Golpo romantic golpo প্রণয়ের রূপকথা

প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৮৭


প্রণয়ের_রূপকথা (৮৭)

আবিদা কিংবা আনোয়ার, কেউ ই আসেন নি। আর আয়ানার তো আসার প্রশ্নই ওঠে না। তবে একটা বিষয় ভালো, আবিদা কল করেছেন ববিতাকে। ববিতা দীর্ঘ একটি নিশ্বাস ফেলতেই আবিদা বললেন,”ববিতা, তোমার ওপর অনেক অন্যায় করেছি। আগেও করেছি। এই সময়ে এসেছেও করেছি। মাফ কোরো বোন।”
মানুষের হঠাৎ পরিবর্তন,চোখে খুব লাগে। সন্দেহ ও জাগায়। তবে এই সময়ে এসে আবিদাকে আর সন্দেহ করার অবকাশ নেই। তার জোরেই, আয়ানা আজ অন্য জায়গাতে। মেয়েটা থাকলে, নিশ্চিত কিছু করে বসত। ববিতা সামান্য হেসে বললেন,”আপা, বাদ দাও। যা যাবার গিয়েছে। তবে তোমরা যদি আসতে….
কথাটি শেষ হওয়ার আগেই, আবিদা বললেন,” না আসাটাই ভালো বোন। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হোক। ওদের গিয়ে দেখে আসব।”
“দেখে যাবে? এ কথাটা কেমন পর পর হয়ে গেল না আপা?”
আবিদা হাসলেন। বললেন,”সম্পর্ক তো পর আমরাই করে ফেলেছি ববিতা। ধীরে ধীরে ঠিক হবে আশা করি।”
“আশা করি কেন? ঠিক তো হতেই হবে আপা। এ বাড়ি তো তোমাদের ও।”
আবিদা কেমন একটু মনমরা হলেন। উসখুস করতে লাগলেন। ববিতা বললেন,”কিছু হয়েছে আপা?”
“না, না। কিছু না। আচ্ছা, তুমি তো মেয়ের মা। তোমার কত কাজ। অনুষ্ঠান তো শুরু হয়ে এলো। আমি বরং ছাড়ছি।”
বলে কলটি রাখলেন তিনি। খানিক বাদে, আনোয়ার এসে বসলেন। স্ত্রীর অন্যমনস্ক ভাব দেখে শুধালেন,”কিছু হয়েছে?”
“হ্যাঁ? কিছু বললে?”
“মনমরা লাগছে তোমায়।”
“ওও। তুমি এখনই এলে?”
“হ্যাঁ।”
আবিদা আসন ছাড়লেন। বললেন,”আমার খুব খারাপ লাগছে।”
“আবার কিছু হলো?”
“আগের বিষয়টিই। আমরা এতিমের হক মে রে ছি।”
বলে সহসাই আবিদা কান্নায় ভেঙে পড়লেন। কদিন ধরে, তিনি বড়োই দুঃখে আছেন। ঘুমাতে পারেন না। সারাক্ষণ একটা ভয় ভয় লাগে। মনে হয়, কি যেন হতে চলেছে। আনোয়ার স্ত্রীর পাশে বসলেন। হাতের দ্বারা গাল ছুঁয়ে দিলেন।
“আবিদা, শান্ত হও।”
“কীভাবে হব? আমি সারাজীবন অন্যায় করে এসেছি। এসব আমাকে শেষ করে দিচ্ছে।”
আনোয়ার একটু চুপসে রইলেন। তারপর বললেন,”তুমি চলো আমার সাথে। ডাক্তার দেখিয়ে আসি।”
“ডাক্তার দেখিয়ে কী হবে? এটা তো আমার রোগ না। তুমি বুঝতে পারছো না।”
“আমি বুঝতে পারছি। তুমি চলো আবিদা। কথা বাড়িও না।”
আবিদাকে এই সেই বুঝ দিয়ে, বের করলেন আনোয়ার। ওমন সময় ওপরের ঘর থেকে কিছু ভাঙার শব্দ হলো। আয়ানা করিডোরে এসে দাঁড়িয়েছে। চোখ দুটো লাল।
“কোথায় যাও তোমরা? বিয়ের দাওয়াতে? লজ্জা করে না তোমাদের?”
আনোয়ার কথার জবাব দিলেন না। স্ত্রীকে নিয়ে সামনে এগোলেন। আয়ানা আরো চ্যাঁচামেচি করতে লাগল। তারপর কাঁদতে লাগল। নিজের ঘরের মেঝেতে শুয়ে, চিৎকার করে বলল,”আমি বুঝি নি। আমি বুঝি নি দীপ্র দাদাভাই। বুঝিনি তোমাকে সত্যিই ভালোবেসে ফেলব। আমি একদমই বুঝিনি।”
বলতে বলতে দীপ্রর একটা ছবি বের করল। এই ছবিতে দীপ্রর পাশে রয়েছে ও নিজেও। কী সুন্দর লাগছে দুজনকে। আয়ানা টলমলে চোখে হাসতে লাগল। অশ্রু গড়িয়ে পড়ল ছবিতে। সেটা হাত দিয়ে মুছে, ও পাগলের মতন বার কয়েক চুমু খেল। তারপর ফিসফিস করে বলল,”আমি এতই খারাপ? এতই খারাপ? আমায় ভালোবাসা গেল না? গেল না ভালোবাসা?”
ওদিকে দেওয়ান বাড়িতে হৈ হৈ চলছে। অরণ্য এসেছে মাত্র। রাত্রি আবার অভিমান করেছে। ছেলেটার আসার কথা ছিল আগে। না, সে এলো এত দেরি করে। ওর অভিমান ভাঙাতে, পেছন থেকে জাপটে ধরল অরণ্য। রাত্রি ছাড়াতে ছাড়াতে বলল,”অ্যাই, একদম ধরবে না আমায়।”
“তোমায় ধরব না? এটা হয় নাকি? তুমি না আমার বউ?”
“আসছে, আমার বউ বউ করতে। এত সময় কোথায় ছিল তোমার বউ।”
“বউ তো ছিলই। আমি কি তোমায় ছাড়ছি বলো?”
“একদম কথা বলবা না তুমি। সরো তো।”
পাশ কাটাতে গেলে। আটকে ধরে অরণ্য। রাত্রি ঘুরে চায়। অরণ্য বলে,”আমার কী দোষ। তোমার ভাই ই তো কাজ দিয়েছিল।”
“দীপ্র ভাই?”
“হু, হু।”
রাত্রি দমল। তবু নাক ফুলিয়ে বলল,”এ যাত্রায় মাফ করলাম।”
“তোমাদের হলো?”
ঠকঠক করে আঘাত পড়ল দরজায়। কণ্ঠটি কণার। রাত্রি জবাব দিল,”আসছি।”
“উফ, তুমি এত লেট করছো কেন রাত্রিপু। সেই কখন সন্ধ্যা হয়েছে।”
“আসছি বাবা।”
কণা আরো কিছু বলতে নিচ্ছিল। ঠিক তখনই কুঞ্জ এসে ওর পোশাক টেনে ধরল।
“কী?”
“তোমাকে খুঁজছে?”
“কে?”
“দেখো গিয়ে।”
“আরে বলে তো যা কে।”
“আমি বলতে পারব না। নিষেধ আছে।”
বলেই কুঞ্জ হৈ হৈ করে চলতে লাগল। ছেলেটার মোটা শরীর দুলছে। কণা না চাইতেও হেসে ফেলল।
হলুদের সাজে কুহুকে একটু বেশিই সুন্দর লাগছে কী? ছবিটা পাঠিয়েছে,মেয়েটি নিজেই। দীপ্র এক মনে দেখছে। ওদিকে সীন হয়েছে। কিন্তু জবাব নেই। কুহু পড়েছে চিন্তায়। তাকে কী খারাপ দেখাচ্ছে? দীপ্র ভাইয়ের পছন্দ হয়নি? ও আয়নার সামনে এসে, নিজেকে দেখতে লাগল। এটা সেটা চেইক করতে লাগল। তারপর অনুভব করল, সাজ ভালো হয় নি৷ তাকে ভালো লাগছে না। একটু ও না। ওর কেমন কান্না পেয়ে গেল। ও প্রায় কাঁদতেই গিয়েছিল, ঠিক সে সময়েই দীপ্রর ম্যাসেজ এল। ও হুড়মুড় করে ফোনটি তুলল।
“তুই কী চাস বল তো?”
কুহু বুঝল না কথার মানে। চেয়ে রইল ফোনের স্ক্রিনে। মুহূর্তেই কল এলো। ও প্রথম দফায় রিসিভ করতেই ভুলে গেল। দ্বিতীয় বার কল এলে, রিসিভ করল। বড়ো ভয় নিয়ে বলল,”আপনি কি রাগ করেছেন?”
“হু।”
ছোট একটি জবাব। কুহু আর পারে না। ঠোঁট কামড়ে ধরে। দীপ্র ওপাশ থেকে বলে,”আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছিস? তোকে এখন জড়িয়ে ধরে, চুমু খেতে ইচ্ছে করছে। আমি কী করি বল তো?”
কুহুর মনটা মুহূর্তেই ভালো হয়ে গেল। ও মুখ ফুটে বলে ফেলল,”খান না। নিষেধ করেছে কে?”
“সত্যি তো?”
মেয়েটির সুর এবার দমল। ও মিনমিনে সুরে বলল,”গত রাতে না….
“ওটা তো গত রাতে ছিল। এখন তো আবার…
নিজের লাগাম টানল দীপ্র। বুক ভরে দম নিয়ে বলল,” থাক, ধৈর্য রাখি। তুই আমাকে আরো বেশি পাগল কর। একদম একেবারেই শোধ নিব।”
কুহু জবাবটি আর দিতে পারল না। লজ্জা লাগল কেমন। দীপ্র কল কাটল। মৃদু হেসে ফের ছবিটা দেখতে লাগল। তার বউকে, ছবিতেই এমন মারাত্মক সুন্দর লাগছে। সামনাসামনি তো দীপ্রর মাথাটাই নষ্ট করে দিবে। তখন যদি ও সবার সামনে চুমুটুমু খেয়ে ফেলে? না দীপ্র, তোমাকে কন্ট্রোল রাখতে হবে। একটু তো লজ্জা রাখো, ভেবে নিজেই হাসতে লাগল ও।
আমি টুকটুক করে লিখছি। অসুস্থ ও আছি। দোয়া করবেন। আশা করছি, আগামী মাসের মাঝামাঝিতে এই গল্পটা শেষ হবে। মানে আর এক মাস চলবে। দেখি আর কত পর্ব হয়?
চলবে…
কলমে ~ ফাতেমা তুজ নৌশি See less

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply