[পর্ব ৭১]
#লেখিকা_ফারহানা_নিঝুম
( দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
(দ্বিতীয় খন্ড)
সকাল সকাল পুরো এহসান মঞ্জিল শোকে পাথর হয়ে আছে। অবশ্য তার কারণ হচ্ছে নীলাদ্রি! এই যে তার পুরো কালো হয়ে যাওয়া দেহটা সাদা কাপড়ে ঢেকে ফ্লোরে ফেলে রাখা হয়েছে!
কল্পনা স্তম্বিত,সে কথা বলতে পারছে না।পরপর দু’বার জ্ঞান হারিয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েছে। যতবার নীলাদ্রির পুরে যাওয়া লা’শটা দেখছে ততবার তার হৃদয় কাঁপছে!
মাইমুনা এহসান থমকে দাঁড়িয়ে আছেন,তিনি তার ছেলেকে হারিয়ে নিঃস্ব!
আফরিদ আর সাব্বির একপাশে দাঁড়িয়ে আছে।
তাদের ঠিক পিছনে রয়েছে ঈশান আর ইভান।
ইদ্রান জানে এই কাজটা ন্যান্সির। কিন্তু সে কোথায়? যে এতবড় কান্ড ঘটিয়েছে তার তো দেখা সাক্ষাৎ নেই!
স্মাইলি আর তিতলি সিঁড়ির একপাশে দাঁড়িয়ে আছে।
কল্পনা এযাত্রায় হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো।
“আমার নীলাদ্রি কে এনে দাও? মম এটা কি হলো? আমার কি হবে এখন? মম আপনি কেন চুপ? বলুন কেন হলো?”
মাইমুনা এহসান তাকালেন আফরিদের দিকে! আফরিদ নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। তার যেনো কোনো রকম মায়া হচ্ছে না। যে পুরুষ তার ননির পুতুলের মতো পবিত্র স্ত্রী কে আ’ঘাত করার কথা চিন্তা করবে তার সাথে এরকমই হওয়া উচিত! শুধু এরকম নয় এর থেকে জঘন্য শাস্তি তার প্রাপ্য! যদি আফরিদ এহসানের হাতে থাকতো তাহলে বোধহয় নীলাদ্রির দেহ খন্ড খন্ড ভাবে এখানে সেখানে পাওয়া যেতো। আফরিদ তার নিজ হাতে ওই দেহে থাকা কলিজা টেনে বের করে কাঁচা খেয়ে নিতো।
কিন্তু আফসোস তার দয়ালু স্ত্রী শুধু পুড়িয়ে ক্ষ্যান্ত হয়েছে!
“আফরিদ আমার সাথে এসো কথা আছে।”
আফরিদ তপ্ত নিঃশ্বাস ছাড়লো, ড্রয়িং রুম ছাড়লেন মাইমুনা এহসান। স্টাডি রুমের দিকে এগিয়ে গেলেন, তার পিছু পিছু আফরিদকে যেতে হলো।
ড্রয়িং রুমে দাঁড়িয়ে আছে সাব্বির,চক্ষু জোড়া তীক্ষ্ণ হয়ে উঠে তার। বিবর্ণ মুখশ্রী। সে জানে এটা কে করেছে। ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা। এই মেয়েটা এটা করেছে! ওই তো সেই গিয়েছিল গোডাউনে। ইলহাম ছাড়া আর কেউ নয়! ইলহাম কে সেদিন আফরিদ বাড়িতে নিয়ে এলো তখন রক্তাক্ত ছিলো মেয়েটা। আফরিদের অবস্থা খারাপ ছিলো!
ইলহাম রুমে এসে হাউমাউ করে কেঁদেছে। যখন ডক্টর এসেছিল ইলহাম একটা কথাই বিড়বিড় করছি।
“ছাড়বে না, জ্বালিয়ে দেবে! জ্বালিয়ে দেবে!”
আজকে সাব্বির বুঝতে পারছে তার সেদিনের কথার অর্থ! সাব্বির ছাড়বে না তাকে,এবার যদি তাকে শেষ করতে আফরিদের সম্মুখীন হতে হয় তাহলে তাই হবে!
“কেন আফরিদ? কি এমন করেছিল নীলাদ্রি? কেন তাকে শেষ করতে হলো?”
“প্রয়োজন ছিলো।”
আফরিদের নির্লিপ্ত জবাব! মাইমুনা এহসান পলক ফেললেন না,এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছেন আফরিদের দিকে।
“তুমি কি এসব ইলহামের জন্য করেছো? আমার ছেলেকে তুমি..সে তোমার ভাই ছিলো?”
আফরিদ আগের থেকে ভয়ংকর ভঙিতে দাঁড়ালো,চোখ মুখ চূড়ান্ত পর্যায়ে শক্ত করে বলল।
“আফরিদ এহসান এতটাও বোকা নয়। নীলাদ্রি নিজের ভুলের শাস্তি পেয়েছে? সে হতে চেয়েছিল আফরিদ এহসান। কিন্তু তার দ্বারা ছিলো না একই জঙ্গলে দু’টো সিংহের রাজত্ব চলে না।”
মাইমুনা এহসান সতর্ক হলেন, সন্দিগ্ধ কন্ঠে শুধোয়।
“কি বলতে চাইছো?”
আফরিদ অস্ফুট স্বরে হাসলো। অতঃপর সেই হাসি টুকু ওষ্ঠো কোণে বজায় রেখেই বলল।
“তুমি আফরিদ এহসানের মম, এইটুকু বুঝতে পারবে না এটা অসম্ভব!”
আফরিদ ধুমধাম পা ফেলে স্টাডি রুম ছাড়লো । মাইমুনা এহসান স্তব্ধীভূত! খুব শীঘ্রই আফরিদ ধ্বংস হতে চলেছে। একে একে তার এই জেদ,এই আত্ম অহং তাকে বিপদের সম্মুখীন টেনে নিচ্ছে! আর এই সবকিছু শুরু হয়েছে একজনের আগমনে।
“ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা” যার জন্য আজ তিনি নিজের সন্তান হারিয়েছেন!
ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ওই ভয়ংকর পুড়ে যাওয়া দেহটা দেখে সেই বিভৎস রাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিলো ন্যান্সি কে।
ন্যান্সি মুখ চেপে ডুকরে কেঁদে উঠলো। সে গুনাহ করে ফেলল! একজন মানুষকে মে রে ফেলেছে। এখন আফরিদ আর তার মধ্যে কোথায়? সেও খু’নি!
কান্নার হিড়িকে কেঁপে কেঁপে উঠছে শীর্ণ তনু! আঁখিপুট বেয়ে অঝোরে ঝরছে অশ্রু কণা।
সাধারণ একটা জীবন চেয়েছিল সে, কিন্তু ভাগ্যে বোধহয় সেটা লেখা নেই! ঘুরেফিরে নরকের কীট হয়ে উঠছে।
ন্যান্সি অসহ্যকর এই যন্ত্রনা দিতে অক্ষম। ওড়না ফেলে ছুটলো ওয়াশ রুমের দিকে। বাথটাবের ঠান্ডা পানিতে উঠে বসলো। তাতে কি সব পাপ ধুয়ে যাবে?
দরজা ঠেলে রুমে প্রবেশ করলো আফরিদ এহসান। বাজ পাখির ন্যায় দৃষ্টি জোড়া পুরো রুমে বুলিয়ে দেখে। কাঙ্ক্ষিত রমণীকে দেখতে না পেয়ে চিবুক শক্ত হয়ে এলো তার।
আফরিদের নীলাক্ষী জোড়া নিবদ্ধ হয় ওয়াশ রুমের দরজার দিকে। আফরিদ নৈঃশব্দ্যে পা ফেলে এগিয়ে গেল সেদিকে।
দরজাটা হাল্কা করে ভেজানো ছিলো, আফরিদ দরজা ঠেলে ভেতরে উঁকি দিতেই বাথটাবে বসে কাঁদতে থাকা ন্যান্সি কে দেখে বক্ষঃস্থল কম্পিত হলো পুরুষের। যার জন্য সবকিছু করতে পারে সেই মেয়েটা এভাবে চোখের জল ফেলে তাকে পীড়া দেয় কেন?
আফরিদ ভেতরে ঢুকে এলো, তার গায়ের সুগন্ধি নাসারন্ধ্রে প্রবেশ করে। ন্যান্সি ফিরে চায় না,তবে পিছনের মানুষটির উপস্থিতি ঠিকই বুঝতে পারে।
আফরিদ স্যুট টা খুললো আলগোছে,সেটা রেলিংয়ে রেখে দিল। অতঃপর শার্টের হাতার বোতাম খুলে হাতটা গুটিয়ে নিলো। ন্যান্সি সামনের দিক এগিয়ে বসলো। আফরিদ আলগোছে তার পিছনে গিয়ে বসলো। ন্যান্সি কে টেনে নিজের বুকের কাছে আনে,তার পৃষ্ঠদেশ ছুঁয়ে যায় আফরিদের বক্ষঃস্থল। আফরিদ দু’হাতে জড়িয়ে ধরে ন্যান্সি কে।
বাথটাব জুড়ে পানি, সেই পানিতে দুটো অস্তিত্ব।
ন্যান্সি কাঁপা কাঁপা স্বরে শুধোয়।
“আমি আপনার ভাইকে মে রে ফেলেছি আফরিদ! আপনি কেন আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন বলুনতো?”
আফরিদ শান্ত কন্ঠে বলল।
“নিজের প্রাণ কে কেউই আঘা’ত করতে পারে না! কখনোই না। সেখানে তুই তো আমার পরাণ! তোকে কিভাবে আ’ঘাত করি?”
ন্যান্সি ঠোঁটে ঠোঁট চেপে কেঁদে ফেলল। ব্যথাতুর কন্ঠে আর্তনাদ করে উঠলো।
“সবাই বুঝতে পারছে আমি আপনার ধ্বংসের কারণ হবো, তাহলে কিভাবে আমি আপনার এই ধ্বংসকারী কে বাঁচিয়ে রেখেছেন?”
আফরিদ চোখে হাসে,ভেজা হাতটা এগিয়ে এনে ন্যান্সির হাতের আঙ্গুলে গুঁজে দেয়।
“আমি আমার এই ধ্বংসকারীকে ভালোবাসি।”
ন্যান্সি শুকনো হাসলো, একদম প্রাণহীন সেই হাসি। ন্যান্সি ঘুরে বসলো আফরিদের দিকে। আফরিদ কে একদফা চমকে দিয়ে শুধোয়।
“ভালোবাসেন?”
“প্রমাণ লাগবে নাকি?”
ন্যান্সি মাথা দোলায়! আফরিদ ওই স্নিগ্ধ ভেজা মুখশ্রী হাতের আঁজলায় তুলে ফিসফিসিয়ে বললো।
“আমি তোকে চেয়েছি মানে পৃথিবীর বাকি সব পুরুষ তোর জন্য নিষিদ্ধ।”
ন্যান্সি নিস্প্রভ চাহনিতে দেখে আফরিদ এহসান কে।
“যদি কখনো মনে হয় তুই আমার ধ্বংসের কারণ হবি তাহলে তোকে নিজের হাতে মে রে ফেলব!”
এযাত্রায় চমকে উঠে ন্যান্সি, বিস্মিত কন্ঠে শুধোয়।
“সত্যি কি তাই? তাহলে আমাকে ছাড়া আপনি বাঁচবেন কিভাবে?”
আফরিদ মুচকি হাসলো, হাসিটা বহাল রেখে বলল।
“এই দুনিয়াটা ভীষণ খারাপ রে অ্যাঞ্জেলিনা। এই নিষ্ঠুর দুনিয়ায় আমি তোকে একা রেখে যাবো না। আমার ধ্বংসের আগে তোকে মে’রে ফেলব, তারপর আমিও ম’রে যাবো। তুই এই নিষ্ঠুর দুনিয়ায় আমি ছাড়া চলতে পারবি না, পদে পদে জানোয়ার গুলো তোকে ছিঁড়ে খাবে। আমি ওতটাও মহান নইরে বান্দি। তোর মতো পবিত্র ফুলকে নরকে রেখে পালাবো না।”
টুপ করে চোখ থেকে দুফোঁটা অশ্রু গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়লো, ন্যান্সি চেয়ে রইল আফরিদের নীলাভ মনি জোড়ায়। শুকনো ঢোক গিলে মুখ এগিয়ে তার কপালে ওষ্ঠো ছোঁয়ায়। খুব গভীর ভাবে।
চোখ ছাপিয়ে জল বেরিয়ে এলো রমণীর , অঝোরে কেঁদে ফেলল ন্যান্সি। দু’হাতে জড়িয়ে ধরে আফরিদ কে। ব্যথাতুর কন্ঠে বলে।
“আমার একটাই আপনি নষ্ট পুরুষ। আপনি বৈ আমি কিচ্ছু নই। আপনি ছাড়া বাঁচতে পারব না আমি। মৃত্যুটাও যেনো আপনার আগে হয়।”
এবারে ন্যান্সি একটু থামে , গালে স্পর্শ করে বলে।
“আমি আপনাকে চেয়েছি মানে পৃথিবীর বাকি সব নারী আপনার জন্য নিষিদ্ধ।”
আফরিদ এহসানের হৃৎপিণ্ড বেগতিক হয়ে ছুটছে,সে যে অবিশ্বাস্য নয়নে তাকিয়ে আছে তার পরাণের দিকে। আফরিদ দু’হাতে বুকের সহিত তাকে জাপটে ধরে। থাকুক সে আজীবন কাছে থাকুন । এই একটা জনম না হয় এই নিষ্পাপ সত্তা তার মতো পাপীকে ভালোবেসে কাটিয়ে দিক!
এমনিতেই এই পাপী হবে একটা সময় নরকের বাসিন্দা এবং এই নিষ্পাপ সত্তা হবে জান্নাতের ফুল।
___________________
রিসার্চ সেন্টার
হল নাম্বার (০২)
দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় বিধ্বস্ত মিস্টার কামাল। তার প্রতিটি শ্বাস যেন বুকে কাঁটার মতো বিঁধে উঠছে। তাকে এই অবস্থায় দেখে মিস্টার আলবার্টের বুক হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে গেল। এই অভিশপ্ত বন্দি রিসার্চ সেন্টার থেকে কীভাবে তারা বের হবে তা তিনি আর বুঝে উঠতে পারছেন না। বাইরে যে আতঙ্ক, তা কল্পনারও বাইরে।
যে-ই পালাতে গিয়েছে, তাকে মুহূর্তেই শেষ করে ফেলেছে সেই নরপশু আগুন্তক। র’ক্তে ভেজা ল্যাব, মেঝেতে পড়ে থাকা সায়েন্টিস্ট সবই যেন মৃ’ত্যুর খোলা প্রদর্শনী। এ দৃশ্যের পর পালানোর সাহস দুজনের মাঝেই একটু একটু করে শুকিয়ে গিয়েছিল। মনে হয়, তাদের জীবনটাকেই নরকে ডুবিয়ে রেখেছে সেই দানব।
ভাবনার মাঝখানে হঠাৎ খুক খুক করে কাশতে শুরু করলেন মিস্টার কামাল। তার কাশি যেন এক মৃ’ত্যুঘণ্টার মতো শোনালো। বুক চেপে ধরে কুঁকড়ে গেলেন তিনি। দৃশ্যটা দেখে মিস্টার আলবার্টের কণ্ঠ কেঁপে উঠল।
“তুমি ঠিক আছো, কামাল?”
কামাল কোনো উত্তর দিতে পারলেন না। নিঃশ্বাস যেন বুক থেকে বেরোতেই চায় না। চোখ লাল হয়ে উঠেছে, হাত কাঁপছে। মিস্টার আলবার্ট আতঙ্কে কাঁপা গলায় তিনি দরজার দিকে তাকিয়ে প্রাণপণে চিৎকার করলেন।
“কেউ আছো? Anybody there?”
মিস্টার কামাল হাপরের মতো লম্বা লম্বা শ্বাস টানতে লাগলেন, প্রতিটি শ্বাসে জীবনের সুতো আরও ঢিলে হয়ে যাচ্ছে যেন।
মিস্টার আলবার্ট কাঁপা হাতে একটি গ্লাস তুলে ধরলেন কামালের সামনে। গ্লাসের ভেতর পানি হলেও যেন সেই পানির মধ্যেও ছিল উদ্বেগের স্বাদ। ক্লান্ত, বিধ্বস্ত কামাল দু’হাত দিয়ে গ্লাসটি সামলে খুবই কষ্ট করে এক চুমুক নিলেন। মনে হলো গলা দিয়ে পানি নয়, আগুনই বয়ে যাচ্ছে।
চোখ নামিয়ে মিস্টার কামাল ফিসফিস করে বললেন।
“আমরা কি কখনোই এখান থেকে বেরোতে পারব না, মিস্টার আলবার্ট?”
প্রশ্নটা শুনে আলবার্টের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। কিন্তু কী উত্তর দেবেন? তিনি নিজেই তো জানেন না। সবকিছু এতটাই অনিশ্চিত, এতটাই অন্ধকার, যেন ভবিষ্যৎ শব্দটাই এখানে নিষিদ্ধ।
তিনি নীরব দাঁড়িয়ে থাকার মাঝেই লোহার দরজাটা কড়াৎ করে খুলে গেল। ঘরের থমথমে বাতাস ছিন্ন করে ভেতরে ঢুকল মন্টু দাস। সঙ্গে তার ছায়ার মতো জড়িয়ে রয়েছে দু’জন গার্ড মুখে কোনো অনুভূতি নেই, চোখে শুধু শুষ্ক নিষ্ঠুরতা।
মন্টু দাস কটমটিয়ে তাকিয়ে গর্জে উঠল।
“কিচ্ছে হ্যাঁ! এত চিল্লাচিল্লি করছো কেন?”
তার গলায় ছিল এমন এক তাচ্ছিল্য, যেন মানুষের ব্যথা আর ভয় তার কাছে নিছক হাস্যকর শব্দ ছাড়া কিছুই নয়।
মিস্টার আলবার্ট ক্ষিপ্ত মেজাজে বলে উঠেন।
“ইমিডিয়েটলি মিস্টার কামারের চিকিৎসা করানো প্রয়োজন।”
মন্টু দাস পান খাওয়া লালচে দাঁত বের করে বিদঘুটে হেসে বললেন।
“মরণ! এই সায়েন্টিস্ট তোদের কি মাথার তার ছিঁড়ে গেছি নাকি? কিসের চিকিৎসা হুঁ? তোরা নিজেরাই তো সায়েন্টিস্ট, নিজেদের চিকিৎসা নিজেরাই কর!”মিস্টার আলবার্ট নিজের ধৈর্য হারালেন। তীব্র গর্জন ছেড়ে বললেন।
“তোমাদের বসকে বলো মিস্টার কামাল অসুস্থ! যেকোনো সময় যা কিছু হতে পারে!”
মিস্টার আলবার্টের কথা গুলো যেনো কানেই তুললো না মন্টু দাস।
“তো আমাগো কি হ্যা? আমাগো যেইডা লাগতো আমরা ওইডা পাইয়া গেছি। এখন তোরা চুলায় যা।”
মন্টু দাস বেরিয়ে গেলো, মিস্টার আলবার্ট আশাহত চোখে তাকায়। মিস্টার কামাল বহু কষ্টে উঠে বসলেন। শুকনো হেসে বললেন।
“ছেড়ে দিন মিস্টার আলবার্ট, ওরা আমাদের কখনোই সাহায্য করবে না।”
মিস্টার আলবার্ট এসে উনার পাশেই বসলেন। ভরাট কন্ঠে বলে উঠেন।
“ঈশ্বর আমাকে আর একটা সুযোগ দিতো, তাহলে আমি বাঁচিয়ে নিতাম সেই নিষ্পাপ প্রাণ গুলোকে!”
মিস্টার কামাল কিঞ্চিৎ অবাক হলেন, মিস্টার আলবার্ট তো খ্রিষ্টান। তিনি তা ভুলেই বসেছিলেন।
চোখ দুটো বুঁজতেই এক হাস্যোজ্জ্বল মুখশ্রী ভেসে উঠলো মিস্টার আলবার্টের মানসপটে। সেই চঞ্চল শিশু, মাঝে মধ্যে হাসছে আবার কখনো কখনো উচ্চ স্বরে পাপা পাপা বলে ডাকছে।
আচ্ছা তারা কি সেই ছোট্ট প্রাণকে মানুষ করতে পেরেছে? না না পারেনি, তাই তো আগুন্তক তাকে বন্দি করেছে। যদি তারা সতর্ক হতো তাহলে সেই ছোট্ট প্রাণ আজ বন্দি হতো না।
চলবে………।
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৫(প্রথমাংশ +শেষাংশ)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা গল্পের লিংক
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৮ {প্রথম অর্ধেক}
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা বাসর স্পেশাল
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩২(প্রথমাংশ +শেষাংশ +বোনাস)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫৬ শেষাংশ
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫