#আলতো_ছোঁয়ায়_সমুদ্রকথন__(২৮)
#নুসরাত_সুলতানা_সেঁজুতি
“ সরি প্রহর্ষা,আমি দেখিনি!”
এই একটা লাইন শুনে ফোনের ডিসপ্লে ভেঙে চৌচির হওয়ার কথা দিব্যি ভুলে গেল পিউ। মানুষটাতে খুব আশ্চর্য চোখে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইল ও। কপাল বেঁকে এলো ,কেমন যেন চেনা লাগলো সব। বারবার আওড়াল – সরি প্রহর্ষা!
হুট করে ওর মনে পড়ল,সেই অজ্ঞাত ম্যাসেজের কথা। ম্যাসেজেও ওকে প্রহর্ষা বলা হতো না? অমনি শিরদাঁড়া সটান করে আরো স্পষ্ট চোখে চাইল পিউ। ফট করে প্রশ্ন ছুড়ল,
“ আপনি কি সে?”
বাঁধন ভ্রু নাঁচিয়ে বলল,
“ কে?”
“ যে, যে আমায় ফোনে ওসব ম্যাস…”
হড়বড়িয়ে এই অবধি এসে থামল পিউ। খেয়াল পড়ল চারপাশে মানুষ দিয়ে ভরতি। সবাই কেমন চেয়ে চেয়ে দেখছে!
তবে ও থামলেও, বাঁধন থামে না। জিজ্ঞেস করে বিস্ময় সমেত,
“ তোমার আমাকে মনে আছে?”
তুরন্ত, একটা জোরালো আওয়াজ হলো পাশে। যেন পড়ে গেল কিছু । হঠাৎ শব্দটায় পিউ ছলকে চাইল সেদিক। প্লাস্টিকের চেয়ারটা ছেড়ে তড়াক করে উঠে দাঁড়িয়েছে ধূসর। এত জোরে সেই বেগ,চেয়ার রীতিমতো টাল হারিয়ে কাত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। আওয়াজ শুনে বাকিরাও দেখল ওর দিকে। আলগোছে জিভ কাটল ইকবাল! বিড়বিড় করল,
“ এই রে…কেরোসিন ঢালা শেষ। লাইটার ধরালেই আগুন লেগে যাবে!”
হেমায়েত বললেন,
“ কিছু কি হয়েছে নাকি ছোটো শিকদার?”
ধূসর জবাব না দিলেও,আফতাব বললেন,
“ না না কী হবে! প্লাস্টিক তো,হাওয়ায় হয়ত পড়েছে।”
বলতে বলতে চেয়ারটা নিজেই হাত বাড়িয়ে তুলে সোজা করলেন তিনি। চাপা গলায় বললেন,
“ ব্যাপার কী? এভাবে কে দাঁড়ায়, বসো।”
ধূসর বসলো না। তবে
আমজাদ বিড়বিড়িয়ে বললেন,
“ গায়ে ষাড়ের মতো জোর,কিন্তু মাথায় কিছু নেই। বন্ধুবান্ধব তো সেই লাফাঙ্গাই জুটিয়েছে।”
এত কিছুতে বাঁধনের মনোযোগ নেই। পিউয়ের মোমের মতো মুখটায় চেয়ে অন্যরকম চোখে হাসল সে। বললও খুব মোলায়েম স্বরে,
“ আমি আসলে তোমায় খেয়াল করিনি। দামি ফোন এভাবে ভাঙলো! সরি এগেইন।”
আমজাদ বললেন,
“ কোনো ব্যাপার না বাবা। তুমি যাও হাতমুখ ধুয়ে এসো। সুমনা সেই কখন নাস্তা রেডি করতে গিয়েছে।”
“ না আঙ্কেল,তাও। প্রহর্ষা ছোটো মানুষ, ওর ফোন ভাঙল আমার জন্যে। আমার তো কিছু করা উচিত।”
সাদিফ বলল,
“ তুই আবার কী করবি? এখন এটা বলিস না যে খেসারত হিসেবে ফোন সারিয়ে দিবি।”
“ অফকোর্স!”
এগিয়ে এসে মাটি থেকে ফোনটা তুলল বাঁধন। উল্টেপাল্টে দেখে পিউকে বলল
“ আমি ঠিক করে দে…”
কথা শেষ হওয়ার আগেই, ওর হাতের মুঠোয় শক্ত থাবা পড়ল একটা। ফোন এক রকম কেড়ে নিয়ে গেছে ধূসর। ব্যাপারটায় একটু চমকাল বাঁধন। হতভম্ব চোখ ঘুরিয়ে ফিরল পাশে। শ্যামলা মুখের গাম্ভীর্য রেখে পাতলা ঠোঁটে নিঃশব্দ হাসি ঝোলাল ধূসর। স্বভাবসুলভ নিরেট স্বরে বলল,
“ পিউ আমাদের বাড়ির মেয়ে তো,আমাকেই বুঝতে দাও। তোমাকে এত কষ্ট করতে হবে না। হু?”
ধূসরের হাসিটা সামান্য। অথচ তাতে কী মিশে ছিল কে জানে! ওর চিকণ চোখদুটোর শীতলতা দেখেই বাঁধন আর কথা বাড়াল না। সৌজন্যতায় হেসে বলল,
“ জি।”
সাদিফ এসবে আগ্রহী নয়। পিউ এরকমই দুরন্ত। বাড়িতেই তো ওর সাথে কত ধাক্কা লেগে উড়ে-টুরে যেত। চশমা ঠেলতে গিয়ে একবার ঘাড় ভেঙে চাইল,নজর পড়ল মারিয়ার দিকে। মেয়েটাও তাকাল একইসময়। অমনি তিরের বেগে দুজন আবার দুদিকে মুখ ফিরিয়ে নিলো।
মারিয়া কটমট করল,
“ পোল্ট্রি একটা!”
সাদিফ কটমট করল,
“ ম্যালেরিয়া কোথাকার!”
“ সাদিইইইইইফ!”
তক্ষুনি একটা গম্ভীর ডাকে নড়েচড়ে ধূসরের পানে চাইল সে। জবাব দিলো ব্যস্ত ভাবে,,
“ হ্যাঁ ভাইয়া?”
“ যা যেখানে যাচ্ছিলি।”
“ হ্যাঁ? হ্যাঁ হ্যাঁ।”
তারপর বাঁধনকে বলল,
“ চল।”
বাঁধন আর ঠোঁট মেলল না। ফের আড়চোখে ধূসরকে একবার দেখল শুধু। নিষ্প্রাণ কালো মনি জোড়া মেলে ধূসর এখনো একইরকম চেয়ে ওর দিক। অগত্যা চোখ নুইয়ে সাদিফের সঙ্গে হাঁটা ধরল সে। পিউ সহ বাকিরা নীরব দর্শক বনে রইলেও,হাঁপ ছাড়ল ইকবাল। ঠোঁট নেড়ে বিড়বিড় করল,
“ বান্দর।”
আনিস কথাটা ধরলেন। শুধালেন,
“ বান্দর! কাকে বলছো?”
“ জি? কাউকে না তো। ঐ সাদিফের বন্ধুর নাম।”
ভদ্রলোক হেসে ফেললেন। দুপাশে মাথা নেড়ে বললেন,
“ বান্দর না,বাঁধন বাঁধন।”
“ ও আচ্ছা আচ্ছা।”
ইকবাল আবারো স্বস্তির শ্বাস ফেলল। যাক বাবা, অল্পের জন্যে কানের পাশ থেকে গুলি ছুটে গেল!
স্ক্রিন চার জায়গায় ত্যারছা ভাবে ফেটেছে। সেই ভাঙা ফোনটা হাতে নিয়ে দু সেকেন্ড চেয়ে রইল ধূসর। শ্বাস গুণল। পিউ ভেবেছিল, মানুষটা ওর ফোনের ডিসপ্লে দেখছে। নিজেও উঁকি দিলো কী অবস্থা দেখতে! তক্ষুনি তড়াক করে চোখদুটো তুলে চাইল ধূসর। সোজাসাপ্টা ঐ চাউনিতে ছ্যাৎ করে উঠল পিউয়ের বুক। তড়িৎ সোজা হয়ে দাঁড়াল সে।
ধূসরের কালো চোখ দপদপ করছিল। পোক্ত চিবুকে দেখল একবার পিউকে। কোমরের নিচ সমান চুল পুরোপুরি খোলা,এলোমেলো। সদ্য ঘুম থেকে জেগে আসায় তেলেতেলে ফোলা দুটো গাল। বড়ো বড়ো চোখজোড়া দিয়ে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে। ধূসর চট করে নজর সরিয়ে গলা ঝারল। ডাকল,
“ শুভ!”
উঠে এলো ছেলেটা,
“ জি?”
“ এখানে সার্ভিসিং এর দোকান আছে?”
“ না ভাইয়া। শহরের দিকে যেতে হয়।”
পিউয়ের ঠোঁট উলটে বসল এই কথায়। ভয়ে ভয়ে মায়ের দিকে চাইল এবার। শুধু আর শুধুমাত্র এটা অন্যের বাড়ি দেখে চুপ করে ছিলেন মিনা বেগম। তবে মেয়ে তাকাতেই সুযোগ পেলেন যেন। অমনি চোখ রাঙিয়ে কিছু একটা ঠোঁট নেড়ে বললেন তিনি। তাতে শব্দ হলো না,কেউ শুনলোও না। তবে পিউয়ের অন্ধকার চেহারা আরো নত হয়ে গেল। মিনমিন করে বলল,
“ তাহলে কি ফোন ঠিক হবে ন…”
পুরো কথা শেষের সময় ধূসর দিলো না। পাশ কাটিয়ে তড়বড়িয়ে চলে গেল বাইরে। কাপে চা অবধি অর্ধেক পড়ে রইল । শুভও যায় পিছু পিছু। ভ্রু কুঁচকে ধূসরের যাওয়ার দিকে চেয়েছিল পুষ্প। ওর মাথায় এখনো ঘুরছে ভাইয়ের তখন ওভাবে চেয়ে থাকার কথা। তবে এখনো নিশ্চিত হতে পারছে না ধূসর মারিয়াকেই দেখছিল কিনা!
কিন্তু আর কাকেই বা দেখবে অমন করে? মারিয়া আর পিউই হেসেহেসে শুভর সাথে কথা বলছিল। আর ওদের দিকেই কেমন ক্ষিপ্ত বাঘের মতো চেয়েছিল ভাইয়া। অমন করে মারিয়া ছাড়া আর কাকে দেখবে সে?. পিউ তো কোনোদিন হবে না। ভাইয়া ওকে যা ধমকায়! তেমন একটা পছন্দও করে না। তারওপর ও ভাইয়ার কত ছোটো। গুণে গুণে দশ বছরের। নাহ, মারিয়াই হবে। এর মানে ও সেদিন ঠিকই ভেবেছিল। এদের মধ্যে কিছু আছে। ইকবাল এত জানের বন্ধু ভাইয়ার,কোনোদিন তো ওর পরিবারকে এভাবে বাড়িতে এনে রাখেনি। দুদিনের বন্ধু রওনক,তার বোনকে এক কথায় বাড়ি আনলো আবার বেড়াতেও সাথে নিয়ে এলো। ভেতর ভেতর কিছু না থাকলে এতটা হয়!
পুষ্প একা একাই হাসল। মারিয়া মেয়েটা ভালো। ভাবি হলে মন্দ হবে না। ঠোঁটে হাসি নিয়ে চায়ে চুমুক দেয়াকালীন এক পল ইকবালের দিকে চাইল ও। উল্টোদিকে বসা ছেলেটা চট করে এক চোখ টিপে দিলো অমনি। পুষ্পর চা মাথায় উঠে বিষম লেগে গেল। কাশতে কাশতে সবার মাঝেই নুইইয়ে গেল বেচারি। তবে ইকবাল আর বসল না। তড়িঘড়ি করে চা রেখেই, ধূসরকে খোঁজার উদ্দেশ্যে পালালো দ্রুত।
****
“ তুই যে আসবি,একবার জানাবি তো। আমরা তাহলে একসাথেই আসতে পারতাম।”
বাঁধন শার্টের হাতা ফোল্ড করতে করতে বলল,
“ প্ল্যান ছিল না রে। বাপি সকালে হঠাৎ বললেন ফার্ম হাউসে গিয়ে দেখে আসতে। রাস্তায় বসে তোর পোস্ট দেখলাম। বাসের মধ্যে সেলফি দিলি না! তখনই না জানলাম তোরা এখানে। তারপর ভাবলাম একই গ্রাম যখন দেখা করেই যাই।”
“ যাই মানে, থাকবি না?”
“ থাকতে পারব না। এসব জঙ্গলে ঘুম হবে না আমার। বরং তুই চাইলে চল,রাতে আমার সাথে থাকলি,দিনে এখানে এলি নাহয়।”
সাদিফ বলল,
“ না ভাই,এখানেই ভালো লাগছে। গ্রামের বিশুদ্ধ বাতাস,শান্ত নদী এগুলোর মজাই আলাদা। এনি ওয়েস,ঐ যে টাওয়াল!”
চেয়ারের ওপর থেকে তোয়ালে তুলে ভেজা মুখটা মুছল বাঁধন। বলল,
“ তা ঠিক। জায়গা বেশ সুন্দর!”
বাঁধনের চেহারা হঠাৎ বদলাল। ফিচেল হাসি ঠোঁটে এনে বলল,
“ এখানে আমার পছন্দের আরো অনেক কিছুই আছে। ইস্যু না থাকলে থেকেই যেতাম!’’
তক্ষুনি দরজায় টোকা দিলেন সুমনা। ডাকলেন,
“ সাদিফ!”
“ ছোটো মা,এসো।”
ভদ্রমহিলার দুইহাতে ট্রে। কয়েক রকম স্ন্যাকস,কফি আর পানি ওতে। সাদিফই উঠে গিয়ে নিয়ে এলো। বাঁধন বলল,
“ আরে এত কিছু কেন? আমি তো সব খাওয়ারও সময় পাব না।”
“ সময় পাবে না বলতে! কোথায় যাবে?”
“ চলে যেতে হবে না?”
“ এমা সেকী,কটাদিন থাকবে না?”
“ না আন্টি,আমি একটু পরেই যাব।”
“ অন্তত রাতের খাবারটা….আমি যে আরো আম্মাকে বলে এলাম। ”
বাঁধন একটু ভেবে বলল,
“ ঠিক আছে।”
***
পুষ্পকে নিয়ে মারিয়া গোরুর গোয়াল দেখতে এসেছে। আটটা গোরু আছে এখানে। সারাক্ষণ হাম্বা হাম্বা করে ডাকে। ওদের এই দেখার আগ্রহের কারণ,বিকেলে খেতে দেয়া চা। জহুরা বারবার উল্লেখ করেছিলেন,চায়ে স্বাদ হবার কারণ গোয়ালের খাঁটি গোরুর দুধ।
মাঠ থেকে গোরুগুলো মাত্রই গোয়ালে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে একটা ধবধবে সাদা গোরুকে ঘাস খেতে দেখেই মারিয়া আঙুল তুলে বলল,
“ ঐ যে ওটা তোমার ভাই।”
পুষ্প কপাল কুঁচকে বলল,
“ ভাই! সা-সাদিফ ভাইয়া?”
“ হ্যাঁ দেখো ওর খাবারই খাচ্ছে।”
অমনি খিলখিল করে হেসে উঠল পুষ্প। হাকিমুল্লাহর স্ত্রী খালেদা বেগম কলসিতে পানি নিয়ে ঘরের দিকে যাচ্ছিলেন।
ওর হাসি শুনে চাইলেন ফিরে। মুখ গোমড়া করে বললেন,
“ ওই, সেয়ানা মাইয়ামানুষ সন্দাসন্দি এত জোরে হাসে না। ঘরে যাইয়া বও।”
পুষ্পর প্রফুল্ল হাসিটা মুছে গেল অমনি। মিনমিন করল,
“ জি আচ্ছা।”
তবে মারিয়া মৃদূ গজগজিয়ে বলল,
“ এটা কোনো কথা? হাসতে হলেও কি হাতে পঞ্জিকা রাখতে হবে? সন্ধ্যায় নাকি হাসে না! এই মুরুব্বিদের কাজই হলো মেয়েদের পদে পদে ভুল ধরা। আস্তে হাঁটলে কেন,জোরে হাঁটলো কেন!”
“ থাক থাক শান্ত হও,চলো ভেতরে যাই।”
হাকিমুল্লাহদের বাড়ির সদর দোর কিছুটা চাপা। একইসাথে একজন ঢোকা, একজন বের হওয়া যায় না। পুষ্প ঢোকার পরপরই সাদিফ চশমার গ্লাস শার্টের কোণা দিয়ে মুছতে মুছতে বেরিয়ে এলো। মুখোমুখি হলো ওরা।
পুষ্প বলল,
“ কোথাও যাচ্ছো নাকি?”
“ হ্যাঁ ঐ বাঁধনকে এগিয়ে দিয়ে আসি।”
বলতে বলতে সামনে ফিরতেই দেখল মারিয়া ঢুকছে। অন্যদিকে নজর ছিল মেয়েটার। অমনি বুক ফুলিয়ে পথরোধ করার মতো চৌকাঠ আটকে দাঁড়িয়ে গেল সাদিফ। মারিয়া সামনে ফিরে দৈত্যের মতো ওকে মুখের ওপর দেখে ভড়কাল একটু। বিরক্তির ছাপ পড়ল কপালে। তবে চুপচাপ বামে সরলো ঢুকতে,অমনি বামে চেপে এলো সাদিফ। মারিয়া এবার ডানে সরলো,ডানে এলো সাদিফ। মেয়েটা রেগে চাইল,দেখল সাদিফ আকাশ দেখতে দেখতে গুণগুণ করছে।
মারিয়া আরেকবার চেষ্টা করল ঢোকার,সাদিফ আবার একইকাজ করল। নিজেও বের হচ্ছে না,ওকেও ঢুকতে দিচ্ছে না।
মেয়েটা চটে বলল – “ কী, হচ্ছে কী?”
সাদিফের সাড়াশব্দ না পেয়ে মারিয়া গলার জোর বাড়াল,
“ পুষ্প,ওনাকে সরে দাঁড়াতে বলো। আমি ঘরে যাব।”
সাদিফ আরেকদিক চেয়েই বলল,
“ পুষ্প,তুই বলে দে আমি কারো জায়গায় দাঁড়াইনি। কাউকে ঘরে যেতে ধরেও রাখিনি। যাওয়ার হলে এভাবেই যাক।”
“ পুষ্প, তুমি বলে দাও আমার কিন্তু রাগ হচ্ছে।”
“ পুষ্প তুই বলে দিস,আমি কারো রাগের কোনো ধার ধারি না।”
পুষ্প পড়েছে বিপাকে। চোখ ফুটবল করে একবার সাদিফকে দেখছে,একবার মারিয়াকে। এরা দুটোতে এত ঝগড়া করে কেন?
দুটোর এই পুষ্প পুষ্প কাণ্ডতে শেষমেশ অতীষ্ঠ হয়ে বলল,
“ আমাকে না বলে তোমরাই নিজেদেরটা নিজেদের বলে দাও না! সামনেই তো আছো।”
সাদিফ গমগম করে বলল,
“ আমি এসব ম্যালেরিয়া-ফ্যালেরিয়াদের সঙ্গে কথা বলে আমার ইমেজ নষ্ট করি না।”
মারিয়া বিদ্রুপের হাসি হেসে বলল,
“ কী আমার ইমেজরে! একটা বাড়ি মারলেই কপালে গোল আলু হয়ে যায়।”
অমনি ক্ষেপে চাইল সাদিফ। রেগে রেগে বলল,
“ ঐদিনের বাড়ি নিয়ে একটা কথাও বলবেন না। আমি যদি প্রতিশোধের রূপে ফিরি,কেঁদে কূল পাবেন না ম্যালেরিয়া।”
মারিয়া ভেংচি কাটল। সম্পূর্ণ সাদিফ আর ওর কথাকে অগ্রাহ্য করে পাশ কাটিয়ে ঢুকতে চাইলে,সেই আবার নিজের চওড়া শরীর দিয়ে একটু হেলে এলো সাদিফ। ঢুকতে দেবে না,দেবেই না যেন। মারিয়া রেগেমেগে বলল,
“ সমস্যাটা কী আপনার?”
সাদিফ ভান করল শোনেনি।
ও আরো তেতে বলল,
“ এই, এই যে সাদা মূলা, সরে দাঁড়াচ্ছেন না কেন?”
সাদিফ তাকাল,
“ এক্সকিউজ মি? আমাকে কিছু বললেন? নট ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন, আমার নাম সাদিফ হাসান। আপনার মতো কুমড়োপটাশ মেয়ের মূলা কোনো ক্ষেতে টেতে থাকবে।”
পেছনে দাঁড়ানো পুষ্পর এক সমস্যা,পরিস্থিতি যাই হোক; ও হাসি থামিয়ে রাখতে পারে না। সাদিফের কুমড়োপটাশ নাম শুনে হুহা করে হেসে উঠল সে।
মারিয়া তব্দা খেয়ে বলল,
“ কুমড়োপটাশ! আমাকে কোন দিক দিয়ে কুমড়োপটাশ লাগে?”
“ আমাকে সাদা মূলা যেদিক থেকে লাগে।”
“ পুষ্প, তুমি হাসবে? কিছু বলবে না?”
পুষ্পর হাসি থামছে না। শেষে মুখ চেপে ধরল ও। সাদিফ বলল,
“ পুষ্প,তুই বলে দে তুই কোনো বাইরের লোকের হয়ে ভাইয়ের সাথে ঝামেলা করবি না। স্পেইশালি এসব ম্যালেরিয়া ট্যালেরিয়ার জন্যে তো একদম না।”
“ পুষ্প ওনাকে সরতে বলো,নাহলে কিন্তু ওনার নাকে ঘুষি মেরে দেবো।”
“ মারতে বল। আজ আমাকে টাচ করতে এলে আমিও হাত ভেঙে দেবো।”
“ ও তাই নাকি?”
“ ইয়েস,পারলে ছুঁয়ে দেখান।”
পুষ্প হতাশ শ্বাস ফেলল। বুঝতে পারল, এই ঝগড়া আজ থামবে না। কী করবে,ভাবতে ভাবতে হুট করে সকালের বুদ্ধিটাই এলো মাথায়। হেমায়েতদের বাড়ির দিক চেয়ে বলল,
“ সেজো মা আসছে,সেজো মা আসছে।”
সাদিফ চট করে চাইল ওদিক। শরীর একটু আগলা হতেই, এক হাত দিয়ে জোরসে ওকে ধাক্কা মেরে পাশ কাটিয়ে ঢুকে গেল মারিয়া। তবে ঐ অপ্রস্তুত ধাক্কা নিতে না পেরে টলমল হয়ে মাটিয়ে পড়ে গেল ছেলেটা। দরজার পাশে দাঁড় করানো ঝাড়ু, বেলচা সব তছনছ হয়ে পড়ল ওর ওপর। খালেদা খাতুন অজু করে এসেছেন। সাদিফকে ওভাবে পড়তে দেখেই ছুটে এলেন তিনি।
“ আহারে পড়লা ক্যামনে? ব্যতা পাইছো?”
সাদিফের কটমটে চাউনি ঘরের ভেতর,যেদিকে চলে গেছে মারিয়া। হাকিমুল্লাহদের ফ্লোর পাকা ছিল না। সাদিফের শার্টে ধুলো লেগেছে। খালেদা ঝেরে দিতে দিতে বললেন,
“ তুমি এটটু সাবদানে থাইক্কো। আমাগো এই কোণাডা বালো না। সুন্দার মানুষ তো, তোমার উফোরে নজর পড়বো। দ্যাকলা আয়জানডার সোমায় ক্যামোন হালাই দিলো!”
“ কে ফেলে দিয়েছে আপনি জানেন?”
খালেদা ফিসফিস করে বললেন,
“ পরী পরী! ওরাই এডি করে।”
সাদিফ নাক সিটকে বিড়বিড় করল,
“ পরী? ইয়াক,ওটা পেত্নী হবারও যোগ্য না।”
তারপর চিড়বিড় করল একা একা,
“ এই ফেলে দেয়ার শোধ আমি তুলব,ম্যালেরিয়া।”
ভীষণ ভাবুক হয়ে লম্বা চুলে চিরুনি করছিল পিউ। ফোন ভেঙে যাওয়ার চেয়েও বাঁধনের কথা ওর মাথায় ঘুরছে বেশি। লোকটা ওকে প্রহর্ষা ডাকে। আবার পরপর দুবার পিউ তাকে ওর কলেজ আর কোচিং এর সামনে দেখেছে। আচ্ছা এক মিনিট, বাঁধনের সাথে দেখা হবার পর থেকেই তো ও অমন অচেনা ম্যাসেজ পাওয়া শুরু করল। তাহলে কি উনিই?
কিন্তু লোকটা ওর নম্বর পাবে কোথায়? সাদিফ ভাইয়ার থেকে নেবে না,ভাইয়া যে চাইলেও দেবে না এটুকু পিউ জানে। দেখতে ভদ্রলোক,এভাবে একটা মেয়েকে ম্যাসেজে ম্যাসেজে জ্বালানো কি আসলেই বাঁধনের শোভা পাবে? নাকি,পিউ-ই বেশি বেশি ভাবল?
মিনি ছুটে এলো সেসময়। পিউয়ের চুল আচড়ানো দেখে বলল,
“ আপু আমি বেঁধে দিই!
“ হু? আচ্ছা দাও।”
মিনি টুল পেতে বলল,
“ বোসো।”
পিউ বসতেই বলল,
“ বেনি করে দেব?”
পিউয়ের ভাবুক সত্তা এবার নিজের রূপে ফিরল। চোখের পর্দায় ভাসলো,পেছন থেকে একটা শক্ত হাত হুটহাট এসে ওর পনিটেইল টেনে ধরার দৃশ্য।
মুচকি হেসে বলল
“ না, দুপাশে ঝুটি করে দাও।”
“ আচ্ছা। এত বড়ো চুল সামলাতে কষ্ট হয় না?”
“ না।”
“ গরমও লাগে না?”
“ আগে লাগতো, এখন লাগে না।”
“ক্যানো? অভ্যাস হয়ে গেছে?”
পিউ মনে মনে বলল,
“ কারো জন্যে অভ্যাস বানিয়ে নিয়েছি।”
মুখে বলল,
“ এমনি,তেমন কিছু না।”
পিউ চুল পরিপাটি করে বেঁধে বাইরে এলো। শুভ বলেছিল বিকেলে এখানে মেলা বসে,সেখানে যাবে। কিন্তু তা হয়নি। আগেই ফোনটা সারাতে ধূসরের সাথে বেরিয়েছে কোথাও। এদিকে মেহমানদারির সব আয়োজন হেমায়েতদের বাড়িতেই চলছে। হাকিমুল্লাহর পরিবারও আছে ওখানে। পিউ উঠোন পেরিয়ে ওই ঘরের দিকে যাচ্ছিলই, আচমকা ভূতের মতো সামনে এসে দাঁড়াল বাধন। হঠাৎ ব্যাপারটায় একটু ভড়কে পিছিয়ে গেল মেয়েটা। তবে বাঁধন চমৎকার হেসে বলল,
“ প্রহর্ষা! ভয় পেয়েছ?”
পিউ ভয় পেলেও বুঝতে দিলো না। দুপাশে ঘাড় নেড়ে বলল,
“ জি না….”
“ পার্টিতে কথা হয়েছিল আমাদের,চিনেছ?”
“ জি। মনে আছে।”
বাঁধন বুকে হাত দিয়ে বলল,
“ যাক, আম অনার্ড!”
পিউ হাসবে না মুখ গোমড়া রাখবে দ্বিধায় পড়ে গেল। দোনামনা করে তাকিয়ে আজ খেয়াল করল বাঁধনের চেহারা। সাদিফের বন্ধু সাদিফের মতোই ক্যাটক্যাটে ফরসা!
লম্বা -সুদর্শন। তবে…
ডান ভ্রুতে চোখা করে দু দুখানা কাটা দাগ আছে। ওটা যে ট্রিমার দিয়ে স্টাইল করে কাটা বুঝল পিউ। বাঁধন একদম সামনেই দাঁড়িয়ে ওর। যেতে জায়গাও দিচ্ছে না। পিউ বলল,
“ আপনার কি এখানে বাড়ি?”
“ না। বাবার একটা ফার্ম হাউস আছে শহরের দিকে। ওটা দেখতে এসে সাদিফের সাথে দেখা করে গেলাম। কেন,আসায় অসুবিধে হলো তোমার?”
“ আমার কি অসুবিধে হবে?”
“ তাও ঠিক।”
বাঁধন কথা বলতে বলতে পিউয়ের চেহারার খুঁটিনাঁটি মাপছে। এক দণ্ডও মণিদুটো স্থির নেই। কখনো পিউয়ের কপালে,কখনো ওর ঠোঁটে! সব জায়গায় ঘুরছে কেবল।
পিউ ভারি অস্বস্তিতে পড়ল। তাড়া দেখিয়ে বলল,
“ আমি তাহলে যাই।”
এগোতে নিলেই ও বলল,
“ শোনো…”
চ সূচক শব্দ করে ফিরল মেয়েটা।
“ জি?”
বাঁধন হেসে বলল,
“ কিছু না,যাও।”
পিউয়ের নাক কুঁচকে আসে। কেমন রসিকতা?
দাঁড়ায় না,হাঁটা ধরে সজোরে। তবে যেতে যেতে মনে হলো একবার বাঁধনকে পরীক্ষা করবে কিনা। পরোখ করবে কিনা,ম্যাসেজদাতা ও নাকি অন্য কেউ। যদি বলা হয়, আপনার ফোন থেকে আমাকে একটা কল দিন; তাহলেই তো নম্বর মিলিয়ে ফেলতো। ওহ না,তা কী করে হবে? ম্যাসেজ তো একেক সিম দিয়ে আসে।
পিউ হেমায়েতদের বাড়িতে ঢোকার পুরোটা সময় বুকে হাত গুজে চেয়ে রইল বাঁধন। মেয়েটার ফরসা, নরম পায়ে একটা পায়েল পরা,আরেক পা খালি। ওটাই ঝুনঝুন করছে, দারুণ শব্দে! পনিটেইলের একটা সামনে নেয়া,আরেকটা পেছনে। কোমরের সাথে নড়ছিল সেটা। বাঁধনের মুগ্ধতা আরো ছাপিয়ে গেল। চেয়েই চেয়ে থুত্নিতে হাত ঘষতে ঘষতে ঠোঁট কামড়ে হাসল সে।
তারপর ঘুরে হাঁটা ধরতে ফিরল পেছনে। একচোট চমকাল অমনি। এই গোটা বিশাল উঠোনে কেবল একটা বাল্ব লাগানো। সব দিকে হালকা পাতলা গেলেও,অমন ঝকঝকে আলো কোথাও নেই। আর ঐ আবছা অন্ধকারে একটা বলিষ্ঠ শরীর দাঁড়িয়ে দেখে বাঁধন ঢোক গিলে বলল,
“ কে?”
ধীরুজ পা ফেলে এগিয়ে এলো মানুষটা। মৃদূ অন্ধকার ছাপিয়ে বাল্বের আলো সোজা পড়ল তার শ্যামলা-শক্ত মুখে। বাঁধন স্বস্তিতে হেসে বলল,
“ ওহ, ধূসর ভাই!”
ধূসর চুপ করে হেঁটে এসে ওর পাশাপাশি হলো। চোখের চাউনি নির্লিপ্ত তার! বাঁধন জানে না,দৃষ্টিতে কী মেশায় ধূসর! তবে মনে হলো এমন ধারালো, তীক্ষ্ণ নজর বোধ হয় সিনেমার কোনো চতুর ভিলেনেরও হয় না। ধূসর খুব শান্ত গলায় বলল,
“ কী দেখছিলে?”
“ জি? কই, কিছু না তো।”
“ পিউকে,রাইট?”
মোক্ষম ভাবে ধরা পড়ে বাঁধন ঘাবড়ে গেল একটু। ব্যস্ত ভাবে বলল,
“ নো,নো! তেমন কিছু নয়।”
পাতলা ঠোঁট এক পাশে তুলে সেই সামান্য হাসি হাসল ধূসর। পেশিবহুল বাহু তুলে বাঁধনের কাঁধের ওপর রাখল। পিঠে একটু চাপ প্রয়োগ করে বোঝাল, সামনে হাঁটতে। বাঁধন বিভ্রান্ত হলেও হাঁটা শুরু করল। মাঝে পাশ ফিরে দেখল ওকে কয়েকবার। তবে ধূসরের ঠান্ডা নজর নাক বরাবর সোজা! ওভাবেই বলল,
“ শিকদার বাড়ি সম্পর্কে তোমার কী ধারণা? কতদিন ধরে চেনো?”
এখন এই প্রশ্নের মানে কী,বুঝল না বাঁধন।
তাও ভদ্রতায় বলল,
“ অ-নেক বছর! গুলশানে তো আপনারা পরিচিত মুখ।”
“ আমি বাড়ির কথা জানতে চেয়েছি।”
“ বাড়ি মানে.. ভালো ধারণা।
সবাই-ই বলে ভদ্র,ভালো- সভ্য বংশ।”
ধূসর দাঁড়িয়ে গেল এইবার। কাঁধ থেকে হাতটা নামিয়ে নিলো। অমন সোজা চেয়ে চেয়েই কেমন স্থূল স্বরে বলল,
“ এই ভদ্র-ভালো,সভ্য বংশের মধ্যে সবচেয়ে অসভ্য ছেলেটার নাম জানো?”
একটা দমকা হাওয়া ছুটল চারপাশে। ভেসে এলো ধূসরের দগদগে,দাপুটে কণ্ঠ,
“ শিকদার ধূসর মাহতাব!
যে ভালোর ভালো, খারাপের খুব বেশি খারাপ।”
“ আমি,আমি ঠিক বুঝলাম না।”
ধূসর দুইহাত প্যান্টের পকেটে গুজে রাখে। সাবলীল তার তামাটে মুখ। ঠোঁটের কোণ সহজ রইলেও,শিকারি বাঘের মতো চোখ মেলে বলল,
“ কলেজ লাইফে আমি একজনকে থাপ্পড় মেরেছিলাম। ওর কান থেকে রক্ত বেরিয়ে যায়,বাড়িতে বিচার আসে। বড়ো আব্বু বকেছিলেন! এতে নাকি বংশের নাম খারাপ হয়। তারপর থেকে এখন অবধি চেষ্টা করি সহজে কারো গায়ে হাত না তুলতে। দু বছর আগে এলাকার চারজনকে পিটিয়েছি। শুনেছি একটাকে দুদিন হসপিটালাইজড থাকতে হয়েছে। নাকের হাড় ভেঙেছে আরেকটার। বড়ো আব্বু সেবারও বকেছেন। বলেছেন, আমি রাগের বশে বংশের নাম খারাপ করছি। আসলে মানুষ ভাবে আমি রাগী। কিন্তু আমি খুব সহজে রেগে যাই না। সহজে কাউকে মারিও না। কিন্তু আমার মাথা যদি একবার বিগড়ে যায়,ওর পুরো শরীর টের পায় সেটা।”
তারপর ঝট করে ঘাড় ভেঙে চাইল ধূসর। মুচকি হেসে বলল,
“ আমি চাই না তুমিও সেই তালিকায় অ্যাড হও। হা?”
ফরসা ছেলেটার গাল খসখসে হাতে চাপড়ে দিয়ে,পাশ কাটিয়ে চলে গেল ধূসর। বাঁধন ভ্রু কুঁচকে তাজ্জব বনে চেয়ে রইল কিছু পল। পরপরই চোয়াল কঠিন হলো ওর। হুমকি দিচ্ছে, ওকে? হাহ,
বিদেশ থেকে এসেছে তো! এখনো ঠিক করে ওকে জানে না,চেনেও না। এর মাঝেই এলো সাদিফ।
“ তুই এখানে, আর আমি পুরো বাড়ি খুঁজে এলাম। চল!”
বাঁধন মাথা নাড়ল। যেতে যেতে আরেকবার দেখল ধূসরের যাওয়ার দিকে। দাঁত চিবিয়ে হাসল ফের।
মনে মনে বলল,
“ আমি আবার আসব ধূসর মাহতাব
,দেখি কী করতে পারেন!”
চলবে…
Share On:
TAGS: আলতো ছোঁয়ায় সমুদ্রকথন, নুসরাত সুলতানা সেঁজুতি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৩৯
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৮৩
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৮২.১
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৩
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ১৯
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৪৪
-
আলতো ছোঁয়ায় সমুদ্রকথন পর্ব ২৬ (ক +খ)
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৩২
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৬৮.২
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৭২