Golpo romantic golpo জল তরঙ্গের প্রেম

জল তরঙ্গের প্রেম পর্ব ৪৫


#জল_তরঙ্গের_প্রেম
পর্ব সংখ্যা;৪৫
#লেখনীতে_নবনীতা_চৌধুরি
সময় প্রবাহমান! সে কারো জন্যই অপেক্ষা করে না। ভালো খারাপ মিলিয়ে সপ্তাহ কাটে। তার পর মাস, অতঃপর ক্যালেন্ডারের পাতা খুইয়ে গোটা একটা বছর। প্রকৃতির সবচেয়ে রহস্যময় বস্তু হচ্ছে সময়।
কথিত আছে, ” বিরহ লগ্নে সন্ধ্যা পড়ে না। অথচ, খুশির হট্টগোলে বছর ফুরিয়ে যায়। “
আজ ডিসেম্বরের এক তারিখ। আর ঘড়ি ধরা মাত্র; ত্রিশ দিন পর ছাব্বিশ সাল শেষ হয়ে সাতাশে পড়বে।
সময় বড়ই অদ্ভুত। তরীর নতুন সংসারের বয়স দুই মাস পূর্ণ হয়েছে আজ। দুই মাস পূর্ণ হবার উপলক্ষে সকাল থেকেই খুশিতে গদগদ তরঙ্গ। পুরো ফ্ল্যাট ঘুরে ঘুরে গান গাইছে আর ভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য তৈরী হচ্ছে সে। ফর্সা তরঙ্গ আরো ফর্সা হয়েছে। জিম না করা শর্তে ও তার শরীর এখনো পেটানো ই আছে। তরী কিচেনে রুটি বেলছে। ডিসেম্বরের মিষ্টি রোদ এসে ছুঁয়ে দিচ্ছে মেয়েটাকে। চুলোর তাপে কিঞ্চিত ঘেমে নেয়ে এক অবস্থা তার। আটা সমেত হাতটা তুলে কপালের পাশ গড়িয়ে নেমে আসা ঘামের ফোঁটা গুলো মুছে নিলো তরী। গত সপ্তাহ ধরে শরীরটা ভালো যাচ্ছে না তার।
হঠাৎ, হঠাৎ বুক ধড়ফড় করে। খেতে গেলেই বমি, বমি ভাব হয়। মাথা ঘুরিয়ে উঠে। এই তো গত কাল রাতে আচমকা মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু ভাগ্যে ক্রমে তরঙ্গ সময় মতো ধরে ফেলে ছিলো বলে। কাঠের টেবিলের কোণায় কপাল কাটেনি। নয়তো বিচ্ছিরি একটা কান্ড হতো। তরঙ্গ এতে খুব ভয় পেয়ে ছিলো। তরীকে শক্ত করে জাপ্টে ধরে ছিলো নিজের সাথে। মিনিট পাঁচ না পেরোতেই তরীকে শান্ত ভাবে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে টেবিলের কর্ণারটাতে গামছা পেঁচিয়ে স্কচটেপ মেরে দিয়ে ছিলো। পাছে না মেয়েটা আবার ব্যথা পায়।
বেসিনের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল ঠিক করতে ব্যস্ত তরঙ্গ। হঠাৎ, পাশে তীব্র শব্দে কিছু পড়ে যেতেই ঘাড় বাঁকিয়ে তাকিয়ে ‘তরী’ বলে চেঁচিয়ে উঠলো সে। ঝটপট মেঝেতে বসে তরীর মাথাটা কোলে তুলে নিলো তরঙ্গ। হাত লম্বা করে কিচেনের ট্যাপ ছেড়ে পানির ঝাপটা দিলো তরীর চোখে মুখে। কিন্তু মেয়েটা তাকালো না। তরীকে পড়ে যেতে দেখেই অন্তর আত্মা শুকিয়ে গিয়েছিল তার। এখন পানির ঝাপটা দেওয়ার পর ও জ্ঞান ফিরছে না দেখে আরেক ধাপ ভয় পেলো সে। দ্রুত তরীর নাক মুখ এক হাতের মাঝে চেপে ধরে নিঃশ্বাস চলাচল বন্ধ করতেই শরীর দুলিয়ে জেগে উঠলো তরী।
নিজেকে তরঙ্গের কোলে আবিষ্কার করে, মাথার পেছনে হাত নিয়ে স্পর্শ করে মৃদ্যু চেঁচিয়ে উঠলো।
–” আহহহ,,”
দ্রুত পায়ে হেঁটে বেড রুমে ফিরে। তরীকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে কম্বল টেনে দিলো পেটের উপর। অতঃপর নিজে শিহরে বসে ঝাঁঝালো কন্ঠে সুধালো;-
–” কি ভাবে কাজ করিস হ্যাঁ? আমার আর আমার ভালোবাসার উপর এতো জুলুম করে ও তোর শান্তি হয়নি তাই না? এখন নিজের উপর জুলুম করা শুরু করেছিস?”
অবুঝ চোখে তরঙ্গের দিকে তাকিয়ে রইলো তরী। সে জানে, তরঙ্গের রাগ গলিয়ে পানি করার একমাত্র উপায় এটা। তরীর চালাকি বুঝতে পেরে চোখ সরিয়ে নিলো তরঙ্গ। উঠে দাঁড়িয়ে শার্টের হাতা গোটাতে গোটাতে রুম থেকে বেরিয়ে এলো। গায়ের আকাশি রঙা শার্টটা খুলে ড্রয়িং রুমে টানানো রশিতে নেড়ে দিয়ে। উদোম শরীরে কিচেনে এসে তাওয়া বসিয়ে তরীর বেলা আধ রুটিটা বেলতে শুরু করলো তরঙ্গ। সে আর কথা বলবে না ওই ঘাড় ত্যাড়া মেয়ের সাথে। থাকুক সে নিজের মতো। পেয়েছে টা কি তাকে? একটু ও নিজের শরীরের যত্ন নেবার প্রয়োজন বোধ করে না। মেয়েটা কি জানে না? তার কিছু হলে যে তরঙ্গ জীবন্ত লাশ হয়ে যাবে!
পা টিপে টিপে রুমের দরজার কাছে এসে উঁকি দিলো তরী। তরঙ্গ কে এক মনে কাজ করতে দেখে কিছু টা সাহস সঞ্চার করে তার পেছনে এসে দাঁড়ালো। তরীকে দেখে ও না দেখার ভান করে চুপ করে রইলো তরঙ্গ। তরী নিচু স্বরে আওড়ালো;-
–” সরি তরঙ্গ, আর এমন হবে না।”
–” …….. “
–” শুনেন না! এতো রাগ করছেন কেন?”
–” ……… “
এইবারে ও তরঙ্গ জবাব দিলো না। কথার জালে ফাঁসাতে ব্যর্থ হয়ে নতুন ফন্দি আটলো তরী। পাশে রাখা প্লাস্টিকের পিঁড়িটা পা দিয়ে টেনে তরঙ্গের পেছনে এনে রাখলো সে। তা দেখে গম্ভীর স্বরে বললো তরঙ্গ;-
–” কেউ আবার পড়ে গেলে আমি তাকে নিচে ডাস্টবিনে পেলে দিয়ে আসবো! মাইন্ডে যাতে এটা সেটাপ করেই পিঁড়িতে দাঁড়ায়।”
তরী একটু ও ভড়কালো না। বরং তরঙ্গের ভাবনাতীত এক কাজ করে বসলো সে। পেটের কাছের শাড়ির অংশটা সরিয়ে নিয়ে পিঁড়িতে উঠে দাঁড়ালো তরী। পর মুহূর্তে তীব্র আলিঙ্গনে তরঙ্গের উদোম পিঠ চেপে ধরলো নিজের বুকের সাথে। তরীর উন্মুক্ত পেটের সাথে নিজের পিঠের স্পর্শ হতেই চোখ বড় বড় করে নিলো তরঙ্গ। কিন্তু সবে তো তরীর সারপ্রাইজ দেওয়া শুরু। তরঙ্গের বুকে অবাধ্য দু’হাতের স্পর্শ চালিয়ে অনবরত চুমু একে দিলো পিঠময়। কারেন্টের শক খাওয়া রোগের মতো স্থির হয়ে গেলো তরঙ্গের হাত জোড়া। মিনিট এক সে বুঝতেই পারলো না কি হয়েছে।
–” ডু ইউ ইনজয় দিস কিস!”
কিন্তু তরীর আফিম মেশানো নেশালো কণ্ঠ স্বর কর্ণগোচর হতেই এক ঝটকায় ঘুরে তরীকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরলো সে। কোমর পেঁচিয়ে পা দিয়ে ঢেলে পিঁড়িটা সরিয়ে দিলো তরঙ্গ।
–” ডু ইউ মিস মাই কিস কির্টেন?”
–” না না, সরি সরি। আমি চলে যাচ্ছি তরঙ্গ। আপনি আপনার কাজ করুন।”
–” তা তো হচ্ছে না। তুমি চলে যেতে চাইলেই তো আমি যেতে দিতে পারি জান!”
ভয়ে দেয়ালের সাথে সিটিয়ে গেল তরী। অভুক্ত সিংহের গুহার সামনে এসে হরিণ ধরা দিলে তো সিংহ খাবেই! তরঙ্গ ও তো তেমন ই। কোন কুক্ষণে যে এই বুদ্ধি মাথায় চেপে ছিলো তার। ভাবনার মাঝে তরীকে দেয়ালের সাথে চেপে শূন্যে উঁচিয়ে তার গলায় মুখ গুঁজে দিলো তরঙ্গ।
–” মাঝে মধ্যে একটু রোমান্টিক হলে ও তো পারিস। সব সময় এমন পালাই পালাই করিস কেন?”
দু’হাতের সাহায্যে তরঙ্গের ঠোঁট চেপে ধরলো তরী।
–” অসভ্য, মানুষ দেখবে।”
–” মানুষ জানলে আমার কি? আমি পরকিয়া করছি নাকি?”
কথা শেষ করে তরীর ঠোঁট জোড়া নিজের আয়ত্তে আনতে যেতেই ওয়াক করে উঠলো তরী। মুখে হাত চেপে দ্রুত পায়ে বেসিনের কাছে ছুটে এলো সে। পর মুহূর্তেই পেটে থাকা অবশিষ্ট খাবার টুকু বেসিনে ঢেলে দিলো সে। তরঙ্গ পেছন থেকে এসে নিজের শরীরের সাথে আঁকড়ে ধরলো মেয়েটাকে।
–” ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নাও। তোমাকে ডক্টরের কাছে নিয়ে যাবো। আমার ভালো লাগছে না।”


এখন মাঝ দুপুর!
শীতের দুপুর হওয়ার পর ও ভ্যাপসা গরম লাগছে তরীর। পিঠের বোরকার অংশ ঘেমে উঠেছে। হসপিটালের ওয়েটিং রুমে বসে ব্লাড টেস্ট, আর ইউরিন টেস্টের রির্পোট গুলোর জন্য অপেক্ষা করছে দু’জনে। ওয়েটিং রুমের ফ্যান গুলো সব বন্ধ। ডাক্তার দেখানোর পর। ডাক্তার বলে ছিলো,
–” লক্ষণ গুলো প্রেগন্যান্সিরই মনে হচ্ছে। যেহেতু এখনো প্রাথমিক পর্যায়, নিশ্চিত হওয়ার জন্য আপাতত ব্লাড আর ইউরিন প্রেগন্যান্সি টেস্ট করানোই ভালো। এরপর গর্ভকাল ৬–৮ সপ্তাহ হলে আল্ট্রাসাউন্ড করালে বিষয়টা আরও পরিষ্কারভাবে বোঝা যাবে।”
সেই থেকে ভয় আর লজ্জায় তরীর অবস্থা জড়সড়। ওদের ডাক পড়তেই সাবধানে ধরে তরীকে দাঁড় করালো তরঙ্গ। নিজের সাথে আগলে ধরে মেয়েটাকে নিয়ে চেম্বারে প্রবেশ করলো সে। ধীর কণ্ঠে ডাক্তার বসতে বললো।
–” বসুন,”
কথাটা শেষ করতেই তরীকে বসিয়ে দিয়ে তরঙ্গ নিজে ও বসে পড়লো। ডাক্তার রির্পোট গুলো নেচে চেড়ে দেখাতে মনোনিবেশ করলেন। পাঁচ মিনিট গম্ভীর মুখে রির্পোট দেখা শেষে স্মিত হাসলেন ডাক্তার জাওয়াদ চৌধুরি।
–” আপনার স্ত্রী প্রেগন্যান্ট! কংগ্রেস মিস্টার দেওয়ান।”
হঠাৎ এহেন কথায় চমকে তাকালো তরঙ্গ। গলার স্বর সবোর্চ্চে ছড়িয়ে চেঁচালো সে।
–” কি? কে প্রেগন্যান্ট?”
–” আপনার স্ত্রী!”
ডাক্তারের কথায় দপ করে চেয়ারে বসে পড়লো তরঙ্গ। দু’হাতে মাথার চুল টেনে ধরে চেঁচিয়ে উঠলো সে।
–” কিন্তু আমি তো কেবল একবার ই তরী জানের কাছাকাছি গেছি। এ কিছুতেই হতে পারে না। আমি মানি না। সবাই এখন জেনে যাবে। আমরা বাসর সেরে ফেলেছি। আমি সমাজে মুখ দেখাবো কীভাবে?”
–” আপনারা দু’জনেই প্রাপ্তবয়স্ক। একবার ইন্টিমেন্ট হওয়াই যথেষ্ট প্রেগন্যান্ট হওয়ার জন্য।”
–” আমি মানি না। আরো দুই, একবার বাসর সারার পর বাচ্চা হলে তাও মানতাম। আপনাদের মেশিন নষ্ট। আবার পরীক্ষা করুন।”
ডাক্তার বিরক্ত ভঙ্গিতে তরঙ্গের দিকে তাকালো।
–” আমাদের মেশিন ঠিকই আছে। বরং আপনার মেশিন দ্রুত কাজ করেছে।”
#চলবে
( আসসালামু অলাইকুম প্রিয় চড়ুই মহল!
কেমন আছেন আপনারা? গল্প টল্প কি এখন আর পড়ছেন না। গল্পের রেসপন্স দেখছি কমে গেছি। মন্তব্য ও করছেন না। ব্যাপার কি পাখিরা? গল্প পড়ে অবশ্যই মন্তব্য জানাবেন। তাহলে লেখার উৎসাহ পাই।) See less

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply