ভালোবাসি সুচরিতা— ৯
বৈশাখের বুকে প্রলয়ঙ্কারী ঝড় আরম্ভ হওয়ায় অস্থির হয়ে পড়েছে গগণের পুব দিকটি। মাঝ রাতে এমন করেই অস্থির হয়ে গেলো এই চঞ্চল পৃথিবী যে এঘর ছেড়ে ওঘর অব্দি যাওয়ার উপায় নেই। সিলেট শহরের ভেতরের গ্রামগুলোতে এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি যদিও তবে শহরের দিকটায় বিত্তশালীদের ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। ধনীদের আবার বিশেষ সুবিধা ভোগ করা যায় সবক্ষেত্রে।
জিন্দাবাজারের পাশ ঘেঁষা এলাকা হাউজিং স্টেটেই মেজবাহ্’দের ট্রিপ্লেক্স বাড়িটা মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো। অন্ধকারেও জ্বলজ্বল করে বাড়িটা। বাহিরে ঝড়ের আভাস বলে শহরতলি ডুবে গিয়েছে অন্ধকারে। মেজবাহ্’দের নিজস্ব আইপিএস আছে, আছে সৌরবিদ্যুৎ-এরও ব্যবস্থা। সারাদিন সৌরবিদ্যুৎ জ্বলেছে বিশাল বাড়িটিতে তাই এখন আর তার আলো দেওয়ার শক্তি নেই। আইপিএসটা জ্বলছে না ঠিকঠাক। সিকান্দার বাড়ির ভেতরে কাজ করছে। বিদ্যুৎ ঠিক করা লোক নিয়ে আসছে এই মাঝ রাতেও।
মেজবাহ্ দাঁড়ানো তার বাড়িটায়। শেখদের ট্রিপ্লেক্স বাড়িটার সামনে মেজবাহ্’র বাড়িটা নেহাৎই শিশু। এত বড়ো বাড়িটা থাকতেও এই ছোটো ঘরটায় সে আস্তানা গেঁড়েছে।
ঝড়ে কথা ওদিকে যায় না। তবুও মেজবাহ্ হাঁক ছেড়ে ডাকল,
“সিকান্দার, হলো?”
কথা বোধহয় পৌঁছালো না সিকান্দারের নিকট। দূরের টিমটিমে হারিকেনের আলোটা মেজবাহ্ দেখতে পাচ্ছে ঠিক।
মেজবাহ্ গলা উঁচু করল আরও, “এ্যই সিকান্দার, হলো তোদের?”
বাতাসের তোপ পেরিয়ে সিকান্দারের কান অব্দি গিয়ে পৌঁছালো বোধহয় মেজবাহ্’র কথা।
ও দূর থেকে হাত নাড়িয়ে চেঁচিয়ে উত্তর দিলো, “ভাই আপনি ভেতরে যান, ভিজে যাবেন তো। ভিতরে যান। দেখতাছে ও।”
সিকান্দারের কথা স্পষ্ট এসে পৌঁছায়নি যদিও তবে হাত নাড়ানো দেখে মেজবাহ্ বুঝতে পারল ছেলেটা নির্ঘাত তাকে ভেতরে যেতে বলছে।
মেজবাহ্ ভেতরে গেলো না অবশ্য। দাঁড়িয়ে রইল। বৃষ্টির কিছুটা ছাঁট এসে হালকা ভাবে পড়ছে তার শরীরে। সাদা পাঞ্জাবির কিছু কিছু জায়গা হয়ত ভিজেও গিয়েছে। তার পেছনে দরজার সঙ্গেই একটি হারিকেন রেখে গিয়েছিলো সিকান্দার। তাই হালকা ভাবে সামান্য কিছু বোঝা যায়।
মেজবাহ্’র নজর একটু অন্যমনস্ক হয়েছিলো। আচমকাই খেয়াল করল একটি মেয়েলি অবয়ব এগিয়ে আসছে তার দিকে। মেজবাহ্ ভ্রু দু’টি কুঞ্চিত করে ঘড়ির দিকে তাকাল।
এখন অবশ্য মাঝ রাত নেই। ভোর ভোর হবে হয়ত। ঘড়িতে বাজছে চারটা বিশ। এই রাতে এমন মেয়েলি অবয়ব এই বাড়িতে কারই বা হবে?
ভাবতে ভাবতেই চমকে উঠল মেজবাহ্। এত রাতে এই মেয়ে এখানে কেন আসছে এই ঝড় দিয়ে? মাথায় অবশ্য ছাতা রয়েছে তবুও এই ঝড়ে এমন বের হওয়ার কী এমন দরকার পড়েছে তার? তার উপর বাহিরের টেকনিশিয়ান ছেলেগুলো ঢুকেছে বাড়িতে এমন কালো অন্ধকারে। এর কি মতিভ্রম ঘটেছে নাকি?
মেজবাহ্’র মনে ভাবনাগুলো ঘুরতে ঘুরতেই মেয়েটা চলে এসেছে একদম তার সামনে। দু-হাত দূরেই দাঁড়িয়েছে এসে। হারিকেনের আলো আবছা গিয়ে পড়েছে মেয়েটার মুখে। স্পষ্ট হয়েছে হলদে মুখটি। মুখের এক-আধ কোনায় লেপ্টে আছে একগাছি চুল।
মেজবাহ্ এক বিন্দু কথা বলল না। আলগোছে ঘুরে পা রাখতে নিলো নিজের ঘরে। ঠিক সেই মুহূর্তেই ডাক দিলো মেয়েটি,
“দাঁড়ান, একটু কথা বলা যাবে কি?”
রিমঝিমের কণ্ঠ কিছুটা ভারি। মলিনতা মোড়ানো স্বর। বৃষ্টির মাঝে খুব ধীরে এসেই লাগে কানে।
মেজবাহ্ মুখ ঘুরিয়ে তাকাল না। দাঁড়ানো অবস্থাতেই বলল, “কোনো কথা থাকার কারণ দেখছি না। বাড়ির ভেতরে যান।”
“দু’টো মিনিট সময় দিন। আপনাকে বারান্দা দিয়ে বাহিরে দেখেই ছুটে এলাম।”
মেজবাহ্ তপ্ত শ্বাস ফেলল। বাড়িতে প্রবেশ করার অনুমতি দিলো না মেয়েটিকে। দরজায় দাঁড়িয়ে থেকেই ঘুরে দাঁড়িয়ে তাকাল অন্যদিকে। যেন এই দিকে তাকালে মহাপাপ হবে তার।
“এমন কোনো প্রয়োজনীয় কথা নিশ্চয় নেই যে এত রাতে এখানে আসতে হবে? হিমেল আমার বড়ো ভাই। হয়ত আমাদের বয়সের ব্যবধান মাত্র পাঁচ মিনিট কিন্তু সম্পর্কে তো বড়োই, তাই না? সে মোতাবেক আপনি আমার ভাবী হচ্ছেন। আমার মনে হয় না কোনো ভাবীর এই ঝড়ের রাতে দেবরের দরজায় এসে দাঁড়ানো উচিত কাজ।”
মেজবাহ্ কোন ইঙ্গিতে কথা বলল তা ঠিক বুঝতে পারল রিমঝিম। লজ্জায় কুঁকড়ে গেলো সে আরও। চট করে নামিয়ে ফেলল মাথাটা,
“আমি আসলে এত ভাবিনি। ভেবেছিলাম কথা বলতে হবে তাই চলে এসেছি। তবে উচিত হয়নি আসা। আচ্ছা, চলে যাচ্ছি।”
মেজবাহ্ মাথা নাড়ালো। এই যে এত রাতে মেয়েটা কেন ঝুঁকি নিয়ে কথা বলতে এলো তা একবারও জিজ্ঞেস করল না। বরং রিমঝিমের যাওয়াতে সম্মতি দিলো। এবার যেন লজ্জার চেয়েও বেশি অপমানে লাগলো রিমঝিমের। নিশ্চয় দরকার না হলে সে এখানটায় আসত না। অথচ লোকটা একটু মাত্র শোনার প্রয়োজনবোধ করল না?
অথচ তার সাথে এমন আচরণই যে যায়। সে আসার পর লোকটাকে ঘর ছাড়া হতে হয়েছে। দু’দিন আগ থেকে রাতের খাবারটুকুও খায় না একসাথে। তার পরেও সে কীভাবে ভাবল লোকটা তার কথা শুনবে? একটা মানুষের এত কী বাঁধা তার কাছে যে এতকিছুর পরেও তার জন্য দরজা খুলে রাখবে?
ছাতা নিয়ে এলেও রিমঝিম যাওয়ার বেলা ছাতাটা নিতে ভুলে গেলো। ছুটে চলে গেলো বাড়ির ভেতরে। বৃষ্টি এতটাই বেশি যে এই দুই মিনিটের পথেই সে ভিজে জুবুথুবু হলো। মেজবাহ্ একবার ছাতা নেওয়ার জন্য অব্দি পিছু ডাকল না। বরং আলগোছে গিয়ে নিজের দরজাটাও ভিজিয়ে দিলো। যেন তার হৃদয় পাথর। এই দরজায় যাকে-তাকে দাঁড়াতে দেওয়ার মত নেই তার।
রিমঝিমের চোখ ভরে গেলো জলে। পা টিপে টিপে ঘরে গিয়ে আলগোছে আটকে দিলো দরজাটা। অন্ধকার হাতড়ে আসতে যদিও কিছুটা বেগ পোহাতে হয়েছিলো। দরজা আটকে স্বস্তির শ্বাস নিলো। যাক, কেউ জেগে নেই। নয়ত তার হটকারিতায় একটা কেলেঙ্কারি হতো ঠিক।
দরজা আটকে ঘুরে দাঁড়াতেই তার সামনে দৃশ্যমান হলো একটি বলিষ্ঠ শরীর। কেঁপে উঠল রিমঝিমের আত্মা। চোখ উঠিয়ে তাকানোর সাহস অব্দি তার হচ্ছে না। হিমেল সজাগ হলো কখন? সে তো খুব ধীরেই বেরিয়ে ছিলো। আজ তবে আর রক্ষে নেই তার।
হিমেলের চোখ দু’টো ঘুমে জ্বালা করছে। তার চেয়েও বেশি জ্বলছে রাগে। হিমশীতল কণ্ঠে প্রশ্ন ছুঁড়ল,
“কোথায় গিয়েছিলে?”
..
জোহরাদের ড্রয়িং রুমে প্রেমার বিস্ময় কেবল দেখা যাচ্ছে অতিরিক্ত। বিস্মিত হবেই-বা না কেন? তার মেঝো আপা হতে শুরু করে অসুস্থ ভাইসহ এই মাঝ রাতে এসে উপস্থিত হয়েছে বাড়িতে। নিশ্চয় সেখানে খারাপ কিছু ঘটেছে। নয়ত এত রাতে এই মানুষগুলো প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ফিরে আসতেন না। এখানের সবচেয়ে বুঝদার মানুষ হলেন তার বাবা যাবের শিকদার। সেই বুঝদার মানুষটা যেহেতু এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাহলে নিশ্চয় বড়োসড়ো কিছুই ঘটেছে।
সকলের মুখচোখ থমথমে। প্রেমা ব্যস্ত হাতেই সকলের জন্য গ্লাস ভর্তি করে ঠান্ডা পানি নিয়ে এসেছে। এত ঘন্টার পথ জার্নি করে এসেছে সকলে! হন্তদন্ত হয়ে খাবারেরও ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু কিছুই বুঝে উঠতে পারল না।
ট্রে ভর্তি পানির গ্লাসগুলো থেকে একটা একটা গ্লাস নিয়ে এগিয়ে দিতে সাহায্য করল নোমান। শেষ গ্লাসটা ধরল নিজের মায়েরই সামনে। এতক্ষণের নিশ্চুপ পরিবেশে কথা বলল সে। ঠিক কথা নয়। প্রশ্ন করল,
“কী ব্যাপার, আম্মা? চলে আসছেন কেন?”
ঝুমা বেগম সবে পানির গ্লাসটা তুলতে অগ্রসর হয়ে ছিলেন কিন্তু ছেলেন প্রশ্নে হাত থেমে গেলো পথিমধ্যেই। চোখ উল্টে তাকালেন ছেলের দিকে। পরপরই নামিয়ে নিলেন চোখ। হাত গুটিয়ে নিলেন পুনরায়।
“উত্তর দেন না কেন, আম্মা? আপনারা এত রাতে ফিরে এলেন কেন?”
নিজের স্বামীর কীর্তির কথা বলতে চাইলেন না ঝুমা বেগম। এমনিতেই তাদের পিতা-পুত্রের সম্পর্ক বিশেষ ভালো নয়। উপরন্তু এই কথা শুনলে আগুনে ঘি ঢালার কাজ হয়ে যাবে। তাই তিনি মিথ্যে বলার প্রয়াস করলেন,
“তোর মামা চাইলেন। সেখানে মন টিকছিলো না ভাইজানের।”
“তাই বলে এত রাতে?”
“রাত কই, আব্বা? ভোর হবে হবে ভাব। রওনা তো দিয়ে ছিলাম সন্ধ্যাতেই।”
“আপনারা তো জানোই সিলেট থেকে ঢাকা আসতে কমপক্ষে আট-নয় ঘন্টা সময় দিতে হয়। সন্ধ্যায় এটা জেনেই রওনা দিয়েছিলেন। আপনাদের সঙ্গে একজন অসুস্থ মানুষ আর আপনারা তাকে নিয়ে এই টানাহেঁচড়া করলেন? তার উপর দু’টো মেয়েও তো সাথে ছিলো। ডাকাতির যা প্রকোপ বেড়েছে সিলেট মহাসড়কে!”
“কিছুতো হয় নাই, আব্বা। তোমার মামা আর আব্বা জানেন। আমি কিছু বলি নাই।” চঞ্চল ভাবে সত্যি কথাটি মুখ ফসকে বেরিয়ে গেলো ঝুমা বেগমের। কথাটি বলে থতমত খেয়ে গেলেন তিনি নিজেই।
রহমান খান সবে পানি গিলছিলেন। স্ত্রী’র এমন বোকামোতে। পানি আটকে গেলো গলাতেই। কাশতে আরম্ভ করলেন তিনি।
“আহাম্মক মহিলা একটা। আমি কী জানব, হ্যাঁ? বেআক্কেলের মতো কথাবার্তা।”
স্ত্রী’র প্রতি তীব্র বিরক্তি নিয়ে ছুঁড়ে মারলেন কতগুলো কটুক্তি। এইসব মূর্খ মহিলাদের নিয়ে পুরুষদের হয়েছে যত বিপত্তি। এরা স্বামীর ঢাল হতে গিয়ে কাল হয়ে দাঁড়ান। কী দরকার ছিলো ছেলেটার সামনে এমন কথা বলার? তার ছেলে হলো আরেক তারছেঁড়া। কথা একটু ভেবে বলতে পারলেন না?
নিজের মনে মনেই স্ত্রী’কে প্রচণ্ড গালাগাল দিলেন রহমান খান। পুত্রের দিকেতো তাকাবার সাহস অব্দি করলেন না। বিপদ বাড়িয়ে কাজ নেই।
ঝুমা বেগম স্বামীর ধমকে আরও গুলিয়ে ফেললেন সব। যদিও হাসির কিছু হয়নি তবুও তিনি ঠোঁটে জোরপূর্বক হাসি টানতে টানতে বললেন, “আহা আমি তেমন বোঝাতে চাইনি। বোঝাতে চেয়েছিলাম তোর মামা আর আব্বু ছিলেনতো সাথে তাই ভয় লাগেনি। চিন্তা করিস না, আব্বা।”
“আব্বু সেখানে কিছু করেছিলো, আম্মা?” নোমানের কণ্ঠ রূঢ় হয়ে আসছে। মুখটা শক্ত হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে। যাবের শিকদার হলেন চালাক মানুষ। তিনি নিজের বোনের সংসারে আর ঝামেলা বাড়াতে চাইলেন না। আগ বাড়িয়ে তাই ভাগিনার পিঠে চাপড় দিয়ে মৃদু হেসে উত্তর দিলেন,
“কেউ কিচ্ছু করেনি, নোমান। আমিই চলে আসতে চেয়েছি। বাড়িতে তোমাদের রেখে গিয়েছি সেই চিন্তায় ঘুম হচ্ছিল না।”
নোমানের শক্ত মুখাবয়ব শীতল হয়ে এলো মামার ভরসা ভরা কথায়। সে নিজের মা-বাবার চেয়েও বিশ্বাস করে মামার কথাকে। মামা যেহেতু বলেছেন সেহেতু সেখানে আর কথা বাড়ানোর যে উপায়ই নেই।
মামার হাসির বিপরীতে এক গাল হাসি ফিরিয়ে দিলো, “আমিতো ছিলাম, মামা। তোমার কি আমার উপর ভরসা ছিলো না। এত চিন্তা কেন করেছ শুধু শুধু।”
“ছিলো বলেইতো তোমায় রেখে গিয়েছিলাম বাপ আমার।”
“আচ্ছা এবার ঘরে যাও। সবাই পোশাক ছাড়ে, হাত-মুখ ধুয়ে আসো ততক্ষণে আমিও প্রেমার সঙ্গে তোমাদের খাবারের ব্যবস্থা করছি। সবাই অনেক জার্নি করেছ। খেয়েদেয়ে ঘুমাও, ভালো লাগবে।”
যাবের শিকদার হাঁফ ছাড়লেন। মাথা নাড়িয়ে বোনকে নিচতলার ঘরটায় যেতে বলে তিনিও চলে গেলেন উপরে। ইমনকে টুইটুবানি নিয়ে গিয়েছে ঘরে। জোহরাও হয়ত ঘরে। তাই ড্রয়িং রুমে আপাতত আর তেমন কেউই নেই।
প্রেমা রান্নাবান্না ঠিক পারে না। কী থেকে কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না সে। কেবল আলু, পেঁয়াজের কাছে ছোটাছুটি করছে। কী যে করবে বুঝতে পারছে না। তার জীবনে সে সবই পারে। গান গাওয়া থেকে নাচা, সমস্তই। পারে না কেবল ঘরকুনো কাজগুলো। টুইটুবানি করতেই দেয় না, পারবে কীভাবে?
নোমান রান্নাঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে নাস্তানাবুদ অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা প্রেমাকে দেখে না চাইতেও হেসে ফেলল দানবের মতো। প্রেমা তখন আলু হাতে নিয়ে ভাবছিলো করবেটা কী। আচমকা এমন হাসির শব্দে তার আলু অভিমান করে হাত ছিঁটকে গিয়ে পড়ল মেঝেতে। ড্যাবড্যাব করে তাকাতেই দেখল নোমান ভাই দাঁড়িয়ে আছে দরজায়। হাসছে জন্তুর মতো।
প্রেমার নাকের পাঁটা ফুলে উঠল। নোমান ভাইটার কীসের এত সমস্যা? সবসময় এমন দানবের মতো এই লোকের হাসতে হবে কেন?
“হাসছো কেন পাগলের মতো? মাথায় সমস্যা আছে তোমার, নোমান ভাই?”
“কার? তোর? আছে, মনে হয়।”
প্রেমা কোমড়ে হাত রাখল। ঠোঁট চেপে রাগ প্রকাশ করল, “নোমান ভাই, আমার মাথায় কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা তোমার মাথায়। হাসবে না একদম।”
“কেন হাসব না? তোর কথাতে হবে সব?”
“হ্যাঁ, হবে। তুমি আমার কাজে বাঁধা দিচ্ছো।”
“বাঁধা? কখন দিলাম? আমিতো দরজাতেই দাঁড়িয়ে ছিলাম! তুই এত বানিয়ে বানিয়ে কথা বলিস কেন, প্রেমা? খাবার না বানিয়ে কথা বানাচ্ছিস!”
প্রেমা আর তর্ক বাড়াতে চাইল না। এই লোকের সাথে তর্ক করতে গেলে ভোর পেরিয়ে যাবে। এরচেয়ে যতটুকু পারে সে কাজ আগানোর চেষ্টায় নামল।
আলুটা কুড়িয়ে এনে দা নিয়ে বসল। আলু ভাজির জন্য দা’ এর মাঝে আলু দিতেই তার হাতটা খপ করে ধরে ফেলল নোমান। প্রেমার পুতুলের মতো গোলগোল চোখগুলো সরু হয়ে উঠল নোমানের আচমকা হাত ধরাতে। চোখ উঠিয়ে তাকাতেই তার চোখ পড়ল নোমানের দু’টো উন্মুক্ত চোখে। কৌতুক খেলছে সেই চোখগুলোতে। ঠোঁটে হাসি বিদ্যমান তখনো।
“নোমান ভাই, কী করছো? হাত ধরলে কেন?” প্রেমার কণ্ঠে মিছিমিছি রাগটাও মিলিয়ে গিয়েছে এই মুহূর্তে। সে তাকিয়ে আছে নোমানের দিকেই। অথচ নোমান ব্যস্ত প্রেমার হাত থেকে দা সরাতে। টেনে নিলো আলুটাও। দা আগের জায়গায় রেখে থালাবাসনের আলমারিটা থেকে সবজি কাটার ছু রি নিয়ে এলো। আলু কাটায় তীব্র মনযোগ দিয়ে মোলায়েম কণ্ঠে নির্দেশ করল, “তুই যা, আমি করছি। তুই পারবি না। আলু কাটতে গিয়ে দেখব হাত কেটে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটাবি। তোকে নিয়ে আর হসপিটালে দৌড়ানোর ক্ষমতা নেই আপাতত।”
প্রেমা মানতে চাইল না। অগ্রসর হয়ে বলল, “আহা, তুমি পারবে না তো। তুমি করেছো নাকি এসব। দাও তো।”
“চুপ করে দূরে দাঁড়িয়ে থাক। আমি কাজ না পারলেও অকাজ করব না। তুই করবি সেটা। দূরে থাক।”
“নোমান ভাই…”
“প্রেমানন্দা, দূরে থাকতে বলেছি না? তাহলে এত অবাধ্যতা কেন?”
প্রেমা থেমে গেলো কোমল ডাকটায়। নোমান যদিও মনযোগ সব আলু কাটাতে নিবদ্ধ করে রেখেছে তবুও সে বুঝতে পারল প্রেমার পলক পড়ছে না চোখের। এই ডাকটা শুনলেই ও স্খবির হয়ে যায়। ওর পৃথিবী থমকে যায় মিনিট দুইয়ের জন্য। নোমান হাসল। এই যে কিশোরী মেয়েগুলোকে কীভাবে থামাতে হয় তা ওর বেশ জানা আছে। শুধু শুধু তবুও মেয়েগুলা ওর সাথে কথার যুদ্ধে নামে।
বোকা মেয়েগুলো! যেই যুদ্ধে ওরা সৈন্যসামন্ত নিয়ে নামতে চায় ওরা জানে না, নোমান সেই যুদ্ধের স্থায়ী বিজয়ী।
..
শিকদার বাড়িতে আজ ঘুম ঘুম আমেজ। সকলের ঘুমাতে ঘুমাতে প্রায় সাতটা বেজে গিয়েছিলো। দুপুর দুটোর দিকে টুইটুবানি সবাইকে কোনোরকমে টেনে তুলে খাইয়ে ছিলো। এরপর আবার সকলে যার যার ঘরে ঘুমে ডুবে গিয়েছিলো। না-হয় অন্যান্য দিন এই ঘরের ড্রয়িং রুমে টেলিভিশন চলে। টেলিভিশনের শব্দ শোনা যায় দূর থেকে। কার পছন্দের চ্যানেল চলবে তা নিয়ে বাক-বিতণ্ডাও হয়। এমন সময়তো বাবাও চলে যান বাহিরে হাঁটতে। কিন্তু আজ সেই রুটিন অনুযায়ী কিচ্ছু হলো না।
টেলিভিশন চলল না, চ্যানেল নিয়ে ঝগড়া হলো না, বাবাও গেলেন না বাহিরটায়। সবাই পড়ে রইল বিছানায় মুখ ডুবিয়ে। কেবল ঘুমাতে পারল না জোহরা। আজ যে শুক্রবার। বিকেল চারটায় তার ফোন দেওয়ার কথা। ঘুমাবে কীভাবে? এমন বুকে উচাটন নিয়ে ঘুমানো যায়?
দুপুরের খাবারের পর থেকেই বারংবার ঘড়ি দেখেছে সে। কখন চারটা বাজবে সেই অপেক্ষা ঘুরপাক খেয়েছে মনে। উতলা হয়ে গিয়েছে কিন্তু চারটা বাজলেও টেলিফোনের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। তখনই টুইটুবানি রান্নাঘরে ব্যস্ত ছিলো। দোতালায় ওকে দেখতে পেলে এই ঘটনা সবার জানাজানি হয়ে যাবে।
মেজবাহ্’র আজ বাহিরে যাওয়ার কথা। বিকেল ছয়টায় ওর একটা মিটিং রয়েছে উপর মহলের সাথে। এখন না বেরুলে মিটিং-এ পৌছাতে কসরত করতে হবে। সময়মতো হয়ত পৌঁছাতেও পারবে না। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি তখনও চলছে। সেই রাতে যে বৃষ্টি শুরু হলো কমবার নাম নেই মোটেও।
মেজবাহ্ তার চেয়ারটায় বসে দুলছে প্রায়। অন্যমনস্ক চোখ দু’টো একবার টেলিফোন, আরেকবার জানালার বাহিরে গিয়ে আটকাচ্ছে।
মেয়েটা আজ এখনও ফোন করছে না কেন? সেদিন সে যে ফোন করল এই কথাটিও কি গিয়ে পৌঁছায়নি মেয়েটার কানে? বাঁধাধরা নিয়মেই তো ফোন করে সবসময়। আজ কেন নয়?
ভাবুক মেজবাহ্’র মন গিয়ে আটকায় বছর দুয়েক আগে। সেদিন তার অন্যান্য দিনের তুলনায় ব্যস্ততা খুব বেশি। তার ব্যক্তিগত টেলিফোনে হঠাৎ একটি কল আসে। কিশোরী একটু কণ্ঠ উতলা হয়ে তার নাম জিজ্ঞেস করে আশ্বস্ত হতে চায় সঠিক জায়গায় ফোন এলো কি-না। আজকের মতো সেদিনও মেজবাহ্’র কাছে মেয়েটি কেবল অপরিচিতাই ছিলো। সে মেয়েটির পরিচয় না পেয়ে ফোন কেটে দেয়। কিন্তু মেয়েটি ছিলো বড্ড নাছোড়বান্দা। পুনরায় ফোন দেয়। মেজবাহ্ ভেবেছিলো মেয়েটি উত্যক্ত করতে চায় তাকে। কিশোরী মেয়েগুলো তাকে দেখলে এমনিতেও হা হয়ে থাকে। হয়ত এটাও একটি দুষ্টুমির অংশ!
কিন্তু মেজবাহ্’কে অবাক করে দিয়ে মেয়েটি তাকে উত্যক্ত করল না। প্রতিদিন ফোনও দিতো না। হিসেব করে ঠিক শুক্রবারেই ফোন করতো। মেজবাহ্ প্রথম প্রথম এত গ্রাহ্য না করলেও পরবর্তীতে এই ফোনকলেই যেন আটকে গেলো সে। নাহয় আজকাল এত মরিয়া হয়ে উঠে কেন ফোনের জন্য? মেজবাহ্ শেখের এমন অবনতি হলো কখন?
সিকান্দার দরজায় দাঁড়িয়ে থেকে ডাক দিতেই মেজবাহ্’র ধ্যান চ্যুত হলো।
“ভাই পাঁচটা দশ বাজে। কখন বের হবেন?”
মেজবাহ্’র আজ মিটিংয়ের প্রতি তেমন মন নেই। তবুও বলল, “গাড়ি বের করে রাখ।”
সিকিন্দার বোকা বোকা চোখে চিন্তিত মেজবাহ্’র দিকে তাকাল। ভাইকে বড্ড উদাস লাগছে আজ। ভাবীর জন্যই কি এত উদাসীনতা?
চট করে দুষ্টুমি খেলে গেলো সিকান্দারের মস্তিষ্কে। চাপা গলায় বলল, “সেই সাড়ে চারটা থেকে গাড়ি বের করার কথা বলছেন। গাড়িতো সেই কখন বের করা হয়েছে। আপনি বের হবেন কখন?”
“চুপ কর সিকান্দার।”
“মিনিস্টার বোধহয় ব্যস্ত ভাই।”
মেজবাহ্ ভ্রু কুঁচকালো, “কোন মিনিস্টার?”
“যার ফোনের আশায় বসে আছেন।” বত্রিশটি দাঁত দেখিয়ে হাসল সিকান্দার। মেজবাহ্’র মাথায় চলে এলো সেদিনের কথোপকথন। সে তো মেয়েটাকে হোম মিনিস্টার বলে উল্লেখ করেছিলো।
কত্ত ফাজিল এই ছেলে! চোখ গরম করল সে, “সিকান্দার, তোর কিন্তু সাহস বেড়েছে অনেক।”
সিকান্দার আরও কিছু বলত কিন্তু কবির শেখকে আসতে দেখে চুপ হয়ে গেলো।
হন্তদন্ত হয়ে আসছে কবির শেখ। তার সেক্রেটারি লোকটা মাথার উপর ধরে রেখেছে ছাতা। সেই লোককে বাহিরে দাঁড় করিয়েই তিনি ঘরে প্রবেশ করলেন। মেজবাহ্’কে বসে থাকতে দেখে ব্যতিব্যস্ত স্বরে বললেন,
“মেজবাহ্, যাবে কখন? এখন না বের হলে তো সময়মতো পৌঁছাতে পারব না।”
বাবাকে দেখে নড়েচড়ে বসল মেজবাহ্, “আর পাঁচ মিনিট পর বের হচ্ছি। আমার একটা কাজ বাকি।”
“কী কাজ বাপ আমার? তাড়াতাড়ি করে আসো। সময় চলে যাচ্ছে।”
কথা শেষ করে যেমন ব্যস্ত পায়ে এসেছিলেন তেমনই বেরিয়ে যেতে লাগলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে বেজে উঠল মেজবাহ্’র টেলিফোন। ভালো ভাবে বাজতেও পারল না ছেলেটা চট করে তুলে ফেলল। কানে দিয়ে ব্যগ্র কণ্ঠে বলল, “এতক্ষণে চারটা বাজল?”
কবির শেখ থেমে গেলেন। ছেলের কণ্ঠে কেমন আকুলতা! নিশ্চয় কোনো পেশাগত মানুষের সাথে এমন করে কেউ কথা বলবে না! অভিযোগ করবে না।
তিনি একবার ঘুরে ছেলের দিকে তাকালেন। এরপর তাকালেন সিকান্দারের দিকে। চোখ দিয়ে ইশারা করে ধীর স্বরে জানতে চাইলেন, “কার কল?”
সিকান্দার একবার ভাইয়ের দিকে তাকালো। দুষ্টুমি তার হাড়ে হাড়ে। কণ্ঠ উঁচু করে বলল, “কোনো মিনিস্টার মনে হচ্ছে।”
এতটাই উঁচু করে বলল যেন মেজবাহ্’র কান অব্দি যায়।
কবির শেখ থতমত খেলেন সিকান্দারের উঁচু স্বরে। আমতাআমতা করে বললেন, “ঠিক আছে, ঠিক আছে। এত জোরে বলতে বলিনি। আমি বধির নই।”
বলেই তিনি বেরিয়ে গেলেন দ্রুত ভাবে। ছেলেন ব্যক্তিগত জীবনে উনি কখনোই আসেন না। এটা অস্বস্তিজনকও।
মেজবাহ্ আবারও চোখ গরম করে তাকাল সিকান্দারের দিকে। টেবিলে থাকা বন্দুকটা ইশারায় দেখিয়ে বলল, “সিকান্দার, বুলেট কয়টা আছে? বুক ঝাঁঝরা হবে তোর?”
সিকান্দার জিভে কামড় দিয়ে দরজা আটকে চলে গেলো। এখন ভাইয়ের ব্যক্তিগত সময়। সে বিরক্ত করতে পারবে না আর।
জোহরার হাতে টেলিফোন। কথা বলার সাহসটুকু হচ্ছে না। কেউ শুনে ফেলবে কি-না সেই আতঙ্কে মিইয়ে আছে। বাবা কোণার ঘরটাতেই ঘুমুচ্ছেন। একটু টের পেয়ে গেলেই সর্বনাশ হবে।
তবে ওপাশের লোকটার সাথে যে সে কথা বলতে চায়! অনেক অনেক কথা।
মেজবাহ্ আবার ডাকল, “কথা যদি না-ই বলবেন তাহলে ফোন কেন করেছেন?”
জোহরা শুকনো ঢোক গিলল। চারপাশে আরেকবার সাবধানী চোখে পরখ করে খুব ধীরে বলল,
“আপনার খোঁজ নিতে।”
“আমার খোঁজ কেন নিতে হবে আপনাকে?”
“ওমা, আপনি দেশের নেতা। সাধারণ জনগণের তো দায়িত্ব আছে একটা।”
“প্রতি শুক্রবারে সাধারণ জনগণের দায়িত্বের কথা মনে পড়ে, তাই না?”
জোহরা হাসল, “হ্যাঁ, অন্যান্য দিনে সাধারণ জনগণ খুব ব্যস্ত থাকে।”
জোহরার হাসি ছুঁয়ে গেলো মেজবাহ্’র বুক। ওর ঠোঁটেও জমল হাসি,
“কীসের এত ব্যস্ততা? আমি কারো এক-আধ দিনের মানুষ হতে চাই না। বুঝলেন?”
শেষের শব্দটি বেশ জোরালো। যেন ফোনের ওপাশ থেকে মেজবাহ্ দেখিয়েই দিবে সুচরিতার জন্য তার বুক পুড়েছে কতটা।
জোহরার ঠোঁট তখন দুরন্ত হাসিতে ডুবে হয়েছে একাকার।
“তবে কত দিনের মানুষ হতে চান?”
“পৃথিবীতে যত অযুত, লক্ষ দিন বাঁচে মানুষ। ঠিক ততদিনের।”
“উমমম.. ভেবে দেখছি।” খুব ভাবুক স্বরেই বলল জোহরা।
মেজবাহ্’র চোখ বড়ো বড়ো হলে কথাটা শুনে। অতটুকু একটা মেয়ে তাকে ঘুরিয়ে প্রত্যাখ্যান করল? ভেবে দেখছি মানে কী? গত দু’বছরে কি তবে ভাববার সময় ছিলো না? মেজবাহ্’র অনুভূতি কি এতই লঘু?
রাগ ধরা দিলো তার হাসিখুশি মুখটাতে। কিন্তু চেয়েও সেই রাগ দেখাতে পারল না মেয়েটাকে। বরং উচ্চ কণ্ঠে ডাকল সিকান্দারকে,
“ঐ সিকান্দার। গাড়ি বের কর। বৃষ্টি বাড়ছে। বেশি অবাধ্যতা করছিস আজকাল।”
এ যেন ঝিকে মেরে বউকে শিক্ষা দেওয়া। সিকান্দার দরজার পাশেই ছিলো। ভাইয়ের ডাক পড়তেই সে দরজা খুলে দিলো। কিছু না বুঝতে পেরে নির্বোধের মতো তাকিয়ে রইল। সে আবার কখন অবাধ্য হলো?
জোহরা ঠিক বুঝল অবাধ্যতা মূলত কে করেছে। বুঝতে পেরেই সে হেসে ফেলল কিশোরীর মতো খিলখিল করে,
“উনি বুঝি খুব অবাধ্য হচ্ছেন? অবাধ্যতার শাস্তি কি?”
“গু লি করে বুক ঝাঁঝরা করে ফেলা।” কাঠ কাঠ ভঙ্গিতে উত্তর দিলো মেজবাহ্।
“আর আমার ক্ষেত্রে?”
অমন মায়া করে জানতে চাইল যে মেজবাহ্’র রাগ হলে হলো জল। মেয়েটা তার রাগ কমিয়ে ফেলতে জানেতো বেশ! ভারি চালাক।
মেজবাহ্ কণ্ঠ নরম করে উত্তর দিলো, “দণ্ড দিবো।”
“কেমন দণ্ড?”
“চিরজীবন সংসার করার দণ্ড। বছরের তিনশত পঁয়ষট্টি দিন আমার সামনে থেকে অবাধ্যতা করার দণ্ড। সকালে ঘুম থেকে উঠে অবাধ্যতা শুরু আর রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত কতটুকু অবাধ্যতা করছেন, তা দেখানোর দণ্ড। আমার দণ্ড কিন্তু কঠিন ভীষণ।”
“আমি যদি দণ্ড মাথা পেতে না নিই?”
“তুলে নিয়ে আসব। একবার যদি আমি দণ্ড ধার্য করে ফেলি তা অস্বীকার কেউ করতে পারবে না।”
“করলে?”
“তছনছ করে দিবো সব। আমায় চেনেন না। শেখের বেটা মেজবাহ্ আমি। দু’বছরের আমার প্রতিটি শুক্রবার নিজের নামে করে নিয়ে অন্য কারো সঙ্গে সংসার কথা মোটেও ভাববেন না। শেখের বেটা কারো পরোয়া করে না। আপনার সংসার আমি দু’টো সেকেন্ডও টিকতে দিবো না।”
“তাই? আপনিতো জানেনই না আমি কে! কোথায় থাকি। কী আমার পরিচয়। তাহলে কীভাবেই বা বুঝবেন আমি সংসার করছি?”
মেজবাহ্ এবার থেমে গেলো। মেয়েটা কি তার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে? এত সাহস ওর? অন্য কারো সঙ্গে সংসার করার কথা ভাবছে ও!
মেজবাহ্ বাঁকা হাসল। রহস্য করে বলল, “ভালো পয়েন্ট মনে করিয়ে দিলেন।”
পরক্ষণেই সে এক মুহূর্ত ব্যয় না করে আবার সিকান্দারকে ডাকল,
“সিকান্দার, টেলিফোনের এই নাম্বারটা বের করে খোঁজ নে হোম মিনিস্টারের। কোন বাপের বেটি আমার সংসার অদেখা করে অন্য কারো সাথে সংসার করতে চায় আমিও দেখি।”
জোহরা আঁতকে উঠল। পাগল খ্যাপিয়ে দিলো না-কি সে! এই লোক খোঁজ লাগালে অনর্থ লেগে যাবে যে বাড়িটায়!
তখুনি জোহরার পেছন থেকে ডেকে উঠল একটি পুরুষালি কণ্ঠ,
“টেপি, করছো কী?”
পুরুষ কণ্ঠটি ফোনের ওপাশের মেজবাহ্’র কান অব্দি পৌঁছালো। ভ্রু কুঁচকে ফেলল সে। এমন আদর করে কে ডাকল মেয়েটাকে? কে ডাকল?
চলবে…
-মম সাহা See less
Share On:
TAGS: ভালোবাসি সুচরিতা, মম সাহা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসি সুচরিতা পর্ব ১০
-
ভালোবাসি সুচরিতা পর্ব ২
-
ভালোবাসি সুচরিতা গল্পের লিংক
-
ভালোবাসি সুচরিতা পর্ব ৬
-
ভালোবাসি সুচরিতা পর্ব ৪
-
ভালোবাসি সুচরিতা পর্ব ৫
-
ভালোবাসি সুচরিতা পর্ব ১
-
ভালোবাসি সুচরিতা পর্ব ৮
-
ভালোবাসি সুচরিতা পর্ব ৭
-
ভালোবাসি সুচরিতা পর্ব ৩