পর্ব_৯
লেখিকা: Atia Adiba – আতিয়া আদিবা
মাঝপদ্মার নৌকায় লাফাঝাঁফি শেষে স্বপ্নিল তখন ক্লান্ত। গভীর রাতে খোলা আকাশের নিচে শুয়ে কত পুরানো গল্পের চাটাই বিছিয়েছিল আজ সে! বোধহয় আর কোনো গল্প অবশিষ্ট নেই। তার চোখ দুটো এখন লাল টকটকে।চুলগুলো উষ্কখুষ্ক বলে একদম পাখির বাসার মতো লাগছে। বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিল স্বপ্নিল , আসিফ, ফাহিম আর রিফাত।
সকলে নিজ নিজ আস্তানায় সটকান দেওয়ার জন্য রওনা হল। স্বপ্নিলও কোনোমতে বাইক চালিয়ে চলে এলো বাড়িতে। জুতোজোড়া মূল দরজার মুখেই কোনোমতে পা দিয়ে লাথি মেরে ছুড়ে ফেলল। এরপর সোজা নিজের ঘরের দিকে হাঁটা দিল।
বিছানার এক কোণে পড়ে থাকা কোলবালিশের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
-ওহ ডার্লিং! আই মিসড ইউ সো মাচ।
অবিবাহিত ছেলেদের নিকট কোলবালিশই তাদের প্রথম স্ত্রী। বিছানায় ডুব সাঁতার দেওয়ার মতো করে এক লাফ দিল স্বপ্নিল। এরপর কোলবালিশটাকে দুপায়ের মাঝে নিয়ে জড়িয়ে ধরে চুমু খেলো সে। এরপর বিড়বিড় করে কি একটা বলতে বলতে গভীর নিদ্রায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিল সে।
কতক্ষণ এভাবে ছিল কে জানে! স্বপ্নিল অল্প চোখ মেলে তাকাল মায়ের কণ্ঠস্বর শুনে,
-স্বপ্নিল! ব্রেকফাস্ট টেবিলে আয়।
স্বপ্নিল ঘাড় না ঘুরিয়েই এক হাত তুলে চরম করুণ গলায় বলল,
-মা, এখন না প্লিজ!
-সে কি! নাস্তা খাবি না তুই? নয়টা বাজে।
-সারারাত পদ্মার হাওয়া খেয়ে এসেছি, মা। সো, ব্রেকফাস্ট ইজ অপশনাল। বাট স্লিপ ইজ ম্যানডেটরি! গুড নাইট।
স্বপ্নিল আবার বালিশে মুখ লুকালো।
নীলা এবার কড়া গলায় বলল,
-এসব অজুহাত নিজের কাছে রেখে সোজা টেবিলে আয়। তোর পাপার তোর জন্য অপেক্ষা করছেন। এক কথা বার বার বলতে পারব না স্বপ্নিল।
স্বপ্নিল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের উষ্কখুষ্ক চুলগুলো হাত দিয়ে আরো কিছুটা এলোমেলো করে নিল। মনে মনে নিজেকে গালি দিল,
আরো ঘুম বাদ দিয়ে যাও মাওয়া! আরো লুঙ্গী বাতাসে উড়াও। অর্ধেক পাছা বের করে নাচো! এখন ঘুম ফেলে আবার কোন ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি হতে হবে কে জানে!
স্বপ্নিল ঘুমিয়ে ঘুমিয়েই ডায়নিং টেবিলে গিয়ে হাজির হলো। শাহরিয়ার সাহেব বেশ মনোযোগ দিয়ে চোখ বোলাচ্ছেন খবরের কাগজে। টেবিলে গরম গরম নাস্তা সাজানো থাকলেও স্বপ্নিল ওসবের দিকে ফিরেও তাকাল না। সে সোজা একটা মগে কড়া ব্ল্যাক কফি ঢেলে নিল।
এতে যদি ঘুমের রেশ কিছুটা কাটে!
মগে একটা বড় চুমুক দিয়ে শাহরিয়ার সাহেবের ঠিক মুখোমুখি চেয়ারটায় ধপ করে বসে পড়ল স্বপ্নিল। জড়ানো গলায় বলল,
-বলো পাপা।
শাহরিয়ার সাহেব ধীরেসুস্থে খবরের কাগজটা ভাঁজ করে টেবিলে রাখলেন। চশমাটা কপাল থেকে নামিয়ে কাঁচটা আলতো করে মুছে আবার চোখে পরলেন। কুঞ্চিত ভ্রুঁ নিয়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন,
-আসলাম ফোন করেছিল।
স্বপ্নিল হাই তুলে বলল,
- ওহ! তার মেয়ের অবশ্যই আমাকে পছন্দ হয় নি রাইট? পাপা ট্রাস্ট মি, রিজেকশন জিনিসটা খুবই স্বাভাবিক একটা বিষয়। টেইক ইট ইজি। আরিয়ান স্বপ্নিল চৌধুরীকে দেখামাত্রই সব কনে বিয়ের জন্য পাগল হয়ে যাবে ব্যাপারটা তো এমন না!
ইটস ওকে। মন খারাপ করো না। দেখো না, আই অ্যাম ফাইন, মাই হার্ট ইজ স্টিল বিটিং!
স্বপ্নিল এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো উগরে দিয়ে কফির মগে পুনরায় চুমুক দিল।
-কথা শেষ হয়েছে?
স্বপ্নিল জিজ্ঞাসু চোখে বাবার দিকে তাকাল।
শাহরিয়ার সাহেব সহজ গলায় বললেন,
-নিয়তির তোমাকে পছন্দ হয়েছে।
স্বপ্নিলের হাত থেকে কফির মগটা সামান্য আলগা হয়ে গেল। কিছুটা ব্ল্যাক কফি ছিটকে আশেপাশে ছড়িয়েও পড়ল। স্বপ্নিল চোখ দুটো গোল গোল করে থমকে রইল ক্ষণিককাল। নিজের কানকে যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না সে!
-হোয়াট?!
স্বপ্নিল সোজা চেয়ার থেকে উঠে চিৎকার করে বলে উঠল,
-ওই পুচকি মেয়ের আমাকে পছন্দ হয়েছে? হলি ফা—”
-ল্যাঙ্গুয়েজ, স্বপ্নিল!
শাহরিয়ার সাহেব তীব্র ভর্ৎসনার দৃষ্টিতে ছেলের দিকে তাকালেন। উনার গলার স্বর থমথমে শোনাল।
-ডায়নিং টেবিলে বসে এসব কী ধরনের অসভ্য ভাষা ব্যবহার করছো তুমি?
-সরি পাপা
স্বপ্নিল ঝটপট টেবিলে বসে নিজের গাল হাত দিয়ে চেপে ধরল। চোখ দুটো এখনো বিস্ময়ে কোটর থেকে বের হয়ে আসার দশা। ফিসফিস করে বলল,
-সিরিয়াসলি? আমাকে পছন্দ হল? কোনো ইঙ্গিত ছাড়া হুট করে গ্রিন সিগন্যাল দিয়ে দিল! আগের জন্মে নিশ্চিত মেয়ে ট্রাফিক কন্ট্রোলার ছিল। ফাকিং হে*ল!
শাহরিয়ার সাহেব বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
-বিড়বিড় করে কিসব বলছো!
-নাথিং! নাথিং! বলো তুমি আর কিছু বলেছে?
-নিয়তির চাচ্ছে বিয়ের ডেট ফাইনাল হওয়ার আগে সে তোমার সাথে একটু ঘুরবে ফিরবে। তোমাদের নিজেদের মাঝের বন্ডিংটা একটু স্ট্রং করতে চায়। নিয়তি তোমাকে ফোন করতে পারে। কথা বলো।
টেবিলের ওপর ক্রমশ ঠান্ডা হতে থাকা কফির মগের দিকে তাকিয়ে রইল স্বপ্নিল। সে চেষ্টা করছে দ্রুত গতিতে কিছু সমীকরণ মেলাতে।
ঘুরেফিরে দেখতে চাওয়া মানে ডেটে যেতে চায়! ওই সাইলেন্সার আমার সাথে ডেটে যাবে?
শাহরিয়ার সাহেব ছেলের নীরবতা দেখে জিজ্ঞেস করলেন, “কী হলো? কিছু বলছ না কেন?
স্বপ্নিল এবার সোজা হয়ে বসল। ওর মুখের সেই অপ্রস্তুত ভাবটা মুহুর্তেই গায়েব হয়ে গেল। সে ঘাড়টা সামান্য কাত করে বলল,
-ওকে, পাপা। ডান! আই হ্যাভ নো অবজেকশন। কিন্তু ঘুরে ফিরে আমার যদি ভালো না লাগে আমি কিন্তু বিয়ে করব না! ইটস এ ডিল। ওকে?
শাহরিয়ার সাহেব মাথা নেড়ে বললেন,
-ডান।
স্বপ্নিল চেয়ার ছেড়ে ধড়াম করে উঠে দাঁড়াল। দুই হাত ওপরে তুলে শরীরটা একটা বিশাল মোচড় দিয়ে শব্দ করে হাই তুলল।
‘হা আও আও আ আ আ’
তারপর পুরো ঘরের দিকে তাকিয়ে একদম অফিসিয়াল ঘোষণা দেওয়ার মতো করে বলল,
-অ্যান্ড নাউ, লেডিস অ্যান্ড জেন্টলমেন! দ্য কোর্ট ইজ অ্যাডজর্নড! আরিয়ান স্বপ্নিল চৌধুরী এখন গডজিলার মত হাইবারনেশনে যাচ্ছে। আগামী দশ ঘণ্টার মধ্যে যদি কোনো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধও বাঁধে, তবুও দয়া করে আমাকে কেউ বিরক্ত করবেন না। থ্যাঙ্ক ইউ!
স্বপ্নিল আর এক সেকেন্ডও দাঁড়াল না। মিসাইলের গতিতে সোজা নিজের রুমের দিকে দৌড় দিল এবং দরজাটা সশব্দে আটকে দিল।
★★★★★
স্বপ্নিলের যখন ঘুম ভাঙল তখন বাইরের আকাশ ছেয়ে গেছে গাঢ় অন্ধকারে। চোখ পিটিপিট করতে করতেই অলস ভঙ্গিতে কয়েকবার হাত-পা ছড়ালো সে। গায়ের ওপর থেকে পাতলা কম্ফর্টার ছুড়ে ফেলে দিয়ে বিছানায় আধশোয়া হয়ে বসল। এরপর ফোন হাতে নিল।
ফোনের লক স্ক্রিন খুলতেই নোটিফিকেশন প্যানেলে একটা আননোন নাম্বারের মিসড কল ভেসে উঠল। কলটা এসেছিল বিকেলের দিকে।
স্বপ্নিল বুড়ো আঙুল দিয়ে স্ক্রিনটা স্ক্রল করে বিরক্তির একখানা শব্দ করল। নিশ্চয়ই কোনো ক্লায়েন্ট ফোন করেছিল!
ফোনটা একপাশে ছুড়ে দিয়ে বিছানা ছেড়ে ওঠার জন্য পা বাড়াল সে। কিন্তু ঠিক দুই কদম এগোতেই পুনরায় থমকে গেলো। চিন্তার স্রোত ধাক্কা দিল মাথায়।
-হোল্ড অন! আননোন নাম্বার… পাপা সকালে বলল না? নিয়তি আমার সাথে ঘুরেফিরে দেখতে চায়, কল দেবে।এটা সেই পুচকি সাইলেন্সারের নাম্বার না তো?
স্বপ্নিল তড়িঘড়ি করে ফ্রেশ হতে বাথরুমে ঢুকে গেল।শাওয়ার নিয়ে, চুলগুলো তোয়ালে দিয়ে মুছতে মুছতে রান্নাঘরে গিয়ে হানা দিল সে। এই ভর সন্ধ্যায় লাঞ্চ সেড়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল সে।
আজকের দক্ষিণের হাওয়াটা বেশ ঝরঝরে। স্বপ্নিল সিগারেট ঠোঁটে ঝুলিয়ে কিছুটা দ্বিধা নিয়ে সেই নাম্বারে কল ব্যাক করল।
দু-তিনবার রিং হতেই ওপাশ থেকে রিসিভ হলো।ফোনের অপর প্রান্ত থেকে খুব একটা মেয়েলি কণ্ঠ শোনা গেল।
-হ্যালো।
স্বপ্নিল গলাটা কেশে একটু পরিষ্কার করে নিল। কণ্ঠটা সে চিনতে পেরেছে। তবুও জিজ্ঞাসা করল,
-হ্যালো? নিয়তি বলছিলেন?
-হুঁ।
-ইয়ে…
আপনি কল করেছিলেন বিকালে আমি ধরতে পারিনি। তার জন্য সরি। আসলে আমি একটু ডিপ স্লিপে ছিলাম।
নিয়তি ফোনের ওপাশে কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল। এরপর পরিমিত গলায় বলল,
-সমস্যা নেই।
আপনি কি আগামীকাল ফ্রি আছেন?
স্বপ্নিল কিছুটা চমকে উঠল। সাইলেন্সার যে সরাসরি পয়েন্টে চলে আসবে, তা ওর সমীকরণে ছিল না।
সে হালকা ভ্রু কুঁচকে বলল,
-কালকে? হুম। শুক্র-শনিবার কোর্ট-কাচারির প্যারা নেই। বলতে গেলে ফ্রি-ই আছি। কেন বলুন তো?
-বাইরে দেখা করবেন? যদি আপনার আপত্তি না থাকে।
নিয়তির গলার স্বর এখনো আগের মতোই ধীরস্থির। তবে বেশ স্পষ্ট শোনালো।
স্বপ্নিল মুচকি হাসল। বারান্দার গ্রিলে এক হাত ভর দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল,
বাহ! সাইলেন্সার তো দেখি বেশ বোল্ড! নট ব্যাড!
বেশি কথা বাড়িয়ে নিজের দর কমানোর কোনো মানে হয় না। তাছাড়া ও নিজেও দেখতে চায় এই স্তব্ধতার নেপথ্যে আসলে কী চলছে। স্বপ্নিল আর কথা বাড়াল না, খুব সহজ গলায় বলল,
-জ্বি। অবশ্যই যাবে। কখন আর কোথায় আসতে হবে বলুন?
-বিকেল পাঁচটায়। ধানমন্ডি আট নম্বর ব্রিজের পাশে যে কফি শপটা আছে, ওখানে?
নিয়তি এক নিঃশ্বাসে জায়গাটার নাম বলে থামল।
-ডান! বিকেল পাঁচটায় দেখা হচ্ছে।
স্বপ্নিল বেশ চটপটে গলায় সম্মতি দিল।
-রাখি তাহলে।
কোনো সৌজন্যমূলক বিদায় না জানিয়েই নিয়তি ফোনটা কেটে দিল। ফোনের স্ক্রিনটা নিভে যেতেই স্বপ্নিল ফোনটার দিকে কিছুক্ষণ হা করে তাকিয়ে রইল।
-ওয়াহ! ডিল শেষ ফোন কাটাও শেষ!
স্বপ্নিল এবার শব্দ করে হেসে ফেলল। মেয়েটার সবকিছুই কেমন অদ্ভুত। স্বপ্নিলের একেবারে বিপরীত। তবুও ভিন্নধর্মী আকর্ষণ কাজ করল ওর মাঝে।
————————
————————
ধানমন্ডি আট নম্বরের মোড়ের ব্যস্ত ফুলের দোকানটার সামনে একদম নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে স্বপ্নিল। শেষ দুপুরের নরম রোদ তখন গাছের পাতার ফাঁক ফোকড় গলে রাস্তায় আছড়ে পড়ছে। চারিদিকে ভীষণ সুন্দর সোনালী আভা।
চারপাশের গাড়ির ধোঁয়া, ব্যস্ত শহরের গাড়ির হর্ন আর মানুষের হট্টগোলের মাঝেও স্বপ্নিল যেন নিজের অজান্তেই স্তব্ধ হয়ে গেছে। সে বেশ কিছুক্ষণ ধরে দোকানে সাজিয়ে রাখা রকমারি ফুলের তোড়াগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিল। ভাবছিল, আঠারো বছরের একটি মেয়ের জন্য ঠিক কোন ফুলটা উপযুক্ত?
লাল গোলাপ? নাকি শুভ্র রজনীগন্ধা? নাকি অর্কিড?
এসব ভাবতে ভাবতেই স্বপ্নিলের নজর গিয়ে আটকে গেল এক কোণে সযত্নে কাঁচের পাত্রে রাখা হালকা বেগুনি আর সাদা অর্কিডগুলোর ওপর।
সহসা স্বপ্নিলের চোখদুটো কেমন যেন ঝাপসা হয়ে এলো। জীবনের ঘড়ির কাঁটা যেন মুহুর্তেই পেছনে ঘুরে গেল। স্বপ্নিলকে নিয়ে হারিয়ে গেল কিছু পুরোনো স্মৃতির অতলে।
অনন্যার অর্কিড ভীষণ প্রিয় ছিল।
অনন্যার সাথে যেদিনই দেখা করতে যেত, স্বপ্নিল নিয়ম করে সবসময় অর্কিড কিনে নিয়ে যেত। অনন্যা এসে সামনে দাঁড়ানো মাত্রই স্বপ্নিল লোকলজ্জার মাথা খেয়ে রাস্তার মাঝখানেই এক হাঁটু গেড়ে বসত। রাজকীয় ভঙ্গিতে অর্কিডের তোড়াটা অনন্যার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলত,
-মহিয়সী, আপনার প্রেমিক অসীম ভালোবাসা নিয়ে হাজির!
স্বপ্নিলের এমন রঙ ঢং এ অনন্যা খিলখিল করে হেসে উঠত। স্বপ্নিল তখন অনন্যার হাত ধরে টেনে নিজের ঠিক হাটুর ওপর বসাত। অনন্যা সরু চোখে চারপাশটা এক পলক দেখে নিত। এরপর আলতো করে হাত বাড়িয়ে স্বপ্নিলের চুলগুলো এলোমেলো করে দিত। নিজের থেকেই ঝুঁকে স্বপ্নিলের ঠোঁটে গুঁজে দিত অনুরাগের এক উষ্ণ ছোঁয়া।
চুমু শেষে স্বপ্নিল অনন্যার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলত,
-তোমার এই স্পর্শটা, এই চুমুটা আমি আমার সারাজীবনের জন্য রিজার্ভ করে রাখতে চাই অনন্যা। চল না, আমরা বিয়েটা করে ফেলি!
অনন্যা সবসময় একটা হালকা মিষ্টি হাসি দিয়ে স্বপ্নিলের গাল টিপে দিত। কখনো বলত,
-ধুর পাগল, এসব নিয়ে পরে কথা হবে!
আবার হুট করে অন্য কোনো টপিক তুলে বিয়ের বিষয়টা এড়িয়ে যেত। স্বপ্নিল তখন বুঝত না, কিন্তু এখন বুঝে। অনন্যা কখনোই ওর সাথে দুটো জীবনকে এক সুতোয় বাঁধার গল্পটা বুনতে চায়নি।
-মামা ,ও মামা!কোন ফুলটা দিব?
দোকানদারের কর্কশ ডাকে স্বপ্নিল বাস্তবে ফিরে এলো। চোখের পলক ফেলে নিজেকে দ্রুত সামলে নিল সে।অর্কিডের দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে সে দোকানে সাজিয়ে রাখা তাজা লাল গোলাপের তোড়াটার দিকে আঙুল তুলল।
-লাল গোলাপ দেন। এক তোড়া লাল গোলাপ।
দোকানদার লাল গোলাপের তোড়া স্বপ্নিলের হাতে তুলে দিল।
ফুল জোড়া হাতে নিয়ে গাড়ির চাবির তোড়া আঙুলে ঘোরাতে ঘোরাতে ধানমন্ডি আট নম্বর ব্রিজের দিকে ধীর পায়ে হাঁটতে লাগল স্বপ্নিল। হাঁটতে হাঁটতেই ওর মনের ভেতর কেমন অদ্ভুত হাহাকারে ছেয়ে গেল।
মানুষের জীবন কত অদ্ভুত! অভ্যাসের ধরণগুলো একই থেকে যায়। কিন্তু যাদের জন্য অভ্যাসটা গড়ে ওঠে তারাই এক সময় হারিয়ে যায়।
হাঁটতে হাঁটতেই কফি শপের কাঁচের দেওয়াল ঘেঁষে রাখা একটা কোণের টেবিলের দিকে স্বপ্নিলের নজর গেল। কালো রঙের শাড়ি পরা একটা ছোটখাটো মেয়ে সোজা হয়ে বসে আছে। হাত দুটো কোলের ওপর পরিপাটি করে রাখা।
স্বপ্নিল শার্টের কলারটা একটু উঁচু করে, মুখে ওর সেই পরিচিত হাসিটা ঝুলিয়ে কফি শপের দরজার দিকে পা বাড়াল।
[এই জ্বরের শরীর নিয়ে কি লিখেছি, কতটুকু গুছিয়ে লিখতে পেরেছি জানি না। আপনারা অপেক্ষা করছেন বলেই এমন অপ্রকৃতস্থ মস্তিষ্ক নিয়েও এই পর্ব ৯ লিখার প্রচেষ্টা! পর্ব -১০ একদিন পরে আসবে।
সবাই নিজের যত্ন নিবেন। ডেঙ্গুর সিজন। অনুগ্রহ করে পরিবার সমেত সাবধানে থাকবেন। ফি আমানিল্লাহ ]
Share On:
TAGS: আতিয়া আদিবা, মিস্টার মাংকিম্যান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মিস্টার মাংকিম্যান পর্ব ৫
-
তুমি এলে অবেলায় পর্ব ১৯
-
তুমি এলে অবেলায় পর্ব ৩
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ২৮
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ১৬
-
মিস্টার মাংকিম্যান পর্ব ২
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ১৯
-
তুমি এলে অবেলায় পর্ব ২
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ১০
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ২০