Golpo romantic golpo আসবো ফিরে আবারো

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৬


#পর্ব_৬

#সুরভী_আক্তার

( অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌ ) 

ব্যালকনির ইজি চেয়ারটায় শরীর এলিয়ে বসে আছে মেঘা । চোখ দুটো বন্ধ । পা তুলে মাথা পিছনের দিকে এলিয়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে শান্ত হয়ে । কানে ব্লুটুথ । হাতের ভাঁজে ফোন । গান শুনছে হয়তো ‌। হাঁটু ছড়ানো চুল গুলো খোলা । ইজি চেয়ার ছাপিয়ে মেঝেতে গড়াগড়ি খাচ্ছে চুল গুলো । মেয়েটা স্থির চিত্তে বসে আছে । কোনোদিকে খেয়াল নেই । কানে ব্লুটুথ থাকার দরুন ঘর পেরিয়ে ব্যালকনিতে কেউ উপস্থিত হয়েছে , এর আভাস পায়নি মোটেই । মেয়েটার শান্ত স্থিরতায় বিঘ্ন ঘটিয়ে বাঁ হাতে হেঁচকা টান মেরে বসা থেকে তুলে দাঁড় করালো কেউ ‌। ঠাস করে হাতের ফোনটা মেঝেতে পড়ার শব্দ হলো । মেঘা সচকিতে সবটা বুঝে ওঠার আগেই দুটো শক্ত পোক্ত হাত দেয়ালে ঠেস মেরে চেপে ধরলো ওকে । মেয়েটার ঘন কালো চুল গুলো এলোমেলো হয়ে আছড়ে পড়লো মুখের উপর । যা হাঁটু ছাড়িয়ে গেছে ঢেউ খেলে । প্রথম অবস্থায় টাল সামলাতে না পেরে ভড়কালো মেয়েটা । 

পর মূহুর্তে চোখ মেলে তাকাতেই চোখ সম্মুখে অনাকাঙ্ক্ষিত একজনের মুখশ্রী দেখে নরম চোয়াল শক্ত হয়ে আসলো ওর । এক নিমিষেই বিরক্তি ছাপিয়ে ক্ষুব্ধ হলো দৃষ্টি । 

রৌদ্র চিবিয়ে হিসহিসিয়ে উঠলো…..

” হেইই , হোয়াট’স ইউর প্রবলেম নাউ ? এখনো এ বাড়িতে কি করছিস হ্যাঁ ? কেনো গেড়ে আছিস এখানে ? আমার জন্য ? আমার জন্য নয় ? তাহলে কার জন্য, বল ? কার জন্য আছিস এ বাড়িতে ? এ বাড়িতে আছিস থাক , আমার মাথায় চড়ে বসলি কেনো ? হোয়াই…..? 

শেষের কথাটা কন্ঠ চিপে উচ্চারিত হলো । 

মেঘা শক্ত মুখশ্রীতে শিথিলতা টানলো । হাঁফ ছেড়ে স্বাভাবিক হলো সে । রৌদ্র একে বারে ঝুঁকে পড়েছে ওর দিকে । মেঘা আলতো শক্তি খাটিয়ে ঠেলে দূরে সরালো রৌদ্র কে । গাঁ ঝাড়লো ধুলো ঝাড়ার ন্যায় । মুখের উপর আছড়ে পড়া সিল্কি চুল গুলো আলগোছে সরিয়ে দিলো । কান থেকে ব্লুটুথ খুলে দায় সারা ভঙ্গিতে ঠেস দিয়ে উচ্চারণ করলো….

” সরিইই । কিছু বললেন ? শুনতে পাই নি , রিপিড করুন ! 

রৌদ্রের চাহনি ধারালো তীক্ষ্ণ । খোলা বারান্দায় লালচে একটা নিভু আলো জ্বলছে । মেঘার ফর্সা চেহারা লালচে দেখাচ্ছে লাইটের আলোয় । রৌদ্রের চোয়াল শক্ত, স্থির দৃষ্টি । মেঘা সাথ সাথ প্রতিক্রিয়া না পেয়ে শ্বাস ফেলে আবার বললো…..

” আপনার সাহসের তারিফ করতে হচ্ছে । এভাবে চেনা নেই জানা নেই একটা মেয়ের ঘরে উইদাউট পারমিশন ঢুকে গেলেন ? বাহ্ , সাহস আছে বলতেই হয় ! 

কি,, শরীর চুলকায় মেয়েদের ছোঁয়ার জন্য ? বাহানা খোঁজেন ? বারবার টাচ্ করেন কেনো আমায় ? হু আর ইউ টু টাচ্ মি ? 

রৌদ্র ঠোঁট বাঁকিয়ে নিলো । মেঘা ক্ষিপ্ত করেছে দৃষ্টি । ঝুঁকে এসে বললো রৌদ্র….

” এসব শেখাচ্ছে আদ্র তোকে ? এসব লেইম ছোট খাটো ইংরেজি শিখছিস ওর থেকে ? চ্যাপ্টার বাকি আছে ? ওর কাছে পড়তে যাবি ? চল আমি পড়াচ্ছি তোকে । তোর চ্যাপ্টার ক্লোজ করি চল । 

রৌদ্র মেঘার হাত খপ করে চেপে ধরতেই মেঘা ঝাড়া মেরে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো । চোখ মুখ টাটিয়ে ক্ষুব্ধ স্বরে বলল…..

” হোয়াট’স রং উইথ ইউ ? বার বার ছোঁয়ার ধান্দায় থাকেন কেনো হ্যাঁ ? আর তুই তুকারি ? তুই তুকারি করছেন কার সাথে ? কে আপনি ? 

” উপস সুইটহার্ট , তুই তুকারি করছি বলে পছন্দ হচ্ছে না ? আচ্ছা আর করবো না তুই তুকারি ? চলো বদলে ফেললাম ভাষা । আর ,, আমি কে ? আমাকে চিনিস , ও সরি , আমাকে চেনো না ? চলো চেনাই আমি তোমার কে ।

এর মধ্যেই ঘরের বাইরে থেকে আদ্রের উচ্চ স্বরের ডাক ভেসে আসলো…..

” মেঘ , তাড়াতাড়ি আমার ঘরে আয় ‌। আমি কিন্তু অপেক্ষা করতে পারবো না বলে রাখলাম । 

চকিতে ক্ষুব্ধতা সমেত দরজার দিকে ফিরলো রৌদ্র । দপ করে কপালের শিরা ফুলে উঠলো । মুচকি হাসলো মেঘা । রৌদ্রের দিকে তাকিয়েই উত্তর করলো গলা বাড়িয়ে…..

” যাচ্ছিইই , তুমি যাও….

রৌদ্র তাকাতেই হাসির রেখা বাড়ালো । মেঝে থেকে ফোনটা তুলে রৌদ্র কে কাটিয়ে বারান্দা ছাড়লো । ঘরে ঢুকে টেবিলের উপর থেকে বই নিয়ে গুনগুন করতে করতে ত্যাগ করলো ঘর । উপেক্ষিত হয়ে হাত মুঠো করে সজোরে দেয়ালে পাঞ্চ করলো রৌদ্র । পিষে ফেললো দাঁত । 

মেঘা ঘর হতে বেরিয়েই টুকটুকির মুখোমুখি হয়েছে । টুকটুকি ভ্রু উঁচিয়ে প্রশ্ন করলো…..

” তোর আবার কিসের চ্যাপ্টার বাকি আছে ? 

” আছে । আমার যেটা বাকি আছে , সেটা তোর ও বাকি আছে । এখন চল…

” এই না । আমি যাবো না । এখন কি আর পড়াশোনা করার সময় বল ? আমি ঘুমাবো । ছাড় আমায়, আমি পড়বো না ভাইইই….

” তুই পড়বি না তোর ঘাড় পড়বে । চল….

বলেই টেনে টুনে নিয়ে গেলো মেয়েটা কে । 

ওরা আদ্রের ঘরে ঢোকা অবধি পিছন থেকে ক্ষুব্ধ নিরেট দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো রৌদ্র । 

★

রাত্রি এগারোটা পেরিয়েছে অনেকক্ষণ । 

আহিয়ান খাটের ব্যাক বোর্ডে হেলান দিয়ে ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছে । অফিসের কাজ করছে । 

সিরাত বাবুর দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে আহিয়ানের দিকে তাকালো । ঘুমিয়েছে বাবু । আলগোছে কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে উঠে বসলো সিরাত । আহিয়ানের কাছ ঘেঁষে নিজেও হেলান দিলো ব্যাক বোর্ডে । আলগোছে আহিয়ানের বাহু জড়িয়ে মাথাটা নামিয়ে কাঁধে রাখলো । ল্যাপটপ থেকে মনযোগ সরালো আহিয়ান । মৃদু হাসলো । বাম হাতে কাজ চালিয়ে ডান হাতটা বাড়িয়ে পিছন থেকে ঘাড় গলিয়ে আলতো করে সিরাতের বাহু জড়িয়ে ধরলো । অতঃপর আবার মনযোগ ফেরালো কাজে । সিরাত চুপ থাকলো বহুক্ষণ । অতঃপর গলা ভিজিয়ে শীতল কন্ঠে বললো ….

” একটা কথা বলি ? 

” না । বলবে না কোনো কথা ! কারন, যা বলবে তা আমি শুনতে চাই না । 

অগত্যা চুপসে গেল সিরাত । ও কি বলবে , আহিয়ান তা আন্দাজ করতে পেরেছে । সিরাত কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বললো….

” একবার ভেবে দেখলে হয় না ? 

” আমি ভাবতে চাই না । 

” কিন্তু আমি চাই । আমি একটা সংসার চাই,আহিয়ান…

” আছে তো আমাদের সংসার । 

” এটাকে সংসার বলে না । 

” তুমি যেটাকে সংসার ভাবছো , ভাবতে চাইছো , যেখানে যেতে চাইছো , সেটাকেও সংসার বলে না । 

” সবটা বদলেছে , সময় পেরিয়েছে , কিছুই আর আগের মতো নেই । তিন – তিনটা বছর কেটেছে এভাবে ! আর কতো ? চলো আর একটা বার সুযোগ নিয়ে ফিরে যাই , এখন তো আমাদের বাবু হয়েছে । আর কোনো চিন্তা নেই এখন । আগের সবটা ভুলে যাও…

” ভুলে যাবো আমি ? ভুলতে বলছো আমায় ? আমি তো কোনো দিন ভুলবো না । তুমি হয়তো ভুলতে চাইছো , দাঁড়াও মনে করাচ্ছি তোমায়….

সিরাত কে ছাড়লো আহিয়ান । ল্যাপটপ বন্ধ করে পাশে রাখলো । ঘরে একটা নিভু আলো জ্বলছে । রামিশার ঘুমের দরুন হাই পাওয়ারের আলো জ্বালানো হয় নি । ফোনের ফ্লাস জ্বালালো আহিয়ান । সিরাতের ডান হাতটা টেনে ধরলো । ফ্লাস তাক করলো সেই হাতের কব্জির নীচের দিকে । সহসা তীর্যক আলোয় পুরনো একটা কালো পোড়া দাগ ফুটে উঠলো ফর্সা হাতে । সেই দাগকে ইশারা করে শক্ত কন্ঠে বললো আহিয়ান…

” এই দাগটা দেখছো ? মনে পড়লো কিছু ? যদি মনে পড়ে থাকে , তাহলে দ্বিতীয় বার আমাকে আর সবটা ভুলে যেতে বলবে না । যেখানে আমি কখনো জোর পূর্বক তোমাকে স্পর্শ অবধি করিনি , সেখানে ওরা তোমার শরীরে ক্ষতের সৃষ্টি করেছে । কি করে ভুলবো সবটা ? 

ফ্লাস নেভালো আহিয়ান । পিটপিট করে চোখ নামিয়ে নিলো সিরাত । অসহায় কন্ঠে বললো….

” আমি চাই আমাদের একটা আলাদা সংসার হোক । এভাবে সারা জীবন বাপের বাড়িতে কাটাতে চাই না আমি । আমি আমার নিজের একটা আলাদা সংসার চাই …

” হবে , আমাদের নিজেদের একটা সংসার হবে এবার । থাকতে হবে না তোমায় এ বাড়িতে । তবে হ্যাঁ , ও বাড়িতে ফেরার কথা ভুলেও ভাববে না । কারন ও বাড়িতে ফিরবো না আমরা । আর কিছু দিন যাক , বাবু একটু বড় হোক , তুমি একলা সামলাতে শিখে নাও ওকে । তারপর আমরা এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো । নতুন বাড়িতে নতুন করে শুরু করবো সবটা । নতুন করে সংসার পাতবো । যে সংসারে তুমি , আমি আর আমাদের রামিশা থাকবে । হবে না এতে ? 

সিরাত কিছুই বললো না । 

আবছা আলোয় তাকিয়ে রইল নিজের হাতের পোড়া দাগটার দিকে । এই দাগটা আফিফা নেওয়াজের দেওয়া । তার অত্যাচারের চিহ্ন হয়ে থেকে গেছে । 

সিরাত আর আহিয়ানের বিয়েটা হয়েছিলো পারিবারিক ভাবেই । তবুও মাঝে মাঝে অবাকই হয় সিরাত । অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ করেও যে মন বোঝার মতো এতোটা যত্নশীল, কোমল হৃদয়ের কাউকে পাওয়া যায়, তা সে কভু কল্পনাও করে নি ।

ওদের বিয়ের প্রথম বছরটা ঠিকঠাক ভাবেই কেটেছিল । ওদের বিয়ের পরের বছর আহিয়ানের ছোট ভাইয়ের বিয়ে হয় । তার পর থেকেই শুরু হয় অশান্তি । সিরাত অসহ্য হয়ে পড়ে ও বাড়ির সবার কাছে । অবশ্য সহ্যই বা কবে ছিলো ? জোরপূর্বক ও বাড়ির লোক সিরাত কে মানিয়ে নিয়েছিলো । 

আহিয়ান দিনের পুরো ভাগটাই অফিসে থাকতো । বাড়িতে একলা থাকতো সিরাত । অন্যরা কেউ ওর সাথে কথা বলতো না সেভাবে । খাওয়া নেওয়া কোনো কিছুতেই সিরাতের খোঁজ খবর নিতো না । প্রথম বছর থেকেই বাচ্চার জন্য তাগাদা দেওয়া হয়েছে সিরাত কে । আহিয়ান এসব কিছুই জানতো না । ওর পরিবারের লোক ওর সামনে এক , আর পেছনে আরেক ছিলো । বাড়ির সব কাজ সিরাত নিজেই করতো । ও বরাবর চাপা স্বভাবের । মুখ ফুটে বলতো না কিছু । কখনো অভিযোগ করতো না । প্রতিবাদ করতো না । 

মুখ বুজে সবটা সহ্য করতো । বাড়ির সব কাজ করতো মুখ বুজে । আফিফা নেওয়াজ তার ছোট ছেলের বউকে যতটা যত্নে রাখতেন, বড় ছেলের বউ কে ঠিক ততটাই অযত্নে ফেলে রাখতেন । অবমাননা করতেন । 

এমনকি এক পর্যায়ে সীমানা পেরিয়ে ওর গায়ে অবধি হাত তুলতেন । তবুও সিরাত স্বাভাবিকের ন্যায় ছিলো । আহিয়ান কে সাহস জুগিয়ে কিছু বলার মতো সাহস পায় নি কখনো । কেননা ,আহিয়ান যদি ওকে ভুল বোঝে , তখন ? আহিয়ান যদি নিজের পরিবারের ফড়ে কথা বলে , যদি সিরাত কে অবিশ্বাস করে ? তখন কি হবে ? এই ভয়ে সিরাত মুখ খুলতো না । নিজের পরিবার,মা বাবা ছেড়ে আহিয়ান সিরাতের হয়ে কথা বলবে না নিশ্চয়ই ! এ নিয়ে সংশয় ছিলো সিরাতের মনে । সর্বদা ভয়ে তটস্থ থাকতো সে । 

বিয়ের দ্বিতীয় বছরেও যখন সিরাত কনসিভ করলো না , তখন সবকিছুর মাত্রা ছাড়িয়ে যায় । ও বাড়ির লোক কথায় কথায় অপদস্থ করা শুরু করে সিরাতকে । অত্যাচারের মাত্রা বাড়ে । এমনকি সিরাত কে ছেড়ে সিরাতের সম্মুখে আহিয়ানের দ্বিতীয় বিয়ে দেওয়ার কথাও বলেন নেওয়াজ পরিবারের লোক । 

কাবির পরিবারের কাছেও এসবের কোনো হোদিস ছিলো না । আহিয়ান সন্দেহভাজনে সিরাতকে কখনো কোনো কিছু জিজ্ঞেস করলে বরাবর এড়িয়ে যেতো সিরাত । কথা ঘোরাতো । 

কিন্তু সবটা তো আর চাপা থাকে না । এক পর্যায়ে যখন সবটা জানাজানি হয় , তখন ক্ষুব্ধতা সংবরন করতে পারে নি আহিয়ান ‌। সিরাতের জন্য নিজের মা বাবাকে ছাড়তে দুবার ভাবে নি ‌সে । আহিয়ান লজ্জিত । নিজের মা বাবা , পরিবারের কর্মকান্ডের জন্য সে নির্বিণ্ণ । সিরাতের সামনে নিজেকে ছোট মনে হয় ওর । সিরাত কে ও ছাড়তে পারে নি । ও পরিবারের লোক সিরাত কে বন্ধা অপবাদ দিয়ে আহিয়ানের দ্বিতীয় বিয়ে দিতে চেয়েছিলো । কিন্তু আহিয়ান , সে এসবে মানে নি । নিজের পরিবারের তোয়াক্কা করে নি সে । 

বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর ভাড়া বাড়িতে উঠেছিল ওরা । পরবর্তীতে তোফায়েল কাবিরের কথায় এ বাড়িতে আসতে হয়েছে ‌।

অতীত চারনেই খুবলে উঠলো সিরাত । বিষিয়ে গেলো অন্তর । মন কোঠরে পুরনো ব্যাথারা দগদগে হয়ে জেঁকে উঠলো । দুঃখি হয়ে মাথা নুইয়ে খচখচ করলো মেয়েটা । আহিয়ান চুপটি করে দীর্ঘক্ষণ পরখ করলো ওকে । অতঃপর দীর্ঘ শ্বাস ফেলে সিরাত কে টেনে নিলো নিজের কাছে । আলতো করে জড়িয়ে নিলো । সিরাত ওর বুকে মাথা ঠেকিয়ে এলিয়ে পড়লো । আহিয়ান আলতো করে চুমু খেলো সিরাতের সিঁথি বরাবর । অতঃপর বললো মোলায়েম স্বরে….

” আর কিছু ভাবতে হবে না তোমায় । ঘুমাও এখন । সারাদিন রামিশার পেছনে অনেক ধকল যায় । দেখেছো চেহারার কি হাল হয়েছে তোমার ? এবার একটু বাচ্চার সাথে সাথে নিজের দিকেও খেয়ালি হও । আমার বউটা দিনকে দিন শুকিয়ে যাচ্ছে । 

” আচ্ছা , তাই পছন্দের মাত্রা কমে আসছে বুঝি ? 

হাসলো আহিয়ান । হাতের বাঁধন শক্ত করলো এবার কপালে গাঢ় চুমু খেলো শব্দ করে । বললো কন্ঠ খাদে নামিয়ে….

” কোনো দিন না । পছন্দের মাত্রা বাড়ছে আরো বেশি । এতো সুন্দর বউয়ের উপর থেকে পছন্দের মাত্রা কমতে পারে কখনো ? তোমার উপর আমার পছন্দ আর ভালোবাসার গভীরতা কেবলই বেড়ে চলে , কমার নো চান্স । 

★★

সকাল দশটা বাজতে চললো । আজ ভার্সিটি নেই । টুকটুকি এখনো দেধাড়ছে ঘুমোচ্ছে । হেলদোল নেই কোনো । ভার্সিটি না থাকলে এভাবেই ঘুমায় ও । মেঘাও ঘুমায় । তবে ও উঠে পড়েছে । ফ্রেশ হয়ে নিচে নামতে নামতে আদ্রকে দেখলো সে । এতক্ষণে সবাই যে যার কাজে চলে গেছে । শুভ্র অফিসে চলে গেছে । তোফায়েল কাবির আর তৌসিফ কাবির ও চলে গেছেন অফিসে । ব্রেকফাস্ট শেষ সবার । আদ্র ড্রইং রুমের সোফায় বসে বসে ফোন ঘাটছে । মেঘা ওকে কয়েক পলক দেখে কিচেনের দিকে এগোলো । শাহিনা কাবির তরকারি কষাচ্ছেন । নিচে বসে বটিতে মাছ কাটছেন রুবিনা কাবির । মেঘা আলতো হেসে পেছন থেকে আলগোছে শাহিনা কাবির কে জড়িয়ে ধরলো । হাই তুলে নরম কন্ঠে বলল….

” গুড মর্নিং , মনি….

স্মিথ হাসলেন শাহিনা কাবির । কোমল সুরে বললেন….

” উঠে পড়েছিস ? কি খাবি বল ? হটপটে গরম পরোটা রাখা আছে । ডিমের অমলেট করে দেবো..? 

” না , মনি । এখন কিছু খাবো না । শুধু কফি খাবো । 

বলতে বলতে কফি বসালো মেঘা । রুবিনা কাবির মুখ কুঁচকালেন । মেঘা চুলা জ্বালিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে এক পলক চেয়ে এবার তার উদ্দেশ্যে বললো….

” গুড মর্নিং, মামনি ? 

” মর্নিং আছে এখনো ? কটা বাজে খেয়াল আছে ? দশটা পেরিয়ে গেছে । কোন বাড়ির মেয়ে-বউ এতো সকাল অবধি ঘুমায় ? 

মেঘা থামলো । শিথিল মুখশ্রী বিকৃত করলো সহসা । বউ সম্বোধন টা ঘৃণিত লাগলো ওর কাছে । শাহিনা কাবির পরিস্থিতি বুঝে ঝটপট বললেন….

” আহ্ রুবিনা । কিসব বলছিস ? 

মেঘা , শাফাহ্ এখনো ঘুমাচ্ছে ? ঘুম থেকে ওঠে নি ও ? 

শুকনো উত্তর করলো মেঘা….

” না । 

অতঃপর কফি নিয়ে বেরিয়ে এলো কিচেন থেকে । 

আদ্রের পাশে সোফায় বসলো ! উদাস হয়ে চুমুক বসালো কাপে । আদ্র এক পলক চেয়ে প্রশ্ন করলো….

” ঘুম হলো এতক্ষণে ?

উত্তর করলো না মেঘা । আদ্রের দিকে তাকালো । খুব মনযোগ সহকারে ফোন ঘাটছে আদ্র । নতুন ফোন কিনেছে আবার । আগের টার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি । লাস্ট লোকেশন বাড়িতেই ছিলো । মেঘা জিজ্ঞেস করলো…

” নতুন ফোন কিনেছো ? 

” হুম ! 

” কি করছো ফোনে ? 

” কিছু না । 

কপালে ভাঁজ ফেললো মেঘা । আদ্র ওর দিকে আনমনা । কিছু তো একটা করছে ফোনে । মেঘা একটু উঁকি দিতেই ফোন সরিয়ে নিলো আদ্র । 

” কি দেখছিস ? 

” তুমি কি করছিলে তাই দেখছিলাম । লুকাচ্ছো কেনো ফোন ? 

” লুকাতে যাবো কেনো ? 

” তাহলে দেখাও কি করছিলে ! 

” তোকে দেখাবো কেনো ? 

” প্রেম করছো ফোনে ? আমি লক্ষ্য করেছি , মিটিমিটি হাসছিলে । কার সাথে কথা বলছিলে বলতো ? 

আদ্র শ্বাস ফেললো । খানিক মশকরা করে চোখ টিপে বলল….

” ইটস্ ঠু সিক্রেট ‌ডিয়ার । 

মেঘা চিকচিক করে উঠলো । উচ্ছাসিত হয়ে বললো….

” সিরিয়াসলি প্রেম করছো ? 

ফোনে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলো আদ্র । রাশভারী গলায় বলল….

” টুকটুকির রোল প্লে করতে এসেছিস ? 

মৃদু হাসলো মেঘা । কফিতে পরপর কয়েকটা চুমুক বসালো । মগটা বাড়িয়ে টি টেবিলের উপর রাখলো । সন্তর্পণে উঠে দাঁড়ালো । পা টিপে দু পা এগিয়ে ছোঁ মেরে আদ্রের হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিলো । ভড়কালো আদ্র । মেঘা ছুট লাগালো সিঁড়ির দিকে । আদ্র ঝট করে উঠে দাঁড়িয়ে ধাওয়া ধরার আগেই গলা উঁচিয়ে বললো…..

” মেঘ ফোন দে আমার , ফাজলামো করবি না একদম । ইম্পর্ট্যান্ট কাজ করছি আমি । 

মেঘা শুনলে তবে তো ? পড়নের স্কার্ট টা উঁচিয়ে ধরে পায়ের দিকে তাকিয়ে সিঁড়ি উঠতে লাগলো টপাটপ । চার ধাপ সিঁড়ি ওঠার আগেই ধাক্কা খেলো শক্ত খাম্বা মতো কিছু একটার সাথে । আকস্মিক বাঁধা পেয়ে সিঁড়িতে পা উঁচু নিচু হতেই বেসামাল হয়ে পেছনের দিকে পড়তে নিলো । তবে পড়লো না । ডান হাত টেনে আটকে ফেললো কেউ । এক মুহুর্তে ভয়ে চোখ মুখ খিচলো মেঘা । পড়ে নি এটা অনুধাবন হতেই পিটপিট করে চোখ খুললো । অমনি রৌদ্রের নিরেট শ্যামলা মুখশ্রী নজরে পড়লো । প্যান্টের পকেটে এক হাত গুজে অন্য হাতে আরামছে মেঘা কে পড়া থেকে বাঁচিয়ে নিয়েছে ও । দুজনের দৃষ্টির মিলনের মাঝেই নিচ থেকে আদ্র চেঁচালো ভড়কানো গলায়….

” মেঘ , ঠিক আছিস ? তোকে বললাম ছুটবি না ! এক্ষুনি পড়ে গেলে কি হতো ? 

আদ্রের কথা কর্নপাত হাওয়া মাত্রই রৌদ্র হাত ছেড়ে দিলো মেঘার । আর ঠিক থাকলো না মেয়েটা । ছাড়া পাওয়া মাত্রই ঠাস করে পড়ে গেলো পিছনের দিকে । সোজাসুজি কোমড় চড়কে পড়লো মেয়েটা । অমনি ব্যাথায় চোখ খিচে মৃদু আর্তনাদ করে কুকিয়ে উঠলো । চেঁচালো আদ্র….

” মেঘ !!

কিচেন থেকে ছুটে আসলেন শাহিনা কাবির , পিছু পিছু রুবিনা কাবির । আদ্র তেড়ে আসলো । কোমরে হাত ঠেসে মেঝেতে ব্যাথাতুর মুখো ভঙ্গিমা নিয়ে পড়ে আছে মেঘা । পদ যুগল এখনো সিঁড়িতে । আদ্র হকচকিয়ে গেলো । মেঘাকে সামলে ধরলো দু’হাতে । বিচলিত হয়ে পড়লো সে….

” মেঘ , আর ইউ ওকে ? ব্যাথা পেয়েছিস ? লেগেছে কোমরে ? ঠিক আছিস তুই ? 

মেয়েটার কোমরে লেগেছে ভীষণ । খাঁড়া ভাবে আচমকা পড়েছে । লাগারই কথা । রুবিনা কাবির সবটা বোধগম্য করতে না পেরে মেঘা কে ওভাবে অমন অবস্থায় দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে বললেন….

” আদ্র , কি হলো ওর ? 

এভাবে পড়লো কি করে ? এই মেয়ে , পড়লি কি করে ? ছোটাছুটি করেছিস নিশ্চয়ই ? 

উত্তর না করে কিড়মিড়িয়ে উঠলো আদ্র । ক্ষিপ্ত হয়ে চোখ তুলে তাকালো সিঁড়ির উপর দাঁড়িয়ে থাকা রৌদ্রের দিকে । নির্বিকার ঠায় দাঁড়িয়ে রৌদ্র । কোন হেলদোল নেই , সেই একই ভাবে পকেটে এক হাত পুড়ে দাঁড়িয়ে আছে তাল গাছের ন্যায় । আদ্র চরম ক্ষুব্ধ হলো । ধমকে উঠলো রৌদ্র কে…..

” হোয়াট দ্যা হেল ডিড ইউ ডু ,রুডি ? আর ইউ ম্যাড ? 

ফেলে দিলি কেনো ওকে ? 

ধমকটা কানে বাজলো রৌদ্রের । রুবিনা কাবির খানিক চমকালেন । রৌদ্র মেঘা কে ফেলে দিয়েছে মানে ? 

রৌদ্র কান চুলকে লাস্ট কয়েক ধাপ সিঁড়ি নেমে উত্তর করলো….

” ইয়েস আই এম ম্যাড । এতো বছর পর বুঝতে পারলি এটা ? 

” ফেলে দিলি কেনো ওকে ? 

” প্রথমত আমি পড়া থেকে বাঁচিয়েছি ওকে , আর দ্বিতীয়ত ফেলে দিয়েছি । মন চেয়েছে , তাই ফেলে দিয়েছি । ও পড়েছে । ব্যাথা পেলে ও ব্যাথা পেয়েছে । আমি ব্যাথা দিয়েছি , তাই ব্যাথা পেয়েছে ও ! তোর এতো জ্বলছে কেনো বলতো ?

আদ্রের সাথে সাথে বিস্মিত হলেন শাহিনা কাবির আর রুবিনা কাবির । রৌদ্রের ব্যাপার টা ঠিক হজম হলো না । এই মেয়েটাকে দেখেও রৌদ্র এতোটা স্থির কেনো ? কিছু জানার নেই ওর ? এতো বছর ধরে এই মেয়েটা এ বাড়িতে কেনো আছে , জানার নেই রৌদ্রের ? 

রৌদ্র এতোটা শান্ত , ঠিক মানতে আর বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে । এতক্ষণে এই মেয়ে টাকে দেখার পর অনেক কিছু ঘটে যাওয়ার কথা । 

আদ্র রৌদ্র কে গ্রাহ্য করলো না । খেয়াল ফেরালো মেঘার দিকে । খানিক বিচলিত কন্ঠে মেঘার বাহু ধরে বললো….

” খুব বেশি ব্যাথা পেয়েছিস ? ওঠ দেখি….

আদ্র হাতটা বাড়িয়ে দিতেই সেটাকে শক্ত করে ধরলো মেঘা । দাঁতে দাঁত চেপে আদ্রের উপর ভর করে উঠে দাঁড়ালো । শাহিনা কাবির প্রশ্ন করলেন….

” মেঘা , ঠিক আছিস মা ? 

” হ্যাঁ মনি , আমি ঠিক আছি । লাগে নি তেমন । 

” হাঁটতে পারবি , পা বাড়া দেখি….

আদ্রের কথায় মেঘা পা বাড়ালো । 

হাঁটতে সমস্যা হলো না । নিরিহ মুখে আদ্রের ফোনটা ওর দিকে ফিরিয়ে দিলো মেঘা । বললো নিচু স্বরে….

” সরি । 

মেঘার হাতে আবার আদ্রের ফোন দেখে রগরগে দৃষ্টিপাত করলো রৌদ্র । ফোনটার দিকে তাকিয়েই বিড়বিড় করলো ক্ষুব্ধ স্বরে….

” একটাকে কমোডে ফ্লাস করেছি , আবার এটা ? 

রৌদ্রের বিড়বিড়ানো ওর মুখেই হারিয়ে যায় । 

আদ্র মেঘার সরি বলাতে নরম স্বরে বলল….

” ইটস্ ওকে , ঘরে চল । আমি নিয়ে যাচ্ছি ….

মেঘা আদ্রের সাথে সিঁড়িতে উঠলো । আদ্র হাতটা ছেড়েছে । নিজে নিজে উঠছে মেঘা । রৌদ্র কে পাশ কাটাতে গিয়ে রৌদ্রের দিকে চিবিয়ে কুপিত দৃষ্টি পাত করলো মেঘা । ফুসলো মনে মনে । 

★

বিকেল গড়াতেই ছাদে উঠেছে মেঘা আর শাফাহ্ । এটা নিত্যদিনের রুটিন । সন্ধ্যার আগের এই মুহুর্ত থেকে আঁধার নামা অবধি ছাদেই কাঁটাবে দুজন । ছাদে অসংখ্য ফুল গাছ । সব টুকটুকির জন্য । মেয়েটা ভীষণ ফুল প্রিয় । মেঘা রেলিংয়ের উপর পা ঝুলিয়ে বসেছে ‌। ভয় ডর নেই একটুও । শাফাহ্ ভয়ে ভয়ে সাবধান করলো ওকে । উঁচুতে ফোবিয়া আছে শাফাহ্’র । রেলিং ঘেঁষে দাঁড়াতেই পারে না ও । নিচের দিকে তাকালেই মাথা চক্কর দিয়ে ওঠে । আর অপরদিকে এই মেঘা , এর তো কোনো কিছুতেই পরোয়া নেই । তিন তলার ছাদ থেকে রেলিংয়ে পা ঝুলিয়ে বসে আছে ভয় হীনা । হাতে ফোন , পূর্ণ মনযোগ ফোনে । শাফাহ্ ওর থেকে সরে এসে ট্যাব ছেড়ে ছাদের ফুলের টব গুলোতে পানি দিচ্ছে । 

দিতে দিতে ডাকলো….

” মেঘা ?

” হুম ! 

” তুই না অদ্ভুত ! 

” অদ্ভুত কেনো হলাম ?

পানির পাইপ ছেড়ে এগিয়ে আসলো শাফাহ্ । ওরনায় ভেজা হাত মুছলো । রেলিং থেকে দুরত্ব বজায় রেখে দাঁড়ালো । ঠোঁট ভিজিয়ে খানিক ইতস্তত বোধ করলো কথা তুলতে । বাড়িতে সবাই এই নিয়ে উদাসীন । কারোর কোনো মাথা ব্যাথা নেই । নিরুদ্বেগ সবাই । শাফাহ্ সেই তিন দিন থেকে পেট আর মুখ বহু কষ্টে চেপে রেখেছে । খচখচ করছে প্রসঙ্গ তোলার জন্য । রৌদ্র আর মেঘার সমন্বয়ে প্রসঙ্গ । জিভ গিজগিজ করছে ওর । তবে ও জানে , এই প্রসঙ্গে কথা তুললে নিশ্চয়ই মেঘার ঝাড়ি খাবে । মেঘা ধমকাবে ওকে । রাগের দরুন হয়তো কথাও বলবে না ঘন্টার পর ঘন্টা । কিন্তু তবুও আজ আর শাফাহ্ চুপ থাকতে পারলো না । বলেই ফেললো…..

” ভাইয়া এসেছে তিন দিন হলো । অথচ তুই এতো নরমাল আছিস কিভাবে ? 

মেঘা কথাটায় অতোটা গুরুত্ব দিলো না । অন্তত উপর উপর সে ভাবই দেখালো । ভেতরে কি চললো কে জানে ? নিঃশব্দে শ্বাস পড়লো । বললো অজানার ভান ধরে…..

” কোন ভাইয়ার কথা বলছিস ? 

” রৌদ্র ভাইয়া ! 

” ও , ঐ ডিজগাস্টিং ম্যানারলেস লোকটা ? ওটা তোর ভাইয়া হয় বুঝি ? পাঁচ বছর ধরে এ বাড়িতে আছি , একটা দিনের জন্যেও তো দেখিনি । তাই জানতাম না । তো , তোর ভাইয়া এসেছে তো আমার কি ? 

” তোর কিছু নেই ? 

” কি আছে ? 

” তুই আসলেই অদ্ভুত মেঘা । 

মেঘা আর প্রত্যুত্তর করলো না । খানিক বাদ সন্ধ্যার আজান পড়লো । আঁধার নামছে । 

শুভ্রের আসার সময় হয়েছে , এটা মনে পড়তেই শাফাহ্ চটপট বললো…..

” নিচে চল এখন । সন্ধ্যা হয়ে গেছে । 

রেলিং থেকে নামলো মেঘা । শাফাহ্ ছুটতে উদ্যত হয়ে পিছু ফিরলো । নিজের সাথে নিজেই চ্যালেঞ্জ ধরলো , মেঘার আগে নিচে পৌঁছাবে ও । মেঘা রেলিং থেকে নেমে গা ঝেড়ে পা বাড়ানোর আগেই দৌড় লাগালো শাফাহ্ । দুদিকে মাথা নাড়ালো মেঘা । এই মেয়ের ছটফটে পনা যাবে না । শাফাহ্ হুড়মুড়িয়ে তিন তলা থেকে দোতলায় নামতে গেলে সিঁড়ির মাঝপথে রৌদ্রের সাথে সাক্ষাৎ ‌। হাতে সিগারেটের প্যাকেট আর লাইটার নিয়ে ধুপধাপ পা ফেলে ছাদে উঠছে রৌদ্র । শরীরে ভারী ট্রাওজার আর গলায় টাওয়েল ঝোলানো । পেটানো শরীর উন্মুক্ত । যখন তখন শাওয়ার নেওয়া অভ্যাস হয়ে গেছে ওর । শাফাহ্ একটু থামলো । চোখ নামিয়ে গুটি গুটি ধাপে রৌদ্র কে পাশ কাটিয়ে ফের ছুটলো নিচের দিকে । রৌদ্র দেখেও দেখলো না । এখান থেকেই সিগারেট জ্বালাতে জ্বালাতে উঠবে এখন । প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে ঠোঁটে চেপে ধরলো রৌদ্র । দৃষ্টি নিচুতে নামিয়ে বেখেয়ালে পা বাড়াতে বাড়াতে লাইটার জ্বালানোর আগেই কোনো কিছুর সাথে পা জড়িয়ে সামনের দিকে হুবড়ি খেলো সে । পড়তে পড়তে বাঁচিয়ে নিলো নিজেকে । পা জড়ালো কিসে এই সিঁড়ির পথে ? কেউ ল্যাং মেরেছে ওকে । ক্ষুব্ধ হয়ে পিছু ফিরলো রৌদ্র । সূচালো দৃষ্টির মুখোমুখি মেঘা দাঁড়িয়ে । ওকে পাশ কাটিয়ে দুই ধাপ সিঁড়ি নেমেছে । রৌদ্র তাকাতেই বললো ঠোঁট নাড়িয়ে….

” উপসস , দেখে হাঁটবেন তো । অতিথি মানুষ , দুদিনের অতিথি , এভাবে বেকায়দায় ঠ্যাং ভেঙে নীড়ে ফেরার ইচ্ছে আছে বুঝি ? 

মেঘা নিজের পা দিয়ে রৌদ্রের পথে বাঁধা দিয়েছে , তা বুঝতে আর বাকি রইলো না । ঠোঁট থেকে সিগারেট নামিয়ে কন্ঠ চড়াও করলো রৌদ্র । জবান টাটিয়ে ঔদ্ধত্য স্বরে বলল….

” ইউ স্টুপিড , এক্ষুনি পড়ে যেতাম আমি । 

” রিডিকিউলাস ! 

পড়ার জন্যই তো ল্যাং মেরেছি । পড়েন নি সৌভাগ্য । আমাকে সিঁড়ি থেকে ফেলে দিয়েছিলেন না , এর রিভেঞ্জ নিতে হবে তো ? বাট ইউর লাকটাই গুড , পড়তে পড়তে বেঁচে গেলেন । 

কন্ঠ পিষে শেষটা বললো মেঘা । অতঃপর তিরস্কারে মুখ ফিরিয়ে নিলো । চুল উড়িয়ে ভাব নিয়ে সিঁড়ির ধাপ নামতে গেলে শক্ত হাতের টান পড়লো চুলে । তড়িতে পিছু ফিরলো মেঘা । রৌদ্র ওর চুল খামচে টেনে ধরেছে । ধরেই দুধাপ সিঁড়ি নিচে নেমে মেঘার সামন বরাবর দাঁড়ালো সে । মুখ সিঁটকে নিলো মেঘা । নিজে ঔদ্ধত্য হওয়ার আগেই রৌদ্র ওর চুল ছাড়লো ‌। ঝুঁকে ফুঁ দিলো মেঘার মুখের উপর । শ্বাস খিচে মুখ বিকৃত করলো মেঘা । 

রৌদ্র বললো হিসহিসিয়ে……

” সাহস খুব বেড়েছে তোর, তাই না ? ওওও সরিইই , তোকে তো আবার তুই বললে গাঁয়ে ফোস্কা পড়বে । সরি সুইটহার্ট , তোমার সাহস বেড়েছে খুব ? আমার পিছে লাগতে এসেছো ? রুডভিক কাবির রৌদ্রের সাথে তাল মেলাতে চাইছো ? 

তুমি সম্বোধন টা রৌদ্রের জিভে পোষালো না বেশিক্ষণ । কন্ঠ তড়তড়ে রুপ ধারণ করতেই তুমি থেকে বের তুই সূচকে বললো বাকিটা….

” খুব ইগনোর করছিস আমায় দেখছি । হয়েছে টা কি বলতো ? ভুলে গেছিস আমায়… । আমি তোর কে,সেটা মনে নেই ? আগের থেকে সুন্দর হয়েছি বলে আমার ফেস এই পাঁচ বছরে হরলিক্সের সাথে গুলে খেয়েছিস ! 

মেঘার কাছে সৌন্দর্য বোঝানোর দিকটা বেশ হাস্যকর লাগলো । নিজের রুপ উপস্থাপনে নিজের ঢাক নিজেই পেটাচ্ছে এই লোক । মেঘা হাসি চাপতে পারলো না । তাচ্ছিল্যতার সহিত সিঁড়ির রেলিংয়ে খানিক হেলে শব্দ করে হি হি করে হেসে উঠলো । ক্ষিপ্ত ভঙ্গিতেই ফিট খেলো রৌদ্র । আকস্মিক হাসির রিনরিনে ঝংকারে তব্দা খেলো বটে । হাসির কারন বুঝলো না । কপাল গুটিয়ে ফেললো সে । বিষ্ময়ে তাকিয়ে রইলো মেয়েটার হাসির দিকে । মেঘা হাসছে নিজের মতো ‌। রৌদ্র চোখ সরু করে ওর হাস্যোজ্জ্বল মুখপানে তাকিয়ে থাকার মাঝেই খেই হারালো ধ্যান জ্ঞান খুইয়ে । ধীরে ধীরে ধারালো দৃষ্টি শীতল হয়ে আসলো আপনা আপনি । 

🚫 রেসপন্স করবেন আর সুন্দর সুন্দর মন্তব্য করবেন, তাহলে আগামী কাল আরো একটা পার্ট আসবে । 👀🚫

#চলবে…..

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply