#কালারব্লাইন্ড — ১৯
#সোফিয়া_সাফা
জুবার অসুস্থতার কথা শুনে আলতার বুকটা কেঁপে উঠল। অস্থির চিত্তে তড়িঘড়ি করে পা বাড়াতে গিয়েই হঠাৎ মনে পড়ে গেল আগেরবার জুবার অসুস্থতার কথা শুনে রঞ্জকের ঘরে যাওয়ার পর কী হয়েছিল তার সাথে। থমকে দাঁড়িয়ে সে পাশে দাঁড়ানো গৃহকর্মীর দিকে তাকাল। অবিশ্বাসের সুরে জানতে চাইল, “জুবা কি সত্যিই অসুস্থ?”
গৃহকর্মী অবাক হলেন। বললেন, “মেজো সাহেব মিথ্যা কেন বলবেন, সাহেবা?”
আলতা পুরোনো কথা ভেবে বিড়বিড় করল, “আর কেন? আমাকে অশান্তি দেওয়ার জন্য।”
“কিছু কি বললেন সাহেবা?” গৃহকর্মীর সংশয়ী কণ্ঠে আলতা আর কথা বাড়াল না। কেবল মাথা নেড়ে দ্রুত পায়ে সিঁড়ির দিকে হাঁটা ধরল।
রঞ্জকের ঘরের দরজায় নক করতেই ঠিক দুই মিনিটের মাথায় ভারী দরজাটা সশব্দে খুলে গেল। দরজার সামনে আলতাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে থমকে গেল রঞ্জক। পলকহীন চোখে তার পানে চেয়ে থেকে অজান্তেই ঠোঁটের ফাঁক গলে বেরিয়ে এল দীর্ঘশ্বাসের মতো এক অবুঝ প্রশ্ন, “এটা কি সত্যিই তুমি?”
প্রশ্নটা এড়িয়ে গিয়ে আলতা নিজের শাড়ির আঁচলটা মাথায় আরও একটু ভালোভাবে টেনে নিল। গলার স্বর যথাসম্ভব সাবলীল রেখে বলল, “তাসলি খালা বললেন জুবা নাকি আবার অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আপনি নাকি ওকে ওষুধ খাওয়াতে পারছেন না, তাই আমি এসেছি। আমাকে ওষুধগুলো দিন, আমি খাইয়ে দিচ্ছি।”
কথাগুলো নতদৃষ্টিতে বলে গেল আলতা। রঞ্জকের দিকে ভুলক্রমেও তাকালো না। বেশ কিছুক্ষণ পরেও রঞ্জকের মাঝে কোনো হেলদোল পরিলক্ষিত হলো না। নীরবতা দীর্ঘ হতে থাকায় আলতার দৃষ্টি অজান্তেই নেমে গেল রঞ্জকের পায়ের দিকে। লোকটার পায়জামা টাকনু ছুঁইছুঁই, ছেলেদের পাও এতো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে? সে লক্ষ্য করল, রঞ্জকের বাম পায়ে আঙুলের সংখ্যা ছয়টি! কনিষ্ঠা আঙুলের পাশ ঘেঁষে আরেকটি মাংসপিণ্ডের মতো বাড়তি আঙুলের উপস্থিতি রয়েছে।
তাকে এভাবে নিজের পায়ের দিকে গভীর মনোযোগে তাকিয়ে থাকতে দেখে রঞ্জক নিজেও হতবাক হলো। পরক্ষণেই দৃষ্টি নামিয়ে সেও তাকাল নিজের পায়ের দিকে। পায়ের এই ব্যাতিক্রমী গঠন আমলে আসতেই রঞ্জক চোখ বুজল।
পরক্ষণেই চোখ মেলে আলতার বাহু চেপে ধরল সে। এক টানে মেয়েটাকে ঘরের ভেতরে টেনে নিয়ে সশব্দে দরজা আটকে দিল। দরজার ফ্রেমে আলতার পিঠটা সজোরে সেঁটে বসল। আতঙ্কে শিউরে উঠল মেয়েটা।
“কী করছেন ছাড়ুন আমাকে।” আলতার ভীরু কণ্ঠ শ্রবণগোচর হতেই রঞ্জক তার গাল চেপে ধরল। দাঁতে দাঁত চেপে হিসহিসিয়ে উঠল, “আমার পায়ের ত্রুটি নিয়ে মনে মনে হাসি তামাশা করা হচ্ছে? হাউ ডেয়ার ইউ!”
রঞ্জকের হাতের চাপে আলতার নরম গালের মাংস ঠোঁটের কাছে থসথসে হয়ে ফুলে উঠল। নিদারুণ ব্যথায় দুহাতে রঞ্জকের হাত সরিয়ে দেওয়ার জন্য ছটফট করে উঠল সে। কিন্তু তার এই ক্ষীণ প্রতিরোধ পুরুষটিকে আরও ক্ষেপিয়ে তুলল। অন্যহাতে আলতার দুটো হাত মাথার ওপরে এনে একসাথে বন্দি করে ফেলল।
তার বন্য দাপুটে শক্তির কাছে অসহায় হয়ে পড়ে আলতা। তীব্র কষ্টে কোনোমতে ফুঁপিয়ে উঠল সে, “আমি… আমি কখনো কাউকে নিয়ে মজা করি না!”
“মিথ্যুক কোথাকার! তামাশা না করলে ওভাবে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলে কেন আমার পায়ের দিকে?”
“আ-আমি… এমন অদ্ভুত কিছু আগে কখনো দেখিনি। তা-তাই… ছেড়ে দিন আমাকে। লাগছে আমার।”
আলতার কথা বলার ধরন শুনে রঞ্জক বুঝতে পারল এগুলো সব বাস্তব। নইলে স্বপ্ন কিংবা কল্পনায় আলতা কখনো ব্যথা পাচ্ছে এটা বলে না। সে যত জোড়ই খাটাক না কেন মেয়েটা একেবারে অনড় থাকে।
আলতার গাল ছেড়ে দিল রঞ্জক। নিদারুণ চাপে লাল হয়ে উঠেছে ষোড়শীর কোমল চিবুকজোড়া। সেই লাল আভা রঞ্জকের চোখে কদাচিৎ ধরাই পড়ল না।
“আ-আমার হাত ছাড়ুন, যেতে দিন আমাকে জ-জুবার কাছে।” বারবার কণ্ঠ জড়িয়ে যাওয়ার কারণে আলতার রাগ উঠল নিজের প্রতি।
আলতার আকুতি যেন কানেই পৌঁছাল না রঞ্জকের বরং আরও কিছুটা ঝুঁকে এসে ভরাট গলায় বলল, “খাবার টেবিলে বসে আমার কথা এড়িয়ে যাওয়ার সাহস পেলে কোথায়?”
আলতার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে এলো। চোখ তুলে তাকালো রঞ্জকের জ্বলন্ত চোখের দিকে। লোকটা আরও কিছুটা কাছাকাছি এসে ফিসফিস করে উঠল, “তুমি জানো, আমাকে উপেক্ষা করার অপরাধে আমি তোমার কী হাল করতে পারি?”
রঞ্জকের গরম নিঃশ্বাস কপালের ওপর আছড়ে পড়তেই আলতা মুখটাকে একপাশে ফিরিয়ে নিল। লোকটা যেন কোনো এক অদ্ভুত ঘোরগ্রস্ত নেশায় বুঁদ হয়ে বলে উঠল, “আর কখনো আমাকে উপেক্ষা করার স্পর্ধা দেখালে আমি তোমাকে…”
রঞ্জক থেমে গেল। আলতা শুষ্ক গলায় কথার রেশ ধরলো, “ক-কী করবেন?”
“আমি নিজেও জানি না। আর তুমিও জানতে চেও না।”
“আপনি দয়া করে ছাড়ুন আমাকে।”
“গ্লাভস পরে নিয়েছি। আমার হাত নোংরা হবে না। আমি তোমাকে ততক্ষণ ধরে থাকবো যতক্ষণ না আমার ছাড়তে মন চাইবে।”
কথাগুলো শুনে আলতার সমগ্র শরীর বিষিয়ে উঠল। তবু চুপটি করে দাঁড়িয়ে রইল সে। এই দৈত্যসম মানুষটার বেহিসেবি শক্তির সাথে পেরে ওঠার কোনো অবকাশই নেই। সামান্য খোঁচা মেরে নিজের বিপদ ডেকে আনার মানেই হয় না।
আলতাকে নিস্তব্ধ হয়ে চোখ বুজে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রঞ্জক নিজেকে সংযত করে মুক্ত করে দিল তাকে। তবে পুরোপুরি ছাড়ল না; দরজায় দুই হাত ঠেকিয়ে দুই বাহুর মাঝখানে একটা আবদ্ধ বলয়ের মধ্যে আটকে রাখল তাকে। এদিকে মুক্তি পাওয়া মাত্রই আলতা পিটপিট চোখে তাকাল। রঞ্জককে এত কাছে দেখে তার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল, অস্বস্তি জাঁকিয়ে বসল মনে। কোনোমতে টুপ করে রঞ্জকের হাতের নিচ দিয়ে হাঁসফাঁস করতে করতে বেরিয়ে এল সে।
“জুবার ওষুধগুলো দিন আমাকে। আমি ওকে খাইয়ে দিচ্ছি।” তড়িৎ গতিতে ফটাফট বলে উঠল আলতা।
আলতাকে এভাবে চোখের পলকে হাতের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে দেখে রঞ্জক কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে চেয়ে রইল। এই সুযোগে আলতা দ্রুত পায়ে বেডরুমের দরজার সামনে হাজির হলো, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে লক থাকায় ঢুকতে পারল না।
“এই নাও।” পেছন থেকে রঞ্জকের ভারী কণ্ঠস্বর ভেসে আসতেই চমকে ঘুরে দাঁড়াল আলতা। রঞ্জক তার দিকে ছোট একটা বক্স এগিয়ে দিচ্ছে। বক্সটি দেখেই আলতার চোখ দুটো বিস্ময়ে কপালে উঠল! কারণ এটি সেই কন্ট্যাক্ট লেন্সের বক্স; যেটা থেকে কয়েকদিন আগে রঞ্জক তাকে লেন্স পরিয়ে দিয়েছিল।
“আপনি ওটা আমাকে দিচ্ছেন কেন?”
“কারণ এটাই হচ্ছে জুবার মেডিসিন।”
আলতা ভ্রূ কোঁচকায়, “মিথ্যা কেন বলছেন? ওটার মধ্যে তো চোখে লাগানোর লেছ। ওটা কীভাবে ওষুধ হতে পারে?”
রঞ্জক চোখ গোল গোল করে বলল, “বাব্বা! তুমি দেখি লেন্সও চেনো?”
“তাঁরা আপু তো ওটাকে লেছই বলেছিল। আমি ভুল না হলে ওটার নাম কনটাক-লেছ।”
রঞ্জক আচমকা মুচকি হেসে ফেলল। তাকে হাসতে দেখে কাঁচুমাচু ভঙ্গিতে দাঁড়াল আলতা।
“হাসছেন কেন?”
“কন্ট্যাক্ট লেন্স বলে এটাকে।”
“আমিও তো তাই বললাম।”
“উঁহু, তুমি ভুল বলেছো।”
“একদম না। আমি ঠিকই বলেছি।”
“আচ্ছা, বেশ! তাহলে আবার বলো শুনি।”
আলতা বলতে গিয়েও বলল না।
“কী হলো? বলো।”
“বাদ দিন ওসব। দরজাটা খুলে দিন।”
“উঁহু, আজ দরজা খোলা যাবে না।”
“মানে? তাহলে জুবাকে ওষুধ খাওয়াবো কীভাবে?”
রঞ্জক বক্সটা আলতার বুকের ওপর আলতো করে ঠেলে দিয়ে গম্ভীর গলায় বলল, “আগামীকাল থেকে তুমি কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করবে।”
“আমাকে… আমাকে ওগুলো রোজ চোখে পরতে হবে?”
“হুম।”
“না না। আমি পারবো না।”
“তাহলে আমিও দরজা খুলবো না।”
“কেন খুলবেন না? ওগুলো চোখে পরার সাথে জুবার অসুস্থতার কী সম্পর্ক?”
“সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু তুমি যেদিন এগুলো পরে কলেজে যাবে সেদিন আমি বাড়িতে ফেরার পর জুবার সাথে সময় কাটাতে পারবে। তুমি জুবার সাথে সময় কাটালে জুবার মন ভালো থাকবে, ফলে জুবা ঘনঘন অসুস্থ হয়েও পড়বে না।”
আলতা চোখ ছোট ছোট করে সন্দিগ্ধ গলায় জানতে চাইল, “আপনি কেন চাইছেন আমি ওগুলো পরি? আমি ওগুলো পরলে আপনার কী লাভ?”
“তা জেনে তোমার কোনো লাভ নেই।”
রঞ্জক একটু ইনিয়েবিনিয়ে বলল, “যতদিন আমাদের ডিভোর্স হচ্ছে ততদিন তোমাকে খারাপ নজর থেকে রক্ষা করাটা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।”
“খ-খারাপ নজর?”
“হ্যাঁ, তা নয়তো কী? তুমি আস্ত একটা ইমম্যাচিউর মেয়ে, তাই বুঝতে পারছো না তোমার ওই চুল আর চোখদুটো কীভাবে তোমার বিপদ ডেকে আনতে পারে।”
আলতা এবার বক্সটা খানিকটা দূরে ঠেলে দিয়ে বলল, “আপনাকে এত দায়িত্ব পালন করতে হবে না। তাছাড়া ওগুলো পরলে আমার চোখে ব্যথা করে। দেখেছিলেনই তো সেদিন আমার চোখে ওগুলো পরিয়ে দেওয়ার পর কী অবস্থা হয়েছিল আমার!”
রঞ্জক বোঝানোর চেষ্টা করল, “শোনো, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই লেন্সগুলো খুব হাই কোয়ালিটির; একটানা বারো ঘণ্টা পরে থাকলেও কিচ্ছু হবে না। শুধু খেয়াল রাখবে পানি যেন না লাগে, আর হাত দিয়ে ঘষাঘষি করবে না।”
“আ-আমি পারব না ওগুলো চোখে লাগাতে।”
“আমি প্রতিদিন সকালে নিজ হাতে লাগিয়ে দেবো।”
“আর খুলব কীভাবে? আ-আমি তো খুলতেও পারব না!”
“আমি অফিস থেকে যখন ফিরব, তখন নিজেই খুলে দেবো।”
“তার চেয়ে ভালো আপনি আমার জুবাকে ফিরিয়ে দিন।”
“তুমি জুবাকে তখন পাবেন যখন আমার কথা শুনবে নয়তো ভুলে যাও ওর কথা।”
রাগে-ক্ষোভে আলতার সারা শরীর কাঁপতে লাগল। সে কটমট চোখে তাকিয়ে বলল, “আপনি খুব খারাপ! ভীষণ বাজে লোক আপনি!”
কথাটা শুনে রঞ্জক আলতার দিকে এগোতে লাগল। লোকটার সেই ক্রুদ্ধ উপস্থিতি সইতে না পেরে আলতা পিছাতে পিছাতে একপর্যায়ে পিঠটা দরজার গায়ে ঠেকে গেল। আর এক চুলও পেছানোর উপায় নেই।
দাঁতে দাঁত চেপে রঞ্জক চরম আক্রোশে গর্জে উঠল, “আমি তোমাকে খারাপ নজর থেকে বাঁচাতে চাইছি আর তুমি কি না আমাকেই খারাপ বলছো?”
দরজার সাথে সেধিয়ে গেল আলতা। ভয়ে করলেও বলল, “হ্যাঁ বলছি।”
“তাহলে এটাও স্পষ্ট করে বলো—আমি ঠিক কতটা খারাপ? তোমাকে সেদিন যারা ধ র্ষণ করেছিল, তাদের চেয়েও কি বেশি খারাপ আমি?”
আলতার শ্বাসপ্রশ্বাস এলোমেলো হলো। কোনো এক পুরনো আতঙ্কের বশবর্তী হয়ে বুকের ছাতি দ্রুত লয়ে ওঠানামা করতে লাগল, মুখটা বিবর্ণ হয়ে গেল। ষোড়শীর শারীরিক অবস্থার এই হঠাৎ অবনতি নজরে আসতেই রঞ্জক চোখ বুজে নিজেকে সামলে নিল, ধাতস্থ হয়ে তড়িঘড়ি কয়েক পা পিছিয়ে গেল সে। বক্সটা আবার বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “তোমার যা ইচ্ছা তাই ভাবতে পারো আমাকে। শুধু জেনে রাখো, জুবার সাথে দেখা করতে হলে তোমাকে আমার কথা শুনতে হবে।”
আলতা আর কথা না বাড়িয়ে কাঁপাকাঁপা হাতে বক্সটা নিয়ে দরজার দিকে পা বাড়াতে যাবে, ঠিক তখনই রঞ্জক খপ করে তার হাতটা চেপে ধরল এবং এক মোচড়ে তাকে আবার দরজার গায়ে আছড়ে ফেলল। আলতা নিজেকে ধরে রাখতে পারল না, চেঁচিয়ে উঠল সে।
“ছাড়ুন আমাকে। আমি ঘৃণা করি আপনাকে।”
হঠাৎ আলতার মুখে ‘ঘৃণা’ শব্দটা শুনে রঞ্জক এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেলেও পরমুহূর্তেই নির্লিপ্ত মুখে ভেতরের অস্থিরতা চেপে আওড়াল, “সেইম টু ইউ। শুধু এটা বলো, কলেজে যাদের সাথে বন্ধুত্ব করেছো, তারা ছেলে নাকি মেয়ে।”
আলতা গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে নিজের হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করতেই রঞ্জক ক্ষুব্ধ হয়ে বলল, “তুমি কি আমার কোনো প্রশ্নের উত্তর আমাকে বিরক্ত না করে সোজাসাপ্টা দিতে পারো না?”
আলতা উর্ধ্বশ্বাসে জবাব দিল, “মেয়ে।”
ব্যস রঞ্জক ছেড়ে দিল আলতাকে। ষোড়শীও সোজা গটগট পায়ে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।
সকালবেলা।
কলেজের জন্য পুরোদস্তুর তৈরি হয়ে আলতা হাজির হলো রঞ্জকের ঘরের সামনে। রঞ্জক তখন ঘুমে বিভোর ছিল। কলিংবেলের শব্দে ঘুমঘোলা চোখে দরজা খুলে সামনে আলতাকে দেখে থতমত খেয়ে গেল।
“তুমি? এতো সকাল বেলা?”
আলতা হাতের তালুটা সামান্য উঁচিয়ে ধরে কন্ট্যাক্ট লেন্সের কেসটা দেখিয়ে নিস্পৃহ কণ্ঠে বলল, “জি, আপনি বলেছিলেন এটা পরিয়ে দেবেন।”
“ওহ্, হ্যাঁ… মনে পড়েছে। দাঁড়াও একটু।” বলেই রঞ্জক দ্রুত হাতে গ্লাভস এঁটে আবার দরজায় ফিরে এলো।
আলতা বলল, “আমি ধারা আপুর কাছে গিয়েই পরে নিতে পারতাম কিন্তু আপনি আবার বিশ্বাস নাও করতে পারেন যে আমি এটা পরেছি। তাই এখানেই চলে এলাম।”
রঞ্জক হালকা হেসে বলল, “ভালো করেছো। প্রতিদিন আমার কাছেই আসবে।”
খুব সাবধানে আলতার চোখে লেন্সদুটো পরিয়ে দিতে উদ্যত হলো রঞ্জক। আলতার চিবুকটা এক হাতে আলতো করে আকড়ে ধরল লেন্স পরানোর সময়, ব্যথার আশঙ্কায় মেয়েটা অজান্তেই রঞ্জকের হাতটা শক্ত করে খাবলে ধরেছিল। রঞ্জক এক মুহূর্তের জন্য আলতার সেই ভীত স্পর্শে কিছুটা হড়বড়িয়ে গেলেও, শেষ পর্যন্ত লেন্স দুটো পরিয়ে দিতে সক্ষম হলো।
লেন্স দুটো চোখে বসমাত্রই অদ্ভুত অস্বস্তিতে চোখের কোণ বেয়ে ঠান্ডা পানির ধারা গড়িয়ে নামল আলতার। রঞ্জক নিজের পায়জামা স্যুটের হাতা টেনে মুছিয়ে দিল তার চোখজোড়া।
আলতা চোখ পিটপিট করে তাকাতে তাকাতে বিড়বিড় করে উঠল, “এই যা! নোংরা হয়ে গেল তো আপনার জামাটা।”
রঞ্জক হকচকিয়ে গিয়ে ধাতস্থ হয়ে বলল, “ধুয়ে নেব।”
আলতা প্রত্যুত্তর না করে হাঁটা ধরতেই রঞ্জক পিছু ডাকলো, “লেন্স পরে ঘুমানো যাবে না, পানি লাগানো যাবে না আর চোখে হাত দিয়ে ঘষাঘষি করা থেকেও বিরত থেকো।”
আলতা পিছু ফিরে বলল, “আমি মনে রাখার চেষ্টা করবো।”
“চেষ্টা করবে মানে? তোমাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে।”
আলতা মুখ বাকিয়ে সামনে ফিরে বলল, “মনে থাকলে থাকবে, না থাকলে নাই। উনিশ থেকে বিশ হলে তো আমার চোখই নষ্ট হবে! যা ক্ষতি হওয়ার তা তো আমারই হবে, তাতে আপনার কী আসে যায়?”
পিছনে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল রঞ্জক। আলতার অবয়ব দৃষ্টির অগোচরে যেতেই আপনমনে বিড়বিড় করল, “আস্ত একটা ইমম্যাচিউর গার্ল।”
নিচে নেমে আলতা দেখল, ধারা নিপুণহাতে খাবার পরিবেশন করে চলেছে। মাঝে মাঝে আলতার ইচ্ছা করে তাকে একটু সাহায্য করতে, কিন্তু সংকোচ আর জড়তার ঠেলায় করে উঠতে পারে না।
আলতাকে সিঁড়ি বেয়ে নামতে দেখে ধারা উচ্ছ্বসিত মেজাজে ডেকে উঠল, “আরে বসো বসো, আলতা রাণী! আজকের রান্নাটা খেয়ে তুমি একদম ফিদা হয়ে যাবে।”
ধারার হাসিমুখ দেখে আলতার মনটাও ভালো হয়ে গেল। এদিকে কথায় কথায় হঠাৎ আলতার চোখে চোখ পড়তেই কপাল কুচকে গেল ধারার, “ওমা! তোমার চোখ এমন কালো দেখাচ্ছে কেন? নাকি আমিও কালারব্লাইন্ড হয়ে গেলাম?”
“আরে না না আপু। আমি চোখে ওই লেছ না ফেছ… ওটা লাগিয়েছি।”
“কিহ!” লাফিয়ে উঠে টেবিল ঘুরে আলতার কাছে চলে এলো ধারা। মুখটা দু’হাতের আঁজলায় তুলে নিয়ে চিন্তিত কণ্ঠে বলল, “দেখি দেখি চোখটা! আবার কেন ওসব ছাইপাঁশ লাগাতে গেলে?”
“কিচ্ছু হবে না আপু। আমি ঠিক আছি।”
ধারা এরপর আরও অনেক প্রশ্ন করতে লাগল। এরইমধ্যে রঞ্জক হাতমুখ ধুয়ে চলে এলো টেবিলে। ধারা তাকে দেখে হাসিমুখে বলল, “আরে তুই পায়জামা স্যুট পরেই খেতে এসেছিস? সূর্য আজ কোনদিক দিয়ে উঠল?”
রঞ্জক আঁড়চোখে একবার আলতার দিকে তাকিয়ে দেখল মেয়েটা ধারার দিকে তাকিয়ে আছে। রঞ্জক খাবারের প্লেট সোজা করতে করতে বলল, “খুব ক্ষুধা লেগেছে। তাই ভাবলাম, খেয়েদেয়ে তারপর ধীরেসুস্থে রেডি হবো।”
ধারা হাসিমুখে রঞ্জককে খাবার বেড়ে দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। ওদিকে আলতা তাদের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে হঠাৎ নিচু গলায় ডাকল, “ধারা আপু।”
ধারা এগিয়ে যেতেই আলতা গলার স্বর খাঁদে নামিয়ে বলল, “রাতে উনি তোমার সাথে অত বড় কাণ্ড করার পরেও কথা বলছো? আমার ভাই যদি ওমন করতো না, আমি অন্তত একসপ্তাহ কথাই বলতাম না তার সাথে।”
কথাটা আলতা খুব আস্তে বললেও চারপাশটা একদম নীরব থাকায় রঞ্জকের কানে ঠিকই পৌঁছে গেল। ধারা তেড়ছা চোখে রঞ্জককে দেখে নিয়ে মুখ টিপে হেসে বলল, “আমিও তো কথা বলতাম না। কিন্তু রাতেই ও আমার মান ভাঙিয়ে ফেলেছে। তুমি বিশ্বাস করবে না আমার রাগ ভাঙাতে পুরো ছয়বার আপু বলে ডেকেছে। তুমিই বলো তারপরও কি রাগ করে থাকা যায়?”
“আ-আপু বলেছে?”
“এই দেখলে তুমিও জানতে না যে আমি ওর বড়? কি তাই তো?”
আলতা উপরনিচ মাথা নাড়তেই ধারা ঠোঁট চেপে হেসে বলল, “জানবে কীভাবে ‘আপু’ বলে না তো খারুশ একটা। ইঁশ রাতে যদি ভিডিও করে রাখতাম তাহলে দেখাতে পারতাম কীভাবে আপু বলে ডেকেছিল। কী যে কিউট লাগছিল না।”
রঞ্জকের গালে লাল আভা ফুটে উঠল। দৃষ্টি প্লেটে নিবদ্ধ রেখে বলল, “ওই তরকারি কী দিবি না নাকি? আমি কি শুধু রুটি চিবাবো?”
“হ্যাঁ, দিচ্ছি বাবা!” বলেই ধারা টেবিলের অন্যপাশে গিয়ে তার প্লেটে তরকারি তুলে দিতে উদ্যত হলো।
আলতা মনে মনে কল্পনা করার চেষ্টা করল, রঞ্জক যখন ‘আপু’ ডেকেছিল, তখন লোকটাকে ঠিক কেমন দেখাচ্ছিল! কিন্তু সে কিছুতেই কল্পনা করতে পারল না। কেবল ঠোঁটের কোণে স্ফীত হাসি ফুটল। তার চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠতে দেখে রঞ্জক থমকালো কয়েক দফা।
আরিজ মাহতাবির বাদে একে একে সবাই খাবার টেবিলে উপস্থিত হলো। আলতাকে একই প্রশ্নের সম্মুখীন বেশ কয়েকবার হতে হলো৷ ধারাকে যা বলেছে বাকিদেরকেও তাই বলে দিল সে।
কলেজে এসে আলতা দেখল শায়েরী আজকেও আগেভাগে চলে এসেছে। তারা দুজন পাশাপাশিই বসলো। শায়েরী প্রথম যে বিষয়টি খেয়াল করল, তা হলো আলতার চোখ; সে প্রশ্ন করতেই আলতা প্রত্যুত্তর করল, “লেছ লাগিয়েছি গো।”
শায়েরীর কয়েক সেকেন্ড লাগল কথাটা বুঝতে। অতঃপর বুঝতে পেরে বলল, “ওটা লেছ নয় লেন্স হবে।”
“লেএএছ?”
“না, লেএএনস্।”
“লেএএএএএএএ—”
“হুম বলো।”
“লেএএএন্স।”
“এই তো হুম এটাই বলে।”
“আম… থ্যাংক-উ।”
শায়েরী মাথা নাড়ল, “ইন ফ্রেন্ডশিপ, দেয়ার ইজ নো সরি অ্যান্ড নো থ্যাংক ইউ।”
“হুউম?” আলতাকে বিভ্রান্ত হয়ে পড়তে দেখে শায়েরীর খটকা লাগল।
“কিছু মনে না করলে একটা প্রশ্ন করি?”
আলতা সায় দিল, “হুম, করো না।”
“আচ্ছা, তুমি কি ইংলিশে কাঁচা?”
আলতা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। তার মুখের ভাব দেখে শায়েরী কথা ঘুরিয়ে ফেলল, “বাদ দাও। এটা বলো যে কাল রাতে তুমি আমাকে কল দিলে না কেন?”
“বলেছিলাম না আমার ফোন নেই তো।”
“তোমার বাড়ির অন্য কারোও নেই?”
“আছে কিন্তু…”
“বুঝেছি, বেশি বলতে হবে না আমাকে। ওমন একটা বদমেজাজি ভাই থাকলে জীবন এমনিতেই তেজপাতা।”
“এভাবে বোলো না শায়েরী…”
আর কিছু বলার আগেই ক্লাসে স্যার চলে এলেন। ক্লাস চলাকালীন পুরো সময়টা আলতা সর্বাত্মক মনোযোগী থাকার চেষ্টা করল, যদিও স্যারের লেকচার বরাবরের মতোই মাথার ওপর দিয়ে গেল তার।
দুপুরের লাঞ্চ টাইমে তারা দুজন মিলে ক্যাফেটেরিয়ায় এসে বসল খাবার খেতে। আজ আলতা খাবার কেনার সময় ফারিশের দেওয়া কার্ড ব্যবহার করেছে। খাবার খাওয়ার সময় হঠাৎ আলতা লক্ষ্য করল আজকে আর ঋতু তাদের কাছেপিঠেও ঘেঁষছে না। তাদেরকে দেখে একেবারে পেছনের টেবিলে গিয়ে বসেছে। দৃশ্যটা দেখে আলতার খারাপ লাগলেও, নিজ উদ্যোগে গিয়ে তাদের সাথে কথা বলার সাহস পেল না।
আলতার এই দ্বিধা ও মন খারাপের বিষয়টি খেয়াল করল শায়েরী। সে চট করে একহাতে খাবারের ট্রে সামলে আরেকহাতে আলতাকে টেনে নিয়ে চলল ঋতুদের টেবিলের দিকে।
দূর থেকে তাদের এগিয়ে আসতে দেখেও ঋতু এমন ভান করল যেন সে তাদের দেখতেই পায়নি! শায়েরী ও আলতা তাদের টেবিলে বসার সাথে সাথেই ঋতু ও কোয়েল দাঁড়িয়ে পড়ল। তাদের অদ্ভুত আচরণে ত্যাক্ত হয়ে শায়েরী চাপা গলায় বলল, “ডোন্ট ইউ ডেয়ার মেক হার ফিল নেগলেক্টেড!”
আলতা বুঝতে না পারলেও ঋতু আর কোয়েল তার হুমকিতে ভয় পেয়ে চুপচাপ বসে পড়ল। শায়েরী ভাবেনি তার ফাঁকা হুমকি এতোটা কাজে দেবে। সে এবার নিজেও চরম বিরক্ত তাদের অতিমাত্রিক আচরণে।
“তুমি কি আমার ওপর রেগে আছো ঋতু আপু?” আলতা প্রশ্নটা করেই ফেলল।
ঋতু আমতা আমতা করে বলে উঠল, “আরে না না, একদম না!”
পাল্টা প্রশ্ন করল, “আ… আলতা তোমার সাথে ফারিশ মাহতাবিরের কী সম্পর্ক খুলে বলো তো।”
আলতা ফারিশের শিখিয়ে দেওয়া কথাটাই বলল, “সে আমার কাজিন হয়।”
কথাটা শুনে শায়েরী খাবারের চামচটা প্লেটে রেখে অবাক হয়ে ফিরে তাকাল, “কী! ওই লোকটা তোমার আপন ভাই নয়?”
আলতা ডানে বায়ে মাথা নাড়ল। শায়েরী হাঁফ ছেড়ে বাঁচার মতো করে বলল, “তাই তো বলি, ওমন হাড়ে বজ্জাত লোকের বোন এতো মিষ্টি কী করে হতে পারে।”
ফারিশকে নিয়ে শায়েরীর করা মন্তব্যটা ভালো লাগল না আলতার। সে সংকুচিত গলায় প্রতিবাদ করতে চাইল, “শায়েরী!”
শায়েরী হাত তুলে বলল, “ঠিক আছে, আর কিছু বলবো না।”
শায়েরী আরও কিছু বলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে কোত্থেকে যেন টেবিলে এসে হাজির হলো এক ক্যাটারিং বয়; সে তাদের টেবিলে ট্রে ভর্তি হরেক রকমের খাবার দাবার সার্ভ করে দিয়ে চলে গেল। আলতা অবাক হয়ে মাথা তুলে তাকাতেই দেখল, একটু দূরেই দাঁড়িয়ে আছে শ্রেয়ান!
শ্রেয়ানকে এগিয়ে আসতে দেখে ঋতু আর কোয়েলের অবস্থা শোচনীয়; তারা ভয়ে তড়িৎ গতিতে চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। চোখ নিচু করে কাঁপাগলায় বলল, “গুড আফটারনুন, সিনিয়র!”
শ্রেয়ান তাদের দিকে তাকাল পর্যন্ত না। তার দৃষ্টি পুরোপুরি আটকে ছিল আলতার ওপর। শায়েরী কেমন বিরক্ত গলায় বলল, “ওহ হো ভাইয়া। তোমাকে আমি বলেছিলাম কলেজে এমন ফরমালিটি দেখানো লাইক করি না আমি।”
শায়েরীর মুখ থেকে ‘ভাইয়া’ ডাকটি শুনে আলতা রীতিমতো চমকে গেল! শ্রেয়ান মৃদু হেসে নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলল, “হাউ রুড! তোকে তোর বন্ধুদের সাথে বসে গল্প করতে দেখে পরিচিত হতে এলাম আর তুই কী না আমাকে তাড়িয়ে দিচ্ছিস?”
“তাড়িয়ে কখন দিলাম, ভাইয়া? অল্রেডি সবাই জানে আমি তোমার বোন। প্রথমদিনই তো কলেজের সবার সামনে ঢোল পিটিয়ে জানিয়ে দিয়েছো।”
“আর ইউ সিওর? সবাই জানে এটা?”
আলতার দিকে শ্রেয়ানকে তাকিয়ে থাকতে দেখে শায়েরী কপালে হাত দিয়ে বলল, “এই যা, আলতা তো নিউ স্টুডেন্ট। ও জানে না হয়তো।” তারপর সে আলতার কাঁধে হাত রেখে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলল, “এই যে আলতা পরিচিত হও, এই হলো আমার বড় ভাই মিস্টার শ্রেয়ান ইবনাদ। আর ভাইয়া ও হলো আমার ফ্রেন্ড আলতা রেহবার।”
শ্রেয়ান হাত নেড়ে মুচকি হেসে বলল, “লাভলি টু মিট ইউ, আলতা।”
আলতা আড়ষ্ট ভঙ্গিতে এদিক-ওদিক তাকাতেই শায়েরী একবার তাকে দেখে নিয়ে ঋতু ও কোয়েলের অভিব্যক্তি লক্ষ্য করল। হাত নেড়ে তাদেরকে ইশারায় বসতে বলে মুখে আওড়াল, “আরে এতো ফরমালিটি দেখানোর কোনো প্রয়োজন নেই। সে আমার ভাই হয় কোনো এমপি মিনিস্টার নয়। বসো তোমরা, নিজেদের মতো খাবার এনজয় করো।”
তারা দুজন তবু বসলো না। পারছে না খালি এখান থেকে পালিয়ে যেতে। একবার শুনেছিল তাকে দেখে পালিয়ে যাওয়ার কারণে একটা মেয়েকে কলেজ থেকে ড্রপআউট হতে হয়েছিল! শায়েরীর বিরক্তির মাত্রা ক্রমশ বাড়তে লাগল।
শ্রেয়ান তাদের থমথমে মুখের দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা গলায় প্রশ্ন করল, “শুনতে পাওনি আমার বোন কী বলেছে?”
দুজনেই ধপ করে বসে পড়ল। তখনই আরেকপাশে এসে দাঁড়াল ফারিশ। মুহূর্তেই পুরো ক্যাফেটেরিয়ার পরিবেশ গরম হয়ে উঠল। আশেপাশের সবাই তাদের দিকে তাকিয়ে নিজেদের মধ্যে ফিসফাস শুরু করল। শায়েরী কিছু বলতে যাবে তার আগেই ফারিশ আর শ্রেয়ানকে পরস্পরের দিকে শীতল চোখে চেয়ে থাকতে দেখে হতবুদ্ধি হয়ে গেল।
এদিকে ঋতু আর কোয়েলকে অনবরত ঢোক গিলতে দেখে আলতাও শায়েরীর মতোই বোকা বনে গেল।
চলবে…
Share On:
TAGS: কালারব্লাইন্ড, সোফিয়া সাফা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কালারব্লাইন্ড পর্ব ৬
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৫০
-
কালারব্লাইন্ড পর্ব ১১
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৪০
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩৯
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৭৫
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৫৩
-
কালারব্লাইন্ড পর্ব ১৭(ক+খ)
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৬৮
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৭৬