#অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ৮৯]
#লেখিকা_ফারহানা_নিঝুম
( দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
[দ্বিতীয় খন্ড]
সময় এগুচ্ছে। এইতো আজ নিয়ে পাঁচ মাস সবে। ছোট্ট উদরটা ফুলেফেঁপে উঠেছে। স্বাস্থ্যের পরিবর্তন ঘটেছে। ফুলো ফুলো গাল দুটো আগের তুলনায় আরেকটু ফুলেছে। মানুষ বলে মা মা হলে নাকি মেয়েরা দ্বিগুণ সুন্দরী হয়। হয়তো সত্যি বলে। এইতো ন্যান্সি নামক রমণীর সৌন্দর্য দ্বিগুণ বেড়েছে। আগের তুলনায় এখন হাঁটতে কষ্ট হয়। পেঙ্গুইনের মতো কোমড়ে হাত রেখে পা টেনে টেনে হাঁটতে হয়।
ন্যান্সির রুম নিচে শিফট করা হয়েছে। প্রেগন্যান্ট অবস্থায় সিঁড়ি বেয়ে ওঠা নামা করা ভীষণ রিস্কি। পাগল প্রেমিক স্বামী আফরিদ এহসান তো তা মোটেও স’হ্য করবেন না। স্ত্রীর কষ্টে তার হৃদয় ছিন্নভিন্ন হয়ে অদৃশ্য র’ক্তপাত হয়। তাইতো বিলম্ব না করে নিচের সবচেয়ে বড় রুমটায় ন্যান্সির থাকার ব্যবস্থা করেছে। নিজের হাতে ডিজাইন করেছে পুরো রুমটা।
ইদানিং মেয়েটার মুড সুইং হয় খুব বেশি।
এইতো ঘন্টা খানেক আগের কথা।
মাইমুনা এহসান, কল্পনা,সাব্বির সকলেই ড্রয়িং রুমে বসে আছে।
নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে। ফাহমিদা ফেরাতে এক নিরব উচ্ছ্বাস প্রকাশ পাচ্ছে সকলের মাঝে।
ন্যান্সি সবে দোতলা থেকে নেমে এলো। নিচে আসতেই কল্পনা মুচকি হেসে বলল।
“আমার পাশে বসো ইলহাম।”
ন্যান্সি গিয়ে কল্পনার পাশে বসলো। ফাহমিদা ন্যান্সির প্রেগন্যান্সির খবর শুনেই দ্রুত ফিরেছে দেশে। কটা দিন থেকে আবারো লন্ডনে ব্যাক করবে। তার পরীক্ষা রয়েছে।
ফাহমিদা কয়েকটা নতুন ড্রেস এনেছে সেগুলো ন্যান্সি কে দেখাতে দেখাতে বলল,
“এগুলো কেমন দেখাচ্ছে ভাবি?”
ইলহাম নাক মুখ কুঁচকে নিল। অদ্ভুত বিরক্তিকর কন্ঠে আওড়ে,
“ভীষণ বাজে।”
ন্যান্সির এমন মন্তব্য মোটেও আশা করেনি ফাহমিদা। ন্যান্সি সর্বদা ফাহমিদাকে সবকিছুতে সাপোর্ট করতো।আজ তার এহেন আচরণে বিস্ময়াভিভূত হয়ে গেল।
সকলেই তাকালো ন্যান্সির দিকে। মাইমুনা এহসান থমথমে মুখ করে বললেন।
“কি সুন্দর ড্রেসটা। বাজে কেন বললে ইলহাম?”
ন্যান্সির কোনো কিছুই ভালো লাগছেনা। হুটহাট রেগে যাচ্ছে ইদানীং। মাইমুনা এহসানের কথায় রাগ লাগলো তার। তিরিক্ষি মেজাজে বলে উঠে।
“বেশ করেছি।”
ন্যান্সির এহেন আচরণ দেখে সাব্বির বিরক্ত ভঙিতে বলল।
“উফ্ যা তা!”
ন্যান্সি আচানক সেন্টার টেবিলের উপর রাখা ড্রেস গুলো ছুঁড়ে ফেলল মেঝেতে। ফাহমিদা স্তব্ধ, ন্যান্সি কখনোই তো তার সাথে এমন আচরণ করেনি। তাহলে আজ কি হলো তার?
সবে বাড়িতে ফিরছিল আফরিদ। হঠাৎ চেঁচামেচি শুনে চোয়াল শক্ত হয়ে এলো তার। ভরা পেট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ন্যান্সি। রাগে দপদপ করে জ্বলছে।
কল্পনা আমতা আমতা করে বলল।
“তোমার আবার কি হচ্ছে ইলহাম? এমন করছো কেন?”
ন্যান্সি নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারছে না। হুট করে মুখ চেপে কেঁদে ফেলল। তার কান্নায় ভড়কালো আফরিদ। সেই সময়ে তিতলি গেল তার কাছে, কোনো অনুমতি ছাড়াই বলল।
“প্রেগন্যান্ট অবস্থায় মুড সুইং হয় এটা স্বাভাবিক, কিন্তু ইলহাম আপুর একটু বেশী হচ্ছে!”
আফরিদকে অস্বাভাবিক ভাবেই শান্ত দেখালো ভীষণ। সে এগিয়ে গেল ভেতরে। মাইমুনা এহসান আফরিদ কে দেখেই ন্যাকা সুরে নালিশ করে বললেন।
“দেখো বেটা দেখো , ইলহাম অহেতুক ফাহমিদার সাথে রাগ দেখাচ্ছে। ওর আনা ড্রেস গুলো নিচে ফেলে দিয়েছে। আশ্চর্য!”
ন্যান্সির বাহু টেনে দাঁড় করালো আফরিদ,সহসা তার বুকে মুখ গুজে ন্যান্সি। লম্বা নিঃশ্বাস টেনে বলে উঠে।আবেশে আঁখিদ্বয় বুঁজে এলো, জড়ানো কন্ঠে বলে।
“আপনার শরীর থেকে কি মিষ্টি খুশবু আসছে!”
আফরিদ ঠোঁট কামড়ে হেসে ফেলল,গা থেকে ঘামের বিদঘুটে গন্ধ বের হচ্ছে আর এই মেয়ে কি-না বলে দারুণ খুশবু? এই রমণী তাকে এসব বলে বলেই ধ্বংস করে চলেছে।
মাইমুনা এহসান চোখ মুখ কুঁচকে নিলেন। নাক ছিটকে বলেন,
“ইশ্ এই মেয়েটা কি যে করে? বেটা দেখলে তোমার ওয়াইফ পাগল হয়ে গেছে!”
আফরিদ কপাল কুঁচকে হাতের ইশারায় মাইমুনা এহসানকে থামতে বলল। অর্থাৎ চুপ থাকুন আমি সামলে নেব। মাইমুনা এহসান বড় বেটার কথার উপরে কথা বললেন না।
ন্যান্সিকে পাঁজা কোলে তুলে নিল সন্তর্পণে। তিতলি যেনো হাফ ছেড়ে বাঁচলো, একমাত্র আফরিদ পারে ন্যান্সিকে সামলাতে।
আফরিদ বড়বড় কদম ফেলে সিঁড়ির দিকে অগ্রসর হয়। ন্যান্সি দ্বিধাহীন চিত্তে দু’হাতে গলা জড়িয়ে ধরে,
“আপনি কি মেখেছেন? এই খুশবু আমার পছন্দ হয়েছে।”
আফরিদ মিটিমিটি হাসছে। গ্রীবা ঝুঁকিয়ে নাকে নাক ঘষে বলে,
“তোকে গায়ে মেখেছি,তাই তোর গায়ের মিঠা মিঠা ঘ্রাণ জড়িয়ে গেছে।”
ন্যান্সিকে রুমে এনে বিছানায় নামিয়ে দিলো আফরিদ।
আচানক নাক মুখ কুঁচকে নিল ন্যান্সি। তীব্র রাগ নিয়ে বলল।
“ছিহ্ আপনার শরীর থেকে কি বাজে গন্ধ আসছে! ইয়াক থু!”
আফরিদ দ্রুত ওয়াড্রোব থেকে নিজের জামাকাপড় নিয়ে ওয়াশ রুমে গেল। লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে আসতেই আবারো বুকে মুখ গুঁজে ন্যান্সি। এবারেও রাগ হলো তার।
“আগের খুশবু টা নেই!”
আফরিদ গা দুলিয়ে হেসে উঠলো, কপালে গাঢ় চুমু খেলো ন্যান্সির।
“বান্দি রেএএ পাগল করে দিচ্ছিস।”
ন্যান্সি নিশ্চুপ, আফরিদ সারা মুখশ্রী জুড়ে আদুরে স্পর্শ বুলিয়ে দেয়। মূহুর্তের মধ্যে শান্ত হয়ে যায় ন্যান্সি। মেয়েটাকে বুকে নিয়ে শুয়ে রইল কিছুক্ষণ।
__________
দুপুর দুইটা ছুঁই ছুঁই। ইদ্রানের সঙ্গে বেরিয়েছে স্মাইলি। কিশোরীর অধরদ্বয় অভিমানে স্ফীত ; অন্তর্নীল ক্ষোভ স্পষ্ট প্রতিফলিত হচ্ছে তার অভিব্যক্তিতে। করবেই তো ইদ্রান তার একটাও কথা শুনে না।
ভ্রু কুঞ্চিত করে কন্যাটির অভিমুখে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল ইদ্রান। অভিমানী বালিকার অভিমান প্রত্যক্ষ করে ঠোঁটের কোণে রহস্যময়ী হাসি আবৃত করল। প্রায় পৈশাচিক মৃদু হাস্যরেখা প্রস্ফুটিত হলো।
“প্রিন্সেস এমন করছো কেন তুমি?”
ইদ্রানের এই প্রগল্ভ রসিকতায় স্মাইলির ক্রোধাগ্নিকে আরো প্রজ্বলিত করল। নয়নযুগলে দাউদাউ জ্বালা, মুখাবয়বে ক্রোধের তীব্র উষ্মার ছাপ ।
“একদম ফান করবে না লুসিফার। তুমি আমার একটাও কথা শুনো না।”
ড্রাইভিং অব্যাহত রেখেই কিঞ্চিৎ ঘাড় বাঁকিয়ে সেই রক্তাভ মুখাবয়বের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করল।
“হোয়্যাট হ্যাপেন্ড? আরে বলবে তো কি হয়েছে?”
স্মাইলি বোচা নাকটা ফুলিয়ে অভিমানী কন্ঠে অভিযোগ করে বসল,
“আপনি কি বাজে একটা পুরুষ লুসিফার। আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে অথচ এখনো আমি প্রেগন্যান্ট হলাম না। এদিকে ইলহাম প্রেগন্যান্ট। নো এটা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। আমিও প্রেগন্যান্ট হতে চাই।”
স্মাইলির এমন বাচ্চা সুলভ আবদারে হো হো শব্দে হেসে উঠলো ইদ্রান। হাসির তালে তালে কেঁপে উঠলো তার শক্তপোক্ত বক্ষঃস্থল।
তার দিকে অগ্নিদগ্ধ নয়নে চেয়ে আছে স্মাইলি। রাগের স্ফুলিঙ্গ ক্রমেই বাড়ছে অক্ষি জোড়ায়।
হাসি থামানোর বৃথা চেষ্টা করে চলেছে ইদ্রান। আচ্ছা এই পরিস্থিতিতে হাসবে না তো আর কি করবে? এমন বাচ্চা সুলভ আবদার কেউ করে?
“প্রিন্সেস তুমি বাচ্চার মা হতে এমন করছো?লাইক সিরিয়াসলি?”
বিষণ্নতায় মনটা বিক্ষিপ্ত হয় স্মাইলির। অফকোর্স সেও মা হতে চায়। চাইবেই তো!
“ওহ গড প্রিন্সেস তুমি নিশ্চয় প্রতিযোগিতায় নামোনি? তাছাড়া ইলহাম আর আফরিদের বিয়ে অনেক আগে হয়েছে। আমাদের বিয়ে তো মাত্র হলো।”
“সো হোয়্যাট? তাই বলে আমি মা হবো না?”
ইদ্রান স্মাইলির এহেন পাল্টা প্রত্যুত্তরে বাকরুদ্ধ হয়ে বসে রইল।
সত্যি তার এই মূহুর্তে কিছু বলার নেই। তবে তাকে তার লিটল প্রিন্সেসের মন ভালো করতে হবে।
সেই তোড়জোড়েই লেগে পড়ল মেয়েটা। স্মাইলিকে নিয়ে অনেক গুলো জায়গায় ঘুরেছে। সাথে একসাথে ডিনার পর্যন্ত করেছে বাইরে। ইদ্রানের সঙ্গ পেয়ে আমোদিত চিত্তে বাড়ি ফেরে।
_______________
তিতলিকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে শুয়ে আছে ঈশান। এই মেয়েটা যেন আস্ত নরম একটা তুলোর স্তূপ। এক অপার্থিব কোমলতার আঁধার। কোলবালিশের মতো জড়িয়ে ধরে শুতেই তার ভালো লাগে। তাকে আলিঙ্গন করে নিদ্রায় তলিয়ে যাওয়াতেই যেন পুরুষটির পরম শান্তি। দিনের বেলায় অনবরত কথা কাটাকাটিতে নিমগ্ন থাকলেও নিশীথের নিবিড় আঁধারে পরস্পরের উষ্ণ আলিঙ্গনেই খুঁজে পায় প্রশান্তির নিবাস ।ঈশানের প্রশস্ত বক্ষপটে মাথা না রেখে ঘুমই আসতে চায়না তিতলির। যতই সে দিনের আলোয় লোকটাকে বকাবকি করুন না কেন!
রাত্রির গাড় আঁধারে এই লোকের আধো আধো স্পর্শের আবেশে কন্যার শীর্ণ বদন শিহরিত হয়ে উঠে, লজ্জার লালিমায় রঞ্জিত হয়ে আশ্রয় নেয় তারই বুকে, মুখ লুকিয়ে রয় নিঃশব্দে।
আজকেও তো ব্যতিক্রম নয়। । ঈশানের প্রগল্ভ ,পাগল করা স্পর্শের যখন তিতলি অস্থিরতায় জর্জরিত সেই ক্ষণে ঈশান মৃদু হেসে কানের নিকটে নিঃশ্বাস ছুঁইয়ে হিসহিসিয়ে বলে,
“কিছুক্ষণ আগে না বললে ভয় পাওনা।যা ইচ্ছে করো। তাহলে এখন কাঁপছো কেন?”
নিঃশ্বাস ক্রমেই গাড় ও ভারাক্রান্ত হয়ে আসছে তিতলির। ঈশানের অবাধ্য স্পর্শ উদরজুড়ে বিচরণ করছে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে।
তথাপি কপট অভিমানে ভর করে সে বলে উঠে,
“কি মনে হয় আমি আপনাকে ভয় পেয়ে কাঁপছি?”
ঈশান সরু দৃষ্টিতে নিরীক্ষণ করে তাকে। নয়নযুগল র’ক্তাভ হয়ে আছে। ম্যাডাম ভাঙ্গার পূর্বে শতবার মচকাবে তবুও নত স্বীকার করবে না।
গ্রীবা ঝুঁকিয়ে নাকে নাক ঘষে ঈশান। তার সমগ্র ভার তিতলির উপর। আর মেয়েটা নিঃশব্দে সহিষ্ণুতায় আবরণে নিজেকে আবৃত করল,
একসময় অধরের পরশে অধর নিবদ্ধ হতেই তীব্র আবেগে তিতলি তার চুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ করল। কিন্তু মূহুর্তের ব্যবধানে নিজেকে সংযত করল।
কপালে কপাল ঠেকিয়ে নিম্নস্বরে জিজ্ঞেস করল,
“এবার বলো কেন কাঁপছো?”
তিতলি উপরে উপরে ভয় পায়না অস্বীকার করলেও অন্তর্গত সন্ত্রাসে আচ্ছন্ন তিতলি শুষ্ক কন্ঠে, অস্ফুট সুরে উচ্চারণ করল ,
“আপনি এমন করছেন কেন?”
ঈশান দুষ্টু ভঙ্গিতে বলল,
“কেমন করছি?”
তিতলি তাকিয়ে আছে নির্নিমেষ। ঈশানের ওই আঁখি যুগল মহা সাগরের অতল গহ্বরের ন্যায়,যা ক্রমশ তলিয়ে নিচ্ছে তিতলির সমগ্র নারী সত্ত্বা।
বেশিক্ষণ তার চোখে স্থির তাকিয়ে থাকা কষ্টের। ভীতু তিতলি দৃষ্টি নত করে নেয়। ঈশানের ওষ্ঠোপুটে বাঁক খেলে যায়।
হাতের অঞ্জলিপুটে স্নিগ্ধ,কোমল মুখাবয়ব তুলে আদরে আদরে ভরিয়ে শিশু সুলভ উচ্ছ্বাসে বলে,
“ভালোবাসি,তিতলি।”
সচরাচর এই পুরুষ তাকে এভাবে ‘তিতলি’ বলে সম্বোধন করেনা।অথচ আজ আদুরে গলায় প্রেম নিবেদনে বরফ খন্ডের ন্যায় গলিত হয় তার হৃদয়।
চলবে…………।
(সবাই বেশি বেশি রেসপন্স করবেন,বাই দা চৌরাস্তা ফাহমিদা চলে এসেছে, এখন বলুন কে হতে পারে আগুন্তক নারী?)
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৮৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫৭ এর শেষাংশ
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৭
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৩
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৮৫
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৯(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫০