দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ
পর্ব : ৪৫
জাহিরুলইসলামমাহির
🌿
“সময় বাহুমান। দেখতে দেখতে কেটে গেছে আরো সাত টা মাস। সময় সন্ধ্যা সাত টা। আদ্রিয়ানার পেইন উঠেছে। আদনান আদ্রিয়ানা কে কোলে তুলে নিয়ে দ্রুত হসপিটালের দিকে রওনা হয়। আদনানের পিছু পিছু জোবাইদা, রায়হান, আদ্রিজা, রাহিম ও যায়। রায়হান গাড়ি ড্রাইভ করছে আদনান আর আদ্রিয়ানা ব্রেক সিটে বসেছে। আদনান আদ্রিয়ানা কে জড়িয়ে ধরে বসে আছে। আদ্রিয়ানার পেইন ক্রমেই বাড়ছে,। ব্যাথায় আদনানের হাত খামচে ধরে আদ্রিয়ানা। আদনান নিজের কাঁধে আদ্রিয়ানা কে মাথা রাখতে বলে। আদ্রিয়ানা আদনানের কাঁধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে আছে। আদনানের হৃদয়ও দ্রুত গতিতে চলছে, সে ভাবছে সবকিছু ঠিকঠাক হবে তো?”
“আধা ঘন্টার মধ্যেই আদ্রিয়ানা কে নিয়ে হসপিটালে পৌঁছে যায়। আদনান গাড়ি থেকে নেমে আদ্রিয়ানা কে কোলে তুলে নেয়। ছুটে যায় হসপিটালের ভিতরে। হসপিটালে পৌঁছে আদনান আদ্রিয়ানা কে স্ট্রেচারে শুইয়ে দেয়। ডাক্তার নাইমা এসে আদ্রিয়ানা কে চেকআপ করে বলে”..
“সব ঠিক আছে, এটা ডেলিভারি পেইন। এখন , আদ্রিয়ানা কে লেবার রুমে নিয়ে যাওয়া হবে। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি,আপনারা ও প্রস্তুতি নিন। আর আদ্রিয়ানা তুমি কোন চিন্তা করো না, সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।”
আদ্রিয়ানা আদনানের দিকে তাকায়। আদনানের হাত ধরে বলে”…
—” মিস্টার পান্ডা সাহেব আমার খুব ভয় হচ্ছে। আপনি আমার সাথে থাকবেন প্লীজ।”
“আদনান আদ্রিয়ানার হাত ধরে বলে”..
—“”চিন্তা করো না, মাই ডিয়ার সানফ্লাওয়ার। আমি তোমার সাথে আছি। দেখো সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।”
“আদনান আদ্রিয়ানার কপালে একটা চুমু খাই।”
–“মিস্টার পান্ডা সাহেব আমি যদি মর”…
“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না আদ্রিয়ানা ,তার আগেই আদনান আদ্রিয়ানার ঠোঁটে আঙুল দিয়ে আদ্রিয়ানা কে চুপ করিয়ে দেয়।”
“নো মাই ডিয়ার সানফ্লাওয়ার নো। এমন কথা বলা তো দূরের কথা মাথায় ও আনবে না। তোমাকে save ভাবে আমার প্রিন্সেস কে নিয়ে ফিরতে হবে। তোমার পান্ডার জন্য হলেও তোমাকে ফিরতে হবে।”
“কিছুক্ষণ পর নাইমা এসে আদনান কে উদ্দেশ্য করে বলে”..
–“মিস্টার আদনান আপনার ওয়াইফ কে এখন অপারেশন রুমে নিয়ে যেতে হবে।”
আদনান হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়ায়। আদ্রিয়ানা কে অপারেশন রুম পর্যন্ত এগিয়ে দেয় আদনান। আদ্রিয়ানা আদনানের হাত ধরে আদনানের দিকে তাকায়।
—“মিস্টার পান্ডা সাহেব একটা চুমু দিবেন ?
আদনান আদ্রিয়ানার পুরো মুখে চুমু খেয়ে ঠোঁট দুটো দখল করে নেয়। মিনিট দুয়েক পর ছেড়ে দেয়।”
“ভয় পেও না বৌ। তোমার তোমার পান্ডা সাহেব এখানে দাঁড়িয়ে তোমার জন্য আর প্রিন্সেসের জন্য অপেক্ষা করবে।
“আদনানের কথা শেষ হতেই আদ্রিজা, জোবাইদা মিলেও আদ্রিয়ানা কে ভরসা দেয়।”
“আদ্রিয়ানা কে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। অপারেশন রুমের দরজা লক হওয়ার সাথে সাথেই আদনান সেন্সলেস হয়ে ফ্লারে পড়ে যায়।
–“বেয়াই জিজু সেন্সলেস হয়ে গেছে, জিজু কে ধরুন।”
“রায়হান আর একজন ওয়ার্ড বয় মিলে আদনান কে ধরে একটা কেবিনে শুইয়ে দেয়। দুই ঘন্টা পর আদনানের জ্ঞান ফিরে। আদনান বেড থেকে উঠে কেবিন থেকে বের হয়ে দৌড়ে যায় অপারেশন রুমের দিকে। সবাই অপারেশন থিয়েটারের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর মানে অপারেশন এখনো চলছে। মিনিট পাঁচেক পর অপারেশন থিয়েটার থেকে দুই টা বেবি কোলে নিয়ে দুইজন মেয়ে ডাক্তার বের হয়ে আসে।”
Congratulations মিস্টার আদনান আপনার twins বেবি হয়েছে। একটা ছেলে বেবি আর একটা মেয়ে বেবি। আর আপনার ওয়াইফ ও সুস্থ আছে।”
“আদনান প্রথমে তাঁর প্রিন্সেস কে কোলে নেয়। আসিফের চোখে আনন্দের অশ্রু এসে যায়। মেয়ে কে চুমু দিয়ে ভরিয়ে দেয় আদনান। তাঁর পর তাঁর প্রিন্স কে কোলে নেয়। ছেলের পুরো মুখে চুমু দিয়ে ছেলে কে ও চুমু দিয়ে ভরিয়ে দেয়। মিনিট পাঁচেক নিজের কাছে রেখে বেবি কে রায়হান আর আদ্রিজার কাছে দিয়ে দেয়।”
–“আমি কি আমার বৌয়ের সাথে একটু দেখা করতে পারি ?
“এখন নাহ। একটু পর আপনার ওয়াইফ কে কেবিনে সিফট করা হবে তখন দেখা কইরেন।”
“এই কথা বলে ডাক্তার নিজের কেবিনে চলে যায়। আর আদনান অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে যায়। আদ্রিয়ানা অঙজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। এখনো জ্ঞান ফিরে নিই। আদনান আদ্রিয়ানার কপালে একটা চুমু খাই। এবং আদ্রিয়ানার হাত ধরে আদ্রিয়ানার পাশেই দাঁড়িয়ে থাকে। মিনিট পাঁচেক পর দুইজন নার্স এসে আদ্রিয়ানা কে কেবিনে নিয়ে যায়।”
“আদ্রিয়ানার দুই পাশে দুই হাত দিয়ে আদ্রিয়ানার দিকে ঝুঁকে পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আদনান। মিনিট দশেক পর আস্তে আস্তে চোখ খুলে আদ্রিয়ানা। চোখ খুলতেই পান্ডা সাহেব কে দেখে আদ্রিয়ানার মুখে হাঁসি ফুটে ওঠে। আদনানের গলা জড়িয়ে ধরে কাছে টেনে নেয়।”
—“বেইবি কি করছো, আব্বু আম্মু আছে তো।”
—“তো কি হয়েছে।
—“তোমার পান্ডা সাহেবের সরম করছে।
—“মিস্টার পান্ডা সাহেব আপনার সরম ও আছে ?
—“হুম।
—“”আজকে জানতে পারলাম।”
“আদ্রিয়ানা আদনান কে আরো কাছে টেনে নেয়। নিজের ঠোঁট দুটো দিয়ে আদনানের ঠোঁট দুটো দখল করে নেয়। আদনানের সাথে আদনান ও রেসপন্স করে। মিনিট পাঁচেক পর ছেড়ে দিয়ে আদ্রিয়ানা বলে”..
–“আচ্ছা মিস্টার পান্ডা সাহেব আমাদের ছেলে বেবি হয়েছে না কি মেয়ে বেবি?”
–“দুটোই হয়েছে।”
—“মানে আমাদের twins বেবি হয়েছে?”
–“হুম।”
—“মিস্টার পান্ডা সাহেব আমাকে উঠে বসতে হেল্প করেন।
—“এখন উঠা লাগবে না আর কিছুক্ষণ শুয়ে থাকো।
—“আমি আমার ছেলে মেয়ে কে কোলে নিবো।
“ছেলে মেয়ে কে কোলে নেওয়ার জন্য অনেক সময় পড়ে আছে আগে নিজে সুস্থ হয়ে নাও।
–“ওকেই মিস্টার পান্ডা সাহেব ওকেই।
—“হুম।
—“মিস্টার পান্ডা সাহেব আমার না খুদা লাগছে।
—“কি খাবা বলো আমি এক্ষুনি নিয়ে আসছি।
—“আপনার ঠোঁট।
“আদনান আদ্রিয়ানার ঠোঁট দুটো দখল করে নেয় মিনিট পাঁচেক পর ছেড়ে দিয়ে বলে।”
—“পেট ভরছে।
“মিস্টার পান্ডা সাহেব আপনার ওই হালকা লাল ঠোঁট দুটো সারাদিন খেলেও পেট ভরবে না।”
—“তাহলে এই নাও আরো কিছুক্ষণ খাও।
–“এখন না আদ্রিজা আর আম্মু এদিকে আসছে।
“আদ্রিয়ানা কথা টা বলে শেষ করতে না করতেই আদ্রিজা আর জোবাইদা বেবিদের কে নিয়ে হাজির হয়।
—“জাহির আদ্রিয়ানা কে কে ধরে বেডে হেলান দিয়ে বসিয়ে দেয়।
–“কেনো ?
—“বেবিদের খুদা লাগছে খাবে।
—“জাহির আদ্রিয়ানা কে কে ধরে বেডে হেলান দিয়ে বসিয়ে দেয়।
–“কেনো ?
—“বেবিদের খুদা লাগছে
“আদনান আদ্রিয়ানা কে ধরে বেডের সাথে হেলান দিয়ে বসিয়ে দেয়। জোবাইদা এক আদ্রিয়ানার দিকে তাকায়। তাঁর পর আদনান কে উদ্দেশ্য করে বলে”…
—“আসিফ তুই বাইরে যা।
—“কেনো ?
—“বেবিদের কে খাওয়াতে হবো।
—“তো ?
—“তো তুই বাইরে যা।
–“বৌ আমার বেবি আমার আমি কেনো বাহিরে যাবো ?
—“বেশি কথা না বলে বের হ।
“জোবাইদার কথা শেষ হতেই আদ্রিয়ানা বলে”..
–“মিস্টার পান্ডা সাহেব আমি লজ্জা পাচ্ছি তো।
–“লজ্জা পাওয়ার কি আছে আজব। তোমার সব কিছু তো অনেক আগেই আমি দেখে ফেলছি এবং খেয়ে ও ফেলছি।”
“আদনানের ঠোঁট কাঁটা কথা শুনে জোবাইদা আদনান কে ধমক দেয়। ধমক খেয়ে আদনান বের হয়ে যায়। আদ্রিয়ানা প্রথমে ছেলে বেবি কে কোলে নিয়ে খাইয়ে দেয় তাঁর পর মেয়ে কে কোলে নিয়ে খাইয়ছ দেয়।”
“বেবিদের খাওয়ানো হয়ে গেলে আদনান কে ভিতরে আসতে বলা হয়। আদনান ভিতরে এসে তাঁর প্রিন্সেস কে কোলে নেয়। চুমু দিয়ে মেয়ে কে ভরিয়ে দেয়। বেবি আদনানের দিকে তাকিয়ে হেঁসে উঠে। ছোট ছোট হাত গুলো দিয়ে আদনানের মুখ ছোঁয়ার চেষ্টা করতে থাকে। আর ঠোঁট গুলো নাড়তে থাকে। মেয়ের এমন কান্ড দেখে আদনান হেঁসে উঠে।
–“মাম্মাম তুমি কি বলতে চাইছো তা তোমার মূর্খ পাপা বুঝতে পারছে না।”
এই কথা বলে বেবি গালে আরো একটা চুমু খাই আদনান। আদ্রিয়ানা পিছন থেকে আদনান কে গুঁতা দিয়ে বলে”…
“মিস্টার পান্ডা সাহেব একটা জিনিস খেয়াল করছেন ? মেয়ে দেখতে হুবহু আপনার কপি হয়ে ও ছেলে বেবি কিন্তু আমার কপি হয়েছে।”
“আদনান বলে, “হ্যাঁ, আমার ছেলে তো দেখছি তার মাম্মামের মতোই খুব সুন্দর হয়েছে।”
“আদ্রিয়ানা লজ্জা পেয়ে মুচকি হাসে। আদনান আদ্রিয়ানার কপালে একটা চুমু খায়।”
“আদনানের বেবিদের জন্য কিছু ইউনিক নাম বলে যাও প্লীজ। আমি আসলেই কনফিউজ বুঝতে পারছি না কি নাম রাখবো। তোমরা কিছু নাম বলে যাও।”
আপনাদের প্রিয় গল্প টা হয়তো আর এক পর্বে সমাপ্ত হয়ে যাবে। এখন আপনারা কি বলেন? শেষ করে দিবো না কি আদনানের বেবিদের কে নিয়ে ভালোবাসা প্লাস ফানি দিয়ে আরো কয়েক পর্ব লিখবো।
চলবে…
( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আন প্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব : ৩৯
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৪১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ গল্পের লিংক
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৮
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৮
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৪