Golpo romantic golpo আলতো ছোঁয়ায় সমুদ্রকথন

আলতো ছোঁয়ায় সমুদ্রকথন পর্ব ১১


#আলতো_ছোঁয়ায়_সমুদ্রকথন___(১১)

#নুসরাত_সুলতানা_সেঁজুতি

ধূসর পিউকে হলে পৌঁছে দিয়ে সোজা নিচে এলো। আর ঠিক সেই সময় মুঠো ফোনের লাইন কাটল ইকবাল। ফোন পাঞ্জাবির পকেটে রাখতে রাখতে বলল,

“ কোথায় গিয়েছিলি?”

“ তোর কথা শেষ হয়েছে?”

“ হ্যাঁ, রওনক ফোন করেছিল। বলল, কাল ওদের বাসায় আমাদের দাওয়াত। সম্পাদক হয়েছে না? সেই খুশিতে।”

“ কী বলেছিস?”

“ আমি ভাই বলে দিয়েছি, আমার কোনো সমস্যা ছিল না, কিন্তু ধূসর যেতে পারবে না। কাল শুক্রবার জুম্মার দিন,ও তো ওর চাচাদের ছাড়া খানাপিনা করে না। আর ধূসর না গেলে,আমি কী করে যাব বলো? তুমি বরং ক্যান্সেল করে দাও।”

ধূসর কপালে ভাঁজ ফেলে বলল,

“ আমি কখন বললাম,আমি যাব না? আশ্চর্য!”

ইকবাল তার চেয়েও অবাক হয়ে দুই ভ্রু উঁচাল,

“ মানে তুই যাবি?”

“ একটা মানুষ ইনভাইট করল,যাব না?”

অমনি ইকবালের মুখ গোমড়া হয়ে গেল। থমথম করে বলল,

“ হ্যাঁ, তা তো যাবিই। রওনক দাওয়াত দিয়েছে যাবি না? নতুন নতুন বন্ধু আপনারা। আর আমি, আমি কে? আমি যখন বলি,ধূসর আমার বাসায় চল,রাতে দুজন পার্টি করব। তখন তোমার কত অজুহাত পয়দা হয়,হুহ!”

ইকবাল আরেকদিক মুখ ফিরিয়ে রাখল। ধূসর চোখ গুছিয়ে বলল,

“ তুই এত ছেলেমানুষ কেন? কীসের মধ্যে কী টেনে আনলি?”

“ আনব না? তুই রওনকের সাথে বন্ধুত্ব করেছিস ভালো কথা। বাসায় যেতে হবে কেন? এত পিরিত দরকার নেই।

কোনদিন দেখব ওকে আমার জায়গাও দিয়ে দিবি।”

ধূসর কণ্ঠস্বর পুরু করে বলল,

“ ইকবাল!

বুঝে কথা বল।”

তারপর হনহনে পায়ে কেন্দ্রের ডান দিকের ভবনের উদ্দেশ্যে হাঁটা ধরল ও। ইকবাল ভারি হতাশ হলো। ওকে মানালো না? একটু বললও না, রওনককে কেন তোর জায়গা দেব? তুই আমার বেস্টফ্রেন্ড, ও শালা কে?

ইকবাল মেয়েদের মতো ভেংচি কাটল। বিড়বিড় করে ভাবল, কাকে দিয়ে কী আশা করি?

তারপর গলা তুলে বলল,

“ ওদিকে কোথায় যাচ্ছিস তুই?”

ধূসর ঘাড় ফিরিয়ে বলল,

“ কোথায় যাচ্ছি মানে! ইফতির স্কুলের সীট তো এদিকে পড়েছে। বোর্ডে দেখলাম। যাবি না ওর কাছে?”

ইকবাল জিভ কেটে মাথা চুলকাল। আমতাআমতা করে বলল,

“ হ্যাঁ মানে ভুলে গেছিলাম। আব,ওর কাছে যাওয়ার দরকার নেই। ও যেই জাউরার হাড্ডি,নিজেরটা নিজে খুঁজে নেবে। কথা হচ্ছে, আমি শুনেছিলাম পিউপিউয়ের স্কুলের সীটও নাকি এখানে পড়েছে। চল,ওর সাথে দেখা করি। আমাদের পরিচয় দিলে , হলে একটু বাচ্চাটাকে স্যাররা ফেবর-টেবর করবে।”

ধূসর ভ্রু নাঁচিয়ে বলল,

“ আচ্ছা,তুই কী করে জানলি ওর সীট এখানে পড়েছে?”

ইকবালের এই উত্তর তৈরিই ছিল। তাই ফটাফট বলল,

“ কাল রাতে ওকে ম্যাসেজ করেছিলাম তো। সব জেনে নিয়েছি। আরে শত হলেও আমার ছোট বোনের মতো। খোঁজ খবর রাখব না? কিন্তু পিউপিউকে এখন কোথায় পাব বল তো। বাইরে তো তেমন কেউ নেই। এক্সাম কী শুরু হয়ে গেছে?”

ইকবাল চোখ তুলে ভবনের সব দিকে দেখল। পরীক্ষা শুরু হয়নি। একেক তলার করিডোরে শিক্ষার্থীরা এখনো হাঁটাহাঁটি করছে। তার মধ্যেই ওর নজর পড়ল কোনো এক দিকে। অমনি চোয়াল শক্ত করে,ধূসরকে ছাপিয়ে সেপথে তড়বড় করে হাঁটা ধরল সহসা।

**

ইফতি বয়েস স্কুলের ছাত্র। তবে পিউয়ের সাথেই পড়ে। বয়সে যদিও এক বছরের বড়ো হবার কথা। কারণ, ইকবালের বাবার বদলির কারণে এখানে এসে এক বছর গ্যাপ পড়ে গেছিল। আজ তো প্রথম পরীক্ষা। সব মিলিয়ে সময় হয়ে এলেও একটু দেরিতে শুরু হবে বোধ হয়। এখনো ইনভিজিলেটরদের দেখা পাওয়া যায়নি। ইফতি আর ওর বন্ধু আশফাক দাঁড়িয়ে ছিল করিডোরের দেওয়াল ঘেঁষে।

ইফতির চোখ পাশের মেয়ে দুটোর ওপর। মেয়ে দুজন নিজেদের মতো কথাবার্তা বলছে। ইফতির দিকে চোখ পড়তেই, হাসল ছেলেটা। হাত নেড়ে বলল,

“ হাই,আম ইফতি।”

“ আমি মিরা।”

“ কোন হলে সীট পড়েছে?”

“ ১৮-ক।”

“ ওহ,ওয়াও। আমাদেরও। এর মানে আমরা তো কাছাকাছি বেঞ্চেই পড়েছি।”

বলতে বলতে ইফতি এগিয়ে এসে দাঁড়াল।

“ ভালোই হলো। পরিচিত হলাম। হেল্প নেয়া যাবে। তোমার ফোন নম্বরটা বলো তো!”

মিরা কিছু তব্দা খেয়ে গেল। হতভম্ব চোখ নেড়ে চাইল তার বন্ধুর পানে। ইফতি পকেট থেকে কলম বের করে হাতের তালুতে ধরল,

“ বলো। আরে এত ভাবার কী আছে? উই আর ব্যাচমেট। আচ্ছা ফোন নম্বর নিয়ে ইস্যু থাকলে ইনস্টা আছে না? নাম বলো।”

কথার মাঝেই আচমকা ইফ্তির এক কান সজোরে টেনে ধরল কেউ একজন। দাঁত চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,

“ শুধু ওর ফোন নম্বর কেন? ওর বাপ-দাদা৷ চৌদ্দ গোষ্ঠির নম্বর নিয়ে নে। তারপর সবাইকে কল দিয়ে দিয়ে সাজেশন চাইবি।”

হঠাৎ আক্রমণে ইফতি হতবাক,বিস্মিত। চোখ ঘুরিয়ে ভাইকে দেখে মুখটা বিবর্ণ হয়ে গেল।

মিরা পরিস্থিতি ভয়ানক বুঝতে পেরে নিজের বন্ধুকে নিয়ে ছুট্টে হলে ঢুকে যায়। আশফাক দাঁড়িয়ে রয় কাচুমাচু মুখে।

ইকবাল কান ধরে টানাটানি করতে করতে বলল,

“ বজ্জাতের বজ্জাত,

পরীক্ষার সময় আল্লাহ-আল্লাহ বাদ দিয়ে মেয়েদের নম্বর টোকা হচ্ছে!”

ইফতি ব্যথায় নুইয়ে গেল। আর্তনাদ করে বলল,

“ সরি ভাইয়া,সরি। আমি তো সাজেশনের জন্যে চাইছিলাম। ছাড়ো ভাইয়া প্লিজ!”

ধূসর এসে হাতটা সরিয়ে দিলো।

“ ছাড়,সবাই দেখছে।”

ছাড়ল ইকবাল। পাঞ্জাবি ঝেরেঝুরে মাথা ঠান্ডা করল। পরপরই চোখ পাকিয়ে বলল,

“ সোজা গিয়ে বেঞ্চে বস। যা…!”

ভদ্র ছেলের মতো নতজানু হয়ে চলে গেল ইফতি। আশফাক দাঁড়িয়ে ছিল হাঁ করে। ইকবাল খ্যাক করে বলল,

“ তোকে কি যাওয়ার জন্য ইমেইল করতে হবে? যা ভাগ।” থতমত খেয়ে ছুটে গেল ছেলেটা। ইকবাল কটমটিয়ে বলল,

“ ফের যদি এসব দেখি,একবারে মেরে তক্তা বানিয়ে দেব।”

ধূসর বলল,

“ শান্ত হ। এটা পাব্লিক প্লেস।”

“ ভাই মাথাটা আমার গরম হয়ে গেছে। আমি ওর বয়সে মেয়েদের সাথে কথাও বলতে পারতাম না। তোর মনে আছে,একবার ক্লাসে এক মেয়ে আমার কাছে নোটস চাইতে এসছিল আর আমি নার্ভাস হয়ে উল্টোঘুরে দৌড় লাগিয়েছিলাম? আর এই ব্যাটাকে দ্যাখ, ও এই বয়সে ৭/৮টা প্রেম করে ফেলেছে জানিস। সেদিন একটা দরকারে ওর ফোন নিয়েছিলাম,ভাই বিশ্বাস করবি না ম্যাসেজের টুংটুং শব্দে আমার কান পচে গেছিল। সব মেয়েদের টেক্সট। সাদিয়া,রাদিয়া,পাদিয়া,হাদিয়া…. এত্ত চুলপাকনা কেন এগুলো?”

ইকবাল নিজের কথায় নিজেই আবার থতমত খেলো। মূহুর্তে সুর বদলে বলল,

“ তবে সবাই যে খারাপ তাও কিন্তু না। কেউ কেউ খুব ভালো, ভদ্রও আছে। এই যে আমাদের পিউপিউ, কত মিষ্টি একটা মেয়ে!”

ধূসর সরু চোখে বলল,

“ এর মধ্যে পিউ এলো কেন?”

“ না মানে ঐ আসলে আমার তো কোনো ছোটো বোন নেই। ওর মাঝেই একটা বোন খুঁজে পাই। খুব ভালো লাগে পিউকে!”

“ শুধু পিউকে ভালো লাগে কেন? পুষ্পও আছে। ছোটো বোন হিসেবে ওকেও তোর ভালো লাগা উচিত।”

সহসা খুকখুক করে কেশে উঠল ইকবাল। গলা বসে যাওয়ার মতো আওয়াজ বের করে বলল,

“ ওকেও ভালো লাগে!”

ধূসর চারপাশ দেখতে দেখতে ঠোঁটের তলায় হাসি চাপা দিলো। ইকবাল মনে পড়েছে এমন ভাবে বলল,

“ আচ্ছা,পিউপিউ তোকে আর চিঠি টিঠি দেয় না?”

“ তা দিয়ে তোর কোনো কাজ?”

“ একটু জানতে চাইলাম আরকি। মেয়েটা যা পছন্দ করে তোকে! দেখতেও কত সুন্দর তাই না?”

ধূসর নিষ্প্রভ আওড়াল,

“ জানি না। আমি ওকে খেয়াল করে দেখিনি।”

ইকবাল আহাম্মক বনে বলল,

“ কীইইই?এক বাড়িতে থেকেও ওকে তুই কেমন দেখতে দেখিসনি?”

“ না। হুট করে সামনে এলে যতটুক চোখ পড়ে ততটুকু। এর বেশি তাকানোর প্রয়োজন মনে করিনি। বাট আই থিংক ও ইদানীং আমার পারফিউম ইউজ করছে।”

“ কী করে বুঝলি?”

ধূসর আজকের কথা বলল না। হঠাৎ টেনে আনায় পিউ যে ওর বুকে এসে পড়েছিল,আড়াল করল সেটুকু। ইকবাল নিজেই বলল,

“ তাহলে তো বোঝাই যায় ওর তোর প্রতি কত ভালোবাসা!”

“ ভালোবাসা? তুই না বলেছিলি ইটস ফ্যাসিনেশন?”

“ আব,হ্যাঁ। ফ্যাসিনেশন থেকেই তো ভালোবাসা হয়। শিয়র হওয়ার জন্যে একবার ট্রাই করে দ্যাখ।”

ধূসর শক্ত গলায় বলল,

“ শী ইজ মাই কাজিন।”

“ সো হোয়াট? কাজিনে কাজিনে কি প্রেম হয় না?”

“ ইকবাল শাটাপ। অইটুকু মেয়ে, সাইজে একটা পুচকে কাঠবিড়ালি,তার সাথে আবার কীসের প্রেম! তোর কাজ হয়েছে? হয়ে গেলে চল।”

ইকবাল ঠোঁট উল্টাল। গাল চুলকাতে চুলকাতে আচমকা চোখ পড়ল ধূসরের বুকের ওপর। ওর পরনে ক্রিউ নেকের কালো সোয়েটার ছিল। ইকবাল সতর্ক গলায় বলল,

“ এই তোর সোয়েটারে এটা কী?”

ধূসর মাথা নুইয়ে চাইল। বুকের কাছে সোয়েটারের উলের সাথে একটা কানের দুলের ঝুলন গেঁথে আছে। ইকবাল হায়হায় করে বলল,

“ ইইইই এটাতো মেয়েদের জিনিস? তুই এর মধ্যে কার সাথে আবার নষ্টামি করে এলি?”

ধূসর রেগে বলল,

“ চুপ, এটা ওর।”

“ ওর মানে কার?”

ধূসর উল থেকে দুল ছাড়াতে ছাড়াতে বলল,

“ পুচকে কাঠবিড়ালিটার।”

****

মারিয়াদের বাড়িতে আজ আয়োজন। রওনক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার খুশিতে তার কাছের কয়েকজনকে নিমন্ত্রণ করে খাওয়াচ্ছে। খালেদও আসবেন। আগেও অনেকবার খাইয়েছে এভাবে। তবে আজ সেখানে প্রথম বার জায়গা পেয়েছে ধূসর। ইকবাল মিছিমিছি গাইগুই করলেও,সত্যিকারের মানা করেনি।

ভোর থেকে মারিয়া মায়ের সাথে রান্নাবান্নায় ব্যস্ত ছিল। পাশের ফ্ল্যাটের জলি ভাবিও এসে কাজবাজে হাত লাগিয়েছেন। কত পদের রান্নাবান্না! মশলার গোছগাছ রাতেই করা ছিল। অন্তত ১০-১২ জন আসবে খেতে। মারিয়া খাবার টেবিলে বড়ো ক্লথটা বিছানোর মাঝেই মা এসে বললেন,

“ হ্যাঁ রে,ডিম সেদ্ধ করে কোথায় রেখেছিলি?”

“ ডিম,ডিম তো ফ্রিজে ছিল না মা।”

“ ওমা,তো রওনক যে বলেছিল কোরমা বানাতে। ডিম নেই ওকে বলেছিস?”

মারিয়া কপালে চর মারল।

“ এই রে,কাজের প্রেসারে ভুলে গেছি। আমি গিয়ে নিয়ে আসব? ওনারা তো তো নামাজের পর আসবে। সময় আছে।”

“ যা যা তাড়াতাড়ি যা।”

মা আঁচলের গিট থেকে টাকা বের করে দিতেই,পায়ে চটি পরে ওইভাবেই ছুটল মারিয়া। কিন্তু এলাকার একটা দোকানও খোলা নেই। নামাজের সময় হয়ে এসছে তো! মারিয়া পা চালাল পাশের এরিয়ার দোকানে যেতে। ওটা খোলা এখনো। এক ঝাঁপ নামালেও,আরেক পাশ উন্মুক্ত দেখে মেয়েটা দৌড়ে গিয়ে বলল,

“ ভাইয়া,এক ডজন ডিম দাও তো।”

দোকানের আসল লোক নেই। ১২-১৩ বছরের এক কিশোর বসে ছিল। ডিমের ক্রেচ সামনে রাখা। ছেলেটা পলি দিয়ে বলল,

“ আপু,তুলে নেন।”

মারিয়া পলিতে ডিম ভরার মাঝেই, হঠাৎ আরেকজন হাজির হলো সেখানে। ব্যস্ত স্বরে বলল,

“ ফাইনালি একটা দোকান খোলা পেলাম। ছোটো ভাই, একটা ম্যাংগো শেক। আর দুটো চিপ্স।”

কণ্ঠস্বর শুনে চটক কাটার মতো ফিরল মারিয়া। মুখটা থমকে বসল অমনি। সাদিফকে দেখেই বলল,

“ আপনি!”

সাদিফ চাইল ঘুরে। অবাক হয়ে বলল,

“ ইউউউউ! ম্যালেরিয়া,

এখানেও?”

মারিয়া মাথা ঝাঁকিয়ে বলল,

“ নাটক? আপনি আমাকে ফলো করছেন,তাই না?”

সাদিফ বিস্ময়ের চোটে হেসে ফেলল। নাকের ডগা থেকে চশমা ঠেলে বলল,

“ কোন হে রূপবতী শশীলতা আপনি? আপনাকে ফলো করব কোন দুঃখে? আমার রুচি অত খারাপ নয়। নিজেকে কি বিশ্বসুন্দরী ভাবেন ?”

“ কেন,আপনার মতো সাদা মূলা নাহলে নিজেকে সুন্দর ভাবা যাবে না,এমন কোথাও লেখা আছে?”

সাদিফ নাক ফুলিয়ে বলল,

“ খবরদার আমাকে এসব বাজে নামে ডাকবেন না।”

“ একশোবার ডাকব। চোখ পাকাচ্ছেন কাকে? এটা আমার এলাকা। একবার যাস্ট আমার ভাইকে ডাকব, মেরে হাড়গোড়ের জুস বানিয়ে দেবে।”

“ ও বাবা,আমি তো খুব ভয় পেয়ে গেলাম। আর আমি বসে বসে আঙুল চুষব তাই না?

দু ভাইবোনকে একসাথে গাছে বেঁধে পেটাব বুঝেছেন?”

মারিয়া আঙুল তুলে বলল,

“ শুনুন,আমার ভাইয়াকে নিয়ে একটাও বাজে কথা না,ওকে।”

“ বলব,কী করবেন?”

“ আমি, আমি ভাইয়াকে এক্ষুনি ফোন করছি দাঁড়ান।”

মারিয়ার হাতে চকচকে হ্যান্ডসেট নেই। পুরানো এ্যাণ্ড্রয়েড একটা। হিঁসহিঁস করতে করতে বাটন টিপতে গেল,ফোন হ্যাং করল অমনি। স্ক্রিন নড়ল-চড়ল না দেখে হেসে ফেলল সাদিফ। বিদ্রুপ করে বলল,

“ হাহাহহা,এই ভাঙারি নিয়ে আবার এত তেজ!”

দোকানের ছেলেটা গোলগোল চোখে ওদেরকে দেখছে। মাঝে একবার বলল,

“ আপা ডিম নিবেন না?”

মারিয়ার ওতে কান নেই। সাদিফের গা জ্বালানো হাসিতে কিড়মিড় করে বলল,

“ ব্লাডি ইডিয়ট!”

“ এইত, শুধুমাত্র আপনার এই ব্যবহারের জন্যেই কপাল থেকে চাকরিটা খুইয়েছেন। এরপরেও আমার সঙ্গে লাগতে আসছেন কোন সাহসে?”

মারিয়া নিভল কিছু, জিজ্ঞেস করল,

“ মানে! আমার চাকরিরর সাথে আপনার কী সম্পর্ক?”

সাদিফ হাসল,বলল না কিছু। হাত নেড়ে এমন ভাব করল,যেন ওকে পাত্তাই দেয় না। মারিয়া নিজেই ভাবনায় হাবুডুবু খায়। বুদ্ধির ডুবন্ত নৌকা উদ্ধার করতেই সচকিতে বলে,

“ ওয়েট ওয়েট, কোনোভাবে কি আপনি আমার চাকরিতে কোনো কারসাজি করেছেন?”

সাদিফ গর্ব করে বলল,

“ অভ্যিয়েস্লি। ওটা আমার বন্ধুর অফিস ম্যালেরিয়া। সেখানে জেনেবুঝে আপনার মতো একটা বেয়াদব মেয়েকে আমি কাজ পেতে দেব?”

মারিয়া নিস্তব্ধ হয়ে চেয়ে রইল। মাথায় দাউদাউ করে আগুন জ্বলল পরপর। ফোসফোস করে চারপাশে চেয়ে বলল,

“ আপনাকে আমি…,আপনাকে আমি কী দিয়ে মারব?”

এদিকে ওদিকে চেয়ে অস্ত্র খুঁজল ও। তক্ষুনি এক বিস্ময়কর কাণ্ড ঘটাল সাদিফ। ক্রেচ থেকে একটা ডিম তুলেই মারিয়ার মাথায় ভেঙে দিলো। চমকে,থমকে যায় মেয়েটা। ডিম ফেটে কুসুম সহ সব গড়িয়ে চুলের সাথে মুখ মেখে দেয়। দোকানের ছেলেটা দুইহাত নিজের মাথায় দিয়ে বলল,

“ ও মাইগড!”

মারিয়ার কিংকর্তব্যবিমুঢ় চাউনিতে চেয়ে পৈশাচিক হাসল সাদিফ। কপাল ঝুঁকিয়ে এনে বলল,

“ মিস ম্যালেরিয়া আপনি ভাবতে থাকুন, আমাকে কী দিয়ে মারবেন? আপাতত আমি যাই তাহলে? বাই বাই!”

চশমাটা ফের নাকের ডগা থেকে ঠেলে,সিটি বাজাতে বাজাতে দুই হাত পকেটে গুজে চলে গেল সাদিফ। ম্যাংগো শেক নেয়নি। মারিয়া ডিম মাখা শরীরটা নিয়ে চিড়বিড় করে উঠল। দাঁতমুখ খিচে বলল,

“ আপনার দুঃসময় ঘনিয়ে এসেছে। এর শোধ আমি যদি না নেই,আমার নাম…”

দোকানের ছেলেটা কথা কেড়ে নিয়ে বলল,

“ ম্যালেরিয়া না।”

মারিয়ার সব রাগ পড়ল ওর ওপর। চ্যাঁচিয়ে ধমকাল,

“ চুপ বেয়াদব।”

***

সুমনার ছবি শিকদার বাড়ির কোণায় কোণায় পৌঁছে গিয়েছে। দেখতে-শুনতে ভারি সুন্দর তিনি। গায়ের রং-ও মিনার মতো চকচকে। এ বাড়ির বাকি তিন বউয়ের মধ্যে ভদ্রমহিলা বেশি সুন্দরী বলা যায়। সুমনাকে দেখে আমজাদ সাহেব হতে শুরু করে রাদিফেরও ভীষণ পছন্দ হয়ে গেল। মেয়েটাকে ছোটো চাচি বানানোর আনন্দে মরিয়া হয়ে উঠল তারা।

সুমনা বনানী থাকেন,ভাইয়ের বাসায়। পড়াশোনার তাগিদে গ্রামের বাড়ি ফেলে ঢাকায় আসা। এরপর চাকরি,বাকরি সবই এখানে। আমজাদ সব খোঁজ নিয়েছেন। ওনারাও পাত্র খুঁজছে। এখন কেবল আনিসের মতামত জানা বাকি!

আনিস উকিল মানুষ, ভারি ব্যস্ত থাকেন সারাদিন। মাঝেমধ্যে আবার কাজ নেই, ব্যস্ততাও নেই। আজকেও রাত করে ফিরলেন। ফ্রেশ হয়ে বের হতেই দেখলেন,তিন ভাবি মিলে ভূতের মতো দাঁড়িয়ে আছে সামনে। সবাই কেমন পাথুরে মুখচোখ নিয়ে চেয়ে। ভদ্রলোক ভড়কে গেলেন একটু। রয়েসয়ে বললেন,

“ আমি,আমি কি কিছু করেছি?”

তিন মায়ের দুপাশ থেকে খরগোশের মতো লাফ দিয়ে পিউ-পুষ্প বের হলো অমনি ।

স্ফূর্ত চিত্তে বলল

“ চাচ্চু সারপ্রাইজ!”

আনিস কিছুই বুঝলেন না। জবা এগিয়ে এসে হাত টেনে খাটের ওপর বসালেন। মুখের সামনে ফোনের স্ক্রিন ধরল পুষ্প।

মিনা বললেন,

“ দেখো দেখি,কেমন দেখতে?”

আনিস হতবুদ্ধি চোখটা ক বার ঝাপটে তাকালেন সেথায়। ঘাড়ে ঝুলন্ত খোপা করা,কাঁধে কালো ব্যাগ, পরনে সুতির শাড়ির আঁচল দু ভাঁজ করে কাঁধে তোলা,হাতে কালো বেল্টের ঘড়ি পরা মেয়েটিকে দেখে বললেন,

“ ভালোই তো।”

পিউ মাথা ঝুঁকিয়ে এনে বলল,

“ চাচ্চু,এর মানে তোমার পছন্দ হয়েছে?”

আনিস তাকালেন রুবায়দার পানে। ভদ্রমহিলা মিটিমিটি হাসছেন। বললেন,

“ এভাবে তাকিয়ে লাভ নেই। আমরা আমাদের দলে লোক বাড়াতে যাচ্ছি। দেখে বলো,তুমি বলির পাঠা হতে রাজি আছো কিনা!”

আনিস এতক্ষণে বুঝলেন। এই তাহলে সেই মেয়ে! এবার তাকালেন ভালো করে। কপাল কুঁচকে বললেন,

“ বয়সটা কম না? ধূসরের বয়সি হবে মনে হচ্ছে।”

মিনা টান মেরে ফোন নিয়ে গেলেন।

“ চোখে ন্যাবা হয়েছে তোমার? মেয়ের বয়স ঠিকই আছে। ২৯+…

বিয়ে থা করেনি, ওর বড়ো ভাইয়ের একটা ছেলে আছে। চার বছরের রেখে মা ক্যান্সারে মারা গিয়েছিল। মেয়ে সেই বাচ্চা দেখাশোনা করতো। আবার নিজেও পড়ালেখা করেছে। সে ছেলে এখন পুষ্পর বয়সি। ভাই আবার বিয়ে করেছে দেড় বছর হবে। বোনের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে তাই সবাই মিলে বুঝিয়েশুনিয়ে এখন বিয়ে দিতে চাইছে। বুঝলে, এই হলো কাহিনী।”

“ ওহ, ভারি সাংসারিক মেয়ে তাহলে।”

“ সে আর বলতে! কী আচার ব্যবহার, মুগ্ধ করার মতো। যাক গে,তোমার আপত্তি যখন নেই তাহলে কথা এগোতে বলি।”

আনিস চুপ করে রইলেন। পুষ্প বলল,

“ আম্মু তাহলে কাল কখন আসবে ওনারা?”

ভদ্রলোক অবাক হয়ে বললেন,

“ কাল আসবে নাকি!”

“ জি,তোমার ভাইজান দাওয়াত দিয়েছেন। সুমনাকে নিয়ে ওর ভাই,ভাবি আসবে। কাল কিন্তু ওসব কোর্ট ফোর্ট যাওয়া চলবে না ভাইটি।”

আনিস ভদ্রের মতো মাথা কাত করলেন। রুবা বললেন,

“ আপা চলো,নিচে কত কাজ এখন!”

“ হ্যাঁ হ্যাঁ চল…”

তিন জা ফের দলবেঁধে বেরিয়ে যান। পুষ্প যাওয়ার আগে মায়ের ফোনটা চাচার হাতে দিয়ে বলে,

“ চাচ্চু নাও,এবার একা একা দেখো।”

সবাই যাওয়ার পর আনিস স্ক্রিনে চাইলেন ফের। সুমনার পরিপাটি মুখটায় আঙুল বুলিয়ে আনমনে বললেন,

“ রুমানা!”

পাশ থেকে কেউ কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,

“ রুমানা না চাচ্চু,সুমনা।”

“ ও আচ্ছ–”

চকিতে ঘাড় ভেঙে চাইলেন আনিস। পিউকে দেখেই ধড়ফড়িয়ে উঠে বললেন,

“ তুমি যাওনি?”

“ না চাচ্চু,তুমি ছোটো মাকে কীরকম প্রেম প্রেম নজরে দেখছিলে সেটা দেখার জন্যে বসেছিলাম।”

“ তবে রে পাকা মেয়ে!”

আনিস তেড়ে আসতেই খিলখিল করে হেসে ছুট লাগাল পিউ। ভদ্রলোক দরজা অবধি এসে থেমে গেলেন। হেসে, ছিটকিনিটা তুলে দিয়ে ফিরে গিয়ে বসলেন আগের জায়গায়। কিন্তু পিউ,পেছনে চেয়ে ছুটতে গিয়ে একটা শক্ত পিলারে ধাক্কা খেল। এক ঝটকায় পায়ের গোড়ালি উল্টে থুবড়ে পড়ল নিচে। ওদিকে সাদিফের চশমা ছিটকে গেছে। ঝাপসা দেখতে দেখতে ফ্লোরে দুইহাত দিয়ে হাতাল ও।

পেলো, ত্রস্ত গতিতে আবার চোখে পড়ল। অমনি স্পষ্ট হলো সব্ব। দেখল শুকনো পাতার মতো মেঝেতে লেপ্টে পায়ের গোড়ালি ধরে ককাচ্ছে পিউ। জিভ কেটে দ্রুত ছুটে গেল ছেলেটা।

“ আরে পিউ,তুই ছিলি?

দেখে চলবি না? দেশে এক সরকার বদলে আরেক সরকার এলো,কিন্তু তোর কোনো উন্নতি হলো না।”

পিউ ব্যথায় চোখমুখ খিচে বলল,

“ আমার পা বোধ হয় ভেঙে গেল সাদিফ ভাই। আমার হাড়গোড় বোধ হয় আর আস্ত নেই।”

“ আরে,কিছু হয়নি। ওঠ, দেখি হাতটা ধরে ওঠ।”

সাদিফ ওকে টেনে তুলতে গেলে,পিউ আরো ব্যথা পায়। চিৎকার করতে গিয়েও থেমে যায় কী ভেবে। সাদিফ বেতের চেয়ারটা পা দিয়ে টেনে এনে বসাল ওকে। ঠোঁট মেলে ডাকতে গেল,

“ বড়ো ম…”

পিউ আঁতকে বলল,

“ ডেকো না ডেকো না। এসে, পড়ার জন্যে আমাকেই মারবে। বলবে,তোকে খাওয়াই না? তাহলে পড়ে গেলি কেন? এজন্যেই তো এত ব্যথা পেয়েও কাঁদতে পারছি না। আহ,পা-টা গেছে আমার। উফ…”

“ আচ্ছা,তাহলে তুই বোস। আমি বরফ নিয়ে আসছি।”

আনিসের ঘর ছিল দোতলায়। দুপাশে মোট চারটে রুমের মাঝে একটা ফাঁকা জায়গা। ছাদ খোলা বারান্দা,দুটো চেয়ার দিয়ে বসানো টেবিল, কিছু ইনডোর প্ল্যান্ট,আর একটা একোরিয়াম রাখা। সাদিফ উঠে গেল তিন তলায়,নিজের রুমে। ওখানেও ফ্রিজ আছে।

ও যাওয়ার পরপরই নিচ তলার সিঁড়ি বেয়ে উঠে এলো ধূসর। অমনি কানে এলো কারো চাপা কণ্ঠে গোঙানোর শব্দ। ঘরের পথে বাড়ানো পা ফিরিয়ে কৌতূলে ঘুরে চাইল সে।

চেয়ারে পিঠ ফিরিয়ে বসে, কেউ একজন পা চেপে আহা-উহু করছে। পরনে পাজামা সেট। গোড়ালি থেকে তুলে রাখা প্যান্টের ফাঁক গলে বেরিয়ে থাকা পা-টা মোমের মতো সুন্দর।

ধূসর কপালে ভাঁজ ফেলে এগিয়ে এলো। দেখতে পেল পিউকে। মেয়েটার হুশ নেই। চেয়ারে মাথা হেলে, চোখ বুজে ঘাড়টা এপাশ-ওপাশ করছে। এক হাত দিয়ে টেবিলে তোলা পায়ের গোড়ালি চেপে ধরা। খুব আস্তে আস্তে বলছে,

“ মাগো,কী ব্যথা! আব্বু… “

তক্ষুনি কানে এলো সেই জলদগম্ভীর স্বর,

“ কী হয়েছে?”

তড়াক করে চোখ মেলল পিউ। মুখোমুখি ধূসরকে দেখে হোচট খেল একটু। দেওয়ালে লাগানো বাল্বের আলোটা অবধি ঢেকে গেছে বলিষ্ঠ দেহের আড়ালে পড়ে। পিউ চট করে দাঁড়াতে গেল,পায়ে টান পড়ল আবার। ওমাগো বলে ধপ করে বসে পড়ল অমনি।

সেসময়ই নেমে এলো সাদিফ। হাতে বরফের ট্রে। উদ্বেগ নিয়ে বলল,

“ এইত এনেছি,এবার ঠিক হয়ে যাবে।”

ধূসর বলল,

“ হয়েছেটা কী?”

“ আরে আর বলো না। পিউ এত্ত ছোটাছুটি করে না! আমাকে একটু আগে পুষ্প গিয়ে বলল,ছোটো চাচ্চুর ঘরে আসতে। আমি হাতের কাজ শেষ করে আসছিলামই,কে জানতো এই মহীয়সী নারী ঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে আসবে? একটা ধাক্কা লাগল,আর ব্যস এই অবস্থা!”

ধূসর ফোস করে শ্বাস ফেলে বিড়বিড় করল,

“ As expected!”

পিউ শুনতে পেলো। মিনমিনিয়ে বলল,

“ আমি কি জানতাম সাদিফ ভাইয়াও এই সময় আসবে? ব্যথা তো আমিই পেয়েছি তাই না!”

সাদিফ বরফ লাগাতে গেলে ধূসর বাধ সাধল।

“ এসব লাগবে না।”

“ কেন,

তাহলে ব্যথা কমবে কী করে?”

পিউ ভাবল অন্যকিছু। মূহুর্তে হাঁসফাঁস করে বলল,

“ আমাকে হয়ত সত্যিই হাসপাতালে নিতে হবে। মনে হয় আর বাঁচব না। পা-টা কি কেটে ফেলতে হবে? হায় আল্লাহ,আমাকে কে বিয়ে করবে তাহলে?”

সাদিফ অত্যাশ্চর্য হয়ে বলল,

“ বিয়ে,এই বয়সে বিয়ের কথা ভাবছিস পিউ!”

পিউ লজ্জায় ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল। প্রসঙ্গ কাটাতে যা ব্যথা পেয়েছে তার চেয়েও উহু-আহা করল বেশি। ধূসর হাঁটুমুড়ে সামনে বসল আচমকা। তুরন্ত চমকের তোড়ে থমকে গেল মেয়েটা। চাইল বিহ্বল নয়নে। ধূসর ওর দিকে তাকায় না। চুপচাপ টেবিল থেকে পেলব পা-টা দুইহাতে ধরে নিজের কোলের ওপর আনল। পিউ যন্ত্রণায় মুচড়ে বলল,

“ আয়ায়া,লাগছে! লাগছে!”

ধূসর কথায় কান দিলে তো!

এক হাত গোড়ালির নিচে রেখে,আরেক হাত পায়ের আঙুলে রাখল ও। পিউ লাগছে লাগছে করার মাঝেই ফটাকসে উল্টোদিকে মোচড় দিলো একটা। খট করে ওঠা শব্দে মেয়ে ভাবল,ওর হাড় শেষ। চোখ খিচে আয়া বলে, ধূসরের এক পাশের কাঁধে খামচে ধরল অমনি। সাদিফ নিজেও বিড়বিড়িয়ে বলল,

“ গেছে গেছে, ভেঙে গেছে মনে হয়!”

এরপর সব শান্ত, নীরব। কোনো আওয়াজ না পেয়ে পিটপিট করে চোখ মেলল পিউ। এদিকে-ওদিকে মনিজোড়া ঘুরিয়ে পা নাড়ল,দেখল ব্যথা নেই। মূহূর্তে উজ্জ্বল মুখে অবিশ্বাস এনে ধূসরের পানে চাইল সে। মানুষটার নজর তখন অন্য কোথাও। প্রস্তর ললাটে তিন খানা ভাঁজ নিয়ে নিজের কাঁধের দিকে দেখছে সে। যেখানে খামচে ধরেছিল পিউ। খেয়াল পড়তেই তড়িৎ হাত সরিয়ে নিলো মেয়েটা। ধূসর উঠে দাঁড়াল এবার।

পিউ নিজেও দাঁড়িয়ে যায়। দুইদিকে পা নেড়ে খুশি হয়ে বলল,

“ ওমাইগড একটুও ব্যথা নেই। ধূসর ভাই,আপনি বুঝি ডাক্তার?”

সাদিফটাও সমান তাজ্জব। এক মোচড়ে ব্যথা কমে কীভাবে?

ধূসর ওই হাসিহাসি প্রশ্নের বিপরীতে জানাল,

“ না,কসাই।”

তারপর তিনতলার সিঁড়ি ধরল সে। পিউ মুখে একটা আঙুল দিয়ে দুইপাশে দুলে দুলে হাসল। মনে মনে বলল

“ আপনি কসাই হলে,আমি মাংস হতেও রাজি!”

সাদিফ মাথার পেছনে ছোট্ট করে চড় মেরে বলল,

“ কী রে,ভাইয়া এটা কেন বলল?”

পিউ জিজ্ঞেস করল অন্য কিছু।

“ আচ্ছা ভাইয়া তুমি কখনো প্রেমে পড়েছ?”

সাদিফ নাকমুখ কুঁচকে বলল,

“ নাহ।”

“ ওমা সে কি! তোমাকে কেউ কখনো পছন্দ করেনি?”

“ করবে না কেন? কিন্তু আমার বাইরের কাউকে ভালো লাগে না। দুদিন দেখে কি কাউকে চেনা যায়? আশেপাশে যাকেই দেখি সেই ম্মেয়ে প্রতারক। কোনো কমিটমেন্ট নেই,লয়্যালিটি নেই। এদের বিয়ে করে মন ভাঙব কেন? এর চেয়ে চেনাজানা কাউকে বিয়ে করব। ব্যস! ঝামেলা মুক্ত।”

সাদিফ কথা শেষ করে চলে গেল। পিউ চোখ ঝাপটে বিড়বিড় করল,

“ চেনাজানা মেয়ে? তা আবার কোথায় পাবে?

চলবে…

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply