#ইশরাত_জাহান_জেরিন
#পর্ব_৪৩
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে ছুঁয়ে বোয়িং ৭৭৭ বিমানটি যখন ট্যাক্সিওয়ে দিয়ে এগোচ্ছে, তখন বিমানের কেবিনের ভেতরে সিয়ার বুকের ভেতরে এক অজানা আশঙ্কার ধড়ফড়ানি শুরু হলো। ককপিট থেকে তখন ক্যাপ্টেন তাজের সেই ভারী, গম্ভীর আর কড়া অফিশিয়াল অ্যানাউন্সমেন্ট ভেসে আসছিল, “লেডিস অ্যান্ড জেন্টলমেন, ওয়েলকাম টু ঢাকা…”
সিয়া বিমানের গ্যালিতে দাঁড়িয়ে নিজের ইকোনমি ক্লাসের ট্রলি গুছাইতে গুছাইতে দরদর করে ঘামছে। ৩৫ হাজার ফুট উঁচুতে তাজের সেই কড়া শাসন, কানের লতির কাছে এসে বলা সেই বুক কাঁপানো হুমকি, “ঢাকা এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করলেই সোজা কাজী অফিস” এখনো সিয়ার মাথায় থরথর করে কাঁপন তুলছে। সিয়া তাজের প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছে অনেকদিন ধরে। এই একগুঁয়ে, ধুরন্ধর ক্যাপ্টেনকে নিজের খাঁচায় বন্দি করার জন্যই সে নিজের জামা ছিঁড়ে, নাটক করে মীর তাজকে বিয়ের ডেট পাকা করতে বাধ্য করেছে। তবে সে চেয়েছিল ধুমধাম করে তাজের বউ হয়ে ঘরে ঢুকবে। কিন্তু এভাবে মাঝ-আকাশে শিকার হয়ে, ঢাকা এয়ারপোর্টে পা রাখা মাত্রই মীর তাজের পাতা ইমার্জেন্সি জালে গিয়ে পড়বে, তা সে স্বপ্নেও ভাবেনি! প্যাসেঞ্জারদের ডিজইমবার্কেশন শেষ হতেই সিয়া অন্য সব ক্রুদের চোখ বাঁচিয়ে, নিজের কস্টিউম চেঞ্জ না করেই ভয়ে আর উত্তেজনায় দ্রুত পায়ে ভিআইপি অ্যারাইভাল টার্মিনাল দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল। সে মনে মনে ভাবছিল, ‘একবার এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে নিজের বাসায় ঢুকতে পারলে আর পায় কে! সেখানে গিয়ে ভাবা যাবে ক্যাপ্টেন তাজের সাথে কী ডিল করা যায়।’
ভিআইপি এক্সিট গেটের কাঁচের অটোমেটিক দরজাটা খুলতেই বাইরের প্যাসেঞ্জার লাউঞ্জের একদম সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দৃশ্যটা দেখে সিয়ার পায়ের তলার মাটি এক নিমেষে সরে গেল। বাইরে দাঁড়িয়ে আছে তাজের সেই কালো রঙের প্রাডো গাড়িটা। আর গাড়ির বোনেটে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন স্বয়ং চিফ ক্যাপ্টেন তাজ! পরনে তাঁর চারটে গোল্ডেন স্ট্রাইপ ওয়ালা ধবধবে সাদা অফিশিয়াল শার্ট, চোখে সেই কালো রিবন সানগ্লাস, আর হাতে ধরা তাঁর দামী এভিয়েশন ক্যাপ। তাজের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন এক বৃদ্ধ কাজী সাহেব, আর তাঁর হাতে একটা লাল কাপড়ে বাঁধা মোটা রেজিস্ট্রি খাতা!
সিয়া এক পা পেছনে হটতে গিয়েও পারল না। তার আগেই তাজের সেই ধারালো, পাথুরে দৃষ্টি সানগ্লাসের আড়াল থেকেও সোজা এসে সিয়ার ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া মুখের ওপর বিঁধল। তাজ গম্ভীর কদমে এগিয়ে এল। তাজ সিয়ার একদম মুখোমুখি এসে দাঁড়াল। সে নিজের সানগ্লাসটা খুলে সিয়ার বুকিং ব্যাকের স্ট্র্যাপে ঝুলিয়ে দিল। তারপর সিয়ার কাঁপতে থাকা ফর্সা কবজিটা নিজের শক্ত, ফর্সা মুঠোয় পুরে নিল।
“কোথায় যাওয়া হচ্ছিল মিস সিয়া? রানওয়ে থেকে কি পাখি এত সহজে উড়ে যেতে পারে?”
সিয়া আমতা আমতা করে, নিজের হাতটা সরানোর একটা ব্যর্থ চেষ্টা করে বলল, “ক্যা… ক্যাপ্টেন তাজ? এয়ারপোর্টের বাইরে কাজী সাহেব কেন? আর আপনি… এভাবে ভিআইপি গেটে প্রাডো নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন? মিডিয়া আর অথরিটি দেখলে…”
“মিডিয়া আর অথরিটিকে ডিল করার জন্য তাজের একটা অফিশিয়াল ফোন কলই যথেষ্ট, মিস সিয়া,” তাজ একটা হাসি দিল। সিয়ার চোখের কোণে জমে থাকা জলটুকু এক মূহূর্তে ছলছল করে উঠল। সে ফুঁপিয়ে উঠে বলল, “আপনি একটা আস্ত ধড়িবাজ পলিটিশিয়ানের চেয়েও খারাপ! আমি আপনাকে ভালোবাসতাম, বিয়েও করতে চেয়েছিলাম… তাই বলে এভাবে এয়ারপোর্টের গেটে? আমার কোনো সাজগোজ নাই, একটা লাল শাড়ি নাই, কোনো স্বপ্ন নাই? এভাবে একটা মেয়ের বিয়ে হয়?”
তাজ এক মূহূর্তের জন্য থামল। সিয়ার চোখভরা জল আর এই ফুটফুটে চেহারার ভেতরের আদিখ্যেতা দেখে তাজের পাথুরে বুকের ভেতরে কোথাও যেন এক অদ্ভুত নরম কাঁপন দিয়ে গেল। সে সিয়ার সেই নেভি-ব্লু ইউনিফর্ম পরা কাঁধ দুটো দুই হাতে শক্ত করে চেপে ধরল। সে সিয়ার ভেজা গালের কাছাকাছি নিজের মুখটা এনে ফিসফিস করে বলল, “সাজগোজের বেনারসি শাড়ি ধানমণ্ডির বাড়িতে অপেক্ষা করছে, সিয়া। কিন্তু মীর তাজের ধৈর্য আষাঢ়ের মেঘের চেয়েও কম। তুমি যে ফাঁদ আমার জন্য পেতেছিলে, সেই ফাঁদে তোমাকেই সারাজীবনের জন্য শৃঙ্খলিত না করলে আমার অহংকার মিটত না। এখন শান্ত হয়ে গাড়িতে ওঠো, নাকি এয়ারপোর্টের এই কয়েকশো মানুষের সামনেই তোমাকে কোলে তুলে গাড়িতে তুলব?”
সিয়া লজ্জায় এক নিমেষে লাল হয়ে নিজের চোখ দুটো বুজে ফেলল। সে বুঝতে পারল, এই বেপরোয়া পুরুষকে আটকানোর কোনো সাধ্য তার নেই। সে তো নিজেই চেয়েছিল এই খাঁচায় বন্দি হতে, তবে এই বন্দী দশা যে এতখানি রোমাঞ্চকর আর মারাত্মক হবে, তা ভাবলেই তার বুকের ভেতরের হৃদস্পন্দন এভিয়েশন ইঞ্জিনের গতিকেও হার মানায়! কাজী সাহেব গাড়ির ব্যাকসিটে বসে যখন রেজিস্ট্রি খাতাটা সিয়ার সামনে বাড়িয়ে দিলেন, তখন সিয়ার হাত কাঁপছে। তাজ সিয়ার ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে, তার ডান হাতটা সিয়ার কাঁপতে থাকা কাঁধের ওপর শক্ত করে চেপে ধরে রাখল। সেই স্পর্শে যেন সারা পৃথিবীর সমস্ত নিরাপত্তা এসে সিয়াকে ঘিরে ধরল।
“কবুল বলো, মিস সিয়া। নইলে কিন্তু প্লেনে উঠিয়ে জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলব। খুব আমাকে বিয়ে করার জন্য পাখা গড়িয়ে ছিল না? তোমার ওই পাখা হচ্ছে উইপোকার পাখার মতো। ধরার আগেই ঝরে পড়ার দিন চলে এসেছে।”
তাজের কানের পাশের সেই কড়া ফিসফিসানি সিয়ার ভেতরের শেষটুকু প্রতিরোধও চূর্ণ করে দিল। সিয়া এক ফোটা নোনা জল ফেলে কাঁপাকাঁপা গলায় বলে উঠল, “ আলহামদুলিল্লাহ কবুল… কবুল… কবুল।”
–
বিয়ের পর এই প্রথম শ্বশুরবাড়িতে পা রাখছে দেশের অন্যতম চর্চিত ও বেপরোয়া তরুণ সংসদ সদস্য মীর আব্রাজ রোদ! বাড়ি থেকে রওনা হওয়ার সময় থেকেই তার কোনো ভাবলেশ নেই। তার পরনে কায়দা করে পরা ইস্ত্রি করা ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি-পাজামা, চোখে রোদচশমা, আর মুখে চিরাচরিত ধড়িবাজ শয়তানি হাসি। গাড়ি ড্রাইভ করছিল আব্রাজ নিজেই, আর পাশে বসে থাকা নৈশির মুখে রাগের থমথমে মেঘ। নৈশি গত আধা ঘণ্টা ধরে আব্রাজকে অন্তত বিশবার ওয়ার্নিং দিয়েছে, “শুনুন রোদ! এটা কোনো পলিটিক্যাল আড্তাখানা বা আপনার লোকসভার ময়দান না। এটা আমার বাবার বাড়ি। আমার আব্বু সাবেক সরকারি আমলা, বড্ড ডিসিপ্লিন্ড মানুষ। ওখানে গিয়ে আপনার ওই অসভ্য, ঠোঁটকাটা ল্যাঙ্গুয়েজ আর বেয়াদবি একদম বন্ধ রাখবেন! ভদ্র সেজে থাকবেন, বুঝেছেন?”
আব্রাজ সানগ্লাসটা নাকের ডগায় নামিয়ে নৈশির দিকে একটা চতুর নজর বুলাল। সে বড্ড নিরীহ মুখে বলল, “আরে নেত্রী, শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে জামাই যদি একটু ‘পলিটিক্যাল পাওয়ার’ আর শাশুড়ির হাতের মালাইকারি না খায়, তবে সেই বিয়ের ভ্যালু কী? তাছাড়া আপনার আব্বুর সাথে তো আমার এজেন্ডা অলরেডি সেট। উনি আমলা ছিলেন, আর আমি তো আপনার গোটা পার্টিকে নির্বাচনে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া বিজয়ী এমপি! দুই পাওয়ার হাউস একসাথে হলে তো একটু ঝাপটা লাগবেই!”
“ঝাপটা আপনি নিজের ঘরে গিয়ে মারবেন!” নৈশি দাঁতে দাঁত চেপে লাল হয়ে বলল, “নির্বাচনে জালিয়াতি করে জেতার অহংকার আমার বাপের বাড়িতে দেখাতে আসবেন না। আব্বুর সামনে যদি একটাও উল্টাপাল্টা কথা বলেছেন, তবে কিন্তু ওই ল্যাপটপের সিক্রেট ভিডিওর কথা ভুলেই আমি আপনার ধবধবে সাদা পাঞ্জাবির কলার টেনে ছিঁড়ে ফেলব!”
আব্রাজ পাঞ্জাবির কলারটা একটু উঁচিয়ে নিয়ে বড্ড আয়েশ করে বলল, “হুম, জামাইয়ের পাঞ্জাবি ছেঁড়ার এই পারিবারিক ঐতিহ্যটা কিন্তু বড্ড রোমান্টিক নেত্রী! নির্বাচনে তো জামাইয়ের কাছে হারলেনই, এখন শ্বশুরবাড়িতে এসে কলার ছিঁড়ে রিভেন্স নেবেন নাকি?”
নৈশি রাগে চিল-চিৎকার করতে গিয়েও ড্রাইভিংয়ের কথা ভেবে কোনোমতে সামলে নিল। নৈশিদের গুলশানের অভিজাত ড্রয়িংরুমে পৌঁছানো মাত্রই অভ্যর্থনা মিলল। নৈশির মা অর্থাৎ আব্রাজের শাশুড়ি মা যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছেন। বিরোধী দলের নেত্রী মেয়েকে হারানো ক্ষমতাসীন দলের এই দাপুটে জামাইকে বরণ করার জন্য টেবিলে অন্তত পনেরো পদের খানা সাজানো হয়েছে। ইলিশের পাতুরি, খাসির রেজালা, আস্ত খাসির লেগ রোস্ট থেকে শুরু করে রকমারি মিষ্টি। নৈশির বাবা তো সেই মেয়ে হারার পরেই দল বদলে ফেলেছেন। এখন সে মনে প্রাণে জামাই সাপোর্টার। নৈশি ভেবেছিল সাবেক কড়া আমলা আব্বু অন্তত জামাইকে কড়া কোনো পলিটিক্যাল প্রশ্ন ছুড়ে দেবেন। কিন্তু কোথায় কী! নৈশির বাবা সোহরাব সাহেব সোফা ছেড়ে উঠে একবারে হাসিমুখে এগিয়ে এসে আব্রাজকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন, “আরে আব্রাজ! এসো এসো বাবা! টিভিতে তো তোমাকে প্রতিদিন দেখি, কিন্তু সামনে থেকে দেখলে মনটা একদম জুড়িয়ে যায়! কী অসাধারণ বক্তব্য দাও পার্লামেন্টে!”
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নৈশির ছোট ভাই সিয়াম তো একধাপ এগিয়ে আবরাজের সাথে হাই-ফাইভ দিয়ে ফেলে বলল, “দুলাভাই! ইউ আর মাই হিরো! ওই দিনের টকশোতে অপজিশনদের যেভাবে ধরে ধোলাই দিলে না, জাস্ট ট্রিমেন্ডাস! আমি তোমার সব কয়টা ফ্যান ক্লাবের অ্যাডমিন! ভালো কথা ভাই, এবার যাওয়ার আগে কয়টা অটোগ্রাফ দিয়ে যেও। কড়া দামে বিক্রি করে মাল কামানো যাবে।”
“আরে আমার শালার ভাই, কি বুদ্ধি তোমার। ওপর দিয়ে ঢাললে নিচ দিয়ে বের হয় দেখছি।” বলেই আব্রাজ দাঁত কেলালো।”
“জি ভাই, বেশি বুদ্ধি দেখে তিনবেলা বাথরুমে গিয়ে পেট খালি করি৷ এত বুদ্ধি মাথায় রাখার জায়গা নাই।”
কথাটা শুনেই কাশি চলে এলো আব্রাজের। এই শালার ভাই দেখি তারও এক কাঠি ওপরে।
নৈশির আম্মাও ট্রে ভর্তি ডাবের শরবত আর দামী মিষ্টি নিয়ে এসে মিষ্টি হেসে বললেন, “আহা, আমার বিজয়ী জামাইটা এসেছে! দেখ তো নেত্রীটা তাকে খামোখা খাটিয়ে খাটিয়ে একবারে শুকিয়ে ফেলেছে! বসো বাবা, তোমার জন্য স্পেশাল খাসির লেগ রোস্ট আর ইলিশের পাতুরি নিজের হাতে রেঁধেছি।”
নৈশি নিজের চোখ আর কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না! সে হা করে দাঁড়িয়ে নিজের পরিবারকে দেখতে লাগল। ‘এরা কি আমার নিজের আব্বু-আম্মা আর ভাই, নাকি আব্রাজের কেনা কোনো পলিটিক্যাল এজেন্সি?’
নৈশি দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “আব্বু! তোমরা ওকে এত মাথায় তুলছ কেন? ও কিন্তু এই নির্বাচনে তোমাদের একমাত্র মেয়েকে ভোটে হারিয়ে এমপি হয়েছে!”
সোফায় বড্ড রাজা-বাদশার মতো পা তুলে বসে ডাবের শরবতে চুমুক দিতে দিতে আব্রাজ বড্ড চতুর হেসে সোহরাব সাহেবের দিকে তাকাল। সোহরাব সাহেব হাত নেড়ে মেয়েকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, “আহা নৈশি! রাজনীতি রাজনীতিই! ওখানে যোগ্য লোকই জিতবে, এটাই তো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আবরাজের মতো ডায়নামিক লিডারকে হারানো কোনো লজ্জার বিষয় না! তুই বরং জামাইয়ের পাশে গিয়ে শান্ত হয়ে বোস।”
আব্রাজ ডাবের শরবতের গ্লাসটা রেখে কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে নৈশিকে বলল, “কী নেত্রী? বাপের বাড়িতে এসে নিজের ফ্যান বেস জিরো হয়ে গেল দেখে কষ্ট হচ্ছে? আপনার পুরো পরিবার এখন মীর আব্রাজ রোদের অফিশিয়াল পার্টি মেম্বার!”
নৈশি আবরাজের পায়ের পাতা লক্ষ্য করে নিজের শক্ত হিলের জুতো দিয়ে এমন এক মোচড় দিয়ে চাপ দিল যে, আবরাজের সেই ফর্সা মুখ মুহূর্তের জন্য নীল হয়ে গেল। কিন্তু সে চরম ধড়িবাজ পলিটিশিয়ান! সিয়ামের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে হেসে বলল, “সিয়াম, তোর আপু বোধহয় ভালোবাসার চোটে একটু বেশিই কাছে ঘেঁষে বসছে!”
দুপুরের মহা ভুরিভোজের পর দুজনে এসে ঢুকল বেডরুমে। আব্রাজ ঘরে ঢুকেই পাঞ্জাবির ওপরের দুটো বোতাম খুলে সোজা নৈশির খাটের ওপর হেলান দিয়ে শুল। নৈশি ঘর বন্ধ করে এক লাফে খাটের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। তার হাতে সেই পরিচিত পড়ার টেবিলের ভারী কাঠের স্কেল!
“আপনি আমার পরিবারের সবাইকে কী খাইয়ে বশ করেছেন রোদ?” নৈশি স্কেলটা আবরাজের বুকের ওপর উঁচিয়ে চিল-চিৎকার করে বলল, “আব্বু-আম্মা আর সিয়াম আপনাকে দেখে যেভাবে গলে গেল, আমার তো মনে হচ্ছে আমি এই বাড়ির কেউ না, আপনিই ওদের আসল ছেলে!”
আব্রাজ অলস ভঙ্গিতে হাত দুটো মাথার নিচে দিয়ে শুয়ে শুয়ে নৈশির দিকে তাকাল। তার ঠোঁটের কোণে সেই চেনা বাঁকা শয়তানি হাসি। সে বড্ড মন্থর গলায় বলল, “পলিটিক্যাল চার্ম বলে একটা কথা আছে না নেত্রী? আপনার বাপের বাড়ির লোক বুদ্ধিমান, তাই তারা সঠিক পার্টিতে জয়েন করেছে। এখন শুধু এই ঘরের প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রীকে পুরোপুরি সমর্পণ করানো বাকি!”
“মুখ সামলে কথা বলুন!” নৈশি রাগে হাঁপাচ্ছে। “বাইরে আমার আব্বু-আম্মা আপনার গুণের কীর্তন গাইছে বলে ভেবে নিয়েন না বেডরুমেও আমি আপনাকে ছাড় দেব। চুপচাপ সোফায় গিয়ে ঘুমান!”
“সোফায়?” আব্রাজ এক ঝটকায় বিছানায় সোজা হয়ে বসল। সে বড্ড বেপরোয়া গলায় বলল, “যে জামাইয়ের ভক্ত আপনার পুরো পরিবার, তাকে আপনি বেডরুমের সোফায় পাঠাচ্ছেন? এটা তো আমার শাশুড়ি মার দেওয়া মালাইকারির চরম অপমান! আর তাছাড়া, বাইরে আষাঢ়ের ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে, আবহাওয়া বড্ড বিপজ্জনক…”
আব্রাজ কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ এক টানে নৈশির হাত থেকে স্কেলটা কেড়ে নিয়ে দূরে ছুঁড়ে ফেলে দিল। তারপর নৈশির ফর্সা কোমরটা একহাতে শক্ত করে চেপে ধরে তাকে এক হ্যাঁচকায় নিজের একদম গায়ের ওপর টেনে আনল! নৈশি আচমকা ধাক্কায় আব্রাজের ধবধবে সাদা পাঞ্জাবির বুকের ওপর আছড়ে পড়ল। তার গালে আব্রাজের তপ্ত নিশ্বাস এসে আছড়ে পড়ল।
“ছাড়ুন রোদ! সিয়াম বা আব্বু চলে আসবে!” নৈশি ছটফট করতে করতে বড্ড নিচু গলায় বলল।
“আসুক!” আব্রাজ নৈশির ভেজা চুলগুলো আলতো করে সরিয়ে তার কানের লতির কাছে মুখ এনে এক অদ্ভুত মাদকতাময় গলায় বলল, “আপনার আব্বু আর ভাই কিন্তু আমাকে অলরেডি পারমিশন দিয়ে দিয়েছে যে জামাই যেন ঘরে একদম রাজত্ব করে! ভোটে হেরেও আপনার এই তেজ কমেনি নেত্রী, কিন্তু আজকের এই বিশেষ অধিবেশনে বিরোধী দলকে কীভাবে পরাস্ত করতে হয় তা বিজয়ী এমপির খুব ভালো করেই জানা আছে।”
নৈশি আবরাজের বুকে কিল মারতে গিয়েও থেমে গেল। আবরাজের এক হাত তখন বড্ড চতুরভাবে নৈশির থ্রি-পিসের পিঠের আলগা ফিতেটা টেনে খুলতে শুরু করেছে!
“রোদ! আপনি একটা আস্ত ধড়িবাজ পলিটিশিয়ান!” নৈশি লজ্জায় মুখ লাল করে আবরাজের শার্টের কলারটা কামড়ে ধরার মতো করে চেপে ধরল।
আব্রাজ এক কড়া মিষ্টি চুমু নৈশির গালে বসিয়ে দিয়ে বড্ড চতুর হেসে বলল, “ধড়িবাজ বলেই তো পুরো আপনার বাপের বাড়িসুদ্ধ আপনাকে নিজের খাঁচায় বন্দি করে ফেলেছি বউ! এবার চুপচাপ অনাস্থা প্রস্তাব তুলে নেন,, নইলে কিন্তু আজকের এই জরুরি অধিবেশন কোনোভাবেই মুলতবি ঘোষণা করা হবে না!” নৈশি আর কোনো যুক্তি খুঁজে পেল না। পুরো পরিবারের অফিশিয়াল সমর্থন পাওয়া এই বেপরোয়া বরের ভালোবাসার জোয়ারে সে আবার নিজের অজান্তেই নিজেকে সম্পূর্ণ সঁপে দিতে বাধ্য হলো!
–
মীর বাড়ির পরিবেশটা বেশ থমথমে। সাঁঝ নিজের বেডরুমের জানালার পাশে কাঠের চেয়ারটায় কুঁজো হয়ে বসে ছিল। তার পরনে একটা হালকা বেগুনি রঙের থ্রি-পিস, ওড়নাটা দুই কাঁধে এলোমেলোভাবে পেঁচানো। সাঁঝের মনটা একদম ভালো নেই। কাল সকালের সেই ড্রয়িংরুমের নাটকের পর থেকে তার বুকের ভেতরটা এক অদ্ভুত লজ্জায় আর দোলাচালে দুলছে। আরযান ভাইয়া বড় আব্বুর সামনে যেভাবে গম্ভীর মুখে কথাগুলো ঘুরিয়ে দিল, স্পন্সরের মেয়ে নীলিমার বিরুদ্ধে করা হাঙ্গামাকে এক লহমায় হালকা করে দিল তা ভেবে সাঁঝের গাল দুটো এখনো লজ্জায় আর অনুশোচনায় লাল হয়ে উঠছে। কিন্তু কেন?
সে হাতের আঙুলের নখ কাটছে আর মনে মনে আবোল-তাবোল ভাবছে। ‘কী ভাবছেন নিজেকে উনি? এক তো পুরো স্টেডিয়ামের সামনে নীলিমাকে কড়া কথা শোনানোর পর আমাকে যেভাবে বকলেন, আর এখন বড় আব্বুর সামনে এমন সাধু সেজে রইলেন যেন সব দোষ আমার! আর ওই সিসিটিভি ফুটেজের ভয় দেখানো? আমাকে কুড়িগ্রামের টিকিট কাটার ভয় দেখিয়ে নিজের জালে বন্দি করাটাই তো উনার আসল উদ্দেশ্য ছিল!’
সাঁঝ এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানালার শিকগুলো চেপে ধরল। জানালার ওপাশে তখন আষাঢ়ের মেঘ জমে আকাশটা আবার ধূসর হতে শুরু করেছে। সাঁঝের চোখে পানি চলে এল। সে ভালো করেই জানে, সে ভালোবাসে এই পাথুরে মানুষটাকে। আরযান ভাইয়ার সেই চওড়া পিঠের ইনজুরির ওপর হাত রাখার সময় তার হাত যেভাবে কেঁপে উঠেছিল, সেই স্পর্শের স্মৃতি এখনো সাঁঝের শিরদাঁড়া বেয়ে এক তীব্র কাঁপন নামিয়ে আনে। কিন্তু আরযান ভাইয়ার ওই কড়া শাসন আর অহংকারী ভঙ্গিটা সাঁঝকে কিছুতেই তার মনের কথা প্রকাশ করতে দেয় না। ঠিক তখনই দরজার কাছে একটা গম্ভীর, ভারী পদক্ষেপের শব্দ পাওয়া গেল। সাঁঝ ঝট করে চোখের কোণের জল মুছে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল। দরজার ভারী পর্দাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকল আরযান। তার পরনে এখন আর মাঠের জার্সি অ্যাশ রঙের ক্যাজুয়াল ট্রাউজার। চুলগুলো সামান্য উসকোখুসকো। আরযান ঘরের ভেতর ঢুকেই বড্ড ধীরপায়ে এসে সাঁঝের ঠিক সামনে দাঁড়াল। সাঁঝ চোরের মতো মুখ নিচু করে নিজের ওড়নার কোণটা আঙুলে পেঁচাতে লাগল।
“আজকাল কই থাকা হচ্ছে? দেখাই তো যায় না।”
সাঁঝ মুখ না তুলেই বড্ড নরম আর কাঁপা গলায় বলল, “আমি… আমি তো ঘরেই ছিলাম আরযান ভাইয়া। আর সকালের ওইসব মিথ্যা কথা বড় আব্বুর সামনে বলে আপনি আমাকে পুরো অপরাধী বানিয়ে দিয়েছেন।”
আরযান এক পা আরও এগিয়ে এলো। সে তার ফর্সা, শক্ত আঙুল দিয়ে সাঁঝের চিবুকটা বড্ড আলতো অথচ কড়া অধিকার নিয়ে ধরে ওপরে তুলল। সাঁঝের ছলছল করে ওঠা চোখ দুটো সোজা গিয়ে বিঁধল আরযানের সেই নেশাতুর, গভীর চোখের মনি দুটোতে।
“মিথ্যা কোথায় বললাম সাঁঝ? তুই কি কাল জেলাস হয়ে নীলিমার ওপর চড়াও হসনি? আর তুই কি আমার পিঠের ইনজুরি দেখে সত্যি সত্যি কাঁদিসনি? সত্যিগুলোকেই তো একটু মীর বাড়ির স্টাইলে পরিবেশন করেছি মাত্র।”
সাঁঝ নিজের চিবুক ছাড়ানোর একটা ব্যর্থ চেষ্টা করে ফুঁপিয়ে উঠে বলল, “আপনি বড্ড ধড়িবাজ লোক! সিসিটিভি ফুটেজ দেখিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেল করছেন? আমি কোনো শর্ত মানব না আপনার!”
আরযান সাঁঝের কাঁধ দুটো দুই হাতে শক্ত করে চেপে ধরে তাকে এক টানে নিজের আরও কাছে নিয়ে এল। আরযানের চওড়া বুকের সাথে সাঁঝের শরীরটা একদম লেপ্টে গেল।
“শর্ত মানতে হবে না সাঁঝ,” আরযান বড্ড নিচু, গম্ভীর আর বুক কাঁপানো গলায় বলল, “কিন্তু মীর আরযান শানের খাঁচা থেকে ওড়ার ডানা তোর নাই। কাল সকালে যখন সাব-ডিরেক্টর আর ক্লাবের কমপ্লেন ফাইলটা পুরোপুরি ক্লোজ হয়ে যাবে, তখন থেকে তোর এই অবাধ্য মনটাকে কিন্তু আমার একদম অফিশিয়াল প্রেসক্রিপশনে চলতে হবে।”
সাঁঝের বুকের স্পন্দন তখন যেন হাজারটা ড্রামের শব্দের মতো বাজছিল। সে আরযান ভাইয়ার কালো টি-শার্টের কলারটা দুই হাতে শক্ত করে চেপে ধরে বড্ড আদুড়ে ভঙ্গিতে বলল, “আপনার প্রেসক্রিপশন কি বড্ড কড়া হবে, আরযান ভাইয়া?”
আরযান সাঁঝের কপালে তার ফর্সা, কড়া ঠোঁট দুটো চেপে ধরে মিষ্টি এক চিলতে হেসে বলল, “বড্ড কড়া সাঁঝ, তবে সারা জীবনের জন্য একদম রামবাণ ওষুধ!”
–
বিকেল তখন প্রায় সাড়ে পাঁচটা। নৈশি ঘুমিয়ে আছে। আব্রাজ এতক্ষণ তার কোমর ধরে শুয়েছিল। হঠাৎ বউকে পেছন থেকে খোঁচা মেরে বলল, “এই মানবদরদী নেত্রি আক্তার বউ, ঘুম থেকে উঠে আপনার স্বামীকে আরেকটু উপকার করুন না। আমি যে আর চুপ করে শুয়ে থাকছি পারছি না। বেশি করলে কিন্তু জবাবের পরোয়া করব না। আতালেপাতালে ১,২,৩ বলে শুরু করে দিব বিসমিল্লাহ বলেই।”
নৈশির ঘুম হালকা হয়ে গেল। সে কনুই দিয়ে আব্রাজকে ধাক্কা মেরে বলল, “এই বাল ধূরে যান, আপনি এই গরমের মধ্যে শরীর টাচ করলে আমার শরীর চুলকায়। এমনিতেও আপনি অলরেডি দিনে দুপুরে আমার সাথে অন্যায় কাজ আইমিন দূর্নীতি চাঁদাবাজি, জালিয়াতি সব করে ফেলেছেন। আর কাছে আসবেন না রোদ! আজ শ্বশুরবাড়িতে এসে আব্বু-আম্মাকে পটাইছেন বলে ভাববেন না আপনার কোনো ইমার্জেন্সি রুলিং আমি মানব! খুব তো ভোটের হারের খোঁচা দেওয়া হচ্ছিল!”
আব্রাজ তার স্বভাবসুলভ শয়তানি হাসি দিয়ে এক কদম এগিয়ে যায়। “বিরোধী দলের নেত্রী হয়ে বিজয়ী এমপির খাট ধরে এত তেজ? আজ তো আপনাকে আমি…”
দুজনের মধ্যে শুরু হয় তুমুল হাতাহাতি আর বালিশ যুদ্ধ। নৈশি খাট থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করতেই আব্রাজ তাকে পেছন থেকে জাপটে ধরার চেষ্টা করে। নৈশি নিজেকে ছাড়াতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে হাত-পা ছুঁড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে নিজের ভারসাম্য সামলাতে না পেরে অন্ধের মতো খামচে ধরে আব্রাজের লুঙ্গির গিঁট! ঠিক সেই মুহূর্তে ঘটে যায় শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ শ্বশুরবাড়ির ট্র্যাজেডি!
দরজাটা আগে থেকেই সামান্য ফাঁক হয়ে ছিল। নৈশির মায়ের নতুন কাজের মেয়ে ‘জরিনা’ যে গ্রাম থেকে নতুন এসেছে এবং টিভিতে এমপি সাহেবকে দেখে চরম ভক্তি করে। দুই গ্লাস ঠান্ডা রুহ-আফজার শরবত আর কাঁচাগোল্লা ট্রে-তে সাজিয়ে জামাইয়ের রুমে ঢোকে।
“আম্মা, খালাম্মা জামাই স্যারের লাইগা শরবত আর…”
জরিনার কথাটা আর শেষ হলো না! কারণ নৈশির হাতের এক চরম হ্যাঁচকা টানে আব্রাজের কোমরের সেই বহু প্রশংসিত লুঙ্গির গিঁটটা এক নিমেষে ফসকে যায় এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে তা এক সেকেন্ডের কম সময়ে সোজা ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ে! ঘরের ভেতর এক মুহূর্তের জন্য পিনপতন নীরবতা! জরিনার চোখ দুটো কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম! সে হাতের ট্রে-টা বুকের কাছে ধরে এমন এক ‘ভয়াবহ’ দৃশ্য দেখল, যা সে সাত জন্মেও কল্পনা করেনি! টিভিতে স্যুট-কোট পরা যে রাশভারী এমপি স্যারকে দেখে সে প্রতিদিন দূর থেকে সালাম ঠোকে, সেই দাপুটে জামাই স্যারের আজ শ্বশুরবাড়িতে এ কী হাল! জরিনা এক সেকেন্ডের জন্য দম বন্ধ করে রইল। তারপর সন্ধ্যার নিস্তব্ধতা খানখান করে দিয়ে এমন এক বিকট চিৎকার দিল, যা শুনলে পাশের ঘরের শ্বশুর সোহরাব সাহেবের চশমাও খসে পড়বে!
“ও মাগোওওও! জামাই স্যারের একি রূপ রে! আল্লাহ গো, আমার চোখ কানা হইয়া গেল গো! কি দেহা যায় এইডা। ও খালাম্মা দেইখা যান আপনার জামাইয়ের কী অবস্থা!”
জরিনার হাত থেকে কাঁচের গ্লাস আর ট্রের কাঁচাগোল্লা সোজা ফ্লোরে পড়ে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল। আর সে ওই ‘ভয়াবহ ও পৈশাচিক’ দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে চোখ উলটে ধপাস করে ফ্লোরে পড়ে একদম জ্ঞান হারাল! সেন্সলেস! নৈশি তো হা করেই রইল। আর আব্রাজ কি করবে বুঝতে পারছে না। সে চুপ করেই রইল। শেষে লুঙ্গির গিট দিতে দিতে বলল, “দেখেন তো আপনিও সব, তবে একটু অজ্ঞান হলে আজকে ভালোবাসাটা বাড়ত।”
চলবে?
Share On:
TAGS: ইশরাত জাহান জেরিন, যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমতৃষা পর্ব ২৫+২৬
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ১৭
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ৩৩
-
প্রেমতৃষা পর্ব ২১+২২
-
প্রেম আসবে এভাবে পর্ব ২
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ৩
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ৪৪
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ৩১
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ২১
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৪৮