Golpo romantic golpo তোমাতেই আসক্ত তোমাতেই আসক্ত সিজন ২

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৪২


#তোমাতেই_আসক্ত
#পর্ব:৪২
#তানিশা সুলতানা
কক্সবাজারের একটা বিলাসবহুল নাইট ক্লাবে উপস্থিত হয়েছে আবরার এবং তার চার বন্ধু। লাইটিং মিউজিক ডান্স এসব উপেক্ষা করে ক্লাবের এক কোণায় বসে আছে আবরার। বাকিরা অরেঞ্জ জুশ খাচ্ছে আর মেয়েদের গায়ে ঢলে পড়ে নাচানাচি করছে।
আবরারের হাতে রয়েছে ড্রিংকস এর গ্লাস। তাতে আইস ডুবিয়ে নেরে চেরে চুমুক দিচ্ছে। সব মেয়েদের নজর আবরারের দিকে। ইতিমধ্যেই দুই একজন এসে ডান্স অফার করেছে। তবে কৌশলে তাদের ইগনোর করেছে।
কিছুক্ষণ পরে আবরারের সামনে একটা ছেলে এসে বসে। বয়স ৩৫-৪০ এর মধ্যে। দেখতে বেশ সুন্দর। নাম নুহাইশ। এই ছেলের বিশেষত্ব হচ্ছে খুব সুন্দর করে হাসতে জানে।
এর আগে কয়েকবার দেখা হয়েছে আবরারের সঙ্গে তবে কথা হয় নি। বাংলাদেশের বাসিন্দা নয় সে। তবে জন্মস্থান বোধহয় বাংলাদেশই। চেহারায় বাঙালিদের মতো একটা জৌলুশ আছে।
নুহাইশ একটা ড্রিংকস এর গ্লাস তুলে নেয় হাতে।
তাতে চুমুক দিতে দিতে বলে
“কি চাও তুমি?
” নাথিং
“তুমি নিশ্চয় জানো পৃথিবীতে এমন কিছু জিনিস আছে। যা সবাই পেতে চায়। বাট অকাথ হয় না।
“জানি।
” দুনিয়ার কাছে হিরো হয়ে আছো
হিরো হয়েই থাকো না।
আমাদের কলিজায় হাত ঢোকাচ্ছো কেনো?
আবরার বাঁকা হাসলো। ড্রিংকস এর গ্লাস নামিয়ে সোজা হয়ে বসলো।
নুহাইশ এর দিকে একটুখানি ঝুঁকে বললো
“আমি তোদের কাছেও হিরো হতে চাই। আমার অকাথ দেখাতে চাই৷
” জান বাঁচতে পারবে?
“তুমি পারবে?
নুহাইশ হো হো করে হেসে উঠলো।
” এটা আমার ক্লাব। এখানে যারা রয়েছে সবাই আমার মানুষ। জাস্ট একটা তুরি বাজাবো আর তুমি ফিনিসড হয়ে যাবে।
বাঘের গুহায় ঢুকে বাঘকেই হুমকি দিচ্ছো?
গ্রেট
আবরার নিজের শুট ঠিক করলো। পরপরই বা হাতে মাথা চুলকে বললো
“এ’ম আবরার তাসনিন।
একটা সিক্রেট বলছি শোনো
আমি এখন তোমাকে মে/রে এখান থেকে চলে যাবো৷
আর তোমার লোক গুলো তা বুঝতেও পারবে না।
কিভাবে জানো?
বলতে বলতেই পকেট থেকে ইনজেকশন বের করলো এবং সকলের চোখের আড়ালে নুহাইশ এর ঘাড়ে পুশ করে দিলো।
পরপরই সেখান থেকে বেরিয়ে চলে গেলো।
আবরারের পেছন পেছন আমান আহাদ ইভান আর সিয়ামও বেরিয়ে গেলো।
কেউ বুঝতেও পারলো না এই নাইট ক্লাবে একজনকে খু/ন করা হলো। আবরারের বন্ধুরাও বুঝতে পারলো না।।


কাল সকাল বেলায় সুইজারল্যান্ড ব্যাক করবে আবরার এবং তার বন্ধুরা। কথাটা মাত্রই জানতে পারলো ওরা।
আর মুহূর্তেই সিয়াম এক খানা প্ল্যানিং করে ফেললো। এই রাত খানা স্মরণীয় করে রাখা যেতেই পারে।
খোঁজ নিয়ে জেনেছে আব্দুল রহমান বিজনেস এর কাজে কক্সবাজার এসেছে।।সর্বক্ষণ ব্যস্ত থাকে। আদ্রিতা এবং অহনাকে সঙ্গে আনার কারণ হচ্ছে আবরার তাসনিন।
আব্দুল রহমান এর ধারণা ছিলো আবরার মীরপুর রয়েছে। কক্সবাজার চলে আসলে সে জাবতেও পারবে না।
যাক সেসব
এই মুহুর্তে আব্দুল রহমান রেস্টুরেন্ট এ ওনার ক্লাইন্টদের সঙ্গে বিজনেস ডিল করছে।
আদ্রিতাকে বিচে আনাই যায়।
এই জোছনা মাখা রাতে আম্মো আর আব্বো একটুখানি রোমাঞ্চ করলে মন্দ কি?
ভাবতেই ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে ওঠে সিয়ামের।
সে দৌড়ে হোটেলে ফিরে যায়। আগে থেকেই জেনে নিয়েছে কতো নং কক্ষে আছে ওরা।
সেই কক্ষে গিয়ে কলিং বেল বাজায়। দরজা খোলে অহনা।
সিয়াম একটুখানি অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো। দোনোমোনো করে বলে
“আদ্রিতাকে একটু ডেকে দিন।
অহনা বুকে হাত গুঁজে দাঁড়ালো। স্পষ্ট গলায় বললো
“আমাকে ভালোবাসেন এটা ভাইয়াকে বলতে পারলেন। অথচ এখন পেছাচ্ছেন। কেনো?
” আমি তোমাকে পছন্দ করি। কিন্তু তোমাকে ছাড়া থাকতে অসুবিধা হয় না। মানিয়ে নিতে পারবো।
কিন্তু আবরার আদ্রিতাকে ভালোবাসে। ওকে ছাড়া থাকতে পারে না।
আমরা বিয়ে করলক তোমার বাবা আরও কঠোর হয়ে যাবে। আলাদা করে দিবে ওদের।
আমি এটা পারবো না।
অহনা বুঝলো। আর কথা বাড়ালো না। ডেকে দিলো আদ্রিতাকে। সবেই ঘুমিয়েছিলো। কিন্তু সিয়াম নিতে এসেছে শুনে এক লাফে উঠে পড়লে। কোনোরকমে গলায় ওড়না পেঁচিয়েছ বেরিয়ে গেলো।
আজকের চাঁদটা একটু বেশিই সুন্দর। আর বেশি আলে ছড়াচ্ছে। এই যে খানিকটা দূরে আবরার তাসনিন দাঁড়িয়ে আছে চাঁদের আলোতে দেখা যাচ্ছে। লোকটার কানে ফোন। কারে সঙ্গে কথা বলছে।
আমান এবং আহাদ পানির মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করছে। ইভান ঢেউ এর সঙ্গে ভেসে আসা সুন্দর সুন্দর ঝিনুক শামুক কুড়িয়ে নিচ্ছে।
আদ্রিতা খুশি হয়ে গেলো। সিয়ামকে পেছনে ফেলে দৌড় দিলো। এক দৌড়ে আবরারকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো আমানদের কাছে। তবে পানিতে নামার আগেই তার হাত টেনে ধরলো আবরার। ফোন খানা কাঁধের সঙ্গে চেপে ধরে হাঁটু মুরে বসলো।
আদ্রিতার জিন্স গুটিয়ে দিলো হাঁটুর একটু নিচ ওবদি। তারপর ইশারায় যেতে বললো।
আদ্রিতা চলে গেলো।
ইভান ওর হাতে কিছু সংখ্যক শামুক দিলো। দৌড়ে এসে সেগুলো আবার আবরারের হাতে দিয়ে গেলো।
সিয়াম কোথা থেকে যেনো ৬ টা আইসক্রিম নিয়ে আসলো। সবাইকে একটা একটা করে দিলো।
আদ্রিতা প্যাকেট ছিঁড়তে পারছে না। আবরার নিজের হাতের আইসক্রিমটা ছিঁড়ে দিলে ওর হাতে।
এবং ওর হাতেরটা নিজের হাতে নিয়ে নিলো। তবে ওটা খেলো না। রেখে দিলো হাতেই।
কিছু মুহুর্ত পরে আবরারের কথা বলা শেষ হলো। সে পকেটে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে রইলো এক কোণায়। দৃষ্টি আদ্রিতার দিকেই সীমাবদ্ধ।
মেয়েটা আইসক্রিম দিয়ে মুখ এবং হাত মাখিয়ে ফেলেছে। সেটা আবার ওড়না দিয়ে মোছার পায়তারা আঁটছে।
বিরক্ত হলো আবরার। এগিয়ে গেলো সিয়ামের কাছে। টেনে খুললো ওর শার্ট।
তারপর সেই শার্টের এক কোণা ভিজিয়ে মুছে দিলো আদ্রিতার হাত এবং মুখ।
সিয়াম রাগে ফোঁস ফোঁস করছে। আমান বললো
“আরেহহ আম্মোর জন্যই তো নিয়েছে।
এতে রাগ করতে হয় না সোনা
মা ছাড়া দুনিয়ায় আছে কে? ছেড়ে দে। শার্ট ছাড়া তোকে একদম হিরো আলমের মতো লাগছে।
কি ফিটার মরছি মরছি
আমারই তো বমি পেয়ে যাচ্ছে।
সিয়াম ঠোঁট উল্টালো। বললো
” আল্লাহর সৃষ্টি সবই সুন্দর।
ইভান বললো
“হ্যাঁ সবই সুন্দর
খালি হিরো আলম আর তুই ছাড়া।
তোরা দুজন হচ্ছিস এই সুন্দর পৃথিবীর সুন্দর সুন্দর জিনিসের মধ্যে একমাত্র অসুন্দরের উদাহরণ।
সিয়াম হাঁটা শুরু করলো উল্টো দিকে। থাকবেই না ওদের সাথে। চলে যাবে যেদিকে দুচোখ যায়। যেখানে মূল্য নেই সেখানে থাকার কোনো মানেই হয় না।
কিন্তু এই যে সিয়াম চলে যাচ্ছে কেউ তাকে আটকালো না। একবার পেছন থেকে ডাকলোও না।
হাইরে আল্লাহর দুনিয়া
মুনাফিক দিয়ে ভরে গেছে
বিচার শুধু আল্লাহর কাছে।
বিরবির করে বলতে বলতে আবার ফিরে আসলো ওদের কাছে।
আদ্রিতা বললো
” ভাইয়া ফিরে আসলেন যে?
আমি তো ভেবেছিলাম এই জীবনে আর ফিরবেন না।
সবাই হেসে ফেললো।
সিয়াম বললো
“ইদানীং চারিদিকে ধ/র্ষ/কের সংখ্যা বেড়েছে। আমার মতো নাদান সুন্দর বাচ্চা দেখে যদি কেউ ধ/র্ষ/ণ করে দেয়। তখন আবার সাংবাদিকদের কষ্ট করতে হবে। শুধুমাত্র সেই কথা ভেবে ফিরে আসলাম।
আহাদ বলে
” বিশ্বাস কর ভাই।
ধ/র্ষ/কদের রুচি এতো বাজে না।
তারা তোর দিকে ফিরেও তাকাবে না।
সিয়াম মুহুর্তেই দুই হাত তুলে বললো
“হে আল্লাহ আপনি তো দেখছেন
আপনার বান্দাকে কিভাবে অপমান করছে। বিচার শুধু আপনার কাছে দিলাম।।
চলবে See less

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply