#তোমাতেই_আসক্ত
#পর্ব:৩২
#তানিশা সুলতানা
বিচ্ছেদ এর থেকে ভয়ংকর হচ্ছে দূরে সরে যাওয়া।
মানুষের অভাবে মানুষ পুরে?
অবশ্যই
এই যে আদ্রিতা পুরছে। সে যেতে চাচ্ছে না। যে কোনো কিছুর মূল্যে হলেও সে এখানে থেকে যেতে চাচ্ছে। তবে উপায় নেই। গতকাল রাতে আবরারের কক্ষ থেকে ফেরার পরে আব্দুল রহমান কল করেছিলো আদ্রিতাকে।
অনেক কথা বলেছে। তার মধ্যে যে কথাটি আদ্রিতার মাথায় গেঁথে গিয়েছে সেটা হলো
“আম্মু জীবনটা তোমার হলেও তার সঙ্গে জড়িয়ে আছি আমরা সকলেই।
এমন কিছু করবে না যাতে আমরা কষ্ট পাই।
ফিরে এসো কালকে। সুইজারল্যান্ড শহর তোমার জন্য নয়।
আবরারের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে আদ্রিতা আতিয়া এবং অহনা।
প্রথম যেদিন এসেছিলো সেদিন চোখে মুখে ছিলো বিরক্তি। আজকে যখন চলে যাচ্ছে তখন হতাশা। কিছুতেই যেতে ইচ্ছে করছে না। ইসস যদি এমন কিছু হতো আর আবরার আদ্রিতাকে যেতে না দিতো।
সিয়াম সব গুলো লাগেজ গাড়িতে তুলে ফেলেছে ইতিমধ্যেই। আমান এক কোণায় দাঁড়িয়ে আছে। আবরার কিছু মুহুর্ত আগেই বেরিয়ে গিয়েছে বাসা থেকে। চলে যাওয়ার মুহুর্তে একবারও বিদায় জানালো না।
আদ্রিতা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে।
বিরবির করে বলে
“সে বার আপনি চলে এসেছিলেন
এইবার আমি চলে যাচ্ছি
আপনি চলে এসেছিলেন ইচ্ছে করে
আমি চলে যাচ্ছি বাধ্য হয়ে।
তবে আপনি চাইলেই পারতেন আমায় আটকাতে
কিন্তু আপনি চাইলেন না।
অহনা আদ্রিতার কাঁধে হাত রেখে বলে
” মন খারাপ তোমার?
আদ্রিতা একটুখানি হাসার চেষ্টা করে বলে
“নাহহ
ভালো আছি আমি।
আর এখান থেকে চলে গেলে আরও বেশি ভালো থাকবো।
____
সুইজারল্যান্ড এর প্রেসিডেন্ট গ্রিলব মার্টন আবরারকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে নিজ বাসায়। এক টানা তিন মাস আমন্ত্রণ জানানোর পরে আজকে আবরার এসেছে।
নিজ স্টাইলে।
নিজের লেম্বারগিনি গাড়িটা প্রেসিডেন্ট এর বাড়ির সামনে থামিয়ে বুক ফুলিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে।
শ খানিক গার্ড রয়েছে। সকলেই তাকিয়ে আছে তবে কিছু বলছে না।
আবরারের সঙ্গে এসেছে আহাদ এবং ইভান।
তারা একটু নার্ভাস। সুইজারল্যান্ড এর প্রেসিডেন্ট ভীষণ খারাপ মানুষ। প্রতি দিনই তার নামে কোনো না কোনো ঘটনা শোনা যায়।
এই তো কিছুদিন আগে একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছিলো। সেখানে দেখা গিয়েছে গ্রিলব তার বানানো একটা বাড়িতে মেয়েদের ধরে নিয়ে যায়। তাদের ভোগ করে জানে মে/রে ফেলে এবং সেই মেয়েদের মাংস পুরিয়ে খায়।
তাছাড়া চিনের মাফিয়া ডন ইয়ান চুং জুং এর সঙ্গে ওঠাবসা রয়েছে ওনার।
এমন একটা খারাপ মানুষের বাড়িতে প্রবেশ করতে একটু তো ভয় লাগবেই।
গ্রিলব দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। যেনো আবরারের জন্যই অপেক্ষা করছে।
আহাদ ইভানের কানে কানে বলে
” ভাই ওই দেখ জাওরা বেডা কেমনে তাকাই আছে। আমাদের আবার ধ/র্ষ/ণ করবে না তো?
ইভান মুখ বাঁকিয়ে বলে
“তোর চেহারা দেখলেই উনি বমি করে দিবে। ধ/র্ষ/ণ করার রুচি হবে না।
মাইন্ডে লাগলো আহাদের। সে দাঁতে দাঁত চেপে বলে
” শালা
আমি শাহরুখের সমান সমান সুন্দর।
একটু বেশিও হতে পারি বলা যায় না।।
এই কথার উত্তরে কড়া কিছু বলার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিলো ইভান।
তবে তারই মধ্যে শুনতে পায় গ্রিলব এর কন্ঠস্বর।
সে তার কালো কালো দাঁত বের করে হেসে আবরারকে বলে
“ওয়েলকাম মায় বয়।
জবাবে আবরার কিছু বললো না। গ্রিলবকে এড়িয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়লো। সোজা গিয়ে সোফায় বসে পড়ে পায়ের ওপর পা তুলে। গ্রিলবও এসে বসলো আবরারের মুখোমুখি।
ইভান এবং আহাদ এসে আবরারের পাশে বসে।
গ্রিলব তার বউকে ডেকে বলে
” ওদের জন্য কফি নিয়ে এসো।
আহাদ ইভান হা হয়ে গেলো। কুচকুচে কালো ধামড়া খারাপ লোকটার বউ পরির মতো সুন্দর। বয়স ৪৬+ হয়ে গিয়েছে তবুও যে রূপ একটুও কমে নি।
আবরার বলে
“আপনার মেয়েকে আমার পছন্দ নয়।
আবরারের থেকে এমন জবাবই আশা করেছিলেন গ্রিলব। তার মেয়েকে অপছন্দ করার মতো কোনো কারণ নেই। নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সেরা সুন্দরীদের মধ্যে তার মেয়ে একজন।
তবুও আবরারের তাকে পছন্দ না।
“ইটস ওকে
আমার মেয়ে একটু বেশিই ছেলে মানুষ। তাকে পছন্দ না হলে জোর করে কিছু এগাতে বলবো না।
শুধু এটা বলতে চাই
আবরার তাকে বলতে না দিয়েই বলে
” বিজনেস করতে চাই আপনার সঙ্গে। ইয়াং চুং জুং এর সাথে দেখা করতে চাই।
“ভালো বিজনেস নয় আমাদের।
” আমি ভালো মানুষ এটা কেনো মনে হচ্ছে?
গ্রিলব ঘাবড়ালো একটুখানি। তাদের বিজনেস এ আবরারের টানতে পারলে বেশ লাভ জনকই হবে। তাছাড়া ইদানীং তারা এক ধরণের সবুজ পাথর খুঁজে পেয়েছে। সেটা চড়া দামে বিক্রি করতে চাচ্ছে ফ্রান্সের কাছে। কিন্তু গুছিয়ে উঠতে পারছে না কিভাবে কি করবে।
আহাদ ইভানের কানে কানে বলে
“ভাই আবরার কি পাগল হইলো?
এই কালা পাডার সাথে কেনো মিশতে চাচ্ছে?
” চুপচাপ বসে দেখতে থাক।
কথা বলবি না।
গ্রিলব এর মেয়ে গ্রিলি কফির ট্রে নিয়ে আসে। বউয়ের থেকে মেয়ে আরও বেশি সুন্দরী। তবে চোখে মুখে মায়ার ছিঁড়ে ফোঁটাও নেই। বাপের মতোই খারাপ সেটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে।
জামাকাপড়ের কি ছিঁড়ি। রান ওবদি একটা জামা পড়েছে। হাতা মাতা কিছুই নাই।
সরল আহাদ খানিকটা জোরেই বলে ওঠে
“আপু আপনি বোধহয় জামার নিচে কিছু পড়তে ভুলে গিয়েছেন।
বাংলা ভাষায় কথাটা বলার ফলে গ্রিলিব এবং গ্রিলি কেউ বুঝতে পারলো না৷ তবে কিছু মুহুর্ত তাকিয়ে রইলো আহাদের মুখ পানে।
আবরার কফির মগ তুলে নিলো। তাতে চুমুক দিতে দিতে পূণরায় বলে
” আমার জীবনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ একজনকে দূরে সরিয়েছি। সে আমার পার্সোনাল ড্রাগস। বেশিদিন থাকতে পারবো না তাকে ছাড়া।
সো যত দ্রুত সম্ভব আমাকে ইয়াং টুং জুং এর সঙ্গে দেখা করিয়ে দিন
গ্রিলি বলে
“পার্সোনাল ড্রাগস?
আবরার গ্রিলিকে পুরোপুরি ইগনোর করে কফি শেষ করে।কাপটা ট্রি টেবিলে নামিয়ে বলে
” ঠিক আছে
এখন যাচ্ছি।
আশা করি এক সপ্তাহের মধ্যেই দেখা করতে পারবো।
বলেই আবরার চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়ায়। ইভান এবং আহাদও পেছন পেছন যেতে থাকে। আহাদ গ্রিলিকে উদ্দেশ্য করে বলে
“আমার কয়ডা ছেঁড়া আন্ডারওয়্যার আছে। তুমি চাইলে পাঠিয়ে দিবো।
তবুও লেংটা থাকিও না পরির বাচ্চা।
বলেই জান প্রাণ হাতে নিয়ে দৌড় দেয়।
আবরার এয়ারপোর্টে উদ্দেশ্যে রওনা হয়। আহাদ বলে
” ভাই এতোক্ষণে ওরা প্লেনে উঠে পড়েছে।
আবরার হাত ঘড়িতে সময় দেখে নিলো। আহাদ ভুল কিছু বলে নি। দীর্ঘ শ্বাস ফেললো আবরার। গাড়ি ঘুরিয়ে অফিসের রাস্তায় যেতে থাকে।
ইভান বলে
“আবরার তুই এসবে কেনো জড়াচ্ছিস?
আবরার শক্ত হাতে স্ট্যারিং ঘোরাতে ঘোরাতে বলে
” আমানের বাবাকে খু/ন করেছে ওরা।
আহাদের গোটা ফ্যামেলি ধ্বংস করে দিয়েছে। ইন ফিউচার ওরা যদি সিয়াম আমানকে চিনতে পারে তো ওদেরও ক্ষতি করবে।
আমি সেটা হতে দিতে পারি না।
চলবে
Share On:
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE