ভালোবাসি সুচরিতা— ২১
শ্রীমঙ্গলের যেই দিকটায় টি বাংলো তার চারপাশে কেবল বিস্তর চা বাগান। লোক সমাগম একদমই সীমিত। টিবাংলো গুলোতে যেসব পরিবার উঠেছেন তারাই এখানে ঘুরে-ফিরে বেড়ায়। বিরাট চা বাগানে এই অল্পসংখ্যক মানুষ গাছের আড়ালেই হারিয়ে যায় যেন।
অম্বরে বা’দিকটায় নীল রঙের কতগুলো মেঘ উড়ছে ফানুসের মতো। ভেসে ভেসে সীমাহীন দিগন্তের পথেই যেন তাদের ছুটে চলা। তাদের কোনো পিছুটান নেই কিংবা মেজবাহ্ শেখের মতো একজন টেলিফোনে থাকা প্রেমিকা নেই বলেই হয়ত তাদের থামবার কোনো তাড়া দেখা যাচ্ছে না।
টুইটুবানি ওর সামনে দিয়ে সাঁইসাঁই করে ছুটে যাওয়া গাড়িগুলোর দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। গাড়িগুলো ওদের চোখের গণ্ডি পেরিয়ে এগিয়ে গিয়েছে আরও বেশকিছুটা পথ। একদম দৃষ্টি সীমানার বাহিরে। পথের উড়ন্ত ধূলো গুলোই কেবল স্বাক্ষী সেই প্রস্থানের। আর স্বাক্ষী তিন জোড়া চোখ। টুইটুবানির ঘোর কাটে। চোখের পলক ফেলে বার কয়েক। ঢোক গিলে পেছনে ফিরে বুঝতে চায় ওর সাথে থাকা বাকি দু’জনেও একই দৃশ্য দেখেছে কিনা।
“তোমরা দেখলা? কতগুলা গাড়ি গেলো? কত বড়োলোক মানুষ এখানে আহে ভাবো একবার!” ওর গলায় তখনও অবিশ্বাসের সুর। ওর যে এখনও নিজের চোখকে বিশ্বাস হয়নি তা ওর চাহুনিতেই স্পষ্ট।
প্রেমার ভ্রু কুঁচকানো। ও নিজেও গাড়িগুলো খেয়াল করেছে। এতগুলো গাড়ি এতই সশব্দে এসেছে যে কেবল মানুষ নয়, বাগানের কাকপক্ষীও টের পেয়েছে ঠিক।
গাড়িগুলো দেখে সন্দেহ হলো জোহরারও। তবে সন্দেহটা ঠিক আমলে নিলো না সে। এমন তো কত মানুষেরই গাড়ি আছে সারা বাংলাদেশে। তাছাড়া এই জায়গাটা পর্যটকদের জন্য বিশেষ। হতেই পারে বিশেষ কেউ এসেছে।
ও ব্যাপারটা গা-ছাড়া করে ফেলার মতো করেই বলল, “কে এলো তা না দেখে চল আমরা ঘুরি। অন্যের বিষয়ে এত কৌতূহল ভালো নয়।”
প্রেমাও ওর আপার কথায় সহমত জানালো নুড়িপাথরের পথটুকু দিয়ে পা ক্রমাগত এগুতে এগুতে, “হ্যাঁ, আপা ঠিকই বলেছে। তুমি আসোতো। এতদিকে চোখ কেন তোমার?”
টুইটুবানির বরাবরই কৌতূহল বেশি তাই ওর পা এগুলো ধীরে ধীরে। ফিসফিসি করল তবুও,
“আমি খালি ভাবি, আব্বা কতগুলা ট্যাকা না খরচ করছে এইখানে আসার জন্য! বড়োলোকগো জায়গায় আনার কী দরকার আছিলো?”
ওর কথা দুই বোন শুনলেও ঠিক রা করল না। টুইটুবানির স্বভাব কিছুটা মায়েদের মতো। একবার একটা বিষয় মাথায় এলে ও সেটাকে নিয়ে রামায়ণ ভেবে ফেলে।
ওরা হাঁটতে হাঁটতে বেশ খানিকটা পথ এগুলো। বিস্তর চা বাগান যেন ক্রমশই গিলে নিলো তিনটি মেয়েলি শরীরকে। দূর থেকে দেখলে কেউ বুঝবেই না এখানে তিনটি মেয়ে রয়েছে।
হাঁটতে হাঁটতে ওরা গিয়ে থামলো চা বাগানের পাশে থাকা কটেজের মতো একটি জায়গায়। যার চারপাশে একটি ছোটোখাটো জল থৈথৈ দিঘি। এখানে ওরা থামতোও না যদিও। কিন্তু পর পর বেশ অনেক কথার শব্দ এখান থেকে পাওয়া যাচ্ছিলো বলেই এদিকে আগ্রহে নিয়ে হেঁটে এসেছে তিনজনে। দিঘির পাশে কটেজের খোলা জায়গাটিতে চোখ পড়তেই আপনা-আপনি ওদের পা থেমে গেলো। কটেজের খোলা জায়গা ভর্তি বেশ অনেক লোকজন। রয়েছে তাদের সাথে নানান নতুন নতুন জিনিসপত্র। যা সচারাচর চোখে পড়ে না কারো। বড়ো বড়ো ক্যামেরা, লাইট… আরও কত কী! শুটিং চলছে বোধহয়। টুইটুবানির জীবনের সবচেয়ে বড়ো দুর্বলতা যেটি!
ও বিস্ময়ে বুঁদ হলো। হা করে তাকিয়ে আছে দু’জন অভিনেতা অভিনেত্রীর দিকে। যারা একে অপরকে জড়িয়ে রেখেছে আষ্টেপৃষ্ঠে। হয়ত অভিনয়ের জন্য। কিন্তু টুইটুবানির কি আর সেসব দেখার সময় আছে! ও আচমকা এতটা জোরেই চেঁচিয়ে উঠল যে জোহরা, প্রেমাসহ শুটিংয়ের বাকিরাও আহম্মক বনে গেলো। ও চেঁচিয়েই থামেনি বরং ছুটে গিয়ে অভিনেতার হাত দু’টো চেপে ধরে লাফাতে শুরু করেছে। আর অনবরত বলতে লাগলো,
“আপনি, আপনি, আপনাকে আমি দেখেছি টেলিভিশনে। আপনি আমার প্রিয় নায়ক। আপনি হাসান সাহেব না? আপনার জন্য আমি কত বেলার পর বেলা অপেক্ষা করে নাটক, সিনেমা দেখি জানেন? আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি।”
টুইটুবানির কথায় যে অশুদ্ধ টান তার এক ফোঁটাও নেই এই সাগ্রহে করা স্বীকারোক্তিতে। একদম নির্মল শুদ্ধ ভাষায় ও কথাগুলো বলছে আর লাফাচ্ছে। এতই স্নিগ্ধ বাচনভঙ্গিতে যে প্রেমা ও জোহরার অবাকের উপর অবাক হওয়া বাড়লো বৈ কমল না।
ডিরেক্টর থতমত খেয়ে গিয়েছেন। চেয়ারে বসা ছিলেন ভদ্রলোক।
টুইটুবানির কাণ্ডে আর বসে থাকতে পারেননি বোধহয়। দাঁড়িয়ে গিয়েছেন। হাতে ইশারায় বললেন,
“কাট, কাট… ক্যামেরা নামাও।”
উনার বলার পর পর ক্যামেরা নেমে গিয়েছে। অভিনেত্রী বোকার মতো দু’কদম পিছিয়ে যেন টুইটুবানিকে জায়গা করে দিয়েছেন খানিকটা। আনন্দে টুইটুবানির চোখ গুলো চকচক করছে।
প্রেমা এগিয়ে গেলো হন্তদন্ত হয়ে। টুইটুবানির হাত চেপে ব্যাপারটা সামলাতে চাইল।
“থামো, থামো। কী করছো তুমি? উনার হাত ধরেছো কেন? ছাড়ো? এই আপা, আসো না, ওকে কিছু বলো!” শেষের বাক্যটা প্রেমা জোহরার দিকে তাকিয়েই বলল।
প্রেমার ডাকে টুইটুবানি না থামলেও জোহরার ঘোর ভাঙে। ওর বিস্ময় কেটে অস্বস্তি ধরা দেয়। টুইটুবানিটা না হুটহাট কী করে বসে!
শীগ্রই গিয়ে ও আটকায় টুইটুবানির হাত, “কী করছিস তুই! ছাড়। এই মেয়ে…”
টুইটুবানি যেন ওর স্বপ্নের ভুবন থেকে এক লহমায় ছিটকে বেরিয়ে আসে। জোহরার দিকে তাকিয়ে অকপটে স্বীকারোক্তি জানায়,
“আপা, উনি, হাসান সাহেব। আমার পছন্দের হিরো। জানো?”
“জানি তো। এবার উনাকে ছাড়। উনি অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছেন। ছাড়।” নরম, কোমল স্বরে বোঝাতে বোঝাতে টুইটুবানির হাতে ইশারা করে জোহরা। টুইটুবানি যেন এবার সম্পূর্ণ বোধ ফিরে পায়। এক ঝটকায় ছেড়ে দেয় হাসান সাহেবের হাত। লজ্জা এসে ধরা দেয় ওর উজ্জ্বল শ্যামলা গালগুলোতে। কালো মিশমিশে চুলগুলো ওর বিকেলের নরম কমলা রঙে স্নান করেছে যেন।
তোতলায় কয়েকবার,
“আমি, আমি আসলে বুঝিনি। আমি উনাকে দেখে, আসলে…”
বলতে বলতে একবার আঁড়চোখে দেখে নেয় ওর কল্পনার নায়ককে। লোকটা বুঝি তার উপর রাগ করলেন! ছি! ও কী করে বসল এটা? লজ্জায় মাথাকাটা যাচ্ছে। ওর জন্য আপাদেরসহ না আবার অপামানিত হতে হয়!
এতক্ষণের উচ্ছ্বল টুইটুবানিসহ ওর দুই আপার আড়ষ্ট ভঙ্গি দেখে হাসান সাহেব হেসে উঠলেন! সে কী হাসি লোকটার! রাগ করবেন তো দূরে থাক লোকটার মুখের হাসি এতটাই ছোঁয়াচে ব্যাধির মতো ছিলো যে উপস্থিত সকলকে ছুঁয়ে দিয়েছে। সকলের ঠোঁটেই সেই হাসি জেঁকে বসল।
ওদের সমন্বয়ে তোলা হাসি শব্দ অস্বস্তিকে ধুয়েমুছে সাফ করে ফেলল মুহূর্তেই। জোহরা, প্রেমাও লাজুক চোখে তাকিয়ে ঠোঁটে হাসি টানলো। টুইটুবানিটা মাঝে মাঝে এমন করে না, লোকগুলো ভাগ্যিস ভদ্রলোক! নয়ত আজ আর মান সম্মান নিয়ে ফিরতে হতো না ওদের।
হাসান সাহেব হয়ত পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক করতেই আগ বাড়িয়ে বললেন,
“আপনি আমার কাজকে এত পছন্দ করেছেন দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত। কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে মিস… নামটা কী যেন?” শেষটুকু একটু থেমে জিজ্ঞেস করলেন টুইটুবানির দিকে তাকিয়ে।
টুইটুবানি ততক্ষণে লাজুক লতার মতোই মিইয়ে গিয়েছে। মাথা এতটাই নামিয়ে ফেলেছে যে থুতনি গিয়ে আটকেছে ওর বুকে। নামটা বহু রয়েসয়ে জানালো, “টুইটুবানি আমার নাম।”
হাসান সাহেব আবার হাসলেন। মাথা নাড়িয়ে বললেন, “ইয়েস, টুইটুবানি। ধন্যবাদ আমার কাজকে এত অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য।”
টুইটুবানি আর একটা কথাও বলল না। চোখ তুলে তাকালো না অব্দি। আলগোছে জোহরার পেছনে লুকিয়ে পড়ল। জোহরা হাসান সাহেবের উপর বড্ড সন্তুষ্ট হলো। কৃতজ্ঞতার সাথে মাথা নাড়িয়ে নিজেদের ভুল স্বীকার করল ও,
“আমাদের এই কাজের সময়ে বিরক্ত করা উচিত হয়নি। আপনি অবশ্যই চমৎকার মানুষ। এবং চমৎকার অভিনেতাও। আপনার সিনেমা, নাটক আমরা সবাই পছন্দ করি। আজ তাহলে যাই।”
জোহরার সঙ্গে মিছিমিছি তাড়া দিলো টুইটুবানিও, “হ্যাঁ হ্যাঁ চলো, আপা। আমরা যাই।”
হাসান সাহেবের মুখের হাসি এখনও লেগে আছে। উনি মাথা নাড়িয়ে বললেন,
“যাই বলতে নেই, বলুন- আসি।”
প্রেমা আড়চোখে তাকালো। টুইটুবানির দিকে ইশারা করে চোখ টিপল। এতে টুইটুবানির লজ্জা বাড়লো আরও খানিক। ও জোহরাকে টানতে টানতে বেরিয়ে গেলো। আসি বলার ফুরসত দিলো না আর।
আজ হঠাৎ করে ওর এত লজ্জা কেন লাগছে! চারপাশটা কেমন লজ্জায় ঘিরে গিয়েছে। স্রষ্টা যে ওর ভেতর এত লজ্জা দিয়েছে তা ও আজ জানলো।
…
টি বাংলোর বিরাট জানালা গলিয়ে চাঁদ আসছে। সেই চাঁদের আলো সরাসরি গিয়ে পড়ছে কাঠের মেঝেতে। রিমঝিম দাঁড়িয়ে আছে সেই জানালার পাশেই। তার পাশেই দাঁড়ানো হিমেল। ওর চোখ রিমঝিমের দিকে। অনেকক্ষণ ধরেই কিছু বলবে বলবে করছে কিন্তু বলছে না। রিমঝিমও আগ বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করেনি। এই মুহূর্তে ওর কথা বলতে ভালো লাগছে না। হিমেলের সাথেতো আরও আগে না।
এই নিশ্চুপ উপস্থিতি হালকা করতে হিমেলই আগ বাড়িয়ে কথা বলল,
“তোমার গলায় দাগ পড়েছে। ড্রয়ার থেকে মলমটা নিয়ে লাগিও।”
হিমেলের কথায় রিমঝিম সামান্য নড়ে। তাকায় এক পলক, “কেন? দাগ থাকুক। তুমি গলা চেপে ধরতে পারো আর দাগ থাকলেই সমস্যা?”
“লোকে দেখবে। সংসারের ব্যাপার বাহিরে যাওয়া কি ভালো?”
“গায়ে হাত তোলা কবে থেকে আবার সংসারের ব্যাপার হলো?”
“আমি কি গায়ে হাত তুলতে চেয়েছিলাম? তোমায় ভালো মনে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তুমি কী চাও। কিন্তু তুমি কী বললে? মুক্তি! মুক্তি চাও হ্যাঁ? এত বড়ো আস্পর্ধা তোমার?”
“নিজের মুক্তি চাইতে আস্পর্ধার দরকার হয় কবে থেকে, হিমেল? একটু বাঁচার সাধ থাকলেই হয়।” রিমঝিমের কণ্ঠ শক্ত। সচারাচর সে মুখে মুখে এত তর্ক করে না। আজকাল করছে।
হিমেলের রাগটা তড়তড় করে বাড়ছে। কোথায় একটু বেড়াতে এসে শান্তিতে থাকবে, তা-না! মেয়েটা এত বাড় বেড়েছে!
হিমেল দাঁত কিড়মিড় করতে থাকে। চোখ রাঙিয়ে তাকায় রিমঝিমের দিকে,
“এত সাহস বেড়েছে তোমার? জিভটা টেনে ছিঁড়ে ফেলবো ধরে।”
“ছিঁড়ে ফেলো। প্রমাণ তাহলে আমিও পাই তুমি আমার সাথে কেমন সংসার করছো তা দেখানোর। শেখ বাড়ির মর্যাদা মাটিতে মিশিয়ে দিবো।”
হিমেল এবার অত্যন্ত রেগে গেলো। গাল চেপে ধরল রিমঝিমের। এত শক্ত ভাবে যে রিমঝিমের মনে হলো ওর গাল ছিঁড়ে যাবে এখুনি।
“মুক্তি তো তুই পাবি না। মুক্তি দেওয়ার হলে বন্দী করতাম না। এবার বাড়ি ফিরে চল এরপর তোর হাত-পা ভেঙে যদি না বসাই ঘরে তখন বলিস।”
রিমঝিমেরও আজ কী হলো কে জানে! ও এই ব্যথা পেয়েও চোখ রাঙিয়ে তাকিয়ে রইল। মুখ দিয়ে এক ফোটা আর্তনাদও করল না। চোখ থেকে অশ্রু বের হলো না এক বিন্দুও।
হিমেল রাগে ফুঁসে তীব্র এক ধাক্কা দিয়ে বেরিয়ে গেল। রিমঝিম সেই ধাক্কায় ছিটকে গিয়ে বারি খেলো জানালাটির সাথে। হিমেল যাওয়ার পর ও ফুঁপিয়ে উঠল। এরকম জীবন তো ও চায়নি এমন যন্ত্রণার জীবন ওর ছিলোও না। তাহলে অদৃষ্ট এ কেমন বিধান দিলো তাকে?
চোখে অশ্রু নিয়ে জানালার বাহিরে দৃষ্টি রাখল রিমঝিম। জীবনটা এত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে যে ওর আজকাল কিছু একটা অঘটন ঘটিয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে। কেবল একবার নিজের বহু কাছের মানুষটাকে দেখার লোভে ও মরতে পারে না।
হুট করে রিমঝিমের চোখ গিয়ে থামলো সরু পথটির ওপারে। ও থমকে গেলো। মুখ থেকে ছিটকে বের হলো কেবল একটি শব্দই— “বাবা…”
..
রুগ্ন রিমঝিমের চোখগুলো রক্তশূণ্য প্রায়। ফ্যাকাসে মুখটিতে নীলচে হয়ে আছে কপালের কোণাটি। সেই রুগ্ন শরীর নিয়ে ও কখন মেজবাহ্’র ঘরের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে মেজবাহ্ জানে না। ও যখন দরজা খুলল তখন দেখল রিমঝিমকে। মেয়েটার শরীর কাঁপছেও যেন কিছুটা।
“আপনি! এখানে? কেন? নিষেধ ছিলো না এখানে আসা? আমার বাংলোর সামনে আপনার কী কাজ?”
রিমঝিম হাঁপাচ্ছে। রাত বেশ অনেকটা হয়েছে। এই রাতে মেয়েটা এত হাঁপাচ্ছে কেন? মেজবাহ্ শক্ত হতে গিয়েও পারল না। কণ্ঠ আলগোছেই নরম হয়ে এলো,
“কী হয়েছে? অসুস্থ আপনি? নেমেছেন কেন?”
রিমঝিমের কথা আটকে আসছে মুখে। তবুও অস্ফুটস্বরে বলল,
“বাহিরে.. বাহিরে গিয়ে একটু দেখুন তো। আমার বাবা এসেছেন। আমি উপরের জানাল্ থেকে দেখেছি। বাবা এসেছেন। আমার বাবা, বাবা।”
রিমঝিমের কথাগুলো পাগলের প্রলাম মনে হলো মেজবাহ্’র কাছে। হতভম্ব হয়ে পড়ল সে,
“বাবা! আপনার বাবা? কিন্তু আপনি না এতিম?”
…
টি বাংলোর সামনে নোমান অনেকগুলো কাঠ জোগাড় কনে আগুন জ্বালিয়েছে। যদিও শীতকাল নয় তবুও এই আগুনটা উপস্থিত সকলকেই আরাম দিচ্ছে।
নোমানের গানের গলা সুন্দর। ওর সাথে গলা মিলিয়েছে সকলেই। আকাশের এক ফালি চাঁদ ওদেরকে জোছনায় মুড়িয়ে রেখেছে। সেই উন্মুক্ত জোছনার নিচে গান গাইছে জোহরা, প্রেমা, নোমান, ইমন। হাততালি দিলে টুইটুবানি।
“আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল,
বাতাসে আছে কিছু গন্ধ
রাত্রির বুকে জ্বলে জোনাকি,
তটিনীর বুকে মৃদু ছন্দ…
মেজবাহ্ দূর থেকে শুনতে পাচ্ছে সেই গান। রিমঝিমের কথায় ও ছুটে বেরিয়ে এসেছে পিস্তল পকেটে গুঁজেই। রিমঝিমের দেখিয়ে দেওয়া বাগানের পথেই ছুট লাগিয়েছিলো। কিন্তু এখন ওর ভ্রুর ভাঁজ শিথিল হয়ে গিয়েছে। আগুনের আলোয় একটি মেয়ের মুখের প্রতিচ্ছবি ওর বুকে এসে লাগলো তীরের মতো।
চলবে…
-মম সাহা
Share On:
TAGS: ভালোবাসি সুচরিতা, মম সাহা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৩৭
-
ভালোবাসি সুচরিতা গল্পের লিংক
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৩৩
-
ভালোবাসি সুচরিতা পর্ব ১৯
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২৭
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪০
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২৪
-
ভালোবাসি সুচরিতা পর্ব ৯
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪৬
-
ভালোবাসি সুচরিতা পর্ব ১