প্রিয়তার_পূর্ণতা
Nadia_Afrin
৩
স্টেজে বসে আছি আনমনে।কোথা থেকে যেন হুড়মুড়িয়ে আসে প্রলয়।
পাশে বসে একটা গয়নার বাক্স রাখে আমার কোলে।সেটা খুলে একটা হার বের করে।আধখোপা করা চুলগুলো উচিয়ে পটাপট গলার হারটা পড়িয়ে দিয়ে কানে দুল দিয়ে দেয়।
আচমকায় তার কাজে আমি অবাক!
চুড়ি গুলো হাতে নিয়ে আমার হাত উচিয়ে ধরে পড়িয়ে দিয়ে সবে স্টেজ ছেড়ে নিচে নেমেছে,এমন সময় কোথা থেকে যেন তার বড়ো বোন এলো।বিরক্তির সঙ্গে বলল,”গহনা কোথায় পেলি?কে দিল?”
উনি বললেন,”নিজে নিয়ে এসেছি।আমার বউয়ের জন্য আমার নিজের টাকায় গহনা বানিয়েছি।
এজন্য নিজেই এনে পড়িয়ে দিলাম।”
উনি কিছু বললেন না দেখলাম।মুখ ভার করে একবার আমার দিকে তাকালেন।এরপর বিরবির করতে করতে চলে গেলেন।
আমি স্টেজ থেকে নেমে বললাম,”জানিনা কী হয়েছে।আপনাদের বিষয়ে কথা বলাও ঠিক নয় আমার।তবুও বলছি।
আপুকে দেখে মনে হলো উনি রাগ করেছেন গহনা দেওয়াতে।
আমি ফিরিয়ে দেব অনুষ্ঠান শেষে।”
প্রলয় কপাল কুচকে বলল,”ওহ প্লিজ!আপনার থেকে কিছু শুনতে চাইনি।আর প্লিজ ওতো ভালোমানুষি দেখানো বন্ধ করুন।
নিজের অধিকার নিজে ছিনিয়ে নিতে শিখুন।
অন্যথায় লোকে আপনার থেকে আপনার সব প্রিয় বস্তু ছিনিয়ে নেবে।”
হনহন করে চলে যায় সে। অপমান বোধ হয় ভীষণ।
মুখটা গোমড়া করে স্টেজে গিয়ে বসি।
দুজন অথিতি আসে সামনে।আমাকে দেখে অনেক প্রশংসা করে।বলে,”প্রলয়ের বউটা যে এতো সুন্দর হবে ভাবিনি!
এ ঠিক যেন আমাদের অদিতির বোন।ওর মতোই গোলগাল মুখখানি।ফর্সা,লম্বা ও সুসাস্থ্য।
তবে অদিতির মতো চুল গুলো হলোনা।আমাদের অদিতির কোমর ছুই চুল ছিল।খোলা চুলে কখনো রোদে দাঁড়ালে চিকচিক করতো।এ যেন দেখার সোভা!”
তারমানে উনার প্রথম স্ত্রীর নাম অদিতি।
মেয়েটার চুল এতোসুন্দর ছিল?একবার খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।
নিজ মনে কথাগুলো আওড়ায় প্রিয়তা।
মহিলারা এবার প্রশ্ন করে,”তা মা তোমার নাম কী?”
“জ্বী প্রিয়তাশ্রি।প্রিয়তাশ্রি মেহজাহ।”
উনারা এবার চারপাশে তাকিয়ে গোপন কন্ঠে বললেন,”সব জেনেশুনে এসেছো তো?”
আমি ভ্রু কুচকে বললাম,”কী জানবো?কী জানার কথা বলছেন?”
উনারা বিষ্ময়ের দৃষ্টিতে একে-অন্যের দিকে তাকালো।
এরপর কিছু না বলে প্রসঙ্গ পালটে বলল,”তোমার নাকি গহনা চুরি হয়েছে?”
“জ্বী।”
“চুরি হয়েছে নাকি হওয়ানো হয়েছে একমাত্র বিধাতায় জানে সেসব।আমাদের এসবে মাথা ঘামিয়ে কাজ নেই।বিয়ে খেতে এসেছি,বিয়ে খেয়ে চলে যাবো।
তোমার জন্য সাধ্য মতো হাতের একটা এনেছি।
দেখো মাপে হচ্ছে কিনা।”
উনারা আমার হাত চাইলেন।পার্স থেকে ছোট্ট একটা বাক্স বের করে তা থেকে একটি আংটি বের করলেন।
আঙ্গুলে পড়িয়ে দিয়ে বললেন,”একদম ঠিক মাপের হয়েছে।প্রলয়টার দেখছি বউয়ের প্রতি নজর খাসা।দুদিন বিয়ে না হতেই বউয়ের আঙ্গুলের মাপ জেনে গেছে।
ছেলেটা আমাদের এমনই।সবদিকে নজর।এবং ভালো যত্নশীন একজন মানুষ।
প্রথম জনাকে তো কম ভালোবাসেনি।মাথায় রাখেনি উকুনে খাবে,নিচে রাখেনি পিপড়ায় খাবে।
কিন্তু ভাগ্য রাখলোনা একসঙ্গে বেশিদিন।
যাকগে সেসব পুরোনো দিনের কথা!তোমায়ও ভীষণ ভালোবাসবে।সুখি হও দুজনে।”
ওরা চলে যায়।আমি মনে মনে বলি,ভালোবাসা না ছাই!ধমক খেতে খেতে কানে কম শুনছি।
হঠাৎ উপস্থিত হলো রিপা।এসেই আমার হাতটা খপ করে ধরে ফেললো।
আংটিটা দেখে হাসি হাসি মুখ করে বলল,”ওয়াও কী সুন্দর এটা!
ঠিক আমার পছন্দের ডিজাইনে।আই লাভ গোল্ড।
তোমার হাতে আংটি ভালো ফিট হয়নি।একটু ঢিল।এটা আমার হাতে একদম পারফেক্ট হবে।”
এই বলে মেয়েটা আমার হাত থেকে টেনে টেনে আংটি খুলতে লাগলো।অথচ আমার হাতে সেটি ফিট।
ও জোর করে খুলছে হাতে লাগলো আমার।
মৃদু আর্তনাদ করতেই রিপা বিরক্তিসহিত বলল,”উফ!দাঁড়াও না।খুলতে দাও।”
মেয়েটা খুলে নিল আমার হাত থেকে।খুলে নিজের হাতে পড়তে নিল।অর্ধেক আঙ্গুল পর্যন্ত গিয়ে আর গেল না।মেয়েটা জোর করে শক্তি প্রয়োগ করে ঢোকালো।আঙ্গুলে বসে পড়েছে একদম।
সম্পূর্ণ গল্পটি আমার পেইজে দেওয়া আছে।নাদিয়া আফরিন ইংরেজিতে লিখে সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন আমার পেইজ।
ফলো দিয়ে সম্পূর্ণ গল্পটি পড়ুন।
ফলো না করলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।
বললাম,”এটাতো তোমার টাইট হচ্ছে রিপা!”
ও যেতে যেতে বলল,”ও সমস্যা নয়।পড়তে পড়তে ঢিল হবে।না হলে ঠিক করে নেব। আমার নানা স্যাকরা।
এটা আমি নিয়ে নেব।ভীষণ পছন্দ হয়েছে আমার।তোমার দেওয়া আংটিটা খুলে রেখেছি।কেমন পুরোনো,হালকা!”
মেয়েটা চলে গেল।
আমি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলাম।
আমার দেওয়া গিফট পছন্দ না হলে ফিরিয়ে দিতে পারে।কিন্তু গিফটের জিনিসে মুখের ওপর নিন্দা করা উচিৎ নয়।
ঐ আংটিটা বেশ সুন্দর।কলেজ প্রোগ্রামে একবার পড়ে গিয়েছিলাম।আমারটা দেখে আরো দু বান্ধবী বানিয়েছে একই ডিজাইন।সর্ণও আছে মোটামুটি।
মনটা খারাপ হলো।মনকে বুঝ দিলাম,সবার পছন্দ তো এক নয়।হয়ত ওর এটা ভালো লেগেছে।নিয়েছে নিক।সামান্য একটা আংটি।এটা নিয়ে তো আর ননদের সঙ্গে ঝগড়া করতে পারিনা।তারওপর আমি নতুন বউ।
ছাড় দিয়ে চলতে হয়।নাহলে সংসার হয়না।মায়ের মুখে একথা শুনেছি।বিয়ের দিন মা এই মহামূল্যবান জ্ঞানটি কানে দিয়েছে।তখন থেকেই মনে ধারণ করে আছি।
সময় গড়াতে লাগে।মেহমান সব আসছে।
আরো একজন এলেন আমার সামনে।ওরা আসার সঙ্গে সঙ্গেই আমার ননাস মানে সুমা আপু এসে দাঁড়ালো পাশে।মুচকি হাসি দিল আমায় দেখে।
ভালোই হলো আপুকে পেয়ে।এবার আর সবার প্রশ্নে নার্ভাস হবোনা।পরিচিত কাউকে পেয়ে মনে সাহস পাবো।আপুকে ধন্যবাদ আমায় সঙ্গ দেওয়ার জন্য।
অথিতি সেজন আমায় এটা-ওটা জিজ্ঞেস করে একটা প্যাকেট এগিয়ে দিলেন।
দিয়ে চলে যেতেই আপু সেটা নিল আমার হাত থেকে।ওখানেই খুলে দেখতে লাগলো।একটা পার্পেল-গোল্ডেন কম্বিনেশনের বেনারসি শাড়ি।বেশ সুন্দর!
আপু বললেন,”শাড়িটা বেশ সুন্দর।এই কালারটা আমার ফেভরেট।”
আমি একটু হাসলাম।আপু আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন।উনিকি আমার থেকে কিছু শুনতে চাচ্ছেন?
কী সেটা?
আপু চোখ ফিরিয়ে নিয়ে শাড়িটা আবারো প্যাকেট করে রেখে দিল।
দুজন লোক এলেন।হাতে রাইসকুকার।
আমার হাতে দিতে নিলে আপু বলল তাকে দিতে।আমি নাকি ধরতে পারবো না।উনারা তাই দিলেন।
আপু সেটা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখতে লাগলেন।বললেন,”আমার কুকারটা নষ্ট হয়ে গিয়েছে।ভাবছিলাম একটা কিনবো এরকম।
তোমাদের মানে আমার মায়েরও আছে দুটো।এখন এটাও ঘরে পড়ে থাকবে।পড়ে থেকেই নষ্ট হবে।”
আমি আন্তরিকতার স্বরে বললাম,”নষ্ট হওয়ার থেকে বরং আপনি এটা নিয়ে যাবেন।”
ওমনি আপা উপচে পড়া খুশি নিয়ে তাকালেন।
বললেন,”সত্যিই?দেবে এটা আমায়?
ঠিক আছে কালই নিয়ে যাবো।তুমি তোমার বরকে বলে দিও তাহলে।নাহলে ও আবার আমায় রাগ দেখাবে।”
পুরো গল্পটি নাদিয়া আফরিন পেইজে দেওয়া আছে।ফলো দিয়ে পড়েনিন।
নাহলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।
এছাড়াও আমার লেখা সব গল্প পাবেন আমার পেইজে।
উনি কুকার নিয়ে চলে যায়।
বুঝলাম না সামান্য এক কুকার নেওয়াতে বোনের ওপর রাগ কেন করবে উনি?
এতো ছোট মনমানসিকতা হওয়া উচিৎ নয়।
উদার হতে হয়।আকাশের মতো উদার।
আমি বসে রইলাম।একে একে যেই আসে গিফট দিতে,একটু দামি যেমন সোনার কিছু বা দামি শাড়ি,আসবাব হলে আপু বা রিপা এসে নিয়ে যায় খপ করে।ওরা নাকি গুছিয়ে রাখছে।মানুষের ভীড়ে আমি হারিয়ে ফেলবো।
আমার পাশে শুধু কাঁচের,প্লাষ্টিকের গিফট গুলো রাখা।
প্রলয় এলেন আধঘন্টা পর।
চারপাশ দেখে একটা ভ্যানিটি ব্যাগ আমার হাতে দিয়ে থমথমে মুখে বললেন,”এক্সপেনসিভ কিছু উঠলে এতে রাখতে পারেন।
এগুলোই উঠেছে শুধু নাকি?”
বললাম,”না।শাড়ি-গহনা কিছু আপুর কাছে আছে।”
উনি সঙ্গে সঙ্গে চটে গিয়ে বলল,”কে বলেছে ওদের কাছে দিতে?নিজের জিনিস নিজে রাখতে পারেননা।সেটুকু সাধ্যও কী নেই?
আবার আপনি এসেছেন সংসার করতে।যে নিজের জিনিস নিজের কাছেই রাখতে পারেনা।”
উনি আমার সঙ্গে চোটপাট দেখিয়ে আপুর দিকে যেতে লাগে।তখনই আসে আমার পরিবার।আমার বাবা এসে তার হাত ধরে।কোলাকুলি করে।
ততক্ষণে আমার চোখে পানি।উনি কেন আমার সঙ্গে এতো খারাপ আচরণ করছে?কী দোষ আমার?
মা তো বলেছে উনার পরিবার মানে আমার পরিবার।সবার সঙ্গে মিলে থাকতে।আমিতো তাই করছি।তাহলে আমার ভুলটা কোথায়?
মা আসে।আমার সামনে দাঁড়ায়।মাকে দেখে আবেগ সামলাতে পারিনা আমি।হুহু করে কেঁদে উঠি।তাকে জড়িয়ে ধরি।মা আমার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলে,”কী হয়েছে মা?কাঁদছিস কেন?আমাদের কথা মনে পড়েছে খুবই?”
মাথা নাড়লাম।মিথ্যা বলেছি।সত্য বললে মা চিন্তা করবে।তিনি হাই প্রেশারের মানুষ।চিন্তায় প্রেশার বেড়ে যাবে।আমি তাদের একমাত্র,আদরের মেয়ে।
আমার কষ্টে তারা দুঃখী।
মা আমার চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল,”খেয়েছিস কিছু সারাদিন ?”
মাথা ঝাকিয়ে ‘হ্যা’ সূচক জবাব দিলাম।
মায়ের গহনা দেখে নিজের গহনার কথা মনে পড়লো আমার।কাঁদো কাঁদো মুখ করে বললাম,”নানুর দেওয়া গহনাগুলো চুরি হয়ে গিয়েছে মা।আমি পারিনি রক্ষা করতে।”
মাথা নিচু করি আমি।মা থুতনি উচিয়ে গালে হাত দিয়ে বলে,”ধূর আমার পাগলি!তোর ভুল নেই।চুরি হলে তোর কী দোষ?”
“তবুও আমার সতর্ক হওয়া উচিৎ ছিল।”
“যা গিয়েছে তা নিয়ে আর দুঃখ পেয়ে লাভ নেই।ওসব তো আর ফিরে আসবেনা।কথাটা শুনে আমি নিজেও প্রচুর চিন্তায় পড়েছিলাম।প্রথম দিন এসেই এমন একটা ঘটনা ঘটে গেল।
আমি চাইলাম কেস করতে।তোর বাবা করতে দিলনা।কেস করলে এ বাড়িতে পুলিশ আসতো।তোর স্বামী- শাশুড়িরে জিজ্ঞেসাবাদ করতো।হয়ত এতে তাদের অপমান বোধ হতো।নতুন আত্মীয়।তাই চাইলেও কোনো স্টেপ নিতে পারলামনা।
গহনার আগে আমার মেয়ের ভালো থাকা।তার সংসার!
আমরা চাইনা কোনো কারণে তার সংসারে তাকে চারটে কথা শুনতে হোক।গহনা যাবে আসবে।
আমার মায়ের গুলো গেছে তো কী?
তোর মায়ের গহনাতো আছেই।তুইও আমার একমাত্র মেয়ে।সবকিছুর অধিকারী।তোর মায়ের যা আছে,পড়ে শেষ করতে পারবিনা।
মন খারাপ করিসনা।”
মা আবারো আমায় জড়িয়ে ধরলেন। সান্ত্বনা পেয়ে মুচকি হাসলাম আমি।
মা বললেন,”দাঁড়া তোকে আমার একটা হার পড়িয়ে দেই।”
আমি নিষেধ করলাম।মা জোর করে পড়িয়ে দিতে লাগলেন
পাশ থেকে প্রলয় বলে ওঠে,”ওকে ওসব দেবেন না।রাখতে পারবেনা।”
মা একটু অবাকই হলেন বটে।তবুও নিজেকে শান্ত রেখে বললেন,”কেন বাবা?এ কথা কেন বলছো?”
“এমনিই বললাম।উনি অনেকটাই বেখেয়ালি কিনা!”
“ঐ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঠিক হয়ে যাবে।”
প্রলয় আর কিছু বলল না।
আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম।মায়েদের সবাইকে খেতে নিয়ে যাওয়া হলো।
আমায়ও নিয়ে গেল।
আমি আমার মায়ের পাশে বসলাম।আমার পাশে বসলো প্রলয়।হুট করে কোথা থেকে যেন এসেছেন উনি।
খাবার খাওয়ার সময় এতো লোকের ভীড়ে ঠিকমতো খেতে পারলাম না আমি।প্রলয় তা বুঝতে পেরে একটু উচু গলাতেই বলল,”এখনতো দেখছি আপনি অন্য কাজের সঙ্গে সঙ্গে খেতেও পারেন না ঠিক মতো।
খাদ্য,বস্ত্র,বাসস্থানের অধিকারে সবসময় এগিয়ে থাকতে হয়।”
এনার সব কথায় শুধু অধিকার!
একটু খেয়ে উঠে গেলাম আমি।মা ও আমার সঙ্গে আসেন।
একটু দূরে দাঁড় করিয়ে প্রশ্ন করেন,”তোর সঙ্গে কী জামাইবাবার কোনো ঝামেলা হয়েছে?”
“না তোহ।এমনটা কেন মনে হচ্ছে তোমার?”
“না মানে আসছি থেকে কেমন যেন কথা শুনছি।”
শুকনো হাসি দিয়ে বললাম,”উনি মানুষটাই এমন।একটু বদমেজাজি!”
মা কিছু বললেন না আর।
সময় পার হলো।বিকেল হয়ে এলো।মায়েদের সঙ্গে যাবো আজ আমরা।সব রেডি করে নিলাম।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুলের খোপা ঠিক করছি এমন সময় শাশুড়ি মা এলেন।বিছানায় বসলেন।আবার উঠলেন।কেমন নিসফিস করছে।
বললাম,”কিছু বলবেন মা?”
মা জবাবে বললেন,”বলছি কী বউমা গায়ের গহনাটা খুলেই যাও।আবার যদি চুরি হয়!”
“চিন্তা করবেন না মা।আমার বাড়িতে চুরিটুরি হয়নি কখনো।
আমি সাবধানে থাকবো,রাখবো।”
মা আর কিছু বললেন না।
মুখটা ভার করে চলে গেলেন।তখনই ঘরে ঢোকে প্রলয়।
বেশ উচ্ছসিত কন্ঠে বলে,”গুড ভেরি গুড!
এইতো দেখছি নিজের কথা নিজে বলতে শিখছেন।এভাবেই চলতে হবে।বলতেও হবে।”
উনি কথাগুলো বলে চলে যায়।
আমি উনার যাওয়ার পানে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস নিলাম।লোকটার মাথায় কী চলে জানিনা।এই ভালো তো এই খারাপ!
তৈরি হয়ে নিচে আসি।সবার থেকে বিদায় নিয়ে গাড়িতে বসি।হুট করে আমার পাশে বসে পড়ে রিপা।ও নাকি যাবে আমাদের সঙ্গে।যাক!
ভালোই হবে।
ড্রাইভারের পাশে বসে প্রলয়।
গাড়িতে রিপা আমায় আমার পরিবার বিষয়ে এটা-ওটা জিজ্ঞেস করে।বিয়েতে তেমন জানতে পারেনি।
বাড়িতে পৌঁছতেই মা ছুটলো রান্নাঘরে।একমাত্র মেয়ের জামাই এসেছে।কী রেখে কী খাওয়ানো যায়!
আমি প্রলয়কে আমার ঘরে নিয়ে গেলাম।
উনি চারপাশ দেখছেন।
দেওয়ালে তাকিয়ে রইলেন একদৃষ্টিতে।সেখানে ঝুলছে আমার আর্ট করা কিছু সিনারির ফ্রেম।
বললাম,”ওগুলো আমার করা।আই লাভ পেইন্টিং।”
উনার যেন ধ্যান ভাঙে যেন।
বললেন,”ওহ হা হু।ভালো।খুবই সুন্দর আর্ট আপনার।
তবে এগুলোর সঙ্গে আমি পরিচিত বেশ।”
বললাম,”কীভাবে?”
“বাদ দিন।অন্য একসময় বলবো।তা আপনি আর কী কী পছন্দ করেন?”
আমি কিছুক্ষণ ভেবে জবাব দিলাম,”আর তেমন তো কিছু নেই পছন্দের।তবে নাচ ভালো লাগে আমার।নাচ শিখেছিও।”
“শুধু কী নাচতেই জানেন নাকি নাচাতেও জানেন?
আমার আবার নাচনি ওয়ালি থেকে নাচানো ওয়ালিকে বেশি প্রয়োজন।”
ভ্রু কুচকে বললাম,”মানে?”
“কিছুনা বাদ দিন।আপনার ঘরটা বের সুন্দর পরিপাটি।”
এই লোকটার কথার ধরণ আমার ঠিক সুবিধার লাগছেনা।প্রচুর সন্দেহ প্রবণ একজন মানুষ।
না জানি ইনি কেমন লোক!
আচ্ছা যেমনটা উনাকে দেখছি,মানে রাগচটা,সন্দেহপ্রবণ।উনি কী আসলেই তেমন?
নাকি মুখোশের আড়ালের কোনো পিশাচ?
যা ধ্বংস করে মানব সত্তা।তৈরি করে প্রেতাত্তা!
(লেখা রাতেই হয়েছিল।কিন্তু পোস্ট দিইনি কারণ রাত অনেক ছিল তাই।অনেকে পড়তে পারতেন না।
পরবর্তী পর্ব আমি এখনই লেখা শুরু করে দেব।
তাড়াতাড়ি পেয়ে যাবেন।ধৈর্য্য নিয়ে গল্পটা পড়ুন।মন ছুয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।সামনে আরো চমক আছে।শুধু পড়তে থাকুন।পড়া শেষে রিয়েক্ট দেবেন সকলে।
টার্গেট 3k।এই রিয়েক্ট হলেই গল্প দ্রুত চলে আসবে।)
Share On:
TAGS: নাদিয়া আফরিন, প্রিয়তার পূর্ণতা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৭
-
প্রিয়তার পূর্ণতা গল্পের লিংক
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৯
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ২
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ১
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৮
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৪
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৫
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৬