Golpo romantic golpo তোমাতেই আসক্ত তোমাতেই আসক্ত সিজন ২

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৫১


#তোমাতেই_আসক্ত
#পর্ব:৫১
#তানিশা
আদ্রিতা আবরারের র/ক্তা/ক্ত দেহ খানা জাপ্টে জড়িয়ে চিৎকার করে কাঁদছে। এ্যানি কি বুঝতে পেরেছে কে জানে? সেও আবরারের পাশে চুপটি করে বসে আছে। বড্ড ভয় পেয়েছে বাচ্চাটা। আমান কাঁপা হাতে অ্যাম্বুলেন্স কল করে। সিয়াম আহাদ ইভান অন্যদিকে খুঁজছে। তারা এখনো জানে না আবরারের এক্সিডেন্টের কথা। জানলে হয়তো পাগলের মতো ছুটে আসতো।
আমান ওদেরও ছোট্ট করে একটা টেক্সট পাঠালো
আবরার পিটপিট করে চোখ খোলে। আদ্রিতাকে কাঁদতে দেখে র/ক্তা/ক্ত হাতে জড়িয়ে ধরলো। বড্ড ক্লান্ত স্বরে বলে
“এ’ম ফাইন
ডোন্ট ক্রাই
সেই কথাটা শুনতে পেলো না আদ্রিতা। শুধু বুঝতে পারলো আবরার চোখ খুলেছে। ও তাতেও খুশি হতে পারল না। এতো র/ক্ত
এতো আঘাতে চিহ্ন
ভালো নেই মানুষটা। একটুও ভালো নেই। সবটা হয়েছে ওর জন্য। আদ্রিতা না থাকলে আবরার এতো আঘাত পেতো না।
ইতিমধ্যেই আশেপাশের সব মানুষজন চলে এসেছে। মোটামুটি ভিড় জমে গিয়েছে। আমান নিজের ভারসাম্য ধরে রাখতে পারছে না। সে হাঁটু মুরে বসে পড়লো রাস্তার মাঝে।
পারছে না আবরারের কাছে যেতে। অদ্রিতার মতো করে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে। কেনোনা অপরাধ বোধ জেগেছে আমানের মাঝে। মনে হচ্ছে ওর জন্যই এমনটা হলো।
কেনো পারলো না আবরারকে সেভ করতে?
সে উপস্থিত থাকার পরেও কিভাবে ব্যাথা পেলো ও? কিভাবেই ট্রাক ধাক্কা দিতে পারলো?
তবে কি একজন ব্যর্থ বন্ধু আমান?
হ্যাঁ
আসলেই সে ব্যর্থ।
এখানে সিয়াম থাকলে নিজের জীবন বাজি রেখে হলেও আবরার কে বাঁচাতে পারতো।
এরই মধ্যে এম্বুলেন্স চলে আসে। মুহুর্তের মধ্যে দুজন নেমে পড়লো। ধরাধরি করে আবরার কে এম্বুলেন্স এ তুলল।
আমান এগিয়ে যায়। আদ্রিতার বাহু ধরে তাকেও এম্বুলেন্স এ ওঠালো। এ্যানি নিজেই উঠে পড়লো ওদের পেছন পেছন।


হাসপাতালের করিডোরে বসে আছে আদ্রিতা। কোনোমতেই কান্না আটকাতে পারছে না। হাঁটুতে মুখ গুঁজে অনবরত কেঁদে চলেছে। তার কান্নার শব্দে মুখরিত হচ্ছে গোটা করিডোর।
আমান পাশেই বসে আছে। সান্তনা দেয়ার মতো ভাষা তা জানা নেই।
এ্যানিটা আমানের কোলে। সে বড্ড ক্লান্ত। আপাতত ঘুমোচ্ছে।
সিয়াম ইতিমধ্যে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছে এসব কিছুর পেছনে রয়েছে ইয়াংইউ এবং টনি।
সে আপাতত সুইজারল্যান্ড এর একজনকে দায়িত্ব দিয়েছে টনির ওয়াশরুমে সিসি ক্যামেরা লাগাতে। কিডন্যাপ করিয়ে নোংরা খেলা খেলার মধ্যেও নেই। ঠান্ডা মাথায় বাঁশ দিতে হবে।
ইভান এবং আহাদ আবরারের কেবিনের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। উঁকি ঝুঁকি মারছে দেখার জন্য ভেতরে কি হচ্ছে।
কিন্তু দেখতে পারছে না। এতে দুজনই হতাশ হয়। তবে সরে আসেনা।
আমান দীর্ঘ শ্বাস ফেলে আদ্রিতাকে বলে
“কেঁদো না
আবরার ঠিক হয়ে যাবে।
সিয়াম বললো
” ঠিক হয়ে যাবে কি?
ও ঠিকই আছে। এখনই ডাক্তার বের হবে আর বলবে
বাকিটা শেষ হওয়ার আগেই ডাক্তার বেরিয়ে আসলো। আহাদ জিজ্ঞেস করে
“আমার বন্ধু কেমন আছে?
” ভালো আছে।
কিছুক্ষণ পরেই কেবিনে শিফট করা হবে। তখন দেখা করতে পারবেন।
চলে গেলো ডাক্তার। সিয়াম লাফিয়ে ওঠে। নাচতে নাচতে বলে
“আমার বন্ধু ঠিক আছে। বলছিলাম না?
আরেহহ আবরার হচ্ছে সুপারম্যান। ওর কিছু হতেই পারে না।
” সিয়াম
মেয়েলী কন্ঠস্বর শুনে পেছন ফিরে তাকালো সিয়াম। দেখতে পায় ইশারা দাঁড়িয়ে আছে। গায়ে নার্সদের পোশাক।
মানে এই হাসপাতালের নার্স মেয়েটা?
খাইসে রে।
নার্সের আবার সিয়ামের সাথে কি কাজ?
আহাদ ইভান এদিকে আসে।
আমান বলে
“তুমি কি সিয়ামকে পছন্দ করো?
সিয়াম দুই হাতে কান চেপে ধরে।
চেঁচিয়ে বলে ওঠে
” নাহহহহহ
নারীর কন্ঠস্বর কানে ঢুকলে কান পঁচে যাবে।।
বোইন আপনাকে আমি খালার নজরে দেখি। ভালোবাসার কথা বলিয়েন না।
সিয়ামের কথা যেনো শুনলোই না ইশারা।
আহাদ বললো
“আপু তোমার চয়েস খারাপ। সিয়ামের তো মেইন পয়েন্ট এ সমস্যা। কয়েকবার ডাক্তার দেখানো হয়েছে তারা বলেছে পাখির প্রেস্যার কমে গেছে। তাকে স্যালাইয় দিতে হবে।
বুঝতে পারলো না ইশারা। কপাল কুঁচকে বললো
” কোন পাখি?
সিয়াম হাত জোর করে দাঁড়িয়ে আছে। মানে হচ্ছে “ভাই আম্মো আর অচেনা এই মাইয়ার সামনে মানসম্মান খাইস না”
কিন্তু সেসবে পাত্তা দিলো না ইভান। সে বললো
“সিয়াম আসলে গে
আমান মুখ টিপে হাসলো। ইশারা লজ্জা পেয়ে চলে গেলো।
আদ্রিতাও চলে গেলো আবরারের কেবিনে। সিয়াম অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ইভানের দিকে।
ইভান বুঝলো মতলব সুবিধার না। তাই সে বলে উঠলো
” ভাই বিশ্বাস কর
পুরোটা শুনলো না সিয়াম। পা থেকে জুতো খুলতে খুলতে বলে
“শালা তোকে আজকে দেখাবো গে কাকে বলে। জুতা দিয়ে পিটিয়ে ভার্জিনিটি খেয়ে দিবো তোর।
আমান আর আহাদ হো হো করে হাসতে থাকে।
আদ্রিতা আবরারের কেবিনে ঢুকে পড়লো।
দেখতে পায় মানুষটা চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। হাতে ক্যানেলো। মাথায় ব্যান্ডেজ। শার্টটা খুলে ফেলেছে। যার ফলে ফর্সা বুকটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। আদ্রিতা শুকনো ঢোক গিলে। তারপর আবরারের কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়ায়। হাতের উল্টো পিঠে চোখের পানি মুছে নেয়। তারপর কাঁপা-কাঁপা হাতটা এগিয়ে আবরারের মাথায় রাখে। সঙ্গে সঙ্গে আবরার চোখ খুলে তাকায়। আদ্রিতা চমকালো। হাত সরিয়ে নিতে চাইলো তার আগেই আবরার বললো
” মুখটা এগিয়ে আনো।
লিপ কিস করবো।
ভ্রু কুঁচকালো আদ্রিতা।
মানে কথা বলতে পারছে না ঠিকঠাক। চোখ খুলে তাকাতে পারছে না। অথচ চুমু খেতে চাচ্ছে। জল্লাদ হাতি কোথাকার।
“কি বললাম?
খানিকটা ধমকের স্বরে বলে উঠলো আবরার। সঙ্গে সঙ্গে আদ্রিতা মাথা নিচু করলো।
আবরার ক্যানেলো লাগানো হাতে আদ্রিতার হাত ধরে টান দিলো। যার ফলে মেয়েটা এসে পড়লো আবরারের বুকের ওপর। তারপর
চলবে See less

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply