Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৭৮


[পর্ব ৭৮]

#লেখিকা_ফারহানা_নিঝুম

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)

(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)

[দ্বিতীয় খন্ড]

সিগারেটের ধোঁয়ার আবরণে ধীরে ধীরে ভারী হয়ে উঠেছে সমগ্র কক্ষের অভ্যন্তর। অথচ সেই বিষণ্ণ ধোঁয়াশার মাঝেও নির্বিকার বসে আছে আফরিদ এহসান মাফিয়া সাম্রাজ্যের অধিপতি, যার কাছে পৃথিবীর কোনো নিয়মই যেন প্রযোজ্য নয়।

কক্ষে একজন নারী উপস্থিত, তবুও তার ভ্রুক্ষেপ নেই। কারণ এই নারী আর দশজনের মতো নয়। এই নারী তার অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একমাত্র মানুষ তার পরাণ, তার অ্যাঞ্জেলিনা।

ন্যান্সি বিরক্তি মিশ্রিত অসহায় কণ্ঠে বলল,

“সিগারেটটা অন্তত ফেলে দিন। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।”

কিন্তু আফরিদ যেন শুনেও শুনল না। ঠোঁটের কোণে জ্বলন্ত সিগারেট, দৃষ্টিতে অদ্ভুত এক শূন্যতা।

ধোঁয়ার কুণ্ডলী এসে বারবার ন্যান্সির মুখে আ’ঘাত করছিল। বিরক্তিতে মুখ কুঁচকে নিল সে।

অবশেষে সিগারেটের শেষ অংশটুকু নিভিয়ে ধীর ভঙ্গিতে আলতোভাবে ন্যান্সির অধর পল্লব ছুঁয়ে দিল। ক্ষণ স্থায়ী স্পর্শে বরফখণ্ডের ন্যায় জমে গেল তার হৃদয়। অলস ভঙ্গিতে উঠে দাঁড়াল আফরিদ। সিগারেটের বিদঘুটে গন্ধ আর ওষ্ঠের অদ্ভুত স্বাদ আস্বাদন করতেই পেটের ভেতরটা গুড়গুড় করে উঠল ন্যান্সির!সেই সাথে কপাল উদ্ভাসিত হলো ভাঁজ।

সঙ্গে সঙ্গে ন্যান্সি নিজের অস্বস্তি আড়াল করতে ওড়নাটা গুছিয়ে নিল। লজ্জা আর বিরক্তির অদ্ভুত মিশ্র অনুভূতি তার মুখজুড়ে স্পষ্ট।

সে দ্রুত কক্ষ ত্যাগ করতে উদ্যত হতেই আচমকা থমকে গেল। না, নিজে থেকে নয়। পেছন থেকে তার হাত আটকে দিয়েছে আফরিদ।

ন্যান্সি তার দিকে না তাকিয়েই কঠিন স্বরে বলল,

“ছাড়ুন। আমার রুমে যাব।”

কিন্তু আফরিদের হাতের বন্ধন শিথিল হলো না।বরং কয়েক পা এগিয়ে এসে তাকে দরজার কাছে থামিয়ে দিল। তারপর অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দরজার লক ব্যবস্থার পরিবর্তন করে দিল সে। ন্যান্সি বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকাল।

আফরিদের কণ্ঠ এবার আশ্চর্যরকম শান্ত।

“এখানেই থাক।”

ন্যান্সির গলা শুকিয়ে এলো।

“ছাড়ুন আমাকে। আমি গিয়ে সব ঠিক করে নেব।”

আফরিদ আগের মতোই স্থির স্বরে বলল,

“বললাম তো, এখানেই থাক।”

ন্যান্সি এবার মুখ তুলে তাকাল তার দিকে।

সেই পরিচিত নীল চোখের গভীরতায় এমন কিছু ছিল, যা প্রতিবারের মতো এবারও তার দৃঢ়তাকে দুর্বল করে দিতে চাইল। তবুও দ্রুত দৃষ্টি সরিয়ে নিল সে।

“না। আমাকে যেতে দিন। আমি আমার রুমেই যাব।”

অবিশ্বাস্যভাবে আফরিদ এবার কোনো প্রতিবাদ করল না। নীরবে সরে দাঁড়াল।তার এই অপ্রত্যাশিত বাধ্যতা ন্যান্সিকে মুহূর্তের জন্য হতবাক করে দিল। এই মানুষটি এত সহজে তার কথা মেনে নিল?

নাকি এর পেছনে অন্য কোনো পরিকল্পনা আছে?

বেশিক্ষণ ভাবার সুযোগ দিল না সে নিজেকে। দ্রুত দরজার কাছে গিয়ে পাসওয়ার্ড প্রবেশ করাল।

কিন্তু পরক্ষণেই থমকে গেল।লক খুলছে না।

ন্যান্সির চোখ বড় হয়ে উঠল।

অর্থাৎ আফরিদ ইতিমধ্যেই পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফেলেছে।রাগে তার চোখ জ্বলজ্বল করে উঠল।

পেছনে তাকিয়ে দেখল, আফরিদ নির্বিকার ভঙ্গিতে কাউচে বসে আছে। এক পায়ের উপর অন্য পা তুলে, মুখে সেই রহস্যময় প্রশান্তি।

ন্যান্সি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলল,

“লক খুলছে না কেন? কী করেছেন আপনি?”

আফরিদ মৃদু হাসল। সেই হাসিতে ছিল দুষ্টুমি, আবার ছিল একরাশ নিশ্চিন্ত অধিকারবোধ।

“বলেছিলাম না, এখানেই থাক। আমি তো দরজা খুলে দেব না। এখন দেখি, আমার জেদী অ্যাঞ্জেলিনা কী করে।”

ন্যান্সি বিরক্তিতে কয়েকবার চেষ্টা করল লক খোলার। কিন্তু ব্যর্থ হলো।

শেষ পর্যন্ত পরাজিত দৃষ্টিতে ফিরে এলো আফরিদের কাছে।আর আফরিদ?সে শুধু চেয়ে রইল।

যেন পৃথিবীর সমস্ত যুদ্ধ জয় করা এই মানুষটির কাছে সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে তার একরোখা, অভিমানী অ্যাঞ্জেলিনা।

“এখানে কি আমার কোনো জামাকাপড় আছে? আমি চেঞ্জ করে কী পরব?”

ন্যান্সির কণ্ঠে বিরক্তি আর অসহায়তার মিশ্রণ।

আফরিদ বিন্দুমাত্র বিচলিত হলো না। বরং অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে নির্লিপ্ত জবাব দিল,

“কিছু পরার প্রয়োজন আছে বলে তো মনে হচ্ছে না।”

কথাটার এমন নির্লজ্জ সরলতা শুনেই ন্যান্সির ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। তৎক্ষণাৎ তীব্র দৃষ্টিতে তাকাল তার দিকে। ঠোঁটের নিচে অস্ফুট স্বরে ছুড়ে দিল একটিমাত্র শব্দ,

“অসভ্য!”

রাগে তার অন্তরাত্মা পর্যন্ত যেন জ্বলে উঠেছে। এই মানুষটার নির্লজ্জতা মাঝে মাঝে সমস্ত সীমারেখা অতিক্রম করে যায়।

আফরিদ অবশ্য ন্যান্সির সেই ক্রোধকে উপেক্ষা করেই ধীর পদক্ষেপে ব্যালকনির দিকে এগিয়ে গেল। যাওয়ার পূর্বে গম্ভীর অথচ স্বাভাবিক কণ্ঠে বলে গেল,

“ঢিলেঢালা কিছু পরিস। অস্বস্তি হবে, ব্যথাও পেতে পারিস। কাবার্ডে আমার একটা ঢিলেঢালা টি-শার্ট আছে, ওটা পরে নে।”

এইটুকুই ছিল তার বক্তব্য।না কোনো ব্যাখ্যা, না কোনো অনুনয়।

ন্যান্সি নির্বাক দাঁড়িয়ে রইল। মনটা ক্ষণিকের জন্য বিষণ্ণ হয়ে উঠল, তবুও কিছু বলল না। এই জেদি, একরোখা পুরুষটাকে বোঝানোর ক্ষমতা যেন তার নেই।

ধীর পায়ে কাবার্ডের সামনে গিয়ে দাঁড়াল সে।

সেদিন অভিমান আর ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে নিজের সমস্ত জিনিসপত্র গুছিয়ে অন্য কক্ষে চলে গিয়েছিল। তখন বুঝতে পারেনি, সেই ক্ষুদ্র সিদ্ধান্তই একদিন এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

রোষান্বিত ভঙ্গিতে কাবার্ড খুলে আফরিদের একটি ঢিলেঢালা টি-শার্ট বের করে নিল।

যদিও তার পরনে ছিল একটি ছোট কামিজ ও প্লাজো, তবুও পোশাক পরিবর্তন করা জরুরি।

জামাকাপড় হাতে নিয়ে দ্রুত ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে গেল ন্যান্সি।

কিন্তু দরজা পেরোতেই আচমকা ভেতরের আলো অস্বাভাবিকভাবে জ্বলে উঠল, আবার নিভে গেল।

মুহূর্তেই আতঙ্কে বুক ধড়ফড় করে উঠল তার।

একপ্রকার ছুটে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এলো।

“এই! ওয়াশরুমের লাইট এমন করছে কেন?”

আফরিদ তখনও নির্বিকার। ঠোঁটের কোণে চাপা হাসির রেখা ফুটিয়ে অত্যন্ত শান্ত স্বরে বলল,

“জানি না।”

ন্যান্সির চোখ সরু হয়ে এলো।এবার তার ক্রোধ আর সংযত রইল না।

“আপনি ইচ্ছে করেই এসব করছেন, তাই না? আমি অন্ধকারে কীভাবে চেঞ্জ করব? অসভ্য কোথাকার!”

আফরিদ এবার ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল। ব্যালকনির রেলিংয়ে হেলান দিয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল। চোখে সেই চিরচেনা দুষ্টু আত্মবিশ্বাস।

“এখানেই কর। সমস্যা কী?”

একটু থেমে মৃদু হাসল সে।

“আমি দেখলে কী এমন হবে? আমাদের সম্পর্ক বৈধ। আমি তোর স্বামী, ভুলে যাচ্ছিস কেন?”

কথাগুলো শুনে ন্যান্সির মুখমণ্ডলে লজ্জার আভা ছড়িয়ে পড়ল। চিবুক শক্ত হয়ে এলো, কপালে জমল অসন্তোষের ভাঁজ।

তবুও আফরিদের মুখের দিকে আর তাকাল না সে।

অবশেষে আফরিদ নিজেই মুখ ফিরিয়ে নিল।ন্যান্সির ভেতরের অস্বস্তি খানিকটা প্রশমিত হলো।

সে দ্রুত পোশাক পরিবর্তন করতে শুরু করল। প্রতিটি মুহূর্তে চেষ্টা করছিল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই পরিস্থিতি থেকে মুক্ত হতে কারণ সে জানে, আফরিদ এহসান নামের এই দুর্বোধ্য মানুষটির পরবর্তী কাণ্ড কখন কী হবে, তা অনুমান করা অসম্ভব।

এদিকে তার এলোমেলো দেহের ভঙ্গি দেয়াল জুড়ে আছে। কালো অবয়ব ফুটে উঠেছে, আফরিদ দৃষ্টি ফেরায় দেয়ালের দিকে। ওমনি তার নেত্র যোগল স্থির হয়ে গেল। না চাইতেও তাকিয়ে আছে সেদিক পানে। হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যায়। ঠোঁট শুকিয়ে কাঠ। মরূভূমির ন্যায় শুকিয়ে আসা বক্ষ মাঝারে একফোঁটা বৃষ্টির ন্যায় ঝরে পড়ে ন্যান্সির উপস্থিতি। আফরিদ দৃষ্টি সরালো না মোটেও, একদৃষ্টিতে চেয়ে রইল দেয়ালের দিকে।

চেঞ্জ করা সম্পন্ন করতেই কক্ষের অভ্যন্তরে ফিরে এলো আফরিদ। ন্যান্সির দিকে এক ঝলক তাকিয়েই তার দৃষ্টিতে ধরা পড়ল এক অদ্ভুত সংকোচ। যেন কোনো অপরাধে ধরা পড়া নির্ল’জ্জ মানুষটিও মুহূর্তের জন্য অপ্রস্তুত। কণ্ঠ কিছুটা নিচু করে বলল,

“শোন, একটা কথা বলি?”

ন্যান্সি তখন হাতে থাকা ব্যবহৃত জায়গাগুলো গুছিয়ে বাকেটে রাখছিল। আফরিদের কণ্ঠে থেমে গেল তার ব্যস্ত হাত।

সে ঘুরে তাকাতেই দেখল, আফরিদ অস্বাভাবিক রকমের অস্থির। কয়েক মুহূর্ত নীরব থেকে গলা পরিষ্কার করল সে।

“আমি আসলে…

কথাটা বলেও যেন শব্দ খুঁজে পেল না। আলসে ভঙিতে ঘাড় ম্যাসাজ করার ভঙিতে অবশেষে খানিকটা ইতস্তত করে বলল,

“তুই চেঞ্জ করার সময় আমি দেখে ফেলেছি।”

একটু থেমে অদ্ভুত আত্মপক্ষ সমর্থনের ভঙ্গিতে যোগ করল,

“তবে দোষ পুরোপুরি তোর। একটু সাবধানে চেঞ্জ করলে দেয়ালে ছায়া পড়ত না।”

কথাটা শুনে ন্যান্সি কয়েক মুহূর্তের জন্য সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে গেল।

মানুষটা শুধু চুরি করে দেখেই ক্ষান্ত হয়নি, উপরন্তু সেই অপরাধের দায়ও তার ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছে!

অবিশ্বাস আর বিরক্তিতে তার চোখ বিস্ফারিত হলো।

“দেখবেনই তো। অসভ্য যে!”

কথাটা শুনে আফরিদের প্রবল ইচ্ছে হলো অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে। ন্যান্সির এমন অভিমানী রাগ তাকে প্রতিবারের মতোই দুর্বল করে দেয়।

তবুও কোনো এক অজ্ঞাত কারণে হাসল না সে।

“তোর তো খুশি হওয়া উচিত আমি দেখেছি!”

ন্যান্সি মুখ বাঁকিয়ে আগের ন্যায় বলল,

“হ্যা ঠিক বলেছেন। এই খুশিতে আমার গান গাওয়া উচিত। ম্যে লাভলি হু গায়ি ইয়ার নাম ত্যেরা পার ক্যে!”

আফরিদ সরু দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল, প্রত্যুত্তর করল না বরং নীরবে এগিয়ে গিয়ে থাইগ্লাসের পর্দা সম্পূর্ণ টেনে দিল। মুহূর্তেই বাইরের আলো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল কক্ষটি। ঘন অন্ধকারের আবরণে ঢেকে গেল চারপাশ।

আফরিদ ধীর ভঙ্গিতে নিজের শার্ট খুলে রাখল।

ন্যান্সির উপস্থিতি যেন তার সমস্ত স্বাভাবিকতা ওলটপালট করে দেয়। এই নারী কাছাকাছি থাকলেই অদ্ভুত এক অস্থির উষ্ণতা গ্রাস করে তাকে। আজও তার ব্যতিক্রম হলো না।

ক্লান্ত শরীর নিয়ে বিছানার দিকে এগিয়ে গেল আফরিদ। অতঃপর নিশ্চুপ ভঙ্গিতে শুয়ে পড়ল।

অন্ধকার কক্ষের এক কোণে তখনও স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ন্যান্সি।তার মস্তিষ্কে ঘুরপাক খাচ্ছে অসংখ্য প্রশ্ন।

এই মানুষটাকে কি কখনো বোঝা সম্ভব?

একদিকে অপরাধবোধ, অন্যদিকে সীমাহীন দুঃসাহস দুই বিপরীত সত্তার অদ্ভুত সমন্বয় যেন আফরিদ এহসান।

ততক্ষনে কর্ণ গোচরে প্রবেশ করল গমগমে কন্ঠস্বর।

“আসবি নাকি টেনে হেঁচড়ে আনতে হবে?”

ন্যান্সি হতাশ হলো, ধীর পায়ে বিছানায় উঠে আসতেই আফরিদ তাকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে এলো। ঠিক বুকের মাঝখানটায় জড়িয়ে ধরে। ন্যান্সি আশ্চর্য হলো, তাতে কি যায় আসে আফরিদের!

উপরন্তু কম্ফোর্ট টেনে নিল দু’জনের উপর।হাত দিয়ে ন্যান্সির পিঠের অংশটা উঁচু করে রাখল যাতে পিঠে স্পর্শ না লাগে। ন্যান্সি যেই চোখ বুজবে ঠিক তখনই সারা শরীর কেঁপে উঠে মেয়েটার।

সন্তর্পণে টিশার্ট পিঠের উপর তুলে দিল বেয়াদব পুরুষ। ক্ষ’ত জায়গাটা উন্মুক্ত! সেথায় আদুরে ভাবে হাত বুলিয়ে দিতে থাকে। জায়গাটা শিরশির করছে! আবেশে প্রশস্ত বক্ষে আরো বেশি করে নিজেকে গুটিয়ে নেয়! টেনে নেয় ওই বক্ষের সবটুকু ওম!

“আমাকে একটুও শান্তি দিবি না বলে ঠিক করেছিস তাই না?”

ন্যান্সি অপেক্ষায় ছিল এমন কিছু প্রশ্নের। ওমনি হাসলো সে, ব্যথিত কন্ঠে বলে উঠে।

“আমি শান্তি দেওয়ার কে?”

আফরিদ থুতনি ধরে মুখটা উঁচু করে ন্যান্সির। অন্ধকারের মাঝেও সে যেনো ন্যান্সির চোখে চোখ রেখে বলল,

“আমি ঘুমাইনি দু’দিন ধরে ।তোর জন্য এত অশান্তি।”

ন্যান্সি ফের হাসলো, টুক করে গিলে নিল ভেতরের ব্যথা।

“কেন ঘুমাননি? আপনার তো শান্তিতে ঘুমোনো উচিত ছিলো। এইযে আপনাকে কোনো কিছুতেই বাঁধা দেওয়ায় নেই!”

আফরিদ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো কিয়ৎক্ষণ। মিনিট পেরুতেই ন্যান্সি মুখ গুঁজে তার দুর্গের ন্যায় শক্ত বক্ষে। আফরিদ পিঠের দিকে ফাঁকা রেখে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে অবাধ্য বউকে। যার জন্য গত দু’দিন ধরে এই পুরুষের বুকটা খা খা করছিল।

যখন আফরিদ বুঝল ন্যান্সি ঘুমিয়ে গেছে, ওমনি সে তার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল।

“পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদ

আর আফরিদের উপগ্রহ অ্যাঞ্জেলিনা।

পার্থক্য এখানেই চাঁদের নিজস্ব আলো নেই,অন্যের আলোয় আলোকিত হয়।

আর আমার অ্যাঞ্জেলিনা সূর্যের মতো নিজের আলোয় আলোকিত করে তুলে পাপী আমিটাকে।

সে আমার সূর্যমুখী।”

______________________

ভোরের কোমল আলো ধীরে ধীরে চারপাশের অন্ধকার সরিয়ে দিচ্ছে। পূর্ব আকাশে সূর্যের সোনালি আভা ছড়িয়ে পড়তেই তার রশ্মি জানালার পর্দা ভেদ করে এসে স্পর্শ করল ঈশানের মুখশ্রী।

আলোর সেই মৃদু স্পর্শেই ঘুম ভাঙল তার। তৎক্ষণাৎ উঠে বসল সে, অথচ পরমুহূর্তেই থমকে গেল। পাশের শূন্য স্থানটুকুতে তার কাঙ্ক্ষিত মানুষটির কোনো অস্তিত্ব নেই।

এক মুহূর্তের জন্য বুকের ভেতর অজানা শঙ্কা দানা বাঁধল। ঘুমঘুম দৃষ্টিতে চারপাশে তাকিয়ে অবশেষে চোখ আটকে গেল ওয়াশরুমের বন্ধ দরজায়। ভেতর থেকে ভেসে আসা পানির কলকল শব্দই জানিয়ে দিল তার আপন মানুষটি সেখানেই রয়েছে।

স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল ঈশান।

ধীর পায়ে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল সে। হঠাৎ দৃষ্টি গিয়ে থামল বিছানার চাদরের দিকে। দৃশ্যটা দেখেই ঠোঁটের কোণে অনিয়ন্ত্রিত হাসির রেখা ফুটে উঠল।

মাথার চুলে হাত বুলিয়ে একরাশ বিস্ময় আর মুগ্ধতা নিয়ে বোকাদের মতো হাসল ঈশান।

কখন যে এই দুষ্টু, অবাধ্য মেয়েটা তার জীবনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে নিজেও বুঝতে পারেনি সে।

************

সাব্বির নীরব অথচ ক্ষুব্ধ মুখে বসে আছে মাইমুনা এহসানের সম্মুখে। বুকের ভেতর জমে থাকা ক্ষোভ যেন কোনোভাবেই প্রশমিত হচ্ছে না। তার বড় ভাইয়ের মৃত্যুর আজ প্রায় দু’মাস পূর্ণ হতে চলেছে, অথচ আশ্চর্যজনকভাবে সবকিছু স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। আর ইলহাম? সে এখনো অন্ধকারেই রয়ে গেছে।

সাব্বিরের কণ্ঠে জমাট অভিমান আর হতাশার ছাপ স্পষ্ট।

“আমি সত্যিই অবাক না হয়ে পারছি না মম। তোমরা এতটা নিশ্চিন্ত আর স্বাভাবিক কীভাবে থাকতে পারছো?”

মাইমুনা এহসান এতক্ষণ ফোনের নীলাভ পর্দায় নিমগ্ন ছিলেন। সাব্বিরের কথায় হঠাৎ সংবিৎ ফিরে পেলেন তিনি। ধীর দৃষ্টিতে তাকালেন ছোট ছেলের দিকে।

শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বললেন,

“আফরিদ যখন বলেছে নীরব থাকতে, তখন নীরব থাকাটাই শ্রেয়, সাব্বির।”

মায়ের নির্লিপ্ত উত্তর যেন আরও ক্ষুব্ধ করে তুলল সাব্বিরকে। তার চোখেমুখে তীব্র অভিমান ফুটে উঠল।

“মম, তোমার ছেলে ছিল নীলাদ্রি। তুমি ভুলে যাচ্ছ, সে আমার ভাই ছিল।”

একটু থেমে তিক্ত হাসল সে।

“এখন তো আমারও মনে হচ্ছে, আমার কিছু হয়ে গেলেও তোমার কিছু যায় আসবে না।”

মাইমুনা এহসানের চোখ মুহূর্তেই কঠোর হয়ে উঠল। সন্তানের এমন অভিযোগ যেন তার ভেতরের আ’গ্নেয়গিরি আরও প্রজ্বলিত করল।

রাগ সংবরণ না করেই বললেন,

“হ্যাঁ, হয়তো কিছুই আসবে যাবে না। কারণ আমার কাছে আফরিদ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সে আমার বড় ছেলে। তোমাদের সবার থেকেও বেশি তাকে আমি ভালোবাসি।”

মায়ের কথাগুলো যেন বিষের মতো বিঁধল সাব্বিরের হৃদয়ে। আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না সে।

রাগে, অভিমানে সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। হনহনিয়ে পেরিয়ে গেল বসার ঘর, অতঃপর সজোরে সদর দরজা ঠেলে বেরিয়ে গেল বাইরে।

ঠিক সেই মুহূর্তেই সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলো আফরিদ এহসান এবং ইদ্রান। দুজনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল।

হঠাৎ পেছন থেকে ভেসে এলো এক কণ্ঠস্বর,

“আপনি কিন্তু সত্যিই ভীষণ সুন্দর, এহসান।”

কথাটা কানে যেতেই থমকে দাঁড়াল দুজন। একই সঙ্গে ঘুরে তাকাল আফরিদ এবং ইদ্রান।

স্মাইলির মুখে এমন নির্দ্বিধায় প্রশংসা শুনে আফরিদের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো। অন্যদিকে ইদ্রানও খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল।

পরিস্থিতি বুঝতে পেরে স্মাইলি হেসে উঠল খিলখিলিয়ে।

“সরি, সরি! আমি আসলে একটু মজা করছিলাম। ইদ্রানকে একটু জেলাস ফিল করানোর চেষ্টা করছিলাম।”

ইদ্রান দীর্ঘশ্বাস ফেলল। হতাশা তার চোখেমুখে স্পষ্ট।

গত কয়েকদিন ধরেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। স্মাইলি সুযোগ পেলেই আফরিদের সৌন্দর্যের প্রশংসা করে, আর প্রতিবারই তার উদ্দেশ্য একটাই ইদ্রানের ঈর্ষা জাগানো।

কিন্তু ইদ্রানও বুঝতে পারছে, এই ছোট্ট দুষ্টুমির আড়ালেই লুকিয়ে আছে স্মাইলির গভীর ভালোবাসা।

আফরিদ নিচের দিকে যেতে যেতে বলল,

“সময় থাকতে সামলা লেসবিয়ান কোথাকার।”

লেসবিয়ান শুনে থতমত খেয়ে গেল ইদ্রান। কটমট দৃষ্টিতে তাকালো। যদি আফরিদ দ্বিতীয়বার পিছন ফিরে দেখতো তাহলে ইদ্রানের রাগে লাল হয়ে আসা মুখটা দেখতে পেতো।

কিচেন থেকে সার্ভেন্টকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে এলো ন্যান্সি। তার হাতে সাজানো ট্রে প্রত্যেকের পছন্দ অনুযায়ী আলাদা আলাদা পানীয়। কারো জন্য গাঢ় কফি, কারো জন্য দুধ চা; আর শুধুমাত্র আফরিদ এহসানের জন্য রাখা হয়েছে তার পছন্দের গ্রিন টি।

আফরিদ যথারীতি স্বাচ্ছন্দ্য ভঙ্গিতে সোফায় বসে ছিল। ন্যান্সি একবারের জন্যও তার দিকে দৃষ্টিপাত করল না। যেন এই মুহূর্তে তার অস্তিত্বই সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য।

সার্ভেন্ট মেয়েটিকে মৃদু ইশারা করতেই সে একে একে সকলের হাতে পৌঁছে দিল তাদের পছন্দের পানীয়।

ন্যান্সি শুধু স্মাইলির কফির কাপটি হাতে নিয়ে তার পাশেই বসে পড়ল। স্পষ্টতই তার উদ্দেশ্য ছিল স্মাইলির সঙ্গে কিছু কথা বলা।

আফরিদ পুরো দৃশ্যটাই নীরবে পর্যবেক্ষণ করল। ঠোঁটের কোণে চাপা হাসির রেখা ফুটে উঠল। তার অভিমানী অ্যাঞ্জেলিনার এই নির্লিপ্ত আচরণও যেন তার কাছে ভীষণ প্রিয়।

ন্যান্সি স্মাইলির দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল। তারপর কণ্ঠস্বর নিচু করে জিজ্ঞেস করল,

“কাল রাতে তুমি কোথায় ছিলে, স্মাইলি?”

প্রশ্নটা যেন আচমকাই বজ্রাঘাতের মতো আঘাত করল স্মাইলিকে। সে প্রস্তুতই ছিল না এমন কিছুর জন্য। চমকে উঠল মেয়েটা।

ন্যান্সি গভীর দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করতে লাগল তার মুখের পরিবর্তিত অভিব্যক্তি। কপালের কাছে জমে উঠেছে সূক্ষ্ম ঘামের বিন্দু।

স্মাইলি তোতলাতে তোতলাতে বলল,

“কো… কোথায় আর থাকব? রু… রুমেই ছিলাম।”

ন্যান্সির ঠোঁটে রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল। কফির কাপে ধীর চুমুক দিয়ে শান্ত স্বরে বলল,

“কিন্তু আমি তো জানি, তুমি রুমে ছিলে না।”

কথাটা শুনেই স্মাইলির বুকের ভেতর অজানা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। শুকনো ঢোক গিলে নিজের অস্বস্তি লুকানোর চেষ্টা করল সে।

“তুমি রুমে গিয়েছিলে, ইলহাম? আসলে তখন হয়তো আমি ওয়াশরুমে ছিলাম।”

ন্যান্সি কিছুক্ষণ নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার দিকে। তারপর হঠাৎ করেই মৃদু হাসল।সে আর কিছু বলল না।

ধীর পায়ে উঠে দাঁড়িয়ে এগিয়ে গেল গেস্ট হাউসের দিকে। তিতলির সঙ্গে তার কিছু কথা বলা প্রয়োজন।

বাগানের কাছাকাছি পৌঁছাতেই দেখল, ঈশান দ্রুত পায়ে এদিকেই এগিয়ে আসছে।

ন্যান্সিকে দেখে ঈশান থামল। ন্যান্সিও সৌজন্যসূচক হাসি দিয়ে বলল,

“কী ব্যাপার ভাইয়া? একা কেন? আমাদের তিতলি ম্যাম কোথায়?”

ঈশান বিস্মিত চোখে তাকাল।

“সে মঞ্জিলের ভেতরে নেই? কিছুক্ষণ আগেই তো রুম থেকে বের হলো। আমি ভেবেছিলাম ভেতরেই আছে।”

ঈশানের কথায় ন্যান্সির অন্তর্দৃষ্টি যেন মুহূর্তেই সতর্ক হয়ে উঠল। মেয়েলি ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় তাকে আগেই ইঙ্গিত দিয়ে দিল কোথাও কিছু একটা গোপন রয়েছে।

ঠিক তখনই পেছন থেকে ভেসে এলো পরিচিত কণ্ঠস্বর,

“আমি এখানে।”

ঘুরে তাকাতেই দেখা গেল তিতলি দাঁড়িয়ে আছে। পরনে নীল রঙের অপূর্ব শাড়ি, যেটা ন্যান্সি নিজে পছন্দ করে দিয়েছিল তার জন্য।

ন্যান্সি কিছুটা গম্ভীর দৃষ্টিতে তাকাল।

“কোথায় ছিলে তুমি?”

তিতলি খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে গেল। হঠাৎ এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেল না। কিছুটা ইতস্তত করে বলল,

“আসলে… আমি একটু হাঁটছিলাম। ওই যে ওদিকটায়। ভালো লাগছিল না, তাই একটু বাইরে এসেছিলাম।”

ন্যান্সি আবারও মৃদু হাসল। তবে সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে রইল গভীর পর্যবেক্ষণ।মাথা নেড়ে শান্ত স্বরে বলল,

“ঠিক আছে। যাও, ভেতরে যাও। ভাইয়া, আপনিও যান।”

ঈশান আর কিছু বলল না। তিতলির হাত ধরে তাকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে গেল মঞ্জিলের দিকে। যাওয়ার সময় মৃদু শাসনের ভঙ্গিতে তিতলির মাথায় আলতো টোকাও দিল।

আর দূর থেকে দাঁড়িয়ে ন্যান্সি শুধু তাকিয়ে রইল চোখে তখন জমে উঠেছে অজস্র প্রশ্ন।

*************

দুপুরের নির্জনতা ধীরে ধীরে এহসান মঞ্জিলের আঙিনায় ছায়া ফেলেছে। সূর্যের তীব্রতা কিছুটা স্তিমিত হয়ে এলে খাবারের ট্রলি ঠেলে ধীর পায়ে কল্পনার কক্ষের সম্মুখে এসে দাঁড়াল ন্যান্সি।

দরজায় মৃদু করাঘাত করে বিনীত স্বরে অনুমতি চাইল,

“ভেতরে আসবো?”

কক্ষে তখন নিজের ল্যাপটপে নিমগ্ন ছিল কল্পনা। অজানা কোনো কাজে ব্যস্ত তার আঙুলগুলো দ্রুততার সঙ্গে কীবোর্ডে বিচরণ করছিল।

ন্যান্সির কণ্ঠস্বর শ্রবণ করতেই যেন বজ্রাহত হলো সে। আকস্মিক আতঙ্কে চমকে উঠে তড়িঘড়ি করে ল্যাপটপের ঢাকনা বন্ধ করে দিল। অতঃপর অস্বাভাবিক ব্যস্ততায় সেটিকে চাদরের আড়ালে লুকিয়ে ফেলল।

নিজেকে স্বাভাবিক প্রমাণ করার ব্যর্থ চেষ্টা করে বলল,

“হ্যাঁ, হ্যাঁ… এসো।”

ন্যান্সি ধীর পায়ে কক্ষে প্রবেশ করল। তবে কল্পনার অস্থিরতা তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এড়াতে পারল না। মেয়েটার আচরণে যেন অদৃশ্য কোনো ভয়ের ছায়া স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

কিছুক্ষণ নীরবে পর্যবেক্ষণ করে ন্যান্সি মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করল,

“কী হয়েছে আপু? আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনি যেন বেশ ভয় পেয়ে গেছেন।”

কল্পনা হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে কপালে জমে থাকা ঘামের বিন্দু মুছে নিল। ঠোঁটে কৃত্রিম হাসির আবরণ টেনে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করল।

“না, না… ভয় পাবো কেন? এমন কিছু হয়নি।”

ন্যান্সির দৃষ্টি আরও গভীর হলো। সে কিছু না বলে খাবারের ট্রলিটি এক পাশে রেখে দিল।

শান্ত স্বরে বলল,

“দুপুরে নিচে গেলেন না, তাই ভাবলাম আমিই খাবার দিয়ে যাই। ঠিকমতো খেয়ে নেবেন কিন্তু।”

এরপর আর কোনো প্রশ্ন না করেই কক্ষ ত্যাগ করল ন্যান্সি।

কল্পনা কিছুক্ষণ দরজার দিকে তাকিয়ে রইল। তার মনে হলো মেয়েটা এলো, অথচ কিছু না বলেই চলে গেল। কিন্তু সেই নীরবতার মধ্যেই যেন লুকিয়ে ছিল অসংখ্য প্রশ্ন।

করিডোরে পা রাখতেই ন্যান্সির চিন্তামগ্ন মুখশ্রী আরও কঠিন হয়ে উঠল।

কল্পনার লুকিয়ে রাখা ল্যাপটপ তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এড়ায়নি। এক ঝলকের সেই দৃশ্যই যথেষ্ট ছিল তার সন্দেহকে আরও দৃঢ় করার জন্য।

এখন আর অপেক্ষা নয়। মাইমুনা এহসানের সঙ্গে কথা বলা জরুরি।

কারণ সত্যিটা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে এই চারজনের মধ্যেই কেউ একজন রয়েছে, যে অন্ধকারের আড়ালে দাঁড়িয়ে নিঃশব্দে চালিয়ে যাচ্ছে এক ভয়ংকর ষড়য’ন্ত্রের খেলা।

আর ন্যান্সি জানে, সেই মুখোশধারী মানুষটাকে খুঁজে বের করতেই হবে। কারণ নিশুতি রাতের মতো ঘন হয়ে আসা এই রহস্য আর বেশিদিন আড়ালে থাকবে না।

চলবে……….।🌼

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply