Golpo romantic golpo জেন্টাল মন্সটার

জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৬৪


#জেন্টাল_মনস্টার

#লামিয়া_রহমান_মেঘলা

#পর্ব_৬৪

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]

আসরাফ খান বসে আছে মিসেস মিহুর সামনে।

মিসেস মিহুর চোখে জ্বলছে আগুন। সেই আগুন যেন মুহূর্তেই সবকিছু ভস্ম করে দিতে পারে।

সন্তানের বিপদে একজন মা হয়ে ওঠে হিংস্র সিংহিনী। যার এক থাবায় সম্পূর্ণ জঙ্গল ধ্বংস হয়ে যাওয়াও অসম্ভব নয়।

“আমি এবার কিছুই করিনি, বিশ্বাস করো।”

“বিশ্বাস আর আপনাকে? হাসালেন মিস্টার খান।

আমার স্বামী আপনার বন্ধু ছিল।

আমার স্বামীর সফলতা দেখে আপনি হিংসা করে আমার স্বামীকে খুন করেছিলেন। শুধু তাই নয়, আমার দুধের শিশুকেও আপনি চুরি করে নিয়ে গিয়েছিলেন।

সেদিন আমি মিহু অসহায় ছিলাম।

সায়েরকে নিয়ে পালানো ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না।

কিন্তু আজকের মিহু দুর্বল নয়।

আমি রাদিয়া সুলতানা মিহু চাইলে এই মুহূর্তেই আপনাকে মেরে লাশ গুম করে দিতে পারি। দিচ্ছি না, কারণ আমাকে সবটা জানতে হবে।

আমার আদ্রিতাকে নিয়ে কী পরিকল্পনা করেছেন সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করুন। আমার মাথা গরম আছে। বেশি পাকামি করতে চাইলে আপনার খুলি উড়িয়ে দেব, বাতাসও টের পাবে না।”

আসরাফ খান মিসেস মিহুর ধমক শুনে ভয় পেয়ে গেল।

মিহু যা বলছে, তার একটি কথাও মিথ্যা নয়।

মিসেস মিহু চাইলে সবই করতে পারেন।

সব মানে সত্যিই সব।

আসরাফ খান আমতা আমতা করে বললেন,

“আ, আমি কিছু করিনি। টোটো আমাকে টাকার অফার করেছিল। তার বদলে আদ্রিতার সব তথ্য দিতে বলেছিল।”

মিসেস মিহু বসা থেকে উঠে এসে আসরাফ খানের সামনে দাঁড়িয়ে সজোরে একটি থাপ্পড় বসিয়ে দিলেন তাঁর গালে।

থাপ্পড় খেয়ে আসরাফ খানের চোখ বিস্ফারিত হয়ে উঠল।

জীবনে প্রথম কোনো মহিলার হাতে থাপ্পড় খেয়ে তাঁর অহংকার ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।

রাগান্বিত দৃষ্টিতে তিনি তাকালেন মিসেস মিহুর দিকে।

“তোর সাহস কী করে হলো আমার গায়ে হাত তোলার?”

“হাহ, সাহসের কী দেখেছেন মিস্টার খান? সাহস তো এখনো দেখানো বাকি আছে।”

মিসেস মিহু নিজের পার্স থেকে একটি শর্ট গান বের করে আসরাফ খানের কপালে ঠেকালেন।

“সবটা স্বীকার করুন। নাহলে একটি গুলিই যথেষ্ট।”

আসরাফ খান ঘাবড়ে গেলেন।

মিসেস মিহু ট্রিগারে চাপ দিতে যেতেই তিনি চিৎকার করে উঠলেন,

“আমি বলছি। আমি সব বলছি। সব বলছি।”

মিসেস মিহু আবার গিয়ে নিজের জায়গায় বসলেন।

“হ্যাঁ, আমি হিংসা করতাম।

আমি আপনার স্বামীকে হিংসা করতাম।

ওনার সব ছিল, অথচ আমার ছিল সামান্য একটি চাকরি।

ওনার সফলতা দেখে আমি হিংসায় পুড়তাম। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, ওনাকে নিঃস্ব করে দেব।

সেই কারণেই আপনার স্বামীর গাড়ি এক্সিডেন্ট করিয়ে সানাকে চুরি করিয়েছিলাম।

কিন্তু সানা ঘুরে ফিরে আবার আমারই ঘরে এলো।

আর আদ্রিস ওর ঢাল হয়ে ওকে রক্ষা করতে লাগল।

আমি বহুবার চেষ্টা করেছি সানাকে মেরে ফেলতে, কিন্তু পারিনি।

তারপর বুঝলাম, আদ্রিস সানার জন্য পাগল।

আমি আর সানাকে কিছু করতে পারিনি।

ওই মেয়েটার জন্য আমার ছেলে আমাকে ছেড়েছে, নিজের মাকেও ছেড়েছে।

এসব আমার সহ্য হচ্ছিল না। তাই এসেছি ওকে মারতে।

টোটোকে টাকা দিয়েছি। আদ্রিতাকে কিডন্যাপ করার পুরো পরিকল্পনাই ছিল আমার।”

আসরাফ খান এমনভাবে সব স্বীকার করছিলেন, যেন তাঁর করা ভয়ংকর অন্যায়গুলো কোনো বিষয়ই নয়।

মিসেস মিহু শুধু অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন তাঁর দিকে।

ওদিকে কনফারেন্স রুমে বসে সবকিছু শুনছিল সায়ের।

চোখের সামনে যেন ভেসে উঠছিল তাদের জীবনের সমস্ত কষ্ট, সমস্ত দুঃখের মুহূর্তগুলো।

মিসেস মিহু চাইলে এই মুহূর্তেই গুলি করে মেরে ফেলতে পারতেন আসরাফ খানকে।

কিন্তু না, তিনি আদ্রিসের বাবা।

এই শাস্তিটা না হয় আদ্রিসই দিক।

মিসেস মিহু ইশারায় গার্ডদের ডাকলেন।

তারা এসে আসরাফ খানকে ধরে নিয়ে গেল।

মিসেস মিহু কিছুক্ষণ নিঃশব্দে বসে রইলেন সেখানে।

———-

টোটোর মেনশন।

“কিরে, জুতা পরিষ্কার করে দে। বসে রইলি কেন? দেখ আদ্রিস, তুই যত বসে থাকবি, আদ্রিতার তত কষ্ট হবে।”

আদ্রিস একবার পাশ ফিরে তাকাল।

আদ্রিতার অবস্থা ভালো নয়।

মেয়েটি নিঃশ্বাস নিতেও লড়াই করছে।

আদ্রিস যখন কাপড়টা হাতে নিয়ে টোটোর জুতার দিকে বাড়াবে, ঠিক তখনই চারপাশ কাঁপিয়ে ভেসে এলো গুলির শব্দ।

আদ্রিস সোজা তাকাল সামনে।

টোটোর পা থেকে গড়িয়ে পড়ছে রক্ত।

আর টোটো যন্ত্রণায় লুটিয়ে পড়েছে মাটিতে।

সায়ের ধীর পায়ে হেঁটে এসে টোটোকে মেঝে থেকে টেনে তুলল।

আদ্রিস উঠে এক দৌড়ে ছুটে গেল বেসমেন্টের দিকে।

বেসমেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা গার্ডদের একে একে শেষ করে দিয়ে সে প্রবেশ করল ভেতরে।

তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়ছে।

আদ্রিস দ্রুত গিয়ে আদ্রিতার হাত পায়ের বাঁধনের দড়িগুলো খুলতে লাগল একে একে।

আদ্রিতার জ্ঞান নেই।

আদ্রিস তাকে পাঁজাকোলে তুলে নিয়ে সোজা বেরিয়ে এলো বেসমেন্ট থেকে।

সম্পূর্ণ মেনশন তখন রক্তে রঞ্জিত।

ভেতরে বাইরে আর কেউ জীবিত নেই।

আদ্রিস তাকাল টোটোর নিথর দেহের দিকে।

সায়েরের চোখেমুখে তখন হিংস্রতার ছাপ।

সমস্ত শরীর জুড়ে রক্ত, তবে সেই রক্ত তার নিজের নয়।

আদ্রিস বলল,

“ভাই, আদ্রিতা খুব ধীরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে। আমাদের যেতে হবে।”

সায়ের দ্রুত বেরিয়ে গেল আদ্রিস আর আদ্রিতাকে নিয়ে।

ওরা বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর সেখানে এসে থামল আরেকটি গাড়ি।

গাড়ি থেকে নেমে এলেন মিসেস মিহু।

তার গার্ডরা মেনশনের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা সমস্ত মৃতদেহ টেনে হিঁচড়ে ভেতরে নিয়ে যেতে লাগল।

এক এক করে সব লাশ ফেলে দেওয়ার পর মেনশনের সমস্ত গেট বন্ধ করে দেওয়া হলো।

সব কাজ শেষ করে সবাই যখন এসে মিসেস মিহুর পেছনে দাঁড়াল, তখন তিনি হাতে থাকা একটি রিমোটে চাপ দিলেন।

মুহূর্তের মধ্যেই বিকট শব্দে কেঁপে উঠল সম্পূর্ণ মেনশন।

ভয়াবহ বিস্ফোরণে আগুন গ্রাস করে নিল সবকিছু।

চোখের সামনে দাউ দাউ করে জ্বলতে লাগল পুরো মেনশন।

মিসেস মিহুর অন্তরের আগুন যেন সেই অগ্নিশিখার মাঝেই জ্বলে উঠেছে।

তিনি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন সেখানে।

কিছুক্ষণ জ্বলন্ত আগুনের দিকে তাকিয়ে থেকে ধীরে বললেন,

“আমার সন্তানের দিকে যে হাত এগোবে, তার পরিণতিও এমনই হবে।”

কথাগুলো বলেই তিনি গাড়িতে উঠে বসলেন।

সঙ্গে সঙ্গে তাঁর গার্ডরাও অনুসরণ করল তাঁকে।

——–

হসপিটালের করিডোরজুড়ে শুধু আদ্রিসের চিৎকার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

ছেলেটা যেন সম্পূর্ণ উন্মাদ হয়ে গিয়েছে।

আদ্রিতার এমন অবস্থা তার কিছুতেই সহ্য হচ্ছে না।

সায়েরও ব্যর্থ আদ্রিসকে শান্ত করতে।

ডক্টররা দ্রুত আদ্রিতাকে চেকআপের জন্য নিয়ে গেলেন।

আদ্রিস বাইরে বসে আছে।

ছেলেটার চোখ ভেজা অশ্রুতে।

সে যেন কিছুই বুঝতে পারছে না, তার সঙ্গে ঠিক কী ঘটছে।

এরই মধ্যে মিসেস মিহুও পৌঁছে গেলেন হসপিটালে।

মিসেস মিহুকে দেখেই আদ্রিস আরও ভেঙে পড়ল।

মিসেস মিহু এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরলেন তাকে।

এবার আর নিজেকে সামলাতে পারল না আদ্রিস।

সে শিশুর মতো কেঁদে উঠল।

মিসেস মিহু স্নেহভরা হাতে আদ্রিসের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।

“তোর ভালোবাসা আদ্রিতাকে কিছু হতে দেবে না বাবা। চিন্তা করিস না, সব ঠিক হয়ে যাবে।”

মিসেস মিহুর দৃষ্টি এবার গিয়ে থামল সায়েরের দিকে।

“সায়ের, ফ্রেশ হয়ে এসো।”

“মম, কিন্তু এখন?”

“সায়ের, আমি যা বলছি তাই করো।”

সায়েরের পুরো শরীরজুড়ে তখন রক্ত লেগে আছে।

কেউ দেখলেই সহজে আন্দাজ করে ফেলবে সবকিছু।

তাই মিসেস মিহু সায়েরকে ফ্রেশ হতে পাঠিয়ে নিজে আদ্রিসকে সামলাতে লাগলেন।

আদ্রিস সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

একজন মাফিয়া বস কাঁদছে, তাও আবার এক নারীর জন্য।

মিসেস মিহুর বুকের কোথাও যেন এক অদ্ভুত শান্তি অনুভূত হলো।

এই ভেবে যে, তাঁর মেয়েটা সত্যিই একজন ভালো মানুষের হাতে আছে।

চলবে?

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply