Golpo romantic golpo আসবো ফিরে আবারো

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২০(প্রথমাংশ+শেষাংশ)


#আসবো_ফিরে_আবারো

#পর্ব_২০ [ প্রথমাংশ ]

#সুরভী_আক্তার

( অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌ )

চমকে এক লাফে পিছিয়ে যায় ইভা । বাচ্চাটা ও চমকায় । উচ্চ স্বরের ধমকে ভয়ে তটস্থ হয়ে জড়িয়ে যায় কাঁচুমাচু হয়ে । লুকিয়ে পড়ে ইভার পিছে । হাতের ব্যাবি ফিডার টা দুহাতে চেপে ধরে ধমকের সাথে সাথে ঝাকুনি দিয়ে ওঠে ইভা । শুল্ক ঢোক গেলে সহসা । 

” মম, এই বাস্টার্ড টা এখানে কি করছে ? কে জায়গা দিয়েছে ওকে এ বাড়িতে ? মম…..

মুহুর্তেই পুরো বাড়ির সবাই জড়ো হলো একসাথে । আনতারা বেগম , রেহানা শিকদার দ্রুত কিচেন থেকে বেরোলেন । 

তোফায়েল কাবির ঘরে ছিলেন , ছেলের হুংকারে চোখে চশমা লাগাতে লাগাতে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে আসলেন তিনিও । 

রুবিনা কাবির দৌড়ে উঠলেন । ছেলের রাগ সামলাতে ধাতস্থ করে বললেন….

” রৌদ্র, রেগে যাচ্ছিস কেনো এভাবে ? ও ইভা , তোর খালামনির মেয়ে । 

” মম , তুমি আলাদা করে রাগাবে না আমায় । ঐ বাস্টার্ড টাকে ভুলিনি আমি । আমাকে বলো ও এখানে কি করছে ? কেনো এসেছে ও এ বাড়িতে ? 

” বিয়েতে আসতে পারে নি ,তাই বউভাতে এসেছে । ধমকাচ্ছিস কেনো এভাবে ! দেখতো ওর ছেলেটা কেমন ভয় পেয়েছে তোর ধমকে । শান্ত হ । দেখ রৌদ্র , আগের মতো কিছু নেই , ভুলে যা সব । এখন অসুস্থ তুই । বাড়াবাড়ি করবি না , ঘরে চল…..

” বাড়াবাড়ি আমি করছি ? না তোমরা করছো ?

এই ,, তোর লজ্জা নেই ‌। কোন সাহসে এ বাড়িতে পা রেখেছিস তুই ? তোর পা আজ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবো আমি…..

রৌদ্র তেড়ে যায় । ভয়ে ছ্যাত করে ওঠে ইভার কলজে । দ্রুত পিছু হটে ধড়ফড়িয়ে । রুবিনা কাবির ছেলেকে টেনে ধরেন । 

” রৌদ্র , মাথা গরম করছিস কেনো এভাবে ? ইভার ছেলে ভয় পাচ্ছে । চেয়ে দেখ , ওটা ওর ছেলে । 

রৌদ্র থেমে বাচ্চা টার দিকে তাকায় কিড়মিড় করে । আরো বেশি কুঁকড়ে যায় বাচ্চা টা । এটা ঐ থার্ড ক্লাস বাস্টার্ড টার বাচ্চা ? নাগরের সাথে পালিয়ে বিয়েও করেছে । আবার বাচ্চা ও হয়েছে এর মধ্যেই ? আবার বাচ্চাটা দেখি হাঁটতে ও শিখেছে । কটা দাঁত গজিয়েছে মাড়িতে ? 

কটমট করে রৌদ্র । ও তো নিজেও ঠিক সেদিনই বিয়ে করেছে । কই, ওর তো এখনো বাচ্চা হয় নি ! বউ কে সেভাবে ছুঁয়েও দেখে নি এ অবধি । 

আর এই রাস্কেল বাচ্চা পয়দা করেছে ওর আগেই ? এটা মোটেও সহ্য হলো না রৌদ্রের । ফোঁস করে উঠলো ও । রৌদ্রের রগরগে দৃষ্টি দেখে ইভা বাচ্চা টাকে নিজের পেছনে লুকিয়ে নিলো । ভ্যাবলার মত হেসে মিনমিন করলো বোকা বোকা স্বরে…..

” রৌদ্র ভাইয়া , আসলে…ওর দিকে ওভাবে তাকাচ্ছো তো , তাই ও ভয় পাচ্ছে । কি জানো , ওটা আমার ছেলে । 

তুমি তো ওর বাবা হতে গিয়ে মামা হয়ে গেছো । তাই ও তোমাকে চিনতে পারছে না…..

কথা টুকু শেষ হতে দেরি হলো , রৌদ্রের হিংস্র বাঘের ন্যায় তেড়ে যেতে দেরি হলো না । রুবিনা কাবির ও আর রুখতে পারলেন না ছেলেকে । ইভা ছ্যাত করে পেছাতে গিয়ে বাচ্চার সাথে তালগোল পাকিয়ে বাচ্চা সহ ধপ করে পড়লো করিডোরের মেঝেতে । কুকিয়ে উঠলো সহসা । রৌদ্র থামে তৎক্ষণাৎ । মৃদু ঠোঁট ফাঁক করে ওকে ওভাবে পড়তে দেখে । কেঁদে ওঠে ইভার ছেলেটা । 

রেহানা শিকদার দ্রুত উপরে উঠলেন । মেয়ে আর নাতিকে টেনে তুললেন । ক্রন্দনরত বাচ্চা টাকে কোলে নিয়ে সামাল দিতে দিতে বললেন…..

” রৌদ্র… ইভা এখন বিবাহিত । স্বামী, সন্তান আছে ওর । আর তুমি ওর গায়ে হাত তোলার জন্য উদ্যত হচ্ছো কোন হিম্মতে ? ভুলে যেও না , তুমি নিজেও বিবাহিত । নিচে তোমার স্ত্রী দাঁড়িয়ে আছে । স্ত্রীর সামনে অন্য একটা মেয়ের উপর তোড়জোড় করছো কোন খেয়ালে ? 

ক্রোধে ফুঁসলো রৌদ্র । স্ত্রী সম্বোধন টা শুনে ঘাড় বাঁকিয়ে তাকালো নিচে । নিচের সবাই ঘাড় উঁচিয়ে উপরের দৃশ্য দেখতেই ব্যস্ত । মেঘাও ব্যাতিক্রম নয় । চোয়াল খিচে এতক্ষণ সে নিজেও দেখছিলো । রৌদ্র ফেরা মাত্রই ঝট করে দৃষ্টি সরালো । অপ্রস্তুত অবস্থা থেকে বাঁচতে খেতে বসলো এবার । 

প্রতিক্রিয়া হীন দেখালো নিজেকে । 

রৌদ্র চোখ সরু করে ওকে পরখ করে উপর থেকেই । পরক্ষনে এক মুহুর্ত অপেক্ষা না করে দপাদপ পা ফেলে চলে যায় নিজের ঘরে । 

কাল থেকে মেঘার খোঁজ হাজার বার নেওয়া হলেও স্বস্তি পায় নি আদ্র । মেলোড্রামা শেষ হতেই সে এগোলো মেঘার দিকে । মেয়েটাকে খেতে দেখে বললো মোলায়েম স্বরে….

” মেঘ , জ্বর কমেছে ? 

” হ্যাঁ ভাইয়া । 

” প্রবলেম আছে আর কোনো ? 

” উঁহু ! 

” চোখ মুখ এভাবে ফুলে লাল হয়ে গেছে কি করে ? শুধু কি জ্বরে….

মেঘা হাত থমকায় । মুখের খাবার চিবিয়ে বলে…..

” তাছাড়া ? 

” মেডিসিন নিয়েছিস ? 

” উঁহু । 

” খেয়ে দেয়ে আমার রুমে আয় । 

” আচ্ছা ! 

আদ্র রুমে গেলো । 

সেই মোতাবেক খেয়ে দেয়ে সোজা ওর রুমে উঠেছে মেঘা । খুব যত্ন নিয়ে ফের শরীরের তাপমাত্রা মেপে পুনরায় ওকে মেডিসিন দিয়েছে আদ্র । মেয়েটার বড্ড খেয়াল রাখে ও । রাখবে নাই বা কেনো ? দায়িত্ব পেয়েছে যে ! কত বড় দায়িত্ব ওর কাঁধে । 

টেবিলের পাশের চেয়ার টায় বসে আছে মেঘা । ঔষধ গিলেছে কোনো রকমে । বমি আসছে । আদ্র হসপিটাল থেকে ফিরে ফ্রেশ হয় নি এখনো । তার আগে মেয়েটার দেখভাল করতে লেগে পড়েছে । উঠে দাঁড়িয়ে কাবাড থেকে কাপড় বের করে বললো….

” মেডিসিন নিয়েছিস , এখন রুমে গিয়ে একটু রেস্ট নে । বেশি মাতামাতি করবি না । বড্ড সেনসিটিভ তুই । একটু কিছু হতে না হতেই অসুখ ফাঁদিয়ে বসে থাকিস । 

মেঘা মুচকি হাসলো । ডেকে বললো….

” একটা কথা বলি ভাইয়া ? 

” হু…

” জানো ? তুমি আমাকে কখনো আমার ভাইয়ার অভাব বুঝতে দাও না ! আমার যখন আগে কোনো কিছু হতো, ভাইয়া পুরো পাগল হয়ে যেতো আমার জন্য । সবকিছু মাথায় তুলতো । পাগলামো করতো খুব । ছোট ছোট একটু আধটু বিষয়ে খুব যত্ন নিতো আমার । ঠিক তোমার মতো

করেই এভাবে কথা শোনাতো…

আদ্রও হাসলো আলতো করে । ঘুরে এসে মেঘার পাশে বসে আদুরে গলায় বলল…

” আমি কি তোর ভাইয়া নই ? 

” ভাইয়া তো । তবে আপন কেউ তো নও । 

পর মানুষ এতোটা আপনের মতো হতে পারে , তা আমি এবাড়িতে না আসলে বুঝতেই পারতাম না কখনো । আমি তো কখনো একটা পরিবার পাই নি , মা বাবা কে পাই নি । শেষে ভাইয়া কে পেয়েও কাছে পাই নি অনেক সময় । একলা বেড়ে উঠেছি , পরিবারের সঙ্গ মেলে নি । একটা পরিবার কেমন হয় দেখতাম শুধু , জানতাম অনেকে মিলে একটা পরিবার গঠিত হয় । কিন্তু সেই পরিবারের স্বাদ অনুভব করি নি সেভাবে । অবশ্য, দাদু মনি আমাকে এসবের শূন্যতা কখনো অনুভব করতে দেয় নি । আর গত পাঁচ বছর ধরে , তোমরা কেউ আমাকে এসবের শূন্যতা অনুভব করাও নি । দাদু মনি , ভাইয়া , আম্মু আব্বু , কারোর শূন্যতাই সেভাবে বুঝিনি তোমাদের কাছে থেকে । তবে আজকাল একটা বিষয় বড্ড অনুভব করি জানো ? মনে হয় , যখন তোমাদের ছেড়ে চলে যাবো , তখন তোমাদের শূন্যতা টা খুব পোড়াবে আমায় । খুব মিস করবো তোমাদের । আমি তো তোমাদের কেউ নই , তবুও অনেক ভালোবাসা দিয়েছো আমায় । চলে যাওয়ার পর তোমাদের এই ভালোবাসা গুলো খুব মিস করবো….

মেয়েটার গলা ধরে আসে । চোখের কিনারে উঁকি দেয় নোনতা জল কনা । চিকচিক করে আঁখি দ্বয়ের কার্নিশ । লম্বা শ্বাস টেনে মুখে ভরা হাসি ফুটিয়ে সামলায় নিজেকে । আদ্র স্থির চোখে চেয়ে । 

খানিকক্ষণ স্থবির হয়ে মেয়েটাকে পরখ করে বললো শুকনো কন্ঠে…..

” তুই আমাদের কেউ নোস , এটা কে বললো ? তুই তো আমাদের অনেক কিছু ! আমার মেঘ বুড়ি তুই ! ভরা মুখে ভাইয়া ডাকিস তো আমায় । তাহলে আমি তোর পর হলাম কি করে ? পর ভাবিস আমায় ? আমাদের ? 

মেঘা মাথা ঝাঁকায় । আদ্র বলে…

” তাহলে ? এই পৃথিবীতে তোর সবচেয়ে আপন যদি কেউ থেকে থাকে , তাহলে সে আমাদের এই পরিবারেই নিহিত আছে । তুই বুঝবি না এখন । তবে যখন বুঝবি , তখন আর পিছু ফেরার মতো শক্তি থাকবে না ।

এখন যা , আমিও ভীষণ টায়ার্ড । ফ্রেশ হয়ে ঘুমাবো একটু । তুই গিয়ে রেস্ট কর । 

মেঘা উঠে দাঁড়ালো । আদ্র আবার থামিয়ে বললো….

” কাল‌ থেকে কিন্তু ভার্সিটি আছে । বেশ ছুটি কাটানো হয়েছে পরপর । এখন পড়াশোনায় মনোযোগ দে । শরীর সুস্থ করে কাল থেকে যেতে হবে ভার্সিটিতে । 

মুচকি হাসে মেয়েটা । 

বেরিয়ে যায় ঘর থেকে । 

বিকেল গড়িয়েছে । আকাশে মেঘেদের ভিড় জমেছে আজ । সূর্যাস্তের সময় সিঁদুর রাঙা হয়ে উঠেছে দিগন্ত । রোজকার মতো ঠিক সময়টাতে ছাদে উঠেছে মেঘা, শাফাহ্ আর সারা । শিরশিরে বাতাস বইছে । খানিক ঠান্ডা আবহাওয়া । ছাদে পা রাখা মাত্রই ফুরফুরে বাতাসে গা শিউরে উঠলো মেঘার । শরীর খারাপ লাগছে আবার । মাথা ভার হয়ে আসছে । ওরনাটা ঠিক মতো গায়ে পেঁচিয়ে বাতাস বয়ে ঠান্ডা নিবারণের চেষ্টা করলো । 

কথা না বলে চুপটি করে একপাশের ইজি চেয়ারটায় বসলো শরীর এলিয়ে । শাফাহ্’র সেই এক ডিউটি । বিকেলের এই সময়টা ছাদে উঠে গাছে পানি দেওয়া । বিয়ের ভেজালে দুদিন ধরে গাছ গুলোর যত্ন নেওয়া হয় নি । পানি দেওয়া হয় নি ঠিক মতো । সেও ছাদে উঠে পাইপ তুলে নিজের কাজে লেগে পড়লো । 

সারা উঠেছে ছোট্ট জাবির কে সাথে করে । ইভার ছেলে এটা । এই ছেলে যা ছটফটে, দুষ্টু । ওকে সামলানো কসরতের । হাঁটতে শিখেছে কি শেখেনি , সবসময় এপাশ ওপাশ ছোটা ছুটি করতেই থাকে । 

স্থির রয় না এক মুহুর্ত । একটা ক্যাটবেরি খুলে ওর হাতে ধরিয়ে দিয়ে ওকে একপাশে বসিয়েছে সারা । মেঘা কে চুপচাপ আনমনা দেখে ও গিয়ে দাঁড়ালো মেঘার পাশে । নরম কন্ঠে বলল…..

” এভাবে মনমরা হয়ে বসে আছিস যে ? 

” মাথাটা ধরেছে আবার ! 

সারা হাত বাড়িয়ে কপাল ছুঁইয়ে দেয় মেঘার । ফের গা গরম হয়ে এসেছে । চমকে বলে….

” তোর তো আবার জ্বর আসছে । 

” আসুক । 

” আসুক মানে ? নিজের খেয়াল রাখিস না তুই ? এভাবেই বেখেয়ালি হয়ে থাকিস সবসময় ? একেই দেখছি শরীরের হাল বেহাল । চোখ মুখ শুকিয়ে গেছে পুরো । একটু খেয়াল রাখতে পারিস না নিজের ? কেমন বদলে গেছিস তুই ! নিজের খেয়াল নিজে না রাখলে এখানে কে রাখবে তোর খেয়াল ? কে তোর যত্ন নেবে..? 

কথাটা শাফাহ্’র পছন্দ হলো না মোটেও । মুখ বেজার করে খিটখিটে স্বরে বলে উঠলো ও….

” দেখো সারা , মুখে যা আসবে তাই বলবে না ! এভাবে কাকে কথা শোনাচ্ছো তুমি ? মেঘার কেউ খেয়াল রাখে না মানে ? তুমি খুব ভালো করেই জানো এবাড়িতে সবাই মেঘাকে কতটা ভালোবাসে । সবচেয়ে বেশি আদ্র ভাইয়া মেঘার কতটা খেয়াল রাখে,তাও খুব ভালো করেই জানো । মেঘা নিজেই নিজের যতটা কেয়ার করে না , আদ্র ভাইয়া তার থেকেও বেশি টেক কেয়ার করে ওর । কাল তো দেখেছোই , ওটুকু সময়ে কতটা ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলো ভাইয়া । তাহলে এসব বলছো কেনো তুমি ? 

সারা সেভাবে বলতে চায় নি । কথার পরিপ্রেক্ষিতে বলে ফেলেছে মুখ ফসকে । এখন শাফাহ্’র কথা গুলোতে মুখ ছোট করলো সে । মিনমিন করলো….

” আমি তো সেভাবে বলতে চাই নি শাফাহ্ । সবাই যত্ন নিলেও নিজের মতো করে কেউ নিতে পারে না । ও যদি নিজেই নিজের খেয়াল না রাখে , তাহলে তো শরীর খারাপ করবেই । 

মেঘা মাথা কাত করে চোখ বুজে বললো ক্ষিণ আওয়াজ তুলে….

” আহ্ চুপ করনা তোরা । 

সারা , মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিবি ? 

সারা হাত এগোনোর আগেই শাফাহ্ ছুটে আসলো । মেঘার মাথায় হাত চেপে বললো..

” তোমাকে লাগবে না , আমি দিচ্ছি । 

নেশা মাথায় চড়েছে ‌। 

সিগারেট না খাওয়া অবধি শান্তি মিলবে না বেপরোয়া ছেলের । উদ্দাম শরীরে পাতলা টিশার্ট জড়িয়ে ধুপধাপ পা ফেলে ছাদে উঠলো সে । ব্যান্ডেজ খুলে ফেলেছে হাত , মাথা থেকে । ওসব ঝঞ্ঝাট ওর কাছে । দগদগে ক্ষত স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কপালের পাশে । চুল দিয়ে ঢেকেছে কিছুটা । ওর পায়ের শব্দে শাফাহ্ আর সারা চকিতে তাকালো । জাবির ও তাকায় চকলেটে কামড় বসিয়ে । রৌদ্র কে দেখা মাত্রই ছলকে ওঠে বাচ্চা হৃদয় । তখনকার সেই উন্মাদ লোকটাকে চিনতে ভুল করলো না বাচ্চা টা । এক লাফে উঠে দাঁড়িয়ে ছুটে গিয়ে লুকালো সারার কাছে । মাথা বাড়িয়ে উঁকি দিলো পিটপিট করে । 

রৌদ্র কপাল কুঁচকায় ওদের সকলকে দেখে । একপাশে দাঁড়ায় । টুকটুকি আছে বিধায় সিগারেট ধরায় না প্রথমে । চোখ তীক্ষ্ণ করে বাঁকা দৃষ্টি পাত করে চায় ইজি চেয়ারে বসে থাকা রমনীর পানে । রমনী উল্টো দিকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে । 

রৌদ্র কে দেখেও কথা হয় নি । সারা ঢোক গিলে মিনমিন করলো….

” কেমন আছো ভাইয়া ? 

” বিন্দাস….

রৌদ্রের কন্ঠ শোনা মাত্রই কেঁপে ওঠে রমনীর বক্ষস্থল । একেই শরীর কাঁপছে জ্বরের তোপে , তার উপর লোকটার কন্ঠ স্বর শুনে পুরো চিত্ত কেঁপে উঠলো মেয়েটার । শরীর ভার , ব্যাথা অনুভূত হচ্ছে , নড়তে গিয়েও পারলো না মাথা সহ পুরো শরীরের যন্ত্রণায় । চক্ষু দ্বয় ও খুলতে পারলো না চেষ্টা করেও । 

ভার পাপড়ি যুগল আলাদা করার শক্তি কুলালো না । কুঁকড়ে গিয়ে শরীর মুড়িয়ে নিলো আরো । পিছন দিকে অধীক হেলে গিয়ে জড়োসড়ো হয়ে গুটিয়ে বসলো কচ্ছপের ন্যায় । 

রৌদ্র বললো সেভাবেই ওকে পরখ করে….

” এই কুনো ব্যাঙের ছানাটা তোর বোনের , তাইতো ? ওয়াহহহ্,, সাপের পেটে ব্যাঙের ছানা ? ইন্টারেস্টিং ! 

শাফাহ্ অর্থ বুঝে তৎক্ষণাৎ ফিক করে হেসে ফেলে । সারা মুখ নামায় ‌। জাবির কে টেনে সামনে নেয় । সবে কথা শিখেছে বাচ্চা টা । রৌদ্র কে দূরে দেখেই বলে উঠলো….

” পতা নোক….

” ওরে নাগীনের বাচ্চা , তোকে বাগে পেয়েছি এবার । 

বলেই এগোলো রৌদ্র । বাচ্চাটা কেঁদে দেওয়ার দশা । চেঁচিয়ে উঠলো । রৌদ্র ওর কচি কচি হাত দুটো ধরে টেনে নিলো নিজের কাছে । বগলদাবা করে চেপে ধরলো দুহাত একসাথে করে । ব্যাথা পাবে বিধায় আলতো করেই ধরেছে । তবুও ভয়ে ডরে বাচ্চা টা কেঁদে উঠলো রৌদ্রের কাছে যাওয়া মাত্রই । ভ্যা ভ্যা করে কান্না জুড়লো সে । রৌদ্র দাঁত কিড়মিড়িয়ে বললো….

” চুপ বেয়াদব ,, মেরে সোজা করবো নয়তো তোকে । 

ঝাই ধরে কান্না জুড়লো উচ্চ স্বরে । সারা আঁকুপাঁকু করে বলে….

” ভাইয়া , ভয় পাবে ও । কাঁদছে…ছেড়ে দাও…

” ছাড়বো ? ওয়েট….। বাচ্চাদের পেটাতে নেই । খারাপ স্বভাব এটা ‌। আমি আবার ভালো মানুষ । না মেরেই অনেক ভাবে কাঁদানো যায় বাচ্চাদের । 

একটু থামে । ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে….

” টুকটুকি চকলেট খাবি…?

🟥 একটু অসুস্থ । যেটুকু লিখেছি সেটুকুই দিলাম । 🟥

#চলবে……………

#আসবো_ফিরে_আবারো

#পর্ব_২০ [ শেষাংশ ]

#সুরভী_আক্তার

( অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌ )

শাফাহ্ চিকচিক করে সহসা মাথা নাড়ায় উপর নিচ । রৌদ্র ফিচেল হাসে । জাবিরের দিকে তাকায় । চোয়াল খিচে একটানে ওর আধ খাওয়া চকলেট টা কেড়ে নেয় ওর থেকে ‌। বাচ্চাটার কান্নার রোল বাড়ে তড়তড়িয়ে । চোখ মুখ খিচে লাল হয়ে ওঠে ছোট্ট ছানাটা । সারা ভ্যাবলার মত তাকিয়ে । দেখছে রৌদ্রের কারবার । একেই আধ খাওয়া চকলেট, তার উপর ছোট বাচ্চা কামড়ে কামড়ে লালা মাখিয়েছে । মুখ সিটকে কামড় বসানো অবধি চকলেট টা ভেঙে আধাআধি করলো রৌদ্র । নিচের প্যাকেটে থাকা ভালো অংশ টুকু শাফাহ্’র দিকে বাড়িয়ে বললো….

” ছ্যাহ , ছ্যাদরের পোনা , তোরা লালা খাবে আমার বোন ? নে টুকটুকি এই অবধি ভালো আছে । খেতে পারিস । ও তো বাচ্চা । বাচ্চাদের চকলেট খেতে নেই । 

বাকি গলে যাওয়া অংশ টুকু মাখিয়ে দিলো ছেলেটার পড়নের কাপড়ে । বাচ্চাটা কাঁদতে কাঁদতে ঝাই ধরে গেছে । রৌদ্রের কান্ড দেখে সারা এবার জড়ানো গলায় বলে….

” ভাইয়া,কি করছো ? 

” এই নে , তোর নাগীন বোনের বাচ্চা কে সামলা । যা নিয়ে যা তোর বোনের কাছে । কাঁদছে বেচারা । যা যা….

সারা তড়িঘড়ি করে জাবির কে কোলে নেয় । শিক হয়ে গেছে কাঁদতে কাঁদতে । রৌদ্রের কানে বাজছে ভীষণ । কানে আঙ্গুল চেপে কান বন্ধ করলো সে । সারা জাবির কে নিয়ে এখান থেকে কেটে পড়তে পারলেই বাঁচে । 

যত দ্রুত সম্ভব নিচে চলে গেলো ওর কান্না থামাতে থামাতে । টুকটুকি মহা খুশি । আধ খাওয়া চকলেট টুকু ফিনিস করতে কয়েক সেকেন্ড লেগেছে মাত্র । 

রৌদ্র হেসে ফেললো ওকে দেখে ‌। হাঁফ ছেড়ে মেঘার দিকে তাকালো । মেয়েটা এতক্ষণে ও নড়ে নি একটুও । সেভাবেই শরীর কাত করে আধশোয়া হয়ে আছে ইজি চেয়ারটায় । মুখ ডান দিকে কাত । রৌদ্র কপালে সুক্ষ্ম ভাঁজ ফেললো । পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট পুনরায় বের করে টুকটুকি কে ইশারা করে বললো এখান থেকে চলে যেতে । টুকটুকি মেঘা কে ডাকার আগেই বাঁধা দিলো সংকেতে । ফের ইশারা করে বোঝালো একাই চলে যেতে । থম মেরে দাঁড়ালেও পরমুহূর্তে দ্বিরুক্তি না করে ঝটপট প্রস্থান করলো শাফাহ্ । নিচে নেমে গেলো মেঘা কে রৌদ্রের কাছে একলা ফেলে । 

রৌদ্র একটা সিগারেট বের করতে নেয় । চোখ তুলে মেঘার দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভেবে আর বের করে না । ধীরে এগোয় মেয়েটার দিকে । দিনের আলো মিলিয়ে যাচ্ছে । বিকেল গড়িয়ে নামছে সন্ধার লগন । পাখি ডাকছে , উড়ছে মধ্য আকাশে । ডানা মেলে ফিরছে আপন নীড়ে । রৌদ্র গিয়ে থামলো মেঘার সামন বরাবর । ওকে চোখ বুজে থাকতে দেখে কপালের ভাঁজ গাঢ় করলো । নড়চড় হীনা এই মেয়ে তখন থেকেই এভাবে স্থবির হয়ে বসে আছে । রৌদ্র এক হাঁটু গেড়ে সামনে বসলো । এই মেয়ের তো আবার যেখানে সেখানে ঘুমানোর অভ্যাস আছে । যেখানেই কাত , সেখানেই রাত ওর কাছে । ঘুমোয় নি তো আবার ? নাকি নাটক করছে রৌদ্র কে ইগনোর করার জন্য ? রৌদ্র একটু বাজিয়ে দেখতে চাইলো । ডাকলো হাস্কি টোনে…

” MP….

” …..

” সানি ‌, আর ইউ হেয়ার ?? 

” …….

” এই ইডিয়ট , নাটক করছিস ঘুমানোর ? ওঠ , থাপ্পর মারবো তোকে ! কাল‌ থেকে আধমরা হয়ে পড়ে আছি , একবারও খোঁজ নিলি না আমার ? মরেছি না বেঁচে আছি খোঁজ নিয়েছিস আদৌ ? 

মেয়েটার তরফ থেকে সাঁড়া শব্দ নেই । একটুও স্থানচ্যুতি নেই । সেভাবেই অঢেল হয়ে পড়ে আছে । রৌদ্র চোখ তীক্ষ্ণ করলো । খুঁটিয়ে পরখ করলো । শ্বাস পড়ছে থেমে থেমে । ভারী গরম শ্বাস । রৌদ্র মেয়েটাকে দেখে গাঢ় দৃষ্টিতে । কোমল হয়ে আসে , মোলায়েম হয় কন্ঠ….

” ইভারা , ঘুমিয়েছো ? 

এতক্ষণেও মেয়েটার সাঁড়া শব্দ না পেয়ে বুঝলো ঘুমিয়েছে সে । কিন্তু এই ভর সন্ধ্যা ঘুমানোর সময় নাকি ? 

ঝিরিঝিরি বাতাসে মেয়েটার খোঁপা থেকে ছুটে আসা ছোট ছোট চুল গুলো উড়ছে অবাধ্য ভাবে । রৌদ্র ক্ষিয় হাসে । নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে মেয়েটাকে । ইশশ্ , কাল‌ থেকে দেখা হয় নি । চোখ দুটো বড্ড ক্ষুধার্ত ছিলো । অবশ্য এভাবে ক্ষুধা মেটানোর জন্য হলেও এই তেজি রমনীর ঘুমানো টা প্রয়োজন ছিলো । 

মৃদুমন্দ ঠোঁট ফাঁক হয় রৌদ্রের । এগিয়ে আসে ‌। কপালের পাশ গলিয়ে মুখের উপর আছড়ে পড়া বেবি চুল গুলো সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে হাত বাড়ায় মেয়েটার দিকে । কপালে আঙ্গুল স্পর্শ করানো মাত্রই উত্তাপে ঝিমঝিমিয়ে ওঠে রৌদ্রের হাত । কপাল ছোঁয়া মাত্রই ছিটকে আসে হাতখানা । অমনি ছলকে ওঠে বেপরোয়া ছেলের হৃদয় । তড়াক করে স্তম্ভিত হয়ে যায় সে । দ্রুত উঠে দাঁড়ায় । চেয়ার ঘেঁষে পূর্ণ স্পর্শে মেঘার কপালে হাত ছোঁয়ায় ‌। আঁতকে ওঠে অমনি । গা পুড়ে যাচ্ছে প্রচন্ড জ্বরে । আগুনের মতো জ্বলছে পুরো শরীর । রৌদ্র শিহরিত হয় মেয়েটার তপ্ত শরীর স্পর্শ করা মাত্রই । ধড়ফড়িয়ে ডাকে গালে আলতো চাপড় মেরে…..

” ইভারা ,,, এইইই ? কি হয়েছে তোমার ? এই ইভারা , চোখ খোলো ? জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে । হেয়য়য় , ওপেন ইউর আই’স । 

মেয়েটা সম্পুর্ন অচেতন । জ্ঞান শূন্য নিথর । 

ধীরে ধীরে স্পন্দিত হচ্ছে হৃদয় । রৌদ্র মরিয়া হয়ে উঠলো এক মুহুর্তেই । উত্তাপে শরীর স্পর্শ করা যাচ্ছে না মেয়েটার । রৌদ্র ওকে সামলে ধরে । দুহাতে দুগাল চেপে ধরে । ঝাঁকায়….

” ইভারা ,,, শুনছো আমায় ? এই মেয়ে ? প্লিজ চোখ খোলো …..

মেয়েটার চোখের পত্র যুগল শক্ত করে জমাট বেঁধেছে । ওষ্ঠ জোড়া জ্বরের তোপে ফেটে রক্তাক্ত । মেঘা একেই টকটকে ফর্সা । টোকা দিলেই মিলিয়ে রক্ত গলিয়ে পড়বে এমন । তার উপর এই মুহূর্তে জ্বরের তোপে পুরো মুখশ্রী আরো লালচে হয়ে উঠেছে । ফর্সাটে ভাবটা হয়ে উঠেছে রক্তিম । 

রৌদ্রের ঠোঁট মুখ শুকিয়ে আসে । সচল মস্তিষ্ক এটুকুতেই তার সচলতা হারাতে বসে । ভেবে কুল পায় না সে । দ্রুত মেয়েটাকে সন্তর্পণে উঠিয়ে নেয় নিজের বাহুডোরে । রমনীর নিথর তপ্ত শরীর টাকে পাঁজাকোলা করে শক্ত করে ঠেসে ধরে বুকের সাথে । ছুটে চলে এলোমেলো পায়ে । 

ছাদের সিঁড়ি বেয়ে ধপধপ করে দোতলায় নেমে ডাকে চিৎকার করে……

” মম ,, তাড়াতাড়ি এসো প্লিজ । কোথায় তুমি ,, মনি….

দিক দিশা খুইয়ে রৌদ্র নিজের ঘরে ঢুকলো মেঘা কে নিয়ে । খাটে শোয়ালো ওকে । শরীরে কমফোর্টার জড়িয়ে দিয়ে ফের হন্তদন্ত হয়ে বাইরে বেরোলো । করিডোর হতে হাঁক ছাড়ল বিচলিত হয়ে…..

” মম , মনি , প্লিজ তাড়াতাড়ি আমার রুমে এসো । ইভারা ইজ নট ওকে…। সামথিং ইজ রং উইথ হার ।  প্লিজ মম , তাড়াতাড়ি এসো । 

রৌদ্র হাঁসফাঁস করে রুমে ছুটে যায় আবার । পরপর দুবার ওর এমন গগন বিবাদী চিৎকার শুনে রুবিনা কাবির, শাহিনা কাবির ভড়কান । ড্রইং রুমে বসে ছিলেন বাকিরা সহ । ছেলের চিৎকারে চটজলদি ছেলের ঘরে উঠলেন সকলে । সবার আগমনে হুলস্থুল পড়লো রৌদ্রের ঘরে ।

রৌদ্র মেঘার মুখখানি আজলে নিয়ে ঝাঁকিয়ে একনাগাড়ে ডেকেই চলেছে উৎকণ্ঠিত হয়ে….

” ইভারা , এই চোখ খোল । ওঠ প্লিজ….

একবার তাকা আমার দিকে । কি হয়েছে তোর ? 

” মেঘা , কি হয়েছে ? 

শাহিনা কাবির হুড়মুড়িয়ে এগিয়ে যান । 

” দেখো মনি , জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে । এই ইডিয়ট এই অবস্থাতেই সেন্সলেস হয়ে পড়ে ছিলো ছাদে । ডাকছি, শুনছেও না । প্লিজ কিছু করো । ডাকো ওকে । এই ইভারা ,,,, 

তোফায়েল কাবির সহ বাকিরা আসতেও সময় পার করলেন না । শাফাহ্,সারা সবাই হামলে পড়লো মেঘার উপর । সিরাত কপাল আর গলায় হাত ছোঁয়ানো মাত্রই আঁতকে ওঠে । 

” মেঘা….একি আবারও জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে । 

টুকটুকি ,,, আদ্র কোথায় ? কাল থেকে জ্বর মেঘার ! ও গুরুত্ব দিচ্ছে না কেনো ? কোথায় ও ? 

” আপু , প্লিজ দেখো না কি হয়েছে ওর ! ডক্টর কে ডাকো প্লিজ । ইভারা , চোখ খোল না একবার । এই ইডিয়ট , তাকা চোখ মেলে । 

রৌদ্র কে এমন ছটফট করতে দেখে পুরো ঘরের সবাই স্তব্ধ হতে ভুললো না । মূক বধির হয়ে এক দৃষ্টিতে সকলে চেয়ে আছে । সিরাত চোখ সরু করে ভাইয়ের দিকে তাকায় । বেশি স্ট্রেসে কপালের দগদগে তাজা ক্ষত হতে রক্তের স্রোত নেমেছে । মুখশ্রী শক্ত হয়ে তামাটে বর্ন ধারন করেছে শঙ্কায় । চোয়ালের ধার ঘেঁষে গড়িয়ে পড়ছে উষ্ণ লাল তরল । রৌদ্রের খেয়াল নেই সেদিকে । চোখে মুখে স্পষ্ট ত্রাস । কেমন বিচলিত সে । সিরাত ধীরে বললো…..

” রৌদ্র , হাইপার হচ্ছিস কেনো এভাবে ? জাস্ট জ্বরের ঘোরে জ্ঞান হারিয়েছে মেঘা । কিচ্ছু হয়নি , হবে না । রিল্যাক্স ! নিজের দিকে খেয়াল দে, কপাল থেকে রক্ত ঝড়ছে… 

রুবিনা কাবির আঁতকে ওঠেন । ছেলেকে এক টানে দাঁড় করান । রক্ত দেখে শঙ্কিত হয়ে বলেন….

” একি , ব্যান্ডেজ খুলেছিল কখন তুই ? রক্ত ঝরছে আবার । 

” ওওও মম , আমার কিচ্ছু হবে না । মরবো না আমি । তোমরা ইভারা কে দেখো না । ডক্টর কে কল করো প্লিজ । বিডি ডক্টরের কন্টাক্ট নেই আমার কাছে । প্লিজ সেভ হার… কিছু হয়ে যাবে ওর ! 

রুবিনা কাবির থমকান ‌। রৌদ্র বলতে বলতে সম্বিত ফিরে পায় । নিজের ঘরে সবার উপস্থিতি দেখে ধাতস্থ হয় এক মুহুর্তে ‌। তোফায়েল কাবিরের একরোখা তীক্ষ্ণ নজরে নজর পড়া মাত্রই ঠোঁট ভিজিয়ে সংযত করে নিজেকে । চোখ বুজে মাথার চুল খামচে ধরে । লম্বা শ্বাস ফেলে অস্থিরতা লুকিয়ে ধাতস্থ স্বরে বলে….

” ঐ ইডিয়ট টাকে দেখো সবাই । আমি কেউ নই তোমাদের । আমার কিছু হওয়াতে কিচ্ছু যায় আসে না । বাট ওর কিছু হওয়াতে অনেক কিছু যায় আসে । অনেক কিছু মানে অনেক কিছু । ও জ্ঞান হারিয়ে পড়েছিল ছাদে । সামলাও ওকে….

রৌদ্র রুমে সবার একস্থির দৃষ্টি বুঝে নিজেকে সামলে সরে আসলো । হাত মুঠো করে উদগ্রীবতা ধরে রাখলো নিঃশব্দে । ঠোঁট ভিজিয়ে পিটপিট করে চাইলো মেঘার দিকে । 

শরীরের উচ্চ তাপমাত্রার কারণে সাময়িকভাবে বাহ্যিক উদ্দীপনায় সাড়া দেওয়া বন্ধ করেছে মেঘার মস্তিষ্ক । সে এখন সম্পূর্ণ জ্ঞান শূন্য । এক গভীর আচ্ছন্নতার অতলে তলিয়েছে । সিরাত রৌদ্রের থেকে মনযোগ সরিয়ে পানি ছেটায় মুখে । গালে চাপড় মেরে ডাকে । মেয়েটার সাঁড়া শব্দ নেই একটুও ‌। 

ভেজা টাওয়েল চোখ মুখে চেপে ধরে সিরাত । তোফায়েল কাবির ঘর ছেড়েছিলেন ফোন কানে তুলে । কান থেকে ফোন নামাতে নামাতে ঘরে ঢুকে বললেন….

” ডক্টর আসছেন এক্ষুনি । 

কাল থেকে মেঘা মামনির জ্বর , তোমরা কেউ কিছু বলোনি কেনো আমায় ? জানাও নি কেনো ? 

সিরাত মুখ খোলে….

” আমি ঘুমানোর আগে টেম্পারেচার মেপে ঔষধ খাইয়েছি রাতে । আদ্র কাল হসপিটাল থেকে ফিরে আবারো টেম্পারেচার মেপেছিলো । আজ দুপুরে মেডিসিন ও দিয়েছে । বিকেল অবধি ঠিক ছিলো তো মেঘা । আবার এমন এতোটা জ্বর আসবে ভাবিনি । 

ঠান্ডা পানির ঝাপটায় এতক্ষণে মুখ কুঁচকে আসে মেঘার । মাথা নাড়িয়ে বাম পাশ হতে মুখ ফেরায় ডান পাশে । মস্তিষ্ক সজাগ হয় খানিক  । শাফাহ্ আঁতকে বলে….

” আপু , মেঘা….

” মেঘা , ঠিক আছিস ? কি হয়েছিলো তোর ? 

রৌদ্র তেড়ে যায় । বিছানার পাশে বসে সব ভুলে । ফের বিচলিত হয়ে পড়ে আশপাশ নজরের বাইরে রেখে…..

” ইভারা , আর ইউ ওকে ? 

এইই ইডিয়ট , চোখ খোল ভালো করে । তাকা আমার দিকে ! কি হয়েছে তোর ? 

চোখের পাপড়ি ভার । খুলতে বড্ড কষ্ট হলো । খুব চেষ্টা করে নিভু নিভু মেললো অক্ষি যুগল‌‌‌ । ভেজা আধো চোখে ঝাপসা দেখলো রৌদ্রের অবয়ব । মুখ গোল করে শ্বাস টানলো । বিভৎস যন্ত্রণায় ছিঁড়ে যাচ্ছে মাথা । চোখ বুজে নিলো আবার । ছেলের মতিগতি সুক্ষ্ম নেত্রে ঠাহর করলেন তোফায়েল কাবির । পরিস্থিতি বেগতিক লাগলো । বিপরীতে চাকা ঘুরবে না তো আবার ? এটা তো হওয়ার নয় ! হতে দেওয়া যায় না । ঢোক গিললেন তিনি । ভঙ্গিতে পরিবর্তন এনে ধারালো কন্ঠে মুখ খুললেন এ পর্যায়ে…..

” সিরাত , ডক্টর আসছে । মেঘা কে এ ঘর থেকে ওর নিজের ঘরে নিয়ে যাও । 

#চলবে…………

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply