#মূল্য |০৬|
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
ঈশিতা বাসায় এসে জামাকাপড় গুলো তার মা’কে দেখায়। ঈশিতার মাও কাপড়গুলো বেশ প্রশংসা করে বলে–
—অরির বউটা কত গুণে গুণান্বিত রে ঈশু! সংসারের সব কাজ সামলে, আবার এসবও করছে। বলতে হবে আমার বোন কোন এক পূণ্যের বিনিময়ে এমন বউমা পেয়েছে। যেমন তার ব্যবহার, তেমনই তার হাতের কাজ। মাশা আল্লাহ।
ঈশিতা মায়ের কথা শুনে মুখ বেঁকিয়ে বলে–
—বড় ভাবীর ব্যবহার আগে ভালো ছিল আম্মু । এখন দু’টো টাকা কামিয়ে দেমাগ বেড়ে গিয়েছে। তুমি জানো আমার থেকে এসব কাপড়ের টাকা রেখেছে।
মেয়ের কথা শুনে ঈশিতার মা চোখ বড় বড় করে নেয়। বিস্ময় নিয়ে বলে–
—কি বলিস? আত্মীয়দের থেকে আবার দাম নেওয়া কিসের?
—কি জানি! সাড়ে ছয় হাজার টাকা হয়েছিল ড্রেস গুলোর। আমার কাছে তো দুই হাজারের মতো ছিল, এটা বলায় সে বলে, তার বিকাশ নাম্বার নিয়ে আসতে। পরে যেন বিকাশ করে দেই। অরিত্র ভাইয়া সামনে ছিল আমাদের, পরে সেই-ই আমার ড্রেস গুলো দাম পরিশোধ করে।
—বউমা সেটা নিলিও?
—হুম।
এরপর দুই মা-মেয়ে মিলে কিছু নীলার বদনাম করে। কথাবার্তা শেষ করে ঈশিতা চলে যায় নিজের রুমে। অন্যদিকে ঈশিতার মা ফোন নিয়ে কল লাগায় বড় বোনের কাছে। কাপড়ের মূল্য নেওয়ার পুরো বিষয়টা আরেকটু তেল-মশলা মিশিয়ে এমনভাবে উপস্থাপন করে নীলার শ্বাশুড়ির কাছে যে, ভদ্রমহিলার মনেও নীলার জন্য একটা ক্ষোভের জন্ম নেয়। কিন্তু সে তৎক্ষনাৎ কিছু বলেন না এ বিষয়ে। সময় বুঝে ঝাঁঝ উঠাবেন এই ঘটনার।
এরই মাঝে কেটে যায় আরো কিছু দিন। অরিত্র বহু আগে থেকে প্ল্যান করে রেখেছি, তাদের বিবাহবার্ষিকীটা জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে পালন করবে। নীলার কাছে সেদিন সে নিজের সকল কাজের জন্য মাফ চাইবে। কিন্তু বিধিবাম!
তাদের বিবাহবার্ষিকীর কয়েকদিন আগে হুট করেই অরিত্রের ভাইরাল ফিভার হলো। তার করা প্ল্যানগুলো একটাও বাস্তবতার মুখ দেখতে পারে না। তার অসুস্থতার মধ্যেই তাদের বিশেষ দিনটি হেলায় চলে যায়। প্রতিবারের মতো এবার নীলাও কোন আগ্রহ দেখিয়ে কোন উৎযাপন করে না। এমন না তার মনে নেয়। আছে ঠিকই, কিন্তু আগের মতো কোন উদ্দীপনা পায় না ম্যারেজ এনিভার্সিরি সেলিব্রেশনের।
অরিত্রের সেবা, সংসারের কাজ ও বিজনেসের কাজ করতে করতেই কোথা দিয়ে দিনটি কেটে যায় সে টেরও পায় না।
অন্যদিকে অরিত্রের নিজের অবহেলার কারণে সাধারণ জ্বরটুকু তাঁকে হসপিটাল অব্দি নিয়ে যায়। টেস্ট করে জানা যায় তার টাইফয়েড হয়েছে। ডাক্তার কিছুদিন অরিত্রকে হসপিটালে ভর্তি থাকার পরামর্শ দেয়।
নীলা সংসারের সব কাজ সামলে, নিজের বিজনেস সামলে যথা সম্ভব অরিত্রের খেয়াল রাখার চেষ্টা করে। ছোট থেকেই অরিত্রের ঔষধ খাওয়া নিয়ে বড্ড অবহেলা কাজ করে। তার একবেলা জ্বর না আসলে পরের বেলা সে ঔষধ খায় না। নীলা বেশি জোড়াজুড়ি করলে তার সাথে উল্টো মেজাজ দেখায় অরিত্র। ফলস্বরূপ জ্বর ভালো করে সারেই না। এই অবহেলার কারণে তার শরীর অনেক বেশি খারাপ হলে, তাকে হসপিটালাইজড করা হয়।
অরিত্রের অসুস্থতার কথা শুনে একে একে ঢাকায় থাকা তাদের সকল আত্মীয়স্বজন তাকে দেখতে আসে। অরিত্রের ছোট ভাই ও তার স্ত্রী, তার বড় বোন ও তার হাসবেন্ড, ছোট বোনের শ্বশুর বাড়ির লোক, অরিত্রের খালামনি ও ঈশিতা।
অন্যদিকে ছেলের অসুস্থতার কথা শুনে স্বাভাবিক ভাবেই অরিত্রের বাবা-মা ঢাকায় আসে তাঁকে দেখতে। সামান্য জ্বর পরবর্তীতে টাইফয়েডের রূপ নেওয়ায়, অরিত্রের মা বেজায় রেগে যায় নীলার উপর। অরিত্রের মা কোন ঘটনা না জেনেই, কোন বিশ্লেষণ না শুনেই কেবিন ভর্তি মানুষের সামনেই নীলাকে অপবাদ দেওয়া শুরু করে–
—আমার ছেলের অসুস্থতার জন্য তুমিই দায়ী। তোমার কাজের জন্য আমার ছেলের খাওয়া-দাওয়ায় নিশ্চয়ই ঘাটতি পড়েছে। যার কারণে সামান্য জ্বর তাঁকে আজ হসপিটাল পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। বউ মানুষের আবার টাকা কামানো লাগবে কেন? তোমাকে কোন জিনিসটা আমার ছেলে দিচ্ছে না? বিয়ের সময় তো তোমার পরিবারকে বলেই এনেছিলাম তোমায়, আমরা তোমাকে বাহিরে কোন চাকরি-বাকরি করতে দিবো না।
লজ্জায়, অপমানে নীলার চোখে পানি চলে আসে। ঈশিতা ও তার মা ঠোঁট টিপে হাসতে থাকে। অরিত্র বোনও মায়ের সাথে তাল মেলায়। অরিত্রের ছোট ভাইয়ের বউ কাকলী কিছু বলতে চায় নীলার হয়ে, কিন্তু তার স্বামী তার হাত টেনে ধরে থামিয়ে দেয়।
অরিত্রের মা আবারও বর্জ্র কণ্ঠে বলে ওঠে–
—শুনো বউমা, তোমাকে আজ আমি সাফসাফ একটা কথা বলে দিচ্ছি, হয়ত তুমি আগের মতো শুধু সংসারটাই করবে, তোমার সকল ধ্যান-জ্ঞানে থাকবে আমার ছেলে আর সংসার। নাহয় তোমার ব্যবসা। এখন সিদ্ধান্ত তোমার। তুমি কোনটা বেছে নিবে? স্বামী-সংসার নাকি ব্যবসা?
কথাটা শুনে নীলার বুক মোচড় দিয়ে ওঠে।
[গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্প প্রেমী বন্ধুদের নিকট পৌঁছে দিন। ]
#চলবে?
[এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন আসবে, অরিত্রের ছোট ভাইয়ের বউও তো ইনকাম করে, তার বেলায় বাঁধা দেয়নি অরিত্রের মা, তাহলে নীলার বেলাতেই কেনো? উত্তরটা খুবই সহজ, নরম মাটিতে বল প্রয়োগ করতে আমরা সবাই ভালোবাসি। তখন নিজেকে অসীম শক্তির অধিকারী মনে হয়। কিন্তু এবার দেখার পালা, নীলা কি করে?
নীলার কি করা উচিত বলে আপনাদের মনে হয়?
ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। গঠনমূলক মন্তব্য করবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স। ]
Share On:
TAGS: মূল্য, সাদিয়া সুলতানা মনি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১০
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৪৪.২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৬০.১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৪
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৫২.১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৫
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৫৮.১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৫৪.২
-
মূল্য পর্ব ৪
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩৫