প্রিয়তার_পূর্ণতা
Nadia_Afrin
৯
মলিন মুখে বিছানাতে বসে আমি।হঠাৎ ফোনে টুং করে বেজে উঠে মেসেজ টোন।
একটু কেঁপে উঠলাম।ফোন হাতে নিলাম।
একটি নাম্বার থেকে হোয়াটসআপে মেসেজ এসেছে।এই নাম্বার আমার পরিচিত।অয়ন ভাইয়ের নাম্বার এটি।বহুবার এই নম্বরে মেসেজ করতে চেয়েছি।কিন্তু পারিনি।ইতস্তত বোধ হয়েছে।অপর মানুষটির অনুভূতি সম্পর্কে বিন্দুমাত্র না জেনে মনের ভাব প্রকাশ করা উচিৎ নয়।এটা আমার নিজস্ব মতামত।
আজ অয়ন ভাই নিজে যেচে আমায় টেক্সট দিয়েছে।
লিখেছেন,’কেমন আছো প্রিয়তা?আমায় চিনেছো?অয়ন আমি।’
রিপ্লাই দিলাম,’চিনেছি।ভালো আছি।আপনি কেমন আছেন?’
‘আছি ভালোই।তা প্রিয়তা তুমি হঠাৎ কাউকে না জানিয়েই বিয়ে করে নিলে যে!’
বিব্রত বোধ করি।
বললাম,’ঐ আর কী বাড়ি থেকে পছন্দ হয়েছিল।’
অয়ন ভাই আমার নাম্বার চাইলো।দরকারি নাকি কথা আছে।
আসলে আমার এই নাম্বারটা বন্ধ।শুধু হোয়াটসআপ চালাই।
কী বলবো বুঝলাম না।এমনই সময় ডাক এলো।
বাইরে কেউ নক করছে।উঠে দাঁড়ালাম।
মা সহ সুমা আপু ও রিপা এলো ঘরে।
মা বিছানায় বসে বলল,”তোমার সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলতে এলাম।”
নম্র স্বরে জবাব দিলাম,”বলুন।”
মা চারপাশে তাকিয়ে বলল,”প্রলয় বাড়ি নেই এই সুযোগেই কথাটা পেড়ে বসি।ও আসলে আবার ঝামেলা করতে পারে।সব বিষয়ে কথা বলা স্বভাব আমার ছেলের।
যাকগে সেসব!
আসল কথায় আসি।শোনো বউমা বিয়েতে অনেক কিছুই উঠেছে উপহার।তোমার তো সর্ণ আছে অনেক।তাই উপহারে যা সর্ণ উঠেছে তোমার আর আমার রিপার মাঝে ভাগ করে দিয়েছি।মেয়েটার সামনে বিয়ে।
এই নাও তোমার ভাগের স্বর্ণ।”
মা আমার হাতে শুধুমাত্র দুটো আংটি আর একটা কানের দুল দিল।
অথচ বিয়েতে বেশ কিছু গোল্ড উঠেছে।চেইনই উঠেছে দুটো।আংটি উঠেছে পাঁচ-ছটা মতো।তিনটে আমার হাতেই দিয়েছিল।শাশুড়িমা আড়ালে নিয়ে গেছে সামলে রেখে দেবে বলে।
এছাড়াও দু-তিনটে ডাইমন্ডের নোসপিন উঠেছে।সেগুলোই বা কোথায়?
চুপ না থেকে মনে আসা প্রশ্ন গুলো করেই ফেললাম।
“আর সবকিছু কোথায় মা?”
মা একগাল হেসে বললেন,”নোসপিন গুলো আমার মেয়ের পছন্দ হয়েছে।ওটা ওরা নাকি নেবে।তোমার নাকে তো একটা আছেই।
আর চেইন দুটো একটা রিপার গলায়।অন্যটা দিয়ে ওর বিয়ের সময় জামাই নামাবো।”
আমি মাথা নুয়ে চুপ রইলাম।
মা আবারো বললেন,”আমাদের দিক থেকে আমরা ঠিক।অন্য কোনো শশুর বাড়ি হলে এতোক্ষণে এগুলো লুকিয়ে ফেলতো।
যাকগে!
আমাদের কাছে থাকা জিনিসগুলো তো তোমায় দিলাম।এবার তোমার কাছে যেগুলো আছে ভাগ করো।”
“আমার কাছে তো তেমন কিছু নেই মা।
শুধু কটা শাড়ি আর কিছু আসবাব আছে।”
“ওগুলোই সব ভাগ করো।আরে বুঝছোনা কেন বউমা?
সামনে মেয়ের বিয়ে।প্রচুর শাড়ি গহনা লাগবে।
এছাড়াও এখান থেকে আবার সুমার ভাগও রাখতে হবে।”
“সুমা আপুর ভাগ মানে?না মানে উনি তো এখানেই থাকে।”
“আরে বোকা মেয়ে এখানে থাকে মানে সারাজীবন এখানেই থাকবে নাকি?আমি ওমন মানুষ না যে বিবাহিত মেয়েকে বাড়িতে রেখে ছেলের বউয়ের অশান্তি করবো।
ওর স্বামী দেশে ফিরলেই নতুন বাড়ি করে চলে যাবে ওরা।আলাদা সংসার হলে লাগবে সব।এজন্যই গুছিয়ে রাখছে।”
আমি শুধু শুনে গেলাম।
মা দু-হাত হাঁটুর ওপর রেখে ঘাড়টা বাকিয়ে হতাশ স্বরে বললেন,”বুঝলে প্রিয়তা কম দুঃখে মেয়েটাকে নিজের কাছে আনিনি।কোনো মা ই কী চায় মেয়ে বিয়ে হয়ে বাপের বাড়ি পড়ে থাকুক?
ভালো ঘর,ভালো বর দেখে বিয়ে দিলাম।শেষে বের হলো বদের হাড্ডি।বিয়ের আগে খোঁজ নিতে গেলে সবাই বলেছিল সোনায় সোহাগা ছেলে-পরিবার।এখন ওসব লোকের মুখে ঝাঁটা মারতে ইচ্ছে হয়।
সোনা না ছাই।মা টা পাকা বজ্জাত।মহিলার স্বামী নেই তবুও কথা কমেনা।
মেয়েকে নিয়ে আমার মেয়েকে জ্বালিয়ে মেরেছে।
এখন একটু ঠিক হয়েছে।আগে খুবই জ্বালাতন করেছে আমার মেয়েকে।”
বললাম,”এমন মানুষকে আমার পছন্দ নয়।যারা অন্যের ওপর জুলুম করে,কষ্ট দেয়।
ছেলেকে বিয়ে করিয়ে পুত্র বধুকে দাসী বানাতে চাওয়া মানুষগুলো কখনো ভালো থাকতে পারেনা।”
“হুম ঠিকই বলেছো বউমা।এজন্য ওরাও ভালো নেই।উনার মেয়েটা টাকার অভাবে পড়া বাদ হয়েছে।আর তারও অসুখ লেগেই থাকে।এটা হলো সৃষ্টিকর্তার বিচার।
জানো বউমা ও একটা মানুষ আমার মেয়েকে স্বামীর ঘরে সংসার করতে দেয়নি।কথায় বলে এ সংসার তোমার।অথচ সংসার হাতে দেয়না।মেয়ের পছন্দ মতো রাধতে দিতনা।একদিন মেয়ে আমার তরকারি পুড়িয়ে ফেলেছে দেখে বলে তোমার আর রান্না ঘরে যেতে হবেনা।ধীরে ধীরে রান্না শিখে তারপর যেও।
এটা কোনো কথা?
নতুন বিয়ের পর মেয়েটা আমার হুটহাট চলে আসতো আমার কাছে।আমায় দেখতে।শাশুড়ি তাতেই নিষেধ করে।বলে তুমি নতুন বউ।এভাবে যখন তখন গেলে লোকে নিন্দে করবে।
লোকের খায় আমার মেয়ে?
জামাইটাও হয়েছিল তেমনই।মায়ের কথাই শোনে সব।মা যদি পানি চায়,দৌড়ে গিয়ে এনে দেয়।
আমার মেয়ে চাইলে হেঁটে হেঁটে এনে দেয়।
বিয়ের পরও বোনের পড়াশোনার খরচ চালায়।আবার মায়ের জামা-কাপড় সহ কত কী দেয়!
চাকরির সামান্য বেতন,ওদের দিতেই শেষ।
আমার মেয়ের চাহিদা হতো যদি দশ টাকার,নয়টাকা দিয়ে বলে ধৈর্য্য ধরো।
এভাবে সংসার করা যায় বলো?
বিয়ের পর কিসের মা-বোন?বউ ই সব।
সুমার শাশুড়ি কিন্তু পেনশন পেত।সেই টাকা সংসারে খরচ করে একটু রাখতো মেয়ের বিয়ে দিতে লাগবে।স্বামী নেই কিনা!
রাখবে রাখ ভালো কথা।আমার মেয়ের কী শাশুড়ির টাকার ওপর হক নেই বলো?
মেয়েটা বলেছিল আপনার গোছানো টাকা থেকে একটা ঝুমকো বানিয়ে দিন।
মহিলা দিল তো দিল,একদম ছোট্ট করে গড়িয়ে।
বলি আমার মেয়েকে কী সর্ণ দেখিয়ে জন্ম দেইনি?
নিজের পেটের মেয়ে হলে পারতো ওটুকু দুল দিতে?
আরো অনেক কিছু আছে জানো!”
শাশুড়িমা থামতেই পাশ থেকে সুমা আপু তাকে মৃদু ধাক্কা দিয়ে বলে,”ঐ জমির কথাটা বলো মা।”
সঙ্গে সঙ্গে মা শুরু করলেন,”ও হ্যা এটাতো বলতে ভুলেই গেছি।
ওর শাশুড়ি লোককে বোলে বেড়াতো আমার মেয়েও নাকি তার মেয়ে।
তো মহিলার বাপের বাড়ির জমি ভাগে পেয়ে দুই ছেলে-মেয়ের নামে দিয়ে দিতে চেয়েছিল।জমিটার খুবই দাম।মেইন রোডের সঙ্গে।
আমার সাধাসিধে মেয়েটাও বলেছিল তাকেও একটু দিতে।
ওমা সে কী বলে জানো?
বলে,তোমায় কেন দেব?তোমার স্বামী তো পাবেই।
এটা কোনো কথা?
শুধু তাই নয়।ওর ননদটাও জ্বালাতো খুবই।
চুলের শ্যাম্পু শেষ হলেই ভাবির কাছে চলে আসতো ফকিন্নির মতো চাইতে।
আবার স্কুলের কোনো প্রোগ্রাম হলে আমার মেয়ের জামা পড়ে যেত।
এগুলো সহ্য করতে না পেরে ঝগড়া হয়েছিল মেয়ের সঙ্গে। জামাই উল্টে আমার মেয়ের দোষ দেয়।বলে কিনা আমাদের বাবা নেই।মা অনেক কষ্ট করেছেন আমাদের জন্য।বোনের মাথার ওপর আমি ছাড়া কেউ নেই।তাই ওদের ছাড়তে পারবোনা কোনোমতে।
সব মা-বাবাই ছেলেমেয়েকে কষ্ট করেই মানুষ করে।ওর মা বিশেষ কী করেছে জানিনা।
শেষে মেয়েকে বাড়িতে আনলাম ঐ নরক থেকে।তখন পেটে বাচ্চা।সুযোগ পেয়ে গেলাম।
একমাত্র বংশধরের লোভে ওরা মা-ছেলে আমার পায়ে ধরেছে জানো?
বলেছিলাম মেয়ে আর দেবনা।বাচ্চা ন*ষ্ট করে ফেলবো।
তখন সবাই ভয় পেয়ে সিধে হলো।
মা-বোন ভক্তি জামাই ওদের ছাড়লো।
এরপর ওকে বিদেশ পাঠিয়ে মেয়েকে নিজের কাছে রাখলাম।মেয়ে এখন স্বামীকে ভীষণ টাইটে রাখে।শাশুড়ি ননদকে টাকা দেওয়াতো দূর,কথা বলার সুযোগ টাও রাখেনা।সবকিছুর পাসওয়ার্ড আমার মেয়ের কাছে।
ওদের কথা বলতে হলে এ বাড়িতে আসতে হয়।তারপর কথা বলিয়ে দেয় সুমা।
বিদেশ থেকে ফিরেই আলাদা বাড়ি করবে ওরা।ঐসব আবর্জনার মুখ যেন দেখতে না হয় আর।
মেয়েকে বলেছি আর সহ্য না করতে।এবার চড়া হতে।
ঠিক করেছিনা বলো?”
আমি কী বলবো বুঝতে পারলাম না।আমতা আমতা করতে লাগলাম।
নিজের বলা আগের কথাগুলোর জন্য অনুতপ্ত হলাম প্রচুর।
মা এবার বেশ গর্ব নিয়ে বললেন,”আমি বাপু ওরকম শাশুড়ি নই।অন্যের মতো মুখে এক আর মনে এক রাখবোনা।তোমাকে মেয়ের মতো দেখি মানে অন্তর দিয়ে ভালোবাসবো।রেগে গেলে হয়তবা দু-তিনটে কথা শোনাতে পারি।মনে নেবেনা।
এই সবকিছু তোমার।প্রথম দিন এসেই যেমন তোমার হাতে রান্নাঘর ছেড়ে দিয়েছিলাম তেমনই সংসারটাও দেব।
এমনিতেই এ সংসারে সব বাজার,কেনাকাটা করে প্রলয়।
এবার তুমি এসেছো তো দায়িত্ব তুমিও নিতে পারো।তবে চাহিদা একটাই।মাস শেষে আমাকে দশ হাজার করে দিতে হবে হাত খরচায়।আগে পাঁচহাজার দিত প্রলয়।
এবার তুমি এসেছো,মানুষ বেড়েছে।তাই দশ হাজার।প্রলয়কে বলবে একথা।
আমি বুঝলাম না ঠিক তার কথা।
মানুষ বেড়েছে দেখে তার হাত খরচা কেন বাড়বে।
সে কী টাকা এই সংসারে ভাঙবে?
জিজ্ঞেস করলাম কথাটি।
মার তৎক্ষণাৎ জবাব,”পাগল নাকি আমি?হাত খরচের টাকা কেন সংসারে ভাঙবো?”
“তাহলে আমি আসাতে বাড়বে কেন?”
মা এবার আমতা আমতা করে বললেন,”নতুন মানুষ এলে ধকল যায় বেশি।তোমায় কতো কিছু শেখাতে হচ্ছে।আমার এনার্জি লস হচ্ছেনা?
এজন্য আমার এখন বেশি বেশি ভিটামিন,ক্যালসিয়াম খেতে হবে।ভালো মন্দ খেতে হবে।”
আমার মাথায় ঢুকলোনা তার যুক্তি।
মা বলল,”প্রলয় আসার সময় হয়ে এলো।আজ আর কিছু নিচ্ছিনা।সব রেডি রেখো কাল নিয়ে ভাগ করে দেব।
প্রলয়কে এসব বলবেনা।ও বেশি বোঝে।বাড়িতে অশান্তি করবে।লোকে বলবে বাড়িতে নতুন বউ এসেই স্বামীর কান ভাঙিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে ঝগড়া বাধিয়ে দিয়েছে।নিন্দা তোমারই হবে।”
এই বলে উনারা চলে যায়।
আমি বসে রইলাম।সত্যিই মানুষের চিন্তা ভাবনাও কেমন স্বার্থপর।নিজের বেলায় যা ঠিক।পরের বেলা তা ভুল।
আফসোস হয় সেই মানুষ গুলোর জন্য,যারা এ ধরনের মন মানসিকতার ব্যাক্তিদের সঙ্গে যুক্ত।যার মধ্যে আমি একজন।
মিনিট দশেক পর প্রলয় এলো।তার ক্লান্ত চেহারা।
হাতের ফাইলটা খাটে রেখে টাই ঢিল করতে করতে বসলো।
একগ্লাস পানি মুখের সামনে ধরতেই নিয়ে খেয়ে নিল।
খেয়ে স্বস্তির শ্বাস নিয়ে হঠাৎ পেছন দিকে শুয়ে পড়লো।একটু দূরেই পেছন বসা ছিলাম আমি।
তার মাথা সরাসরি আমার কোলে এসেছে।দুজনে ফট করে দৃষ্টি মিলিয়ে ফেলেছি।
প্রলয় দ্রুতই উঠে বসে।
ইতস্তত সহিত বলে,”স্যরি।খেয়াল করিনি আপনি পেছনে।”
“ইটস ওকে।”
“খেয়েছেন?”
“জ্বী।আপনার জন্য খাবার নিয়ে আসবো?
না মানে আপনাকে ক্লান্ত দেখাচ্ছে।”
উনি কপালে হাত চেপে ধরে বলে,”ঐ আরকি মাথায় ভীষণ ব্যাথা করছে।”
“ঠিক আছে।আপনি বরং ফ্রেশ হন।জামা-কাপড় বদলান।
আমি খাবার নিয়ে আসছি।”
চলে গেলাম নিচে।
খাবার নিয়ে ঘরে আসার সময় খেয়াল করলাম শাশুড়িমা তার বোনের ব্যাগেতে বড়ো একটা পোটলা গুজে দিচ্ছে।
ভাবলাম একবার গিয়ে দেখি।পরক্ষণে কী যেন মনে করে গেলাম না আর।
খাবার নিয়ে ঘরে আসতেই দেখলাম প্রলয়ের হাতে আমার ফোন।একবার সরু দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে খাবারের থালাটা টেবিলে রাখলাম।
আমায় দেখে ফোনটা আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,”কল এসেছে আপনার।”
ভ্রু কুচকে ফোন হাতে নিলাম।
কল রিসিভ করতেই বুঝলাম এটা অয়ন ভাই।
এই নাম্বারটা উনাকে কে দিল?
কল রিসিভ করেই আমি আমতা আমতা করতে লাগলাম।
প্রলয় ভাত মাখতে মাখতে বলল,”সমস্যা হলে বাইরে গিয়ে কথা বলে আসতে পারেন।”
গুটিগুটি পায়ে বাইরে এলাম।
বললাম,”কিছু বলবেন অয়ন ভাই?”
অয়ন ভাই কিঞ্চিৎ হেসে বলল,”কেন বিজি নাকি?তোমার বর এসেছে?”
“হ্যা মানে ঐ আরকি।”
“ওকে।তাহলে পরে কথা হবে।”
উনি কল রেখে দেয় কিছু বলার আগেই।
পরে আবার কী বলবেন উনি?
যাকগে সেসব পরে ভাবা যাবে।
পেছন ঘুরতেই ধাক্কা খেলাম।
সামনে প্রলয় দাঁড়িয়ে।মাথা উচু করে আছে তিনি।
আমি একটু দূরে সরে দাঁড়ালাম।
প্রলয়ের আঙুলের ফাঁকে জলন্ত সিগারেট।
ওপাশ ঘুরে একটা টান দিয়ে ধোয়া ছাড়লো সে।নজর এড়ালোনা আমার।
বললাম,”আপনি স্মোক করেন?”
“হুম।রাতে করি।দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে মনের ভাব প্রকাশ করি।”
“ভালো।তো অয়ন ভাইকে আমার নাম্বার আপনি দিয়েছেন?”
“হুম।”
“কেন?”
“ওরও একটা সুযোগ পাওয়া উচিৎ।যদি জ্যাকপট লেগে যায়।”
প্রলয় হাসে সহসা।
আমি ভ্রু বাকিয়ে বললাম,”আর ইউ ক্রেজি?
আপনি যা ভাবছেন তা নয়।
আর আমি এখন ম্যারিড।”
“সিরিয়াসলি?
এই বিয়েকে মানেন আপনি?”
এবার আর জবাব দিলাম না আমি।
মাথা নিচু করলাম।
প্রলয় আজ আবারো বলল,”মনটা চাচ্ছে শশুর বাড়িতে একটু দাওয়াত খেয়ে আসি।”
“আপনার ইচ্ছে পূরণ হয়েছে।
কাল আমার বাবার জন্মদিন।আমাদের যেতে বলেছে।
মা ও আপুদের সহ যেতে বলেছে।তা উনারা নাকি যাবেননা।
আমাদেরই যেতে বলছে।”
“অবশ্যই যাবো।
আপনি তৈরি হয়ে থাকবেন।
তার আগে নিচে চলুন একটা হিসেব আছে।”
কিসের হিসেব?আমার কাছে তো তার কোনো টাকা পয়সা নেই।
প্রলয় নিচে যেতেই দূরদূর মন নিয়ে আমিও গেলাম।
সে সোফায় বসলো।
আগে আমায় জিজ্ঞেস করলো বিয়ের গিফটের মাঝে কী কী আছে আমার কাছে।বা মা কী কী দিয়েছেন।
সবকিছু বললাম।
উনি সোফার নিচ থেকে একটা পেপার-পেন বের করলেন।দেখে মনে হচ্ছে কোনো কিছুর লিষ্ট।
প্রলয় তার মা-বোনদের ডাকলেন।
লিষ্ট ধরে মিলিয়ে বললেন,”বিয়েতে গিফটের কিছু জিনিস প্রিয়তার কাছে আছে।সেগুলো বাদে বাকি গুলো নিয়ে এসো।”
“কেন কেন?তোর বউ কী তার বাপের বাড়িতে ওঠা গিফট তোকে এনে দিয়েছে?
আর তাছাড়া সব কিছু ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।”
“ওর বাড়িতে অনুষ্ঠান ওর বাবার টাকায় হয়েছে।আমার টাকায় নয় যে সব আমায় এনে দেবে।
আমার টাকায় করা অনুষ্ঠানের গিফট তুমি কোন সাহসে ভাগ করো?
পাই টু পাই আমার সব চাই।লিষ্ট আছে কিন্তু আমার কাছে।”
মা পাত্তা দিলেননা প্রলয়ের কথায়।
ঘর থেকে একটা কানের দুল আর নগদ দশ হাজার টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন,”নে রাখ।আর জানে পানি দে।তুই বাবা ছেলেও হয়েছিস।মনে হয় আমি তোর সৎ মা।”
প্রলয় টাকা গুণে বলল,”এতো কম কেন?ক্যাশ টাকা উঠেছে নব্বই হাজার।আর গহনা উঠেছে পাঁচটা আংটি,চেইন দুটো,ডায়মন্ডের নোসপিন দুটো,চুড়ি উঠেছে দুই জোড়া,পায়ের নুপুর তিনজোড়া আর কানের দুল দুটো।
এগুলো সব কোথায়?প্রিয়তার কাছে তো সামান্য কটা আছে।”
“দ্যাখ প্রলয় ওগুলো আমার কাছে আছে।যথা সময় তোর বউকে দিয়ে দেব।”
“এখন দাও তুমি।”
“ছি প্রলয় ছি!
এতো ছোট মন তোর?তোর বোনেরা একটু সামান্য কটা গহনা নিয়েছে তাতেই এমন করছিস?”
“করাটাই স্বাভাবিক!ওগুলো আমার বউয়ের হক।
বোনদের যা দেওয়ার,অনেক আগেই দিয়ে দিয়েছি।”
মা আর কিছু বললেন না।গহনা সব এনে আমার হাতে দিয়ে দাঁত কটমট করলেন।
প্রলয় এবার টাকা চাইলো।
মা বললেন তিনিও খরচ করেছে বিয়েতে টাকা।ছেলের বিয়ে খরচ তার করতে হয়ই।প্রায় পঞ্চাশ হাজার খরচ করেছেন তিনি।
প্রলয় হিসেব চাইলেন।
মা আমতা আমতা করে বললেন,”ঐ খাবারের দিকে খরচ করেছি।”
প্রলয় সামান্য হেসে বলে,”খাবারের মেনু থেকে শুরু করে সবই আমি ঠিক করেছি।
এবং খাবারের বিলটা ডিউ আছে।আজ দেব।
তাহলে তুমি কীভাবে খরচ করলে?”
মা এবার চুপ।
ঘর থেকে সুমা আপু কাঁদতে কাঁদতে টাকা এনে দিলেন।
অভিশাপ দিলেন প্রলয়ের মতো ভাই যেন আর কারো না হয়।
প্রলয় শুধু হাসে।ওর এতে কিচ্ছু যায় আসেনা।
টাকা সহ গহনা নিয়ে ঘরে আসতে বলে আমায়।
ঘরে এসে তার হাতে সব দিতে নিলে নেননা তিনি।
আমায় রাখতে বলে।
আমি রাখতে চাইনি।প্রলয় কড়া চোখে তাকিয়েছে।
আমি দমে গেছি।
(পরের পর্বে একটা রহস্য উন্মোচন হবে।
আমার দাদি মা*রা গেছেন।
আমার মন,শরীর কোনোটাই ভালো নাই।)
Share On:
TAGS: নাদিয়া আফরিন, প্রিয়তার পূর্ণতা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ১
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৩
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৭
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৪
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৮
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ২
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৬
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৫
-
প্রিয়তার পূর্ণতা গল্পের লিংক