Golpo romantic golpo আলতো ছোঁয়ায় সমুদ্রকথন

আলতো ছোঁয়ায় সমুদ্রকথন পর্ব ৪(ক)


#আলতোছোঁয়ায়_সমুদ্রকথন_(০৪)
#নুসরাত_সুলতানা_সেঁজুতি
সাদিফের মাস্টার্সের রেজাল্ট দিয়েছে আজ। সেকেন্ড ক্লাস পেয়েছে। আর এ নিয়েই দু রকম অনুভূতিতে ভুগছে ছেলেটা। এই নম্বর সাদিফের কাছে অনেক! ও এমনিই অত ভালো ছাত্র না। কিন্তু বাড়ির কেউ খুশি হবে কিনা সন্দেহ! মায়ের তো দেখলেই মুখ কালো হয়ে যাবে। যেখানে বাড়ির এক ছেলে কলেজ টপার ছিল, সেখানে তার ভাই হয়ে সেকেন্ড ক্লাস ছাত্র হওয়া কী লজ্জার? না,লজ্জার কেন হবে? সবার মেধা কি সমান হয়!
সাদিফ এবার সি-এ ফার্মে ঢুকবে। সেখানে প্রচুর খাটবে। এরপর নিশ্চয়ই রেজাল্ট খারাপ হবে না? কিন্তু চিন্তা একটাই,
বাবা আর বড়ো চাচ্চু না বেঁকে বসেন। যদি বলেন,এসব চাকরি-বাকরি বাদ দিয়ে ব্যবসায় এসো। ও তো মানাও করতে পারবে না। জীবনে কারো মুখের ওপর না বলেনি সাদিফ। যদি কেউ এসে জিজ্ঞেস করে,তোমার ঘাড়ে বসব? সাদিফ মাথাটা দুদিকে নাড়তে পারে না। উফ,কী যন্ত্রণা! হতাশ চিত্তে ও বাইকে উঠে বসল। অনার্সে ফার্স্ট ক্লাস পাওয়ায় বাবা বাইক কিনে দিয়েছিলেন। এখন আবার মাস্টার্সে সেকেন্ড ক্লাস নিয়ে ঘরে ফিরছে। বাবা জানলে মুখের কী অবস্থা হবে কে জানে!
বাইক যখন মাঝপথে, পকেটে মুঠোফোন বাজল। এই চলন্ত বাহনে রিসিভ করবে না করবে না ভাবলেও,মা ফোন করবেন দেখে এক হাত দিয়ে ফোনটা টেনে বের করল সে। সত্যিই, জবার কল। সাদিফ রিসিভ করে ফোন কান,আর কাঁধের মাঝে গুঁজে বলল,
“ হ্যাঁ মা, আসছি আমি।”
“ হ্যাঁ, এইত কাছাকাছিই আছি।”
“ রেজাল্ট এসে দেখাব।”
“ কী খাব এসে বলি?”
জবা লাইন কাটলেন। সাদিফ ঠোঁট ফুলিয়ে শ্বাস ফেলল। চিন্তা মাথা থেকে যাচ্ছে না,রেজাল্ট দেখে ওকে যদি ব্যবসা ধরিয়ে দেয়! ও নো,ওর প্যাশনের কী হবে?
বাইক তখন অলি-গলি ধরেছে। ছেলেটা অন্যমনস্ক থাকার মাঝেই আচমকা দ্রিম করে শব্দ হলো সামনে। বাইকের চাকাটা ভীষণ আওয়াজ করে সামনে থেকে আসা রিকশায় ঠুকে গেল । তুমুল সংঘর্ষের তোড় সাদিফের হাত থেকে ফোনটা অলিম্পিকের মতো ছিটকে গেল কোথাও। সেই সাথে রিকশায় বসা দুটো মেয়ে থেকে একজন থুবড়ে নিচে গড়িয়ে পড়ল।
হকচকিয়ে গেল রাস্তার সকলে। একটুর জন্যে সাদিফ বাইকের গতি সামলে রাখলেও,রিকশা নড়বড়ে হয়ে গেছে। ওদিকে পড়ে যাওয়া মেয়েটার বয়স ১৮-১৯ হবে। মাথায় একটা লম্বা বেনি। পেট অবধি তার দৈর্ঘ্য। সামনের দুপাশে দু গাছি চুল ঝুলছিল। পরন ফারসি সালোয়ার সেট। কাঁধে ব্যাগ ছিল,তবে ধাক্কা খেয়ে কোথায় ছিটকে পড়েছে জানা নেই। কিন্তু ব্যথায় মেয়েটার অবস্থা নাজেহাল। হাতের কনুই ছিলে যা তা! পাশের মেয়েটি ছুটে গেল কাছে। মরিয়া হয়ে বলল,
“ মারিয়া, ব্যথা পেয়েছিস? এজন্যেই বলি রিকশা ধরে বসতে। আল্লাহ, কোথায় লাগল?”
মারিয়া উত্তর দিলো না। সব রাগ গিয়ে পড়ল বাইকের আরোহীর ওপর। কটমট করে তাকাল সে। ফুঁসে কিছু বলবে,দেখল ছেলেটা মাথার হেলমেট খুলে, কেমন হন্তদন্ত গতিতে নেমে এসেছে। চোখে চশমা,গায়ের রং অতিরিক্ত সাদা! চুলগুলো মেসি। এত সাদা চামড়ার ছেলে মারিয়া এর আগে দেখেনি। কিন্তু ভদ্র-নম্র লাগছে। একটু শান্ত হলো ও৷ ভাবল,হয়ত ভদ্র ছেলের মতোই এসে সরি-টরি বলবে।
সাদিফ সত্যিই ছুটে এলো। অথচ হাতপা ছড়িয়ে পড়ে থাকা মেয়েটার দিকে ফিরেও দেখল না সে। উতলা হয়ে তুলল ওর পাশে তার পড়ে থাকা ফোন। স্ক্রিন মুছতে মুছতে বলল
“ থ্যাংক্স গড কিছু হয়নি!”
মারিয়া থ! হতভম্বতায় মুখটা হাঁ হয়ে গেল। সাদিফ রিকশাওয়ালাকে বলল,
“কী মামা,দেখে চালাও না? আরেকটু হলে বাইকের হেডলাইটটা তো ভাঙতো!”
“ কী কন মিঁয়া,আমার দোষ? আপনেই তো আইসা মাইরা দিলেন!”
“ মিথ্যা কম বলবা। তুমি রং রুটে আসছো ক্যান?”
মারিয়ার এবার ব্রক্ষ্মতালুতে আগুন জ্বলে উঠল। ভুলে গেল ব্যথা পাওয়ার কথা। সঙ্গে সঙ্গে দুম করে উঠে এসেই, বাহুতে এক টান মেরে সাদিফকে ফেরাল নিজের দিকে। হকচকিয়ে চাইল ছেলেটা। মারিয়া ফোসফোস করে বলল,
“ একে তো ড্রাইভ করতে করতে ফোনে কথা বলছিলেন। দুইয়ে নিজেই এসে ধাক্কা মেরেছেন। তিনে আমি এইভাবে পড়ে গেলাম! এত কিছুর পরেও একটা মিনিমাল সরি না বলে মামার সাথে তর্ক করছেন? ম্যানারলেস সাদা মূলা কোথাকার!”
সাদিফের চোখ দুটো চমকে গেল। আশ্চর্য হয়ে বলল,
“ কী,কী বললেন আমাকে?”
“ বাইক চালালে হুশ থাকে না কেন? নিজেদের গরিবের স্প্যাইডার ম্যান মনে হয় নাকি? আপনার জন্যে আমার পা ছুলেছে। সময় নষ্ট হয়েছে,এই সাদা জামায় ধুলো লেগেছে। দিন ক্ষতিপূরণ দিন!’’
সাদিফ কিছুক্ষণ কথাই বলতে পারল না। হতবুদ্ধি চোখ ঝাপটে দেখল মেয়েটার ফুঁসতে থাকা মুখ। এত ঝগড়ুটে! এত ঝগড়ুটে! কেমন চিড়বিড় করছে, যেন ওকে কাচা গিলে ফেলবে। এরকম ঝগড়ুটে মেয়েও আছে নাকি? কই,ওদের বাড়ির মেয়েরা তো এমন না। পিউ, পুষ্প বড়ো মা, মেজো মা সবাই কত নরম-শরম!
“ ভ্যাবলার মতো হাঁ করে কী দেখছেন?
ক্ষতিপূরণ বের করুন। জলদি!”
সাদিফের মেজাজ চটে গেল। সহজে রাগে না ও। সহজে কাউকে বকেও না। কিন্তু আজ মন এমনিই খারাপ। তারওপর উটকো ঝামেলায় প্রচণ্ড খেপলো সেও। ফোন পকেটে ভরতে ভরতে বলল,
“কী দেব?”
“ ক্ষতিপূরণ!”
“ মামদোবাজি নাকি, ব্যবসায় কি নতুন? টাকা হাতানোর বুদ্ধি তো খারাপ না। ”
“ টাকা হাতানো মানে, আমি যে ব্যথা পেলাম দেখেননি? এখন আমাকে ওষুধ কিনতে হবে না? কে দেবে এসব?”
“ আগে বলুন আপনি এত চোখ রাঙাচ্ছেন কাকে? মাছির মতো চোখ, তা আবার পাঁকিয়ে শাসানো! এক চড় মারলে তিন দিন ঘুরবে,আর ফাপড় দেখো।”
মারিয়া আহাম্মক হয়ে গেল। কথা আটকে গেল ওর,
“ হোয়ায়া.. হোয়া..হোয়ায়াট! আপনি কী বললেন?”
“ যা শুনলেন!”
মারিয়া আঙুল তুলে বলল,
“ আপনার সাহস কত বড়ো আপনি আমাকে মারার কথা বলেন! আমি,আমি আপনার নামে নারী নির্যাতনের কেস করব।”
“ শুধু নারী নির্যাতন দিলে যুতসই হবে না। একটা রেইপ কেসও দিয়ে দেবেন।”
মারিয়া তাজ্জব,বিস্মিত! কথাবার্তা বন্ধ হলো কিছুক্ষণের জন্যে। রিকশাওয়ালা মামা গলার গামছা দিয়ে মুখখানা মুছতে মুছতে মিটিমিটি হাসলেন। ঝগড়া দেখতে ভালোই লাগে। ফাঁকে একবার বললেন,
“ আফা, আমার ভাড়াডা দিয়া দ্যান,আমি যাই গা!”
মারিয়া খ্যাক করে বলল,
“ এই আপনি চুপ থাকুন। দেখছেন না ঝগড়া করছি?”
মারিয়ার সাথের মেয়েটা অরিন। ও এসে বান্ধবির হাত ধরে টানল। চাপা গলায় বলল,
“ মারিয়া চলে আয় না! লোকজন দেখছে।”
“ দেখুক, এই অসভ্য ছেলেটাকে চিনুন সবাই। দেখে মনে হয় ভাজা মাছ উলটে খেতে পারে না। অথচ কী জঘন্য ইঙ্গিত দিলো দেখলি!”
“ আশ্চর্য, আমি কীসের ইঙ্গিত দিলাম? আমি তো আপনার উপকারই করেছি। মামলার ব্যাপারে ভালো মন্দ সাজেস্ট করাটা জঘন্য ইঙ্গিত হয়ে গেল?”
“ চুপ করুন অসভ্য লোক! আপনি আমাকে চেনেন? জানেন আমি কে? এই গুলশানের এমপি থেকে সভাপতি সবাই আমার ভাইয়ের পরিচিত। একবার যদি তাকে গিয়ে বলি আপনার এই অসভ্যতার কথা,মেরে আপনার ঠ্যাং ভেঙে দেবে।”
“ আচ্ছা? খুব ভয় পেয়ে গেলাম! এবার আমার কী হবে?”
সাথে একটা গা জ্বালানো হাসি হাসল সাদিফ।
মারিয়া রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলল,
“ পাবেন,খুব তাড়াতাড়ি ভয় পাবেন। আপনার হেস্তনেস্ত না করলে
আমার নামও মারিয়া না।”
“ ম্যালেরিয়া? বাহ,সুন্দর নাম। একদম আপনার সাথে পার্ফেক্ট যাচ্ছে!”
অরিনের জিভ দাঁতের নিচে পড়ল। দিয়েছে রে পাগল ক্ষেপিয়ে।
মারিয়া চ্যাঁচিয়ে বলল,
“ হোয়াট? ম্যালেরিয়া, আমি ম্যালেরিয়া? আপনাকে আমি,আমি আপনাকে!”
মেয়েটা ফুঁসতে ফুঁসতে এদিক ওদিক তাকায়। যেন লাঠি-সোঁটা খুজছে। সাদিফও বুক ফুলিয়ে দাঁড়াল। চোখের চশমা ঠেলে বলল,
“ কী করবেন? গায়ে দু কেজি মাংস নেই, তেজ দেখো! কী করবেন আমিও দেখি।”
প্রথমে নাম,এখন আবার স্বাস্থ্য নিয়ে কথা?
মারিয়ার মাথা এত বিগড়াল,সঙ্গে সঙ্গে ওর চোখ থেকে চশমাটা চিলের মত ছো মেরে এনেই,আছাড় মারল মাটিতে৷ সাদিফ বিমুঢ়, স্তব্ধ। আর্তনাদ করে বলল,
“ এটা কী করলেন? আমি চশমা ছাড়া দেখতে পাই না। আয়ায়া,আমার ফেভ্রেইট চশমা….”
অরিন আর ঝুঁকি নিতে চাইল না। মারিয়া খুব জেদি মেয়ে! সঙ্গে সঙ্গে হাত টেনে বলল,
“ তুই চল মারিয়া চল….”
গায়ের সব জোর দিয়ে মেয়েটাকে টেনে নিয়ে রিকশায় বসাল ও। যেতে যেতেও কটমটিয়ে চেয়ে রইল মারিয়া। সাদিফের চশমা দু টুকরো তখন। ভাঙা গ্লাস হাতে নিয়ে ছুটে যাওয়া রিকশায় চেয়ে দাঁত পিষল সে।
বিড়বিড় করল রেগেমেগে,
“ ম্যালেরিয়ার বাচ্চা! ফালতু মেয়ে,
আরেকবার যদি পাই,বেনির গোছা ধরে কেটে দেবো!”


পুষ্প ভেবেছিল,ইকবাল নাটক করছে। এমন দামড়া ছেলে তো আর ওর ভয়ে অজ্ঞান হতে পারে না! কিন্তু সেকেন্ডেও যখন ইকবালের চোখমুখ নড়ল না,আঁতকে উঠল বেচারি। ধড়মড়িয়ে পাশে বসল। গাল চাপড়ে চাপড়ে ডাকল,
“ শুনছেন,আরে কী হলো? শুনছেন? এই এই যে? ইকবাল ভাই! আল্লাহ!”
ইকবালের জবাব নেই। নিথরের মতো পড়ে আছে। দুহাত দুদিকে! ভয়ে বুক শুকিয়ে গেল পুষ্পর। আবার উল্টোপাল্টা কিছু ঘটল না তো? হায় আল্লাহ! ততক্ষণে ওর চ্যাঁচামেচিতে কফিশপের ভেতর থেকে ছেলেপেলে বেরিয়ে এসেছে। ভিড় ভাট্টায় পুষ্প তলিয়ে গেল অমনি। একেকজন হন্তদন্ত ভঙ্গিতে প্রিয় ইকবাল ভাইয়ের শরীরটা হাতে ধরাধরি করে তুলে ফেলল গাড়িতে। আরিফ বোতল ভরতি পানি মুঠোয় ঢেলে এক দলা ছুড়ল তার চোখেমুখে! তাও ইকবালর জ্ঞান ফিরল না। সোহেল বসতে নিল ইকবালের পাশে,এর আগেই হুড়মুড় করে সেখানে ভেতরে উঠে গেল পুষ্প। জিভ কাটল ছেলেটা। হায়হায় করল মনে মনে,
“ ওরে রে,ধূসর আছে তো!”
ইকবালের মাথা সীটে হেলে আছে। পুরোপুরি অচেতন সে। পুষ্প এপাশের দরজা খুলে ঢুকেছে, ঠিক একই রকম ভাবে ওই পাশের দরজাটা খুলে ঢুকল ধূসর। দুই ভাইবোন অমনি মুখোমুখি হয়ে গেল। চোখে চোখ পড়তেই পুষ্পর বুকটা ছ্যাৎ করে ওঠে।
ঢোক গিলে বলে,
“ তু-তুমি”
ধূসর কিছু বলল না। একটা প্রশ্নও করল না। পুষ্প এখানে কেন,কীভাবে এলো কিছুই না। এই মূহুর্তে গাড়ি ভরতি ছেলেপেলে আছে। সোজা সোহেলকে বলল,
“ শাহাবুদ্দিনে চল!”
গাড়িতে টান দিলেন জুয়ান। অথচ দুই রকম ভয়ে পুষ্পর তখন প্রাণ যায় যায় অবস্থা। একে ধূসর এখানে, দুইয়ে ইকবালকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে! পুষ্প পাশ ফিরে তাকাল এক পল। ইকবালের মুখটা যেন আজ আহামরি শুকনো। আহারে,ও ওইভাবে না এলে তো এরকম কিছুই হতো না!
সব মিলিয়ে মেয়েটা কেঁদেই ফেলল এবার। তেমন কোনো শব্দ না হলেও নাক টানার ফ্যাচফ্যাচে আওয়াজ ছেঁয়ে গেল গাড়িতে। সোহেল সামনের সীটে ছিল। প্রাইভেট কার, জায়গা তেমন নেই। তাই ওর কোলে বসেছে আরিফ। ধূসরের পাশে বসা রওনক। সোহেল একবার চোরের মতো ধূসরকে দেখছে,পরের বার পুষ্পর কান্না দেখছে। মাঝে একটু সান্ত্বনা দিয়ে বলল,
“ আপু কেঁদো না। ইকবালের একটু লো প্রেসার তো! মনে হয় রোদে ফল করেছে।”
পুষ্প কাঁদতে চায় না। টিস্যুতে নাক চেপে রেখেছে। কিন্তু চোখের জল তো কথা শোনার জিনিস না! এই যে কেমন হেচকি উঠে গেল। ও চোখ মুছতে মুছতে চোরা দৃষ্টিতে ধূসরকে দেখতে গেল,কলিজা সুদ্ধ ছলকে উঠল অমনি। মানুষটা আগেই গরম চোখে চেয়ে। ও তাকাতেই ভ্রু নাঁচিয়ে বলল,
“ অজ্ঞান হয়েছে ইকবাল,তুই কাঁদছিস কেন?”
পুষ্প কী বলবে বুঝতে পারল না। ভয়ে ডরে আমতা-আমতা করে বলল,
“ আমি, মানে ইকবাল ভাইয়ের এই অবস্থা! তোমরা তো কাঁদছো না,তাই ভাবলাম আমি একটু কাঁদি। একদম কেউ না কাঁদলে খারাপ দেখায়!”
ধূসর আর কিছু বলল না। ইকবালের মুখের দিকে দেখল কপাল কুঁচকে৷ মুখে পানি ছেটানোতে ওর গাল-গলা পাঞ্জাবি ভিজে গেছে। ধূসর পকেট থেকে রুমাল বের করে, খুব আস্তে আস্তে বন্ধুর ভেজা চোখমুখ মুছে দিলো।
পরপর জুয়ানকে বলল, “ স্পিড বাড়ান, এত স্লো কেন?”
গাড়ি থামল ঐ নামি-দামি হাসপাতালের সামনে। ইকবালকে নিতে স্ট্রেচার আনতে হলো না। পেছনের গাড়িতে আসা, দলবলের ছেলেপেলে তাকে কাঁধে তুলেই হল্লা মাঁচিয়ে ঢুকল ভেতরে। খালেদ ভিন্ন জায়গায় ছিলেন। তাকেও খবর দেয়া হয়েছে। একজন গাট্টাগোট্টা সভাপতি দিন-দুপুরে রাস্তায় চিৎপটাং হয়ে পড়ল,এ বড়োই আশ্চর্যের বিষয়!
**
ইকবালের বিপি নেমে গেছে। রোদে ঘোরায় অবস্থা একটু বেগতিক ছিল। চিকিৎসকের এই কথায়, একটা বড়োসড়ো স্যালাইন তার মাথার পাশে ঝুলে গেল অমনি। হাত ফুটো হলো ক্যানোলার সূচে। সেই সাথে একটা কেবিন বরাদ্দ করল সবাই। আপাতত কেবিনে মোট চারজন আছে।
করিডোরে ঘুরছে বাকিরা। এর মাঝে খালেদ এসে ইকবালকে দেখে গিয়েছেন। তাগড়া সবল ছেলেটা হঠাৎ অসুস্থ হলো,এ নিয়ে আক্ষেপও জানালেন কিছু। তবে সংসদে কাজ থাকায় বেশিক্ষণ থাকতে পারলেন না।
কেবিনের ছোটো সোফার এক কোণে চুপটি করে বসে আছে পুষ্প। আর ঠিক সোফার ওই কোণে ধূসর বসেছে।
এসি চললেও ঘামে ইউনিফর্ম ভিজে গেছে মেয়েটার। এই ঘাম দুশ্চিন্তার! ধূসর ভাই যে ওখানে থাকবেন পুষ্পর মাথায়ই ছিল না। থাকলে অমন তেড়েমেরে কোনোদিন আসতোই না ও।
এখন মানুষটা কীরকম ও বুঝতে পারছে না। এলো পরশু, অত কথা হয়নি। সাদিফ ভাই যেমন বন্ধুত্বসুলভ, ধূসর ভাই তা নন! মুখ দেখেই তো ভীষণ রাগী মনে হয়! কথাও মেপে বলেন। হ্যাঁ গম্ভীরও একটু! এখন যে কী হবে। কিছু জিজ্ঞেস করলে কী বলবে পুষ্প? মেয়েটা যখন চিন্তায় মরছে, ধূসর তক্ষুনি বলল,
“ তুই ওখানে কী করছিলি?”
পুষ্প চমকে ফিরল,
“ হ্যাঁ?”
“ তোর কলেজ ওখানে?”
“ না।”
“ তাহলে ওখানে কী?”
মেয়েটা ঢোক গিলল দুবার। জিভে ঠোঁট চুবিয়ে বলল,
“ ফুচকা খেতে এসেছিলাম।”
“ কার সাথে?”
“ ব-বন্ধুদের সাথে। সব মেয়ে ছিল!”
“ বড়ো আব্বু জানে?”
পুষ্পর মুখ ফ্যাকাশে হলো।
“ না…”
“ জানাব?”
ও জোরে জোরে মাথা নাড়ল,
“ না না ভাইয়া, প্লিজ না!”
“ এমন আর হবে?”
“ কক্ষনো না!”
“ এরপর থেকে
কলেজ শেষে কোথায় যাবি?”
পুষ্পর কণ্ঠ কাঁদোকাঁদো,
“ বাড়িতে।”
এর মধ্যে কবির এসে কেবিনের দরজা ঠেলে উঁকি দিয়ে ডাকল,
“ ধূসর ভাই!”
ঘাড় ঘুরিয়ে চাইল ধূসর।
“ ওই, পেশেন্টের ডিটেইলস লিখবে।”
ধূসর সাথে সাথে উঠে বেরিয়ে গেল। আরিফ গেল পেছনে। ধূসরকে তার জব্বর লেগেছে। হাঁটাচলাতেই কী নেতা নেতা ভাব! দেখেই মনে হয়, জন্মই রাজনীতির জন্যে।
সোহেল রওনককে বলল,
“ চলো,আমরাও যাই।”
রওনকের মাঝে একটু দোনামনা। ধূসরের পেছনে হাঁটবে কেন ও? কিন্তু মুখে বলতে পারল না। পূর্বেই, ওর কাঁধ প্যাঁচিয়ে নিয়ে গেল সোহেল। কেবিন ফাঁকা হতেই চোখ বুজে রুদ্ধ দমটা ফেলল পুষ্প। সতর্ক চোখে দরজায় দেখল এক পল। তারপর ব্যাগ পাশে রেখেই ছুটে এসে ইকবালের বেডের পাশে দাঁড়াল। প্রেমিকার বুকখানা কষ্টে হুহু করে উঠল অমনি। ফের চোখ ফেটে জল এলো পুষ্পর। দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে হাতটা তুলে ইকবালের চুলে রাখল সে। স্বযত্নে মাথায় হাত বোলাল কয়েক বার। হঠাৎ বাইরে পায়ের আওয়াজ শোনা গেল। ও ভাবল,ধূসর আসছে। তড়িঘড়ি করে ফিরতে নিল যেই, আচমকা পেছন থেকে হাতের কব্জি টেনে ধরল কেউ। থমকে ফিরল মেয়েটা।
ইকবাক চোখ মেলে চেয়ে,
ও তাকাতেই হাসল একটু। পুষ্প খুশি হয়ে বলল,
“ ইকবাল ভাই, আপনার জ্ঞান ফিরেছে?”
ইকবাল ব্যাকুল গলায় বলল,
“ বিশ্বাস করো, মেয়েটাকে আমি চিনি না। কোত্থেকে এসেছে তাও জানি না। হুট করে ফড়িং এর মতো লাফ দিয়ে এসে আমার ছবি তুলে নিয়ে গেল।”
পুষ্প একটু ভ্যাবাচেকা খেল। পরপর চিবুক নুইয়ে বলল,
“ এসব কথা আমাকে বলছেন কেন?”
“ তুমি জানো না?”
দুপাশে ঘাড় নাড়ল ও। ইকবাল হেসে বলল,
“ তাহলে ওভাবে রেগেমেগে কার কাছে আসছিলে?”
পুষ্প ঠোঁট টিপে মিহি স্বরে বলল,
“ আমার মুখটাই এমন!”
“ আচ্ছা? তাহলে এখন কাঁদছো কেন?”
পুষ্প তাড়াহুড়ো করে চোখের কোণ মুছতে মুছতে বলল,
“ কই? কই কাঁদছি?”
“ সারা রাস্তা কেঁদেছ,আমি জানি।”
পুষ্প ভীষণ লজ্জা পেলো। কথা ঘুরাতে বলল,
“ আপনার এখন কেমন লাগছে?”
ইকবাল ক্লান্ত গলায় বলল,
“ ভালো না। খুব খারাপ! কখন যেন মরে টরে যাই!”
“ ছিহ,এসব বলতে নেই।”
ইকবাল স্বর নামিয়ে ডাকল,
“ পুষ্প!”
পুষ্পর ঐ চোখে চোখ রাখার সাধ্য হলো না। উত্তর দিলো এলোমেলো দৃষ্টিতে,
“ জি?”
“ আমার তোমাকে কিছু বলার আছে।”
“ ব-বলুন।”
ইকবাল আজ আর রাখ ঢাক রাখল না। বলল সরাসরি,
“ আমার তোমাকে ভালো লাগে।”
পুষ্প এই কথা জানে। ইকবালের চোখের চাউনিতেই তো পরিষ্কার এসব। কিন্তু অবাক হলো ও স্বীকার করাতে। দুচোখের বিস্ময় দেখে ইকবাল মন খারাপ করে বলল,
“ কিছু বলো!”
“ কী বলব? ভালো তো যে কাউকেই লাগতে পারে।”
ইকবাল মৃদূ ঠোঁটে হাসে,
“ চালাকি? আমি বোঝাতে চেয়েছি,আমি তোমাকে ভালোবাসি!”
“ আপনি কি আমায় প্রপোজ করছেন?
“ ভালো হয়নি? আসলে কোনোদিন কাউকে প্রপোজ করিনি তো। রাজনীতিতে ইকবাল পাকা হলেও প্রেমে একটু কাঁচা এখনো।”
পুষ্প মাথা নুইয়ে বলল,
“ কিন্তু হঠাৎ এই কথা কেন? আর বুঝি আপনার বন্ধুর ভয় নেই?”
ইকবাল স্বস্তি নিয়ে বলল,
“ নাহ। বন্ধু নিজে বলেছে তাকে ভয় না করে লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে। আর আমার লক্ষ্য তো তুমি মাই লাভ!”
পুষ্পর বুকটা ধ্বক করে উঠল ওই শব্দে। ইকবালের মুখে মাই লাভ যেন সেঁতারের মিষ্টি সুর! কিন্তু চোখের নরম দৃষ্টি লুকিয়ে,শক্ত গলায় বলল,
“ এসব লাভ টাভ ডেকে লাভ নেই ইকবাল ভাই। আগে ভালো করে ভেবে নিন। আবার বন্ধুর দোহাই দিয়ে মাঝ পথে পালিয়ে যাবেন না তো?”
ইকবাল বুক টানটান করে বলল,
“ আমি পাঠান বংশের ছেলে মাই লাভ,পাঠান রা কোনোদিন পালায় না!”
পুষ্প কী উত্তর দেবে বুঝল না। একদিকে ও ইকবালকে ভালোবেসে আগেই মরে আছে। দুইয়ে ভরসাও হচ্ছে না। ধূসর ভাইয়ের প্রতি ইকবালের যা মান্যি! যদি বলে বন্ধু মানবে না, তাই তুমি বাদ?
মেয়েটার শুকনো মুখে চেয়ে ইকবাল কিছু বুঝল বোধ হয়। বলল,
“ আমাকে একটু ধরবে? বসব। আসলে মাথা ঘুরছে তো।”
পুষ্প ঘাড় নেড়ে ওর পিঠে হাত রাখল। উঠে বসাল আস্তধীরে। ইকবাল পকেট হাতায়,খুঁজল কিছু। পেলো না। তারপর চোখ পড়ল নিজের হাতের আঙুলে। একটা প্লাটিনামের আংটি!
মূহুর্তে টান মেরে খুলে আনল সেটা। আরেক হাত পাতল পুষ্পর সামনে।
প্রেমিক সুলভ সেই মোহময় দৃষ্টি নিয়ে বলল,
“ মিস তিয়াশা শিকদার পুষ্প,উইল ইউ বি মাই লাভ ফরেইবার?”
পুষ্প অবাক হয়ে একবার আংটি দেখল,একবার ইকবালকে। ও বলল,
“ এবার তো বিশ্বাস করো, ভাই! আমি সত্যিই তোমাকে ভালোবাসি। এক সময় বলতাম,দেশের জন্যে লড়ব,দেশের তরে মরব। কিন্তু আজ থেকে,
ইকবাল দেশের জন্যে লড়বে,
মাই লাভের তরে মরবে!
আর আমি জানি তুমিও আমাকে ভালোবাসো। তাহলে এত চিন্তা,এত ভাবনা কীসের? প্রেমে এত ভাবতে নেই!”
পুষ্পর মন-মস্তিষ্ক অকেজো। দ্বিধা-ধাঁধা বুক জুড়ে। এই আবদার,এই চাওয়া ও ফিরিয়ে দিতে পারছে না। বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছে ওকে। কাঁপা হাতটা তুলে রাখতে গেল ইকবালের পেতে রাখা হাতে, তক্ষুনি টের পেল বাইরে থেকে আরিফরা কথা বলতে বলতে আসছে এদিকে। সাথে ধূসরও আছে নিশ্চয়ই?
মূহুর্তে দুইজন ছিটকে গেল দুদিকে। পুষ্প হুড়মুড়িয়ে এসে আগের জায়গায় বসল। আর ইকবাল ঝট করে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ল আবার৷
ধূসর ঢুকল, সাথে সোহেল, আরিফ আর রওনক। সোহেল এক পল পুষ্পকে দেখে,আবার ইকবালকে দেখে স্বস্তির শ্বাস ফেলল। নাহ,সব ঠিকই আছে। কিন্তু কিছু একটা দেখে ধূসরের কপাল বেঁকে গেল হঠাৎ।
তীক্ষ্ণ চোখে এগিয়ে গেল ইকবালের বেডের দিকে। পুষ্পর বুক দ্রিমদ্রিম করে উঠল। কলেজ ইউনিফর্মের স্কার্ফটা তুলে মুখের ঘাম মুছল বারবার। ধূসর দুহাতের ভর বেডে রেখে একটু ঝুঁকল ইকবালের মুখের দিকে। ভ্রু কুঁচকে ওর পেটে রাখা হাতটা ধরে বলল,
“ এই হাত তো ওর পাশে রাখা ছিল। এখানে এলো কী করে?”
সাথে ঘাড় ভেঙে ঝট করে তাকাতেই, পুষ্পর চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। বেহুশের ভান করা ইকবাল মনে মনে হায়হায় করে বলল,
“ কী সর্বনাশ! হাত কোথায় ছিল হতচ্ছাড়াটা তাও মনে রেখেছে?”
পুষ্প আমতা-আমতা করে বলল,
“ হাতটা ঝুলছিল দেখে, আমি তুলে দিয়েছিলাম।”
ধূসর গালে জিভ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কী যেন ভাবল। হঠাৎ বলল,
“ তোর তো এখানে কাজ নেই। বাড়ি যা।”
“ আমি একা? এতদূর,কীভাবে যাব ভাইয়া!”
“ কাউকে পাঠাচ্ছি।”
ইকবাল মনে মনে কটমটিয়ে বলল,
“ এই না,খবরদার না। আমার মাই লাভ কে কোনো ছেলের সাথে পাঠাবি না ধূসর! পিটিয়ে সেটার পাছার ছাল তুলে ফেলব কিন্তু।”
আরিফ বলল,
“ আমি দিয়ে আসব,ভাই?
ইকবাল মনে মনে চিৎকার করে উঠল,
“ নায়ায়ায়া এই শালার চরিত্র ভালো না। আরিফের বাচ্চা,আমার মাই লাভ থেকে দূরে থাক।”
ধূসর ফের কিছু একটা ভাবল। বলল,
“ না,আমি নিয়ে যাচ্ছি। তোমরা ওর কাছে থাকো। আমি পুষ্পকে পৌঁছে দিয়েই আসব।”
“ আবার আসবেন! এতটা রাস্তা।”
“ ইকবাল আমার বন্ধু, আরিফ। বন্ধুত্বে রাস্তা কে মাপে?”
তারপর পুষ্পকে বলল,
“ আয়।”
ও আগে বেরিয়ে গেলেও,পুষ্প হাঁটল পিপড়ের গতিতে। আংটিটা যে কোথায় পড়ল তখন! ইস…! মুখ কালো করে ভাইয়ের পিছু নিল সেও। এতক্ষণে সোফা ফাঁকা পেয়ে আরিফ গা ঝেরে বসতে গেল,তক্ষুনি বেডে মরার মত পড়ে থাকা ইকবাল তড়াক করে উঠে বসল অমনি। অস্থির হয়ে এদিক-ওদিক দেখে বলল,
“ আমার আংটি কই? আমার আংটি কই?”
কেবিনের তিনটি মানুষই ভড়কে গেল।
আরিফ আঁতকে বলল,
“ এ কী,ইকবাল ভাই!
আপনি জ্যান্ত?”
“ তাইলে কি মৃত? এত জলদি মারবি আমাকে? নার্স ডাক,আমার ক্যানোলা খোলা। না না নার্স মহিলা মানুষ, কোনো ছেলেপেলে ডাক।”
রওনক বলল,
“ ইকবাল, সুস্থ তুমি… তাহলে এসব কী ছিল?”
“ তুমি আগে কাউকে ডাকো ভাই। হাত ব্যথা করছে।”
রওনক বেরিয়ে যায় দ্রুত। ইকবাল বলল,
“ দুই ভাই-বোনের ভয়ে মটকা মেরেছিলাম। অভিনয় বড়ো কষ্টের জিনিস!”
যাক গে,গাড়িতে আমার মুখে পানি দিয়েছিল কে?”
আরিফ হাত তুলে বলল,
“ আমি!”
“ এদিকে আয়।”
ছেলেটা হেসে এগিয়ে এলো।
সঙ্গে সঙ্গে ওর গালে একটা চটকানা মারল ইকবাল। রেগে রেগে বলল,
“ শালারপুত, ওইভাবে কাউকে পানি ছিটায়? নাকে মুখে ঢুকে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গেছিল! আরেকটু হলেই হাঁচি দিয়ে দিতাম।”
আরিফ গালে হাত চেপে মিনমিনিয়ে বলল,
“ সরি ভাই!”
সোহেল বলল,
“ তুই কি আসলেই অজ্ঞান হয়েছিলি?”
“ প্রথমে হয়েছিলাম। পরে এই বলদ ছেলে এমন ভাবে পানি মেরেছিল, খুব কষ্টে চেপে রাখতে হয়েছে।”
“ কিন্তু, এত কিছু কেন ইকবাল ভাই?
“ সেসব কথা বলা যাবে না। আপাতত আমার জন্যে এক কাপ চা আনা। সাথে দুটো নাবিস্কো বিস্কিট!”
“ আমি আনছি!”
বলে সোহেল হাসল। মাথা নাড়তে নাড়তে বেরিয়ে গেল বাইরে। ইকবাল বলল,
“ আরিফ আংটি খুঁজে দে। কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। এদিকে পড়েছে দ্যাখ!”
আরিফ বেডের নিচে উঁকি দিলো। বিশেষ তল্লাশিতে পাওয়া গেল আংটিটা। ইকবাল ওটা আর আঙুলে পরলো না। রাখল পাঞ্জাবির পকেটে। সোহেল চা নিয়ে আসে।
ইকবাল বিস্কিটে কামড় বসাতে বসাতে বলল,
“ হতচ্ছাড়াটা আমাকে কত ভালোবাসে দেখলি সোহেল?”
“ হতচ্ছাড়াটা আবার কে?”
“ আরে ধূসর,আমার পার্সনাল হতচ্ছাড়া ওটা। আদর করে ডাকি।”
ওদের কথার মাঝেই,রওনক এলো। সাথে একজন মেডিকেল এসিস্ট্যান্টের ইন্টার্নিশিপে থাকা ছেলে। স্যালাইন শেষ হওয়ায় ক্যানোলা খুলে দিয়ে গেল।
আরিফ বলল,
“ ভাই, আমি একটা কথা বলি?”
“ হুউউ!”
“ ধূসর ভাইকে আমার অনেক ভালো লেগে গেছে!”
ইকবাল কপাল কুঁচকে বলল,
“ তোর না গার্লফ্রেন্ড আছে?”
“ কী বলেন ভাই! আমি তো অন্য কথা বললাম। ওনারে বেশ লাগল। দলে আসলে দারুণ হইত বলেন!”
ইকবাল মাথা নাচিয়ে হাসল,
“ আসবে তো,বলেছে আজকে।
রওনক দাঁড়িয়ে কেন,বসো না!”
রওনক বসল অন্ধকার মুখে। ধূসর তাহলে দলে আসবে? এ আবার কোন নতুন সমস্যার উৎপত্তি!
চলবে…
পর্বটা আরো বাকি! পিউপিউ মিসিং না? ওই পর্ব শীঘ্রই পাবেন।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply