প্রায় দু বছর ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধ করার পর মা যেদিন জানতে পারলেন বাবা বিয়ে করেছে, সেদিন রাতেই তিনি মারা গেলেন। মায়ের মৃত্যুর তিনদিনের মধ্যে আত্মীয়-স্বজনদের সমীকরণ বদলে যেতে শুরু করলো। মেঝো চাচি তো বলেই ফেললেন,
“ অনেক ধৈর্য ধরছি, আর পারমু না। তোর বাপে তোগো ভিটেমাটি বেঁইচা ছয়মাস আগেই তিনলাখ টাকা নিছে। এহন ঘর ভাঙমু। আমগো ঘর, তোগো ঘর মিলাইয়া বড় বিল্ডিং বানামু। ”
আমি হতভম্ব হয়ে চেয়ে রইলাম। চাচি বললেন দু-তিন দিনের মধ্যে মাল-জিনিস সরাতে। জিনিসপত্র বলতে আমার একটা পড়ার টেবিল, সেলাই মেশিন, টিনের বড় একটা বাক্স আর হাঁড়ি-পাতিল। আমি চাচার দিকে নিষ্পলক চেয়ে রইলাম। ভেবেছিলাম, তিনি অন্তত কিছু বলবেন। কিন্তু না, তিনি চোখ নামিয়ে বসে রইলেন।
“আমি কোথায় যাবো, চাচা? ”
“ আমি কি জানি? আমারে জিগাও ক্যা? আমার আলাদা সংসার আছে। তোর বাপেই তো তোরে নিতে চায় না, হের সংসার ভাঙবে বইল্লা। ”
মা মারা গেছে আজ তিনদিন। এই তো দু-তিন ঘন্টা আগেই মিলাদ শেষ হলো। হয়তো সামাজিকতা টুকু শেষ হওয়ার জন্য’ই চাচী অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ কোত্থেকে একটা কোদাল এনে কোপ বসালেন ঘরের পিঁড়ায়। স্তব্ধ হয়ে গেলাম। অনুভব করলাম, বুকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আমাদের ঘরের মাটির চার’টা পিঁড়েই অত্যন্ত সুন্দর করে লিপা। পনেরো দিন আগেই মা লিপেছেন। আমি লিপতে জানি না। সেদিন পরিক্ষা দিয়ে এসে দেখলাম, মা নুয়ে পড়তে পড়তে কাঁদা মাখছেন। কি রাগটাই না দেখিয়েছিলাম! মা নরম গলায় বললো,
“ ফাঁটল ধরছে মা। একটু লিপি। তিন-চার মাস ভালো থাকবে। ”
চাচী শরীরের তেজে কোপ বসালেন ঠিকই, কিন্তু দুটো কোপ দেওয়ার পর নিজে নিজেই থেমে গেলেন। চাচার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বললেন,
“ জামালের বাপ, তোমারে আমি ফাইনাল কথা কইতাছি। ঘর আমি এই মাসেই উডামু। হাতে দুইডা টাকা আছে, জামাল ডেইলি ডেইলি চাইতে আয়। পোলায় একবার নিয়া গেলে আর পাবা না। কাইল’ই তুমি ঘরের বেড়া খোলবা। ”
চাচা মাথা নাড়িয়ে সায় দিলেন। আমি কোনঠাসা হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। এ জীবনে কখনো কোনো কিছুর জন্য কাউকে অনুরোধ করিনি। খাবার থাকলে খেয়েছি, না থাকলে না খেয়ে বসে থেকেছি। এ অভ্যাস মায়ের থেকেই পেয়েছি। আমার মায়ের ছিলেন প্রচন্ড আত্মসম্মানবোধ। বাবা মাস শেষে টাকা না পাঠালে কখনো কাউকে বলতেন না। সেলাই মেশিন চালিয়ে উপার্জন করে সংসার চালাতেন, আমার লেখাপড়া চালাতেন। আমিও তার মতোই হয়েছি। মায়ের অসুস্থতায় একটানা রাতের পর রাত সেলাইয়ের চাকা ঘুরিয়েছি। তবুও হাত পাতিনি। কিন্তু জীবনের এই চরম মুহুর্তে এসে লজ্জাকে বিসর্জন দিয়ে চাচীর কাছে অনুরোধ করলাম,
“ চাচী, ঘর ভেঙে ফেলো। আমার তাতে আপত্তি নেই। শুধু আমাকে একটু তোমাদের বারান্দায় থাকতে দিয়ো। এইচএসসি পরীক্ষা’টা দিয়ে চলে যাবো। ”
“ এহহহহহ! নিজের মাইয়া দিছি নাইনে থাকতে বিয়া। আর তোরে নিয়া পালংকে উডাইয়া পালমু আর লেহাপড়া করামু? ”
চাচা বললেন,
“ নিভি, তোর মামা’র কাছে যাইতে পারো না? হুনছি, হেয় বড়লোক।
নানা-নানি, মামা-খালা আমার ভাগ্যে জোটেনি। শুনেছি পরিবারের অমতে মা পালিয়ে বাবাকে বিয়ে করেছিলেন। এরপর মাকে ত্যাগ করে দেয় নানা। মা ’ ও আর যোগাযোগ রাখেনি। নিজের নেওয়া ভুল সিদ্ধান্তের জন্য কষ্টে জর্জরিত হলেও ফিরে যান নি। একবার যখন সবাইকে ছেড়েছেন, পঁচে গলে মরে গেলেও সেখানে অনুতপ্ত মুখ নিয়ে ফিরে যাবেন না। মা তার কথা রেখেছে৷ মৃত্যূ পর্যন্ত সে কারো দ্বারস্থ হয়নি। চিকিৎসা বিহীন ক্যান্সারে মৃত্যুকে বরণ করলেও ফিরে যান নি বাবার বাড়িতে।
নানা বাড়ি সম্পর্কে আমি তেমন কিছুই জানি না। শুনেছি, লক্ষীপুরের জমিদার ছিলেন মায়ের দাদা। এক দিন কথায় কথায় একথা বলে পরক্ষণেই নিশ্চুপ হয়ে যান মা। হাজার জিজ্ঞেস করলেও আর কোনো তথ্য দেননি।
নিভি সেদিনের পর প্রায় দুদিন ধরে চাচা-চাচীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। অন্তত দুটো মাস যেনো থাকতে দেয়। যে বাড়িতে মা বেঁচে থাকতেই কখনো যায় নি, সে বাড়িতে নিভি কি করে যাবে? তারা তো মাকেই ত্যাগ করে দিয়েছে। নিভি গেলে কি আদৌ আশ্রয় দেবে? যদি তাড়িয়ে দেয়, তখন কোথায় যাবে?
মন গলেনি কারোর। ছোটো চাচা বাড়ির কারোর সঙ্গে তেমন পরিচয়ই রাখেনি। চট্রগ্রামে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দীর্ঘ আট বছর ধরে থাকছেন। বাবাকে অজস্রবার কল করলেও তিনি রিসিভড করছেন না, শেষ মেশ ফোনই বন্ধ করে দিলেন। যেখানে কেউ-ই আগ্রহ দেখাচ্ছে না, সেখানে অবিবাহিত এক যুবতী মেয়েকে মেঝো চাচা কি করে পালবেন, স্ত্রীর সঙ্গে যুদ্ধ করে? তার সংসার তো ভেসে যাবে দুদিনে। তিনি নিভির অনুরোধে গললেন না। উলটো অনুরোধ করে বললেন,
“ আমার সংসারডা ভাঙ্গিস না মা। আমারে একটু রেহাই দে। তুই তোর নানা বাড়ি যা — লক্ষীপুর। তোর নানারা অনেক ভালো। পরিচয় দিলেই তোরে আশ্রয় দেবে।”
আশ্রয়হীন নিভি কেঁদে ফেললো হু হু করে। বললো,
“ আমি তো কখনো যাইনি চাচা। চিনিও না। কোথায় যাবো? ”
“ আরে পাগল! ডরের কি আছে? লক্ষীপুর যাইয়া কইবি, জমিদার বাড়ি যামু। আর তোর নানার নাম — নওশাদ মাহমুদ চৌধুরী। এর চাইয়া বেশি আমি জানি না। ”
উঠোনে নেমে ঘরের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো নিভি। মায়ের ব্যবহৃত বাটন ফোনে সময় দেখে নিলো। ভোর পাঁচটা তেইশ। মা সায়মা মাহমুদের কবর ঘরের ঠিক দক্ষিণপাশে, পুকুরের বাঁ দিকে। নিভি থেমে থেমে কবরের কাছে গেলো। দুহাত দিয়ে ছুঁয়ে দিলো সিক্ত মাটি। জোরে শ্বাস নিয়ে কবরের ঘ্রাণ শুকলো। বললো,
“ কষ্ট পেয়ো না, মা। আমি তো চিরজীবনের জন্য যাচ্ছি না । তোমাকে যখন রেখে যাচ্ছি, তখন বেঁচে থাকলে অবশ্যই আসবো। ”
আকাশের পূর্ব দিকে কুসুম রঙা আভা দেখা যাচ্ছে। একটু পর’ই সূর্য উঁকি দেবে এখান থেকে। আশ্রয়হীন নিভি অবশেষে লক্ষীপুরের উদ্দেশ্যে পা বাড়ালো। এখান থেকে প্রায় ১৩৩ কিলোমিটার দূরে।
মায়ের অসুস্থতার পর থেকে হাতে তেমন টাকা থাকেনা। টুকটাক ওষুধেই শেষ হয়ে যায়। অষ্টম শ্রেণিতে যখন নিভি ভালো রেজাল্ট করলো, তার পর সায়মা মাহমুদ তাকে একজোড়া কানের চিকন রিং দুল গড়িয়ে দেয়। মায়ের কাফন, দাফন, জানাজা নিজে পড়াবে বলে নিভি দুল জোড়া চাচির কাছে কম মূল্যে বিক্রি করে দিয়েছিলো। এমনকি সে মিলাদেও প্রায় দেড় হাজার টাকা শরিক থেকেছে। এখন হাত পুরোপুরি ফাঁকা। শেষমেশ বাধ্য হয়ে সেলাই মেশিন এবং পড়ার টেবিল বিক্রি করেছে সাড়ে চার হাজার টাকায়। আপাতত এটাই যাতায়াতের খরচ।
ঘর থেকে তেমন কিছুই আনা হয়নি। শুধু ইন্টারমিডিয়েটের বই, মায়ের একটা শাড়ি আর নিজের পড়ার জামাকাপড়। বাদবাকি সবই রয়ে গেছে ঘরে। দুদিন পর হয়তো চাচী তা ফেলেও দেবে। নিভি সেসব ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেললো। আর কয়েক মিনিট পরেই বাস ছেড়ে দেবে। এরপর কি হবে জানা নেই। সতেরো’টা বছর সে মায়ের আঁচলের মধ্যেই কাঁটিয়ে দিয়েছে। অথচ আজ, একাকী চলতে হচ্ছে অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। তার শরীর প্রায় সিটে ছেড়ে দিলো। মনে মনে খুব করে চাইলো, একটা এক্সিডেন্ট হোক। বাসের সামনে আসুক বিশালাকার কোনো ট্রাক। মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়ে চূর্ণ – বিচূর্ণ হয়ে যাক। অন্ততপক্ষে এমন আশ্রয়হীন জীবন থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
“ এই আপা নামেন। আপনে কোথায় যাইবেন? ”
কানের কাছে প্রখর বাসের হর্ণ এবং পুরুষালি আওয়াজ পেয়ে চমকে উঠলো নিভি। দুহাতে খামচে ধরলো কোলের ব্যাগ। সামনেই ঘেমে নেয়ে, একাকার হয়ে যাওয়া একটা ছেলে দাঁড়ালো। বয়স আনুমানিক বিশ-বাইশ হবে। নিভির ঘোর কাটতেই সে উঠে দাঁড়ালো। বাস থামানো। আশেপাশে আরো অসংখ্য গাড়ি। তবে কি এটা বাস স্ট্যান্ড।
“ এটা কি লক্ষীপুর? ”
“ হ, এইটাই লক্ষীপুর। ক্যান, আপনে চেনেন না? ”
নিভি কয়েক সেকেন্ড ভড়কে গেলো। মা সবসময় বলতেন, নিজের দুর্বলতা অন্যের কাছে প্রকাশ করতে নেই। এতে বিপদ বাড়ে। সে তৎক্ষনাৎ ব্যাগ ঝাপটে ধরে নামার চেষ্টা করে। মুখে বলে,
“ চিনি, আমি এই জায়গা চিনি। ”
ছেলেটা হতভম্বের মতো চেয়ে রইলো। ততক্ষণে চোখের আড়াল হয়ে গেলো নিভি। যতটা ফাঁকা রাস্তা পেলো, বড় বড় পা ফেলে সে এগিয়ে গেলো সামনে। একপর্যায়ে শিঙারার দোকানের সামনে দিয়ে যেতেই দাঁড়িয়ে পড়লো। খাবারের সুঘ্রাণ পেটে এসে লাগছে। নিভি কিছু না ভেবেই ভেতরে ঢুকে পড়লো। একদম কোনার খালি একটা টেবিলে বসে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিলো।
“ কি লাগবে আপা? ”
“ চারটা শিঙারা দিন। ”
নিভি খেতে খেতে আশেপাশে তাকালো। পাশের টেবিলে একজন বৃদ্ধ বসে ভাত খাচ্ছেন। তার দিকে তাকিয়ে নিভি বললো,
“ দাদু, এখানে জমিদার বাড়ি কোথায় বলতে পারেন? ”
“ কোনটা? দালাল বাজার জমিদার বাড়ি? ”
নিভি বিভ্রান্ত হলো। বৃদ্ধ লোকটির কথা শুনে বুঝতে পারলো এখানে জমিদার বাড়ির সংখ্যা বেশি। সে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। এরপর আস্তেধীরে পূণরায় জিজ্ঞেস করলো,
“ নওশাদ মাহমুদ চৌধূরী’কে চেনেন? ওনাদের জমিদার বাড়ি। ”
“ ওহহহ! ইসহাক চৌধুরী জমিদার বাড়ির কথা বলতেছো? সে তো এখান থেকে অনেক দূর। আশেপাশেও জমিদার বাড়ি আছে। তুমি দালাল বাজার জমিদার বাড়ি, কামানখোলা জমিদার বাড়ি ঘুরে দেখতে পারো। এইখানে সবাই আসে। ”
নিভি আরো কিছুক্ষণ সময় নিয়ে বৃদ্ধার কাছ থেকে ঠিকানা আনলো। এরপর এগিয়ে গেলো শিঙারার টাকা দিতে। হোটেলের সামনের অংশে টেবিলে বসে আছেন মোটাতাজা এক ভদ্রলোক। তিনিই সব বিল তোলেন৷ নিভি ব্যাগ থেকে বিশ টাকা বের করে দিতেই বিরক্ত চোখে তাকালেন। বললেন,
“ আশি টাকা দাও। ”
“ আমি চার’টা শিঙারা খেয়েছি। ”
“ বিল হইছে আশি টাকা। দাও। ”
নিভি থতমত খেয়ে গেলো। নিভে যাওয়া কন্ঠে বললো,
“ পিস পাঁচ টাকা না? ”
লোকটা বিরক্ত হলো।
“ বিশ টাকা পিস। দাম না জানলে খাইছো কেন? ”
নিভি এক মুহুর্ত ও সময় ব্যয় করলো না। দ্রুত আশি টাকা টেবিলে রেখে বের হয়ে গেলো। হোটেল থেকে অনেকটা দূরে এসে ধপ করে বসে পড়লো একটা বেঞ্চে। শিঙারার পিস বিশ টাকা, ভাবতেই চোখ দুটো জ্বলে উঠলো। এই টাকায় সে পেটপুরে মুরগীর মাংস দিয়ে ভাত খেতে পারতো৷ বেশি টাকা খরচ করবে না ভেবেই তো শিঙারা খেলো। অথচ সেখানেই এতোগুলো টাকা শেষ । নিভি নিজের উপর ভীষণ লজ্জিত হলো। অচেনা শহর! এরপর থেকে দাম না জিজ্ঞেস করে এক ঢোক পানিও খাওয়া যাবে না।
ইসহাক জমিদার বাড়ির সামনে আসতে আসতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেলো। আশেপাশে বড় বড় গাছ দৈত্যের মতো বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দিনের বেলা হলে একটু কম ভয় লাগলেও, এখন ভীষণ ভয় পাচ্ছে নিভি। সে দুরুদুরু বুকে আরেকটু সামনে এগিয়ে এলো। পুরাতন আমলের বিশাল প্রাসাদ। সামনে গভীর পুকুর, ঠিক যেনো কল্পনার কোনো ভুতুড়ে বাড়ি। সে আস্তেধীরে সিঁড়ি বেয়ে বারান্দায় প্রবেশ করলো। আশেপাশে একটা কাক-পক্ষীর ও আওয়াজ নেই। নিভি দরজার সামনে দাঁড়াতেই জমে গেলো ভয়ে। দরজায় বড় একটা তালা ঝুলছে। অর্থাৎ, এখানে কেউ নেই। চারপাশের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, দীর্ঘদিন এখানে কেউ থাকে না। কষ্টে বাকহারা হয়ে বসে পড়লো দরজার সামনে। এখন সে কোথায় যাবে? এই রাতে এখানে থাকাও তো সম্ভব নয়। আশেপাশে তেমন ঘনবসতি নেই৷ জমিদার বাড়ির চারদিকে জঙ্গল। অসহায় নিভি দরজার তালা ছুঁয়ে হু হু করে কেঁদে উঠলো।
“ তোমার মেয়ের কোনো আশ্রয় নেই মা। কেউ নিতে চায় না আমাকে। এখন কোথায় যাবো? এই অন্ধকারে ভীষণ ভয় করছে। ”
#নদীর_ওপারে_সুখ ০১
#সিমরান_মিমি
Share On:
TAGS: নদীর ওপারে সুখ, সিমরান মিমি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE