Golpo romantic golpo আলতো ছোঁয়ায় সমুদ্রকথন

আলতো ছোঁয়ায় সমুদ্রকথন পর্ব ১৭


#আলতোছোঁয়ায়_সমুদ্রকথন_(১৭)
#নুসরাত_সুলতানা_সেঁজুতি
সুখবর যখন আসে,সব যেন একইসাথে আসে। এই যেমন গতকাল পিউয়ের পরীক্ষার ফল দিলো,আর কাল রাতেই একটা ইমেইল এলো সাদিফের ফোনে। ফায়াজদের প্রজেক্টে ওর দূর্দান্ত পার্ফমেন্সের জন্যে, কোম্পানি ওকে ওখানেই পার্মানেন্ট করতে চাইছে। আগষ্টের ১২ তারিখ থেকে জয়েনিং ওর।
স্যালারি মোটা অংকের বলে,শিকদার বাড়ির চার কর্তার কেউই আর গাইগুই করলেন না। বিশেষ করে আমজাদ,আজমল দুজনই স্বায় দিলেন। নিজের যোগ্যতায় ভালো কিছু পেয়েছে যে,এই অনেক! শুধু সন্তর্পণে শ্বাস টানলেন আমজাদ। ধূসর যদি একটা চাকরিও করতো,তার দুঃখ থাকতো না। অত মেধাবী ছেলেটা কেন যে গোবরে পা ফেলল!
আবার,
মিনা বেগম এতদিন ভারি অস্থির ছিলেন পিউকে নিয়ে। পড়তে চায় না,ফাঁকিবাজ! রেজাল্ট যে কী হবে? আস্ত ডিম নিয়ে আসে কীনা! ওনার বড়ো সাধ মেয়েটাকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াবেন। রেজাল্ট ভালো না করলে হবে ওসব? ভদ্রমহিলা চিন্তায় চিন্তায় কত কী যে মানত করেছিলেন। ইচ্ছে ছিল আনিসের বিয়ে আর পিউয়ের পরীক্ষার ফল সব ভালোয় ভালোয় মিটলে গোরু জ-বাই করে কিছু অসহায় মানুষদের খাওয়াবেন।
আমজাদ একটা বড়ো কালো ষাড় হাঁট থেকে সকাল সকাল কিনে এনেছেন সেজন্যে। একেক জায়গায় উথলে পড়া মাংস। কিন্তু আফতাব এক ফাঁকে গিয়ে চারটে ছাগলও কিনে আনলেন। এ নিয়ে সকলেই অবাক হলো। ভদ্রলোক তখন মিনমিনিয়ে বললেন,
“ পিউ মায়ের রেজাল্ট এত ভালো হলো,একটু উৎসব দরকার না ভাইজান!”
সব মিলিয়ে আজ বাড়িময় এলাহী কারবার যেন। শিকদার বাড়ির ভাষ্কর্য বসানো সেই উঠোনটা এক নিমিষে কেমন প্যান্ডেল হয়ে গেছে। পুরো দিক জুড়ে সামিয়ানা টাঙানো,যাতে মাথায় রোদ না লাগে। এক পাশে বস্তার মতো বড়ো বড়ো চাটাই বিছিয়েছে মাংস কাটার জন্যে। গোরুটা বেঁধে রাখা নারকেল গাছের সাথে। ছাগল গুলো ক্রমাগত ম্যা ম্যা করছে। একটার শিং বড়ো! রাদিফ ওটাকে কলাপাতা খেতে দিয়েছে।
ওদিকে বিশাল বিশাল হাঁড়ি পাতিলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে,রান্নার জন্যে। তবে আজকের আয়োজন পুরুষদের বলা যায়। বাড়ির ভেতর রান্নাবান্না হচ্ছে না। যা হবে এখানেই। আমজাদ ভেবেছিলেন গোরু জবাই ইমাম দিয়ে করালেও, বাকিটুক ভাইয়ে ভাইয়ে করে ফেলবেন। আনিস কালই গেল শ্বশুর বাড়ি,আজ আসতেও বলতে পারছেন না। তবে ভেবেছেন গাড়ি করে খাবার দাবার পাঠিয়ে দেবেন সেখানে।
কিন্তু আনিস যা পরিবার ভক্ত মানুষ। তারা গতকাল ছিলেন ওয়াজিদদের ফ্ল্যাটে। বাড়ির এসব খবর পেতেই বউ সহ সকাল সকাল হাজির হয়ে গেলেন। সুমনাকে অন্তত রেখে আসতে পারতেন না? এই প্রশ্ন উঠতেই, সুমনা মাথা নুইয়ে বললেন,
“ ও জোর করেনি। আমারই আপনাদের কাছে থাকতে বেশি ভালো লাগে!”
এইটুকু কথায় সবাই এত প্রসন্ন হয়ে গেল! মিনা- আমজাদ বারবার একে-অপরকে দেখে তৃপ্তির হাসি হাসছিলেন।
রাশেদদের আজ যাওয়ার কথা ছিল,আমজাদ যেন ওনাদের আটকাতেই ভোর ভোর এই কাণ্ড করে বসলেন। এখন এসব ফেলে যান কী করে?
কিন্তু, সবার এত এত হৈচৈয়ের মাঝেও
পিউয়ের মন খুব খারাপ! গতকাল থেকেই ঠোঁটে হাসির দেখা নেই। ঘুরছেও বেজার মুখে। অথচ,এই মন খারাপ এর উৎস জানা তো দূর,কেউ বোধ হয় লক্ষ্যও করল না। পিউ কিছুক্ষণ বাইরে এসে দাঁড়িয়ে রইল। রাদিফকে একটা ছাগল গুঁতো দিয়েছে। ভ্যায়ায়ায়া ভ্যায়ায়ায়া করে কাঁদছে ও। আজমল একটু বকেছেন তা নিয়ে। তবে রুবায়দা, ছেলেটাকে আদর করতে করতে বাড়ির ভেতর নিয়ে গেলেন। ধূসরের হ্যান্ডিকামটা এনে সব কিছুর ভিডিও করছে সাদিফ। কী উচ্ছ্বাস তার! চাকরি হয়েছে। কত ভালো বেতন! পুষ্প বাড়ির ভেতরে ছিল। সে আজ পুডিং বানাচ্ছে। আনন্দ তারও কম কিছু নেই। শুধু পিউটারই দুনিয়া বিষাদ বিষাদ লাগছে। ও মলিন চোখদুটো ঘুরিয়ে উঠোনের সব দিকে দেখল। ধূসর ভাই নেই কোথাও। কাল থেকেই তাকে দেখেনি। পিউয়ের আবার মনে পড়ল
গতকালকের কথা। রেজাল্ট মন মতো না হওয়ার শোকের চেয়েও ধূসর ভাইয়ের যোগ্য হওয়ার লড়াইটায় ও হেরে গেছে। পারেনি পণ পূরণ করতে। তাই সন্ধ্যা নাগাদ ছাদে বসে কাঁদছিল। এরপর ধূসর ভাই যেন ওর নাম ধরে ডাকলেন। পিউ মাথা তুলে ঝাপ্সা চোখে চেয়ে দেখল তাকে। আবেগের ঝোঁকে কত কী বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ল ফের। কিন্তু হুশ ফিরতেই যখন ভালো করে চাইল,দেখল কেউ নেই। পিউ হন্যে চোখে খুঁজেছে, ডেকেছেও দুবার। সাড়াশব্দ ছিল না। নিচে নেমে দেখল মানুষটার ঘরের দোর বন্ধ। রাতে খেতেও আসেনি। তাহলে ছাদে কী সে ছিল, নাকি না? পিউ কি ভুল দেখল? নাকি আবার গত পরশুর মতো কোনো স্বপ্ন! উফ,
জীবনটা এত ইলিউশনের মধ্যে দিয়ে গেলে,পিউ তো ঠিক করে বাঁচতেও পারবে না।
সেসময়ই পেছন থেকে জুতোর শব্দ শোনা গেল। কেউ আসছে! সেই সাথে হাওয়ায় ছুটে আসা জেসমিনের সুবাসে পিউ বুঝে নিলো,ওটা ধূসর। মিনিট কয়েকেই একটা মভ কালার শার্ট,আর কালো প্যান্ট পরে পাশে এসে দাঁড়াল সে। পিউ পাশ ফিরে চেয়েই রইল। ঠোঁটের কোণে বিজয়ী হাসি ভিড়ল,না দেখেও চিনে নিতে পেরেছে বলে। এক মূহুর্তের জন্যে ভুলে গেল এতক্ষণে নিজের সব খারাপ লাগা। ধূসর ওখানে দাঁড়িয়েই শার্টের হাতা ফোল্ড করল।
আজমল,রাশেদ- মুত্তালিব একই সাথে ছিলেন। সেদিকটায় হেঁটে গেল তারপর।
সাদিফ, ক্যামেরা পুষ্পকে ধরিয়ে দিয়েছে। বিশেষ ভাবে বলে দিয়েছে,ও যে গোরুর মাংস কাটবে এটা যেন ভিডিও করে রাখে।
কিন্তু বিপত্তি বেঁধেছে চা-পাতি নিয়ে। ধার নেই। আলাদা করে লোক এসেছে মাংস কাটাকুটির জন্যে। আমজাদ চা-পাতি সহ ছুরি-কাটারির বেতের ঝুরিটা সাদিফকে ধরিয়ে দিয়ে বলেছেন,ধার করে আনতে।
সাদিফ মানা করতে পারল না। অগত্যা শুভ্র মুখ কালো করে যাচ্ছিলই, ধূসর বাঁধল পথে। ওকে দেখেই বলল,
“ কী হয়েছে?”
“ আর বলো না,ছুরি টুরি কিছুতে ঠিকঠাক ধার নেই৷ চাচ্চু আমাকে দিয়েছে ধার করতে৷ আমার ইমেজের সাথে এটা যায় বলো ভাইয়া!”
ধূসর বিনাবাক্যে ওর হাত থেকে ঝুরি নিয়ে নিলো। সাদিফ অবাক হয়ে বলল,
“ তুমি পারবে?”
ধূসর শান দেয়া জায়গায় এক হাঁটু মুড়ে বসল। সাদিফ বিব্রত হয়ে পড়ল এবার।
“ ভাইয়া আমাকে দাও। আমিই করে দিচ্ছি।”
“ আমি পারব।”
“ তুমি কি রাগ করেছ?”
“ না। কাজকে কাজ ভাববি,তাহলে আর ইমেজের সাথে বেমানান লাগবে না।”
বড়ো ভাই উপদেশ দিয়েছে,ভদ্র ছেলের মতো ঘাড় নাড়ল সাদিফ।
নিপুন হাতে ওর ঘষে ঘষে ধার করার দৃশ্য দেখে চোখ কপালে তুলে বলল,
“ বাহ,তুমি দেখি সব কাজে এক্সপার্ট!”
পুষ্প ওকে ডাকল তখনই। অন্তপুর হতে মিনা বেগম মেয়েকে জরুরি তলব করেছেন। সাদিফ উঠে গেল। ক্যামেরা হাতে বুঝিয়ে দিয়েই মায়ের ডাকে ছুটল পুষ্প।
পিউ দেখল ধূসর এখন একা। পিলপিল করে সুযোগ বুঝে পাশে গিয়ে দাঁড়াল তাই।
ত্যারছা ভাবে আসা রোদের আলোয় ওর ছোট্ট ছায়াতে ধূসরের বলিষ্ঠ শরীর একটু ঢেকে যেতেই,ব্যস্ত হাত দুটো তার এক পল থামে। পরপর বালুতে শব্দ তুলে ফের ছুরি ঘষে যায়। পিউ ঢোক গিলে ডাকল,
“ ধূসর ভাই!”
উত্তর এলো না,মানুষটা তাকালোও না।
ও নিজেই জিজ্ঞেস করল,
“ আপনি কি কাল সন্ধ্যায় ছাদে এসেছিলেন?”
ধূসর এক কথায় বলে দিলো,
“ না।”
পিউয়ের চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল অমনি। ধূসর ভাই ছাদে যাননি! তাহলে ওটা কে ছিল? কথাবার্তা এত জীবন্ত! এত জীবন্ত ওই পায়ের আওয়াজ,ওই নিঃশ্বাস। স্বপ্ন স্বপ্ন তো লাগেনি। তাহলে? কিছু একটা ভাবতেই পিউয়ের চোখ বড়ো বড়ো হয়। বুকটা ছ্যাৎ করে ওঠে। মা বলেন,সন্ধ্যায় ছাদে জ্বিন থাকে। চুল খোলা দেখলে ভরও করে। মানুষের বেশ ধরে ওরা। তাহলে কি কাল পিউ জ্বীন দেখেছে?
ভয়ে মেয়েটা নীল হয়ে গেল। আতঙ্কিত চেহারায় এদিক ওদিক দেখে বুকে থুথু ছেটাল সূরা পড়ে। তারপর চট করে ছুট লাগিয়ে পালাল কোনোদিক। ধূসর কাজে মনোযোগী! পিউ এতক্ষণ পাশে দাঁড়িয়ে কত কী ভাবল,কত কিছু করল ও একবার মাথাটাও তোলেনি। অথচ মেয়েটা যেতেই শানে চকচক করা চা-পাতির দিকে চেয়ে একটু ঠোঁট বেঁকিয়ে হাসল অমনি। হাসির কারণ কী, কে জানে!
এদিকে আমজাদ সাদিফকে খুঁজে না পেয়ে অস্থির। গোরু জবাই-য়ের সময় হয়েছে। অস্ত্র-শস্ত্র কোথায়? বিড়বিড় করছিলেন – গেল কই ছেলেটা? এখনই তো জবেহ করব৷ সাদিফ!”
তক্ষুনি, যেন চোখের হোচট খেলেন।
ধূসর মাত্রই সব শেষ করে উঠে দাঁড়িয়েছে। পিছন ফিরতেই দেখল,আমজাদ হতবিহ্বল হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছেন। অমন বিস্ময় নিয়েই বললেন,
“ তুমি কাজ করছো? বাবাহ, চাঁদ আজ কোন দিকে উঠল?”
ধূসর ভ্রু কুঁচকে আকাশের দিক চাইল। ছোট করে বলল,
“ চাঁদ তো নেই, সূর্য দেখতে পাচ্ছি!”
“ মশকরা করছো? কথা দিয়েই জিতবে সব সময়, কাজের কাজ কিছু হবে না। দাও ওগুলো কী করেছ দেখি দাও।”
ধূসর আস্ত বেতের ঝুড়িটা হাতে দিলো চাচার। আমজাদ নেড়েচেড়ে দেখলেন।
একটু ত্যারা প্রশ্ন করলেন,
“ তা আজ তোমার বানর সেনাপতি কোথায়? আসেনি?”
“ কে?”
“ ঐ লাফাঙ্গা ছেলে,যে এত দারুণ ভাবে তোমার মাথা চিবিয়েছে।”
বলার সময় আমজাদের মুখভঙ্গি দেখে, হেসে ফেলল ধূসর। ওর হাসিটা সুক্ষ্ম! সামান্য! দাঁত দেখা যায় না। কিন্তু আমজাদ কিছু সময়ের জন্যে একটু থমকালেন যেন। ছেলেটা মোটে হাসে না তো! তাই মুখটা শিথিল হয়ে গেল অমনি৷ ভালোই লাগল খুব! শ্যামলা গায়ের রং,অথচ দেখতে যেন সূর্যের মতো দীপ্ত। হাসলে আরো ভালো লাগে। হাসে না কেন ধূসরটা? আগের মতো এসে আঙুল ধরে বলে না কেন,
চলো বড়ো আব্বু, বাজারে যাই।
আমজাদ দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। ধূসরের ফোন বাজল তখনই। কানে ধরতেই বলল,
“ বল।”
ব্যস, আমজাদের মুখখানা থমথমে হলো। ধূসর বলল,
“ আসছি!”
ফোন পকেটে ভরতেই ভদ্রলোক উদগ্রীব হয়ে বললেন,
“ আসছি মানে? বাড়ির এত আয়োজন ফেলে, কোথায় যাবে এখন?”
“ জরুরি কাজ। এক্ষুনি চলে আসব।”
ধূসর ব্যস্ত পায়ে বেরিয়ে গেল মূল ফটক পেরিয়ে। আমজাদ মানাও করতে পারলেন না। শুধু দাত কড়মড় করে মনে মনে কষে একটা গালি দিলেন ইকবাল নামক এক নিষ্পাপ শিশুকে।


পিউ দুই পা সোফায় তুলে গুটিশুটি মেরে বসেছিল। মিনা বেগম কোত্থেকে তেড়ে এসেই হাঁটুতে চড় মেরে বললেন,
“ এমন অভদ্রের মতো বসেছিস কেন,পা নামা!
ঠোঁট উলটে সভ্য হয়ে বসল ও। শান্তা-সুপ্তি ছুটে এলো নতুন জামা গায়ে। ঘুরেফিরে দেখাল,
“ আপু দেখো কেমন লাগছে?”
পিউ হাসল একটু,
“ ভালো।”
“ কিছু ছবি তুলে দাও না!”
“ তোরা একে অন্যের তোল। আমি একটু পরে আসছি।”
“ আচ্ছা।”
শান্তা ক্লাস এইটে,সুপ্তি ক্লাস সেভেনে এবার। দুবোনে খুব মিল। ফের উচ্ছ্বল পায়ে ছুটল দুটোতে। মিনা খেয়াল করলেন মেয়ের মুখ ভার। কাছে এসে থুতনি ধরে নিজের দিকে ফেরালেন,
“ হয়েছে কী তোর? কাল থেকে দেখছি, চুপচাপ!”
“ কিছু না।”
মিনা বললেন,
“ একটা কথা জানলে একদম খুশি হয়ে যাবি। বলব?”
“ তোর জন্যে চুরিদার অর্ডার করেছি।”
পিউ সত্যিই লাফিয়ে উঠল এবার।
“ সত্যি আম্মু?”
কাকতালীয় হলেও ডোরবেল সেসময়ই বাজল। চেনাজানা শো রুম হতে মালিক মহাশয় বেস্ট কিছু স্যাম্পল পাঠিয়ে দিয়েছেন।
মিনা গিয়ে দোর খুললেন। ভদ্রলোক সালাম দিয়ে বললেন,
“ আমজাদ সাহেব ভেতরে আসতে বললেন তো,তাই চলে এলাম।”
“ জি জি আসুন,বসুন এখানে। রাদিফ, যাও তো বাবা বাকিদের ডেকে আনো।”
রাদিফ ওপর তলায় ছোটে। পুষ্প আর জবাকে ডাকবে বলে। রুবা আর সুমনা নিচে ছিলেন। মিনা ডাকলেন,
“ রুবা,আয়। সুমনা এসো। কোথায় সব?”
এই বাড়িতে সালোয়ার কামিজ জায়েদের মধ্যে জবাই পরেন। আর এখন সুমনাও পরবেন হয়ত। এসে ভিড়লেন সকলে। মিনা সুমনাকে বললেন,
“ দেখো তোমার কী কী ভালো লাগে। এখানে অনেক স্যাম্পল আছে। ক্যাটালগও আছে। পছন্দ হলে পরে আনানোও যাবে।”
সুমনা মিনার পাশে বসে শুকনো মুখে বললেন,
“ আপা, একটা কথা বলি?”
“ বলো।”
সুমনা মাথা নুইয়ে বললেন,
“ আমাকেও তুই করে বলুন না। আপাদের যেভাবে বলেন। তুই শুনতে খুব কাছের কাছের লাগে!”
মিনার হাসিটা কিছু সময় থামল যেন। হতভম্ব নজর ঘুরিয়ে এক পল, এক পল সবাইকে দেখে হেসে ফেললেন আবার। সুমনাকে বুকে নিয়ে বললেন,
“ আচ্ছা,আচ্ছা বলব।”
ভদ্রমহিলা পেছন ফিরে জবা আর রুবাকে বললেন,
“ আপনারাও বলবেন কিন্তু।”
রুবায়দা বললেন,
“ বলব,যদি তুই আগে আমাদের আপনি আজ্ঞে করা বন্ধ করিস তো!”
সুমনা হাসেন। মাথা নাড়েন একটু করে। পুষ্প -পিউ মায়েদের এত মিল দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়। পুষ্প ভারি মন খারাপ করে,ওর জা কেমন হবে তা ভেবে! ইস ইকবালের ভাই আরেকটু বড়ো হলে পিউয়ের সাথে বিয়ে দিয়ে দিতো!
আর পিউ ভাবল অন্য কিছু। ওর যদি ধূসরের সাথে বিয়ে হয়, জা হবে সাদিফ আর রাদিফের বউ। রাদিফের বউকে পিটিয়ে সোজা বানাতে পারলেও,সাদিফ ভাইয়া ওর বড়ো। বউটা কেমন হবে কে জানে!
সবাই মিলে কাপড় গুলো টেবিলে ছড়িয়ে চারদিকে বসল। সুতি,জর্জেট,সিল্ক থেকে সব রকমই আছে। পিউ খুব অধৈর্য হাতে সব কাপড় নাড়ল। এখানে নীল কিছু নেই। তবে চোখ আটকাল একটা আকাশী রঙের চুরিদারের ওপর। অমনি ওটা লুফে নিজের কাছে আনল সে। পুষ্প বলল,
“ আমি আগে দেখেছি।”
“ কিন্তু আমি আগে নিয়েছি,তাই এটা আমার।”
ওই একটা হাতে নিয়েই পিউ নিজের ঘরের পথে ছুটল। মিনা বললেন,
“ আরো তো আছে,পিউ!”
**
ধূসর সত্যিই তাড়াতাড়ি ফিরেছে। ততক্ষণে ছাগল-গরু জবাই করা শেষ। কিছু অংশ ঝুলিয়ে রেখেছে,কিছু মাংস আলাদা করা হচ্ছে এখনো।
ধূসরের গাড়ি দেখে আমজাদ প্রসন্ন হতেও পারলেন না,গাড়ির ওই পাশের দরজাটা খুলে ইকবাল নামল তক্ষুনি। মূহুর্তে ভদ্রলোকের ক্ষিপ্ত মেজাজ সপ্তম আকাশে উঠে গেল৷
ধূসর হাকিমকে চাবি দিয়ে বলল, গাড়ি পার্কিং এ রেখে আসতে।
চাচাকে দেখে বলল,
“ কাজ সব শেষ?”
“ তো কী তোমার জন্যে রেখে দিয়েছি?”
চটাংচটাং উত্তরটায় চাচার মেজাজের ব্যাপার ধরতে পারল ধূসর। কথা না বাড়িয়ে,এগিয়ে গেল ওদিকে। রয়ে গেল ইকবাল। আমজাদ আর ও একই জায়গায় মুখোমুখি এখন। ছেলেটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল ভারি। আমজাদের তপ্ত চোখমুখ দেখে ভয়ে ভয়ে হাসল। বলল,
“ আসসালামু আলাইকুম আঙ্কেল। ভালো আছেন?”
আমজাদ উত্তর দিলেন না। ইকবাল মাথা চুলকাল। এদিক ওদিক তাকাল মাঝে। পুষ্পকে দেখা যাচ্ছে না? বাড়ির ভেতরে কী?
ওদিকটায় একটু উঁকিঝুঁকি মারতে গিয়েও মনে পড়ল সামনে আমজাদ আছেন। তড়িৎ আবার সোজা হয়ে ফিরল ছেলেটা। আমজাদ কেমন কিড়মিড় করতে করতে দেখছিলেন ওকে। আতঙ্কে ইকবাল কী করবে বুঝল না। ধূসর নিমন্ত্রণ করে এনে,এভাবে বাঘের মুখে ছেড়ে রেখে গেল? হতচ্ছাড়াটাকে অভিশাপ দিলেও অভিশাপের অমঙ্গল হবে। ইকবাল ভেবেছিল আমজাদকে দেখবে না। ইগ্নোর করবে। কিন্তু ঘুরেফিরে বারবার ওনার দিকেই চোখ চলে যাচ্ছে। যতবার চোখাচোখি হয়,ইকবাল হেহে করে হাসল। শেষে বলেই ফেলল,
“ আঙ্কেল মনে হচ্ছে কারো ওপর রেগে আছেন?”
আমজাদের স্বর মেঘের মতো শোনাল,
“ মনে হওয়ার কারণ?”
“ না মানে আপনার নাকটা দেখে বুঝলাম। বারবার কেমন ফুলছে!”
মুখ ফস্কে বলে দিয়েই,জিভ কাটল ইকবাল। তবে আর শেষ রক্ষে হলো না।
আমজাদ গজগজিয়ে বললেন,
” লাফাঙ্গা ছেলে,অসভ্য!
চড়িয়ে দাঁত ফেলে দেবো। এই তোমার সাথে মিশেই আমার ছেলেটা খারাপ হয়েছে।”
ইকবাল যেন আকাশ থেকে পড়ল,
” আমার সাথে মিশে!”
” কী নাটক, যেন আকাশ ভেঙে পড়ল! ধূসর এত্ত অভদ্র,বেপরোয়া, একগুয়ে, তর্কবাজ হয়েছে কেন সেটা আমি বুঝি না?”
ইকবাল মিনমিন করে বলল,
” কিন্তু আঙ্কেল,আন্টি যে সব সময় বলেন ধূসর নাকি অবিকল আপনার মতো হয়েছে!”
“ কীইইইইইই!” বলে আমজাদ একটা চিৎকার দিতে চাইছিলেন। কিন্তু হাঁ করার আগেই রাশেদ অদূর হতে ডাকলেন সেসময়। জরুরি ভিত্তিতে কী যেন চাই। আমজাদ রাগ-ক্ষোভ গিলে নিলেও শাসিয়ে গেলেন আঙুল তুলে,
“ তোমাকে আমি দেখে নিচ্ছি, বেয়াদব।”
ভদ্রলোকের যাওয়ার দিকে চেয়ে মাথায় হাত দিলো ইকবাল। হাহুতাশ করে বলল,
“ ইকবাল রে ইকবাল, তোর মাথায় মিসাইল মারি ব্যাটা। হিটলার শ্বশুর কে খেপালি,এখন
বউ পেতে তো খবর হয়ে যাবে!”
গোরুর বিশাল পা-টা ঝুলিয়ে ছুরি দিয়ে মাংস আলাদা করছিল ধূসর। আরেকটা পা ছিল সাদিফের কাছে। দুজনেই ঘেমেনেয়ে একশা। তাও কাজে ভারি ব্যস্ত! পিউ তক্ষুনি গোসল সেড়ে, আকাশী রঙের চুরিদার পরে, মাথায় ঘোমটা টেনে ছুটে এলো এখানে। একদম ধূসরের পিঠের পাশে দুরুত্ব রেখে দাঁড়াল। চুল ভেজা! কান-গলা খালি, এক হাতে চুড়ি পরেছে ৬টা। ও এসে থামতেই ঘুরে চাইল সাদিফ। অমনি মুগ্ধচিত্তে বলল,
“ বাপ রে, এটা কে?”
পিউ মাথা নুইয়ে হাসল। সাদিফ আবার মন দিলো কাজে।
কিন্তু ধূসর তো ফিরছে না। পিউ তার জন্যেই না চুরিদার পরল। যাতে ওকে দেখতে পিচ্চি পিচ্চি না লাগে! আপুর মতো একটু চোখে পড়ে এবার। পিউ ওর মনোযোগ পাওয়ার জন্যে ইচ্ছে করে হাত নাড়ল। চুড়ি ঝুনঝুন করাল। গলাও ঝারল। কোনো কিছুতে কাজ হয় না দেখে জোরে জোরে বলল,
“ সাদিফ ভাইয়া, কিছু লাগবে তোমার?”
“ নাহ!”
ধূসর পিছু ফিরছে না। পিউ আবার বলল,
“ লাগলে বলতে পারো৷ আমি এনে দিই।”
বারবার ও হাত নাড়ছে,কথা বলছে শব্দ করছে। তাও তাকান না কেন উনি? মাংস নিয়ে এত কী মনোযোগ তার?
সাদিফ হঠাৎ বলল,
“ যা তো, একটা টুল নিয়ে আয়৷ এখন একটু বসে বসে কাটব।”
পিউয়ের মুখ কালো হয়ে গেল।
কিছু গমগম করে বলল,
“ সব সময় কাজ করাও। ভালো লাগে না।”
সাদিফ হতভম্ব চোখে বলল,
“ তুই-ই তো করতে চাইলি!”
পিউ ততক্ষণে উল্টো ঘুরে বাড়ির দিকে যাচ্ছে। এতক্ষণের মাটিতে পড়ে থাকা ওর ছাঁয়াটাও চলে যাচ্ছে সাথে। যেই ছায়া সূর্যের আলোতে ঠিক সামনে ছিল ধূসরের। ছায়া অদৃশ্য হতেই মাটি থেকে ধূসর চোখ সরাল।
সাদিফের পানির পিপাসা পেয়েছে। পিউকে ডাকলে আবার কী বলে,তাই নিজেই হাত ধুতে গেল।
এর মাঝে চার পায়ার প্লাস্টিকের টুলটা মাথায় তুলে ফিরে এলো পিউ। আবার ওর ছাঁয়া পড়ল ধূসরের সামনের মাটিতে।
সাদিফকে না দেখে বলল – ভাইয়া আবার কই গেল?
প্রশ্নটা যাকে করেছে,সে তো জবাবই দিলো না। পিউ টুল পেতে নিজেই বসল সেখানে। কিছুক্ষণ উশখুশ করল,কিছুক্ষণ কথাও খুঁজল। কীভাবে ধূসরের সাথে একটু আলাপ জমাবে! কিন্তু নাহ,লাভ টাব হয়নি। বাধ্য হয়ে পিউ ফিরে আসতে নেয়। তবে বসা থেকে উঠে দু পা ফেলতেই,গায়ের ওরনায় টান পড়ল। চমকে,থমকে দাঁড়াল সে৷ ওরনায় টান পড়েছে? এর মানে,এর মানে ধূসর ভাই টেনে ধরেছেন! ওকে আটকাতে? শাহরুখ খানের মতো! পিউ এখন কী করবে? লজ্জায় মরে যাবে,নাকি ধূসর ভাইয়ের চারপাশে ওরনা উড়িয়ে গাইবে – তুঝে দেখা তো এ জানা সানাম….
পিউয়ের মনের মধ্যে ম্যান্ডোলিন বেজে উঠল। সরষে ক্ষেতে শাহরুখ যেমন গানের সুর ধরে বাজিয়ে ছিল- টুন টুন টুন টুন টুন টুন টুন।
ঠিক ওরকম একটা বাদ্যের সুরে যেন লাল হয়ে গেল পিউ। লাজুক ভাব করে চিবুক নুইয়ে হাসল মেয়েটা। অমন মিইয়েই বলল,
“ ধূসর ভাই,
কেউ দেখলে কী ভাববে,ছেড়ে দিন না!”
“ কীহ?”
“ ওরনাটা!”
বলতে বলতে পিউ নিজেই সলজ্জে ফিরে চাইল পেছনে। মাথায় যেন বাজ পড়ল অমনি। ওরনার মাথাটা টুলের এক পায়ার নিচে আটকে গেছে। পিউ চোখ ঝাপটায়। তব্দা খেয়ে যায়। হায় হায় রে,কী হলো আর ও কী ভেবেছিল? কাচুমাচু মুখে পিউ একবার ধূসরকে দেখে মাথা নিচু করল। মানুষটাকে বোঝা তো যায় না। প্রহেলিকা সে। শুধু পা দিয়ে টুলটা ঠেলতেই ওরনার মাথা বেরিয়ে এলো। চোর চোর ভাব করে গায়ে নিয়ে প্যাঁচাল পিউ। ভীষণ লজ্জা পেয়েছে ও। ইস কী বেইজ্জতি! ওদিক থেকে লম্বা পা জোড়া দুই কদম ফেলে তক্ষুনি এগিয়ে এলো ধূসর। হাতে রক্ত,ছুরি। দাঁড়াল ওর পাশে,দুরুত্ব রেখে। পিউয়ের মুখ পশ্চিমে,ধূসরের পূর্বদিকে তখন। ধূসর
কনুই ভাঁজ করে শার্টের হাতায় কপাল,মুখ মুছল। কেমন ব্যস্ত ভাবে ফট করে বলল,
“ চুল বাঁধ।”
পিউ বেখেয়ালে ছিল৷ চমকে চাইল যেন,
“ হ্যাঁ?”
পিউ এত অবাক হয়,যেন বহুল অপ্রত্যাশিত কিছু৷
“ ভে-ভেজা যে!”
তারপর দম নিলো পিউ। সাহস আনল বুকে।
জিজ্ঞেস করল রয়েসয়ে,
“ কি-কিন্তু, কেন? খোলা চুলে কী আমায় বাজে লাগে?”
ধূসরের চিকণ চোখের মনিদুটো ভারি অধৈর্য। এক জায়গায় স্থির থাকে না। উঠোনের চারদিকে মূহুর্তেই ও সফর শেষ করে এসেছে। ওইভাবেই বলল,
“ এভাবে সবার মধ্যে চুল খুলে হাঁটবি না।”
পিউয়ের ঠোঁট দুটো ফাঁকা হলো একটু। বিভ্রান্ত সে। বিপরীতমুখী ধূসর যখনই ঘাড় ভেঙে আড়চোখ ফেরাল ওর দিকে,সেই এক ঠান্ডা দৃষ্টিতে ছলাৎ করে উঠল ষোড়শীর বুকের চারিধার। ধুকপুক সামলাতে চট করে চিবুক নামিয়ে নিলো পিউ।
ইকবাল হানা দিলো তখনই। ওদের দুজনকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেই,মিটিমিটি হাসল। পরপর ধূসরের হাতে ছুরি দেখে বলল,
“ ওমা অস্ত্র! যুদ্ধে যাচ্ছিস?”
ওদিক থেকে পুষ্পও এলো তখন। লাল রঙের বিশাল ব্যোলটা দিয়ে বলল,
“ মাংস এত মধ্যে দিতে বলেছে, ভাইয়া।”
“ ওখানে রাখ।”
পুষ্প ব্যোল টুলের ওপর রাখল। এই এতক্ষণে মেয়েটাকে চোখের দেখা দেখতে পেলো ইকবাল। কিন্তু ধূসরের ভয়ে ভালো করে তাকাতে পারল না। পাছে ধরে ফেলে!
ততক্ষণে ওয়াজিদরাও এসেছেন। আজ সুমনার বাবা মা রয়ে গেছিলেন এখানে। বুড়ো মানুষ তো, পরপর এত জার্নি করতে পারতেন না। তবে রিনিরা চলে গেছে। ওয়াজিদদের সাথে আজ শুভও এসেছে। বিয়েতেও ছিল,কিন্তু বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে প্রচুর ব্যস্ততায়। ওদিকের হইহল্লায় ফুপুর শ্বশুর বাড়ির লোকজন ও অতটা ভালো করে চেনে না। আবার বৌভাতেও আসেনি।
আজকে ওয়াজিদ একদম বগলদাবা করে সাথে নিয়ে এলেন। সবাই ছেলের কথা জিজ্ঞেস করলে,কী বানিয়ে বলবেন তখন?
ওয়াজিদদের আপ্যায়নে গৃহীনিরা বাড়ির ভেতর তৎপর হয়ে পড়েছেন। শুভ কোনোরকম কিছু খেয়েদেয়ে, বেরিয়ে এলো সাদিফের সাথে। বাইরে এত আয়োজন হচ্ছে দেখবে সেসব। সাদিফ দেখল অদূরে ধূসর-ইকবাল আছে,তাই ওকে নিয়ে সোজা এই পথেই আসছিল। মাঝপথে ডাকল একজন। ও বলল – তুমি গিয়ে ভাইয়াদের সাথে কথা বলো,আমি আসছি।
“ জি ভাইয়া!”
শুভর বয়স ১৯। মারিয়ার মতোই!
এক বছর গ্যাপ থাকায় এবার এইচ এস সি দেবে। মাথায় ঝাকড়া চুল ঘাড় সমান,ক্লিন শেভ,ছিমছাম একটা লম্বা ছেলে। ওকে হেলেদুলে এগিয়ে আসতে দেখেই ইকবাল বলল,
“ দেখো দেখো পিউ, কাজী নজরুল ইসলাম আসছে।”
পিউয়ের সাথে বাকিরাও চাইল ফিরে। ধূসর বলল,
“ এটা ছোট মায়ের ভাইয়ের ছেলে।”
ইকবাল ঠোঁট গ্যোল করে বলল,
“ ওওওওও!”
শুভ এসে দাঁড়াল। ধূসরকেই বলল
“ আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া,কেমন আছেন?”
“ ভালো,কখন এলে?”
হ্যান্ডশেক করতে হাত বাড়িয়েও লাভ হলো না। ধূসরের দুহাত ভরা রক্ত,আর মাংসের উচ্ছিষ্ট দিয়ে। তবে ইকবাল হাত মেলাল স্ফূর্ত চেহারায়। শুভ বলল,
“ সেদিন ভালো করে কথা হয়নি। তাই ভাবলাম আজ এসে সবার সাথে আলাপ করে যাই।”
“ ভালো করেছ! ভালো করেছ। আমরা মানুষই আলাপ করার মতো।”
হঠাৎ পুষ্পকে দেখেই শুভ বলল,
“ তুমি নিশ্চয়ই পুষ্প তাই না?”
ব্যাস,ইকবালের হাসিটা তুরন্ত ঘেটে ঘ হয়ে গেল। ধূসরের সামনে এভাবে নিজের নাম নেয়ায়,
পুষ্প ঘাবড়ে বলল,
“ হ্যাঁ, কীভাবে চিনলেন?”
“ ফুপ্পি কাল ফোনে সবার ছবি দেখিয়েছে। ধরে ধরে চিনিয়েছে। তোমার কথা বলছিল, আমরা সম্ভবত ব্যাচ মেট।”
ইকবাল আগ বাড়িয়ে বলল
“ তো?”
“ জি?”
“ না মানে,তাতে কী হয়েছে? আমি আর ধূসরও ব্যাচমেট।”
শুভ পুষ্পর দিকে হাত বাড়ায়৷
“ নাইস টু মিট ইউ, পুষ্প।
পুষ্প আড়চোখে একবার ইকবাল আর ধূসরকে দেখল। রয়েসয়ে হাতটা মেলাল তাও। মেহমান মানুষ, হাত বাড়িয়েছে ফেরানো তো যায় না।
ইকবালের ব্রক্ষ্মতালু জ্বলে গেল যেন। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজাতে ভেজাতে আরেক দিক চেয়ে শ্বাস নিলো সে। শুভ তক্ষুনি বলল,
“ আর তুমি পিউ,তাইত?”
পিউ বেখেয়ালি ছিল। শুধু তীর্যক নজর যাচ্ছিল পাশে থাকা ধূসরের দিকে। ধূসরের শার্টের টপ বাটন খোলা। ঘাম চুইয়ে পড়ছে কপাল বেয়ে। বুকটাও ভিজেছে একশা।
নিজের নাম শুনে সতর্ক চিত্তে বলল,
“ জি,জি জি।”
“ হ্যালো পিউ।”
ওর পানেও হাত বাড়াল শুভ। হ্যান্ডশেক করল পিউ। ইকবাল মুখ গোমড়া করে ঠোঁট উল্টায়। মাই লাভের হাত ধরা নিয়ে ক্ষোভে তার মাথা ফেটে যাচ্ছে। ওইভাবেই দৃষ্টি হঠাৎ ধূসরের ওপর পড়ল। ইকবালের চোখমুখ টানটান হলো অমনি। আরো ভালো করে খেয়াল করল সে। শুভ,পিউয়ের হ্যান্ডশেক করা হাতটার মাঝামাঝি ছিল ধূসর। চিকণ নজর জোড়া ওদিকেই ওর । কপালে ভাঁজ। চোখমুখ স্বাভাবিক তবে! এরপর ওমন শান্ত নজর তুলেই এক পল পিউয়ের উপচে পড়া হাসিমাখা মুখটাকে দেখল। ধূসরের তীক্ষ্ণ চোখ আরো ছোটো হলো তাতে।
ইকবাল শান্তি পেলো এবার।
বড়ো শ্বাস নিয়ে মনে মনে বলল ,
“ একা জ্বলে মজা নয়,
বন্ধু জ্বললেও ভালো হয়!”
চলবে… See less

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply