#নদীর_ওপারে_সুখ
#সিমরান_মিমি
#পর্বসংখ্যা_০২
•
আলেয়া বেগম ত্রস্ত পায়ে জমিদার বাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। পুকুরের কাছে পৌঁছাতেই তার হৃৎপিন্ড ধুকপুক ধুকপুক করতে লাগলো। ভয়ে হাতের টর্চ লাইট নড়ছে। বিগত চার বছর ধরে তিনি জমিদার বাড়ি দেখাশোনা করছেন। দেখাশোনা বলতে সপ্তাহে একদিন এসে পুরো বাড়ি, উঠোন পরিস্কার করেন। শুনেছেন, জমিদার ইসহাক মাহমুদের একমাত্র পুত্র নওশাদ মাহমুদ চৌধুরী মারা যাওয়ার পর থেকেই জমিদার বাড়ি পরিত্যক্ত। তার সন্তানরা এখানে থাকেন না। লোকমুখে শুনেছেন, রাতের আঁধার নামলে মৃত নওশাদ মাহমুদ ঘোরাফেরা করেন। পুরো বাড়ি পাহারা দেন। অথচ এই ভয়ংকর ঘটনা জানার পরেও আলেয়াকে সন্ধ্যার পর এখানে আসতে হয়েছে।
গতদিন পুরো বাড়ি পরিস্কার করার পর থেকেই মন খুঁতখুঁত করছে। তিনি কি তালা লাগিয়েছিলেন? — প্রশ্নটা চরকির মতো ঘুরছে। এতো বড় বাড়ি, এতো মূল্যবান জিনিসপত্র যদি চুরি হয়ে যায়, তখন কি জবাব দিবেন? সে জন্যই বাধ্য হয়ে দেখতে এসেছেন। হোটেলের কাজকর্ম শেষ করতে করতে সেই সন্ধ্যা’ই হয়ে গেলো।
আলেয়া আস্তেধীরে সিঁড়ির গোড়ায় দাঁড়িয়ে টর্চ ধরলেন দরজার দিকে। মুহুর্তেই স্তব্ধ হয়ে যান। শরীর কেঁপে ওঠে ভয়ে। মেয়েলি পোশাকে কেউ একজন উপুড় হয়ে শুয়ে আছে দরজার সামনে। তবে কি এই রুপ নওশাদ মাহমুদ ধরেছেন? ভাবতেই আলেয়ার আত্মা কেঁপে উঠলো। পা দুটো শক্ত হয়ে জমে গেলো। কাঁপা কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,
“ আপনে কে ? ”
নিভি’র শরীর ভয়ে কাঁপছে। শরীরের উপর আলো পড়েছে দেখে আরো ঘাবড়ে গেলো। এই রাতে নির্জন, সুনশান স্থানে আলো হাতে বোরকা পরিহিত এক মধ্যবয়স্ক মহিলাকে কেই-বা আশা করে? সে আস্তেধীরে মাথা তুলে আলোর দিকে তাকায়। চোখের পাপড়ি ভিঁজে লেপ্টে আছে একে অপরের সাথে।
“ আমি নিভি। ”
নিভি’র নিষ্পাপ কান্নাভেজা মুখ দেখে আলেয়া একটু সাহস পেলেন। তবুও সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলেন না। সে সাহস তার নেই। আগের স্থানে দাঁড়িয়েই প্রশ্ন ছুড়লেন,
“ কোথা থেকে আইছেন, আর এই খানে কি করেন?
ভাষা’টা নিভির অপরিচিত। কিন্তু কঠিন নয়। সে বুঝতে পারলো। কোথা থেকে এসেছে, কি করছে, এতোসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সরাসরি বললো,
“ এটা নওশাদ মাহমুদ চৌধুরীর বাড়ি না? আমি তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। ওনারা কি বাড়িতে নেই? ”
“ হে তো কবরে। “
“মানে? ”
“ হে মারা গেছে। আর হের পোলাপাইন ও বাড়িত থাহে না। আপনে কার লগে কথা কইবেন? ”
নানা মারা গেছে শুনে নিভির চারপাশ’টা অন্ধকার হয়ে এলো। এখন সে কি করবে? কার কাছে আশ্রয় নেবে? মামারা…. কিন্তু তারাও বা কোথায়? ভেবে ভেবে অস্থির হয়ে উঠলো সে। চল্লিশোর্ধ্ব আলেয়া তখন দরজায় তালা দেওয়া দেখে চলে যাচ্ছেন। নিভি দ্রুত ব্যাগ কাঁধে নিয়ে তার পিছু পিছু ছুটলো।
“ শুনুন, আন্টি। ওনার ছেলেরা কোথায় থাকেন? তাদের ফোন নাম্বার দিতে পারবেন? ”
“ না, পারতাম না। আমার ধারে কারুর নাম্বার নাই। হেরা ঢাকায় থাহে। ”
আলেয়া দ্রুত হাঁটছেন। আশ্চর্য! সেকি ভয় পাচ্ছে নিভিকে? নাকি অগ্রাহ্য করছে। অন্যসময় হলে এই ভদ্রমহিলার দিকে নিভি ঘুরেও তাকাতো না। কেউ কথা বলতে এলে তাকে এভাবে অগ্রাহ্য কীভাবে করে? নিভি তবুও তার পেছনে ছুটলো। পরিস্থিতি তাকে আর কতটা ছোট করবে কে জানে!
“ আন্টি, আমি অনেক দূর থেকে এসেছি। থাকার জায়গা নেই। কিছু মনে না করলে, রাতে একটু থাকতে দেবেন? ”
আলেয়া মুহুর্ত ব্যয় করলো না। তার পূর্বেই বললো,
“ না না বাপু, তোমারে আমার সুবিধার লাগতেছে না। এমনেও আমার ঘর একটা। জামাইয়ের চরিত্রও সুবিধার না। যুবতী মাইয়া রাইখা শেষে বেকায়দায় পড়মু। আপনে হেগো লগে কথা কন। ”
“ আচ্ছা, আচ্ছা, যাবো না। একটু ঠিকানা’টা দিন। আমার খুব প্রয়োজন।
নিভিকে আলেয়ার সুবিধার লাগছে না। একে তো ভুতের ভয়’ই কাটেনি। তার উপর দেখতেও ফর্সা, দুধে আলতা রঙ। নিশ্চয়ই জ্বিন-পরী কিছু একটা হবে। এখন আবার পেছন পেছন ছুটে বলছে বাড়িতে যাবে। এটা মোটেও স্বাভাবিক নয়। আলেয়া লোকমুখে শুনেছে, জ্বিন-পরীকে একবার আশ্রয় দিলে, সারাজীবন কবিরাজ-ফকির গুলে খেলেও তারা আর যায় না। সে দ্রুত ছুটে একটা দোকানের সামনে গেলো। গলায় ঝোলানো ছোটো ব্যাগ থেকে বাটন ফোন বের করে কল লাগালো ছেলের নাম্বারে। গত বছর ঢাকায় এডমিশন পরিক্ষা দিতে বখতিয়ার মাহমুদ চৌধুরীদের বাড়িতে গিয়েছিলো তার ছেলে। অবশ্য তারা নিজে থেকেই আশ্রয় দিয়েছিলো। ছেলের থেকে ঠিকানা এনে নিভিকে বললো,
“ আপনের দোহাই লাগে, আমার পেছন আইসেন না। যাগো লগে কথা কইতে আসছেন, তাগো কাছে যান।
এই বলে আলেয়া অটোতে উঠে পড়লো। অথচ বাড়ি তার কাছেই। তিনি দিকবিদিক হারিয়ে ফেলেছেন। কিছুদুর গিয়ে যখন হুশ ফিরলো তখন গাড়ির মধ্যেই চিৎকার করে উঠলেন,
“ ও আল্লাহ! আমারে ভেউলায় পাইছে । আমার পিছনে জ্বিন লাগছে। ”
ড্রাইভার আতংকিত হয়ে গাড়ি থামালেন। আলেয়া গাড়ি থেকে নেমে দু কদম যেতেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন।
চৌধুরী নিবাস,
এভিনিউ ৫, রোড নাম্বার ১১
মিরপুর ডিওএইচএস, পল্লবী, ঢাকা ১২১৬
এতটুকুই লিখতে পারলো নিভি। ওপাশ থেকে ছেলেটা আরো বিস্তারিত তথ্য বলেছে। কোন জায়গায় নেমে, কিভাবে যেতে হবে এ বিষয়ে। কিন্তু সে তা শুনতে পারেনি। তার পূর্বেই আলেয়া বেগম মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে চলে গেছে। নিভি কাগজটার উপরে গুটি গুটি অক্ষরে লিখলো – “বখতিয়ার মাহমুদ চৌধুরী। ”
নামটা তার কাছে বড্ড কঠিন। কোনোভাবে ভুলে গেলে অথৈ সাগরে ভাসতে হবে।
এশার আজান দিচ্ছে। পাশেই অপার্থিব সুন্দর একটা মসজিদ আছে বলে সুরগুলো অন্তরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। নিভি আজানের পুরো সময়টা মসজিদের দিকে চেয়ে রইলো। এরপর ছোট্ট একটা শ্বাস ফেলে সিএনজিতে উঠলো। এখানকার তেমন কোনো স্থানের নাম জানে না সে। তাই ড্রাইভারকে বললো,
“ বাস স্ট্যান্ডে নিয়ে চলুন। যেখানে ঢাকার বাস আসে। ”
সিটে মাথা হেলিয়ে সে বাইরের দিকে তাকালো। অচেনা শহরের রাতের সৌন্দর্য তার উপভোগ করতে ইচ্ছে করছে না। তবে খুব শান্তি শান্তি অনুভব হচ্ছে। মন বলছে, এটাই তো মায়ের শহর। এখানেই তো বেড়ে উঠেছে মা। তাই এই সবকিছু নিভির বড্ড আপন। রাতের ঝলমলে আলো, জোঁনাকি পোকা, মৃদু মন্দ বাতাসে সে মা মা গন্ধ খুঁজে বেড়ালো।
—
কাউন্টারে কথা বলেছে নিভি। ম্যানেজার বলেছে, বাস ছাড়বে সাড়ে দশটায়। সরাসরি মিরপুর যাবে। শুনে সে হাফ ছেড়ে বাঁচলো। মা বলেছিলেন, রাতের শহর নারীদের জন্য রাক্ষস হয়ে ওঠে। যে কোনো সময় হামলে পরে ছিঁড়ে খাওয়ার জন্য। বাড়ি থেকে বাসে ওঠার পর থেকেই কথাগুলো কানের কাছে বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। নিভি দুটো বনরুটি, এক লিটার পানি এবং এক হালি কলা কিনে কাউন্টারে বসলো।
রাত সবে সাড়ে আটটা। বাস ছাড়তে এখনো দু ঘন্টা বাকি। এই রাতে বাইরে কোথাও না কাটিয়ে বাসে কাটানোই অধিক শ্রেয় বলে মনে করলো সে । নিশ্চয়ই ঢাকার যাত্রীদের মধ্যে অনেক মহিলা থাকবেন। সেক্ষেত্রে সে একদম নিরাপদ। ম্যানেজার বলেছেন, পৌঁছাতে পৌঁছাতে ভোর হবে। এরপর সে চলে যাবে চৌধুরী নিবাসে। সব মিলিয়ে আজকের রাত নিরাপদ কাটবে ভেবে সস্তিতে নিঃশ্বাস ফেললো সে।
নিভি সারারাতে একঘন্টাও ঘুমায়নি। মাঝে কিছুক্ষণের জন্য চোখ লেগে গেলেও তক্ষুণি চোখে পানি দিয়েছে। তার পাশের সিটে একজন ভদ্রলোক বসেছেন। বয়স আনুমানিক পয়ত্রিশ। লোকটা দূরত্ব নিয়ে বসলেও নিভির ভয় একটুও কাটেনি। এই বুঝি বাজেভাবে শরীর ছুঁয়ে দেবে — আতংকে সারারাত নির্ঘুম ছিলো।
বাস পৌঁছালো ভোর পাঁচটায়। সে ত্রস্ত পায়ে ব্যাগ ঝাপটে ধরে বাস থেকে নামলো। কৌতূহলী চোখে আশেপাশের নিরব, স্তব্ধ দৃশ্য দেখলো।
“ এটাই কি মিরপুর ১১? “
প্রশ্ন শুনে ভদ্রলোক দাঁড়ালেন। বললেন,
“ নাহ, এটা ১০। ”
চিন্তায় পড়ে গেলো নিভি। মিরপুরেরও অনেক গুলো ভাগ আছে বুঝতে পেরে বিভ্রান্ত হলো। বললো,
“ মিরপুর ১১ তে কিভাবে যাবো? ”
“ রিকশা, বা অটোতে উঠে চলে যাবেন। ”
ভদ্রলোকের বোধহয় তাড়া ছিলো। তাই তিনি লাগেজ হাতে চলে গেলেন ধপাধপ। নিভি আশপাশ’টা দেখতে লাগলো। রাস্তা পুরো ফাঁকা। সে শুনেছে, শহরের মানুষ অনেক সকাল অবধি ঘুমায়। তবে কি এতো ভোরে গাড়ি পাবে না? হয়তো অপেক্ষা করতে হবে।
পাশেই সান বাঁধানো বৈঠক। সে ধীর পায়ে সেখানে গিয়ে বসলো। একে একে বাসের যাত্রীরা চলে গেলো। বাস ও এগিয়ে গেলো অন্য গন্তব্যে। একাকী নির্জনতায় বসে রইলো নিভি। প্রায় দশ-পনেরো মিনিট পর একটা রিকশা দেখা গেলো। চালক রাস্তার ধারে নিভিকে দেখে খানিকটা এগিয়ে গিয়েও আবার ফিরে আসলো। তার চোখদুটো মৃদু লাল। আশেপাশে তাকিয়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“ যাইবেন কোথায়? ”
অবশেষে রিকশা পাওয়া গেলো। নিভি ব্যাগ হাতড়ে ঠিকানা লেখা কাগজটা চালকের হাতে দিয়ে বললো,
“ এই এড্রেস টা চেনেন? এখানে যাবো? ”
চালক একবার নিভিকে দেখে আরেকবার কাগজ দেখলো। বাস্তবিক অর্থে, সে পড়তে জানে না। জীবনের এই সাতাশ’টা বছরে কখনো স্কুলের চৌকাঠ ও পার হয়নি। তবুও সে হাসলো। বললো,
“ আরে এই বাড়ি, এইটা তো একদম কাছে। আমি প্রত্যেকদিন কাঁচাবাজার দিয়া আসি এইখানে। ”
নিভির চোখদুটো চকচক করে উঠলো। লোকটা তার মামাবাড়িতে রোজ বাজার দিয়ে আসে শুনে বড্ড আপনই লাগলো। মৃদু হেসে ব্যাগ তুলে রিকশায় বসলো। বললো,
“ চলুন তাহলে। “
চালক পুরো রাস্তায় আর টু শব্দও করলো না। এগিয়ে গেলো নিজের মতো করো। কয়েকটা ছোট গলি পার হয়ে এগিয়ে গেলো আরো ভেতরে। রাস্তার চারধারে ময়লা স্তুপ করে রাখা৷ নিভি নাক চেপে ধরলো। একসময় একটা টিনের চালা দেওয়া ঘরের সামনে থামতেই নিভি কৌতূহলী হলো। বললো,
“ এটা কোথায় এনেছেন? ”
“ এই ঠিকানাই তো লেখা৷ ”
“ না না, এটা না। আপনি ভুল করেছেন। আমার মামা’রা অনেক ধনী পরিবার। এই বাড়ি তাদের নয়৷ ”
চালক তবুও অস্বীকার করলো। আশেপাশে তাকিয়ে কন্ঠ কিছুটা খাদে নামিয়ে বললো,
“ আরে আপা এইটাই। আপনি ভেতরে আসেন। আচ্ছা, আপনার মামার নাম কি কন তো? ”
“ বখতিয়ার মাহমুদ….. ”
“ হ, তো আমি কি কই? এইটাই বখতিয়ার ভাইজানের ঘর। একদম মাটির মানুষ। আপনি ভেতরে আসেন, উনি একটু অসুস্থ। ”
চালক নিভির একটা ব্যাগ নিয়ে দরজার ভেতরে ঢুকলো। অগত্যা বাধ্য হয়ে নিভি নিজেও ঢুকলো সে ঘরে। ভেতরটা আবছা অন্ধকার। হঠাৎ দরজা বন্ধ হতেই সে শিউরে উঠলো। পেছন ঘুরে দেখার পূর্বেই লোকটা হামলে পড়লো তার উপর। আতংকে চিৎকার দেবে, এমন সময় তার মুখে গামছা পেঁচিয়ে ধরলো চালক। নিভি ছটফট করতে লাগলো। মায়ের চেহারা’টা মনে পড়ছে খুব। বলতে ইচ্ছে করছে,
“ মা, তুমি ভুল জানো। এ শহরে শুধু রাতে নয়, দিনের বেলায়ও নারী নিরাপদ নয়। যখন তখন হিংস্র জানোয়ার ঝাঁপিয়ে পড়ে। ”
বিশ্রী দুর্গন্ধ আসছে চালকের মুখ থেকে। শরীরটাও টলছে। তবে কি সে নেশাগ্রস্ত? নিভি দুহাতে খামচে ধরলো তার চোখ-মুখ। কয়েক সেকেন্ডের জন্য মুক্ত হতেই ছুটে গেলো দরজার দিকে। এর মধ্যেই সে পুণরায় হিংস্র জানোয়ারের মতো এগিয়ে এলো । দিকবিদিকশুন্য হয়ে নিভি টেবিলের পাশ থেকে একটা ইট তুললো। এরপর সর্বোচ্চ শক্তিতে ছুঁড়ে মারলো মাথার উপর।
চালকের মাথা ফেটে গেছে। গলগল করে রক্ত পড়ছে সেখান থেকে। আতংকে মুখ নীল হয়ে এলো নিভির। লোকটা নড়ছে না। তবে কি মারা গেলো?
এতোকিছু ভাবার সময় নেই। সে ওড়নাটা মুঠোয় নিয়ে দরজার পাশে পড়ে থাকা ব্যাগ হাতে নিলো। এরপর প্রাণপণ ছুটে বেরিয়ে এলো গলি থেকে। মেইন রোডের পাশে দাঁড়িয়ে হাঁপাতে লাগলো। কোমড়, গলা, এবং হাতের কনুই জ্বলছে। তার সঙ্গে না পেরে নেশাখোর চালক খামচে দিয়েছে। নিভি আঘাতপ্রাপ্ত স্থানগুলো কাঁদতে কাঁদতে ছুয়ে দিলো। হঠাৎ বইয়ের ব্যাগের কথা মনে পড়ে। সে বইয়ের ব্যাগ ওখানেই ফেলে এসেছে। এমনকি ঠিকানা লেখা কাগজটাও চালকের কাছে ছিলো। এবার কি করবে ? কার কাছে যাবে? ঠিকানা তো মুখস্থ ছিলো না। আতংকে জ্ঞান হারানোর উপক্রম তার। নির্ঘুম শরীরটা নুয়ে পড়ছে। আর কিছু ভাবতে পারছে না। রাস্তা দিয়ে কিছুক্ষণ পর পর দ্রুতগতিতে বাস, ট্রাক চলছে। নিভি উঠে দাঁড়ালো। কাপড়ের ব্যাগ হাতে নিয়ে এগিয়ে গেলো রাস্তার মধ্যিখানে। এতোটা ছোটার পর শরীরে আর শক্তি নেই। ঠিকানা টুকু হারিয়ে সে আরো অসহায়। মাকে ভীষণ মনে পড়ছে । চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে,
“মা, তুমি ছাড়া আমি এক পা ও চলতে পারিনা। তোমাকে ছাড়া নিভির প্রদীপ এই বুঝি ফুরিয়ে গেলো। ”
চলবে?
( পর্বগুলো তুলনামূলক ছোট লাগছে, তাই না? একটু ধৈর্য ধরুন। চার-পাঁচ দিন পর থেকে বড় বড় করে দেবো। ❤️❤️)
Share On:
TAGS: নদীর ওপারে সুখ, সিমরান মিমি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE