? তুমি জানো না আমি ডিম খাই না ? গন্ধ লাগে ।
” অমলেট তো খাচ্ছিস কদিন ধরে ।
রৌদ্র বিড়বিড় করলো ডিমটা উঠিয়ে রেখে….
” ঐ ইডিয়টের পাতের টা এনে দাও , তাহলে খাবো ।
শুনলো না কেউ । মেঘা এক বারের জন্যও মাথা তুলে তাকায় নি । রৌদ্র নামার সাথে সাথেই ওকে দেখেছে সবাই । ছেলের খোলামেলা বডি দেখে তোফায়েল কাবির খানিক মুখ বিকৃত করলেন । লজ্জা শরম নেই এই ছেলের !
রামিশাকে সিরাতের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে ছেলের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন রুবিনা কাবির । রৌদ্র খাওয়ার মাঝে বাম হাত দিয়ে বারবার ঘাড় ডলছে । মাথা নাড়াচ্ছে । চুলকোচ্ছে বোধহয় । বারংবার ছেলের এমন কান্ড দেখে চোখ সরু করলেন রুবিনা কাবির । রৌদ্র হাত সরিয়ে নিতেই দৃষ্টি তাক করলেন ছেলের কাঁধের দিকে । ঠিক কাঁধের অংশে কিছু নজরে না পড়লেও গলার ভাঁজের নিকট দৃষ্টি আটকালো । কন্ঠ মনির ডান পাশ ঘেঁষে অনেকটা নিচে কালচে মতো কিছু একটা চোখে পড়লো তার ।
পরিষ্কার ভাবে বোঝার জন্য চোখ তীক্ষ্ণ করলেন ভদ্রমহিলা । রৌদ্রের গলার নিকট এটা কি ? অনুমান করলেন , ট্যাটু বলে এটাকে । হ্যাঁ , তাই তো । এটা তো ট্যাটুই ! রৌদ্র ট্যাটু করিয়েছে ? আগে তো ছিলো না গলায় ? কবে করালো ?
বিদেশ থেকে ফেরার পর রৌদ্রের গলার দিকটায় নজর দেওয়া হয় নি । অবশ্য নজর দেওয়ার কথাও ছিলো না সচরাচর শাওয়ারের পর উদ্যম থাকলেও বরাবর গলায় টাওয়েল পেঁচিয়ে চলতো এই ছেলে । তাই আগে লক্ষ্য করার মতো সুযোগ ও ছিলো না । আজ লক্ষ্য করলেন । বিদেশ যাওয়ার আগে রৌদ্রের গলায় এটা ছিলো না । তবে কি ওখানে যাওয়ার পর করিয়েছে ?
কিন্তু ডিজাইন টা অদ্ভুত । খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলেন রুবিনা কাবির । দেখার মাঝেই ঠিক ঠাহরে আসলো , এটা কেমন কামড়ের দাগের অনুরূপ । ঠিক যেনো কেউ কামড়ে জখম করে দিয়েছে । টানটান চামড়ায় দাগ বসেছে জখমের ন্যায় ।
আর শান্ত থাকতে পারলেন না ভদ্রমহিলা । উদ্বেগ দমিয়ে রাখতে না পেরে ছেলের গলায় হাত রাখলেন । দাগটার উপর এক আঙ্গুল বুলিয়ে প্রশ্ন করলেন ছেলেকে……
” রৌদ্র , তোর গলায় এটা কি ?
সহসা ফিচেল হাসির দেখা মিললো বেপরোয়া ছেলের ওষ্ঠ পূটে । যেনো এই প্রশ্ন আর এই মুহূর্তেরই অপেক্ষায় ছিলো সে । মোক্ষম সময় এসে গেছে । রুবিনা কাবিরের প্রশ্ন শুনে খাওয়া ফেলে বাদবাকিরা তাকালো রৌদ্রের দিকে । পরক্ষনে ইশারা অনুযায়ী রৌদ্রের গলার দিকে । রৌদ্র হাসি ঠেলে দূরে সরায় । না বোঝার ভঙ্গিতে বলে….
” কোনটা মম ?
” এই যে গলার নিচে !
সিরাত এগোলো…..
” কোথায় কি আম্মু ?
” এই দেখ , ওর গলার নিচে এটা কি । কেমন অদ্ভুত দাগ । যেনো কেউ কামড়েছে ।
সিরাতের সাথে সাথে চোখ কুঁচকে তাকায় সকলে । রুবিনা কাবির আবার বলেন…..
” কি হলো ? এটা কি , কিসের দাগ এটা ? এটাকে ট্যাটু বলে তো , তাই না ?
মেঘা এ পর্যন্ত চায় নি । আগ্রহ থাকলেও চোখ তুললো না । কেবল শুনেই বোঝার চেষ্টা করলো । রৌদ্র সবার উপস্থিতি উপেক্ষা করে । এবেলায় সোজাসুজি দৃষ্টি তাক করে একবিংশীর দিকে । রুবিনা কাবিরের কথা ফুরোতেই নিজের গলায় হাত রাখে রৌদ্র । প্রত্যুত্তরে গলা চড়িয়ে সোজাসাপ্টা উত্তর করে…..
” এটার কথা বলছো ? ইটস্ মাই ঠু পার্সোনাল । দেখে ফেলেছো ? এটা তোমার বউমার দেওয়া ফার্স্ট লাভ বাইট ,, মম ।
মেঘা পানির গ্লাস মুখে চেপে ধরেছিল । এক ঢোক গেলা মাত্রই রৌদ্রের কথা কর্নকুহরে ঠাস করে প্রবেশ করলো । অমনি মুখের বাকি পানি টুকু আর নামলো না গলা দিয়ে । পিক করে থতমত খেয়ে বের করে দিলো মুখ হতে । পানি গুলো ছিটকে পড়লো শাফাহ্’র গায়ে । কথার টাল সামলাতে না পেরে খাবার নাকে মুখে উঠতেই কাশতে আড়ম্ভ করলো সে । চোখ মুখ খিচে খুক খুক করে কেশে যাচ্ছে ।
শাহিনা কাবির দ্রুত এগিয়ে আসলেন । মেঘার মাথা আর পিঠে হাত বোলালেন আলতো করে । ক্ষণিকের মধ্যে থামলো মেয়েটা । চোখে পলক ফেলতে ফেলতে আজ এই প্রথম রৌদ্রের দিকে তাকালো । বাকিরাও আহম্মক বনে গেছে । মেঘা সামলে উঠেছে , এটা দেখে তড়াৎ করে আবার সকলে রৌদ্রের দিকে দৃষ্টিপাত করলো । ছেলের প্রতিক্রিয়া নেই । সবার মধ্য থেকে সে গা ছাড়া ভাবে খাচ্ছে । এক্ষুনি কথার মাধ্যমে বজ্রপাত ঘটালো , অথচ তার বিন্দুমাত্র প্রভাব নেই ওর মাঝে । তোফায়েল কাবির মুখ শক্ত করলেন । গলা ঝাড়লেন তিনি । ছেলের কথা গায়ে মাখলেন না এতো সহজে ।
পরিস্থিতি বেগতিক । সিরাত ইতস্তত করে দোনামোনা করলো । নিচু হয়ে বললো….
” এসব কি বলছিস রৌদ্র ? এখানে বাড়ির সবাই আছে ।
” সো হোয়াট ?
রুবিনা কাবির বলেন…..
” রৌদ্র , এটা তো ট্যাটু ।
” হু । তোমার বউমার দেওয়া বাইট । তোমার ছেলে যত্ন করে নিজের শরীরে গেঁথে নিয়েছে । সি , লুক লাইক বাইট ।
মেঘা থতমত খায় । কথা টুকু বলেই মেঘার দিকে তাকায় রৌদ্র । দুজনার চোখাচোখি হয় এবার । মেঘা কিংকর্তব্য বিমূঢ় । বিপরীতে রৌদ্রের ফিচেল মুখাবয়ব ।
মেঘার চোখে চোখ রেখে ভ্রু নাচায় সে । শুভ্র আদ্র আহম্মক । ভ্যাট ভ্যাট চোখে পলক ফেলতে ফেলতে একেক বার একেক জনকে পরখ করলো ওরা । সবশেষে নিজেদের দিকে তাকিয়ে দু ভাই ভ্রু নাচালো ।
হচ্ছে টা কি এসব ? রৌদ্রের মাথা ঠিক আছে । নাকি নেশায় আছে এখনো ? ভুজুং ভাজুং বকছে সব । সিরাত তোফায়েল কাবির আর তৌসিফ কাবিরকে আড়চোখে পরখ করে ধীরে বললো…..
” রৌদ্র , চুপচাপ খা । মজা করার জায়গা নয় এটা ।
” মজা করছি না আপু । আ’ম সিরিয়াস । তোমরা জানতে চাইলে , তাই তো জানালাম । নতুবা, পার্সোনাল কথা এভাবে শেয়ার করতাম নাকি ? আমার ও তো লজ্জা বলে কিছু একটা আছে, নাকি ? ট্রাস্ট মি , এটা আমার বউয়ের দেওয়া দাগ । বেশ পছন্দ হয়েছিলো । মানে ওর কোদালের মতো দাঁত গুলোর ছাপ বসে গেছিলো এখানটায় । ইচ্ছে হলো সারাজীবন বয়ে বেড়াই এটাকে । তাই ঐ দাগের উপর সেম ভাবে ট্যাটু করিয়ে নিয়েছি । ভালো করেছি না ?
সিরাত এবার ভ্যাবাচ্যাকা খায় । কি নির্লজ্জ ছেলে । বাপ মা , বাবাই মনি, বড় ভাই , বোন , ভাবি , ছোট বোন , সবাই এখানে । আর এই ছেলে মজা করে হলেও এভাবে সবাইকে শুনিয়ে শুনিয়ে নির্লজ্জের মতো এতগুলো কথা বলছে ? মজা ছাড়া এটা আর কিই বা হতে পারে ? এটা আদৌও সম্ভব নাকি । বউ বলতে মেঘা ! মেঘা রৌদ্রের গলায়… । না না , এটা হতে পারে না । সিরাত বেশি ভাবতে পারলো না । রৌদ্রের কথাটা সিরিয়াসলি নিলো না কেউই ।
চোখ নামিয়ে ঢোক গিললো সে । শুভ্রর হাসি পেলো । বড়দের সামনে হাসতে পারছে না । জোর পূর্বক চেপে রেখেছে । আর রাখতে পারলো না । সবার আহম্মক ভাবমুর্তি দেখে ফিক করে মুখ চেপে ধরে হাসলো একটু ।
অমনি রৌদ্র তাকালো ।
” হাসছো কেনো ব্রো ? সিরিয়াসলি , আ’ম সিরায়াস । বিশ্বাস না হলে আমার বউকে জিজ্ঞেস করে দেখো ।
” বউ মানে ?
রুবিনা কাবিরের কাঠ প্রশ্ন । তাৎক্ষণিক দৃঢ় জবাব রৌদ্রের…
” বউ মানে বউ । আমার বউ । রুডভিক কাবির রৌদ্রের বউ । ইডিয়ট ঘাড় ত্যারা বউ । থাপ্পর মেরে সোজা করে বিয়ে করা বউ । কেবলই আমার বউ । কাবির পরিবারের বেপরোয়া ছেলের ইডিয়ট বউ ।
” রৌদ্র…..
মাথা ঠিক আছে তোমার ! নির্লজ্জের মতো সব বিষয়ে মজা করবে না । কাকে বউ বউ করছো তুমি ?
বাপের প্রশ্ন , রৌদ্র জবাব দিয়ে বৃথা জবানের খরচ করলো না । বাপের সাথে যে তার সখ্যতা নেই । কথা নেই আজ কত বছর । কেবলই আছে উহ্য অভিমান,আর পুষে রাখা রাগ । যে রাগ জমতে জমতে দু’জনের মাঝেই পাহাড় স্বরূপ হয়েছে ।
উঠে দাঁড়ালো রৌদ্র । মেঘা কাল বলেছিলো না , সবার সামনে ওকে বউ বলে দাবি করতে ? তাই করলো সে । দাবি করলো বউ বলে । তবে নাম নেয় নি একটা বারও । দাবি করে নিজের সৎ সাহস প্রমাণ করার ছিলো , তাই করেছে ও । নিজের বউকে বউ বলেছে সবার সামনে ।
তৌসিফ কাবির উঠে দাঁড়ালেন । রৌদ্র কে থামিয়ে ঠান্ডা স্বরে বললেন….
” তুমি যা বলছো , ভেবেচিন্তে বলছো তো ? বউ মানছো মেঘা কে ? এভাবে অধিকার দেখিয়ে দাবি করছো যে ?
” মানলেও বউ , না মানলেও বউ । বিয়ে করেছি , তাই ও আমার বউ । ওর দেওয়া বাইট গলায় নিয়ে বয়ে বেড়াচ্ছি , আর কিভাবে বোঝাবো ?
মেঘা এতক্ষণ ধরে সহ্য করে আসলেও আর পারলো না । কিসব গলার বাইট , কামড়ের দাগ , ট্যাটু , এসব কোথা থেকে আসলো ? আর ঐ বা কখন বাইট দিলো ও লোকটাকে । মেঘার কান রি রি করে ওঠে । লজ্জায় মুড়িয়ে যায় মেয়েটা । বড় কথা তোফায়েল কাবির এখানে । তিনি উপর উপর শান্ত রেখেছেন নিজেকে , ভেতর ভেতর হয়তো ফুঁসছেন ।
মেঘা সহসা দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে ধমকে বলে…..
” ইউ রাইনো মুখো । হোয়াট রাবিশ ? কিসব ফাউ প্যাঁচাল শোনাচ্ছেন তখন থেকে । নির্লজ্জ , বেহায়া , অসভ্য , মিথ্যেবাদী লোক । গজব পড়ুক আপনার লাগামহীন মুখের উপর । মিথ্যে কথা বলতে জবানে বাঁধে না একটুও ?
রৌদ্র ফিরে চায় । চোখাচোখি করে কেবলই হাসে মাথা দুলিয়ে । গা ছাড়া ভাবে হেলে দুলে উঠে যায় উপরে ।
সবার অবস্থা স্তব্ধ , তব্দা খেয়ে বসে আছে । লজ্জা জনক পরিস্থিতি এখানটায় । মেঘার ইচ্ছে করলো পুরোপুরি মাটির সাথে মিশে যেতে । যেনো অলৌকিক কিছু ঘটুক এই মুহূর্ত টায় , আর সে সবার দৃষ্টিগোচর হয়ে পালিয়ে যাক কোথাও । চোখ নামিয়ে দাঁত চেপে হাত কচলালো সে । বিড়বিড় করে শত শত গালিগালাজ করলো ঐ রাইনো মুখো টাকে ।
বুঝতে বাকি রইলো না , সবাই ওর দিকেই তাকিয়ে আছে । সকলে কি ভাবছে কে জানে ? ঐ রাইনো মুখো মিথ্যে বলেছে , এবার এটা বোঝাবে কি করে সবাইকে ? থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ সবার মাঝে । মেঘা চেয়ার সরিয়ে পিটপিট করে পাশে তাকালো । তোফায়েল কাবির ও তাকিয়েছেন একই সময় । ভদ্রলোকের সাথে দৃষ্টি মিলতেই ধক্ করে উঠলো মেয়েটা । লজ্জা,জড়তায় পিছু ফিরে এক ছুট লাগালো ।
ওকে যেতে দেখে এবার আদ্র উঠে দাঁড়ালো ধীরে । পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মুখ খুললো নীরবতা ভেঙে….
” আমার খাওয়া শেষ ।
টুকটুকির বাচ্চাাাাা , খাওয়া হয় নি ? ওঠ ,, আর কতো খাবি ?
শাফাহ্ ফ্যাল ফ্যাল করে হাসে । আদ্রের সাথে পা মিলিয়ে চটজলদি প্রস্থান করে সকলের সামনে থেকে ।
চলবে……
Share On:
TAGS: আসবো ফিরে আবারো, মম সাহা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৯
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১৪+বোনাস
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১১
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪৬
-
ভালোবাসি সুচরিতা পর্ব ৮
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২২
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪৮
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১৯
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪৩(প্রথমাংশ+শেষাংশ)