#তোমাতেই_আসক্ত
#পর্ব:৩১
#তানিশা সুলতানা
আদ্রিতার আর খাওয়া হলো না। সামনে হরেক রকমের পছন্দের খাবার তবুও খেতে ইচ্ছে করছে না। আমান এবং সিয়ামের মন খারাপ। ওরা আজকে অফিসে যায় না। জরুরি কাজ থাকায় আহাদ এবং ইভান গিয়েছে। তবে খুব তাড়াতাড়ি ফিরবে বলে কথা দিয়েছে।
আতিয়া বেগম জামাকাপড় প্যাকিং করছে৷ স্বামী এবং বাড়ির জন্য বুক পুরছে তবুও যেতে ইচ্ছে করছে না। এই-বার চলে গেলে আবার কতোদিন পরে ছেলের মুখ খানা দেখতে পাবে তার কোনো হিসেব নেই।
আতিয়া বেগম এর ইচ্ছে করে বাংলাদেশের কোনো একটা মেয়ের সঙ্গে আবরারের বিয়ে দিতে। বউয়ের মায়ায় পড়লে আর দূরে থাকতে পারবে না। অন্তত বছরে একবার হলেও বাড়ি যাবে।
ভাবতে ভাবতেই ওনার মনে পড়ে ওনার বোনের মেয়ে আছে একটা। এবার অনার্স শেষ করলো। বড়ই ভালো আর সুন্দরী। তার সঙ্গেই আবরারের বিয়ে দিবে।
যেভাবেই হোক ছেলেকে বাংলাদেশে নিয়ে জোর করে হলেও বিয়ে দিবে।
অহনা সিয়ামের দিকে তাকিয়ে আছে। ছেলেটাকে ওর মন্দ লাগে না আবার ভালোও লাগে না৷ এই মুহুর্তে প্রচন্ড বিরক্ত লাগছে। ইচ্ছে করছে থাপড়ে গাল লাল করে দিতে।
কেমন হেংলার মতো বসে আছে। অহনা একটু পরে চলে যাবে তাতে যেনো ওর কিছু এসে যায় না। কেনো? সে কি অহনাকে পছন্দ করে না?
ও চলে গেলে কিছু এসে যায় না?
ওকেহহ
ওর যদি কিছু এসে না যায় তবে অহনারও কিছু যাবে আসবে না। থাকুক সে তার মতো।
কোনো এক্সপেকটেশন রাখবে না।
তবে সিয়ামকে এতো সহজে ছেড়েও দেবে না। শাস্তি পেতে হবে।
ভাবতেই দাঁড়িয়ে পড়ে অহনা। এক পা দু পা করে এগিয়ে যায় আমান এবং সিয়ামের দিকে।
তারপর সিয়ামের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে
“আমান ভাই আই লাভ ইউ
ডু ইউ লাভ মি?
আমান যেনো বিষম খেলো। সে হা করে তাকিয়ে থাকে অহনার মুখ পানে।
সিয়াম মাথা নিচু করে বসে আছে৷ এখনো তার কিছু বলার নেই। বা একটুও চমকালো না। সে আগেও যেমম ছিলো এখনো তেমন।
অহনা হতাশ হলো বোধহয়। কেমন দীর্ঘ শ্বাস ফেললো।
আমান জবাব দেয়
” তুমি যদি সত্যিই ভালোবেসে থাকো তবে বলবো আমারও তোমাকে পছন্দ।
আর যদি সিয়ামকে জেলাস করতে বলে থাকো তবে বলবো অসহায় আমানের মন নিয়ে খোলো না।
অহনা স্পষ্ট স্বরে জবাব দেয়
“আপনি আমায় বিয়াই লাগেন যে মিথ্যে বলবো?
আর সিয়াম কোন ক্ষেতের মুলা যে তাকে জেলাস করবো?
বলেই বড় বড় পা ফেলে চলে যায়।
সিয়াম এবার মুখ তুলে তাকালো। আমান বলে
” এই মেয়ের মুখে মধু নাই রে সিয়াম।
“তাতে আমার কি?
ওর প্রতি আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই।
যা খুশি করুক
” ভাই তুই কাকে মিথ্যে বোঝাচ্ছিস?
“নিজেকে।
আবরারের দেওয়া খাবার খেয়ে বেঁচে আছি। ওর সাথে বেইমানি করতে পারবো না আমি।
সিয়ামও চলে গেলো। বসে রইলো শুধু আমান। সে গভীর ভাবনায় বিভোর। হঠাৎ সিয়াম কেমন বড় হয়ে গেলো। জ্ঞানীদের মতো কথা বলছে। এই সিয়ামকে তো আমান চিনতেই পারছে না৷
____
আর মাত্র এক ঘন্টা পরেই আদ্রিতারা আবরার’স হাউজ থেকে বিদায় নিবে। গম্ভীর রগচটা মানুষটাকে আর দেখতে পাবে না। তার বিরক্তিতে কুঁচকে থাকা চোখ মুখ দেখা হবে না।
কেউ ধমক দিবে না।
গলা টিপে ধরবে না। বা চুমুও খাবে না।
কিভাবে সইবে আদ্রিতা? কিভাবেই বা তাকে না দেখে থাকবে?
না না একদমই পারবে না৷
আদ্রিতার আবরার তাসনিনকে লাগবে। তার সঙ্গেই থাকতে হবে।
চোখ দুটো টলমল করছে আদ্রিতার।
মন বলছে দৌড়ে আবরারের কক্ষে চলে যেতে।
কিন্তু বিবেক বলছে নাহহহ
যে তোমাকে চাচ্ছে না তার থেকে দূরেই থাকো।
কারো বিরক্তির কারণ হইও না।
দূরে ওই জুরিখ নদীর টলমলে পানি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। আসমানে বিশাল বড় চাঁদ উঠেছে। চাঁদের হায়ে কলঙ্ক।
ঠিক যেমন আদ্রিতার গায়ে রয়েছে কলঙ্কের দাগ।
হ্যাঁ আবরার তাসনিন দ্বারা কলঙ্কিত হয়েছে সে।
__
সবে মাত্র বাসায় ফিরলো আবরার। নিজ কক্ষে প্রবেশ করতেই দেখতে পায় সেখানে আগে থেকেই সিয়াম উপস্থিত।
আবরারকে দেখেই বলে ওঠে
” আদ্রিতা চলে যাচ্ছে।
তুই কি বলবি না?
আবরার ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। খানিকক্ষণ নিজেকে দেখতে থাকে আয়নায়।
তারপর গম্ভীর স্বরে বলে
“কি বলবো?
“ওকে যেতে দিবি না।
বিয়ে করে নিবি।
আবরার ট্রাই খুলতে খুলতে বলে
” ও আমার
“সেটা তো জানি
তবুও কেনে?
” আমি দেখতে চাই ও আমাকে ছাড়া থাকতে পারে কি না?
আমাকে পাওয়ার জন্য কি কি করতে পারে।
আমি ওর জন্য যতটা আসক্ত ও আমার জন্য ঠিক ততটা আসক্ত কি না।
“যদি তোকে ছাড়া থাকতে পারে?
যদি ফেইল করে?
আবরার আয়নার মধ্য দিয়েই তাকালো সিয়ামের মুখ পানে।
” ও আমার জন্য পাগল হয়ে যাবে।
সব বাঁধা ভেঙে ছুটে চলে আসবে আমার কাছে।
আবরারের কথা শেষ হওয়ার আগেই আদ্রিতা চলে আসে। দৌড়ে এসেছে সেটা তার জোরে শ্বাস টানার ধরণ দেখেই বোঝা যাচ্ছে।
সিয়াম অবাক হলো একটুখানি।
আদ্রিতার চোখে পানি দেখে ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে ওঠে।।
শিস বাজাতে বাজাতে চলে যায় কক্ষ থেকে।
সিয়াম বের হতেই আবরার তাকায় আদ্রিতার মুখ পানে।
দুই ভ্রু আড়াআড়ি ভাবে কুঁচকে বলে
“এখানে কি চাই?
ঠোঁট উল্টে কেঁদে ফেললো আদ্রিতা। থেমে থেমে বলে
” আমি থাকতে চাই
আবরার এগিয়ে আসে আদ্রিতার দিকে। বুকে হাত গুঁজে বলে
“ভেবে বলো।
আদ্রিতা সময় না নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে বলে
” ভেবেছি
“আমি কিন্তু খুব খারাপ।
যখন তখন কিস করবো।।এখানে ওখানে টাচ করবো। এভরিডে ইন্টিমেন্ট হবো।
সামলাতে পারবে আমায়?
ঠোঁট কামড়ে চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলে আদ্রিতা। এমন নির্লজ্জ প্রশ্নের জবাব দিবে কিভাবে?
কিভাবেই বা বলবে “সব কিছুতেই রাজি আমি। শুধু আমায় বিয়ে করুন”
আদ্রিতাকে চুপ থাকতে দেখে আবরার বলল
“ওকেহহ
তুমি পারবে না
” পারবো আমি
সব সহ্য করে নিবো।
শুধু আমায় বিয়ে করুন৷
“তোমার সাথে ইন্টিমেট হওয়ার জন্য বিয়ে করতে হবে?
আদ্রিতা মুখে কিছু বললো না। তবে দুই অনবরত মাথা নারিয়ে সম্মতি প্রকাশ করে।
আবরার পূণরায় ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। শার্টের বাটন খুলতে খুলতে বলে
” তোমার মামা যদি পারমিশন দেয় তাহলে বিয়ে করবো।
তুমি তার থেকে পারমিশন নিয়ে এসো।
সে পারমিশন না দিলে কখনো আমার সামনে আসিও না
খুশি হলো আদ্রিতা। মামা তাকে খুবই ভালোবাসে। যখন চা চায় তখনই তাই এনে দেয়। আবরারকে চাইলে কখনোই মানা করবে না এতোটুকু আত্নবিশ্বাস ওর রয়েছে।
“সত্যি বলছেন?
মামা রাজি হলে আমাকে সাথে রাখবেন? কখনো দুঃখ দিবেন না? কথা দিচ্ছেন?
“কথা দিলাম
ভালোবাসায় মুরিয়ে রাখবো তোমায়। এতো ভালোবাসবে যে অসহ্য হয়ে যাবে।
আর তিনি অনুমতি না দিলে সারাজীবনের জন্য আমাকে হারাবে।
চলবে
Share On:
TAGS: তানিশা সুলতানা, তোমাতেই আসক্ত, তোমাতেই আসক্ত সিজন ২
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৪
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১৬
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৪৩
-
তোমাতেই আসক্ত পর্ব ২৩
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ১২
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৪৭
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১৫
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩০
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩৩
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৫৬