#আলতো_ছোঁয়ায়_সমুদ্রকথন__(০৭)
#নুসরাত_সুলতানা_সেঁজুতি
কড়া রোদের মধ্যে হাঁটছে মারিয়া। প্রায় দুপুরের শেষ ভাগ এখন। অথচ রোদের তেজ কমেনি। মুখটা ঘেমে জবুথবু। বুক ধড়ফড় করছে চিন্তায়। এই প্রথম বাড়িতে না জানিয়ে রওনককে না বলে,সম্পূর্ণ নিজের বুদ্ধিতে একটা কাজ করতে যাচ্ছে সে। পত্রিকায় সেদিন একটা চাকরির বিজ্ঞাপন দেখেছে মারিয়া, পড়াশোনা ইন্টারমিডিয়েট পাশ হলেই চলবে। সামান্য কম্পিউটার অপারেটরের কাজ। আজ সেখানে খোঁজ নেবে মারিয়া। স্যালারি যাই পাক,কিছু অন্তত সাহায্য হবে ভাইয়ার৷
বড়ো আশা নিয়ে হাতের ফাইলটা সমেত মারিয়া ওই বিশাল অফিস ভবনের সামনে এসে দাঁড়াল। নার্ভাসনেসে ভরা চোখ ঘুরিয়ে চাইল এদিক-ওদিক। সিকিউরিটি গেইট খুলে দিলেন। বড়ো শ্বাস নিয়ে, বুকে সাহস টেনে মারিয়া ঢুকল ভেতরে। এত বড়ো অফিস,কোন দিকে যাবে? কোথাও কিছু চেনে না। কাউকে জানে না। সরল মনে শুধাল,
“ কোথায় যাব,চাচা?”
সিকিউরিটি বললেন,
“ ইন্টারভিউ দিবেন?”
“ হ্যাঁ!”
“ বামে হাঁটেন। লিফটে উঠে তিন তলায়।”
“ আচ্ছা।”
মারিয়া ফ্যাসফ্যাসে দম নিতে নিতে এগোলো। রওনক যদি জেনে যায়, না বলে এই অচেনা জায়গায় মারিয়া একা এতদূর এসেছে। মেরেই ফেলবে। একবারে চাকরিটা পেয়ে তারপর জানালে ,হয়ত রাগটা কমবে কিছুখানি। ওর বেখেয়ালি চিন্তিত চোখ হঠাৎ পড়ল লিফটের দিকে। লিফটে একটা ছেলে উঠছে। কানে ফোন। কথা বলায় ব্যস্ত ভারি।
লিফটের দোর বন্ধ হতে দেখে মারিয়া সচকিতে চ্যাঁচাল,
“ এই, এই আমি যাব!”
বলতে বলতে হাত বাড়িয়ে ছুটে এলো মেয়েটা।
লিফটের ভেতর স্যুট-ব্যুট পরা লোকটি মেয়েলি চিৎকারে তৎক্ষনাৎ বাটন টিপে থামালেন।
মারিয়া চপল পায়ে দৌড়ে ঢুকতে এলো। ঝকঝকে টাইলসে পা হড়কে সঙ্গে সঙ্গে হাতের ফাইল সহ নিজেও ধুপ করে পড়ে গেল নিচে। ছেলেটা উল্টোঘুরে কথা বলছিল। রিনরিনে সুরে “ মাগো!” চিৎকারটায় চাইল ফিরে। থুবড়ে পড়ে থাকা দীঘল বেনুনির মেয়েটাকে দেখে হকচকাল কিছুটা। নিজের যাত্রা ভুলে ফোনের লাইন কেটে বেরিয়ে এলো ত্রস্ত।
মারিয়া মুখ থুবড়ে পড়েছে, থুতনি আর কনুই ঠুকে গেছে ফ্লোরে। ফাইল থেকে কাগজপত্র সব ছড়িয়েছে চারিদিক। ছেলেটা গতিতে সব গুছিয়ে হাতে তুলল। ওর পেছন থেকে বলল,
“ আর ইউ অলরাইট?”
মারিয়া উত্তর দিলো না। উঠে বসতে বসতে কনুই ডলছিল। ব্যথায় জীবন শেষ!
সে পুরুষ এগিয়ে এসে ইতস্তত করে ওর কনুইয়ে ধরলেন। মোলায়েম স্বরে বললেন,
“ উঠুন, আস্তে দেখে, পড়লেন কীভাবে?”
“ কীভাবে যে পড়লাম…”
বলতে বলতে মারিয়া উঠে দাঁড়াচ্ছিল। ওইভাবেই চাইল মাথা তুলে। তুরন্ত কাঁপল চারটে চোখ। মারিয়া চমকে বলল,
“ আপনিইইইইই?”
চশমা পরা শুভ্র সাদিফ অবাক হলো তার চেয়েও বেশি। নাক কুঁচকে বলল,
“ ম্যালেরিয়ায়ায়ায়ায়া,ইইইইউ!”
সাথে সাথে মারিয়ার ধরে রাখা কনুই ছেড়ে দিলো সাদিফ। মেয়েটার শূন্যে ভাসা শরীর নিয়ে ফের ধপাস করে নিচে পড়ে গেল। ব্যথায় আর্তনাদ করে বলল,
“ আয়া,ফেলে দিলো.. অসভ্য বাজে ছেলেটা আমাকে ফেলে দিলো!”
সাদিফ চোখেমুখে এক ঝটকা অনীহা নিয়ে বলল,
“ আমি কিনা হাত ধরে এই মেয়েকে তুলছিলাম? এরকম একটা ম্যালেরিয়াকে?,ছি,ইয়াক… আমার হাত নোংরা হয়ে গেছে। ম্যালেরিয়ার জীবানূ লেগেছে। সাদিফ, ইউ হ্যাভ টু ওয়াশ ইয়র হ্যান্ড।”
ও হনহনিয়ে চলে গেল কোথাও। ডান হাত ধোয়া এতই জরুরি যে,বাম হাতে রয়ে যাওয়া মারিয়ার ফাইল অবধি খেয়াল নেই। মেয়েটা ব্যথা ভুলে হাহুতাশ করে উঠল,
“ আরে আমার ফাইলটা… এই সাদা মূলা আমার ফাইল….! খচ্চর ব্যাটা আমার ফাইল দিয়ে যা!”
নিজেই টলমলিয়ে উঠে দাঁড়াল তারপর। ওর হাকডাক সাদিফের কানে ঢোকেনি। মারিয়ার নাক-মুখ কুঁচকে যাচ্ছে। প্রথম বারের চেয়েও দ্বিতীয় বার চোট বেশি পেয়েছে বেশি। কিছু পথ টলতে টলতে হেঁটে এলো,সাদিফ যেদিকে গেল সেদিকটায়। কিন্তু কই, এদিকে তো কেউ নেই। মারিয়া খিটমিট করে দেখল চারিপাশ। দাঁত খিচে বলল,
“ কই গেল এখন? আমি এখন এই পোল্ট্রিটাকে কই খুঁজব?”
আয়ায়া, আমার ইন্টারভিউ!”
***
ধূসর বাড়িতে গাড়ি নিয়ে হাজির হওয়ার পর থেকে,পিউয়ের দুশ্চিন্তা বিষণ্ণতায় বদলে গেল। ধূসর ভাইকে পটাবে কীভাবে সেই ভাবনা পাল্টাল অন্যরকম দুঃখে৷ বাড়ির সবাই খুশি হলেন,ছেলে গাড়ি কিনেছে। তিন মা, আর চাচাদের মধ্যে হিড়িক পড়ল আনন্দের। সেজো চাচাও ফোনের ওপাড় থেকে গদগদ ভাষায় নিজের খুশি জানালেন। লনের ম্যাড়ম্যাড়ে সাদা গাড়ির ভেতর একটা ঝকঝকে নীল গাড়ি,এখন কী সুন্দর লাগছে দেখতে!
ছোটো চাচ্চু বনেট থেকে ডিকিটাও ধরে ধরে দেখলেন। কত কী বললেন, ভালো হয়েছে,সেরা আরো শ খানেক প্রশংসা শোনা গেল।
রাদিফ এক পর্যায়ে বলল,
“ ভাইয়া আমাদের চড়াবে না!”
ধূসর বলল,
“ অফকোর্স। যে যে উঠবে এসো।”
প্রশ্রয়ের গতিতে রাদিফের দুই বাহু তুলে ড্রাইভিং এর পাশের সীটে বসাল ধূসর। পুষ্প চটপট উঠল পেছনে। উঠলেন, জবা আর আনিসও। আমজাদ,আফতাব বাড়ি নেই। তবে
অসহায়ের মতো মা আর মেজো মায়ের সঙ্গে দাঁড়িয়ে রইল পিউ। একে তো গাড়ি ওর পছন্দ হয়নি। ধূসর ভাই একটা মেরুন রঙের গাড়ি কেন কিনলেন না? আচ্ছা কিনে ফেলেছে যখন কিছু তো আর করার নেই। কিন্তু আসল কথা হলো, আর এক ফোঁটাও জায়গা নেই গাড়িতে। অথচ পিউ খুব করে চাইছিল,ধূসর সবাইকে যেমন বলেছে ওকেও বলুক,পিউ আয়! কিন্তু ওর নাম ধরে ডাকা তো দূর,তামাটে পাষণ্ড মানুষটা তাকালও না। আবার একটু আগে অমন মারপিট করতে দেখে আসায়,পিউ পজ হয়ে আছে। ছুট্টে গিয়ে হম্বিতম্বি করে একে-ওকে তুলে নিজে বসবে, সেই সাহসেও কূলোচ্ছে না এখন।
রুবায়দাই পিঠে হাত দিয়ে ঠেললেন,
“ কী রে, যাচ্ছিস না?”
“ গাড়িতে তো জায়গা নেই।”
জবা বললেন,
“ তাতে কী? আমার কোলে বসিস আয়।”
পিউ পোড়া শ্বাস ফেলল।
“ তোমার কোলে বসতে আর ইচ্ছে করে না সেজো মা। অন্য কোনো কোল হলে বসতাম।”
কিন্তু কথাটা পিউ মুখে আনতে পারল না। কী যেন হলো, অমনি উল্টোঘুরে ত্রস্ত পায়ে চলে গেল ভেতরে। পুষ্প বলল,,
“ কী হলো ওর?”
আনিস বললেন,
“ সীট নেই দেখে রাগ করেছে বোধ হয়। আচ্ছা আমি বরং নেমে যাই,ওকে উঠতে বলি।”
উনি নামতে নিলে ধূসর বাধ সাধল। তবে কথায় না,শব্দে নয়,নীরবে টান বসাল গাড়িতে। চার চাকার দুলুনিতে আনিস আর নামতে পারলেন না। বসে থাকতে হলো। আর পিউ ওপরের ঘরের জানলায় দাঁড়িয়ে চেয়ে চেয়ে দেখল ধূসরের ছুটে যাওয়া গাড়িটা। ডাগর ডাগর চোখে জল এলো অহেতুক। হাতের কব্জি উলটে এক ডলায় চোখদুটো মুছল পিউ। ঠোঁট ভরা অভিমান নিয়ে ভাবল,
“ এখন খুব আমাকে ইগ্নোর করছেন ধূসর ভাই! একদিন আসবে,যখন আপনি নিজেও ছটফট করবেন এই পিউয়ের জন্যে!
আগে আমি এক্সামটা দিই,আপনার মতো রেজাল্ট পাই। তারপর দেখবেন কী করি…!.আমাকে ইগ্নোর করে করে আপনি আরো জেদ বাড়িয়ে দিচ্ছেন। পিউয়ের জীবনে এখন একটাই লক্ষ্য, আপনাকে পাওয়া…! আর লক্ষ্যে তো পিউ জিতবেই…। আপনার মতো ধুরন্ধর গম্ভীরমুখো লোকটাকে প্রেমের খেলায় আমি গোঁ হারান হারাব।”
***
পুষ্প আর পিউয়ের স্কুল-কলেজে যাতায়াতের গাড়ি আলাদা। দুজনের ক্লাসের সময়ও ভিন্ন। পিউ আটটায় বেরিয়ে যায়,পুষ্প যায় তারও দেড় ঘন্টা পর। ওর কলেজ রোডে অত জ্যাম পড়ে না। কিন্তু পুষ্প ইদানীং এই নিয়মের বেশ গড়িমসি করছে। গাড়ি নিতে চাইছে না। বের হয়ও পিউয়ের পরপর। সামনে এইচ-এসসি বলে তেমন কেউ সন্দেহও করছে না এ নিয়ে।
পুষ্প আজও একইসময় বের হলো। মাথায় দু প্যাঁচ দেয়া সাদা হিজাব, বুকে ক্রসবেল্ট,ঘাড়ে ব্যাগ ছাড়া আপাদমস্তক সাদা ইউনিফর্ম নিয়ে খুব ধীরে ধীরে হাঁটছিল সে।
শিকদার বাড়ির সীমানা পেরিয়ে যাওয়ার পর কয়েকবার দেখল পেছনে। চোখেমুখে অপেক্ষা।
ইকবালের অফ হোয়াইট রঙের মাসেরাটিটা খুঁজল চেয়ে চেয়ে। ওদের প্রেমের আজ প্রায় এক মাস। ইকবাল প্রতিদিন এই রাস্তায় গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ওকে কলেজে পৌঁছে দেয়!
আজ এখনো এলো না যে?
পুষ্পর প্রতিক্ষা কমাতে হুস হুস করে একটা বাইক তেড়ে এসে ওর পাশে থামল।
নীল পাঞ্জাবি পরনে,মাথা থেকে হেলমেট নামাতেই পুষ্প ভ্রু কুঁচকে বলল ,
“ এটা কার বাইক?”
ইকবাল হেসে বলল,
“ দলের এক ছেলের। আমার গাড়ি দিয়ে ওদের একটা কাজে পাঠিয়েছি। ওঠো।”
পুষ্প মিইয়ে গেল কিছু। গাড়িতে পাশাপাশি সীটে বসলেও একটু দুরুত্ব থাকে। কিন্তু বাইকে তো এক দম…
ওর দোনামনা খেয়াল করল ইকবাল। সোজাসুজি বলল,
“ মাই লাভ, দুদিন পর যার নামে দলিল হবে তার সাথে বাইকে বসতে এত লজ্জা কেন?”
“ দুদিন পর মানে!”
“ মানে হবে তো,দুদিন আর তিনদিন হোক।”
“ গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল!”
ইকবাল হাসল। খুব দর্পের হাসি। যেন পুষ্প নামের এই গাছে থাকা কাঁঠালটা যবেই পাকুক সেটা কেবল ওর,ওরই।
তাতে কেউ হাতও দিতে পারবে না।
পুষ্প বসল না তখনো। ও বলল,
“ বসছো না কেন? ক্লাস করার ইচ্ছে নেই? কাছাকাছি বসতে ইচ্ছে না করলে,একটু দূরে এগিয়ে বসো। তাহলেই তো হয়।”
“ তুমি যা ফাজিল,যদি ব্রেক কষো?”
ইকবাল দুই ভ্রু উঁচিয়ে ফেলল বিস্ময়ে। কী চালাক মেয়ে! গাড়িতে পুষ্প জানলায় মিশে থাকে। চেয়েও থাকে ওদিকে।
বাইকটা ও এনেছিল এজন্যে। মাই লাভ পেছনে বসবে,ও ঘনঘন ব্রেক কষবে আর মেয়েটা এসে পড়বে ওর গায়ে। এত পালাই পালাই করে বলেই তো এমন এক ধান্দা করল আজ!”
এইবার হার মেনে বলল,
“ আচ্ছা বেশ, মাঝে ব্যাগ রাখো তারপর বসো। তাহলে ব্রেক কষলেও কিছু হবে না।”
পুষ্পর এই বুদ্ধি মনে ধরল। উঠে বসল স্বতঃস্ফূর্ত পায়ে।
ব্যাগ মাঝে রাখতেই ইকবাল বলল,
“ একটু তো ধরো মাই লাভ! পেছন থেকে ছিটকে কোথাও পড়ে গেলে তো খুঁজেও পাব না।”
“ খুব শখ না? মাত্র প্রেম শুরু হয়েছে। এখন এসব ধরাধরি হবে না। রাজি থাকলে চলো, নাহলে নামিয়ে দাও।
“ আরে না,
তোমার যখন মন চাইবে…তখনই। আমি তো আছিই তোমার ধরার জন্যে তাই না?
এই ইকবাল,তোমার জন্যে সরকারি মাল!”
“ কীই? কী কথা এসব?”
মিহি আর্তনাদ শুনে জিভ কাটল ইকবাল। থতমত খেয়ে বাইকের গতি বাড়াল। ছুটতে থাকা মাঝপথে পুষ্প মিনমিন করে বলল,
“ আমার কলেজের সময় এখনো হয়নি। বাড়ি থেকে এক ঘন্টা আগে বেরিয়েছি।”
ইকবাল মিটিমিটি হাসল। ইঙ্গিত বুঝে বলল,
“ এক ঘন্টা তাহলে এই অধমকে দেয়া যাবে?”
“ সে যদি নিতে চায়, যাবে না কেন?”
ইকবাল প্রফুল্ল গতিতে বাইকের গিয়ার ধরল। একবারে পাখির মতো ডানা মেলে ছুট লাগাল সেটা। রোড ক্রস করে চলল অন্যদিক। পুষ্প বলল,
“ বেশিদূরে যাওয়া যাবে না,কিন্তু!’’
“ না কাছেই থাকব।”
“ আচ্ছা ধূসর ভাই কোথায়?”
“ ব্যস্ত। নিজের একটা কাজ ওর ঘাড়ে দিয়ে বেরিয়ে এসছি। ও যতক্ষণ বসে কাজটা নিয়ে ঘাটবে, আমি সেই সুযোগে প্রেম করব। সমন্ধি থাকার এই এক সুবিধা।”
“ জানতে পারলে সুবিধা বার করে দেবে!”
ইকবাল উত্তর দিতে যাচ্ছিলই, হঠাৎ চোখ পড়ল নির্বাচন অফিসের চত্বরে। বাইরে একটা জটলা বেঁধেছে। চার-পাঁচজন লোক দাঁড়িয়ে আছেন। তার মধ্যে গলা হাঁকিয়ে চ্যাঁচাচ্ছেন এক বৃদ্ধ। পাকা চুল,দাঁড়ি নেই,সাদা লুঙ্গি, ফতুয়া তন্মধ্যে খুব সরল একটা মুখ।
ইকবাল ঝটপট বাইক থামাল। পুষ্প বুঝতে না পেরে বলল,
“ কী হয়েছে?”
“ চাচার কী অসুবিধে দেখি।”
ইকবাল দাঁড়িয়েছে দুটো কারণে। এক, সে জনগণের দূর্দশা দেখতে পারে না। আর দুই, পুষ্পর সামনে তার নেতা নেতা ইম্প্রেশন বাড়ানোর এটাই মোক্ষম সুযোগ। অফিস প্রাঙ্গণের এ পাশটায় বাইক থামিয়ে ও হাত তুলে ডাকল
“ এই চাচা,এই যে…”
ভদ্রলোক কাউকে গালাগালি করছিলেন। ডাক শুনে ফিরলেন এদিকে। তার সাথে দাঁড়িয়ে থাকা সকলেও একইসাথে চাইল। একজন দেখেই বলল,
“ ওই তো ইকবাল ভাই, যান ওনারে গিয়া কন।”
ইকবাল নিজেও ডাকে,
“ এদিকে আসুন।”
ভদ্রলোক এগিয়ে এসে দাঁড়ালেন।
“ কী হয়েছে? এভাবে চ্যাঁচাচ্ছেন কেন?”
“ তো কী করব বাবা কও? গায়ে জোর থাকলে আইজ এই পুরা অফিস আমি মাথায় তুইলা মাটিত আছাড় মারতাম।”
“ আচ্ছা, কিন্তু হয়েছেটা কী?”
লোকটা খুব মনমরা হয়ে জানালেন,
“ আমার ভোটার কার্ডে নাম ভুল আসছে।”
“ এই বয়সে এন আইডি?
আগে করেননি কেন?”
“ কীভাবে করব, আগে থাকতাম গ্রামে। ওইখানে দৌড়াদৌড়ি করা লাগব,সেই আইলসামিতে করিনাই। বিবি মরণের পর পোলা আমারে শহরে নিয়া আইল, আসলাম। এখন জমিজমা বেচা থেইকা যা করতে চাই এন আইডি চায়। পোলা সময় পায় না। বুড়া বয়সে ছুটাছুটি কইরা কোনোমতে কার্ড বানাইলাম। কিন্তু নামই দিছে ভুল!”
“ এটা হতেই পারে কাকা। এজন্যে এত গালিগালাজ করবেন?”
“ তয় করমু না?
করছে কী জানেন?
দেখেন,আমার নাম হইল স্বপ্ন ঘোষ, কার্ডে দিছে স্বপ্ন দোষ। এই বয়সে আমার এডি হয়?”
ইকবাল খুকখুক করে কেশে উঠল অমনি। পুষ্প এতক্ষণ মনোযোগ দিয়ে কথা শুনছিল,থতমত খেয়ে গেল। লজ্জায় তাকাল এদিক ওদিক। ভদ্রলোক তখনো গড়গড় করে বলছেন,
“ কতবার কইলাম স্বপ্নদোষ কাইটা স্বপ্ন ঘোষ করেন। লাস্টে আমারে ধমকাইয়া বাইর কইরা দিছে। ওর বাপের মনে হয় স্বপ্নদোষ হয়, আর তাই দিয়া জন্ম ওর। শালা বেজন্মা.. আমার এত কষ…”
ইকবাল কাশতে কাশতেই মাঝপথে বলল,
“ আচ্ছা আচ্ছা ঠান্ডা হন। আমি দেখছি।”
ওয়ালেট হাতিয়ে একটা কার্ড বের করে বলল,
“ এই নম্বরে কল দেবেন, আমার লোক। ইকবাল পাঠান পাঠিয়েছে বললেই সপ্তাহখানেকে কাজ হয়ে যাবে।”
“ বাবা,সত্য?”
“ জি।”
লোকটি খুশি হয়ে বললেন,
“ তোমারে অনেক ধন্যবাদ বাবা। আশীর্বাদ করি,অনেক বড়ো হও।”
তারপর আগ্রহ নিয়ে একবার ওর পেছনে দেখে বললেন,
“ পিছে কে?”
“ আপনার বউমা,দোয়া করে দেন।
আমার ইচ্ছে ফুটবল টিম বানাবো, দুই দল। আপনি দোয়া দিন যেন সফল হয়।”
লজ্জায় পুষ্প আর মাথা তুলতে পারল না। ফরসা গালদুটো লাল হলো অচিরে।
ভদ্রলোক হেসে বললেন,
“ আচ্ছা দিলাম,অনেক অনেক আশীর্বাদ দিলাম। সুখী হও। আমার কাম হইলে তোমারে বাসায় দাওয়াত দিয়া খাওয়ামু!”
আরো অনেক কিছু বলতে বলতে চলে গেলেন তিনি। ইকবাল বাইকে স্টার্ট দিতে দিতে একপল সামনের ভিউ মিররে চাইল। দেখল,মুগ্ধ চোখে ওর দিকে চেয়ে আছে পুষ্প। ফুরফুরে ভঙ্গিতে হাসল ছেলেটা। মাই লাভ ওকে দেখছে,কী প্রেম প্রেম নজর! এই নজর,এই মুচকি মুচকি হাসি এসব দেখে ইকবালের আর ভালো থাকতে ইচ্ছে করে না। কত কী করে ফেলতে মন চায়। এমন লাজুক লতার মতো চাউনি দেখেই না প্রিয় বন্ধুর বোন জেনেও প্রেমে খেই হারানো ওর!
ছেলেটা বাইক উড়িয়ে ছুটতে নিলো,পুষ্প ছিল বেখেয়ালে। পড়ে যাবার শঙ্কায় হকচকিয়ে দুইহাতে বেড়ি দিয়ে ধরল ওর কোমর। ইকবাল চমকায়,সেই ধরে রাখা হাতের দিকে চায় পরপর। পুষ্প মাথা নোয়ালেও,হাত সরাল না। অমনি ঠোঁট চেপে হাসল ইকবাল। সামনে ফিরে বাইক ছুটিয়ে গুণগুণ করে গান ধরল,
“ মনের ডালে জোড়া শালিক প্রাণের কথা কয়রে,
ফুরুত-ফারুত ওড়ে চড়াই, ডিগবাজি ওই খায় রে!
স্বপ্নে লাগে সুড়সুড়ি,
বন্ধু আমার সুন্দরী,
মেঘলা দিনটা রোদে চায় রে!
আকাশে উড়াল দিয়া,
যামু রে ওরে লইয়া,
কলিজায় বাজে ঢোল তাক ধুমা ধুম ধুমরে…
*****
রাজনীতির মাঠে,অল্প সময়ে নিজের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর একটা মোক্ষম মাধ্যম হচ্ছে পকেটের টাকা খসানো। যুবদলবলের পেছনে যে যত ঢালবে,তাকে খুব দ্রুত ভাই ভাই বলে প্রিয় অভিভাবকের আসনে বসিয়ে দেবে ওরা।
আর এই সূক্ষ্ণ বুদ্ধিটা ধূসর কেমন চট করে আয়ত্ব করে ফেলল। তাও সবাই নয়,বেছে বেছে কয়েকজনের পেছনে অর্থের শ্রম ঢালল ধূসর। সকালে নিজের টাকায় নাস্তা খাওয়ানো থেকে,গরমে গলা ভেজাতে কেনা কোকটার বিল অবধি সে মিটিয়ে দেয়। এইত গত সপ্তাহে,মুনিফ বাড়ি যাবে বলে সি এনজির আশায় দাঁড়িয়ে ছিল। ধূসর এসে দাঁড়াল পাশে। নিজেই হাত বাড়িয়ে ডেকে সি এনজি থামাল,মুনিফ উঠতেই ভাড়া দিয়ে দিলো নিজে। এরপর থেকে মুনিফকে ওর কাছে রাখতে হচ্ছে না,পোষা বিড়ালের মতো ছেলেটা নিজেই ধূসর ভাই ধূসর ভাই করে কাছে বসে থাকছে। এরকম আরো কয়েক ডজন উদাহরণ চাইলে দেয়া যাবে। আরিফ ওরা এখন ধূসরের ডাই হার্ড ফ্যান। সেই সাথে কিছু ছেলে জুটেছে সভাপতির বন্ধু বলে। ইকবালকে দিয়ে কাজ নাহলে ধূসরকে বলা যাবে,এটুকু স্বার্থ জড়িত হেথায়। অবশ্য রাজনীতিও তো আপাদমস্তক স্বার্থেরই খেলা।
সে যাক গে,
পার্টি অফিসে আজ এক নতুন আয়োজন করা হয়েছে। ফাঁকা ঘরটায় আজকেও ম ম করছে বিরিয়ানির গন্ধ। খালেদ থেকে শুরু করে,যে দুজন এমপি মহোদয়ের যাতায়াত হয় এখানে তারাও এসেছেন। ইকবালই জরুরি তলবে ডেকেছে তাদের। আজ একটা বিশেষ দরকারি ঘোষণা হবে এখানে। অফিসের সমস্ত লোকজন থাকা চাই। সাড়ি সাড়ি লাল প্লাস্টিকের চেয়ারের সামনে একটা লম্বা-চিকণ টেবিল পাতানো । ওপরে বিছানো সাদা কাপড়। পার্টি অফিসের মূখ্য বক্তিরা এ মাথা থেকে ও মাথা অবধি কালো ফোমের চেয়ার নিয়ে বসেছেন। ধূসর দাঁড়িয়ে আছে এক কোণে, আরিফদের সাথে। তার চারপাশে আরো গুটিকতক ছেলে দাঁড়ানো। ও নিজেও জানে না, আয়োজন কীসের! ইকবালও কিছু বলেনি। অনুষ্ঠান শুরু হলো। ছোট ছোটো মাইক্রোফোনের একটা টেনে শুরুতে বক্তব্য রাখলেন খালেদ৷
এরপর একে একে বাকিরাও টুকটাক কথাবার্তা সাড়ল। ইকবালের পালা এলো শেষে । ও মাইকে ফুঁ দিতেই সব হোওওও করে হল্লা তুলল অমনি। একটু ভড়কে গেল ছেলেটা। চ সূচক শব্দ করে বলল,
“ আমি কিছু বলতে এলেই এগুলো এমন করে কেন!”
ইকবাল দুই হাত তুলে নাড়ল, থামতে বোঝাল। কেউ থামলই না। ও চটল ভারি। রেগে রেগে চ্যাঁচাল,
“ থামবি তোরা? আমি বক্তব্য দিচ্ছি না? গায়ে লাগে না আমাকে? মেরে একেকটার পাছার হাড্ডি ভেঙে দেব। বেয়াদবের দলবল!”
সবাই মাথা নিচু করল। ভেসে এলো চাপা স্বরে, “ সরি ভাই।”
খালেদ ওর পিঠে চাপড় কেটে বললেন,
“ আহ,শান্ত হও। মাথা গরম করো কেন?”
ইকবাল গলা খাকারি দেয়। গম্ভীর হাবভাব টেনে আনতে চায়। কিন্তু হয় না। এখানেই ওর আর ধূসরের বিস্তর অমিল। ধূসরের হাসিমুখ যেমন আমাবস্যায় চাঁদ,ইকবালের গম্ভীর মুখ মরুভূমিতে বৃষ্টির মতো।
তাও পুরু কণ্ঠে বলল,
“ আজকের আয়োজনের একটা বিশেষ কারণ আছে। যার জন্যে সবাইকে থাকতে বলেছি।”
নড়েচড়ে উঠল সকলে। চোখেমুখে তটস্থতার মাঝে ইকবাল ফের বলল,
“ এ বিষয়ে আমি খালেদ ভাইদের সাথে আগেই পরামর্শ করেছি, তারা পূর্ণ সম্মতি জানিয়েছেন। যেহেতু এই পার্টি অফিসের যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে আমি সক্ষম,তাই এবার শুধু সেই সিদ্ধান্তটাই বাকি সদস্যদের জানাতে চাচ্ছি। অত্র পার্টি অফিসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমি একজনকে পছন্দ করেছি। আমার মনে হয়েছে,তিনি নিঃসন্দেহে এই পদের জন্যে একজন যোগ্য ব্যক্তি। আর সেটা কেউ নয়,আমার বন্ধু – শিকদার ধূসর মাহতাব!”
ধূসর চমকে তাকাল। কপাল গুছিয়ে এলো অমনি। হাত তালিতে ফেটে পড়ল চারিপাশ। আরিফ, মুনিফ, সোহেল সব যেন হইহই করে জড়িয়ে ধরার নামে ঝুলে পড়ল গলায়। কিন্তু ধূসরের হতভম্ব ভাব কাটেনি। ও কিছু জানতো না। ইকবাল এরকম একটা সিদ্ধান্ত নিলো,একবার আলোচনা করবে না?
ছেলেটার চোখ ছোটো করে চেয়ে থাকা ইকবাল আমোলেই নিলো না। বন্ধুকে বিশাল সারপ্রাইজ দিতে পেরেছে ভেবে সব দাঁত বের করে হাসতে হাসতে ভ্রু উঁচাল দু একবার।
তবে রওনকের মাথায় বাজ পড়ল। এইতো,এই ভয়টাই প্রথম থেকে পাচ্ছিল সে। সম্পাদক হওয়া ওর স্বপ্ন,ও দলের সাথে আছে আজ প্রায় তিন বছর। কত কী করেছে এর জন্যে। তাহলে যে তিন মাসও হলো না দলে ভিড়েছে,সে এই পদ পায় কী করে?
তক্ষুনি মিখাইল চাপা স্বরে বলল,
“নেপোটিপজম দেখলি? তোকে না দিয়ে ওকে দিলো।” রওনকের চোয়াল শক্ত হয়। হাত মুঠো করে। হৈচৈ কমতেই ইকবাল জিজ্ঞেস করল,
“ কারো কোনো আপত্তি আছে?”
সঙ্গে সঙ্গে ভিড় হতে তড়াক করে উঠে দাঁড়াল রওনক। দরাজ গলায় বলল,
“ আমার আছে৷”
সবার দৃষ্টি ঘুরে যায়। কমে আসে হাসিহাসি চেহারা। ইকবাল একটু অবাক হয়ে বলল,
“ কী নিয়ে আছে, বলো?”
রওনক স্পষ্ট স্বরে বলল,
“ কোন যুক্তিতে তুমি ওকে এত বড়ো একটা পদ দিচ্ছো জানতে পারি?”
“ যুক্তিতে বলতে? এটা আমার সিদ্ধান্ত, আমি দিচ্ছি। আমি এখানকার সভাপতি রওনক। আর তাছাড়া সবাই-ই তো ধূসরকে চাচ্ছে।”
“ কথা একটার ওপর স্টে করো ইকবাল। হ্যাঁ, তোমার সিদ্ধান্ত হলে ইটস ওকে। তোমার বন্ধুকে তুমি দুদিনে দলের মাথা বানাতেই পারবে। কিন্তু, সবার ওপর দ্বায় চাপিও না। সবাই বলতে কে কে চেয়েছে? কজন চেয়েছে? এই শতাধিক মানুষ, সবাইকে তুমি জিজ্ঞেস করেছ ইকবাল? কই, আমাকে তো করলে না৷ আমিও তো এর মাঝেই আছি।”
ইকবালের চেহারার রংটা বদলাল এবার। পুরু স্বরে বলল,
“ তুমি আসলে কী বলতে চাও রওনক?”
“ বলতে চাই, আমি এই পার্টি অফিসটাকে স্বচ্ছ জানতাম। জানতাম আমাদের দলে কোনো কারচুপি,কোনো পার্সিয়ালিটি হয় না। এখানে যোগ্য লোক জায়গা পায় বলে জানতাম। কিন্তু না, এটাও একটা স্বজনপ্রীতির জায়গা৷ তোমরা যদি নিজেরা নিজেরা মাঠে খেলবে, তাহলে আমাদের মতো সাধারণ ছেলেদের দলে থেকে কী লাভ হচ্ছে?”
রওনকের পক্ষ নিয়ে পাশ থেকে আরো ছ-সাতটা কণ্ঠস্বর ঠিক ঠিক বলল। বাকিরা চুপ রইল। ইকবালের বিপক্ষে যাওয়া যাবে না।
খালেদ বললেন,
“ রওনক,তুমি কি রুলস জানো না? ইকবাল এই পার্টি অফিস প্রধান। এখানে কী হবে,কে থাকবে না থাকবে এখানকার যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে ও।”
“ হ্যাঁ পারবে। আগেও নিয়েছে, এখনো নেবে। কিন্তু ধূসর দেশে এসেছে আজ হাত গুণলে তিন মাস। ওর মাঝে কী এমন দেখলেন যে আপনারা ওকে একদম সম্পাদক বানিয়ে দিচ্ছেন? ও আদৌ সেটার জন্যে যোগ্য কিনা কীভাবে বুঝলেন খালেদ ভাই? এটাতো ভোটও হচ্ছে না। তাহলে?”
ইকবাল আঙুল দিয়ে দুই ভ্রুয়ের মাঝে ডলছিল। রাগ উঠছে ওর। কিন্তু রাগলে হবে না। একটা ঝামেলা বাঁধলে ধূসরই এসে না করে দেবে। ও ব্যাটার যা আত্মসম্মান!
তাই মাথা তুলে ঠান্ডা গলায় শুধাল,
“ আচ্ছা,তো এখন তোমার দাবি কী? কী করতে বলছো?”
“ সিম্পল, এভাবে ঘোষণা কেন হবে? পার্টি অফিসে একটা নির্বাচন হোক। ধূসরকে যদি এখানকার সবাই চেয়েই থাকে ভোট দিয়ে জেতাক। দম থাকলে লড়ে জিতুক ও।”
ইকবাল উত্তর দিতে যাচ্ছিল, খালেদ থামালেন। রওনক নিজেই বলল,
“ আমি চাই যা হবে ভোটের মাধ্যমে হবে। তোমার হিম্মত থাকলে এখানে যোগ্য অনেকেই আছে,,তাদের সাথে লড়ে দেখাও ধূসর।”
কথাটা ও সরাসরি ধূসরের দিকে চেয়ে বলল। মানুষটা এক কথায় জানাল,
“ আমি রাজি!”
ইকবাল ফোস করে শ্বাস ফেলে চেয়ারে পিঠ ছেড়ে দিলো সহসা। সোহেল বলল,
“ ভোট? তাও সম্পাদক নির্বাচনের! বাহ,কত কী দেখব?”
আরিফ বলল,
“ কিন্তু প্রতিপক্ষে কে দাঁড়াবে? রওনক ভাই, দাঁড়াবেন আপনি?”
রওনক ঘাড় নাড়ল।
“ কেন নয়? আমি অবশ্যই নিজেকে বেস্ট মনে করি।”
খালেদ শুধালেন,
“ আর কেউ?”
চেয়ারের ভিড় হতে আরো কয়েকজন হাত তুলল। মোট আটজনের নাম উঠল খাতায়। অন্য এমপি সাদেকুর রহিম বললেন,
“ তবে এক কাজ করো ইকবাল, দু মাস সময় দাও। নির্বাচন আগামী দু মাস পরে হোক। তাহলে অফিসের বাকি সদস্যরা ভালো একটা সিদ্ধান্তে আসতে পারবে,ভোট কাকে দেয়া উচিত!”
সবাই স্বায় মেলায়। তৃতীয় এমপির কল আসায় উঠে যান তিনি। ইকবাল তখনো হতাশ চিত্তে বসে রইল। ধূসরকে এরকম একটা বিব্রতকর মূহুর্তে ও ফেলতে চায়নি। সবার সামনে বন্ধুর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল!
যে যার মতো আলোচনা করছে সেসময় । ফিসফিস,কানাঘুষায় পার্টি অফিসের মতো শান্ত জায়গা চট করেই যেন মাছের বাজার বনে গেল। এর মাঝেই এগিয়ে এলো রওনক। তার ঠোঁটে বিজয়ের, আর দম্ভের হাসি। যেন নির্বাচন ধার্য্য হতেই সে জিতে গেছে।
এসে দাঁড়াল ঠিক ধূসরের মুখোমুখি। হাতটা বাড়িয়ে দিলো সামনে।
ধূসরের দুইহাত বুকের সাথে ভাঁজ করা। রওনকের হাতটা একবার চোখ নামিয়ে দেখল। ঠোঁটের কোণ তুলে এক ছটা হেসে হ্যান্ডশেক করল তারপর। রওনক হাত ঝাঁকিয়ে শুধায়,
“ রাগ করলা?”
“ রাগের কিছু হয়েছে?”
“ তাও ঠিক! তবে মনে হয় না তুমি আর পারবে। আমি এখানে তিন বছর আছি,ছেলেপেলে আমি বলতে পাগল।”
“ দু মাস সময় আছে এখনো!”
ধূসরের ধারালো হাসিটা রওনকের সহ্য হয় না। মাথা জ্বলে যায়। চোখমুখ শক্ত করে বলে,
“ অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ভালো না। তোমার প্রতিপক্ষ আমি ধূসর। দম থাকলে আমার সাথে জিতে দেখাও।”
ধূসর আবারো হাসল। দন্তপাটি বাইরে না আসা সেই নির্লিপ্ত হাসি।
বলল,
“ তুমি যে মূহুর্তে আমাকে নিজের প্রতিপক্ষ ভেবেছ,আমি ঠিক সেই মূহুর্তে জিতে গেছি।
বাকি খেলাটা নাহয় দু মাস পরেই দেখাব….”
চলবে…
শোনেন,কাহিনি গোছাতে সময় লাগবে। মাত্র সাত পর্ব। এখনই তো আর লুতুপুতু সীন পাবেন না। ধৈর্য ধরে পড়লে প্লিজ পড়ুন,নাহলে এইটা দাও ওইটা দাও বলে বলে আমার মনোযোগ ডাইভার্ট করবেন না। আমি আমার মতো লিখব,আপনাদের মতো না!
আর নাহলে একটাই সমাধান শেষ হলে পড়বেন। হ্যাপি রিডিং…
Share On:
TAGS: আলতো ছোঁয়ায় সমুদ্রকথন, নুসরাত সুলতানা সেঁজুতি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৮৬
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৮১
-
সমুদ্রকথন গল্পের লিংক
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ২৭
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ২০
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ১৬
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৬৪
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৭২
-
আলতো ছোঁয়ায় সমুদ্রকথন পর্ব ৬
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৬১