Golpo romantic golpo আলতো ছোঁয়ায় সমুদ্রকথন

আলতো ছোঁয়ায় সমুদ্রকথন পর্ব (১৬ শেষাংশ)


#আলতোছোঁয়ায়_সমুদ্রকথন_(১৬-শেষাংশ)
#নুসরাত_সুলতানা_সেঁজুতি
সকাল হলো!
খুব হৈচৈ চলছিল বাড়িময়। নতুন বউ হিসেবে সুমনা আজ সবার জন্যে চা বানিয়েছেন। জায়েরা দিতে চাননি,কিছুটা জোর করেই করা। এমনিতে মিনার চা এই বাড়িতে সবার পছন্দের। তবে আজ ভদ্রমহিলার চা খেয়েও ভাসুর থেকে বাচ্চারা অবধি প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে পড়ল। রাদিফও মুরুব্বিদের মতো বলল,
“ কী চা বানালে ছোটো মা? এরকম চা হলে আমি তো আর ভাতই খাব না।”
ওয়াজিদের স্ত্রীর মুখ ভার। ওয়াজিদ এসব দেখেও না দেখার ভান করেন। হঠাৎ খেয়াল করলেন সুমনার হাত টেনে ওদিকটায় নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ভদ্রলোক বিফল শ্বাস নিলেন এ দফায়। দোলা নিজে তো শ্বশুর বাড়িতে মিশে থাকতে পারে না,বোনটাকে কী কুমন্ত্রণা দেয় কে জানে!
“ ভাবি,কী হয়েছে?”
দোলা ফিসফিস করে বললেন,
“ তোমার কি বুদ্ধি সুদ্ধি লোপ পেয়েছে সুমা?”
সুমনা ভারি অবাক হয়ে বললেন,
“ কেন,কিছু করেছি আমি?”
“ করোনি বলতে! কাল তোমার বিয়ে হলো,আর আজ সকালেই গাধার মতো খাটুনি শুরু করেছ? শ্বশুর বাড়িতে এত কাজ দেখাতে নেই। পরে এই হাতির পালের সব কাজকর্ম তোমাকে দিয়ে করাবে। এমনিই এত লোকজন এক সাথে থাকে,দেখেই কেমন গা গিজগিজ করছে আমার।”
সুমনার মুখায়ব একটু শক্ত হলো। হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে বললেন,
“ আপনাকে আমার ব্যাপারে এত ভাবতে হবে না ভাবি! সবার কাজ করালে করব,আমার সমস্যা নেই। আপনার বাসাতেও তো সব কাজ আমাকেই করতে হতো! আপনার সংসারে কাজ করলে নিজের সংসারে পারব না কেন?”
দোলার চেহারা বদলাল। সুমনা আগে কখনো এভাবে জবাব দেননি। তাই সময় লাগল সামলে উঠতে। সুমনা যেতে নিয়েও ফিরলেন। বললেন,
“ আর আপনি মিলেমিশে থাকা বোঝেন? কোনোদিন তো আমাদের নিজের লোক ভাবেননি,বুঝবেনও বা কী করে?
আপনি একা থাকতে পছন্দ করেন,থাকুন। কিন্তু যারা এক সাথে সুখ দুঃখ নিয়ে বাঁচে তাদের নিয়ে আজেবাজে কথা বলে নিজেকে ছোট করবেন না।”
দোলা থ বনে চেয়ে রয়। পরপর কটমটিয়ে বলে,
“ টাকাওওয়ালা শ্বশুর বাড়ি পেয়ে,দেমাগ বেড়েছে তাই না!”


“ ধূসর,ঘুম হলো? ইকবাল কে নিয়ে খেতে আয়! নাস্তা তো ঠান্ডা হয়ে যাবে রে বাবা!”
ধূসর শার্টের হাতা ফোল্ড করতে করতে ঘাড় ভেঙে বিছানায় চাইল। ইকবাল পড়ে পড়ে ঘুমোচ্ছে।
মায়ের উত্তর দিলো – আসছি,যাও।
তারপর এগিয়ে এসে ডাকল,
“ ইকবাল ওঠ।”
ইকবাল স্বপ্ন দেখছিল সেসময়। আজ ওর বিয়ের প্রথম সকাল। পুষ্প লাল শাড়িতে বিশাল ঘোমটা দিয়ে হাতে চা নিয়ে এসেছে। কী বউ বউ একটা মুখ! হাতে স্বর্ণের চুড়ি,নাকফুল নাকে। কেমন লজ্জা লজ্জা করে ডাকল,
“ শুনছো,ওঠো?”
সাড়া না পেয়ে চা টেবিলে রেখে ওর বাহু ধরে ঝাঁকাতে গেলে হাতের কব্জি খপ করে ধরে ফেলল ইকবাল। কিন্তু হ্যাচকা টান দিয়ে বুকে এনে ফেলতে পারল না। হাতটা খুব শক্ত! বিড়বিড় করে বলল,
“ উম মাই লাভ,তোমার নরম হাত এমন ব্যাটাদের মতো হয়ে গেল কী করে?”
কথা শেষ হতেই এক ঝটকা পানি এসে ওর মুখের ওপর পড়ল। হকচকিয়ে চোখ মেলল ইকবাল। ধূসর কঠিন চোখে চেয়ে আছে। অমনি তড়াক করে বসল ইকবাল। চারপাশ দেখতে দেখতে নিষ্পাপ গলায় বলল,
“ আমি কোথায়? আমার নাম কী?”
“ মারব টেনে এক চড়। যা ফ্রেশ হ! যা!”
বাজখাই ধমকে ইকবাল ঠোঁট উল্টাল মেয়েদের মতো। দুঃখ তো ঝারি শুনে লাগেনি, অন্য কিছুতে লাগছে। এতক্ষণ যা দেখল, স্বপ্ন ছিল ওটা? হায় রে!
মাথা চুলকাতে চুলকাতে ইকবাল বিছানা থেকে পা মাটিতে রেখে দাঁড়াতে গেল,পরনের লুঙ্গি খুলে পরতে নিলো অমনি। ধড়ফড় করে চেপে ধরল ও। আর্তনাদ করে বলল,
“ ধূসররে, খুলে গেল রে।”
ধূসর পকেটে মানিব্যাগ ভরছিল। বন্ধুর এমন শিশুসুলভ কাজকর্মে দীর্ঘশ্বাস ফেলল সে। এগিয়ে এসে লুঙ্গির গীট ক্রস দিয়ে আটকে দিলো।
“ সামলাতে যখন পারিস না,পরার কী দরকার?”
“ আন্টি দিলেন,তাই পরলাম। আমি কি তোর মতো পাষাণ রে! আর তাছাড়া কত ভালো ঘুমিয়েছি রাতে। যেদিকে নড়েছি সেদিকেই হুরহুর করে বাতাস লেগেছে।”
“ বাতাস লেগেছে কারণ লুঙ্গি ঠিক জায়গায় ছিল না। রাতে কবার ঠিক করেছি আমি?
হুশ ছিল তোর?”
ইকবাক আপ্লুত হয়ে হাসল। বলল,
“ তুই যে কেন ছেলে হতে গেলি রে !”
ওদিক থেকে জবা ফের চ্যাঁচালেন,
“ ধূসর,কই আয় রে।”
ধূসর ব্যস্ত গলায় বলল,
“ ইকবাল তাড়াতাড়ি কর। রওনকের সাথে দেখা করব। অলরেডি তোর জন্যে অনেকটা দেরি হচ্ছে।”
এই কথা শোনার পর ইকবালের আর কিছু ভালো লাগল না। জামাকাপড় কাঁধে তুলে ওয়াশরুমে ঢুকল। পরপরই মাথা বের করে বলল,
“ এই ধূসর ব্রাশ তো নেই। কী করব? তোর ব্রাশ..”
ধূসর মূহুর্তে চটে বলল,
“ ওটা ধরবি না। ইকবাল! আনহাইজেনিক কিছু করলে ঘাড় ধরে সোজা নিচে ছুড়ে মারব।”
“ ছিঃ আমি এত খবিশ নাকি? কিন্তু
শুধু ব্রাশের নাম নিতেই এমন খেপে গেলি? পিউ হলে তো বলতি ব্রাশ দিয়ে কী হবে? আমাকে দিয়ে দাঁত মাজো!”
ধূসর তেড়ে ওঠার আগেই,কথা শেষে ধাপ করে দরজাটা আটকে দিলো ইকবাল। ভেতরে বসেই চ্যাঁচাল,
“ বেশি তর্জন-গর্জন করলে কিন্তু তোর ব্রাশ দিয়ে কমোড মেজে দেব,হু!”
ধূসর রাগটা সংবরণ করল শ্বাস ঝেড়ে।
এই ইডিয়ট মানুষ হবে না,ও জানে!


ইকবাল বেঁচে গেল বাড়িতে এত মানুষ থাকায়। তবে শাস্তি হিসেবে ওকে ছাড়াই নিচে খাওয়ার রুমে এসে বসে পড়েছে ধূসর। কনেপক্ষের অতিথিদের খাওয়া আগেই শেষ । নাস্তার পর সবাইকে চা দেয়া হচ্ছিল!
এই বাড়িতে ডায়নিং রুমে জল-খাবারের পর,চা-কফির আসর সব সময় বসার ঘরের ঐ বিশালাকার সোফাসেটেই হয়।
এক দিকে বসেছিলেন পুরুষরা,মুখোমুখি দিকটায় নারীরা সবাই। বাকিরা খাচ্ছিল টেবিলে। মিনা আর রুবায়দা ছিলেন পরিবেশনের দায়িত্বে। পুষ্প,সেজো মায়ের সাথে চা সবার হাতে হাতে দিচ্ছে। সুমনা কাজ করতে চাইছেন,কিন্তু ভাগে পাচ্ছেন না।
শেষ দিকে সবাই ঠেলেঠুলে তৈরি হতে পাঠিয়ে দিলো। আজ তো তাদের নাইয়র যাওয়ার কথা।
পিউ আজ খুব সকাল সকাল উঠেছে। সেই ভোর ৬ টায়। কিন্তু পরিপাটি জামা কাপড় পরে নিচে নামলেও,চুল বাঁধেনি। এদিকে দু কাপ চা খেয়েও ঘুম কাটেনি ওর। তাও বারবার হাই তুলতে তুলতে ধূসরকে দেখছিল ও।
পুষ্প সেসময় কাছে এসে বসল। যথাসম্ভব আস্তে আস্তে বলল,
“ কী রে,কথা শুনবি না? কতবার বললাম, চুলগুলো বাধ।”
“ বাধব না,আপু।”
“ তোর হয়েছে কী পিউ? দুদিন আগে না আমাকে গিয়ে বললি লম্বা চুলে গরম লাগছে। কাটবি! এখন সারাক্ষণ পেত্নীর মতো খুলে খুলে ঘুরছিস। এখন তোকে দেখে তো আমার গরম লাগছে।”
পিউ আড়চোখে চাইল। কোণাকুণি থাকা ধূসরের এক পাশের চিবুক দেখে সলজ্জে বলল,
“ আমি আর কোনোদিন চুল কাটব না।”
মিনা বেগম শুনতে পেলেন। অবাক হয়ে বললেন,
“ ওমা, এত সুবুদ্ধি কবে হলো আবার?”
পিউ ঠোঁট টিপে রাখে। কিছু বলে না।
পুষ্প ফিসফিস করে বলল,
“ এত লম্বা চুল দেখলে অনেকের নজর পড়বে।”
পিউ উদাস চোখে ভাবল,
“ যার চাইছি তার আগে পড়ুক। তারপর না অন্যদের নিয়ে ভাবব!”
পুষ্প ওর মুখ দেখে বুঝল,কথা শুনবে না। একটু রেগে উঠে গেল ওখান থেকে। সাদিফ ফোন হাতে চ্যাঁচিয়ে উঠল তখনই
“ পিউ আজকে তোর রেজাল্ট দেবে?”
চটক কাটার মতো নড়েচড়ে চাইল পিউ।
জোরে জোরে মাথা নাড়ল অমনি।
“ হ্যাঁ হ্যাঁ, একদম ভুলে গেছিলাম!”
মিনা বেগম সুর দিয়ে বললেন,
“ কী অসাধারণ ছাত্রী দেখেছিস! রেজাল্টের চিন্তায় মানুষের খাওয়া নাকেমুখে ঢুকে যায়,আর এনার নাকি মনেই ছিল না।” আফতাব বললেন
“ ভাবি বকবেন না। বাড়িতে এত হইচই ভুলে গেলে ওর কী দোষ? আমরাও তো তারিখ খেয়াল করিনি। যাক গে, রেজাল্ট যখনই দিক না কেন আমাদের পিউ এ-প্লাস পাবে দেখবেন।”
পিউ উচ্ছ্বাস নিয়ে হাসল। ওদিক থেকে খাওয়া শেষ করে ধূসর,ইকবাল মাত্রই এসেছে। রাদিফ উঠে ওকে জায়গা দিলো। আর ইকবালকে একটা চেয়ার এগিয়ে দিলো সাদিফ। দুজনের হাতেই দু কাপ চা দিলেন জবা। ইকবাল চা খেতে খেতে চোখের কোণ তুলে আমজাদের দিক চাইল। মূহুর্তে বুকটা ছ্যাৎ করে উঠল ওর। আমজাদ তপ্ত চোখে চেয়ে চেয়ে ফুঁসছেন। ধূসর যে চা-টুকু শেষ করে এক্ষুনি এই ছেলের সাথে বের হবে,এটাই তার পছন্দ হচ্ছে না।
সুমনার মা বয়ষ্ক মানুষ। যুদ্ধও দেখেছেন। অনেলক্ষণ একটা ব্যাপার খেয়াল করার পরে বললেন,
“ আচ্ছা,মিনা মা একটা প্রশ্ন করব যদি কিছু না মনে করো?”
“ জি বলুন না খালা!”
“ না মানে, আমজাদ সাহেব তো বড়ো ভাই। তাহলে ছেলেমেয়ের মধ্যে আফতাব বাবার ছেলেটা সবার বড়ো যে! আবার আজমল বাবার ছেলেও তো তোমাদের মেয়েদের থেকে বড়ো। আসলে হিসেব মতো সব সময় বড়ো ঘরের ছেলেমেয়েরা বড়ো হয় দেখেছি তো,তাই আরকি গড়মিল লাগছে।”
আফতাব বললেন,
“ আমার বিয়ে ভাইজানের আগে হয়েছিল। আমি রুবাকে পালিয়ে এনে বিয়ে করি । শিকদার বাড়ির এক মাত্র লাভ ম্যারেজ আমাদেরই। এর তিন মাস পর ভাইজান বিয়ে করেন আর এর ছ মাস পর ধূসর হয়, সেজন্যে ধূসরই বড়ো।”
ইকবাল বিড়বিড় করল মনে মনে,
“ এরপর দুই মাত্রটা আমি করব হাহাহাহা!”
সুমনার মা জহুরা সেকেলে মানুষ। লাভ ম্যারেজ কথাটা ভালো লাগল না। মেয়ের শ্বশুর বাড়ি বলে একটু টেনেটুনে হাসলেন তাও। বললেন,
“ সেজো ভাইও কি আগে বিয়ে করেছিলেন?”
আজমল বড়ো ভাইয়ের দিকে তাকালেন। কী বলবেন,একটু বুদ্ধি নেবার জন্যে।
মিনা বললেন,
“ আসলে আমার অনেক কম বয়সে বিয়ে হয়েছিল তো,প্রথম বাচ্চার সময় অত কিছু বুঝিনি। তাই চার মাসের মাথায় মিসক্যারেজ হয়ে যায়। এরপর অনেক দিন কোনো সন্তানাদি হয়নি। এর মাঝে আজমল ভাই বিয়ে করল,ওদের ঘর আলো করে সাদিফ এলো। ধূসর-সাদিফ এদের নিয়েই থাকতাম আমি। তারপর আল্লাহর রহমতে আমার পুষ্প জন্মাল। ওর সময় তেমন অসুবিধে হয়নি। কিন্তু অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম পিউয়ের সময়। কী যে অবস্থা তখন! সারা হাত পা পানিতে ফুলে ফেঁপে একাকার। আমি তো মরেই যেতাম,যদি না সেদিন আমার ধূসরটা আমার কাছে থাকতো।”
ধূসর চা খাচ্ছে চুপচাপ। ইকবাল চোখ ঘুরিয়ে ভাবল – হতচ্ছাড়াটা আবার কোনদিন কী করেছে?
ধূসরের নাম ওঠায় পিউ সাগ্রহে বসল। বাকিরাও শুনছে মন দিয়ে। শুধু আমজাদ পেপার পড়ার ভান করছেন। যাতে সামনে বসা ইকবালকে দেখতে না হয়!
জহুরা বললেন,
“ কেন কেন? কী হয়েছিল?”
“ আর বলবেন না!
ডেলিভারির ডেট একটু পরে ছিল। পুষ্পকে তখন রুবাই দেখাশোনা করতো। স্কুলে আনা নেয়া,খাওয়ানো-গোসল সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে নিয়েছিল। সেদিনও ওকে নিয়ে স্কুলে গেল। মানে সবে সবে প্রি প্লে তে দিয়েছি। জবার তো বাড়ি কাছে,ও সেখানেই। বাড়িতে আমি আর ধূসর ছাড়া কেউ ছিল না। ধূসরের তখন ক্লাস ফাইভের ফাইনাল চলছে। পড়ছিল ও। আর ওইসময়ই ব্যথা ওঠে আমার। রীতিমতো খাট থেকে ফ্লোরে পড়ে যাই। ওঠার শক্তিও নেই,মুখ থেকে আওয়াজও বের করতে পারছিলাম না। তবে আমার ছেলেটা খুব বুঝদার ছিল জানেন! ও না বারবার করে আমাকে দেখে যেত। আর বারবার জিজ্ঞেস করতো,বড়ো মা কিছু লাগবে?
ওই সময়ও এলো জিজ্ঞেস করতে,দেখল আমার এই অবস্থা। কী না করেছে বাচ্চাটা!
এম্বুলেন্স কল দিয়ে এনে,আমাকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছে। পুরোটা পথ আমার হাত-মালিশ করতে বোধ হয় ধূসর এক ফোঁটাও বিশ্রাম নেয়নি জানেন!
পিউ আরো আগ্রহ নিয়ে বলল,
“ আম্মু তারপর, তারপর?”
“ তারপর আর কী? সবাই আস্তে আস্তে খবর পেয়ে হাসপাতালে এলো। তুইও হলি! কিন্তু আমি তোকে তোর বাবাকেও ছুঁতে দিইনি। সবার আগে ধূসরের কোলে দিয়েছিলাম। ধূসরের তখন দশ বছর চলছিল। মাথা ভরতি কালো চুল। সিঁথিই দেখা যেত না। সব সময় কপাল ঢেকে থাকতো। আর খুব গম্ভীর! মেপে মেপে কথা বলা বাচ্চা। ও পুষ্প সাদিফকে এত ছোটো পেলেও সেভাবে বুঝতো না। তোকেই দেখেছে! কিন্তু সেদিন তোকে কোলে নিয়ে ওর কী আনন্দ! তোর মনে আছে রুবা? ধূসর কেমন পিউকে কোলে নিয়ে বলছিল,
“ এত সুন্দর বার্বিডলটা তুমি কোথা থেকে আনলে বড়ো মা?”
রুবায়দা বললেন,
“ মনে নেই আবার? পিউ তো হয়েওছিল একদম জ্যান্ত বার্বিডলের মতো আপা।”
পিউ চট করে ধূসরের দিকে চাইল৷ ছেলেটা বিব্রত হয়ে পড়ল খুব। কাপে অর্ধেক চা রেখেই উঠে দাঁড়াল সহসা। ব্যস্ত ভাবে বলল,
“ ইকবাল চল। বের হই!”
ইকবাল মিটিমিটি হাসে। দাঁড়াতে দাঁড়াতে বিড়বিড় করে,
“ ওয়াইফাইয়ের কানেকশন তাহলে এখান থেকে শুরু,হাঁ?”
“ চল তুই।”
সবার থেকে বিদেয় নিয়ে ধূসরের পিছু পিছু সদর দোর অবধি এলো ইকবাল। হঠাৎ ফিরে চোখের ইশারায় পিউকে ডাকল। তড়িৎ উঠে ছুটে গেল মেয়েটা।
“ হ্যাঁ ভাইয়া?”
ইকবাল মাথায় হাত রেখে বলল,
“ অল দ্য বেস্ট! তোমার রেজাল্ট খুব ভালো হোক! এপ্লাস পেলে ভাইয়া গিফট কিনে দেবো।”
পিউ হাসল। মাথা কাত করল।
তার মধ্যে ওর চঞ্চল চোখটা দু এক সেকেন্ডে হাজারবার ঘুরে এলো ধূসরের ওপর। কিছু যেন শুনতে চায়। কিন্তু ধূসর নিজের মতো পায়ে জুতো গলিয়ে চলে গেল বাইরে। ষোড়শীর মুখটা একটু কালো হলো তাতে । হতাশ শ্বাসে দুপাশে মাথা নাড়ল ইকবাল। ওদের কারসাজিতে বেমালুম ভুলে গেল চোখ দিয়ে পুষ্পর থেকে বিদায় নেয়ার কথা। হনহনিয়ে হেঁটে এলো ধূসরের পেছনে।
গাড়ি আগেই বের করা ছিল। ধূসর বাইরে যাওয়ার আগে হাকিমকে বলে রাখে গাড়ি লনে বার করতে। দরজা খুলে উঠতেই যাচ্ছিল,থামল ইকবালের কথায়,
“ একটু অল দ্য বেস্ট বললে কী হতো? মুখ তো মুখের জায়গায়ই থাকতো। ক্ষয়ে তো আর যেত না।”
ধূসর এক ভ্রু নাঁচাল,
“ আমি বললে রেজাল্ট বদলে যেত?”
“ না,খুশি হতো বেচারি!”
“ আশকারা পেতো। যা বুঝিস না,তা নিয়ে কথা কম বল।”
ইকবাল বলল,
“ এমন করিস কেন তুই? মেয়েটা তোকে কত ভালোবাসে জানিসই তো।”
ধূসরের কপালে কিছু বিরক্তির ভাঁজ ভেসে উঠল এবার। শক্ত হলো গলার স্বর। বলল,
“ ইকবাল,
বয়স কত ওর? ওকে আমি জন্মাতে দেখেছি,ও হওয়ার মিষ্টি অবধি খেয়েছি।”
“ তো সমস্যা কী? এখন ওকে বিয়ে করে বিয়ের মিষ্টিও খাবি।”
ধূসর গরম চোখে চাইতেই বলল,
“ নিজে না খেতে চাইলে অন্যকে খাওয়াবি। একই তো কথা!”
“ তুই আমার সাথে যাবি?”
“ তো কী যাব না? আমি কি গাড়ি এনেছি?”
“ তাহলে কথা কম বলে ওঠ।”
ধূসর উঠল ড্রাইভিং-এ। ইকবাল বিড়বিড় করল,
“ বুঝি তো সব বুঝি। রওনকের কাছে যাচ্ছে,তর যেন সইছে না। বিয়ে করে নে,তাহলেই তো হয়। ওহ ওর একটা বোন আছে,সমন্ধি বানিয়ে ফেল তাহলেও হয়।”
“ মুখ বন্ধ কর নাহলে আজই তোর শেষ দিন হবে।”
ইকবাল আর জিভ নাড়ানোর সাহস পেলো না। পাছে দুম করে ওর এই সুন্দর মুখে একটা ঘুষি মেরে দিলে? মাই লাভ তো আর কোনো ভচকে যাওয়া চেহারার ছেলেকে বিয়ে করতে চাইবে না,তাই না!


রওনকের এক পায়ের গোড়ালি থেকে আঙুল অবধি ব্যান্ডেজে মোড়ানো। যতটা হালকা ভাবে বলেছিল অতটা হালকা ভাবে হয়নি কিছু । বেড রেস্ট নিতে হবে আপাতত দিন পনেরো। মা-বোন সবাই অস্থির এ নিয়ে।
পার্টি অফিস থেকে প্রায় দশজনের মতো এসেছে ওকে দেখতে। খালেদের আজ সংসদে কাজ আছে,আসতে পারেননি। তবে কল করে কথা বলেছেন।
ধূসর বসেছিল বিছানার পাশের চেয়ারটায়। রওনকের ঘর তেমন বড়ো না। সেজন্যে চারজন ভেতরে, আর বাকিরা বসার ঘরে ছিল। মারিয়া চা বানিয়ে মাকে দিয়ে পাঠাল। এত ছেলেপেলে বাড়িতে এলে ও খুব একটা সামনে যায় না! অস্বস্তি হয়।
ইকবাল বলল,
“ তুমি কি রওনক আসমান দেখে হাঁটো? দিন দুপুরে পায়ের ওপর গাড়ি উঠল কী করে?”
মা চা পরিবেশন করছিলেন। বললেন,
“ পায়ে গাড়ি কখন উঠল? তুই না রিকশা থেকে পড়ে গেলি?”
রওনক চোখ বন্ধ করে ফেলল। সবাই তাকাল ওর দিকে। ধূসর সতর্ক গলায় ডাকল,
“ রওনক!”
“ আরে মায়ের কথা কানে নিও না।”
মা বললেন,
“ কেন নেবে না? আমি কি ভুলভাল বকছি? শোনো বাবা,তোমাদের ক মাস আগে যে নির্বাচন গেল না? সেসময় কোন ভূত চাপাতে এ বাইক বেচে দিয়েছিল। তারপর থেকেই কিছু না কিছু ভোগান্তি পোহাচ্ছে।”
“ মা,চুপ করো না।”
“ তুই থাম।”
উনি ধূসরকে বললেন,
“ আচ্ছা বাবারা,তোমরা তো ভালো ঘরের ছেলে। তোমাদের মাথার ওপর ছাদ আছে,বাবা আছেন। ভালো অবস্থাও সবার। কিন্তু ওর তো সেসব নেই। ওকে অন্তত নিজেদের এসব রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে বোঝাও। একটা বোন আছে,বিয়ে দিতে হবে।”
রওনক এবার বেজায় রেগে গেল,
“ মা তুমি থামবে!”
ভদ্রমহিলা আর কথা বললেন না। মুখ ঝামটা মেরে চলে গেলেন বাইরে। ইকবাল দেখল ধূসর চুপ করে গেছে।
রওনক বিব্রত হেসে বলল,
“ মায়ের কথায় কিছু মনে করো না। মা এমনই। ধূসরের বড়ো চাচার কপি-পেস্ট। রাজনীতি একদম পচ্ছন্দ করে না। ইয়ে তোমরা জিলাপি নাও না! মারিয়ার বানানো, একদম হোমমেইড। আমার বোনটা খুব ভালো রান্নাবান্না জানে।”
ধূসর খেতে খেতে কিছু একটা ভাবছিল তখনো। ইকবালের খটকা লাগে। একা একা ভাবে,
“ হতচ্ছাড়াটা আবার সত্যি রওনকের বোনকে বিয়ে করে ফেলবে নাকি! ওরে পিউপিউ…
না না,পিউপিউয়ের ভাই ইকবাল এখনো জীবিত আছে। এসব করতে চাইলে এক কোপে ব্যাটার মাথা কেটে ফেলব না?”
ওরা বাইরে এলো তারপরপরই। রওনক, ওর মা বারবার বললেন,দুপুরে খেয়ে যেতে। কিন্তু এতজনের আয়োজন তো আর মুখের কথা নয়! ইকবাল তাই কাউকে বসতে দিলো না। হূলস্থুল কাজের ছুঁতো দেখিয়ে চটজলদি বেরিয়ে এলো সকলে। ধূসর গাড়িতে বসেও অন্যমনস্ক যেন। ইকবাল ধৈর্য হারিয়ে পেটে গুঁতো দিয়ে ডাকল,
“ এই ব্যাটা,হয়েছে কী?আমি তো মরিনি। তাহলে এত শোক কীসের তোর?”
ধূসর চ সূচক শব্দ করল৷
তাকাল ওর দিকে। হঠাৎ বলল,
“ রওনকের জন্মদিনে কবে জানিস?”
ইকবালের মুখটা গোমড়া হয়ে গেল। মূহুর্তে সামনে ফিরে বলল,
“ না।”
“ এতদিন একসাথে কাজ করেও জানিস না? পার্টি অফিসে তো সবার জন্মদিন সেলিব্রেট করা হয়।”
“ হয়। তো? ফেসবুকে নোটিফিকেশন দেখে উইশ করে দিই। মাথার ব্রেইন খসিয়ে মনে রাখতে যাব কেন?
আমি শুধু আমার,আমার জানের আর এক হতচ্ছাড়ার জন্মদিন মনে রাখি। যত্তসব!”
তারপরই চটক কাটার ন্যায় ফিরে চাইল ইকবাল।
“ এই এই ওয়েট,তুই কি আবার কোনো প্ল্যান-ট্যান করছিস?”
ধূসরের পাতলা ঠোঁট ঘিরে একটা শব্দহীন হাসি দেখা গেল। উত্তর না দিয়ে গাড়ির হুইল ঘোরাল অমনি।


বাড়ি ফিরতে একটু দেরি হলো ধূসরের। আই ফোনে চার্জ নেই,বন্ধ হয়ে গেছে। ইকবালের আলসেমির তোড়ে এত তাড়াহুড়োয় ছিল,অন্য মোবাইলটাও আজ রেখে গেছে রুমে। তাই বাড়িতে কী কী ঘটেছে ও তেমন কিছু জানে না।
পিউয়ের রেজাল্ট দিয়েছিল দুপুর দুটো বাজে। এখন বাজে ৬ টা!
কিন্তু ধূসর বাড়ি ফিরে দেখল,উৎসবের আমেজ বিন্দুমাত্র কমেনি। তবে লোকসংখ্যা কিছু কম কম ঠেকছে। আনিস-সুমনা আর ওনার বাপের বাড়ির কেউ নেই। চলে গেছে বোধ হয়!
রাশেদ,মুত্তালিব সহ শিকদার কর্তাদের শ্বশুর বাড়ির গুটিকতক মানুষজন আছে এখন। কিন্তু সারা বাড়ি মিষ্টিতে ভরা। সন্দেশ,রাজভোগ,কালোজাম,রসগোল্লা থেকে ছানার মিষ্টি আমজাদ সবই তুলে এনেছেন। আফতাব রসমালাই আর দই এনেছেন। দুহাত ভরে বাজার সদাই করেছেন আজমল । সব মিলিয়ে ব্যাপক আয়োজনের রেশ ধরে ধূসর বুঝে ফেলল,পিউয়ের রেজাল্ট ভালো হয়েছে। যখন ওর রেজাল্ট দিতো,বাপ চাচাদের ঠিক এরকম পাগলামিই চলতো তখন।
ওকে দেখতেই আজমল হইহই করে উঠলেন,
“ ধূসর, এসে গেছিস। আয় আয় মিষ্টি খা।”
ও এগিয়ে গিয়ে চাচার পাশে বসল। ভদ্রলোক ডাকলেন,
“ ভাবিই,ধূসরের জন্যে মিষ্টি আনো।”
“ আনছি,আনছি।”
রাদিফ বলল,
“ ভাইয়া জানো, পিউপু ছক্কা মেরে দিয়েছে। একেবারে গোল্ডেন এপ্লাস!”
আজমল ধূসরের কাঁধ চাপড়াতে চাপড়াতে বললেন,
“ পিউ একদম তোর যোগ্য বোন হয়েছে। আগে তুই এরকম রেজাল্ট করতি এখন ও করছে। চাচা হিসেবে এত গর্ব আমি যে কোথায় রাখব! ”
থালা ভরতি নানান রকম মিষ্টির এক এক পিস করে তুলে,ধূসরের সামনে রাখলেন জবা। চেয়ে দেখলেন রাদিফ হাসছে। অমনি বললেন,
“ তুই দাঁত ক্যালাস না। এরকম রেজাল্ট করতে হবে কিন্তু। নাহলে একেবারে ঘাড় ধরে বোর্ডিং এ দিয়ে দেব।”
রাদিফের দাঁতগুলো দপ করে বন্ধ হলো। আমজাদ গমগম করে বললেন,
“ ভালো রেজাল্ট দিয়ে কী হবে আজমল? কিছু হচ্ছে এখন? সেই তো সব গোল্লায় যাচ্ছে তাই না! সাথে আবার কটা বানর সেনা জুটেছে। বানর সেনাদের সেনাপতিও আছে। তার সাথে আবার গলায় গলায় দোস্তি। চলো মিলেমিশে সবাই জাহান্নামে যাই। যত্তসব! ”
কথার মাথায় খোঁচাটুকু বোঝা গেল। আফতাব চোরা মুখে নড়েচড়ে বসলেন। এখন এই ছেলে আবার কোনো বাঁকা উত্তর দিলেই কাজ সাড়াবে। সাড়ুক, ও বদমাইশ ছেলের পক্ষ তিনি এ জীবনে নেবেন না।
কিন্তু না,ধূসর কিছুই বলল না। কানে এসেছে কিনা বোঝাও গেল না এমন ভাবে ফর্ক দিয়ে মিষ্টি কেটে কেটে মুখে তুলল সে।
মাঝে গ্লাসের পানিটা খেতে খেতে চিকণ চোখদুটো ঘুরিয়ে দেখল চারিপাশ। যার রেজাল্ট নিয়ে এত মাতামাতি, সে নেই কেন?
জবা বললেন,
“ একটা খেলি? আর একটা খা। এটা খা,এটা মজা!”
“ মিষ্টি পছন্দ না আমার। তুমি দিলে দেখে খেয়েছি।”
ধূসর ঘরে যেতে যেতে শুনতে পেলো আমজাদের বিড়বিড়ে স্বর,
“ এসব দামি মিষ্টি পছন্দ করবে কেন? পছন্দ করবে পচা বাসি জিনিস। যার মধ্যে মাছি ভনভন করে! হুহ…”
ও পাত্তাই দিলো না। চলে গেল নিজের মতো। আমজাদের রাগটুকু বাড়ল।
ফের গজগজ করে বললেন,
“ দেখলে দেখলে, ভাব দেখলে ওর? আমি ওর বাপেরও বড়ো,আর ও আমাকে পাত্তাই দেয় না।”
আফতাব মাথা নোয়ালেও আজমল বললেন,
“ থাক,থাক না
ভাইজান। বাচ্চা ছেলে!”
“ আজ বিয়ে দিলে কাল বাচ্চা পয়দা করে ফেলবে আজমল। ওর হয়ে এসব ভুজুংভাজুং সাফাই দিও না তো।”
মাগরিবের
আযান দিচ্ছে। ধূসর ঘরে ঢুকতেই যাচ্ছিল,হঠাৎ দেখল ছাদের সিঁড়িতে উঠছে কেউ একজন। কোমরের নিচে লম্বা চুল,আর শরীরী সাইজ দেখেই ধূসরের চেহারা টানটান হয়ে বসল। আরো খেয়াল করতেই বুঝল,
পিউ ছাদে যাচ্ছে। অন্য সময়ের স্নিগ্ধ-চপল হাসিহাসি মুখটা বিষণ্ণ খুব। ও হাতঘড়িতে তাকায়। সন্ধ্যের আযান দিচ্ছে,এই সময় এই গিনিপিগের ছাদে কী কাজ! ধূসর মাথা ঘামাতে চাইল না। সোজা ঘরে ঢুকল নিজের। ফ্রেশ হয়ে বাইরে এসে ডাকল,
“ বড়ো মা,কফি!”
সুদূর রান্নাঘর থেকে উত্তর এলো – পাঠাচ্ছি।
রুমে ফিরতে নিয়েও হঠাৎ ধূসরের চোখ পড়ল পিউয়ের ঘরে। আলো এখনো বন্ধ। এর মানে এখনো নিচে আসেনি?
না চাইতেও ধূসরের পা জোড়া সিঁড়িতে উঠল সহসা। ওপর তলায়ই ছাদ। শহরের বুকে অন্ধকার নেমেছে,আলো জ্বলতে শুরু করছে চারিদিক। মেঝেতে পা রাখতেই ঠান্ডা বাতাস ওর পেটানো শরীর ছুঁয়ে যায়। বিরক্ত চোখ ঘুরিয়ে তাকায় এদিক-ওদিক। ঐ তো, এক কোণে বসে দুই হাঁটুতে মুখ গুজে আছে পিউ। মাথার চুল দুপাশ থেকে পিঠ বেয়ে নেমে ছুয়ে দিচ্ছে ফ্লোর। ধূসর অবাক হলো একটু।
খেয়াল করল পিউয়ের পিঠ কাঁপছে। কাঁদছে কী? ওখানে দাঁড়িয়েই ডাকল,
“ পিউ!”
হিমখণ্ডের মতো স্থির কণ্ঠে নিজের নাম শুনে চকিতে মাথা তুলল পিউ। ডাগর ডাগর চোখজোড়ায় এক প্রস্থ জল দেখে ধূসরের চোখমুখ বদলাল। ত্রস্ত এগিয়ে এসে বলল,
“ কী হয়েছে?”
পিউয়ের চোখের পানি বেড়ে গেল অমনি। নিষ্পলক চেয়ে রইল ধূসরের শ্যামলা মুখের পানে। এমন চমৎকার মানুষটাকে ও হারিয়ে ফেলবে! কেন,চেষ্টায় তো কোনো কমতি ছিল না ওর। ব্যর্থতার পীড়া অশ্রু হয়ে বর্ষার মতো গাল বেয়ে নামতেই চিবুক নুইয়ে ফেলল পিউ। ধূসর অধৈর্য হয়ে বলল,
“ হয়েছেটা কী?”
অমনি প্রচণ্ড কান্নায় ঠোঁট ভেঙে এলো ওর।
হাউমাউ করে বলল,
“ আমি হেরে গেছি!
হেরে গেছি আমি।”
ধূসর বুঝতে না পেরে কিছুক্ষণ বোকার মতো চেয়ে থাকে। একটু ভেবে বলে,
“ রেজাল্ট তো ভালোই হয়েছে শুনলাম! তাহলে?”
পিউ চোখের পানি গালে ফেলল ফের। হেচকি তুলে নলল,
“ পার্সেন্টেজ মাত্র ৮২% এসেছে। আপনার মতো আসেনি। আপনার ধারেকাছেও যেতে পারিনি আমি।”
ধূসরের কপাল গুছিয়ে এলো। দৃষ্টিতে প্রশ্ন!
পিউ কান্নার তোড়ে হড়বড়িয়ে বলল,
“ কত পড়লাম,কত খাটলাম! একটুও ফাঁকিবাজি করিনি। সারাক্ষণ পড়েছি। মন দিয়েই তো পড়েছিলাম। স্বপ্ন দেখেছিলাম, আপনার মতো মার্ক নিয়ে আপনার যোগ্য হব। যাতে আপনি আমাকে ফেরাতে না পারেন। কিন্তু কিছু হলো না , কিচ্ছু না।”
সাই বেগে ছাদের পাঁচিল ছুঁয়ে একটা বাতাস বয়ে গেল। আরো কান্নায় ভেঙে পড়ল পিউ। অথচ উল্টোপাশের মানুষটা যে থমকে চেয়ে রইল এই কথায়, বোকা মেয়ে দেখলোই না!
চলবে… See less

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply