জেন্টাল_মনস্টার
লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_৪০
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
আদ্রিস, আদ্রিতার দিকে তাকিয়ে আছে। আদ্রিতা পিটপিট চোখে তাকিয়ে আছে।
দু’জন দুজনার দিকে তাকিয়ে আছে।
আদ্রিস হেঁসে ফেলে হুট করেই।
“হা হা হা।
হা হা হা৷”
আদ্রিতা ছিল এমনিতেই মাজা ব্যাথার কষ্টে। আদ্রিসের এমন আট্টহাসি দেখে অভিমান ধরে রাখতে পারলো না সে।
মুখ ফিরিয়ে নিলো অন্য দিকে।
কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো,
“আমাকে কেউ ভালোবাসে না। আমি কারোর পছন্দের না। আমি চলে যাব এখান থেকে৷’
আদ্রিতার এমন ঢং দেখে আদ্রিস আরও হেঁসে খুন৷
আদ্রিতা মুখ ফিরিয়ে নেয় অন্য দিকে।
কিছুক্ষন পর আদ্রিস নিজেকে কন্ট্রোল করে।
আদ্রিতাকে পাজকোলে তুলে নেয়।
আদ্রিতা কিটমিট করতে করতে বলে,
” ছাড়ুন আমাকে। ছাড়ুন খুবই বদ লোক আপনি ছাড়ুন৷”
“আদ্রিতা রিলাক্স।”
আদ্রিস, আদ্রিতাকে বিছনায় বসিয়ে নিজে আদ্রিতার সামনে গিয়ে বসে।
“সরি জান৷”
আদ্রিতা মুখ ফিরিয়ে নেয়।
আদ্রিস, আদ্রিতার ঘাড় ধরে নিজের দিকে ঘোরায়। আদ্রিতা কিছু বলতে যাবে তার আগেই, আদ্রিসওর ওষ্ঠদ্বয় আবদ্ধ করে নেয়।
আদ্রিতা কিছু বলার সুযোগ পায়না।
আদ্রিস, হুট করেই আদ্রিতার উপরে চলে আসে।
আদ্রিতা নিজেকে ছাড়াতে পারেনা ওই শক্ত মুঠোবন্দি থেকে।
আদ্রিস পরম আদরে আদ্রিতার ওষ্ঠদ্বয় আঁকড়ে ধরে রাখে।
আদ্রিতাও এক সময় চুপ হয়ে যায়।
কিছুক্ষণ পর। আদ্রিস, দেখে আদ্রিতার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। তাই সে আদ্রিতাকে ছেড়ে দেয়।
আদ্রিতা নিঃশ্বাস নেয়।
আদ্রিস, আদ্রিতার কপালে লেপ্টে থাকা চুল গুলো সরিয়ে কপালে চুমু খায়।
“তুই কম্বলের ভেতর কখন এলি?”
আদ্রিতা মুখ ফুলিয়ে নেয়।
আদ্রিস, সেই ফোলা গালে আবার চুমু খায় টুপটাপ।
“বল কিভাবে গেলি?”
আদ্রিতা এবার বলে,
“ব্রেকফাস্ট করার পর আপনিইত বললেন ফোনটা নিয়ে আয়৷ আমিত ফোন আনতে উপরে এসেছিলাম।
পরে কোথাও পাইনা। পরে কম্বলের নিচে দেখতে গিয়ে আপনার ফোনে একটা ম্যাসেজ আসে। ওটা দেখতে গিয়ে কখন কম্বলের নিচে চলে গেছি টের পাইনি।”
আদ্রিস ভ্রু কুঁচকে তাকায়,
“কি ম্যাসেজ?”
“আমি দেখতে পাইনি তার আগেই ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন আমাকে।”
আদ্রিতা কথাটা বলে মুখ ফিরিয়ে নেয়৷
আদ্রিস এবারো নিজেকে সংযত করে হাসার থেকে।
এবার হাসলে মহারানী গলেই যাবেন।
আদ্রিস, হাসি আঁটকে সিরিয়াস হয়ে ফোনটা হাতে নেয়।
আদ্রিসের হাত তখন আদ্রিতার উরু দ্বয় আঁকড়ে ধরে রেখেছে।
আদ্রিস ফোন বের করে ম্যাসেজ অন করে।
রাশিয়ান মাফিয়াদের একটা গ্রুপ আছে।
সো সেখানে বিভিন্ন এড়িয়া থেকে বিভিন্ন মাফিয়ারা আছে।
আদ্রিসের এড়িয়াতে আদ্রিস বস৷ এবং আদ্রিস সেখানের রাজা বলা চলে।
এখন এই গ্রুপে নানা ধরনের এডাল্ট ম্যাসেজ হয়।
আদ্রিস, ম্যাসেজ ওপেন করে ঠাস করে বন্ধ করে দেয় ফোন। সে আদ্রিতার দিকে তাকায়।
আদ্রিতা, তার দিকেই তাকিয়ে আছে,
“কি মনে করে এই ম্যাসেজে ঢুকতে গেছিলি?’
” কিছুই না। ফলের ইমোজি দেওয়া। প্লাম এরপর কলা আমি ভেবেছি আপনার কোন পার্সেল এসেছে৷”
আদ্রিস মাথায় হাত দেয়৷
“তুই এটা ভেবেছিস?”
“হ্যাঁ।”
আদ্রিস, হুট করেই জড়িয়ে ধরে আদ্রিতাকে। মিষ্টি একটা গোলাপের ঘ্রাণ আদ্রিতাড় পুরো শরীর জুড়ে। আদ্রিস সেটা ইনহেল করে।
কিছুক্ষণ সেভাবে থেকে সরে আসে।
আদ্রিতার গালে হাত রাখে,
“তুই আমার আদ্রিতা। তুই কেবল মাত্র এই বুকে মাথা রাখার জন্য জন্ম নিয়েছিস। বুঝেছিস?”
হটাৎ করেই আদ্রিসের পজেসিভনেস আদ্রিতাকে একটু ঘাবড়ে তোলে। তবে সে কিছু বলেনা। মাথা নাড়ায় হ্যা সূচক।
আদ্রিস তাতে স্যাটিসফাই নয়৷ সে আদ্রিতার ঘাড় শক্ত করে ধরে চেপে ধরে,
“আহ৷ “
আদ্রিস, ওর মুখটা এগিয়ে নেয় নিজের দিকে,
“ওয়ার্ড’স। আই ডোন্ট লাইক সাইলেন্স।”
আদ্রিসের চোখে মুখে এতটা ক্রোধ এবং পজেসিভনেস দেখে আদ্রিতা ভয় পেয়ে যায়। একটু আগেওত সাভাবিক ছিল। হটাৎ করেই এমন সাইকো হয়ে গেলো কেন।
আদ্রিতা একটু শুঁকনো ঢোক গিলে বলে,
“জ জি আ আপনার?”.
” কে আমার?”.
“আমি আপনার৷”
আদ্রিস ছেড়ে দেয় আদ্রিতাকে। আদ্রিতা হাফ ছাড়ে,
“ইউ, বেটার ইউ নো দ্যাট ইউ আর মাইন। অনলি মাইন৷”
আদ্রিতা চুপচাপ।
এখন সে যদি কিছু বলে ইতে বিপরীত হলে সমস্যা।
মিরা টেবিল ক্লিন করে নিজের রুমের দিকে যাচ্ছিলো এমন সময় সে সায়েরের রুমের সামনে এসে কিছু একটা বিষয় শুনতে পেয়ে থেমে যায়৷
“মেরে ফেলব সব গুলোকে। কাউকে নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ দেবনা বলে দিলাম। ওই হারামজাদাকে এক্ষুনি খুন কর।
আমি রাশিয়া গেলে সালাকে আরও কঠিন মৃত্যু দেব বলে দিলাম৷”
সায়ের চিৎকার করছে আর কথা গুলো বলছে।
মিরা কথাগুলো শুনে চুপ হয়ে গেলো। সে ভয় ও পেয়ে গেছে। এসব কি মারামারি করে নাকি।
মিরা ভাবতে ভাবতে পিছিয়ে যেতে গিয়ে একটা ফুলদানির সাথে ধাক্কা খায়।
ফুলদানিটা ফ্লোরে পড়ে বিকট শব্দ সৃষ্টি করে। ফুলদানিটা ছিলো পিতলের, ফ্লোরে পড়ায় বেশ জোরেই শব্দ শোনা যায়।
সে শব্দ শুনে সায়ের পেছনে ফিরে তাকায়।
মিরা দ্রুত পায়ে ফুল দানি ঠিক করতে করতে সায়ের বেরিয়ে আসে।
মিরাকে তাড়াহুড়ো করতে দেখে সায়ের শান্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,
“কি হয়েছে?”
মিরা মাথা তুলে তাকায়। ওর চোখে ভয় আশঙ্কা উভয় পরিলক্ষিত।
সায়ের নিচু হয়ে ফুলদানিটা উঠিয়ে পাশে রাখে।
মিরা জোরপূর্বক হেসে চলে যেতে নিলে সায়ের মিরার হাত ধরে বসে।
মিরা ফিরে তাকায় ভয়ে ভয়ে।
সায়ের মৃদু, হেসে মিরার কপাল থেকে চুল সরিয়ে কানের পেছনে গুঁজে দেয়৷
“কি নিয়ে ভয় পাচ্ছো?”
মিরার চোখ বড় বড় হয়ে যায়। সে থতমত খেয়ে বলে,
“ক কই ক কিছু নাত৷”
“কিছুত আছে মিরা। কি সেটা?”
“ক কিছু না বিশ্বাস করুন৷”
“তোমায় বিশ্বাস করিত। বিশ্বাস করি বলেইত জিজ্ঞেস করছি। নাহলে আমার চোখে সবই ধরা পড়ে।”
“আমি এমনিতেই যাচ্ছিলাম। হাতের ঠেলা লেগে ফুলদানিটা পড়ে গেলো।”
সায়ের মৃদু হাসে, সে মিরাকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে যায়। মিরা চোখ বন্ধ করে নেয়।
সায়ের মিরার বন্ধ চোখে চুমু খায়।
চুমু অনুভব করে মিরা তাকিয়ে পড়ে।
“ক কি করছেন?”
“দেখছি তোমাকে।”
“ছ ছাড়ুন৷”
মিরা থতমত খেয়ে গিয়েছে পরিস্থিতিতে।
সায়ের বাঁকা হেঁসে মিরার হাত ছেড়ে দেয়।
“রিলাক্স ওরা আমার এনিমি ছিলো। মমের উপর এটাক করতে চেয়েছিলো তাই এমন রেগে গিয়েছিলাম। আমি খারাপ নই মিরা। তোমার জন্যত মোটেই না।”
মিরাকে কথা গুলো বলে সায়ের রুমে চলে যায়৷
মিরা তাকিয়ে রয় সেদিকে।
কিছুক্ষণের জন্য নিজেকে বন্দি বন্দি বলে মনে হচ্ছিলো।
সায়ের রুমে গিয়ে বাঁকা হেসপ সার্টের বোতাম খুলতে শুরু করে,
“ইউ আর রাইট মিরা। তুমি বন্দি, তুমি আমার তৈরি চার দেয়ালের মাঝে বন্দি৷”
সেদিনের লাঞ্চ শেষ করে আদ্রিসের মেনশনের বাগানের দিকে সবাই জড়ো হয়ে গল্প করছে।
বসন্তের বিকেলের বাগানটা যেন নরম রঙে আঁকা এক শান্ত ছবি। রোদের তেজ আর তেমন নেই, সোনালি আলো গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে মাটির উপর ছোপ ছোপ ছায়া ফেলে। হালকা উষ্ণতার সঙ্গে একটা মৃদু শীতল বাতাস বইতে থাকে, যা গায়ে লাগলে আরাম লাগে।
গাছে গাছে নতুন কচি পাতা, কোথাও ফুটে থাকা রঙিন ফুল, লাল, হলুদ, বেগুনি, বাগানটাকে হাসিখুশি করে তোলে। বাতাসে ফুলের মিষ্টি গন্ধ ভেসে আসে, মনে হয় প্রকৃতি নিজেই সুগন্ধ ছড়িয়ে দিয়েছে। মৌমাছিরা গুনগুন করে উড়ে বেড়ায়, প্রজাপতিরা ডানা মেলে ফুল থেকে ফুলে বসে। দূরে কোনো পাখি ডাক দেয়, আবার কোথাও পাতার মৃদু মর্মর শব্দ শোনা যায়।
এই সময়টায় বাগানটা খুব শান্ত অথচ জীবন্ত লাগে, না পুরো নীরব, না খুব কোলাহলপূর্ণ। যেন দিনের ক্লান্তি আর সন্ধ্যার আগমনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক মায়াময় মুহূর্ত, যেখানে বসে থাকলে মনটা অকারণেই হালকা হয়ে যায়।
মিরা মস্তিষ্কে এখনো সায়েরের বিষয়টা পুরোপুরি ধোয়াসা। তবে সে আর সে সব ভাবতে চাইছে না৷
ওদিকে আদ্রিতা, প্রিয়া দু’জন বাগানের মাঝামাঝি বসে কিছু একটা খেলছে আর খিলখিল করে হাসছে।
আদ্রিস, সায়ের এবং রেভেন বসে আছে বাগানের সাইডে চেয়ারে।
আদ্রিতার হাসির শব্দে পরিবেশ যেন আরও জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
আদ্রিস অপলক দৃষ্টিতে সেটা দেখছে।
সায়েরের ফোনে হটাৎ মিসেস মিহুর কল চলে আসে।
সায়ের, মায়ের কল পেয়ে একটু ওদিকে সরে যায়।
আদ্রিস, তাখনো, আদ্রিতার দিকেই তাকিয়ে ছিলো।
তবে হটাৎ করেই আদ্রিসের চোখে পড়ে কিছু।
আদ্রিসের হাসি উড়ে যায় মুখ থেকে।
সে নিজের অবস্থান থেকে এক সেকেন্ডে উঠে কিছু করবে তার আগেই,
“ব্যাং ব্যাং ব্যাং “
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৫
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১১
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৮
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১২
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৯
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩৯
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১৩ [ রহস্য সমাধান -০১]
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১১
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩২
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৮