ভালোবাসি সুচরিতা— ২২
যদিও শীতকাল নয় তবুও মৃদু, ফিনফিনে বাতাস এসে এমন ভাবে গায়ে জেঁকে বসছে যে একটু পরপরই কাঁপুনি দিচ্ছে গা। চারপাশে ঝিঁঝি পোকার ডাক ব্যতীত শোনা যাচ্ছে না অন্য কোনো শব্দ। সেই ডাক ভেদ করেই সামনে থাকা ছেলেমেয়ের দলটায় থাকা মেয়েগুলো কী কথায় যেন হেসে হেসে পড়ছে। হাসির সেই রিনরিনে শব্দ চা বাগনটিকে জিইয়ে রেখেছে আনন্দে।
“ভাই, আপনি এভাবে ছুটলেন কেন? আমিতো পথ হারিয়ে ফেলেছিলাম আপনাকে খুঁজতে গিয়ে।”
সিকান্দার হাঁপাচ্ছে। ও যে সত্যিই খুঁজেছে মেজবাহ্’কে তা ওর হাঁপানো দেখলেই বোঝা যাচ্ছে।
মেজবাহ্’র একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা ধ্যান স্বচ্ছ কাঁচের মতো ভেঙে গেলো সিকান্দারের সেই সাগ্রহে করা প্রশ্নে। ওর ভ্রু কুঁচকে আসে আপনা-আপনি। সিকান্দার ওর পিছনে পিছনে এখানে এসে পড়ল কীভাবে? ছেলেটার এতদিকে খেয়াল!
“তুই এসেছিস কেন? আমাকে খুঁজতে বলেছে কে তোকে? আমি কি বাচ্চা? হারিয়ে যাব?” পরপর মেজবাহ্’র একাধিক প্রশ্নে শ্বাস ফেলার ফুরসত পেলো না সিকান্দার। হাত দিয়ে ইশারা করে মেজবাহ্’কে থামার অনুরোধ করল।
“থামেন, ভাই। এত প্রশ্ন এক সাথে করলে উত্তর দিবো কীভাবে?”
“মুখ দিয়ে দিবি। আমার পেছনে গোয়ান্দা হয়েছিস না-কি?”
“আপনি ঘর থেকে এভাবে ছুটলেন যে আমিও বাধ্য হয়ে ছুটেছি। এভাবে ছুটেছিলেন কেন, ভাই? কিছু হয়েছে?”
সিকান্দারের প্রশ্নে মেজবাহ্’র যেন এতক্ষণে হুঁশ ফিরলো। এতক্ষণে ওর মনে পড়ল ও ছুটেছিলো কেন! এক জোড়া চোখের দিকে তাকিয়ে ও সব ভুলে বসেছিলো! কীভাবে ভুলল?
এক জোড়া চোখের কথা মনে পড়তেই মেজবাহ্ আবার ঘুরে দলটির দিকে তাকাতেই খেয়াল করল ওরা প্রত্যেকে চলে যাচ্ছে নিজেদের বাংলোর ভেতরে। হাসি আড্ডায় মাতোয়ারা দলটির বিশ্রামের তাগিদ অনুভব হয়েছে হয়ত।
সিকান্দার ধৈর্যহারা হলো, “ভাই, এখানে কেন এসেছেন? কিছু প্রয়োজন হলে আমাকে বলতেন! এত রাতে এখানে আসার দরকার কী ছিলো?”
মেজবাহ্ উত্তর না দিয়ে ফুঁস করে শ্বাস ফেলল। ও যে কাজের জন্য এসেছিলো সেই কাজ ব্যতীত সবই করেছে অথচ কাজটাই করা হলো না। তখন রিমঝিম ঐভাবে বলাতেই তো ছুটে এসেছিলো। একটি অপরিচিত লোকের খোঁজে। অথচ খুঁজতে এসে আটকে গিয়েছে এমন দুটো চোখের দিকে যেন তার কতকালের চেনা। অথচ সে যে চেনে না এই মানুষগুলোকে। পেছন ঘুরে থাকা ছেলেগুলোর যদিও মুখ দেখেনি ও তবুও দেখলেও হয়ত চেনার কথা নয়। তবে কোন ঘোর ওকে আটকে দিয়েছিলো এমন মন্ত্রমুগ্ধের মতো?
“যেই কাজে এসেছিলাম তা হলো না তো, সিকান্দার। বলে আর লাভ নেই।”
মেজবাহ্’র হেঁয়ালিপূর্ণ কথা বোধগম্য হলো না সিকান্দারের। কী কাজ, কোন কাজ কিছুই বুঝলো না ও।
“কী কাজ, ভাই? আমায় বলেন, আমি করে দিচ্ছি।”
“তুই করতে পারলে কি আর আমি আসতাম? যাই হোক, বাংলোতে ফিরে চল। রাত নেমেছে অনেক।”
“ফিরেতো যাবো, ভাই, কিন্তু ভাবী দেখলাম আপনার ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন ঠাঁই। উনাকে উনার ঘরে যেতে বললাম, গেলেন না। উনার কি কিছু হয়েছে?”
“ও ঘরে ফিরে যায়নি?”
“না।”
সিকান্দারের কথায় মেজবাহ্’র কোঁকড়ানো ভ্রু কুঁচকে থাকলো আরও কতক্ষণ। এই মেয়েটা ওকে গোলকধাঁধায় ফেলে দিয়েছে আজ। এতদিন বলল ও নাকি এতিম অথচ আজ রাতারাতিই ওর বাবার উদয় হলো। সেই বাবার জন্য মেজবাহ্’কে অন্ধের মতো ছুটতে হলো। মেয়েটা চাচ্ছেটা কী!
আর দাঁড়ালো না সে। সিকান্দারকে সঙ্গে আসার ইশারা করেই হনহন করে হাঁটতে আরম্ভ করল। এরপর কী যেন ভেবে একবার পেছনের বাংলোটিকে আরেক পলক দেখে বাতাসেই নির্দেশ ছুঁড়ল, “এই বাংলোটায় খেয়াল রাখিস তো, সিকান্দার। এখানে কে কে উঠেছে। কোথাকার মানুষ। আমাকে জানাস।”
অন্ধকারে টর্চ ধরিয়ে সিকান্দার পথ উজ্জ্বল করতে করতে নির্বোধের মতো মাথা নাড়ালো। যদিও মেজবাহ্ তা দেখলো না তবে সে জানে সিকান্দার তার দেওয়া সমস্ত কাজই মনযোগ দিয়ে করবে। এতটুকু এই ছেলের প্রতি ভরসা তার রয়েছে।
…
টুইটুবানির ভোরে ঘুম ভাঙার অভ্যেস। বাড়িতে ও ঘুম থেকে উঠেই সবার জন্য চা-নাস্তা তৈরি করে। সবাইকে ডেকে উঠায়। বাংলোতে সেই কাজটি আজ করল না। আজ ওর ঘুম ভেঙেছে একটু বেশি ভোরে। চারপাশে এখনও কুয়াশার ঝাঁক গাছপালা ফুঁড়ে ফুঁড়ে ছুটছে। এত ভোরে কেউ-ই উঠবে না। সকলেই বেশ রাত করে ঘুমিয়েছে কি-না!
তাই ও উঠেই বেরিয়ে পড়ল হাঁটতে। ঘোরাঘুরি ওর বিশেষ খারাপ লাগে না। ঢাকাতেও ও বিকেল হলে প্রায়ই হাঁটতে বের হয়। সিনেমা দেখে মাঝে মাঝে হলে গিয়ে। কেউ না গেলে একা গিয়েই দেখে। ওর আবার ঘোরাঘুরি পছন্দ বেশ। সেই পছন্দের ঘোরাঘুরির কাজটা এখানে এসে তো আর ছাড়তে পারে না। তাছাড়া এত সুন্দর জায়গা, ছাড়বেও বা কেমন করে?
চারপাশে পাখির কিচিরমিচির শোনা যাচ্ছে। ঠান্ডা ঘাস পায়ে মারিয়ে ও বেশ খানিকটাই এগিয়ে এসেছে। ওদের বাংলোটা আর পিছু ফিরলে দেখা যাচ্ছে না ঠিক। কুয়াশায় ঢেকে গিয়েছে পেছনের সবটুকু পথ। ঠান্ডা লাগছে গায়ে। কেমন যেন আরাম আরাম ধরণের সকাল।
“আরেহ্, আপনি, মিস টুনটুনি না?” অপরিচিত কণ্ঠস্বর। ডাকনামটিও অপরিচিত। তবুও আচমকা এমন সুমধুর ভাবে সম্বোধনে ডাকল কেউ যে টুইটুবানি ফিরে না তাকিয়ে পারলোই না। ঘুম ঘুম চোখ গুলোর পাতা ভারি হয়ে আছে। মুখটাও শুষ্ক। ঠোঁট গুলো ফেঁটে চৌচির মাঠের মতো।
সূর্যের নরম আলো তখনও তার সম্পূর্ণ তেজ পায়নি ফিরে। সেই নরম আলোয় টুইটুবানি বহু অনাকাঙ্ক্ষিত মুখশ্রীকে দেখতে পেয়ে এক পলকের জন্য যেন থমকেই গেলো। চমকেও গেলো খানিকটা,
“হাসান সাহেব!”
হাসান সাহেবের দু’টো হাত পকেটে গোজা। দাঁড়িয়ে আছেন হাসি হাসি মুখ করে। টুইটুবানি তাকে দেখে যে অবাক হয়েছে সেটি দেখে উনার হাসিটি প্রশস্ত হলো বেশ,
“জি। এত ভোরে উঠে পড়েছেন?” কথা বলতে বলতে দু’পা এগিয়ে এলেন লোকটা। এসে সরাসরি দাঁড়ালেন টুইটুবানির সামনের পথেই।
টুইটুবানির যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না ওর সামনে হাসান সাহেব রয়েছেন। ওর পছন্দের অভিনেতা। টেলিভিশনে যাকে দেখে ও হা করে থাকে। যাকে দেখে কাল ও নিজের ভারসাম্য ঠিক রাখতে পারেনি।
বিস্মিত টুইটুবানির চোখজোড়া তখনও এক জায়গায় স্থির। নড়চড় নেই মোটেও।
“আপনার কি মাঝে মাঝে জমে যাওয়ার স্বভাব রয়েছে না-কি? কালও দেখলাম, আজও দেখছি। কোন পৃথিবীতে হারিয়ে যান, শুনি?” হাসান সাহেবের মৃদু খোঁচাটি যেন বিব্রত করল টুইটুবানিকে। চোখ ঘুরিয়ে নিলো ও তৎক্ষণাৎ। বিব্রতবোধ কাটিয়ে ফেলতেই নাক টানলো। সামলালো নিজেকে কিছুটা,
“না, না, আসলে, আপনাকে এখানে দেখব আশা করিনিতো।”
“কেন করেননি? আপনারাই কেবল ঘুরতে বের হতে পারেন? আমরা পারি না? অভিনেতা বলে কি ঘোরার ইচ্ছে আমাদের নেই?”
“না, ঠিক তা নয়। আমি তো কখনো ভাবিইনি টেলিভিশনের মানুষদের সামনা-সামনিও দেখা যায়।”
“যাবে না কেন? আমরা তো মানুষই। ভূত-প্রেত হলে না-হয় আপনার সাথে দেখা না হওয়ার ভাবনাটা মেনে নিতাম।” বেশ অবলীলায় কথা বলছেন লোকটা। টুইটুবানি ভাবতে পারেনি টেলিভিশনের মানুষরাও ওদের মতোই এত শান্তশিষ্ট ভাবে কথা বলে। এত সাদামাটা ভাবে কাউকে আগে বাড়িয়ে ডাকে, কথা বলে।
টুইটুবানিকে আবারও ভাবনার পৃথিবীতে হারিয়ে যেতে দেখে হাসান সাহেব ডাকলেন,
“দাঁড়িয়ে না থেকে হাঁটি চলুন। দাঁড়িয়ে থাকলে আপনি বারবার স্ট্যাচুই হয়ে যাবেন দেখছি। শীত না আসতেই জমে যান, শীতকালে না জানি আপনার কী হয়।”
টুইটুবানির শরীর উষ্ণ হয়ে উঠে। লজ্জায় মাথাটা নামিয়ে ফেলে সে। ওর ভেতর কেন যে হুট করে এত লজ্জার দেখা দিচ্ছে। ওর তো এই বিষয়টা একেবারেই ছিলো না। হুট করে এর আগমন ঘটলো কোথা থেকে!
“মিস টুনটুনি, সামনে চায়ের একটি টং দোকান আছে। আপনি কি চা খেতে পছন্দ করেন? তাহলে আমরা যেতে পারি সেখানে।”
“চা? আমি? কিন্তু পয়সাতো আনিনি।” কথাটি বলেই অপরাধীর মতো তাকালো মেয়েটা। এতটাই অপরাধীর মতো যেন পয়সা না আনার মতো জঘন্যতম অপরাধ পৃথিবীতে আর একটিও নেই।
এবার হাসান সাহেব নিজের হাসি চেপে রাখতে পারলেন না। গা কাঁপিয়ে হেসে ফেললেন। উনি বোধহয় জীবনে এমন স্বীকারোক্তি এই প্রথম শুনলেন। এত সহজ-সরল স্বীকারোক্তি! এমন নত চোখ উনি এই প্রথমই দেখলেন। এত মায়া করে কেউ স্বীকারোক্তি দিলে না হেসে পারা যায়? কেউ কখনো নিজের পছন্দের অভিনেতার সামনে এভাবে পয়সা না আনার অপরাধ এর আগে স্বীকার করেছে কি? মনে হয়তো না। এমন ঘটনা পৃথিবীতে বিরল। এই মেয়ে পুরোটাই অদ্ভুত। হাসান সাহেব এর আগে কখনো এত অদ্ভুত মেয়ে দেখেননি।
“পয়সা না-হয় এবার আমি দিলাম, আপনি চাটুকু খেলেই হবে।”
“সত্যি!” উৎসাহে চকচক করে উঠল টুইটুবানির আশাবাদী চোখগুলো। হাসান সাহেব ঘাড় কাত করলেন,
“সত্যি, মিস টুনটুনি।”
“টুনটুনি নয় তো, টুইটুবানি।” হাঁটতে হাঁটতে নিজের নামের উচ্চারণ ঠিক করল টুইটুবানি। হাসান সাহেব কেবল ঘাড় কাত করে ভদ্র বাচ্চার মতো বুঝে নিলেন। তার চোখের দৃষ্টি আটকেছে পথের নুড়ি পাথরগুলোতে। সকালটা আজ এত নির্ভার লাগছে তার কাছে!
…
মেজবাহ্ বাংলোর সামনের টেবিলে থাকা সংবাদপত্রে নজর বুলাচ্ছে। চায়ের গরম কাপ থেকে ধোঁয়া উড়ছে। ধোঁয়ার সাথে ছড়িয়ে পড়ছে চায়ের কড়া ঘ্রাণ। চা বাগানে উপস্থিত হয়েছে বলেই হয়ত চায়ের সুঘ্রাণটুকু একদমই ভিন্ন ছড়াচ্ছে। সচারাচর এত সতেজ ঘ্রান পাওয়া যায় না বললেই চলে।
মাঝে মাঝে চুমুকও বসাতে ভুলছে না ও। গভীর মনযোগ ওর খবরের কাগজে থাকলেও ঠিক খেয়াল করেছে ওর পাশে এসে বসা একটি অবয়বকে।
মেজবাহ্ তবুও টু শব্দ করল না। চোখের দৃষ্টি ঘোরালো ধীরে ধীরে। সংবাদপত্রেই গুঁজে রাখল মাথা। পাশে বসা মানুষটাও তাড়াহুড়ো করলেন না। ধীরস্থিরে, রয়েসয়ে সম্বোধন ছাড়াই বললেন,
“আমি ভাবছি আমার পদ তোমায় দিয়ে দিবো। আমার বয়স তো কম হলো না, তুমিই দলটা দেখো না-হয়।”
কবির শেখের পাঞ্জাবির ভাঁজ পরিপাটি। এত সকালেও তিনি এত গুছিয়ে রেখেছেন নিজেকে যে দেখে কেউ ভাববে কোথাও দরকারি মিটিং সেরে এসেছেন হয়ত।
মেজবাহ্ নিজের বাবার দিকে না তাকিয়েই উত্তর দেয়, “খুবই বাজে ভেবেছো।”
“বাজে কেন? দলের দায়িত্ব তোমাকে দেওয়া কি খারাপ?”
“তোমার দায়িত্ব আমি কেন নিবো? তোমার দায়িত্বই যদি আমার নেওয়ার হতো তাহলে এত বছর আমি দলে এত সময় দিলাম কেন? আমার কষ্টের কী মূল্য রইল?”
কবির শেখ তার একরোখা ছেলের দিকে তাকিয়ে থাকেন। তিনি ভেবে পান না এই ছেলেটা এত জেদি হয়েছে কার মতো। তিনিও তো এত জেদি ছিলেন না কখনো! নিশ্চয় মায়ের মতো হয়েছে। ওর আম্মাও তো এরকমই।
কবির শেখ হতাশ শ্বাস ফেললেন। ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন নির্নিমেষ। এরপর হুট করে আচমকাই প্রশ্ন ছুঁড়লেন,
“আপাতত দল থেকে যেহেতু বিরতিতে আছো তাহলে বিয়েটা করে নাও।”
মেজবাহ্’র যেন সিলেবাসের বাহিরেই ছিলো এমন একটি প্রস্তাব। ওর বিয়ের কথা এই বাড়িতে কখনোই উঠে না। একটি ঘটনার পর বিয়ের কথা উঠা যেন নিষিদ্ধই হয়ে গিয়েছিলো। আজ ওর বাবা হুট করে এমন প্রস্তাব দিবেন ও কল্পনাতেও ভাবেনি। ভারি আশ্চর্য হলো বটে। তবে পুরোপুরি সেটা প্রকাশ করল না আচরণে। কেবল কথাটি উড়িয়ে দেওয়ার ভঙ্গিতে বলল,
“ওসব কেন?”
“কেন নয়?”
“সময় হয়নি এখনো।”
“কবে হবে সময়? চুলদাড়ি পাঁকা ধরলে?”
“তুমি আমাকে খোঁচা দিচ্ছো?” মেজবাহ্’র চোখ দুটোতে অবিশ্বাস। সে যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না তার বাবা তাকে এমন কিছু বলতে পারে।
কবির শেখ গলা পরিষ্কার করলেন। অন্যদিকে তাকিয়ে ভদ্রলোকের মতো বললেন,
“টেলিফোনের মেয়েটিকেই করো না-হয়।”
মেজবাহ্ এবার বিস্ময়ে দাঁড়িয়ে গেলো, “টেলিফোনের মেয়ে!”
“ঐ তো যার সঙ্গে কথা বলার জন্য মিটিংয়ের সময় পেছানো হয় তোমার, তার কথা বলছি।”
ঘুরিয়ে ইঙ্গিত করে কবির শেখের ঠোঁটে চাপা একটা হাসি ফুটে উঠল। তিনি নিজের পুত্রাে জব্দ করতে পেরে যেন বেশি খুশিই হয়েছেন। মেজবাহ্ খুব ভালো করেই খেয়াল করল সেই হাসি।
চট করে দাঁড়িয়ে পড়ে ও। জবাব দেয়,
“করব, সময় হোক। সময় হলে তোমাদেরও বলব না, করে ফেলব।”
“আমাদের বলবে না কেন?”
“সারপ্রাইজ দিবো।”
“তার মানে সত্যিই টেলিফোনে কেউ আছে? স্বীকার করছো?”
“হ্যাঁ, না করাার কী আছে? মেজবাহ্ শেখের কেউ থাকলে সে পৃথিবীর সকল মানুষের সামনে দাঁড়িয়েও সেটা বলার ক্ষমতা রাখে।”
“তাহলে তোমার মা’কে আর আমাকে বললে না কেন?”
মেজবাহ্ হাসলো বাবার কথায়। পথের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলল,
“বউ এখনো ছোটো। বড়ো হলে বলতাম। বউ নিজের বাপের কণ্ঠ শুনলে এখনো শেখের বেটার ফোন রেখে দেয়। যেদিন ফোন রাখবে না ভেবেছিলাম সেদিন বলব।”
“বউউউউ!” টেনে টেনে উচ্চারণ করলেন কবির শেখ। এখন যেন অবাক হওয়ার পালা তার। ছেলে তাকে বেশ জব্দই করেছে বটে। বাপের মজা বাপের উপরই ভারী হয়ে গিয়েছে।
মেজবাহ্ কাঁধ ঝাঁকালো, “হ্যাঁ, বউ। নামতো জানি না ঠিক। যেটা আমি রেখেছি সেটা একান্তই আমার তাই সেটাও বলতে পারছি না। তাই বউ-ই বললাম।”
“নাম জানো না মেয়ের অথচ মন দিয়ে বসে আছো!”
“ভালোবাসতে হলে নাম, বংশ, গোত্র, রূপ জানতে হয় না। ভালোবাসলে এমনিতেই কত নাম তৈরি হয়ে যায়। মেজবাহ্ শেখ ভালোবাসলে রাজমহল বানিয়ে দিবে, নাম আর কী এমন!”
চলবে…
-মম সাহা
Share On:
TAGS: ভালোবাসি সুচরিতা, মম সাহা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসি সুচরিতা পর্ব ৬
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২২
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২৩
-
ভালোবাসি সুচরিতা পর্ব ১৬
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪৭(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২৯+বোনাস
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২৬
-
ভালোবাসি সুচরিতা পর্ব ৫
-
ভালোবাসি সুচরিতা পর্ব ১৫
-
ভালোবাসি সুচরিতা পর্ব ২