#আসবো_ফিরে_আবারো
#পর্ব_৪১_৪২
#সুরভী_আক্তার
পরদিন সকাল পেরিয়ে প্রায় রাত ।
ঘরবন্দি মেঘা । সেই যে নিজেকে ঘরে আটকে নিলো , আর খোলেনি দোর । বলা চলে , রৌদ্র বাড়িতে থাকলে সে দোর খোলে না । বেপরোয়া ছেলে সেসবে ধার ধারে নি এখনো । বাড়িতেই নেই সে । মেঘা কে দেখে নি কালকের পর । আজ সকালে বেরিয়ে গেছে । এ অবধি ফেরে নি ।
ডিনারে বসবেন সকলে । টেবিলে খাবার সাজানো হচ্ছে । শাফাহ্ একা নিচে নামলো । ওকে একা দেখে চোখ সরু করলেন তোফায়েল কাবির । ডেকে শুধালেন….
” শাফাহ্,,, মেঘা কোথায় ?
” ও তো রুমে ।
” খাবে না ?
” নিচে আসবে না । রুমেই খাবে ।
মিনমিনে গলায় উত্তর করলো শাফাহ্ । বসে না থেকে উঠে দাঁড়ালেন তোফায়েল কাবির । আর কোনো কথা না বলে সোজা উপরের দিকে পা বাড়ালেন ।
নক করলেন মেয়েটার ঘরের দরজায় । কাবাডের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলো মেঘা । এলোমেলো হয়ে আছে ওর সব কাপড় চোপড় । বেডের উপর একটা ল্যাগেজ ও আছে । নিজের ড্রেস গুলো গোছাচ্ছে রমনী । ও ভেবেছিলো হয়তো শাফাহ্ । অনুমতি দিলো না দেখেই । ঘরে ঢুকলেন তোফায়েল কাবির । মেঘার কর্মকাণ্ড নীরবে পরখ করলেন প্রথমে । নিশ্চুপ থেকে ধীর গলায় ডাকলেন….
” মেঘা ? এসব কি করছো ?
সচকিতে চায় রমনী । ভদ্রলোক কে দেখে অপ্রস্তুত হলেও মুচকি হাসে । কাবাডের সামনে থেকে সরে আসে ।
” এইতো বাবা , কাপড় গোছাচ্ছি !
” এসব কেনো ?
” ওমা , প্রিপারেশন নেবো না আগে থেকে ? আর তো কিছুদিন । এখন গুছিয়ে রাখছি , পরে ঝামেলা বাঁধাবো না আর । শুধু টুক করে কেটে পড়বো….
থমকান তোফায়েল কাবির । বুক চিরে দীর্ঘ শ্বাস ফেলেন নিঃশব্দে । কন্ঠ নুইয়ে আসে দ্বিগুণ ।
” আমি তোমাকে রৌদ্রের থেকে দূরে থাকতে বলেছি, আমাদের থেকে নয় ।
” তোমাদের থেকেও দূরে থাকাটা অভ্যাস করে নিচ্ছি বাবা । দূরে যাবো যে…
” মেঘা !
” হ্যাঁ ?
” নিচে চলো , ডিনার করবে ।
মেঘা স্থির হয়ে গেলো । নরম চোখে তাকালো ভদ্রলোকের দিকে । শান্ত কন্ঠে বললো…
” তুমি যাও বাবা , আমি আসছি ।
প্রস্থান করলেন ভদ্রলোক । মেঘা তার প্রস্থানের পিঠে মুচকি হাসে । ঘাড় উঁচিয়ে বুক ফুলিয়ে শ্বাস ফেলে । কাপড় গুলো এলোমেলো হয়ে আছে । কিছু কিছু বাইরে রেখে বাদ বাকি গুলো গোছাবে । এতো সব জিনিসপত্র ওর , কতগুলো ল্যাগেজ লাগবে কে জানে । সবে একটা গোছাতে শুরু করেছে । ল্যাগেজ টা ওভাবেই রেখে চেন আটকে দিলো । বিছানা থেকে নামিয়ে সেটাকে রাখলো কাবাডের একপাশে । পুরো আলমারি জুড়ে ওর কতশত জিনিস । মেঘা চোখ ঘুরিয়ে দেখে । ধীরে ধীরে হাত বোলায় নিজের জিনিস গুলোর উপর ।
রৌদ্র ফিরলো বারোটার পর । ততক্ষণে সবাই ঘুমে কাঁদা । ফ্রেশ হয়ে নিচে নামলো সে । আপন খেয়ালে নিজের জন্য এক কাপ কফি বানিয়ে আবারো উঠলো । ঘরে পৌঁছানোর আগে করাঘাত করলো রমনীর দোরে । ধাক্কা দিলো । দরজা খুললো না । কপাল কুঁচকে আসলো নির্বিকারে । চোখ সরু করে দরজার আগাগোড়া নজরে নিলো । আজ আবার দরজা আটকানো ?
শক্তি খাটানোর চেষ্টা করলো সে । কিছুতেই খুলতে পারলো না । মেঘা দরজা আটকে ঘুমালেও শাফাহ্ দরজা খুলে রাখতো ঘুমানোর আগে । রৌদ্রের কথা মোতাবেক মেঘার ঘুমানো অবধি জেগে থাকতো সে ।
আজ ও দরজা খুলে দেয় নি ! বিব্রত হয়ে মুখ খিচে নেয় রৌদ্র । কফির মগটা চেপে ধরে গটগটিয়ে নিজের ঘরে যায় । ফোন তুলে শাফাহ্’র ফোনে কল লাগায় । দু তিনবার রিসিভ হয় না । চতুর্থ বার রিসিভ হতেই চাপা স্বরে ধমকায় রৌদ্র….
” গবেট , তোকে বলেছিলাম না দরজা খুলে ঘুমাবি ? মনে নেই ? আর চকলেট পাবি না বলে রাখলাম ! চকলেট নিতে চাইলে দরজা খুলে দে ।
ফোনের ওপাশ থেকে কিছু শোনা গেলো না । নিরবতা দেখে রৌদ্র ঘর থেকে বেরিয়ে এ ঘরের দরজার সামনে আসতে আসতে আবার ধমকায়….
” কি হলো ? দরজা খুলতে বলেছি , কানে যায় নি ?
টুং টুং করে ফোন কাঁটার আওয়াজ কানে বাজলো । রৌদ্র ভাবলো হয়তো শাফাহ্ উঠেছে । কিন্তু না । মিনিট কয়েক দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও কোনো কিছুর আভাস পাওয়া গেলো না । চরম রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে আসে রৌদ্রের । কফির মগ রুমে রেখে এসেছে । ফোনটা মুঠো করে পকেটে ঢুকিয়ে নিলো । রাতের নিস্তব্ধতায় গুমোট চারপাশ । দূরে কোথাও কেউ শ্বাস ফেললেও তার শব্দ শোনা যাবে । সে জায়গায় রৌদ্র সিদ্ধান্ত নিলো দরজা ভাঙার । যেই ভাবা সেই কাজ । একটু পেছালো । আগপিছ না ভেবেই আচমকা সজোরে একটা লাথি বসালো দু কপাটের দরজায় । অমনি হাট করে দমকা শব্দ তুলে ঠাস করে খুলে গেলো দরজাটা । দুটো কপাট মেলে গেলো দুদিকে । একপাশে টেবিল , অন্যপাশে দেয়ালের সাথে বাড়ি খেয়ে বিকট শব্দ তুলে কাপলো বাড়ি সুদ্ধ । ছিটকিনি ভেঙে গেছে । রৌদ্র পরোয়া করলো না । করেছেই বা কবে ? হাঁফ ফেলে ঘরে ঢুকলো ।
বেঘোরে ঘুমের অতলে হারিয়েছে দুই রমনী । এই যে বিকট শব্দ হলো , তাতেও কোনো প্রতিক্রিয়া নেই ওদের মাঝে । নড়চড় দেখা গেলো কারোর ।
রৌদ্র বাম পাশের শাফাহ্ কে দেখে কিড়মিড়িয়ে বিড়বিড় করলো….
” গাব্বু , মরেছিস ঘুমের রাজ্যে ? আর যদি চকলেট দিয়েছি তোকে , তাহলে নিজের নাম বদলে রাখবো আমি । গবেট একটা , ঠিকঠাক ভাবে ছোট্ট একটা দায়িত্ব পালন করতে পারিস না !
ঘুমন্ত রমনীর কানে পৌঁছালো না । ফোঁস ফোঁস করলো রৌদ্র । নিজেকে ধাতস্থ করে খাটের ডান পাশে পা বাড়ালো । মেঘা শুয়ে ডান কাত হয়ে । একটু গুটিয়ে ঘুমিয়ে আছে । হাঁটু ভাঁজ করে মুড়ে ওর সম্মুখে মেঝেতে বসে রৌদ্র । হলদে ডিম লাইট জ্বলছে । যার আলোয় রমনীর ফর্সা চেহারা হলদেটে দেখাচ্ছে ।
এদিকে দরজার বিকট শব্দে ঘুম ভেঙ্গেছে আদ্রের । পাশেই তার রুম । চমকে উঠেছিলো সে । ধড়ফড় করে বাইরে বেরিয়েছে । চোখ নিভু ঘুমের ভারে । চোখ ডলে করিডোরে এপাশ ওপাশ তাকাতেই দেখতে পেলো মেঘা আর শাফাহ্’র ঘরের দরজা সটান খুলে রাখা । কয়েক স্তর ভাঁজ পড়লো ওর কপালে । পরিক্ষণের উদ্দেশ্য একটু পা এগোতেই দরজার বাইরে থেকে ভেতরকার দৃশ্য নজরে পড়লো । আবছা ক্ষুণ্ন আলোয় প্রথমেই নজরে পড়লো রৌদ্রের উপর । মেঝেতে বসে মেঘার দিকে ঝুঁকেছে সে । রমনীর অবিন্যস্ত কেশরাশী কুন্ডলি পাকিয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বালিশে ।
মুখের উপর আছড়ে পড়েছে গুচ্ছ কয়েক । রৌদ্র হাত বাড়িয়ে তা সরিয়ে দিলো । দৃশ্যমান করলো একবিংশীর পূর্ণ মুখশ্রী ।
আদ্র ওকে এভাবে দেখা মাত্রই ভ্যাবাচ্যাকা খায় । ঘুম ঘুম চোখ জোড়া বৃহৎ হয়ে আসে তার । চটপট ঘন পলক ফেলে ঢোক গেলে । মাথা ঝাঁকিয়ে পিছিয়ে আসে । রৌদ্র মেঘার ঘরে ? তার মানে ঘরে ঢোকার জন্য , দরজা ভাঙলো সে ? আর এটারই শব্দ হলো ? বিস্ময়ে মুখ ফাঁক হয়ে আসে তার । জিভে কামড় বসিয়ে দ্রুত জায়গা ত্যাগ করে আরো কিছু দেখে ফেলার আগেই ।
এদিকে রৌদ্রের উদ্বেগ নেই ।
প্রশান্তি পেয়েছে সে । ঠান্ডা হয়েছে সব উদ্বিগ্নতা ।
চোখ বুজে দীর্ঘ সময় ধরে রাখলো নিজেকে । অনেক আগেই মাথাটা নামিয়ে রেখেছে মেঘার বালিশের পাশে মাথার কাছটায় । কপাল ছুই ছুই দুজনার । ইদানিং বেশ ঠান্ডা পড়েছে । কম্ফোর্টার মুড়িয়ে জড়োসড়ো হয়ে শুয়ে আছে একবিংশী । তার গরম শ্বাস ক্ষণে ক্ষণে আছড়ে পড়ছে বেপরোয়া লোকটার মুখের উপর । রৌদ্রের কেমন শিরশিরে ঠান্ডা অনুভুত হয় । আলগোছে মাথা উঁচায় সে । একটু এগোয় । ঘুমন্ত রমনীর মুখখানার তিন স্থানে তিনটে পরশ আঁকে । প্রথমেই চিকন লতার সুক্ষ্ম নাক ফুলটায় । দ্বিতীয়ত , ভ্রুর পাশের কাঁটা দাগ টাকে নির্দিষ্ট করে । আর তৃতীয়ত পাতলা অধরের এক কোণে ।
রমনী ঘুমিয়ে , তাই বাঁধা দেওয়ার কেউ নেই । মৃদু মৃদু পরশ বুলিয়ে সরে আসে রৌদ্রের । রমনীর বাম গালে হাত রাখে । এবারে চতুর্থ পরশ টা আঁকে একবিংশীর বন্ধ চোখের কার্নিশে । ঠোঁট সরাতেই অনুভুত হয় , ঠোঁট ভেজা তার । কেমন নোনা স্বাদ পায় । কপাল গুটায় সে । এই মেয়ে কি ঘুমের ঘোরে কাঁদছে নাকি ? চোখের পাপড়িতে পানি জমলো কি করে ?
রৌদ্র বোঝে না । আরেকটু ঝুঁকে আবারো ঠোঁট ছোঁয়ায় নেভানো পত্র যুগলের পিঠে । একই নোনা স্বাদ পায় পূণরায় । তবে , বেশি ভাবলো না এই নিয়ে । হয়তো ঘুমের মধ্যে চোখে পানি জমেছে । এটা স্বাভাবিক । মিনির ক্ষেত্রে দেখেছে ও । ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে কাঁদে মিনি । রিসা বলতো এটা হয় অনেকের ।
আরামে ঘুমোচ্ছে এই মেয়ে । রৌদ্র রোজ রাতে ওর রুমে আসে , একদিন ও আভাস পায় না এই মেয়ে ! কি গভীর ঘুম তার । রৌদ্রের ঘুম কেড়ে আয়েশে রয় এই রমনী ।
রৌদ্র কেমন নিদারুণ কন্ঠে বিড়বিড় করে…..
” ইডিয়ট , তোর কাছে আসার জন্য কত কি করতে হয় আমায় । কত অশান্তি লাগে তোর বিরহে । তুই এভাবে আরামে ঘুমাস কি করে আমি হীনা ? একটুও কষ্ট হয় না ? আমার যে হয় কষ্ট । খুব কষ্ট হয় । কবে ঘুঁচবে এই যন্ত্রনা গুলো । কবে হবি আমার ?
★
দীর্ঘ ছুটির পর আজ থেকে ভার্সিটি শুরু নতুন করে । নতুন সেমিস্টারে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু আজ থেকেই । মাঝে দিন কয়েক কেটেছে । ছুটি শেষ । প্রথম দিন হওয়াতে মেঘা আর শাফাহ্ ভার্সিটি মিস দেয় নি আজ । ফিরেছে সেই চিরচেনা প্রাঙ্গণে । মেঘা আসতে চায় নি । সে তো আর পড়বে না । রেজিস্ট্রেশন করবে না নতুন করে । তাহলে এসে কি হবে ? শাফাহ্ জোর পূর্বক নিয়ে এসেছে ওকে । প্রথম দিনেই ফর্ম পূরণ করে রাখবে ওরা । বাকিটা আদ্র সামলে নেবে । মেঘা মূলত এসেছে শিশিরের সাথে দেখা করার জন্য । শাফাহ্ শিশির কেও ডেকেছে । ক্যাম্পাসে ভিড় খুব আজ । কতগুলো দিন বাদ পূনরায় সমাগমে মুখোর হয়ে উঠেছে ভার্সিটি প্রাঙ্গণ । মেঘা,শাফাহ্ আর শিশির গেইটের ভেতরে মিলিত হয়েছে । ফর্ম তুলে পূরন করা শেষ ইতোমধ্যে । মেঘা ফর্ম তোলে নি । শিশির তা দেখে শুধালো…
” তুই ফর্ম তুলবি না ?
মেঘা কেবলই মাথা ঝাঁকায় দুদিকে ।
বেশি ঘাঁটে না শিশির । কাউকে জোর পূর্বক অতিরিক্ত প্রশ্ন করার অভ্যাস নেই তার ।
সময়ও নেই হাতে । খুব অল্প সময় নিয়ে বাইরে বেরিয়েছে । ফিরতে হবে শীঘ্রই । মাঝে আবার আরো একটা কাজ আছে । সেটার জন্য ছটফট করছে রিতিমত ।
শাফাহ্ এপাশ ওপাশ তাকাচ্ছে । অপেক্ষায় আছে আদ্রের । আদ্র নিচ তলার একটা কেবিনে ওদের বসিয়ে রেখে চলে গেছে । আসলেই ওর হাতে এই কাগজটা তুলে দিয়ে নালিশ ঠুকবে মেঘা কে নিয়ে । এই মেয়ে যে ফর্ম তোলে নি তা জানাবে আগে ।
আদ্র আসলো ক্ষণিকের মাঝে । ওর কাজ নেই এখানে । মেঘা আর শাফাহ্ কে নিয়ে এসেছিলো শুধু । অফিস রুমে ছিলো এতক্ষণ ।
ও আসতেই তেড়ে গেলো শাফাহ্….
” ভাইয়া , দেখো মেঘা ফর্ম তোলে নি ! আমি কতবার বললাম , শুনছে না ও ।
আদ্র কেবলই মলিন উত্তর করলো ..
” তুলতে হবে না ।
ওর হাতে একটা পেপার । মেঘা চোখ বোলায় সেটার দিকে । বুঝতে বাকি রয় না । দীর্ঘ হাঁফ ছেড়ে বলে….
” লাভ নেই ভাইয়া , এই কদিনের জন্য ক্লাস করে কি হবে ?
” লাভ লস তোকে বুঝতে বলিনি ।
টুকটুকি , ফর্ম দে ।
শাফাহ্ বাড়িয়ে দিলো ওর কাগজটা । পিছু ফিরে শিশিরের উদ্দেশ্যে বললো….
” শিশির , তোর টাও দে না । ভাইয়া জমা দিয়ে দেবে ! বেকার তোকে আর ঝামেলা পোহাতে হবে না ।
শিশির তাকালো আদ্রের দিকে । তবে আদ্র তাকালো না । এতক্ষণেও চোখ তোলে নি । কপালে কেমন ভাঁজ । শাফাহ্’র আগ বাড়িয়ে বলা কথায় বোধহয় বিরক্ত হলো । আদ্র জমা দিলে একটু হলেও রেহাই পাবে মেয়েটা । নয়তো ঝামেলা পোহাতে হবে আলাদা করে । সময় পার হবে অনেকটা । হাতে সময় নেই । আদ্রের বিরক্তি বুঝে দোনামোনা করলো মেয়েটা….
” থাক, আমি দিয়ে আসছি !
কথা শেষ হতেই আদ্র ওর দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো । চোখ নিচু করেই রাশভারী গলায় বললো….
” দাও….
রক্ষা পায় মেয়েটা । তড়িঘড়ি করে ওর হাতে কাগজটা ধরিয়ে দিয়ে বলে…
” থ্যাংক ইউ স্যার !
আদ্র বিপরীতে কিছুই বললো না । গুরুভার কন্ঠে না তাকিয়েই বললো….
” তোরা গেটের বাইরে যা , আমি আসছি ।
,,,,,
রমনীরা গেটের বাইরে অপেক্ষমাণ । মিনিট কয়েক পেরিয়েছে । শিশির চঞ্চলা হয়ে বারংবার এপাশ ওপাশ তাকাচ্ছে । হাতে মুঠো ফোনটা । খচখচ করছে সে । কেউ একজনের আসার কথা । ঐ যে ওর হবু স্বামী । হঠাৎ আজ কথা হলো তার সাথে । সে নাকি শিশিরের সাথে দেখা করবে । এর আগে কথা হয় নি । আজ সকালে ফোন করেছিলো । বললো বাইরে দেখা করতে ।
সেই তাগিদেই শিশিরের বের হওয়া হয়েছে আজ । একেবারে ভার্সিটির কাজটাও গুছিয়ে নিলো । তিনি বলেছিলেন গেটের বাইরে অপেক্ষা করতে । দুপুর বারোটার দিকে আসবেন । কিন্তু এখন বাজে বারোটা বিশ । আসার কোনো নাম গন্ধ নেই । শিশির নিজে থেকে ফোন ও দেয় নি । ফোন হাতে নিয়ে উশখুশ করছে । যদি লোকটা একবার ফোন করে , তাহলে অন্তত জানতে পারবে তিনি কতদূরে আছেন ।
মেঘা আর শাফাহ্’র সামনে ইতস্তত সে ।
বারবার রাস্তার এপাশ ওপাশ তাকাতেও কেমন অস্বস্তি লাগছে । বাকি দুই রমনী ঠোঁট চেপে দেখছে ওর উদ্বিগ্নতা । হবু স্বামীর সাথে দেখা করার জন্য কতটা ব্যাকুল এই মেয়ে ।
আদ্র পার্কিং থেকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছে । রাস্তায় উঠে একপাশে থামলো সে । গাড়ির সামনের উত্তল দর্পণে ভেসে ওঠা পিছনে তিন রমনীর দিকে তাকালো । শাফাহ্ দৌড়ে গিয়ে বলে আসলো…যেনো একটু অপেক্ষা করে । শিশিরের ফিয়ন্সে আসবে । দেখা করবে ওরাও ।
এটুকুই যথেষ্ট ছিলো শান্ত ছেলেটার মন মস্তিষ্কে অশান্তির বীজ বপনের জন্য । ক্ষণিকেই যেনো দপ করে জ্বলে উঠলো মস্তিষ্ক । চোয়াল হয়ে আসলো শক্ত । এতক্ষণ নিজের উপর চরম বিরক্ত ছিলো সে । ঐ বেয়াদব মেয়েটার উপস্থিতিও কেমন অস্থিরতা সৃষ্টি করছিলো । তাইতো তাকায় নি একবারও । সব উচাটন সামলাতে চোখ নামিয়ে রেখেছিলো ।
কেমন অস্বস্তি হচ্ছে । ঐ মেয়েকে নিয়ে হঠাৎ কিসের এতো মাথা ব্যথা ওর ? কেনো এতো খারাপ লাগে ? এ কদিনে মাথাটা পুরো ঝালাপালা করে দিয়েছে ঐ বেয়াদব টা ।
দুহাতে স্টিয়ারিং শক্ত করে চেপে ধরলো আদ্র । দাঁতে দাঁত পিষে চোখ খিচে বন্ধ করলো । সিটে মাথা এলিয়ে মুখ গোল করে শ্বাস ফেললো আলতো মাথা ঝাঁকিয়ে । বোঝালো নিজেকে । আর ভুলেও তাকাবে না ওদিকে । ঐ মেয়ের কথা ভাববেও না । যে মেয়ের নামটা অবধি মনে থাকে না , সেই মেয়েটাই পুরো মন মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়ে পুরোটায় দখলদারী চালিয়ে বসে আছে । উদগ্রীব করে ছেড়েছে সটান এই যুবককে ।
আজব তো , আগে এমন হতো কই ? ওর বিয়ের বার্তা পাওয়ার পর থেকেই এ কি অনাচার শুরু হয়েছে ?
পেছনে তিন রমনী দাঁড়িয়ে । ক্ষণিকের ব্যবধানে একটা বাইক এসে থামলো ওদের সামনে । বাইকে দু’জন । সামনের জন মাথার হেলমেট খুলতেই ধক্ করে ওঠে শিশির । এতো সেই লোক , যাকে সেদিন ও এক পলকে দেখেছিলো । এই সেই লোক , যার অপেক্ষায় অধীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ও এখানে । #আয়ান ,, নামটা অস্ফুটে বিড়বিড় করে শিশির ।
আয়ানের পেছনে আরো একজন । কেমন উশৃঙ্খল পোশাকে বখাটে দুটোই । শিশির আড়চোখে মেঘা আর শাফাহ্ কে দেখে । এক ধাপ এগোয় অতঃপর । বাইকটার পাশে দাঁড়াতেই কাঙ্ক্ষিত ছেলেটা চিবিয়ে বলে হুট করেই ….
” উঠে বস !
তৎক্ষণাৎ কপালে ভাঁজ পড়ে শ্যামলিনী কন্যার । বুঝে পায় না । অস্ফুটে উচ্চারণ করে….
” জি ?
” বাইকের পেছনে ওঠ , লং ড্রাইভে যাবো তোকে নিয়ে ! এই টনি , চেপে বস একটু । তোর ভাবি বসবে তোর পিছে…
মুখ খানা কুঁচকে আসে শিশিরের । এমন ব্যাবহার আর কথার মানে বুঝলো না সে । ফোনে যখন কথা বললো , তখন তো ঠিক ভাবেই কথা বলেছে । এখন এভাবে কথা বলছে কেনো ?
পেছনে শাফাহ্ আর মেঘাও কপাল কুঁচকে সরু করেছে । একে অপরের দিকে তাকালো ওরা । এটাই তাহলে শিশিরের ফিয়ন্সে ? কেমন বখাটে ছাপ স্পষ্ট চেহারায় । পোশাক আশাকের ঠিক নেই । দুহাতের দশ আঙুলে দশটা আংটি । হাতের কব্জিতে অগনিত পেঁচানো রুপোলি চেন । গলায় আরো দুটো । এখানে ওখানে বখাটেদের উৎপাত দেখেছে শাফাহ্ আর মেঘা । সেসব বখাটে দের থেকে কোনো অংশে কম নয় এরা । ভাবসাব আর চেহারা সুরত এক ।
তাজ্জব বনলো ওরা । শিশির ও তাই । সেও বিস্ময়ে হতবাক । আগের দিন যখন আয়ান কে দেখলো , এভাবে দেখে নি । বেশ পরিপাটি ভদ্র সভ্য সাজপোশাকে দেখেছিলো । ঢোক গেলে মেয়েটা । ঠোঁট ভিজিয়ে বলে….
” আপনার সাথে দেখা করার কথা ছিল , ডেকেছিলেন আপনি । বলেছিলেন কিছু বলার আছে । যা বলবেন এখানেই বলুন , আমি বাড়ি ফিরবো ।
পেছনের ছেলেটা কেমন করে হাসে । সেই শুরু থেকেই বিশ্রী নজরে চেয়েছিলো শিশিরের দিকে ।
এবার তাকালো শিশিরের পেছনে শাফাহ্ আর মেঘার দিকে । কেমন গা দুলিয়ে বিশ্রী ভঙ্গিতে হাসলো আবারো । দুই রমনী কে আগাগোড়া পরখ করতে করতে বাজে ইঙ্গিতে বললো….
” আরে মামা , আগে বলবি তো ! তোর পাখির সাথে দেখি আরো দুটো পাখি এক্সট্রা আছে এখানে । আমি না হয় আমার বাইকটাও নিয়ে আসতাম । শুধু তুই কেনো লং ড্রাইভে যাবি ? আমিও যাবো ! তোর সাথে একটা , আর আমার সাথে না হয় দুটো মাল যেতো ! উফফফ , দেখেছিস মাল দুটো ? কড়া না ? একেবারে খাসা হতো ওদের সঙ্গ নিতে….
বিশ্রী নজরের সাথে সাথে এমন বাজে কথায় ঘৃণায় মুখ বিকৃত হয়ে আসে মেঘার । চোখ মুখ খিচে ফোঁস করে ওঠে । হিসহিসিয়ে এগিয়ে শিশিরের পাশাপাশি দাঁড়ায় । রেগে বলে দাঁত চেপে….
” হোয়াট রাবিশ ,, এসব কি ধরনের বিহেভিয়ার ? মাইন্ড ইউর ল্যাংগুয়েজ ।
আর ভাইয়া , আপনি শিশিরের সাথে দেখা করতে এসেছিলেন তো । আপনার ফ্রেন্ড এসব কি বলছে ? আপনি চুপ করে আছেন কেনো এভাবে ?
আয়ানের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই । বরং ওর দৃষ্টি আরো তীক্ষ্ণ হলো রমনীর শরীরের ভাঁজে । পা থেকে মাথা অবধি পরখ করলো লোলুপ দৃষ্টিতে । লতানো কোমরের মাঝামাঝি দৃষ্টি আটকে চিবুক চুলকে বললো…
” উফফফ , জোস তো । কি ফিগার মাইরি । তেজ ও আছে দেখছি । শালি সুন্দর আছোস ! এক্কেরে খাসা সুন্দর ।
আর এটাকে দেখ , আস্ত একটা বস্তি । কি জুটলো আমার কপালে । মা যে কোনদিক থেকে এই বস্তি টাকে আমার জন্য বাছাই করলো কে জানে । বড়টা তবু চলে । আবিদের ভাগ্যেই ভালোটা জোটে সবসময় । আর আমার ভাগ্যে এই পঁচা মাল । ছ্যাহহ্ , এরে নিয়ে মজাটাই আসবে না ।
শেষের কথা গুলো শিশিরের উদ্দেশ্যে । মেয়েটা কেবলই মূর্ত বনে অবিশ্বাসে চেয়ে । চোখ যেনো অবিশ্বাসে ছানাবড়া । কথা গুলো শুনে শরীর খানা কেমন ঝাঁকুনি দিয়ে ওঠে । মেঘা এবার তাকায় শিশিরের দিকে ।
” শিশির,, এসব কি হচ্ছে ? এই ননসেন্স, উশৃঙ্খল বখাটে ছেলেটার সাথে তোর বিয়ে ? হাউ পসিবল ?
মেঘার কন্ঠে একরাশ অবিশ্বাস ।
এদিকে আদ্র সিটে মাথা এলিয়ে উইং মিররের দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে আছে শান্ত চোখে । বাইকের ছেলে দুটো পিঠ ফিরিয়ে উল্টো দিকের পথে । ওদের মুখ দেখার উপায় নেই । আদ্র তো এক চোখে দেখছে অদূরে দাঁড়ানো শান্ত মেয়েটার দিকে । ওরা কি কথা বলছে তাও বোঝার জোঁ নেই । ক্ষণে ক্ষণে শ্বাস পড়ছে বুক চিরে ।
এক পর্যায়ে দৃষ্টিতে ঘন পলক ফেললো । এতক্ষণ ধরে কি কথা বলছে ওরা ? জানতে তৎপর হয়ে উঠলো তার বিচলিত মন । দেখতেও চাইলো সেই ছেলেটাকে , যার সাথে এই বেয়াদব মেয়েটার বিয়ে । কি যেনো নাম ও মেয়েটার , মনে করতে গিয়ে খেই হারালো । জিভে ডগায় নামটা ঘুরছে , তবে উচ্চারণ হচ্ছে না । মনে আছে , মুখে নেই । আদ্র চোখ বুজে বিড়বিড় করলো…
” ইয়াহহ্ , ভেঁজা বেড়াল । ভেজা ,, শিশির ! আ’ম রাইট ? বাট বেয়াদব । হিটস পারফেক্ট…
আয়ান চোয়াল খিচে শিশির কে আবার আদেশ করে ।
” বাইকে উঠ । আমার অন্যান্য ফ্রেন্ডরা দেখা করবে তোর সাথে । আমাদের আড্ডা খানায় নিয়ে যাবো তোকে । জলদি উঠে বস পেছনে ।
শিশির তাকায় বাইকের দিকে । আয়ানের পেছনে ছেলেটা । ও বসবে কোথায় ? আর যাবেই বা কেনো ?
কন্ঠের রোধ আর চোখের অবিশ্বাস ঠেলে শক্ত হলো মেয়েটা , ঘন পলক ফেলে চোখের ঝাপসা ভাব দূর করলো ….
” যাবো না আমি । মেঘা , চল এখান থেকে ।
শিশির মেঘার হাত ধরে । অহমিকায় পা বাড়ায় উল্টো পথে । অমনি বাইকে বসে থেকেই ওর বাম হাতটা খপ করে টেনে ধরে আয়ান । কেঁপে ওঠে রমনী । থরথর করে কম্পিত হয় পুরো শরীর । ঝট করে মেঘার হাত ছেড়ে তড়াক করে তাকায় আয়ানের দিকে । ততক্ষণে ও বাইক থেকে নেমে পড়েছে । শিশিরের মুখোমুখি উঠে দূরত্ব ঘুচলো কিড়মিড় করে । ভড়কে পেছায় রমনী । আয়ান চিবিয়ে বলে….
” এইই বস্তি ,,, কোথায় যাচ্ছিস ? বলেছি না তুই আমার সাথে যাবি ? আমার সাথেই যাবি তুই…
তোর সাহস তো কম নয় , আমায় ইগনোর করে চলে যাচ্ছিস ?
আদ্র দেখেছে এটুকু । ছেলেটা যেইনা শিশিরের হাত খামচে ধরলো , তেড়ে গেলো ওর দিকে । সেই তৎক্ষণাৎ আদ্র গাড়ি থেকে নেমেছে ধড়ফড়িয়ে ।
শিশির নিজের হাত মুচড়ে ছাড়াতে চেষ্টা করে বলে…
” ছাড়ুন আমায় ,, দেখুন বিয়ে হয় নি আমাদের এখনো । আপনি বলেছিলেন আমার সাথে কিছু কথা বলার আছে আপনার । তাই আমি বাইরে বেরিয়েছি । আপনার সাথে অন্য কোথাও যাওয়ার জন্য নয় । মুখের ভাষা ঠিক করুন ,, অসভ্যতামো করবেন না । ছাড়ুন আমার হাত ।
আয়ান না ছেড়ে আরো শক্ত করে চেপে ধরে । ধাপে ধাপে মেয়েটার দিকে এগোয় , বিপরীতে উল্টো পায়ে পেছায় মেয়েটা । রাস্তার খাঁজে পা উঁচু নিচু হয়ে টাল হারাতে পারে যেকোনো সময় ।
আয়ান ক্ষুব্ধ । খুব কাছাকাছি থাকায় , মদ আর সিগারেটের বিশ্রী গন্ধ অনুভব করতে পারছে শিশির । অপ্রত্যাশিত স্পর্শ আর এমন বিদঘুটে গন্ধে গা গুলিয়ে আসার দশা । কেমন রি রি করে উঠলো রমনীর কোমলাঙ্গ । স্পর্শ টুকু বড্ড তিক্ত লাগছে ।
আচমকা সেই তিক্ততা থেকে রেহাই পায় শ্যামলিনী কন্যা । এক ঝটকায় ওর হাত সেই বখাটে ছেলেটার থেকে ছাড়িয়ে নেয় কেউ ।
আয়ানের হাতটা এক ঝটকায় উপড়ে ফেলার ন্যায় ছিটকে ফেলে হে । আকস্মিক জোরে পিছিয়ে যায় আয়ান । আদ্র শিশিরের সামনে দাঁড়িয়ে ওকে নিজের সুঠাম দেহের আড়াল করে রাগে হিসহিসিয়ে ওঠে বজ্রকণ্ঠে…..
” ইউ বাস্টার্ড ,,, তোর সাহস কি হয় ওকে ছোঁয়ার ?
একসাথে চমকায় তিন রমনী । এক মুহুর্ত থেমে আদ্র আবারো চেঁচিয়ে ওঠে….
” জানোয়ার ,, হাত ভেঙে গলায় ঝুলিয়ে রাখবো , যদি দ্বিতীয় বার ওকে টাচ করার চেষ্টা করিস তবে ! বাস্টার্ড….
আদ্রের হুংকার পৌঁছেছে অদূর পর্যন্ত । আয়ান থতমত খেলো । ভড়কালো । আশপাশের লোকজন সহ গুটিকয়েক স্টুডেন্ট থেমে তাকিয়েছে এদিকে । সিকিউরিটি গার্ড বেরিয়ে আসলো গেটের সামনে থেকে । আদ্র কে দেখেই বিনয়ী হয়ে মাথা নামালো । ধমকালো আদ্র….
” সিকিউরিটি ,,, ভার্সিটির বাইরে দাঁড়িয়ে ভার্সিটির স্টুডেন্ট কে উত্ত্যক্ত করা হচ্ছে । চোখ কান কোথায় থাকে আপনাদের ? থ্রো দিজ আনরুলি বয়েজ আউট অফ মাই সাইট !
তৎক্ষণাৎ আদেশ তামিল হলো । আয়ান কিছু বুঝে ওঠার আগেই সিকিউরিটি গার্ডরা চেপে ধরলো ওকে । ওর বন্ধু কেও ছাড়লো না । বাইক রেখে পুরো ভার্সিটি চত্বরের বাইরে ছুড়ে ফেলা হলো ওদের । ফিরে এসে মাথা নুইয়ে ভুল স্বীকার করলো….
” সরি স্যার ,, আমরা দেখতে পাই নি । নেক্সট টাইম আর ভুল হবেনা ।
শিশির মাথা নুইয়ে রেখেছে । জমে এসেছে পুরো শরীর । কেমন শিরশির করছে । মেঘা ওর কাছে গিয়ে ঝাঁকায় ওকে….
” শিশির , আর ইউ ওকে ?
মেয়েটা কেবল নড়েচড়ে ওঠে ।
এতক্ষণে পিছু ফেরে আদ্র । মেয়েটা কে চিবুক নুইয়ে থাকতে দেখে দীর্ঘ পলকে তাকায় । কেমন রাগ লাগছে । এই মেয়েটার উপর আরো বেশি ! ঐ ছেলেটা এর ফিউচার হাজবেন্ড ? ভাবতেও মাথা চক্কর দিচ্ছে ।
নিজেকে সংবরণ করে চড়া গলায় আদেশ করলো সে…
” মেঘ , গাড়িতে উঠে বস তিনজনে ।
এই বলে গটগটিয়ে পা বাড়িয়ে গাড়িতে উঠে বসলো নিজে ।
,,,
গাড়িতে উঠেই মেঘা দম খিচে প্রশ্ন করলো শিশিরের হাত টেনে ধরে……
” এসব কি হলো শিশির ? ঐ ছেলেটার সাথে তোর বিয়ে ? মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোর ? ও একটা বখাটে, বাজে ছেলে । তুই জানতিস না এসব ?
গাড়িতে কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে বসে রমনী । যেনো বিশাল বড় শক্ খেয়েছে আজ । নড়ছে না । পলক ও ফেলছে না চোখে । দীর্ঘ সময় বাদ বাদ ধীরে ধীরে চোখ নিভছে । ঘোলাটে হয়ে আসছে চোখ জোড়া । মেঘার প্রশ্ন শুনলো সে । নিজেও তো দেখলো ! লজ্জায় চিবুক নুইয়ে আসছে ।
আজ কি দেখলো ? এতে কি বুঝলো ? ঐ লোকটার সম্পর্কে কিছু জানা ছিলো না !
এই লোক যে এমন হবে , তা ওর কভু কল্পনাতেও ছিলো না । যেদিন আংটি পড়ালো , সেদিন আবিদ বলেছিলো যেনো শিশির এই বিয়েটা না করে । অনেক কথা কাটাকাটি হয়েছে সেদিন ও । আজ শিশির ভালো মতোই বুঝতে পারছে , আবিদ সেদিন কেনো এই বিয়েতে অসম্মতি দেখিয়েছিলো । আবিদ তার ভাইয়ের সম্পর্কে কিছু বলে নি , বোঝানোর চেষ্টা করেছিলো না বলেই । ওর না বলা কথা গুলো বোঝেনি শিশির । ইকরার কথা ভেবে নিজের দিকটা না ভেবেই অন্য কারোর নামের আংটি হাতে পড়েছে । এখন বিয়েও হবে । বাকি নেই বেশিদিন । আর এখন এসবের সম্মুখিন হলো সে ? নিজেকে বোঝাতে ব্যস্ত রমনী । মনে হচ্ছে সব ভুল । কিন্তু তা নয় ।
মেঘা আবার ওকে ঝাঁকায়…
” কি রে বল , কি করে এই বিয়েতে রাজি হয়েছিস তুই ? ঐ ছেলেটার সম্পর্কে কিছু জানিস না ?
শিশির কেবল ঠোঁট ফাঁক করে অস্ফুটে বিড়বিড় করে….
” নাহহ…
” হোয়াট ? না জেনেই বিয়ে টা হচ্ছে ? তেইশ তারিখ তোর বিয়ে , আর তুই এখন এসব….
শিশির , বুঝতে পারছিস ? ঐ ছেলেটা ভালো নয়….
” গাড়ি থামান স্যার , আমি নামবো ।
এক বাক্য । মেয়েটার কন্ঠ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে আসছে । গলায় দলা পাকিয়ে আটকাচ্ছে নিঃশ্বাস । জ্বলছে দুচোখ । যখন তখন পানি গড়াবে । কিন্তু এ দুচোখের আবার সহজে ঝর্না নামানোর অভ্যেস নেই । নির্জনতা প্রয়োজন ।
আদ্র নিরেট চোয়ালে ড্রাইভ করছিলো । দৃষ্টি ছিলো ফ্রন্ট মিররে । দপদপ করে আগুন জ্বলছে মাথায় । চোখ হয়ে উঠেছিলো রক্তিম । রক্তবর্ণ চোখের ক্ষোভ ঢাকার জন্য গাড়িতে উঠেই চোখে সানগ্লাস লাগিয়েছে ।
এখনো আছে তা । শিশিরের এক কথাতেই বিনা বাক্যে গাড়ি থামালো সে । মেয়েটা গাড়ির দরজা খুলে নামতে গেলে শাফাহ্ বাঁধা দেয়….
” এইই শিশির , এখানে মাঝ রাস্তায় নামছিস কেনো ? ঠিক নেই তুই….
” আ’ম ওকে শাফাহ্ । ডোন্ট ওয়ারি । চলে যেতে পারবো একা । তোরা যা । খুব শীঘ্রই তোদের বাড়িতে আসবো । বিয়ের দাওয়াত নিয়ে….
এটুকুনি বলে ছলছল চোখে চেয়ে মুচকি হাসলো মেয়েটা । বাঁধা উপেক্ষা করে নামলো গাড়ি থেকে । একটা রিকশা ডেকে উঠে পড়লো সেটায় । হুড তুলতেই হেঁচকি উঠলো গলা চিরে । চোখ ছাপিয়ে সকলের অগোচরে টুপ করে গাল ভিজলো । রিকশা ওয়ালা শুধালেন….
” কোথায় যাবেন আপা ?
দম খিচে নেয় রমনী । জবান রুদ্ধ । উত্তর করার শক্তি নেই । হাতে ইশারা করে সামনের রাস্তা দেখালো । রিকশা চালক চলতে নিলেই ভরাট ডাক পড়লো পিছন থেকে….
” দাঁড়ান !
থামলেন রিকশা চালক । আদ্র এগিয়ে আসলো । গাড়ি থেকে নেমেছে শিশির রিকশায় ওঠার সাথে সাথে । মেয়েটার কাঁধে ঝোলানো ভারী ওরনার একপাশ নিচে নেমে এসেছে বাঁধন ছুটিয়ে । চাকা ছুঁই ছুঁই হয়ে ঝুলছে । ঢুকে যেতে পারে । অঘটন ঘটার আগে আদ্র এসে ওরনার এক কোণা ধরে সরিয়ে নিয়ে আসলো । পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হুড ছাপিয়ে চোখ তুললো শিশিরের পানে । অমনি রমনীর ভেজা চোখ মুখ দেখে আঁতকে উঠলো সে । মেয়েটা হাতের উল্টো পিঠে গাল মুছে নেয় আদ্র কে দেখে ।
এক পলকেই যেনো ভেজা চোখ দুটোতে কত বিষন্নতা খুঁজে পেলো আদ্র । শিশির ওরনা সামলে নেয় । নিজেকে স্বাভাবিক দেখিয়ে তাড়াহুড়ো করে বলে….
” ধন্যবাদ স্যার ,,
মামা চলুন আপনি ।
রিকশা চালক থামলেন না । মূর্ত বনে থমকে যাওয়া আদ্র কে রেখেই চলে গেলেন পাশ কাটিয়ে ।
★
আজকাল আর বৃষ্টি হয় না । ঠান্ডা নেমেছে প্রচন্ড ।
জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ চলে । সন্ধ্যায় পুরো পরিবারের আড্ডা মজেছে । মেঘা সেই কবে থেকে রান্না শিখতে চায় রুবিনা কাবিরের থেকে । মাঝে রুবিনা কাবির শেখাতে চাইলেন , পরে আর শেখানো হয় নি ।
রান্না করবে করবে করেও করা হয় না মেঘার । আজকাল গুটিয়ে রাখে নিজেকে । নিচেও নামে না । কাল ভার্সিটি থেকে ফেরার পর ঐ যে ঘরে উঠেছে , আর নামে নি । ওর খাবার ঘরেই পৌঁছানো হয় ।
তবে আজ সন্ধ্যায় রুবিনা কাবির নিজে ডেকে নিচে নামিয়েছেন মেঘা কে ।
কাল থেকে মেয়েটা আরো বিষন্ন শিশিরের চিন্তায় । ওর সাথে কন্টাক্ট হয় নি আর ।
কিচেনে বাহারি পিঠা বানাতে ব্যস্ত দুই গিন্নি । সিরাত আর মেহের ও আছে । মেঘাও যোগ দিলো । হরেক রকম পিঠা বানানো হবে ঠান্ডার এই মৌসুমে ।
চিতই বানানো হয়েছে কতগুলো । সিরাত নকশী পিঠার নকশা বুনছে মেহের কে সাথে নিয়ে । চুলার একপাশে ভাপা পিঠা বানাচ্ছেন শাহিনা কাবির । অন্যপাশে দুধ জ্বাল করছেন রুবিনা কাবির । মেঘা একে একে সবাইকে দেখলো চোখ গোল করে । গায়ের চাদরটা ভালোভাবে টেনে নিয়ে রুবিনা কাবিরের কাছ ঘেঁষে দাঁড়ালো । পেছন থেকে কাঁধের কাছে থুতনি ঠেকিয়ে জানতে চাইলো….
” দুধ জ্বাল করে কি করবে মা ?
” দুধ চিতই !
” ওও , আমার ফেভারিট !
মুচকি হাসলেন ভদ্রমহিলা । দ্বিধাহীন বললেন….
” রৌদ্র ও খুব ভালোবাসে ।
অমনি মুখ চুপসে গেলো মেঘার । চোখ নামিয়ে সরে আসলো । শাহিনা কাবির একে একে ভাপা পিঠা বানাচ্ছেন আর ড্রইং রুমে পাঠাচ্ছেন ।
দুই কর্তা সহ ছেলেরা খাচ্ছে ওখানে । প্লেটে আর কয়েকটা পিঠা তুলে মেঘার দিকে বাড়িয়ে দিলেন তিনি….
মেঘা সেসব নিয়ে বেরিয়ে আসলো কিচেন থেকে । সোফার একপাশে বসলো । আদ্র খাচ্ছে না । তা দেখে ধীরে শুধালো….
” ভাইয়া , খাবে না তুমি ?
” উঁহু ।
ছোট্ট জবাব । মন উতলা ।
একটু পর চাপা স্বরে নিজে জানতে চাইলো হাজার ইতস্ততা ঠেলে….
ডাকলো প্রথমেই…
” মেঘ ?
মেঘা চেপে বসে । উত্তর করে…
” হু ?
” ঐ যে , ঐ মেয়েটা । ওর নাম যেনো কি ?
” কোন মেয়েটা ?
” কালকের জন ! কি যেনো নাম , ভুলে গেছি !
” কে , শিশির ?
” হু । শিশির ! কথা হয়েছে ওর সাথে ? ঐ স্কাউন্ড্রেল ছেলেটার সাথে ওর বিয়ে ?
মেঘা মুখ কালো করে দীর্ঘ হুতাশ হয়ে বললো…
” কথা হয় নি ভাইয়া । কাল থেকে ফোন করছি , ধরছে না ! আর বিয়েটা তো ওর ফ্যামিলি থেকে ঠিক করা । ঐ ছেলেটা যে অমন , শিশির তো জানতোও না বোধহয় । তুমি জানো , শিশির ওর আপুর জন্য এই বিয়েতে রাজি হয়েছে । ঐ ছেলেটাকে ও চেনেও না । কাল সেকেন্ড টাইম মিট করেছে ওরা । তাও ছেলেটা নিজে ডেকেছিলো । আর এই বিহেভিয়ার , আমার তো ভাবতেই অবাক লাগছে ! ভয় হচ্ছে । শিশির কি করবে এখন ?
” কি আবার করবে ? বিয়ে করবে না,ব্যস ! ও এডাল্ট একটা মেয়ে । সবকিছু জেনে, নিজ চোখে ঐ ছেলের ব্যাড সাইট দেখার পরও এই বিয়ে করবে ও ?
” করবে ভাইয়া , তুমি শিশির কে জানো না । ওকে যতটা নরম দেখো, তার থেকেও বেশি নরম ও । ওকে আমরাই এখনো অবধি বুঝতে পারি নি ঠিকমতো ।
আদ্র আর কিছু বললো না ।
খাওয়ার মাঝে সবার নীরবতা ভাঙলো বেপরোয়া ছেলের বিচলিত স্বরে….
” হেয়য়য় গাইসস , কি হচ্ছে এখানে ? সবাই একসাথে ,, কি খাচ্ছো ?
বলতে বলতে এসে বসলো সোফায় । এই ঠান্ডাতেও শরীরে উষ্ণ কাপড় নেই । জ্যাকেট ছিলো , খুলে কাঁধে ঝুলিয়ে বাড়িতে ঢুকেছে । এলোমেলো চুল গুলো কপালের এখানে ওখানে লুটোচ্ছে । বসেই শব্দ করে হাঁফ ছাড়লো । যেনো খুব ক্লান্ত । শাফাহ্ একপাশে চুপচাপ বসে ছিলো বড়দের মাঝে । রৌদ্রের কথায় প্রত্যুত্তর করলো সে…..
” পিঠা খাচ্ছি ভাইয়া , খাবে ?
” কি পিঠা ?
” ভাপা ! আরো আছে…
রৌদ্র মেঘার দিকে তাকায় । আদ্র কে ওর পাশে দেখে মাড়ি খেঁচে । রমনীর ভাবান্তর নেই । ঠোঁট বাঁকিয়ে হাঁক ছাড়লো রৌদ্র…
” মম , ঝাল পিঠা নেই কোনো ? অনেক দিন ধরে মিষ্টি খাওয়া হয় না ! একটু মিষ্টি খাওয়ায় ফিলিংস হচ্ছে মম । ঝাল ঝাল কিছু নিয়ে এসো তো ।
নিমিষেই কটমট করে তাকায় মেঘা । বাঁকা হাসি প্রগাঢ় হয় বেপরোয়া লোকটার ঠোঁটে । না বুঝে বলে শাফাহ্….
” মিষ্টি খাবে , তাহলে ঝাল পিঠা কেনো খুঁজছো ভাইয়া ?
” ও তুই বুঝবি না । ঝাল কিছু খাওয়ার পর মিষ্টি খেতে হয় , তাই না সুইটহার্ট ?
মেকি স্বরে রসিকতা ।
নীরবে ভিড়মি খায় রমনী ! আদ্র আড়চোখে মেঘার দিকে তাকায় । দুই কর্তা নিশ্চুপ । ছেলের অযথা ভেঙ্গানো কথায় কান দিলেন না ।
রৌদ্রের সামনে থাকবে না মেঘা । সে উঠে দাঁড়ায় । ধুপধাপ পা ফেলে প্রস্থানের জন্য সিঁড়ির দিকে এগোতেই রৌদ্র নিজেও উঠে দাঁড়ায় । রমনীর পিছু নিতে নিতে বলে সবাইকে শুনিয়েই….
” আ’ম কামিং ওয়াইফি….
সিঁড়িতে পা মিললো দুজনার । মেঘার বন্দি খোঁপার কাঁটা টেনে বের করে রৌদ্র । উত্তাল কুন্তল অবিন্যস্ত হয়ে ঝাপাতে সময় লাগে না । তবুও রমনীর হেড়ফের নেই । সে নির্জিব । রৌদ্র কপাল কুঁচকে নেয় , আবেশিত হয়ে বলে রমনীর পিছু নিয়ে…
” হোয়াট হ্যাপেন্ড MP ,, মুখ ভার কেনো ?
তৌসিফ কাবির নিচ থেকে বেপরোয়া ছেলের কর্মকাণ্ড নীরবে পরখ করে বলেন ভাইয়ের উদ্দেশ্যে….
” মেঘা কে দূরে থাকতে বলছিস , অথচ নিজের ছেলে ? এই ছেলেকে আটকাবি কি করে তুই ?
নিরুত্তর তোফায়েল কাবির ।
মেঘা পায়ের গতি বাড়িয়ে দ্রুত কদমে ঘরে ঢুকেছে । দরজা আটকাতে গেলে রুখে দাঁড়ালো রৌদ্র । তবুও চোখ তুললো না রমনী । রৌদ্র দরজা ঠেলে ঝুঁকে বলে….
” হোয়াট সুইটহার্ট ,, কিছু বলছিস না কেনো ?
কদিন ধরে দেখছি কথা বলছিস না ! তাকাচ্ছিস না আমার দিকে ! কি হয়েছে ?
মেঘা সরে আসে । ব্যালকনিতে গিয়ে বুকে হাত গুটিয়ে দাঁড়ায় নিরেট ভঙ্গিতে । রৌদ্র সেখানেও পিছু নেয় ।
” এইইই ইভারা , কি হয়েছে জান ? রেগে আছিস কোনো কারনে ? ওও সরি , রেগে আছো কোনো কারনে ? কি করেছি আমি , বলো ?
এবার চুপ না থেকে চিবিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করলো মেঘা…..
” রাইনো মুখো ,, দেখছেন না আমি আপনাকে ইগনোর করছি ? তবুও কেনো ঘুরছেন আমার পিছু পিছু ?
” ইডিয়ট ,, তুই দেখছিস না আমি তোর ইগনোর পেয়ে মরে যাচ্ছি ? কেনো করছিস এভাবে ইগনোর ? কষ্ট হচ্ছে যে ভীষণ । সহ্য হচ্ছে না আর । প্লিজ আমাকে এড়িয়ে চলিস না এমন করে । আমি পারি না সহ্য করতে । আই ডেসপারেটরি ওয়ান্ট ইউর এটেনশন জান পাখি…..
” বেরিয়ে যান আমার রুম থেকে ! প্লিজ , একলা থাকতে দিন আমায় ! আমি বিরক্ত হচ্ছি আপনার উপর ।
” কি হয়েছে ? সেদিন থেকে এভাবে এড়িয়ে চলছিস আমায় ! ঐ লোকটা কি বলেছে তোকে ? বকেছে ? একবার বল শুধু ! তুই তোর হাজবেন্ডের সাথে ছিলি সেদিন , ওনার কি এসে যায় এতে ?
” ……
” ইভারা ,, স্পিক আপ ,,,
রাগ প্রকাশ পেলো এবার । মেঘার বিমুখতা দেখে রাগ বাড়লো । কনুই চেপে নিজের দিকে ঘোরালো ওকে । দাঁত পিষে বললো….
” এইই ইডিয়ট , কি চাই তোর ?
” আপনার থেকে মুক্তি । কজ , আই হেইট ইউ…
রমনীর দ্বিধা হীন তেজি উত্তর ।
” এ জীবনে এ চাওয়া টা আর পূরণ হবে না তোর ! কজ , আই ওয়ান্ট ইউ ।
” সমস্যা কি আপনার ?
” তুই ।
” তাহলে আমি নামক এই সমস্যার পিছে সবসময় পড়ে থাকেন কেনো ? লিভ মি…
” সলিউশন ও যে তোর মাঝেই নিহিত ! কি করে ছাড়ি ?তোর আসক্তি যে বড্ড নেশা , জান পাখি । কি করে বোঝাই তোকে..?
” গত পাঁচ বছর এই নেশা কোথায় ছিলো ? কোথায় ছিলো এই বেপরোয়া আসক্তি ? ঢং দেখাতে এসেছেন । দূরে যান আমার থেকে । খবরদার নাটক করতে আসবেন না ।
” উফফফ সুইটহার্ট ,, তোর নেশার আসক্তি যদি পাঁচ বছর আগে প্রকাশ করতাম না , তাহলে আর খুঁজেই পাওয়া যেতো না তোকে । রুডভিক কাবির রৌদ্রের বেপরোয়া আসক্তির তোপের মুখে পড়ার দম ছিলো তোর সেই বয়সে । এই বয়সে আছে ।
চলবে……..
Share On:
TAGS: আসবো ফিরে আবারো, মম সাহা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
আসবো ফিরে আবারো গল্পের লিংক
-
ভালোবাসি সুচরিতা পর্ব ২
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১৩
-
ভালোবাসি সুচরিতা পর্ব ২০
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২৬
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৩৪(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
ভালোবাসি সুচরিতা পর্ব ১১
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২৯+বোনাস
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২৮
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১২